Magic Lanthon

               

 শৈবাল চৌধূরী

প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

জন্মশতবর্ষে ফেলিনি-পাঠ

 শৈবাল চৌধূরী


ফেলিনির জীবনের শেষ দিনগুলো মিলে যায় সত্যজিতের শেষ দিনগুলোর সঙ্গে। সত্যজিৎ রায় তার সারাজীবনের চলচ্চিত্র কৃতির জন্যে লাইফ টাইম অস্কার সম্মাননা পান মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে। এর মাস দুয়েক পর ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ এপ্রিল তিনি দীর্ঘ অসুস্থতার শেষে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যান। ফেদেরিকো ফেলিনিও তাই। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সারাজীবনের চলচ্চিত্র কর্মের সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ অস্কারের লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান। তারপর থেকেই তার দিনগুলো কাটছিলো চরম অসুস্থতায়। শেষ পর্যন্ত তিনি চলে যান কোমায়। দু’সপ্তাহ অবিরত অজ্ঞান থাকার পর ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর তার প্রিয় শহর রোমে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটি রেখে যান। এখানে পার্থক্য যেটুকু, সত্যজিৎ অস্কার পদকটি গ্রহণের জন্যে হলিউডে যেতে পারেননি। অস্কার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা কলকাতায় এসে হাসপাতালে অবস্থানরত সত্যজিতের হাতে অস্কারটি তুলে দেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে এবং পুরস্কার বিতরণী সন্ধ্যায় অস্কার তুলে দেওয়ার ধারণ করা দৃশ্যটি সত্যজিতের পছন্দ মতো অড্রে হেপবার্নের সঞ্চালনায় দর্শককে দেখানো হয়। অন্যদিকে ফেলিনি প্রায় অসুস্থ অবস্থায় হলিউডে গিয়ে পদকটি গ্রহণ করেছিলেন। পরস্পর অনুরাগী দুই কিংবদন্তির জন্ম মৃত্যুও ছিলো পর পর। ফেলিনির জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে, সত্যজিতের ১৯২১। সত্যজিতের মৃত্যু ১৯৯২ আর ফেলিনির ১৯৯৩। দুজনেই ছিলেন স্বল্পায়ু।

কিংবদন্তি অভিধাটি সর্বার্থেই সুপ্রযোজ্য ফেলিনির ক্ষেত্রে। কেননা, ফেলিনির দেশ ইতালি বিশ্বচলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছে নিউরিয়ালিজমের মতো যুগান্তকারী চলচ্চিত্র আন্দোলন। আবার বিপ্রতীপে উপহার দিয়েছে গ্ল্যামারাস স্টার সিস্টেম; প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব ভেনিসকে। উপহার দিয়েছে বিশ্বসেরা নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী। সর্বোপরি বিশ্বসেরা অনেক চলচ্চিত্র। তবুও ইতালির চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ এলেই প্রথমে উঠে আসে ফেদেরিকো ফেলিনির নাম; উঠে আসে লা দোলচে ভিতা, লা স্ত্রাদা, এইট এন্ড হাফ, অ্যামারকর্ড এসব চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ। বলা বাহুল্য এসব চলচ্চিত্রের নিমার্তা ফেলিনি।

দুই.

ফেলিনির মৃত্যু সংবাদ যেদিন প্রচার হয়, ইতালির বাইরে অনেকে ভেবেছিলেন, বেশ একটা দীর্ঘ জীবন তিনি বেঁচেছিলেন। অনেকের ধারণা ছিলো, ৯০-এর কোঠায় বুঝি পৌঁছেছিলো তার বয়স। এ রকম ভাবনার কারণ, বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব যা বিদ্যমান ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। দশকের পর দশক তিনি ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি। মাত্র ৭২ বছরের জীবনে নির্মাণ করেছেন কমপক্ষে ৩০টি চলচ্চিত্র, যার প্রায় সবগুলোই চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ৭২ বছরের জীবনে ফিল্ম ক্যারিয়ার ৪০ বছরের (১৯৫২-১৯৯২)।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর ফেলিনি তার প্রিয় শহর রোমে প্রয়াত হন দীর্ঘ দুই সপ্তাহ কোমায় থাকার পর, তার পরের দিন রোমের বিখ্যাত পত্রিকা ‘লা স্তাম্পা’ মন্তব্য করেছিলো, ‘ফেলিনি ছাড়া বেঁচে থাকা সত্যিই কঠিন।’ এ রকম অসাধারণ একজন মানুষ, এ রকম একজন জিনিয়াস ছাড়া বেঁচে থাকা সত্যিই কষ্টকর। তাই চলচ্চিত্রের এই জাদুকরকে ছাড়া চলচ্চিত্রের কথা ভাবাই যায় না। এই ভাবনা গত ২৭ বছরে এতোটুকু ম্লান হয়নি। বরং ফেলিনি পরবর্তী প্রজন্মের চলচ্চিত্রানুরাগীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছেন।

তিন.

এই ফিল্ম মায়েস্ত্রোর জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি ইতালির সৈকত নগরী রিমিনি’তে। ফেলিনির জন্মভূমি ইতালি, সাংস্কৃতিক এই স্বর্ণভূমি ধারণ করে আছে বিশ্বের আদিম এক নগর রোমকে, যে রোমে গড়ে উঠেছিলো প্রাচীন এক নগর-রাষ্ট্র, যে নগর-রাষ্ট্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো বিশ্বের এক সুপ্রাচীন সভ্যতা, সাম্রাজ্য, সংস্কৃতি। সেই ইতালি বিশ্বচলচ্চিত্রকে করে গেছে ক্রমাগত ঐশ্বর্যময় ডি সিকা, আন্তোনিওনি, জাভাত্তিনি, রোসেলিনি, পন্টিকর্ভো, ব্লাসেত্তি, ম্যানাপার্তে, রোসি, ভিসকন্তি, লিজানি, মাসেলি, পাসোলিনি, বার্তোলুচি গ্রেগরেত্তি, বেনিগনি, তোরনাতোর এর মতো ভুবনজয়ী চলচ্চিত্রকার; সোফিয়া লোরেন, জুলিয়েত্তা মাসিনা, অনিতা একবার্গ, ক্লদিয়া কার্দিনেল, সিলভানা ম্যাঙ্গানো, মনিকা ভিত্তি, জিনা লোলোব্রিজিদা, মনিকা বেলুচ্চি, অ্যানা ম্যাগনানি, মার্সেলো মাস্ত্রোইয়ানি, রোবের্তো বেনিগনি, জুসেপ্পো সালফারো, লুসিয়ানো ফেদেরিকো, আলদো সিলভান্নি, সের্জিয়ো রুবিনির মতো বিশ্ববরেণ্য অভিনয়শিল্পী; কার্লো পন্টির মতো কিংবদন্তি প্রযোজক; মিলান, তুরিন, নেপল্স, রোম এবং ভেনিসের মতো চলচ্চিত্র উৎসব (বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভেনিসে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে) এবং সর্বোপরি নিউরিয়ালিজম চলচ্চিত্র আন্দোলন যা বিশ্বচলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলো। এই সবকিছুই স্বর্ণভূমি ইতালির সুবর্ণ ফসল। সেই স্বর্ণভূমির সুবর্ণ সন্তান ফেদেরিকো ফেলিনি, যাকে চলচ্চিত্রের রূপকথাকার বলে অভিহিত করেছে অনেকে; শেষ কর্মক্ষম দিনটি পর্যন্ত যিনি চলচ্চিত্রশিল্পের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

ফেলিনি অবিরত ছুটে বেড়িয়েছেন নতুনত্বের সোনার হরিণের পিছনে। ধরেছেনও। নিজের গড়া নিয়মকে ভেঙেছেন। আবার গড়েছেন নতুন রীতি। নির্মাণ করেছেন নতুন শৈলী। আর ভাঙা-গড়ার এই খেলায় চলচ্চিত্রশিল্প বারে বারে লাভবান হয়েছে; পেয়েছে নতুন নতুন বাঁকের দিশা। আর সেই বাঁকের পর বাঁক ধরে তিনি এগিয়ে গেছেন আপন অভীষ্টে--নিজেকে এক কিংবদন্তিতে পরিণত করে।

চার.

অনেকে চ্যাপলিন-এর ভাবশিষ্য বলেছে ফেলিনিকে। চ্যাপলিনের মতো ফেলিনিও সমাজের অসঙ্গতি আর অসারতাকে তুলে ধরেছেন কৌতূকাবহে। তবে আঙ্গিক শৈলীর ভিন্নতায়। কোরিওগ্রাফি এবং রূপকধর্মিতা ছিলো ফেলিনির সহজাত শৈলী যা ভিন্নমাত্রিক করে তুলেছে তার চলচ্চিত্রকে এবং চলচ্চিত্রশিল্পে যোগ করেছে ভিন্ন এক ঘরানা। বাস্তবতা আর কল্পকথার মিশেলে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব এক রীতি।

ফেলিনির কর্মজীবনের শুরুটা বৈচিত্র্যপূর্ণ। সাংবাদিক, গীতিকার, কার্টুনিস্ট, স্কেচশিল্পী এবং একজন ক্যারিকেচারিস্ট হিসেবে তার যাত্রা শুরু। এবং শেষোক্ত ক্ষেত্রেই তার পারঙ্গমতা দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবার। কৌতূকজ্ঞান ছিলো ফেলিনির সহজাত এবং যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পুরোপুরি সম্পৃক্ত হন চলচ্চিত্রের সঙ্গে; সহকারী চিত্রনাট্যকার হিসেবে ফিল্ম ক্যারিয়ার শুরু করেন। মূলত কাজ করেন ইতালির চলচ্চিত্রের অন্যতম দিকপাল রবার্তো রোসেলিনির সঙ্গে। রোসেলিনির রোমা, সিটা আপেরটা (রোম, ওপেন সিটি) ও পাইসার সহকারী চিত্রনাট্যকার ছিলেন ফেলিনি। রোসেলিনির ল’আমুর চলচ্চিত্রের ইন মিরাকোলে পর্বে ফেলিনি বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী আনা ম্যাগনানির বিপরীতে সফল অভিনয়ও করেছিলেন ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে।

এই সময়েই ইতালিতে নিউরিয়ালিজম চলচ্চিত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে ল্যাতুয়াদো, ডি সিকা, জারমি, রোসেলিনি, ভিসকন্তি, জাভাত্তিনি প্রমুখের নেতৃত্বে। এই নির্মাতাদের অনেকের সঙ্গে ফেলেনি সহকারী চিত্রনাট্যকার ও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে আলবার্তো ল্যাতুয়াদোর সঙ্গে ফেলিনি যৌথভাবে নির্মাণ করেন লুসি দেল ভেরিয়েতা। ধীরে ধীরে এভাবেই ফেলিনি নিজের ভিত গড়ে নেন।

পাঁচ.

১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ; স্বতন্ত্র নির্মাতা হিসেবে ফেদেরিকো ফেলিনির আত্মপ্রকাশ ঘটলো। লো সিকো বিয়ানকো (দ্য হোয়াইট শেখ) নির্মাণ করলেন নিজের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে। প্রথম চলচ্চিত্রেই তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হন। এরপর ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে করলেন আই ভিতলোনি, নিজ শহর রিমিনির পটভূমিতে। আত্মজীবনীমূলক এই চলচ্চিত্র সামাজিক বীক্ষণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। কৌতূকাবহের আঙ্গিকে ফেলিনি এতে সামাজিক অসঙ্গতি আর বিপর্যস্ত মূল্যবোধকে তুলে ধরলেন। একই বছরে তিনি নির্মাণ করলেন তার আরেক উল্লেখযোগ্য চিত্রকৃতি আমুর ইন সিটা (love in the city)।

সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিনি উঠে যেতে থাকলেন পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাসে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বচলচ্চিত্রকে উপহার দিলেন তার অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র লা স্ত্রাদা (দ্য স্ট্রিট)। মানবিক গুণসমৃদ্ধ এই চলচ্চিত্র ফেলিনিকে যেমন দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করলো, তেমনই একই সঙ্গে স্ত্রী জুলিয়েত্তা মাসিনা’কে এনে দিলো তারকা খ্যাতি। জুলিয়েত্তার বিপরীতে এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন আরেক কিংবদন্তি অ্যান্থনি কুইন।

কিন্তু ফেলিনিকে নিউরিয়ালিজম আন্দোলনের মুখ্য তাত্ত্বিক জাভাত্তিনি অভিযুক্ত করলেন এই বলে যে, লা স্ত্রাদায় তিনি নিউরিয়ালিজম ধারার রীতিনীতিকে বিসর্জন দিয়েছেন। প্রত্যুত্তরে ফেলিনি তৈরি করলেন ইল রিদোনে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে। এই চলচ্চিত্রে তিনি তার নিউরিয়ালিজমের অতি নাটকীয় এবং আবেগাবিষ্ট দিকগুলোকে আক্রমণ ও বর্জন করলেন। এরপর নির্মাণ করলেন, লে নোত্তি ডি ক্যাবিরিয়া (১৯৬৬) ও ফরচুনেলা (১৯৫৮)।

ক্রমাগত খ্যাতি আর সাফল্য তাকে এনে দিলো বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণের সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফেলিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বচলচ্চিত্রকে উপহার দিলেন তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি লা দোলচে ভিতা। চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি ফেলিনিকে এনে দিলো অভাবনীয় বাণিজ্যিক সফলতা। বলতে গেলে এটি ফেলিনির প্রতিনিধিত্বশীল চলচ্চিত্র হয়ে উঠলো; তাকে চলচ্চিত্র বিশ্বে করে তুললো অপরিহার্য।

প্রথম দৃশ্যটির জন্যেই লা দোলচে ভিতা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শাশ্বত স্থান দখল করে রেখেছে। এই দৃশ্যে দেখা যায়, যিশুর একটি মূর্তিকে সারাই করার পর পুনঃস্থাপনের জন্যে হেলিকপ্টারে ঝুলিয়ে রোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভয়মুদ্রা প্রদর্শনরত যিশুর ছায়া পড়েছে মিলানের সৈকতে স্নানে ব্যস্ত নগ্ন নর-নারীর দেহে। বহুমাত্রিক দ্যোতনার অপূর্ব নিদর্শন নিঃসন্দেহে এ দৃশ্য।

লা দোলচে ভিতার একটি সর্বকালীন প্রাসঙ্গিকতাও রয়েছে। আজকালকার মিডিয়া বিশেষত ফটোগ্রাফি (স্থির ও চলমান উভয়ই) জগতে একটি শব্দ বহুলভাবে প্রচলিত--পাপারাজ্জি (Paparzzi)। বিশেষ করে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর থেকে ‘পাপারাজ্জি’ শব্দটি সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠে ব্যাপকভাবে। কারণ প্যারিসে মোটর দুর্ঘটনায় মিশরীয় ধনকুবের দোদি আল ফায়েদসহ লেডি ডায়ানার নিহত হওয়ার নেপথ্যে পাপারাজ্জিদের অনুসরণ ও তাড়া করার ঘটনাকে দায়ী করা হয়। পাপারাজ্জিদের এড়াতে গিয়ে দ্রুতবেগে গাড়ি চালানোর কারণে সেই মোটর দুর্ঘটনা হয়। এরপর থেকে সংবাদপত্র জগতে পাপারাজ্জি শব্দটির ব্যাপক প্রচলন ও প্রয়োগ লক্ষণীয়। পাপারাজ্জি হলো সেই সব ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার যারা ধনী ও বিখ্যাত লোকদের পিছু ধাওয়া করে এবং তাদের বিশেষ কোনো কর্মকাণ্ডের মুহূর্ত ক্যামেরায় বন্দি করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ফায়দা লোটে।

লা দোলচে ভিতায় মূল্যবোধহীন সমাজব্যবস্থার চলচ্চিত্রায়ণে এই বিষয়টির ওপর জোর দেন ফেলিনি। এই চলচ্চিত্রের নায়ক একজন বাউন্ডুলে ফটোগ্রাফার যার নাম সিনোর পাপারাজ্জি। তার কাজ ছিলো, ধনিক শ্রেণির মানুষের বিশেষ করে নারীদের নানা গোপন ‘দুষ্টকর্ম’কে ক্যামেরা বন্দি করে ব্ল্যাকমেইল করা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন মার্সেলো মাস্ত্রোইয়ানি। এই চরিত্রের নাম থেকেই ‘পাপারাজ্জি’ শব্দটি চালু হয় এবং এই ধরনের ফটোগ্রাফারদের পেশার নামটি হয়ে ওঠে, ‘পাপারাজ্জি’। অবশ্য এই বিশেষ পেশাদার ফটোগ্রাফারদের তৎপরতা ও প্রভাব প্রতিপত্তি ক্রমবৃদ্ধিমান।


ছয়.

লা দোলচে ভিতার পরে ফেলিনি নির্মাণ করেন তার আরেক অবিস্মরণীয় চিত্রকৃতি অট্টো ই মেজ্জো, যা এইট অ্যান্ড হাফ নামে পরিচিত। এই নামটিও বেশ চমকপ্রদ। এটি তার সাড়ে আট নম্বর চলচ্চিত্র। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটিকে আধা বা হাফ নম্বর ধরে এর পরের সাতটি পূর্ণদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্রের পর এটি তার সাড়ে আট নম্বর চলচ্চিত্র।

এই ‘সাড়ে আট’ বা এইট অ্যান্ড হাফ ফেলিনিকে খ্যাতির চরম শিখরে তুলে দেয়। আর এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফেলিনি সম্পন্ন করেন তার আত্মজীবনীমূলক চিত্র চতুষ্টয়--আই ভিত্তোলোনি, ইল বিদোনে, লা দোলচে ভিতা এবং অট্টো ই মেজ্জো। বিশ্বচলচ্চিত্রে যা একমাত্র নিদর্শন।

ফেলিনি এবার তার আঙ্গিকে আনলেন একটু ভিন্নতা। কৌতূকাবহের পাশাপাশি যোগ করলেন রূপকধর্মিতা, যাকে সমালোচকেরা আখ্যায়িত করলো ‘ফেলিনি ফ্যান্টাসি’ অভিধায়। এ ধারায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের জুলিয়েত্তা দেগলি স্পিরিতি (জুলিয়েট অব দ্য স্পিরিটস)। অভিনয়শিল্পী স্ত্রী জুলিয়েত্তাকে ভেবেই এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি, যা বিষয় বৈচিত্র্যে ভিন্নতার স্বাদ আনে।

স্ত্রীর পর তিনি নিজেকে নিয়ে করলেন ফেলিনি স্যাটারিকন (১৯৬৯)। এ চলচ্চিত্রে নিজেকে নিয়ে বেশ মজা করলেন! একই সঙ্গে ভাঙলেন তার আগের অনেক রীতিনীতিকে। এরপর ইতালির টেলিভিশনের জন্যে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন আই ক্লাউনস। এতে তিনি পুনরায় ফিরে আসেন আত্মজীবনীমূলক ধারায়, যাতে নিজের চোখে দেখা সার্কাসকর্মীদের কথা তুলে ধরেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মহানগরী রোমের জটিল নাগরিকতা নিয়ে নির্মাণ তার আরেক স্মরণীয় চলচ্চিত্র রোমা।

জন্মস্থান রিমিনিতে কাটানো শৈশব আর যৌবনের দিনগুলো নিয়ে ১৯৭৩-এ ফেলিনি নির্মাণ করলেন অ্যামারকর্ড (আই রিমেমবার)। আত্মজীবনীমূলক এই চলচ্চিত্রটিও ফেলিনির আরেকটি শ্রেষ্ঠ অবদান। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেলিনির চলচ্চিত্রগুলো মূলত আত্মজৈবনিক। নিজের জীবনের কথাই ফিরে ফিরে এসেছে সেখানে। ফেলিনির চলচ্চিত্রগুলো একান্তই তার ব্যক্তিগত (ফেলিনি পারসোনাল ফিল্ম)। তার ব্যক্তিগত জীবন, তার নির্মাণশৈলী, তার মৌলিক উদ্ভাবিত রূপক (ফেলিনি ফ্যান্টাসি), সর্বোপরি নিজস্ব কলাকুশলীর কারণে।

সাত.

স্ত্রী জুলিয়েত্তা মাসিনা ছাড়া তার দলে স্থায়ী ছিলেন সহচিত্রনাট্যকার তুলিও পিনেলি ও এনিও ফ্লেইয়ানো; আলোকচিত্রী গিয়ানি ডি ডেননিজো ও জোসেফ রোটুনে; সেট নির্মাতা ও ডিজাইনার পিয়েতো গেরারদি এবং সঙ্গীত পরিচালক নিনো রোটা। এদেরকে ছাড়া ফেলিনি কাজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। যেকারণে রোমের সিনে সিটা স্টুডিওর বাইরে আর কোথাও কাজ করেননি এই শিল্পী। বিশ্বচলচ্চিত্রে এ এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ও ঘরানা বৈকি।

তাই বলে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি এক জায়গায়; গড়েছেন আর ভেঙেছেন ক্রমাগত নিজেকে। বিবর্তন ঘটিয়েছেন নিজের রীতিনীতিতে, বিষয়ে বৈচিত্র্যে, যা তার প্রগতিশীলতাকে প্রকাশ করে।

পাঁচবার অস্কার বিজয়ী (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট-এর বিশেষ অস্কার ছাড়া বাকি চারটি চলচ্চিত্র--লা স্ত্রাদা, লে নোত্তি ডি ক্যাবিরিয়া, অট্টো ই মেজ্জো এবং অ্যামারকর্ড) এই মহানশিল্পী নিজের বৈচিত্র্যময় জীবনের নানা বিচিত্র অবস্থাকে বার বার চলচ্চিত্রের উপাদান করে তুলেছেন। কেননা জীবনকে তিনি দেখেছেন অত্যন্ত কাছ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবং জীবনকেও গড়েছেন মানবিকতার নিষ্ঠ মূল্যবোধে। যেকারণে জীবন সৈকতের বর্ণ-বিবর্ণ নুড়িগুলো তার চলচ্চিত্রের ইমারত গড়ার কাজে পৌনঃপুনিক ব্যবহার্য হয়ে এসেছে।

একের পর এক আত্মজৈবনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নিজস্ব ধ্যানধারণা চাপিয়ে দেওয়া, ব্যক্তিগত সংস্কারকে চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করা ইত্যাকার অভিযোগে বার বার অভিযুক্ত করার পরেও সমালোচকেরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে ফেলিনির এসব প্রয়োগকে। তার সহজাত ও স্বাচ্ছন্দ্য কৌতূক আর রূপক শৈলীর কারণে তাকে ফেলিনি ঘরানা বলেও আখ্যায়িত করেছে তারা। আর বিশ্বচলচ্চিত্রে এই মৌলিক ঘরানার কারণেই ফেলিনি অধিষ্ঠিত হয়ে থাকবেন শ্রেষ্ঠ এক রূপকারের মহিমায়।

আট.

সবশেষে ফেদেরিকো ফেলিনির নিজের কথা শুনি, যার মধ্য দিয়ে তাকে আবিষ্কার করা সহজ হবে। ফেলিনি লিখেছেন,

ছেলেবেলায় পুতুল বানাতাম, বানিয়ে নিজে নিজেই পুতুল নাচ দেখতাম। প্রথমে কার্ড বোর্ড ড্রইং করে কেটে নিয়ে পরে মাটি কিংবা আধা ভেজানো কাগজ দিয়ে মাথাগুলো মুড়ে দিতাম। চামড়ার কারিগর কিংবা ছুতোরের চারপাশে কিছু নরম কাঠের জন্য কত ঘুরঘুর করেছি। এখন সে কথা ভাবলে মনে হয় আমার কল্পনা কারিগরি নৈপুণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজেকে দেখা আমার আর একটা প্রিয় অভ্যাস ছিল। অবিশ্বাস্যভাবে নিজেকে সাজাতাম--পাউডার মেখে, মাথায় রঙ ঢেলে, চুল ফেলে দিয়ে বয়স্কদের মতো, কখনো পোড়া ছিপি দিয়ে গোঁফ এঁকে এঁকে।

আরও পরে স্কুলে ক্যারিকেচার গল্প ও কার্টুনসহ পত্রিকা বের করি। আমি কোনো দিন বলিনি যে, বড় হয়ে অমুক হবো বা তমুক হবো। কারণ আমার ধারণা ছিল আদৌ কোনো দিন আমি বড় হবো না। মূলত আমার এ ধারণা ভ্রান্ত নয়। একমাত্র পেশা যা আমি গ্রহণ করতে পারতাম তা হচ্ছে অভিনয়। তারপর অকস্মাৎ আমাকে অনেক কিছু লিখতে হয়েছে। বহু বছর ধরে প্রত্যেক সন্ধ্যায় অসুস্থদের জন্য নির্ধারিত রেডিও প্রোগ্রাম লিখেছি--গান, ছোটগল্প, স্কেচ ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রের আহ্বানের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, একথা ঠিক নয় যে ছেলেবেলায় প্রায়ই ছবি দেখতে যেতাম। অধিকাংশ সময়েই পয়সা থাকতো না, আমাকে দেওয়া হতো না। পরে রোমে থাকাকালীন বেশি সিনেমা দেখেছি। কিন্তু নিজে কখনো চলচ্চিত্রে আসবো তা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। বরং ভেবেছিলাম চলচ্চিত্রও আমার জন্য নয়। একচ্ছত্র স্বৈরাচার পছন্দ করতাম না। তাছাড়া আমার মধ্যে সামঞ্জস্য, ডিটেলের প্রতি মনোযোগের ক্ষমতা, অবিশ্রাম নিজেকে ক্ষয় করার শক্তি এবং আরও অনেক কিছুর অভাব ছিল। সবচেয়ে বেশি অভাব ছিল কর্তৃত্বের। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যে এই গুণগুলির প্রয়োজন।

... ছবির পরিচালককে জাহাজের ক্যাপটেনের মতো সর্বদাই কর্মচারীদের হুকুম দিতে হয়। এই ভয়, সংকোচ ও অস্বস্তির একটা অস্পষ্ট দ্বিধাগ্রস্থ সময় থেকে মুক্ত করে রোজেলিনি আমাকে চলচ্চিত্রের প্রাঙ্গণে এনেছিলেন। তিনি তাঁর ওপেন সিটি-র চিত্রনাট্য লেখালেন আমাকে দিয়ে। তাঁর মধ্যে আদি পিতার কিংবা আদমের মতো পিতৃত্বের সন্ধান পেয়েছিলাম। পেয়েছিলাম নানাবিধ সমস্যা থেকে উদ্ধারের গোপন কৌশলগুলি। তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ এবং একত্রে নির্মিত ছবিগুলি সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটা দৈব নির্ধারিত ঘটনা। স্টুডিওর সেটের ভেতরে শ্যুটিং করার চাইতে খোলা জায়গায় আউটডোরে শ্যুটিং করা আমার কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ছিল। রোজেলিনিই সর্বপ্রথম এটা আরম্ভ করেন। পাইসা ছবির জন্য তার সঙ্গে ভ্রমণের সময় আমি ইতালিকে আবিষ্কার করেছিলাম। রোজেলিনির সবান্ধব গ্রামাঞ্চলে আনন্দময় স্নিগ্ধ ভ্রমণের মধ্যে ছবি করার পদ্ধতি আমার ভালো লাগতো।

... গল্প বলার পদ্ধতি নয়, ছবিতে আমার আগ্রহ ছিল কেবল গল্পাংশে। আর সমালোচক হিসেবে আমাকে দক্ষও বলা যায় না। দর্শক হিসেবেও আমি অলস।

... ছবিতে সেট/সিন ডিজাইনারের সঙ্গে সহযোগিতা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। চিত্রনাট্য সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টায়নি। ডাবিং করার সময় সবকিছু অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে করি, চিত্রগ্রহণ কালে অভিনেতাদের কথার বদলে সংখ্যা উচ্চারণ করতে নির্দেশ দিই। কারণ অনেক দিন আগে লেখা সংলাপ তখন পুরানো ও অযোগ্য বলে মনে হয়। এক কথায় বলতে হয় ... কল্পনায় আমার চিত্রনাট্যের সূত্রপাত এবং প্রথম কপি এমন কি প্রথম প্রদর্শনে তার সমাপ্তি।

... দাম্পত্যের এই অকাল মৃত্যুর যুগে আমার জীবনে জুলিয়েত্তার স্থান চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। একজন স্বাধীন পুরুষের জন্য মনে হয় প্রয়োজন একজন স্বাধীন নারীর। জীবনের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ার চেষ্টা। নিজের সঙ্গে মেকি ভদ্রতাবিহীন, সম্পূর্ণ নির্ভয়, দ্বিধাহীন ও নিঃস্বার্থ যোগসাধনা।১

ফেলিনির নিজের এই কথাগুলো থেকে তার ব্যক্তিগত জীবন দর্শন ও চলচ্চিত্র নির্মাণ শৈলী সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। নিজের জীবন চর্চা এবং শিল্পচর্চা দুই-ই অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। নিজের জীবনের অনেক ঘটনা তিনি স্যাটায়ারের মধ্য দিয়ে তার আত্মজৈবনিক চলচ্চিত্রগুলোতে তুলে ধরেছেন। এটা নিঃসন্দেহে সৎ সাহসের ব্যাপার। ফেলিনিকে চলচ্চিত্রের জাদুকর বলা হলেও সে জাদু অলীক কিংবা ফাঁকিবাজি কিছু নয়। জীবন থেকে সেচে নেওয়া। পাশ্চাত্য দেশের প্রচলিত জীবনধারার সঙ্গে তার জীবন চর্চার যেমন মিল নেই, তেমনই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র তার নির্মাণ আঙ্গিক। তাই শতবর্ষ পরেও তিনি সমান গ্রহণযোগ্য, জীবিতকালের মতোই। ভোগবাদী জীবনযাপনে বিশ্বাসী পশ্চিমবিশ্ব যা ফেলিনির নিজের বিশ্ব, তার কাছে তিনি অনেকটাই রহস্যময় হয়ে থেকে গেছেন বরাবর। কারণ তার দর্শন ছিলো ভোগবাদিতা থেকে দূরে। কিছুটা প্রাচ্যবিশ্ব সদৃশ। স্ত্রী জুলিয়েত্তাকে নিয়ে আজীবনের দাম্পত্য ও শিল্পচর্চা যা পশ্চিমদেশে বিরল। তাই তিনি নিজের সম্বন্ধে বলতে পারেন এভাবে--‘জীবনের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ার চেষ্টা। নিজের সঙ্গে মেকি ভদ্রতাবিহীন, সম্পূর্ণ নির্ভয়, দ্বিধাহীন ও নিঃস্বার্থ যোগসাধন। নানান বাঁধন থেকে আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত মুক্ত হতে চাইছি, সমস্যা বন্দীত্ব অনিশ্চয়তা থেকে ক্রমাগত মুক্তি পেতে চাইছি। যেমন এইট এন্ড হাফ ছবির পরিচালক-নায়ক গুইডো চাইছে। হ্যাঁ আমিই গুইডো।’২

জন্ম শতবর্ষে এই মহাশিল্পীকে অপরিসীম শ্রদ্ধা।

লেখক : শৈবাল চৌধূরী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, লেখক ও সংগঠক। খণ্ডকালীন শিক্ষক (ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন), নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

https://www.facebook.com/shaibal.chowdhury.56

তথ্যসূত্র

১. ফেলেনি, ফেদেরিকো (১৯৯৬ : ৭৫—৮৪); ‘হ্যাঁ আমি গুইডো’; নিজের কথা; অনুবাদ : পবিত্র বল্লভ, সম্পাদনা : অতনু পাল, বাণীশিল্প, কলকাতা, ভারত।

২. প্রাগুক্ত; ফেলেনি (১৯৯৬ : ৭৫—৮৪)।

বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ২০তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২১ এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন