Magic Lanthon

               

অনিক ইসলাম

প্রকাশিত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

ইরফানের চোখ

অনিক ইসলাম


... তবু থেকে যাবে কথাদের ফাঁকে ফাঁকে

কী অতর্কিতে জ্বলে ওঠা দুই চোখ

সাড়া দিতে হয় পর্দা যখন ডাকে।

তারিফে দাঁড়ায় মহাকাল। দর্শক।


এক.

প্রতিনিয়ত অগণিত প্রাণ বিদায় নিচ্ছে এই ধরাধাম থেকে। সব প্রজাতির এই বিদায় মিছিলে মানুষও চলেছে কাতারে কাতারে। কিন্তু সবাইকে কি মহাকাল তার শোকেসে স্থান দেয়? কিংবা কজনার জন্য চিন্তাশীল পত্রিকা তার ফর্মা বরাদ্দ করে? না সবার জন্য করে না, কারো কারো জন্য করে। এই নির্মম সত্যটা সবার আগে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে, মেনে নিতে হবে। সেই মিছিলে সম্প্রতি শরিক হয়েছেন সাহেবজাদা ইরফান খান। যিনি ইতোমধ্যেই তার নাম থেকে প্রথম অংশটুকু কেটে ফেলেছিলেন আর প্রস্তুতি চলছিলো শেষ অংশের বিদায়ের। শুধু ইরফান হতে চেয়েছিলেন তিনি, যা শুধুই তার অর্জনকে প্রতিনিধিত্ব করবে।

মানব প্রজাতির মধ্যে ইরফান এমনই এক বিস্ময়কর উপাদান যাকে স্মরণ করতে পারাটা যেকোনো মানুষের জন্যই সমান্তরালভাবে ভয় ও আত্মশ্লাঘার বিষয়। ভয়ের কারণটা হয়তো আমরা সবাই জানি--তাকে খানিকটা হলেও ধারণ করতে পারবে কি না সে সংক্রান্ত এক আতঙ্কমিশ্রিত সংশয়। আর আত্মশ্লাঘাটা হলো ইরফানের মতো একই প্রজাতির অংশ হতে পারাটা, এতে অনুভূত হয় যে ইরফানের কিছুটা তো আমরাও ধারণ করি। পাগলামিই হয়তো, তবে এই পাগলামিটা ইরফানকে নিয়ে করতে হবে। এখানে একটা বড়ো জিজ্ঞাসা হলো কেনো ইরফানেরা আমাদের হৃদয়ের এতো নিকটবর্তী? কেনো ইরফানদের আমাদের এতো প্রয়োজন? এই প্রয়োজনটা যেকোনো মৌলিক চাহিদার থেকে কোনো অংশেই কম নয়। প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার যুদ্ধে নিয়োজিত এই পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতাকে কাউন্টার দিতে সাহায্য করে ইরফানরা। ওরা যেনো এন্টিবডির মতো কাজ করে যায় সমস্ত বিষাদের বিরুদ্ধে; তাই জাগতিক কোলাহল থেকে একটু মুক্তি পেলেই কিংবা পেতে আমরা ছুটি ইরফানদের কাছে। আমাদের অনুভূত হয়, বিরলপ্রজ একজন অভিনয়শিল্পী ইরফান।

ছোটো শহর থেকে উঠে আসার কারণে সহজেই এড়িয়ে যায় এমন নানা ঘটনা প্রত্যক্ষ করা এবং সেখান থেকেই ইরফান শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ইরফানের মা কড়া ছিলেন কিন্তু নানি ছিলেন তার সত্যিকার মানসিক আশ্রয়। নানির সঙ্গে কাটানো সময়টাই তাকে শৈশবের স্বাধীনতাটুকু দিয়েছিলো। এমন কিছু করতে চাইতেন ইরফান যার সঙ্গে তার আত্মার সংযোগ থাকবে। ছোটোবেলাতে নাটক করতে গিয়ে বুঝেছিলেন, এই সেই জায়গা যেখানে কাজ করলে তার আত্মা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। এরই পথ ধরে ভারতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে (এন এস ডি) ভর্তি হন ইরফান। যেখান থেকে ইতোমধ্যেই বেরিয়ে গেছে এমন কিছু চলচ্চিত্রকর্মী, যারা ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতিপথ বাঁকিয়ে দিয়েছে বেশ খানিকটা। ইরফানের পক্ষে সেসময় নিশ্চয় জানা সম্ভব ছিলো না যে, তিনি নিজেও আসছে দিনগুলোতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আলাদা একটি প্রজাতির জন্ম দেবেন।

কাউকে ছোটো কিংবা বড়ো করার বিষয় নয়, তবে অনেক অভিনয়শিল্পী এসেছে বা আসবে যাদের সহজেই প্রতিস্থাপন করা যাবে কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক অভিনয়শিল্পী রয়েছে যাদের বদলি হয় না, কোনো দিন হয়নি। ইরফান সেই ভাগটাতে অবস্থান করেন। এই অভিনয়শিল্পীকে আমরা প্রথম লক্ষ করি একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে, ওটা ছিলো একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির বিজ্ঞাপন। তখন সবে কেবল মোবাইল ফোনসেটের বাড়বাড়ন্ত শুরু হচ্ছে এই উপমহাদেশে। মধ্যবিত্ত মোবাইল ফোনসেট হাতে পাবে আরো বছর কিছু পরে। তখন আমার বয়স কম, বুদ্ধি আনুপাতিক হারে আরো কম ছিলো। সেই সময় ওই বিজ্ঞাপনটিকে বিশ্লেষণ করতে পারাটা কিংবা তাতে অভিনয় করা মানুষটাকে নিয়ে অঙ্ক কষতে বসার তো প্রশ্নই উঠে না। সেই সময়ের কথা বলছি, যখন ছোটোদের কাছে খুব অল্প কিছু দারুণ জিঙ্গেল নির্ভর টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টি ভি সি) ছাড়া সিংহভাগ কেবলই বিরক্তিকর বিরতি। শুধু তাই নয়, আমরা আমাদের ছোটো ছোটো প্রয়োজনগুলো সেরে নিতাম এই বিজ্ঞাপন বিরতিগুলোর ফাঁকে।

কিন্তু হঠাৎ একদিন সব পাল্টে গেলো, আমার চোখ আটকে গেলো একটি টি ভি সিতে। এর আগে টি ভি সি বলতে আমি দেখতাম, যতো কম সময়ে গড়গড় করে পণ্য সম্পর্কে যতো বেশি সম্ভব বলার প্রতিযোগিতা ও প্রবণতা। সেসব বিজ্ঞাপন ছিলো স্বাভাবিকভাবে দারুণ লাউড আর প্রগলভপূর্ণ। এই প্রথম দেখলাম সুদর্শন এক পুরুষ, খুব কম কথা বলে চোখ দিয়ে দর্শকের সঙ্গে এক ধরনের আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে। সে যেনো বলতে চাইছে, এতো কথা বলার কী আছে? আমার দিকে তাকান আর আমাকে বিশ্বাস করুন। এ যেনো নতুন কোনোভাবে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাওয়া। এখানে কথার মারপ্যাচ নেই। মেগা স্টারসুলভ চকিত, যৌনাবেদনপূর্ণ চোখের মার নেই। এ যেনো সম্পূর্ণ আলাদা কোনো দৃষ্টিপাত, যার সঙ্গে এই পরিচিত পৃথিবীর তেমন পরিচিতি নেই। এখানে আধুনিক, স্মার্ট, সেন্স অব হিউমার ভরা চোখের উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার নেই। এ যেনো হিমালয়ের উপরে অবস্থিত কোনো অজ্ঞাত জনবসতি থেকে নিয়ে আসা দৃঢ়, সম্মোহনী, বিনয়ী কোনো দৃষ্টি; যে চোখের মধ্যে ঋষি-মুনিরা ধ্যানে বসে যেতে পারে। ইরফানের চেহারায় এক ধরনের ভড়কে দেওয়া আভিজাত্যও ছিলো। সেটাকে অহংকার কিংবা অতিবিশ্বাস কখনোই বলা ঠিক হবে না। বরং পাড়ার সেই দুষ্টু ছেলেটির সঙ্গে ওর অনেক মিল ছিলো, যে কিছু না কিছু করে পাড়াকে সর্বদা চমকে দিতে চায়। ইরফানের চোখ দুটো সেই কাজটি করতো নিখুঁতভাবে। কী চকমকে অতি উজ্জ্বল একজোড়া চোখ। যেনো স্ক্যান করে বাঁধিয়ে রাখতে চাইছে সামনের পৃথিবীটাকে নিজের ভিতরে, যতোটা সম্ভব।

দুই.

চলচ্চিত্রিক চরিত্র কী? এটা এক বা একাধিক মানুষের অভিরূপই কি নয়? একটা চরিত্র কোনো না কোনো মানুষকেই কি বহন করে না? তো স্বাভাবিকভাবেই সেই চরিত্রের অনেকগুলো স্তর থাকে। আমরা দেখি কখনো সে স্নেহ বৎসল, কখনোবা নির্মম। কারো প্রতি সে ভীষণ উৎচ্ছ্বসিত আবার কারো প্রতি তার চরিত্রের অন্ধকার দিক প্রকট হয়ে ওঠে। এই সবের সামষ্টিক যোগফলটাই তো সেই চরিত্রটি! সিংহভাগ অভিনয়শিল্পীকে দেখি তারা প্রতি একক সময়ে ওই চরিত্রের কোনো একটি দিকই কেবল তুলে ধরেন। অর্থাৎ যখন তিনি প্রেমিক পুরুষের ভূমিকায় আছেন তখন তিনি নির্ভেজাল একজন প্রেমিক, আবার যখন তিনি প্রতিশোধ পরায়ণ প্রেমিকের অবতারে আছেন তখন শুধুই তাই। অর্থাৎ তার সব অভিনয় সত্তাকে তিনি নিয়োজিত রাখেন চরিত্রের একটি এককালীন বৈশিষ্ট্যের সেবায়। হয়তো এটাই ক্লাসিক বা ওল্ড স্কুল, অর্থাৎ প্রতিটি অবতারকে শুদ্ধভাবে ফুটিয়ে তোলার সর্বোত্তম উপায়। কিন্তু জটিল মানব আচরণকে ধরতে গেলে এতে খামতি থেকে যেতে পারে। একটু ব্যাখ্যা করি, মানুষের মধ্যে একাধারে নানা অনুভূতি সহাবস্থান করতে পারে। দেখা যায় যে, নির্মমতা, ক্রুদ্ধতা, ভালোবাসা একই মুহূর্তে তার মধ্যে বিরাজমান। সম্রাট হুমায়ূন তার ছোটোভাই কামরানের পুনঃপুন বিশ্বাসঘাতকতা ও অপরাধে বিদ্ধ হতে হতে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে কামরানের দুচোখ গলিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই নির্মমতা ছিলো প্রয়োজনীয় ও হুমায়ূনের ব্যক্তিত্বের জন্য পরীক্ষাসুলভ। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভিতরে ভিতরে কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন তিনি, এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা ভর করেছিলো তার ওপর, তবুও তিনি স্বভাবসুলভ কঠোর কণ্ঠে হ্যাঁ বলেছিলেন। অন্যের প্রতি এই যে বহুমাত্রিক অনুভূতির সমাবেশ, তা খুব কম অভিনয়শিল্পী ধারণ করতে পারে। তাদের হাতে করে গুনে ফেলা যায়।

ইরফান এটা পারতেন, আর সমসাময়িকদের ভিতর কঙ্কনা সেন শর্মাকে এর কাছাকাছি করতে দেখেছি। ইরফানের মুখ হয়তো দৃঢ় কোনো বাক্য বলছে কিন্তু তার চোখে সমান্তরালভাবে একটা অনিশ্চয়তা ফুটে উঠেছে। যে কারণে যেকোনো বুদ্ধিমান নির্মাতাই ইরফানের প্রচুর ক্লোজ-আপ শট্ নিতেন, অন্য অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে যেখানে মিড-শটই যথেষ্ট। ইরফান তার চোখ দিয়ে অতিরিক্ত সেই তথ্যটুকু দিতেন যা আসলে সংলাপ ধরতে পারতো না। মানবজীবনের যে বাইনারি, দৃঢ়তা-দোদুল্যমানতা, স্থিরতা-অনিশ্চয়তা, প্রেম-কাম তার জীবন্ত প্রেক্ষাগৃহ ছিলেন এই অভিনয়শিল্পী।

অভিনয়শিল্পীদের সবচেয়ে বড়ো আনন্দের জায়গা হলো তারা এক জীবনে শত জীবন বাঁচে। পৃথিবীর নানা চরিত্রের স্বাদ তারা পেয়ে যায়, যা কখনো তাদের আনন্দিত করে, কখনো রোমাঞ্চিত, কখনোবা ক্ষতবিক্ষত। অনেকে অভিনয় শেষ করা মাত্রই চুকিয়ে ফেলে ওই চরিত্রের সঙ্গে যাবতীয় লেনদেন। কিন্তু অনেককে সহজে ছাড়ে না সেই চরিত্র। সেই অভিনয়শিল্পী ভূতগ্রস্ত মানুষের মতো বয়ে নিয়ে চলে সেই চরিত্রকে, দীর্ঘদিন। তারপর আরেকটি ডুবে যাওয়ার মতো চরিত্রই তাদের আবার উদ্ধার করে। এ রকম করে অচেনা একটি মানুষ/চরিত্র তাদের নিজের হয়ে ওঠে, চরিত্রের আহরিত ব্যথা একজন সত্যিকার অভিনয়শিল্পীর বুকে শেল হয়ে বিঁধে। দুঃখের মধ্যেও যে আনুবীক্ষণিক সুখ রয়েছে, সেই সুখ সে আস্বাদন করতে শেখে। নতুন এই চরিত্রের সঙ্গে যখন সে তার দর্শককে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় তখনই একজন অভিনয়শিল্পীর ক্ষমতার পরিমাপ হয়। এই সময় একজন অভিনয়শিল্পী তার নানা উপকরণ ব্যবহার করে। তার আছে ভোকাল, তার শরীরী ভাষা, তার হাত-পা, বাক্য বলার স্ব-স্ব কৌশল ইত্যাদি। ইরফানের ক্ষেত্রে দেখেছি ওর একটা আলাদা অঙ্গ আছে যেটি ভীষণ সপ্রতিভ, যা অন্যদের বেলায় ভীষণভাবে অনুপস্থিত, কিংবা সর্বোচ্চ হলেও সেটা আরোপিত। হ্যাঁ ইরফানের চোখের কথাই বলছি। ইরফানের চোখ যেনো তেজস্ক্রিয় কোনো পদার্থের মতো, যা অবিরাম তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে যায় কোনো বিশেষ প্রভাবক ছাড়াই।

একটা কথা মনে রাখা খুব দরকারি যে, চোখ মানব মনের সেই অনৈচ্ছিক পেশি যা সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই সত্য-মিথ্যার খোঁজে আমরা সবার আগে তাকাই মানুষের চোখের দিকে। খোঁজার চেষ্টা করি কী আছে সেখানে, অভিজ্ঞ লোক মাত্রই পড়ে ফেলে চোখে ফুটে থাকা গল্পটা। তাহলে ইরফান কি চোখকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো গুপ্তবিদ্যার খোঁজ পেয়েছিলেন? উত্তর হয়তো না। ব্যক্তি হিসেবেই ইরফান ছিলেন ভীষণ সংবেদনশীল আর আলাদা। ইরফানের চোখ যে কবিতার মতো আচরণ করবে এতে অবাক হওয়া নিষ্প্রয়োজন। কারণ তিনি অনেক পড়াশোনা করতেন এবং তার ভিতরে একজন কবি বসবাস করতো। স্বাভাবিকভাবে এটা মানুষ হিসেবে তাকে অনেকখানি অভিযোজিত করেছিলো। আর জীবনের দার্শনিক সত্যগুলোর অনেকটাই তাই তার কাছে প্রকাশ হয়েছিলো, হচ্ছিলো।

জ্ঞান মানুষকে উজ্জ্বল করে তোলে, সেই উজ্জ্বলতা, স্বচ্ছতা তার চোখে ভেসে বেড়ায়। আমার বিশ্বাস মানুষের মধ্যে সদা বিরাজমান এই যে দ্বিধা, বৈপরীত্য তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি। তাই যেকোনো চরিত্র তার কাছে অন্য মাত্রায় উন্মোচিত হতো। মনে রাখতে হবে, ইরফান কোনো চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতেন না, তিনি তাকে তার বোঝাপড়া অনুসারে ধারণ করতেন মাত্র। পৃথিবীর সবকিছু আমরা জানি না। আমরা যা দেখি তার কতোটুকু সত্য আর কোনটুকু ভ্রম সেটিও এক আপেক্ষিক সত্য! এই অনিশ্চয়তাটুকু ইরফান বুঝতেন এবং বহন করতেন। যা তার অভিনয়ে আমরা দেখি। ইরফান এমন একজন অভিনয়শিল্পী ছিলেন যিনি স্ক্রিপ্ট এর উপরে উঠে যেতেন। লেখাটির পিছনের যে চিন্তাপ্রক্রিয়া সেটা ধরতে পারতেন। এ রকম অভিনয়শিল্পী আসলে যেকোনো নির্মাতার জন্য একটা উপহারস্বরূপ।

ইরফান তোমার কাছে যে ঋণ তা শোধ হবে না। কোনো শ্রদ্ধার চাদর তোমার দেহের মাপের হবে না। তুমি তো আমাদের দূরের কেউ ছিলে না। নানা অবতারে বারে বারে ফিরে এসেছো আমাদের মাঝে। প্রতিবারে আরো আরো আপন হয়ে উঠেছো। তোমার জন্য শোক করতে সম্মান বোধ করি ইরফান। যতোদিন বেঁচে থাকবে এই সময়-সমান্তরাল, ততোদিন তুমি অনিবার্য ততোদিন তুমি বহাল।

বহতা শিল্প অসমাপ্তই হয়।

মধ্যদিনেই থেকে যেতে চায় গান।

জীবনের মতো নিষ্ঠুর অভিনয়

তুমি তো কখনো পারতে না, ইরফান ...


লেখক : অনিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

anikislam.ru@gmail.com

https://www.facebook.com/aislam.ru

 

তথ্যসূত্র

১. শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা এপিটাফ থেকে নেওয়া; লিঙ্কে গিয়ে দেখতে পারেন https://web.facebook.com/srijato.speaks.3/posts/2746851492252834; retrieved on: 29.04.2020

২. শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা এপিটাফ থেকে নেওয়া; লিঙ্কে গিয়ে দেখতে পারেন https://web.facebook.com/srijato.speaks.3/posts/2746851492252834; retrieved on: 29.04.2020


বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৯তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন