Magic Lanthon

               

ফাহমিদুল হক

প্রকাশিত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

এক্সট্রাকশন

নোংরা ঢাকায় শ্বেতাঙ্গ মহাপুরুষের উদ্ধার-অভিযান

ফাহমিদুল হক


অবশেষে বাংলাদেশ ও ঢাকা হলিউডের চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু হলো। এর আগে অ্যাভেঞ্জার্স চলচ্চিত্রের একটা দৃশ্য বাংলাদেশে চিত্রায়িত হয়েছিলো, এবার পুরো চলচ্চিত্র নির্মাণ হলো ঢাকাকে নিয়ে। অবশ্য অ্যাভেঞ্জার্স-এর দৃশ্যটি শুটিং হয়েছিলো সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে, কিন্তু পুরো চলচ্চিত্রের কাহিনি ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও, এমনকি চলচ্চিত্রের নাম প্রাথমিকভাবে ‘ঢাকা’ বলে প্রচারিত হলেও, স্যাম হারগ্রেভ নির্মিত ও ‘নেটফ্লিক্স’ পরিবেশিত এক্সট্রাকশন চলচ্চিত্রের শুটিং একেবারেই ঢাকায় হয়নি, হয়েছে ভারত ও থাইল্যান্ডে। অবশ্য শহরের কিছু প্লেট শট্ ব্যবহার হয়েছে কয়েক দফায়।

ঢাকাকে নিয়ে যে কাহিনি ফাঁদা হয়েছে এখানে, তা নিয়ে কথা বলা দরকার। সাধারণত হলিউডের অ্যাকশন ও থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্রের কাহিনি যখনই ভিন্নদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়, তখন ভিলেন বা অশুভ শক্তি ওই দেশেই বসবাস করে। আর আমেরিকা থেকে সাদা একজন মহামানব বা সুপারম্যান শুভশক্তির পক্ষে লড়াই করতে, সেই দেশে হাজির হয়ে যেতো। এতোদিন আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ভিলেনদের বসবাস দেখা গেছে, কখনোবা মধ্যপ্রাচ্য বা রাশিয়ায়ও তাদের উপস্থিতি ছিলো, এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে। এবং যথারীতি একজন শ্বেতাঙ্গ ত্রাতা এখানে হাজির। অবশ্য তিনি এবার আমেরিকা থেকে আসেননি, এসেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে।

যে কারণে টাইলার রেক ঢাকায়, সে কারণটি জানা যাক। ঢাকায় আছে এক মস্ত মাদক-ব্যবসায়ী, তার নাম আমির আসিফ। নামটা অবশ্য যতোটা বাংলাদেশি, তার চাইতে পাকিস্তানি ঠেকে। দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বাড়াতে মুম্বাইয়ের মাদক-সম্রাট অভি মহাজনের স্কুলগামী ছেলে অভি জুনিয়রকে মুম্বাই থেকে অপহরণ করে তিনি ঢাকায় নিয়ে আসেন। মুম্বাই পুলিশের লোকই আসিফের হয়ে অভিকে অপহরণ করে। তরুণসদৃশ আমির আসিফের প্রতিপত্তি এতোটাই বেশি যে বাংলাদেশের পুলিশ, স্পেশাল ফোর্স, এমনকি সেনাবাহিনী তার নির্দেশে চলে। অভি মহাজন সিনিয়র কারাগারে রয়েছেন, তার হয়ে ছেলের অভিভাবকত্ব করছিলেন তার অধীনস্ত সাজু রাভ, যিনি আবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ অঙ্গ প্যারা এস এফ-এর সাবেক সদস্য। অভি জুনিয়রের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় তার ঘাড়ে দিয়ে মহাজন সিনিয়র হুমকি দেন যে, ঢাকায় গিয়ে ছেলেকে ফিরিয়ে না আনলে সাজুর ছেলেকে তিনি নিকেশ করে দেবেন, জেলে বসেই তিনি এটা করতে সক্ষম। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের অনুমতি নিয়ে সাজু রওনা দেন ঢাকায়। কিন্তু অভি মহাজনের মূল আস্থা ছিলো আন্তর্জাতিক মার্সিনারি দলের ওপর, যারা অর্থের বিনিময়ে মানুষ উদ্ধার করে দেয়। এই দলের নারী-নেত্রী নিক খান অ্যাসাইনমেন্টটি সম্পন্ন করার জন্য দ্বারস্থ হন রেক টাইলারের কাছে।

টাইলার অস্ট্রেলিয়ায় অবকাশযাপন করছিলেন, কিন্তু নিকের কাছে কাজের সন্ধান পেয়ে, রওনা দিলেন ঢাকায়। টাইলার যাবেন শহরের ভিতরে আর শহরের বাইরে পুরো দল নিয়ে অপেক্ষা করবে নিক। টাইলার মুক্তিপণের টাকা নিয়ে এসেছে, এই অছিলায় অভির কাছে পৌঁছে যান। কিন্তু নৃশংসভাবে বহু লোককে হত্যা করে, প্রথমে আসিফের গুন্ডাপান্ডা, পরে পুলিশ বাহিনী--টাইলার অভিকে নিয়ে রওনা দেন। অভিকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে নিজেদের ইউনিটের কাছাকাছি যেতেই বাধ সাধলো সাজু, তিনি ছেলেটিকে ছিনিয়ে নিতে চান। ফলে আরেক দফা মারামারি। সাজু যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক, আর টাইলার হলো অস্ট্রেলিয় সেনাবাহিনীর সাবেক, ফলে ধুন্দুমার লড়াই চলে দু’জনের মধ্যে। সাজুর কবল থেকে অভিকে রক্ষা করে টাইলার হয়ে ওঠেন সাবেক মার্সিনারি সদস্য, ঢাকাবাসী গ্যাসপার-এর বাড়িতে। এর মধ্যে নিক ফোনে জানিয়েছেন, সিনিয়র মহাজন টাকা পাঠাচ্ছেন না, তাদের ব্যবহার করেছেন, টাইলার যেনো ছেলেটিকে যেকোনো স্থানে রেখে ফিরে আসেন। কিন্তু টাইলার এরপরও ছেলেটিকে পরিত্যাগ করতে রাজি হন না। রাতটা গভীর হতেই জানা যায় গ্যাসপারের সঙ্গে আসিফের সমঝোতা হয়েছে, অভিকে মেরে ফেললে ১০ লাখ ডলার পাওয়া যাবে, যা দু’জন ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন এবং টাইলারকে আসিফ নিরাপদে ফিরে যেতে দেবেন, নয়তো আসিফের নির্দেশে পুরো ঢাকা শহর লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু গ্যাসপারকে টাইলার এই কাজ করতে দেবেন না। ফলে দু’জনের মধ্যে আরেক দফা মারামারি হয়। অভি এই পর্যায়ে ঘুম থেকে উঠে গুলি করে গ্যাসপারকে। টাইলার এবার সাজুর সাহায্য চান ফোনে, টাইলারের টাকার দরকার নেই, অভিকে নিয়ে সাজু যেনো লকডাউনে থাকা ব্রিজ দিয়ে শহরের বাইরে যান এবং নিকের সাহায্যে ফিরে যান; এদিকে পুলিশ-সেনাবাহিনীকে ব্যস্ত রাখবেন টাইলার। পরিকল্পনা মতো কাজ করতে গিয়ে পুনরায় অগণিত বাংলাদেশি-পুলিশ-এলিট বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে ভারতীয় ও অস্ট্রেলিয় দুই নাগরিক। অবশ্য সাজু পথিমধ্যে নিহত হন, টাইলার সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ব্রিজ থেকে পানিতে পড়ে যান। নিকের বাহিনী কিছুটা এগিয়ে আসলে, অভি নিকের তত্ত্বাবধায়নে দেশে ফিরে যায়। আট মাস পরে দেখা যায় নিক ঢাকা এসে নিজ হাতে আসিফকে হত্যা করছেন আর মুম্বাইয়ের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে কাটতে অভি দেখে দূরে টাইলারের এক আবছায়া অবয়ব। ইঙ্গিত রাখা হয়েছে, এক্সট্রাকশন-এর সিকুয়েল হবে।

এক্সট্রাকশন-এর নির্মাতা স্যাম হারগ্রেভ ছিলেন রুসো ব্রাদার্সের ‘অ্যাভেঞ্জার’ সিরিজের স্টান্ট ডিরেক্টর। রুসো ভ্রাতৃদ্বয় এই চলচ্চিত্রের কয়েকজন প্রযোজকের একজন, জো রুসো হলেন এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার আর টাইলার চরিত্রে নেওয়া হয়েছে অ্যাভেঞ্জার-এর অন্যতম চরিত্র থর-এর অভিনয়শিল্পী ক্রিস হ্যামসওয়ার্থ’কে। তো নির্মাতার সহকারী থেকে একজন নির্মাতা হতেই পারেন, মানুষ তো ধীরে ধীরে এগোয়--কিন্তু স্যামের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আগেরকার পরিচয়কে বয়ে এনেছেন এই চলচ্চিত্রে। ফলে চলচ্চিত্রের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো খুবই জমজমাট, চমক জাগায়, বীভৎসতায় উত্তীর্ণ। কিন্তু চলচ্চিত্রের মূল কাঠামো বা ভিত্তি হলো চিত্রনাট্য, সেটায় পরিচর্যা কম হয়েছে। ভায়োলেন্সের দিকে বেশি নজর ছিলো। কতো মানুষ যে মরেছে এক টাইলারের হাতে বা সাজুর হাতে তার ইয়ত্তা নেই।

উন্নত মানের থ্রিলারে খুনোখুনি বেশি থাকে না। ধরা যাক হিচককের চলচ্চিত্র, তার চলচ্চিত্রগুলো আবর্তিত হয় একটা খুনের ঘটনাকে ঘিরে। ভার্টিগো, রেয়ার উইন্ডো বা সাইকোতে মাত্র একজন করে খুন হয়। আবার ধরা যাক, কোয়েনটিন টারান্টিনোর চলচ্চিত্র, তিনি হলেন ভায়োলেন্সের মাস্টার। ভয়ঙ্কর ভায়োলেন্স, কল্পনার সীমা ছাড়ানো তার প্রকৃতি, কিন্তু সংখ্যায় কম, সারাক্ষণ খুনোখুনি নেই। পাশাপাশি একটা সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে তার চলচ্চিত্রে--বর্ণবাদ (জ্যাঙ্গো আনচেইনড, হেইটফুল এইট) বা ফ্যাসিবাদ (ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ড) থাকে ঘটনার পিছনে। আর ভায়োলেন্স অংশ চিত্রায়িত হওয়ার আগে কাহিনিকে নির্মাণ করা হয় অনেক যত্ন করে এবং ধীরে ধীরে। বন জুং হো’র মেমোরিজ অব মার্ডার-এ অদৃশ্য এক সিরিয়াল কিলার ছিলো, কিন্তু তার হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেশি ছিলো না। হিচকক বা টারান্টিনো ধারার বাইরে, এক্সট্রাকশনকে বলা যায় র‌্যাম্বো ধারার চলচ্চিত্র, যেখানে একজন শ্বেতাঙ্গ সুপারহিরো অন্য দেশে গিয়ে তার মিশন সফল করতে মুড়ি-মুড়কির মতো মানুষ মারবে।

চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে অ্যান্ডি পার্কস রচিত চিত্রোপন্যাস সিউদাদ থেকে (উপন্যাসের রচয়িতা অ্যান্ডি পার্কস অন্যতম চিত্রনাট্যকারও)। সিউদাদ দেল এস্তে হলো প্যারাগুয়ের একটি শহর। লাতিন আমেরিকা তো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক মাদক-মহাদেশ--সেই ঐতিহ্য ধরে গল্প লেখা হয়েছিলো মাদক-ব্যবসাকে ঘিরে। চিত্রনাট্য লেখার সময় সিউদাদ হয়ে গেলো ঢাকা। কাহিনির ভূগোল পরিবর্তন হলো বটে, কিন্তু স্থানীয় প্রেক্ষাপট তো অতোটা পরিবর্তন হলো না। তাই ঢাকাকে দেখানো হলো এমন একটি শহর হিসেবে যেটা চলে তরুণ এক ড্রাগ লর্ডের ইচ্ছেমতো, পুলিশ-সেনাবাহিনী তার কথায় ওঠেবসে। আর দেখানো হলো অত্যন্ত নোংরা-ঘিঞ্জি শহর হিসেবে। ওরিয়েন্টালিস্ট গেইজ বা প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সম্ভবত এ রকমই হওয়ার কথা। দক্ষিণ এশিয়ার নোংরা-ঘিঞ্জি শহরই হয়তো পাশ্চাত্যের দর্শকের চোখে ‘এক্সোটিক’ পণ্য।


অবশ্য কেবল পাশ্চাত্য দৃষ্টি নয়, ভারতীয় একটা দৃষ্টিকোণও এখানে আছে। ভারত সব অর্থেই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড়ো এক শক্তি। সেই দেশের দৃষ্টিতে বাকিরা তো নগণ্য এবং অপরাধী অধ্যুষিত। তো মাদক-সম্রাট হোক, তারও তো জেল হয় ভারতে। অথচ বাংলাদেশের মাদক-সম্রাট বয়সে তরুণ, কিন্তু কী দিব্যি পুলিশ-সেনাবাহিনী সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। কারো নিষ্পাপ সন্তানকে কিডন্যাপ করে যে-দেশের মাদক-সম্রাট, সে তো আরেক প্রস্থ নিকৃষ্ট। তার কবল থেকে তো ছেলেটিকে উদ্ধার করতেই হবে। এদিকে ভারতীয় মাদক-সম্রাটের পক্ষে ভাড়া করা সম্ভব হয় অস্ট্রেলিয় মার্সিনারিকে, পাঠানো সম্ভব হয় নিজ সংস্করণের সুপারহিরোকেও। তারা অবলীলায় বাংলাদেশের রাজধানীর ভিতরে ঢুকে যেতে পারে, নিজেদের শিশুকে উদ্ধার করতে পারে, এজন্য শত শত পুলিশ-সেনাকে মারতে পারে। ভারতীয় দৃষ্টিতে বাংলাদেশ হয়তো এমনই, নিজ স্বার্থে এখানে সহজেই ঢোকা যাবে এবং মেরেকেটে নিজের মিশন সফল করে ফিরে আসা যাবে। বাংলাদেশ ভারতের জন্য ‘ইজি প্রে’ বা ‘সহজ শিকার’।

ঢাকা মুম্বাইয়ের জনসংস্কৃতির ভোক্তা--ঢাকার ঘরে ঘরে হিন্দি চলচ্চিত্রের গান বাজে। অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষ প্রচুর হিন্দি গান শোনে, কিন্তু ঘরে ঘরে এসব সারাক্ষণ বাজে তা তো নয়। বদলে কিছু বাংলা গান রাখা যেতো--বাংলাদেশের রুনা লায়লা, জেমস বা মমতাজের মতো আইকনও তো ছিলো। ঢাকাবাসী গ্যাসপারকে একবার দেখা গেলো বাংলা হিপহপ শুনছে, সাইফার বাংলার গানটা য়েন্ড টাইটেলে পুরো বেজেছে, কিন্তু গ্যাসপারের দৃশ্যে, সাবটাইটেলে গানটিকে বলা হলো হিন্দি হিপহপ হিসেবে। তাহলে কে বাংলা হিপহপ যোগ করলো, কেইবা তাকে হিন্দি গান বলে চালালো? আবার আসিফকে আরো নিকৃষ্ট চিত্রায়িত করার জন্য দেখানো হয়েছে, তিনি কেবল শিশু অপহরণই করেন না, শিশু সন্ত্রাসী বাহিনীও পোষেন। ধর্মীয় দিক থেকেও একটা স্টেরিওটাইপ আছে, তা পশ্চিম ও ভারত উভয়েরই ভাবনাকে তুষ্ট করে--আসিফের চারটা বৌ আছে। চার বৌ পালে কয় মুসলমান, এই বাংলায়? যাদের অনেক টাকা তারা যৌনতা কেনে, নতুন নতুন বিয়ে করে না।

বলছি বটে ঢাকাকে মাদক-সম্রাট নিয়ন্ত্রণ করে না, কিন্তু এটা তো ঠিক, বিশেষত বার্মা সীমান্ত দিয়ে প্রচুর মাদক বাংলাদেশে ঢোকে, কিন্তু পুলিশ এসব জেনেও নিয়ন্ত্রণ করে না। মাদক-সম্রাট বদির কথা সবাই জানে, তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন, ওই অঞ্চলের পুলিশ তার কথায় ওঠবস করেই বটে। সরকার গত বছর মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কিছু মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাও করে। ফলে মাদক-নেটওয়ার্ক একেবারে ফেলনা বিষয় নয় বাংলাদেশে। তবে ‘বাংলাদেশের এস্কোবার’-রূপে যেভাবে আমির আসিফকে হাজির করা হয়েছে, ব্যাপারটা হয়তো অতোখানি নয়।  

ভারতের হায়দ্রাবাদে ঢাকার অলিগলি কিংবা থাইল্যান্ডের বান পং-এ সুলতানা কামাল ব্রিজ ও গাড়িঘোড়ার বিন্যাসকে বিশ্বস্ত করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। কিন্তু যেকোনো ঢাকাবাসী এসবের মধ্যে ত্রুটি খুঁজে পাবে। রাস্তা-ঘাটে হঠাৎ হিন্দি বর্ণ দেখা গেছে। সিএনজি অটো-রিকশার গায়ে লেখা দেখা গেছে ‘আল্লাহ সার্ভ শক্তিমান’ কিংবা রাস্তার ধারে সাইনবোর্ড ‘এই দোকান বিক্রির হবে’। ঢাকার বাংলা উচ্চারণে হিন্দি টান থেকে গেছে, যদিও বাংলা সংলাপ অনেকটাই লাগসই ছিলো। অন্তত কলকাতার চলচ্চিত্রে-নাটকে যেমন একটা টাইপড সংলাপ থাকে, তার চেয়ে ভালো ছিলো। হলিউডে কাজ-করা ওয়াহিদ ইবনে রেজা বাংলা সংলাপগুলো অনুবাদ করে দিয়েছেন। তবে বাঙালি হিসেবে যাদের দেখানো হয়েছে সবাই আসলে ভারতীয়, অন্তত ডাবিংয়ে বাংলাদেশিদের নেওয়া যেতো। হাস্যকর দিক ছিলো রাতের বেলা পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা দেখানো।

গল্পের একমাত্র গভীরতার দিক ছিলো, যখন রাতে গ্যাসপারের বাসায়, টাইলার মার্সিনারির কঠোর ভাবমূর্তি ত্যাগ করে ভিতরের দুঃখী মানুষটাকে প্রকাশ করেন। তার স্ত্রী তাকে ত্যাগ করেছেন, একমাত্র ছেলে মারা গেছে ক্যান্সারে। তাইতো টাকা পাবে না জেনেও ছেলের বয়েসি অভিকে রক্ষা করতে চান তিনি। ছেলে যখন মৃত্যুমুখে, তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন কান্দাহার, কাজের অছিলায়, আসলে গিয়েছিলেন বিনে টাকায়। অভিকে বলেন, তিনি মোটেই সাহসী মানুষ না, ভিতরে ভিতরে খুব ভীতু।

এটুকু বাদে, এক্সট্রাকশন নিছক এক অ্যাকশন চলচ্চিত্র।

লেখক : ফাহমিদুল হক, চলচ্চিত্র সমালোচক ও গবেষক।

fahmidul.haq@gmail.com

https://www.facebook.com/fahmidulhaq

বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৯তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন