মো. মমিনুল ইসলাম
প্রকাশিত ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিরা
রওশন জামিল এক আধুনিক ‘পঞ্চকন্যার’ কথকতা
মো. মমিনুল ইসলাম

ভূমিকা
মানুষ তার জীবনাচরণে সারাজীবন অভিনয়ই করে মাত্র। বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ভাই, চাচা, দাদা--জীবন পরিক্রমায় বিবিধ চরিত্রে অভিনয় করতে হয় তাকে। এই অভিনয় স্বতঃস্ফূর্ত, যা ব্যক্তিসত্তার মধ্যেই নিহিত থাকে। তবে চলচ্চিত্রিক পরিসরে অভিনয়, ঠিক যেনো মুদ্রার উল্টো পিঠ। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের প্রধান ও প্রথম শর্ত অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিসত্তার বিলোপ।১ ব্যক্তিসত্তার বিলোপ ঘটিয়ে অভিনীত চরিত্রটি নিজের মধ্যে স্থাপন করাই অভিনয়শিল্পীর প্রধান কাজ। একজন অভিনয়শিল্পী যতো বেশি অভিনীত চরিত্রটির মধ্যে নিজেকে মিশিয়ে দিতে পারে, ততো বেশি চলচ্চিত্রটি বাস্তবসম্মত মনে করে দর্শক। আর অভিনয়শিল্পীর দক্ষতার জোরেই এটি সম্ভব হয়। যার ফলে সেলুলয়েডে চরিত্রটির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। চলচ্চিত্র যেহেতু দৃশ্যগত মাধ্যম। তাই দর্শক কী দেখছে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। দর্শকের এই দেখাকে আরো বেশি নির্ভরযোগ্য করতে পারে অভিনয়শিল্পী। সেদিক থেকে চলচ্চিত্রে একজন অভিনয়শিল্পীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনীত চরিত্রটির সত্তাকে পুরোপুরি আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে চরিত্রটির বিশ্বাসযোগ্য রূপায়ণই সার্থক অভিনয়। বলা বাহুল্য, খুব কম অভিনয়শিল্পী এই গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারে। রওশন জামিল সেই অসাধারণ শ্রেণির অভিনয়শিল্পী; যিনি আধেয় কিংবা চরিত্রের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ বিলীন করার ক্ষমতা রাখতেন। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার মৃত্যুর বছরখানেক আগেই জন্মেছিলেন রওশন জামিল। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে ৮ মে ঢাকার রোকনপুরে বিরল এই অভিনয়শিল্পীর জন্ম। শৈশব থেকেই নৃত্য যাকে আকর্ষণ করতো। জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে এসে থিতু হন এবং নিজেকে দক্ষ অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
অবশ্য উপনিবেশ-পরবর্তী কোনো দেশে শিল্পী ও শিল্পের মর্যাদা যে খুব বেশি হয়েছে, এমন নয়। এটা প্রত্যাশা করাও সমীচীন নয়। তারপরও শিল্পীরা জীবনের সবটুকু নিঙড়ে দিয়ে শিল্পাকাশে আলো জ্বালাতে চায়। রওশনও তাই করেছেন। সেই ছোটো থেকে একধরনের লড়াই করে নিজেকে শিল্পের আকাশে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। অথচ পৃথিবী থেকে আত্মার অবগাহন ঘটলে কেউই তাদের মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করে না, করেওনি কখনো। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির কল্যাণে বর্তমানে রওশনের ব্যাপারে কিছু জানতে চাইলে তবুও গুগল, ইউটিউবে কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু এমন অনেক শিল্পীই বাংলাদেশে আছে, যারা চিরতরে হারিয়ে গেছে। মৃত্যুর পর মায়া হাজারিকার মতো এতো শক্তিমান অভিনয়শিল্পীরও কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশের চলচ্চিত্রিক পরিসরে নেই। সেই তুলনায় অবশ্য রওশন অনেকখানি এগিয়ে। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’ও এই অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে ‘শিল্পী রওশন জামিল’ (২০১৯) নামে একখানা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
তবে এটা ঠিক, রাষ্ট্র ভুলে গেলেও শিল্পীকে দর্শক ঠিকই মনে রাখে। শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা রওশন তাই এখনো তার সমকালীন দর্শকের কাছে জ্বলজ্বল করেন। তবে রওশনের অভিনয়-রস আস্বাদন করা প্রজন্মও এখন বুড়িয়ে গেছে। তাই শিল্পীকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হয়। কেননা সবমিলিয়ে রওশন বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিস্মৃতির এক নামান্তর মাত্র। রওশন অবশ্য বেঁচে থাকতেই এর খানিকটা হয়তো বুঝেছিলেন--‘চলচ্চিত্র জগৎ সম্পর্কে একটা কথা থেকেই যায়--এই জগৎটাকে আমি আজো চিনতে পারলাম না। কিভাবে যে এখানে দাম পাওয়া যায়, এই জগতের মানুষেরা কি চায় তা আজো বুঝে উঠতে পারলাম না।’২
রওশনের এ রকম কথায় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তার ক্ষোভের প্রকাশই ঘটে। আসলে কালের বিবর্তনে জাতিগতভাবেই যেনো অবমূল্যায়নের এই ধারা চলমান। অথচ বাংলা চলচ্চিত্রের উষালগ্নে রওশনের সাহসিকতার দৃষ্টান্তে উদ্ভাসিত হয়েই অনেক নারী অভিনয়ে এসেছিলো। কিন্তু তা বেশিরভাগ মানুষই মনে রাখেনি, মনে রাখে না।
নাচ ও অভিনয় শুরুর দিনগুলো
নারী কখনো নারী হয়ে জন্মায় না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ তাকে নারীত্ব গ্রহণে বাধ্য করে। কিন্তু সব নারীই যে অকপটে সেই নারী চরিত্র গ্রহণ করে এমন নয়। কেউ কেউ বেরিয়ে আসে নারীত্বের সেই বেড়াজাল থেকে। রওশন জামিল তেমনই এক সত্তা, যিনি সমাজের সেই নারীত্বকে গ্রহণ না করে সামনে এগিয়েছেন সব সংস্কারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। সময়টা গত শতাব্দীর ৩০-এর দশক। তখনকার দিনে নারী হয়ে অভিনয় কিংবা নৃত্য করাটা মোটেও সহজ কাজ ছিলো না। বিশেষ করে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের কোনো নারীর জন্য সেটা ছিলো খুবই দুষ্কর। এমন পরিস্থিতিতেও রওশনের ছোটোবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিলো। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি চলচ্চিত্রে দেখা নাচগুলো অনুকরণ করতেন; নায়িকারা যেভাবে গাছ ধরে নাচতো, ঠিক তেমনই অনুকরণের চেষ্টা করতেন। এভাবেই নৃত্যের সঙ্গে রওশনের একটা সখ্য গড়ে ওঠে। কিন্তু নাচ শিখতে বাইরে যেতে দিতে রাজি ছিলো না তার পরিবার। আসলে তখনকার দিনে মুসলিম ঘরের নারী হয়ে বাইরে এসে সাংস্কৃতিক চর্চা করা যায়, এ রকম চিন্তা কেউ করতোই না। এর মধ্যে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে নবম শ্রেণিতে পড়াকালে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার ভাইয়ের লেখা এক নাটক মঞ্চস্থ করার দায়িত্ব পড়ে রওশনের ওপর। সেখানেই রওশনের অভিনয় সত্তার প্রথম বিচ্ছুরণ ঘটে। অবশ্য সেই সময় স্কুলে যেসব অনুষ্ঠান হতো, তাতে হিন্দুধর্মাবলম্বী মেয়েরাই সাধারণত বেশি অংশগ্রহণ করতো।
উপমহাদেশে তখন উত্তর-উপনিবেশ পর্ব। দীর্ঘকাল বৃটিশ-বিরোধী আন্দোলনের পরে ভাঙাগড়ার নতুন একটা খেলা চলছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। কিন্তু নারীরা এতোসব পরিবর্তনের সঙ্গে তখনো তাল মেলাতে পারেনি। নারীদের সামাজিকভাবে পরিবর্তনের কথা তখনো কেউ খুব একটা উচ্চারণও করতো না। ফলে ঠিক ওই সময়টাতে নারীদের এগিয়ে চলার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে আসে।৩ আসলে রাজনৈতিক কুশীলবরা নারীদের সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বদা আপসই করে গেছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে উপমহাদেশে নারীরা কখনো থেমে থাকেনি। রোকেয়া, প্রীতিলতা, ইলা মিত্র, নূরজাহান বেগমসহ আরো অনেক নাম এই লাইনে যুক্ত হতে পারে। রওশন তেমনই চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তার শিল্প সাধনা চালিয়ে গেছেন।
এই সময়টাতে ঢাকার সবগুলো স্কুলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অভিনয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রওশন তাতে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেই সময়ে মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সর্বপ্রথম কেউ এই পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে রওশনের সংস্কৃতি চর্চার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। অভিনয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু রওশনের মন তখনো পড়ে থাকতো নাচের দিকেই। অথচ পরিবার থেকে বলা হতো, পর-পুরুষের সামনে তার নাচ শেখার বয়স আর নেই। তাই কিছুটা জেদ করেই তিনি ছোটোবোনকে নাচ শেখাতে নিয়ে যান। সেখানে নাচ শেখা দেখে বাড়িতে এসে রওশন নিজে সেগুলোর চর্চা করতেন। সেটাও অবশ্য পরিবারের সবার অগোচরে। এরপর একদিন সব বাধা-বিপত্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে স্কুলের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দ্বৈত নৃত্য পরিবেশন করেন রওশন। সেটাও আবার এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই ছেলেটি মুসলমান হয়ে গণেশ থেকে গওহর নাম ধারণ করে।
১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পরিণয় সূত্রে গওহর জামিলের সঙ্গে রওশনের বিয়ে হয়। এরপর দুজন মিলে নৃত্যে পূর্ণ মনোনিবেশ করে। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে তারা প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাগো আর্ট সেন্টার’। বলাই বাহুল্য, সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে ‘জাগো আর্ট সেন্টার’ বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তখনকার দিনে সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে কতোখানি মানসিক শক্তি ও একাগ্রতা থাকলে একজন নারী সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, তার নজির রওশন জামিল। বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা উপেক্ষা করে তিনি যে শুধু নিজের জন্য পথ করেছেন তা নয়, পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্যও শিল্পচর্চার পথ সুগম করে দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে গওহর-রওশনের বয়স বাড়ে; রওশনের ভাষায়, গওহরও তখন নৃত্যে নতুন কিছু দিতে পারছিলো না, কিন্তু আমি নৃত্য নিয়ে নতুন কিছু করার জন্য পাগল ছিলাম।৪ পর পর তিন সন্তানের জন্মের কারণে নাচ করতে রওশনের কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া কয়েক বছর বিরতি দিয়ে নাচে সচল হওয়ার চেষ্টা করলে রওশনকে অনেকে এড়িয়ে চলতে থাকে। বিষয়টা এমন যে, যৌবনই যেনো নারী নৃত্য শিল্পীর শ্রেষ্ঠ সময়। অবশ্য এ রকম ধারণা যে বর্তমানেও নেই এমন নয়।৫
একপর্যায়ে এসব বিবেচনা করেই রওশন নৃত্য ছেড়ে রেডিও নাটকে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন; তখন ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ। রেডিওতে একদিন এক পুরুষ নৃত্যশিল্পী রওশনকে বলেন, গওহর দেখতে অনেক সুন্দর। কিন্তু তুমি তাকে উপরে উঠতে দিতে চাও না। আরো কিছু কথার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন, আমি যেনো গওহরের সঙ্গে নাচ করা বাদ দিয়ে সুন্দরী মেয়েদের ওর সঙ্গে নাচার সুযোগ করে দিই।৬ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রেডিওর শুরুর সময়টা অতিবাহিত করতে হয় রওশনকে। তবে রেডিওতে ঢোকার পর তাকে যে চরিত্রেই অভিনয় করতে দেওয়া হতো, তা-ই তিনি খুব সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতেন। যার সুবাদে অল্পদিনেই তিনি রেডিওতে নাম করে ফেলেন। একবার কান্নার অভিনয় করতে গিয়ে সত্যি সত্যিই কেঁদে ফেলেন রওশন। যা স্টুডিওতে উপস্থিত চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ হোসেনের নজরে আসে। এরপর আমজাদ হোসেনের আগ্রহে টিভি নাটক ‘রক্ত দিয়ে লেখা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান রওশন। এভাবেই টেলিভিশন নাটকে শুরু হয় রওশনের নতুন অভিনয়জীবন।
১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে নজরুল ইসলাম পরিচালিত আলিবাবায় অভিনয়ের সূত্রে রওশনের চলচ্চিত্রে আগমন। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে পর্দাপ্রথা তখনো জেঁকে আছে। আসলে ১৯৪৭-১৯৭১ সময়কাল নারীর ভূমিকা ও মর্যাদার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিবর্তনের স্বাক্ষর বহন করে, তথাপি এ কাল পর্বে নারীর সমস্যাগুলোর বড়ো অংশেরই সমাধান না করে বহাল রাখা হয়েছিলো।৭ আইনগত ও অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ছিলো মানবেতর পর্যায়ে। আদর্শিকভাবে তখনো অব্যাহত ছিলো পিতৃতন্ত্রের প্রাধান্য--সমাজের অনেক গভীরে বিস্তার করেছিলো তার শেকড়। এর মধ্যেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, যা নারীর অংশগ্রহণের পথ খুলে দিয়েছিলো। নারীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেগম সুফিয়া কামাল গঠন করেছিলেন ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এটি ‘মহিলা পরিষদ’ নামে যাত্রা শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেও রওশনকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেটা অবশ্যই তার অভিনয় গুণেই। পরবর্তী সময়ে হাসান ইমাম, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত, ঋত্বিক ঘটক, জহির রায়হান প্রমুখ স্বনামধন্য নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেন রওশন। এভাবেই ধীরে ধীরে রওশন টিভি নাটক থেকে চলচ্চিত্রে থিতু হন। রওশন রেডিও-টেলিভিশন-চলচ্চিত্রে আনন্দ পেয়েছেন ঠিকই, তবে নিজেকে নৃত্যশিল্পী পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তিনি খল অভিনয়শিল্পী হিসেবেও নিজেকে স্বতন্ত্র করেছিলেন; এর বাইরেও নানা চরিত্রে তিনি বার বার নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিরল এক অভিনয়শিল্পী রওশন
অভিনয় জীবনে রওশন নেতিবাচক চরিত্রে বেশি অভিনয় করেছিলেন বলেই হয়তো দর্শকের মধ্যে তার সেই ইমেজই বেশি আলোচিত-পরিচিত। তবে তিনি যে ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেননি, তা নয়। যে রওশন জীবন থেকে নেয়ায় খান আতার সঙ্গে জুটি বেঁধে নেতিবাচক অভিনয় করে দর্শক মাতিয়েছিলেন; সেই রওশনই কয়েক বছর পর সুজন সখিতে খান আতার মায়ের ভূমিকায় নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন। জীবন থেকে নেয়ায় তিনি তার সূক্ষ্ম অভিনয় দক্ষতায় সাহায্যে চরিত্রটিকে দর্শকের সামনে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন। যতোদূর জানা যায়, জহির রায়হান তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে মাথায় রেখে এই চরিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুবের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো এবং তা নিয়ে জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ, ঘৃণা জন্মেছিলো; সেটাই ওই চরিত্রটি দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন জহির। নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ভাষায়, ‘১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আমাদের অর্জনের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। এই সময়ে একটি ছবি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের ইঙ্গিত দেয়, সেই ছবিটি হলো জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া।’৮ চলচ্চিত্রটি সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ওই সময় দেশের স্বাধিকার আন্দোলনকে চাঙ্গা করবার ক্ষেত্রে এই চলচ্চিত্রের ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়। চলচ্চিত্রটি আমাদের সামনে স্বাধীনতার মশাল জ্বালিয়েছিলো। রওশনের সহায়তায় এই কাজে জহির নিঃসন্দেহে সফল হয়েছিলেন। অন্যদিকে সুজন সখি শুধু নায়ক-নায়িকা নির্ভর চলচ্চিত্র নয়, এর বাইরে যে দুইটি চরিত্র বেশ গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো নায়কের বাবা (খান আতা) ও দাদি (রওশন জামিল)। দাদির চরিত্রে যে মায়া ভরা অভিনয় রওশন করেছিলেন, তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে।
আমজাদ হোসেনের আরেক যুগান্তকারী চলচ্চিত্র গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮)। শ্রমজীবী মানুষের এমন নিগূঢ় চিত্র বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে খুব একটা দেখা যায় না। এই চলচ্চিত্রে বয়স্ক দাদির চরিত্রে অভিনয় করেন রওশন। সেসময় তার মুখের একটি সংলাপ বেশ জনপ্রিয় হয়--‘লাভ হয় না ১০ ট্যাকা, টিকিট কাটুম সাত ট্যাকা’--বিড়ি ফুঁকে রওশন এই সংলাপ দিয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন-এরও অন্যতম অভিনয়শিল্পী তিনি। চাষী নজরুল ইসলামের এই চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। বড়ো ছেলে যুদ্ধে নিহত হলে ছোটো ছেলেকে আবারও যুদ্ধে পাঠান সেই মা। অন্যদিকে বউ শাশুড়ি, পেনশন, সূর্যগ্রহণ-এ কড়া মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে রওশন দর্শকের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। এভাবে একই সঙ্গে ইতি-নেতি দুই ধরনের চরিত্রেই অভিনয়ের ক্ষমতা রাখতেন রওশন। যে কারণে তিনি নির্মাতাদের কাছেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। সেলুলয়েডে নির্মাতাদের চাহিদা মতো নিজেকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখা রওশন যেনো তাদের মনের ভাষা বুঝতেন।
এছাড়া শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকেরের সূর্য দীঘল বাড়িতেও রওশনের বলিষ্ঠ অভিনয় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের সারবস্তুহীন অশুভ চলচ্চিত্রচক্রের মধ্যে এটি ছিলো উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রিক পরিসরে সূর্য দীঘল বাড়ি প্রথম থেকেই স্বতন্ত্র মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। বাংলাদেশের ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্রের অন্যতম সূর্য দীঘল বাড়িতে শফির মা চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় রওশনের অন্যতম সেরা অর্জন।
অভিনয়ে যেনো রওশন প্রতিনিয়ত নিরীক্ষা চালাতেন। অনায়াসে বুঝে নিতেন চরিত্রের মূলভাব। এটা হয়তো সম্ভব হয়েছিলো তার নৃত্য প্রতিভার কারণে। নৃত্যে একজন শিল্পীকে নানা মুখাভঙ্গি ফুটিয়ে তুলতে হয়। হয়তো সেই চর্চাই চলচ্চিত্রের অভিনয়ে প্রতিটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো। আবার রওশন নাকি বাড়িতে ভিক্ষুক বা সাধারণ পেশার লোকজন আসলে তাদের সঙ্গে গল্প করে কাটিয়ে দিতেন সারাবেলা। হয়তো তাদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা নির্লিপ্তভাবে গ্রহণ করেও তিনি অভিনয়ের পাঠ নিয়েছিলেন।
‘নানি গো নানি বলি যে আমি/ আমারেনি লইয়া যাইবা ভাইসাবের বাড়ি’--আমজাদ হোসেনের আরেকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নয়ন মণিতে ববিতার সেই নানি হচ্ছেন রওশন জামিল। এ চলচ্চিত্রে রওশনের সৃজনশীল অভিনয়ের গুণে বার বার নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। রওশন মূলত অভিনয়ের ক্ষেত্রে ছিলেন মুক্ত ও সাবলীল। দাদি-নানি চরিত্র যে শুধু নিছক মজার জন্য নয়, তিনিই সেটা প্রথম বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এসব চরিত্র করে। নয়ন মণিতে অভিনয় করেই রওশন প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। পরবর্তী সময়ে যখন রঙ্গীন নয়ন মণি নির্মাণ হয়, সেখানেও তিনি শাবনূরের নানিই হয়েছিলেন। ‘নানি গো নানি’ গানটি আবার ব্যবহৃত হয়েছিলো গোলাপী এখন ঢাকায় চলচ্চিত্রে, রওশন সেখানে ছিলেন চম্পার নানি।
তিতাস একটি নদীর নাম, দহন, পোকামাকড়ের ঘর বসতি, টাকা আনা পাই--এই চলচ্চিত্রগুলোতে রওশন মমতাময়ী মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের রেকর্ড ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র বেদের মেয়ে জোস্নাতেও তিনি অভিনয় করেন নানির চরিত্রে। সবমিলিয়ে অভিনয়শিল্পী হিসেবে রওশনের যে দক্ষতা তা তাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলো, যেখানে তার বিকল্প কেউ ছিলো না। রওশনের আগমনের আগে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় হতো থিয়েটারের ভঙ্গিতে অর্থাৎ তাতে নাটকীয়তা বা বলা যায় অতি নাটকীয়তার একটা ঢঙ ছিলো। কিন্তু চলচ্চিত্রের অভিনয়রীতি থিয়েটার বা মঞ্চনাটকের থেকে বরাবরই আলাদা। রওশন জামিলই প্রথম এই দুই মাধ্যমকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে পৃথক করতে পেরেছিলেন। বলা বাহুল্য, রওশনের মাধ্যমেই বাংলা চলচ্চিত্র থিয়েটারের কবল থেকে মুক্তি পায়।৯ অথচ অভিনয়ে তার কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ ছিলো না। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বহুমাত্রিক অভিনয় করলেও জুরি বোর্ড সেভাবে তার প্রতি সুবিচার করেনি। জীবদ্দশায় তিনি মাত্র একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারই দেখে যেতে পেরেছিলেন; মৃত্যুর পর অবশ্য চিত্রা নদীর পাড়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান।
চিত্রা নদীর পাড়ে- এর একটি দৃশ্য
দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন ও রওশন জামিল
সে ছিলো সহিংস এক ঘটনা। ১০ লাখের মতো মানুষ মারা গিয়েছিলো তাতে, আরো কয়েক লাখ বাধ্য হয়েছিলো নিজের বাসস্থান/জন্মস্থান ছাড়তে। নানা মত ও সংস্কৃতির ভারত উপমহাদেশকে ভাগ করে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। ধর্মের ভিত্তিতে, অবিশ্বাস ও অনৈক্যে যুক্তি দিয়ে জোর করে সৃষ্টি করা হয়েছিলো দুটি দেশ।১০ যে ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়েছিলো, সেই ক্ষত আজও রয়ে গেছে দুই দেশের নানা ক্ষেত্রে। যেহেতু ঐতিহাসিক ঘটনার সূচনা মুহূর্ত ও সমাপ্তির কোনো নির্দিষ্টতা নেই, কাজেই এসবের প্রকৃত দিনক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই ৪৭-এর সেই দগদগে ক্ষত আজও রয়ে গেছে। দেশভাগ নামক বিষফোঁড়া দীর্ঘদিন যাদের স্মৃতিতে ভাসে, নথিপত্রের চেয়েও স্পষ্ট ইতিহাস যাদের বুকে; রওশন জামিল তাদেরই একজন।
সবেমাত্র রওশনের সঙ্গে গণেশের (গওহর জামিল) পরিচয় হয়েছে। গোটা উপমহাদেশে তখন চলছে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। দাঙ্গার সময় কারা যেনো গণেশকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। সেই সময়ে প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী বিদেশে একটি নাচের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সঙ্গী হতে প্রস্তাব করেন গণেশকে। ঢাকায় গণেশের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নাচের দলের সঙ্গে বিদেশ যেতে প্রথমে তিনি কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। পরে রওশনের কথায় রাজি হয়ে যান। গণেশের ঢাকা ছাড়ার দিন দমবন্ধ, চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে তাকে উদ্দেশ করে রওশন বলেন, ‘তুমি যাও, যদি বেঁচে থাকি নিশ্চয় আবার দেখা হবে। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।’১১
আসলে দেশভাগ এমনই এক স্মৃতি; যেখানে কতো মানুষের কতো ত্যাগ-তিতিক্ষা ফেলে আসতে হয়েছে, তা সঠিকভাবে নিরূপণ করা অসম্ভব। এক বছর পর ফিরলেন গণেশ। এদিকে রওশন তখন ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কলেজে পড়ছেন। এবার বিদেশফেরত গণেশ নিজেই একটি নাচের দল গড়ে তোলেন; সঙ্গে একটি নাচের স্কুলও। একসময় বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শে গণেশ ইসলাম গ্রহণ করেন এবং গওহর জামিল নাম ধারণ করেন। এরই মধ্যে কেটে যায় পাঁচ বছর। দেশ তখন উত্তাল মাতৃভাষার সংগ্রামে। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। বিপর্যস্ত জনজীবন, জরুরি অবস্থা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হয় না। ঠিক এই সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হন রওশনের বাবা। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে হাসপাতালে বাবার জন্য দুবেলা খাবার নিয়ে যাওয়ার লোক পাচ্ছিলেন না রওশন। কী ভেবে গওহরকে বলা মাত্রই তিনি হাসিমুখে সেই দায়িত্ব নেন। পায়ে হেঁটে রোজ হাসপাতালে খাবার পৌঁছে দিতে থাকেন গওহর। প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতা, চারদিকে ভয়-ভীতির মধ্যেও গণেশের এমন ত্যাগ রওশনের বাবার মন নরম করে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে তিনি রওশন-গওহরের বিয়েতে মত দেন। এভাবেই দেশভাগ নামের ক্ষত রওশনের জীবনেও আঁচড় কেটে যায়।
সবশেষে ...
রঙধনু যেমন কয়েক রঙের বাহার নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়, রওশন জামিল ঠিক তেমনই একজন শিল্পী; যিনি বহুরূপী অভিনয় দক্ষতা নিয়ে অভিনয় জগতে আলো জ্বালিয়ে গেছেন। কখনো কেন্দ্রীয় চরিত্র, কখনো খলচরিত্র, কখনো চরিত্রাভিনেতা--তিন ক্ষেত্রেই সমান তালে অভিনয় করে গেছেন তিনি। টিভি নাটক, বিশেষ করে চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সত্তার বিচ্ছুরণ ঘটে সর্বাধিক। মা, দাদি, নানি, গ্রাম্যবধূ, ভিক্ষুক--এমন কোনো চরিত্র নেই, যে রূপে তিনি হাজির হননি। আর এখানেই তাকে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা; বার বার বিভিন্ন চরিত্রে মিশে যেতে হয়েছে। আর সেই পরীক্ষা উতরে তিনি নিজের ব্যক্তিসত্তার মধ্যে সেই চরিত্রকে মিশিয়ে নিতে পেরেছিলেন। এছাড়া অভিনয়শিল্পী হিসেবে আরেকটি নিজস্ব রীতি সৃষ্টি করে গেছেন তিনি। একই শটে, একই মুহূর্তে মুখের সামান্য কিছু অভিব্যক্তি পরিবর্তন করে তিনি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারতেন। তাই সবার মধ্যে থেকেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম।
আবার একজন নারী হিসেবে রওশন যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, সেটাও অনন্য। একেবারে শুরুর দিকে নিজের পরিবার, পরে স্বামী-সংসার, সন্তান-সন্ততি সামলিয়ে একটা ‘আবদ্ধ পরিমণ্ডলে’ তাকে শিল্পচর্চা করতে হয়েছে। তবুও নিজেকে হারিয়ে যেতে দেননি। তিনি পিছিয়ে পড়ার লোক ছিলেন না। পুরুষ প্রাধান্যশীল প্রতিবেশে থেকেও তিনি কম দূর পর্যন্ত যাননি! ঠিক যেনো হিন্দু পুরাণের পঞ্চকন্যাদের মতো। সেক্ষেত্রে ‘আধুনিক পঞ্চকন্যা’ বলাই যায় রওশন জামিলকে। যিনি আজীবন সংগ্রাম করেই শিল্পচর্চা চালিয়েছেন। একটুও দমে যাননি। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যে সংগ্রাম তিনি জারি রেখেছিলেন।
লেখক : মো. মমিনুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
mominulmcj27@gmail.com
https://www.facebook.com/mominul.islam.50159
তথ্যসূত্র
১. চৌধূরী, শৈবাল; ‘শিল্পী রওশন জামিল’; দৈনিক আজাদী, ২০ মে ২০০২।
২. হায়াৎ, অনুপম (২০১৬ : ২৪১); চিত্র পরিচালক ও তারকাদের আত্মকথা; তৃণলতা প্রকাশ, ঢাকা।
৩. আমিন, সোনিয়া নিশাত (২০০৭ : ৫৬২); ‘নারী ও সমাজ’; বাংলাদেশের ইতিহাস ১৭০৪-১৯৭১ : সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, তৃতীয় খণ্ড, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা।
৪. প্রাগুক্ত; হায়াৎ (২০১৬ : ২৩৮)।
৫. প্রাগুক্ত; হায়াৎ (২০১৬ : ২৩৮)।
৬. প্রাগুক্ত; হায়াৎ (২০১৬ : ২৩৮)।
৭. প্রাগুক্ত; আমিন (২০০৭ : ৫৬২)।
৮. হাসান, শেখ মেহেদী (২০১৯ : ৭৭); শিল্পী রওশন জামিল, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, ঢাকা।
৯. প্রাগুক্ত; হাসান (২০১৯ : ৯৯)।
10. https://bit.ly/33pZm3Q; retrieved on: 28.09.2019
১১. প্রাগুক্ত; হায়াৎ (২০১৬ : ২৩৬)।
বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৮তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন