Magic Lanthon

               

শফিকুল ইসলাম

প্রকাশিত ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

সময়ের পরতে পরতে আঘাত করা নির্মাতা আনিয়েস ভার্দা’র নেশাময় এক জীবন

শফিকুল ইসলাম




কর্মনাশা মানবের উপাখ্যান

কিছু মানুষের জন্মই হয় পাহাড়সম অসমকে ভাঙার জন্য। এই মানুষগুলোই পৃথিবীকে আলো দেখায়, বাঁচতে শেখায়, পথ দেখায়। এদের একজন ফরাসি নির্মাতা আনিয়েস ভার্দা। যিনি সত্যিকার অর্থেই চলচ্চিত্রিক একটা পথ তৈরি করে গেছেন তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে চলে যাওয়া ভার্দা আর হয়তো পৃথিবীর রাস্তায় হাঁটবেন না, কিন্তু তার কর্ম-সৃষ্টি অনেকদিন তাকে জ্বলজ্বল করে বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি ৬৫ বছরের চলচ্চিত্রিক জীবনে এমন কাজ করে গেছেন, যা পৃথিবীকে পথ দেখাবে অনেকদিন পর্যন্ত। কেননা তার চলচ্চিত্র এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়, নতুনভাবে পৃথিবীকে আবিষ্কার করতে শেখায়। শুধু তাই নয়, তার একটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে অন্য কোনো চলচ্চিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে ঘৃণা করি। অর্থাৎ সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যে নতুন নতুন চিন্তা আর দর্শন তার চলচ্চিত্র দিয়ে তৈরি করে গেছেন তা অনন্য। পৃথিবীর মানুষ হয়তো সেই কথা অকপটে স্বীকার করবে।


ফটোগ্রাফি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা ভার্দা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনোই চিন্তা করেননি। তিনি প্রচণ্ডভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করতেন। এ কারণে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রথম চলচ্চিত্র লা পয়েন কোর্ট (La Pointe Courte, ১৯৫৪) নির্মাণ করেন। আর এই সিদ্ধান্তই ভার্দার জীবনকে পাল্টে দেয়। শুরু হয় তার চলচ্চিত্রিক জীবন। যে জীবনে তিনি শুধু চলচ্চিত্রই নির্মাণ করে গেছেন। আর দশ জনের মতো ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করে তিনি চিল্লাননি। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি কোনো ক্যারিয়ার তৈরি করিনি, আমি শুধু চলচ্চিত্রই তৈরি করেছি। মহান চলচ্চিত্রিক জীবনসম্পন্ন এই মানুষটিকে নিয়েই এ প্রবন্ধ; যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফরাসি নবতরঙ্গের ছোঁয়া এবং একটা অর্ধ-শতকের চলচ্চিত্র ইতিহাস।


যে কথার পরেও কথা থাকে


পৃথিবীর এই সভ্য সময়ে এসেও বিশেষ একটি বৈষম্য টিকে আছে। সেই বৈষম্যকে ভেঙেই কিছু মানুষ এগিয়ে যায়। আর সেই মানুষ যদি বিদ্যমান পৃথিবীতে নারী হয়, তাহলে সেই কাজ কতোটা দুরূহ, তা সহজেই আন্দাজ করা যায়। অসম্ভব সভ্য পৃথিবীতে এই নারী তবুও এগিয়ে যায় তার নিজের গতিতে; এগিয়ে নিয়ে যায় গতিহীন সমাজকে। সেই যুদ্ধে নারী তার স্বীকৃতি আর কতোটুকুইবা পায়। পুরুষই হয়ে ওঠে নারীর অর্জনের মালিক, কর্তৃপক্ষ। তবুও কিছু ক্ষেত্রে নারীর সেই কর্মকে সময়-সমাজ-মানুষ অস্বীকার করতে পারে না। দিনশেষে যুদ্ধ করে হলেও নারী টিকে থাকে কিংবা বহমান সেই জীবনের অবসান হলে নারী তার সৃষ্টিতে বেঁচে থাকে। আর মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে মনে রাখে।


পৃথিবীর ইতিহাস আজকের সময়ে আসতে নারীর অবদান কোনো অংশেই কম নয়। সেই আদিম সাম্যবাদী সমাজ থেকে আধুনিক সমাজ, নারী প্রতিটি সমাজেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে আদিম সাম্যবাদী সমাজে নারীর যে সম্মান-মর্যাদা ছিলো তা রাষ্ট্র নামক পুরুষ প্রাধান্যশীল যন্ত্রের আগমনের পর স্তিমিত হয়েছে। নানা অজুহাতে আটকে রাখা হয়েছে নারীকে। যদিও পুরুষ প্রাধান্যশীল ওই রাষ্ট্র সবসময় বলে চলে, নারী তার নিজের অধিকার ফিরে পেয়েছে, নারী স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এই ধুয়া তোলা বাস্তবতায় আসলে একজন নারীকে কতোটা বেগ পেতে পেতে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়, তা তো প্রতিটা ক্ষেত্রেই লক্ষণীয়।


তবে ওই যে বললাম, নারী তার নিজস্ব গতিতে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যায়; হয়ে ওঠে পৃথিবীর একজন মানুষ। ৩০ মে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে বেলজিয়ামের একটি শহরে সেই গতি নিয়েই জন্মেছিলেন আরলেট ভার্দা নামে এক শিশু। ফরাসি মা ও বেলজিয়ামের বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া ভার্দা নিজের নামটিই ১৮ বছর বয়সে পাল্টে দেন। নাম রাখেন আনিয়েস ভার্দা। নাম পাল্টানো নিয়ে তার ভাষ্যটা এমন--আগের নামটা আমার ভালো লাগত না, কারণ নামের শেষে এট অংশটা মোটেই পছন্দ না, কারণ এটা শুনলে মনে হয় কোনো ছোট্ট মেয়ের নাম। মনে হবে এমন একটা মেয়ে যে লাফালাফি করছে, একেবারে সবার মনোহারিণী। কিন্তু আমি মোটেই এমন হতে চাইনি, তাই অ্যাগনেস নামটা বেছে নিয়েছিলাম। আসলেই ভার্দা কারো মনোহারিণী হতে চাননি। তার পরিবর্তিত নাম দিয়েই কর্মময় এক জীবন পাড়ি দিয়ে গেছেন পৃথিবীতে। ছোটো ভার্দা বেলজিয়ামে থাকেননি; চলে আসেন শিল্প-সাহিত্যের দেশ ফ্রান্সে; ভর্তি হন ফ্রান্সের লিসিয়েট কলেজে। পরে তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য ও মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।


ফটোগ্রাফির ছোঁয়া দিয়ে চলচ্চিত্রে টোকা


ফ্রান্সে পড়ার সময়টা ভার্দার জন্য খুব বেশি ভালো ছিলো না। তার মনে হতো কী যেনো তিনি পাচ্ছেন না এখানে, অথচ যার জন্য তিনি এ শহরে এসেছেন। এজন্য তিনি আনমনে বসে থাকতেন, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠীদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলতেন না। না পাওয়ার চাহিদা থেকেই ভার্দা শুরু করলেন তার কর্মজীবন। শুরুতে বেছে নিলেন জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়কের কাজ। আর পাশাপাশি শিল্পকলার ইতিহাস বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করছিলেন ইকোলে দ্যু লভ্রে (École du Louvre) নামের ফ্রান্সের একটি বিখ্যাত ইন্সটিটিউটে। কিন্তু এখানেও নিজেকে খুব একটা গুছিয়ে নিতে পারছিলেন না ভার্দা। সিদ্ধান্ত নেন ফটোগ্রাফি পড়বেন। সবকিছু বাদ দিয়ে ভর্তি হন ভোগিরার স্কুল অব ফটোগ্রাফি নামের প্রতিষ্ঠানে। সেখানে তিনি ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত ধারণা হাতেকলমে শিখে নেন। সবকিছু শিখে শুরু করেন ফটোগ্রাফি। কিন্তু অসচ্ছল ভার্দা দিনাতিপাত করছিলেন খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। ভার্দা বলেন, আমি সোজাসুজি আলোকচিত্র দিয়ে জীবনধারণ শুরু করি, অর্থ উপার্জনের জন্য আমি পারিবারিক ও বিবাহের আলোকচিত্র তুলতাম। কিন্তু অচিরেই আমি এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, [যার]যাকে আমি নাম দিয়েছিলাম কম্পোজিশন বিয়ের অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি বাদ দিয়ে ভার্দা শুরু করেন বিভিন্ন পেশাজীবীদের ফটোগ্রাফি। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে তার বন্ধু জঁ ভিলার থিয়েটার ন্যাশনাল পপুলার চালু করেন। সেখানে ভার্দা প্রাতিষ্ঠানিক আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। এই জায়গায় যোগদানের আগে অবশ্য ভার্দার থিয়েটার ফেস্টিভাল অব অ্যাভিগনন-এ মঞ্চ আলোকচিত্রী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা ছিলো। তিনি ১৯৫১ থেকে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত  টানা ১০ বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আর এই প্রতিষ্ঠানে কাজের মাধ্যমেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।


তার কাছে ধীরে ধীরে ফটোসাংবাদিকতার চাকরির প্রস্তাব আসতে শুরু করে। তবে ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে করতেই তার মনে নতুন এক উন্মাদনা জাগে চলচ্চিত্র নিয়ে। একদিকে ক্যামেরাটা যে কলমের মতোই সেটাও জেনে গেছেন। তাই সাহস করে তার প্রথম চলচ্চিত্র লা পয়েন কোর্ট  নির্মাণ করে ফেলেন। ভার্দা আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি স্বচ্ছ মিথস্ক্রিয়া সবসময়ই ধরে রেখেছিলেন। তার ভাষ্য, আমি আলোকচিত্র তুলি বা আমি চলচ্চিত্র নির্মাণ করি। অথবা আমি চলচ্চিত্রে আলোকচিত্র স্থাপন করি বা আলোকচিত্রে চলচ্চিত্র স্থাপন করি। একটা আরেকটাকে ভাইস-ভার্সা হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। তিনি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে উলিস নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, চলচ্চিত্রটি ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ভার্দার তোলা একটি আলোকচিত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এ থেকেই প্রমাণ হয় ভার্দা চলচ্চিত্রে পা ডুবালেও তার মূল শক্তির জায়গা ছিলো প্রথম জীবনে অর্জন করা আলোকচিত্রের জ্ঞান। আর এই জ্ঞান-ধারণা এতোই শক্তিশালী ছিলো যে, ভার্দা ৫০-এর দশকেই হয়ে ওঠেন একজন সময়জয়ী শিল্পী।


ফরাসি নবতরঙ্গ ও দুরন্ত ভার্দা


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলো উঠে দাঁড়নোর শক্তি খুঁজছে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কমবেশি ওই সময় সব দেশকেই দরিদ্র করে তুলেছিলো। এ রকম অবস্থায় চলচ্চিত্রের মতো ব্যয়বহুল শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিলো বেশ কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। কিন্তু চলচ্চিত্রপ্রেমীরা নির্মাণ না করে থাকতে পারছিলেন না। আবার ব্যয়বহুল এ শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ করার মতো উদ্যোক্তাও পাওয়া যাচ্ছিলো না। এ সময়ই ইতালিতে নব্য-বাস্তববাদ নামে এক বিশেষ ধারা শুরু হয়। চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে তারা বের হয়ে পড়ে স্টুডিওর বাইরে রাস্তায়, মাঠে-ঘাটে, দোকানপাটে বা ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্টে শুটিং করতে; সাহায্য নেয় প্রাকৃতিক আলোর। পেশাদার শিল্পীর বদলে নেয় নতুন শিল্পীদের। গল্পের গাঁথুনি বদলে গেলো, চলচ্চিত্র হয়ে উঠলো বাস্তবধর্মী। এই ধারার চলচ্চিত্র পাশের দেশ ফ্রান্সকেও দারুণভাবে প্রভাবিত করে। নব্য-বাস্তববাদের এই প্রেরণা থেকেই ‘কাইয়ে দ্যু সিনেমা’র চিত্রসমালোচকেরা উৎসাহিত হয়েছিলেন। ফ্রান্সে এই ধারা নতুন নামে আবির্ভূত হয়--ফরাসি নবতরঙ্গ নামে।


তবে ইতালির নব্য-বাস্তববাদের মতো ফরাসি নবতরঙ্গ কোনো আন্দোলন ছিলো না। ১৯৫০-এর দশকে মূলত কাইয়্যে দ্যু সিনেমার সম্পাদকীয় টেবিলে এ ধারার সূত্রপাত। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ত্রুফো বলেছিলেন, নবতরঙ্গ বা নিউওয়েভ কোনো আন্দোলনও না, কোনো ঘরানাও না, এমনকি কোনো দল বা গ্রুপও না, এটা হচ্ছে একটা কোয়ালিটি বা গুণ। ফ্রান্সে সেই সময়ের চলচ্চিত্রগুলো একদিকে ব্যবসাসফলও হচ্ছিলো না, আর মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের গল্পও অনুপস্থিত ছিলো। কাইয়্যে দ্যু সিনেমার চিত্রসমালোচকেরা সেই তাগিদ থেকেই মাঠে নেমে গেলেন। তারাই নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নবতরঙ্গ চলচ্চিত্র ধারার সূত্রপাত ঘটান। চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা একটি নতুন পদ্ধতিতে হাত দিলেন। তা হচ্ছে `Camera-stylo’ (ক্যামেরা-পেন) অর্থাৎ একজন লেখকের কাছে যেমন তাঁর কলম, একজন চলচ্চিত্রকারের কাছে তেমনি তাঁর ক্যামেরা এবং ক্যামেরাকেও কলমের মতোই সহজ-স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে হবে।৮ 


তবে ফরাসি নবতরঙ্গধারা খুব বেশি দিন যে স্থায়ী ছিলো এমন নয়। সময় ও চলচ্চিত্র নির্মাণের ভিত্তিতে এই ধারাকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়ে থাকে। ১৯৫৮ থেকে শুরু হয় নবতরঙ্গের প্রথম পর্যায়, শেষ হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে। এ সময় চলচ্চিত্রে স্থান পায় জনগণের বুর্জোয়াবিরোধী মনোভাব, অপরাধ, যৌনতা, মানুষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন; ব্যক্তির চরিত্র সমাজে কীভাবে নির্মাণ হচ্ছে এই বিষয়গুলো। এই পর্যায়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিছুটা হলেও স্থান করে নেয় চলচ্চিত্রে। প্রথম পর্যায়ের নির্মাতা হিসেবে নাম করেন ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, ক্লদ শ্যাব্রল ও জ্যঁ লুক গদার। ত্রুফোর ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ (১৯৫৯) তুলে ধরে তার কৈশোর ও তৎপরবর্তী অভিজ্ঞতা। এরপর গদার নির্মাণ করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র ব্রেথলেস (১৯৬০)। সেখানে দেখানো হয় মানুষের অপরাধ প্রবণতা, পরিবার প্রথার বাইরে সমাজে একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক। নবতরঙ্গের দ্বিতীয় পর্যায় ধরা হয় ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে। এই পর্যায়ে এসে চলচ্চিত্রের মূল বিষয় হয়ে ওঠে রাজনীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে ওঠে আমেরিকা। যার নজির দেখা যায় এ সময়ের চলচ্চিত্রেও।


এক কথায় বিশ্বচলচ্চিত্রের ভাষা পাল্টে দিয়েছিলো ফরাসি নবতরঙ্গ ধারা। তবে সেই ধারায় প্রথমেই যে চলচ্চিত্র এসে হাজির হয়, ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও তা নয়। প্রথমে কবিতা, ছবি আঁকা কিংবা কোনো স্থির ফটোগ্রাফিই এই ধারার সূচনা এনে দেয়। আনিয়েস ভার্দা পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে ৫০-এর দশকের শুরু করেন ফটোগ্রাফির কাজ। নানা পেশাজীবী মানুষের ছবি তুলে, তাদের জীবন যুদ্ধের কথা জানিয়ে দেন তিনি। পরিচিত হতে থাকেন ভার্দা। এদিকে আঁদ্রে বাঁযাদের কাইয়ে দ্যু সিনেমায় ধারাবাহিকভাবে চলচ্চিত্র নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা চলছিলো। ভার্দা কাইয়্যে দ্যু’তে যোগ দেননি শুরুতে। তবে ঠিকই ওই সময়ের ফ্রান্সকে বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এবং তা তুলেও ধরছিলেন ফটোগ্রাফিতে।


১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ; আনিয়েস ভার্দার স্থির ফটোগ্রাফ করতে করতে মনে হলো, তিনি একটি চলচ্চিত্র বানাবেন। যে চলচ্চিত্রে কিছু মানুষের জীবন উঠে আসবে এবং তা স্থির ফটোগ্রাফির চেয়ে আরো শক্তিশালী হবে। সেখান থেকেই তার প্রথম চলচ্চিত্র লা পয়েন কোর্ট  নির্মাণ করেন। শুরুতে এই চলচ্চিত্রটিকে ফরাসি নবতরঙ্গের কোনো অংশই মনে করা হয়নি। কিন্তু ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ত্রুফোর ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ আর ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে গদারের ব্রেথলেস ফ্রান্সের সেসময়ের যে চিত্র তুলে ধরেছিলো, তরুণ নির্মাতা ভার্দা ঠিক একই কাজ পাঁচ বছর আগে করেছিলেন। সেই সময় কাইয়ে দ্যু সিনেমায় আঁদ্রে বাঁযা লা পয়েন কোর্টকে একটি অলৌকিক চলচ্চিত্র বলে অভিহিত করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বানিয়ে অল্প বয়সেই নিউ ওয়েভের দাদি হয়ে উঠলেন ভার্দা। ভার্দা বলেন, তখন আমার বয়স ৩০ বছর মাত্র! ত্রুফো দ্য ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ এবং গদার ব্রিদলেস বানিয়েছিলেন আর আমি একই কাজ তাদের পাঁচ বছর আগে করেছিলাম আমার প্রথম ছবি পয়েন কোর্ট১০ অর্থাৎ ভার্দা ছিলেন সময় সচেতন সৃষ্টিশীল মানুষ। তিনি সময়টাকে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই হয়তো নবতরঙ্গের দাদি আখ্যা তার ক্ষেত্রে ভুল হয়নি।


অনভিজ্ঞ শিল্পীর কালজয়ী সৃষ্টি


ভার্দা ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্রের মধ্যে এক যুগান্তকারী মেলবন্ধন তৈরি করে গেছেন। তার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রেই রয়েছে স্থির ফটোগ্রাফির ঝলক। প্রথম চলচ্চিত্রেও তার ছায়া রয়েছে। ভার্দার ভাষায়,


আমি প্রথম চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছি কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই, আগে কোনো সহকারী না হয়ে, ফিল্ম স্কুলে না গিয়ে। আমি যে ফিল্ম করতে চেয়েছি, তা শুট্ করার আগে তার সবকটির ফটো তুলতাম, ফটোগ্রাফ হলো শটগুলির মডেল। আমি একমাত্র ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা নিয়েই চলচ্চিত্র বানানো শুরু করি। মাথায় ছিলো কেবল ক্যামেরাটি কোথায় রাখা উচিত, কোন দূরত্বে, কোন লেন্স এবং কোন লাইট দিয়ে।১১


ভার্দা তার প্রথম চলচ্চিত্রে মাত্র দুজন পেশাদার শিল্পীকে রেখেছিলেন। আর বাদ বাকি সবাই ছিলো একেবারে নতুন। একে তো নতুন নির্মাতা। বয়স মাত্র ২৫-২৬। নিজে দেখেছেন মাত্র ২০টির মতো চলচ্চিত্র! তারপর নিয়েছেন নতুন শিল্পীদের। আবার একই সঙ্গে প্রথম কাজ করছেন। এই চলচ্চিত্রে ভার্দা দেখিয়েছেন প্রামাণ্যচিত্র ও কাহিনিচিত্র কীভাবে একটি চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। মানবিক সম্পর্কের এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখিয়েছেন ভার্দা। বিয়ের মাত্র চার বছর যেতে না যেতেই এক দম্পতি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। স্ত্রী স্বামীকে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে তাকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন। তবে স্ত্রীর অন্য কোথাও সম্পর্ক আছে, বিষয়টা এমনও নয়। এই দম্পতির নানা সমস্যা ভার্দা তার প্রথম চলচ্চিত্রে তুলে ধরার মাধ্যমে সেই সময়ের সমাজে পুঁজিবাদী আগ্রাসনের ইঙ্গিত দেন। আর সেটা করতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, সমাজে মানবিক সম্পর্কগুলোকে পুঁজি কীভাবে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।


অন্যদিকে এই মানবিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া ভাবের সমান্তরালে তখনকার নিম্নশ্রেণির মানুষের আয়-রোজগারের পথে নানাধরনের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষ তার নিজ পেশায় আর টিকে থাকতে পারছে না। এজন্য বিষয়বস্তু হিসেবে তিনি এনেছেন জেলেদের সেসময়কার নানা সমস্যার কথা। অর্থাৎ একই সঙ্গে মানবিক সম্পর্কের ভাঙন ও জেলেদের জীবন-জীবিকার মাধ্যমে তুলে ধরছেন এক চিলতে পুঁজির গ্রাস। চলচ্চিত্রটি তিনি এমন একসময়ে নির্মাণ করেন, যখন ফরাসি বিদ্যমান চলচ্চিত্র নিয়ে নানা সমালোচনা চলছিলো। এই চলচ্চিত্র মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ওই সময়ের চিত্রসমালোচকেরা প্রশংসায় ভাসান ভার্দাকে। কাইয়ে দ্যু সিনেমার সম্পাদক আঁদ্রে বাঁযা চলচ্চিত্রটি দেখে বলেছিলেন, শৈলীতে পুরোপুরি স্বাধীনতা রয়েছে, যা গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করে। চলচ্চিত্রে তা বিরল। যার উপস্থিতিতে আমরা কেবল আমাদের বাহ্যিক স্বপ্ন ও বাসনাগুলোতে কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই গ্রহণ করি।১২ আরেক তাত্ত্বিক ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো বলেছিলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক কাজ, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চাভিলাষী, সৎ ও বুদ্ধিদীপ্ত মনোভাব।১৩ তরুণ এই দিকপালকে চিনতে অনেক সময় নিয়েছিলেন তৎকালীন সমালোচকরা। তিনি যে একটা খেল দেখাবেন বা দেখিয়েছেন তা অবশ্য ঠিকই টের পেয়েছিলো বাঁযা ও ত্রুফো। এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তা এক কথায় ঈর্ষণীয়। এর পর তাকে আর থেমে থাকতে হয়নি। একে একে নির্মাণ করেছেন ভিন্নধর্মী অসংখ্য চলচ্চিত্র।


এক ভিন্ন জীবনের অভিন্ন গল্পে সবাই হাজির


প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের পর ভার্দা অনেকগুলো ছোটো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সাত বছর কেটে যায়। পরে হাতে নেন ক্লিও ফ্রম ফাইভ টু সেভেন। চলচ্চিত্রটি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি দিলে তা নিয়ে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। এক নারী চরিত্রকে প্রধান করে তিনি তুলে ধরেছেন সেই সময়ে ফ্রান্সে এক নারীর পপ-শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প এবং তার জীবনযুদ্ধ। ক্যান্সার টেস্টের ফল হাতে পাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন ক্লিও। বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যে সাতটা। এই বিশেষ মুহূর্তে তার চোখের সামনে নিজের তারকাখ্যাতি সমৃদ্ধ জীবনকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় তীব্র পরিহাসের সঙ্গে। আরোপিত শারীরিক ভাষা আর কাজ করছে না। এতোদিনের কোনো কিছুই এখন আর মূল্যবান নয় তার কাছে। জীবন যেনো দুলছে পেন্ডুলামের মতো। চলচ্চিত্রটি এমন করে নির্মাণ করা হয়েছে যেনো এর প্রত্যেকটি মুহূর্তের সঙ্গে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার স্বাদ পায় দর্শক। শুরুতে এক বৃদ্ধকে ক্লিওর ভাগ্যলিপি পড়তে দেখা যায়। এতে তাকে বলা হয়, তিনি আর বেশি দিন বাঁচবেন না। ক্লিওর জীবন ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যায়।


শুরুর দৃশ্যটি রঙিন হলেও বাকি সময়ের পুরোটাই রয়ে যায় সাদা-কালোয়। চলচ্চিত্রটি শুধু পপ-শিল্পী ক্লিওর হলেও প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় তার উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে দিয়ে ভার্দা তখনকার মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত তিনি এতে ১৯৬০ দশকের শেষভাগের বোহেমিয়ান, মাদকাসক্ত ও নৈতিকতাবিরোধী জীবনবোধকে তুলে ধরার চেষ্টা চালান। ক্লিও ফ্রম ফাইভ টু সেভেন-এ ফুটে উঠেছে গাড়ি, ফ্যাশন ও আত্মপরিচয়ের প্রতি ফরাসিদের ঘোরগ্রস্ততা। এখানে তিনি বাস্তবতার সঙ্গে ন্যারেটিভের একটি টিপিকাল সম্মিলনও ঘটান। ভার্দা তার চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের কাজও করে গেছেন গুরুত্ব দিয়ে। তার প্রমাণ প্রথম পাওয়া যায় এই চলচ্চিত্রে। ক্লিওর গানগুলো ভার্দা নিজেই লিখেছেন।


আর রাস্তা তো ভার্দার সব চলচ্চিত্রেই হাজির থাকে। এই রাস্তা দেখাতে দেখাতেই তিনি দেখিয়ে ফেলেন সেই সময়ের ফ্রান্সের সংস্কৃতি। আবার এই রাস্তায় হতাশাগ্রস্তকে নিয়ে যায় অন্য ভুবনের দিকে। যেখানে গিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতে পারেন। চলচ্চিত্রটিতে ক্লিওকে নিজের আত্ম-আচ্ছন্নতা থেকে সরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ ক্যান্সার আর হৃদরোগের ব্যাপারে মানুষ ভীষণ ঘোরগ্রস্ত। ভার্দা নিজেই বলতেন, সেসময়ে ক্যান্সার ভীতি ছিল সার্বজনীন ঠিক যেন এখনকার পারমাণবিক বোমা বা যুদ্ধভীতির মতো।১৪ ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে এই চলচ্চিত্রটিতে ক্যান্সার ভীতির যে পরিস্থিতি ভার্দা দেখান, সেই স্তন ক্যান্সারেই ২০১৯-এর ২৯ মার্চ পৃথিবী থেকে চলে যান তিনি।


ভেগাবন্ড ও নারী পাঠ


ভার্দার নারীচরিত্র প্রাধান্যশীল চলচ্চিত্রের মধ্যে ভেগাবন্ড (১৯৮৫) খুবই শক্তিশালী ও আলোচিত। মোনা নামে একজন ভবঘুরে তরুণীর মৃত্যু নিয়ে নির্মিত নাট্যধর্মী এ চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রের শুরুতে মোনার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি ক্ষেতের পাশে নিচু জায়গায়। লাশটি দেখেন একজন শ্রমিক। পরে এই মৃত্যু নিয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। যে লোকটি সর্বশেষ মোনাকে দেখেছে, যে প্রথম দেখেছে--সবার সাক্ষাৎকার চলে একের পর এক। আর ফ্লাশব্যাকে চলে মোনার প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের চিত্রায়ণ। তাকে এলোমেলোভাবে মাঠের পর মাঠ, শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরতে দেখা যায়। রাস্তার পাশে তাবু পেতে রাত কাটান মোনা। কখনো গাড়ি পরিষ্কার করে তাকে খাবার জোগাতে হয়। তাকে দেখা যায়, তিউনিশিয়ান শ্রমিকের সঙ্গে, ছাগল পালনকারী চাষীর সঙ্গে, উদ্ভিদবিদ্যার গবেষকের সঙ্গে, নিয়মিত মাদক নেওয়া লোকজনের সঙ্গে জীবন কাটাতে।


কিন্তু ভবঘুরে মোনা কোথাও শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেন না। পরিবার-পরিজন ছাড়া মোনা যেনো দেশহীন এক নারী। যার ঠাঁই মিললেও তার সঙ্গে মেলে না অন্যদের। তাই ক্রমেই মোনা হয়ে পড়েন একা, আশ্রয়হীন অসহায় এক নারী। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় একসময় তার মৃত্যু হয়। চলচ্চিত্রটির গল্প সরলরৈখিক কৌশলে বর্ণিত নয়, চলচ্চিত্রটি অনেকগুলো পর্বে বিভক্ত এবং প্রতি পর্বে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিমানুষের অবস্থান থেকে মোনার বর্ণনা দেওয়া হয়। নারী নিয়ে একেক পেশার মানুষের একেক ধরনের বয়ান, চলচ্চিত্রটিকে অনন্য করে তুলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুরুষের চোখে নারীর বয়ান। তাই ওই চলচ্চিত্রটি যেনো ৭০-৮০ দশকের ফ্রান্সের নারী পাঠ।


প্রামাণ্যচিত্র ও ভার্দা


ভার্দার বেশিরভাগ চলচ্চিত্রই প্রামাণ্যচিত্রের আদলে নির্মিত। একধরনের বাস্তবতা ও ফিকশনের মধ্যে ঘুরপাক খায়, যা দর্শককে ভাবিয়ে তোলে, নানা রকম বার্তা দেয়। মোটকথা প্রামাণ্যচিত্র ও ফিকশনের মাধ্যমে তিনি এমন এক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন, সেখানে দর্শক চাইলে তার নিজের মতো করে সংযোগ ঘটাতে পারে। কাহিনিচিত্রের সমান্তরালে তিনি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে যাচ্ছিলেন। তার অনেকগুলো প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে আলোচিত হয় ড্যাগিওরিওটাইপস (১৯৭৬) প্রামাণ্যচিত্রটি। যার মাধ্যমে উঠে আসে প্যারিসের রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ছোটো ছোটো দোকানিদের প্রতিদিনের জীবন। আর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ম্যুর ম্যুরস-এ উঠে আসে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলস শহরের দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন ম্যুরাল। সেখানে শিল্পীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভার্দা তুলে আনেন তাদের বিভিন্ন সঙ্কট-সম্ভাবনা। এই প্রামাণ্যচিত্রের ভয়েসওভার দিয়েছেন ভার্দা নিজে। দ্য গ্লিনারস অ্যান্ড আই-এ (২০০১) উঠে আসে ফ্রান্সের একটি প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের জীবন। ফসল ফলানো, পরিচর্যা করা ও ফসল কুড়ানোর নানা চর্চার অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপট। আর সেটা দেখাতে গিয়ে সুপার মার্কেটের রক্তচোষা মজুতদার, মধ্যবিত্ত নৈরাজ্যবাদী, যাযাবর, মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও মদ উৎপাদনকারী বিভিন্ন মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভার্দা।


এদিকে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে একটি অন্যরকম ঘটনা নিয়ে হাজির হন ভার্দা। এবার তিনি আর পরোক্ষভাবে তার চলচ্চিত্রে রইলেন না। তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দ্য বিচেস অব আনিয়েস-এ ভার্দা নিজেই হাজির হলেন নিজেকে নিয়ে। ভার্দা ও তার চলচ্চিত্রিক জীবন এক ঘণ্টা ৫২ মিনিটে উঠে আসে এতে। ভার্দা শুটিং স্পটে কেমন করে কাজ করতেন, অন্যদের সঙ্গে কেমন করে মানিয়ে নিতেন, অসংখ্য ফটোগ্রাফি এই চলচ্চিত্রে ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে। তার পর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ফেইসেস প্লেসেস নামের আরেকটি প্রামাণ্যচিত্রেও ভার্দাকে দেখা যায়। ভার্দা ও ফরাসি চিত্রগ্রাহক ও অভিনয়শিল্পী জেআর মিলে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন। ভার্দা যে বুড়ো হয়ে যাননি, তার কর্মচাঞ্চল্য যে ফুরিয়ে যায়নি, তার স্বাক্ষর তিনি রেখেছেন এই প্রামাণ্যচিত্রে। গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে ছুটে বেরিয়েছেন তিনি। মানুষকে স্বপ্নের আঁকিবুকি শিখিয়ে দিয়েছেন। এখানে ভার্দা ও জেআর-এর অভিনয় দেখে মনে হওয়ার কারণ নেই ভার্দাকে তার বয়স কোনোধরনের সমস্যায় ফেলেছে। বরং অবারিত প্রফুল্ল মন নিয়েই যেনো তিনি সেখানে হাজির থেকেছেন। শিশু থেকে বয়স্ক সবার তাৎক্ষণিক ছবি তুলে তা প্রিন্ট করে ভার্দা সেটে দিয়েছেন শহর-গ্রামের দেয়ালে দেয়ালে। প্রামাণ্যচিত্রের এই দৃশ্য দেখে মনে পড়ে ইরানি নির্মাতা মহসিন মাখমালবাফ-এর সালাম সিনেমার কথা। চলচ্চিত্র যে মানুষের কাছে কতোটা আগ্রহের বিষয়, সঙ্গে মানুষের আবেগ, অনুভূতি, যাপিত জীবনের কতো কথাই যে চলচ্চিত্র বলে, তা মহসিন সালাম সিনেমায় তুলে এনেছেন। তেমনই ভার্দার এই প্রামাণচিত্রেও গ্রাম থেকে শহরে নানা মানুষের ছবি তোলার মাধ্যমে তাদের না জানা অসংখ্য আবেগ-অনুভূতি উঠে এসেছে। কোনো মানুষের প্রোর্ট্রেট ছবি তুলে দিয়ে যে তাকে জাগানো যায়, হতাশাগ্রস্তকে স্বপ্ন দেখানো যায়, তার এক আসাধারণ উপস্থাপন ফেইসেস প্লেসেস


তবে ভার্দা বরাবরই তথাকথিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে হতাশ ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তাই হয়তো তাকে বলতে শোনা যায়, ডকুমেন্টারি শব্দটি নষ্ট হয়ে গেছে। আপনি বলবেন ডকুমেন্টারি, আর লোকে বলবে, কী বোরিং ব্যাপার রে বাবা! এর মাঝামাঝি কোনো শব্দ বেছে নিতে হবে আমাদের।১৫ যদিও মাঝামাঝি সেই শব্দটি ভার্দাও দিয়ে যেতে পারেননি। তবে এ ঠিক তিনি প্রামাণ্যচিত্রের এক নতুন ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছেন। যেগুলোতে নিম্নবর্গ ও বিকল্প চিন্তার মানুষ উঠে এসেছে।


একটি ফিল্মি পরিবার


নিজের প্রথম চলচ্চিত্র লা পয়েন কোর্ট  নির্মাণ করে সাড়া ফেলেন ভার্দা। তারপর করেছেন আরো কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আর অন্যদিকে ফটোগ্রাফির কাজও চলছিলো। এমন সময় ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে পরিচয় হয় ফ্রান্সের খ্যাতিমান নির্মাতা জ্যাক দ্যুমিকের সঙ্গে। দুজনেই পথ চলতে থাকেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে বিয়ে করেন তারা। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় ছেলে ম্যাথ্যু ডেমি। ভার্দার অনেক চলচ্চিত্রে ম্যাথ্যুকে অভিনয় করতে দেখা যায়। ম্যাথ্যু নিজেও ফরাসি চলচ্চিত্রনির্মাতা। রোজালি নামে এক মেয়েও আছে ভার্দার। অবশ্য ভার্দা ও জ্যাকের বিয়ের আগেই অন্য জনের সঙ্গে সম্পর্কে রোজালির জন্ম। তবে রোজালিকে জ্যাক নিজের মেয়ের মর্যাদায় গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে নিজের প্রোডাকশন কোম্পানি সিনে-তামারি প্রতিষ্ঠা করেন ভার্দা। এখানেও তিনি স্বামীর সহযোগিতা পান। এই প্রতিষ্ঠানের পর ইচ্ছেমতো চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বাধীনতা তিনি পেয়ে যান। ইরান, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবায় তিনি নিজের চলচ্চিত্রগুলোর শুটিং করেন।


নিজের চলচ্চিত্রে পরোক্ষভাবে ভার্দা নিজেই উপস্থিত থেকেছেন। কখনো কখনো অভিনয়ে নিয়েছেন নিজের ছেলে-মেয়েকে। চলচ্চিত্র সমালোচক রুথ হটেল-এর ভাষায়, ভার্দার সিনেমা হলো বিষয়বস্তগত অন্তর্ভুক্তিকরণের একটি প্রকাশ : নিজের সিনেমাগুলোতে তিনি নিজেকে, নিজের বন্ধুদের ও পরিবারের সদস্যদের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত করে যান।১৬ ভার্দাও অবশ্য নিজেও স্বীকার করেছেন, নিজ ভঙ্গিমায় আত্মরতির ভিতর দিয়ে নয়, বরং সততার ভিতর দিয়ে আমি বরাবরই নিজের সিনেমায় নিজেকে ভীষণ যথাযথভাবে জুড়ে দিয়ে গেছি।১৭ ভার্দা নিজেও সময়কে ধারণ করতেন, বুঝতেন খুব ভালোভাবে। তাই তিনি নিজেকেই প্রকাশ করেছেন তার চলচ্চিত্রে। আর হয়ে উঠেছেন অত্যর নির্মাতা। কেননা, চলচ্চিত্রগুলোতে ভার্দার নিজস্বতা ছিলো।


নানা বিতর্ক ছাপিয়ে ভার্দার লড়াই


একটা সময় ভার্দা নিজেও কাইয়ে দ্যু সিনেমায় লেখালেখি করতে শুরু করেন। তবে তার চিন্তাভাবনা সমসাময়িক নির্মাতাদের মতো ছিলো না। তিনি চলচ্চিত্রকে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারটিতে তিনি ছিলেন ঘোরবিরোধী। অবশ্য নিজস্ব সিনেক্রিয়েচার মতধারার বিকাশ ঘটিয়েছেন, যেটিকে তিনি সিনে-রাইটিংয়ের প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। তবে বৃহৎ অর্থে ভাবলে, এটি শুধু সিনে-রাইটিং নয়, বরং এডিটিং স্টাইল, ভয়েসওভার কমেন্টারি এবং স্থান-কাল-পাত্র, ক্রু ও লাইট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।


১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ভার্দা নিজের জীবন ও কর্ম নিয়ে পার আনিয়েস নামে একটি বই লিখেন। বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করে সিনে-তামারিকাইয়ে দ্যু সিনেমা। ফরাসি নবতরঙ্গের নির্মাতাদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠা-বসা থাকলেও তাদের পথে হাঁটেননি ভার্দা। নিজেই নিজের পথ আবিষ্কার করেছেন। আর সেই পথের সৃষ্টিই বলে দেয় তিনি আলাদা ছিলেন অন্যদের থেকে। ভার্দার চলচ্চিত্র নিয়ে প্রকাশিত বেশিরভাগ লেখাতেই বিতর্ক উঠেছে, তিনি নারীবাদী নির্মাতা কি না। জার্মেইন দ্যুলাক, মার্গারিতা দুরাস, চান্তাল অ্যাকারমান ও আলিস জ্যি-ব্লাশে প্রমুখ নির্মাতার মতো তাকেও ফ্রেঞ্চভাষী চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নারী নির্মাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সমালোচক ক্লেয়া জনস্টন ভার্দাকে প্রতিক্রিয়াশীল এবং নিঃসন্দেহে নারীবাদী নন, এমন দায়ে অভিযুক্ত করে খারিজ করে দিয়েছেন।১৮ নিজেকে নারীবাদী ভাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভার্দা বলেছিলেন, বৈষম্যের ব্যাপারে কখনোই আমার স্বচ্ছ ধারণা ছিল না এবং এটি ঠিক আমার ভাবমূর্তিও নয়।১৯ ভার্দা নারী অধিকারের জন্য অনেক নারীর সঙ্গেও লড়াই করেছেন। নারীর অধিকার নিয়েই বানিয়েছিলেন ওয়ান সিংস, দ্য আদার ডাজ নট (১৯৭৬)। ভার্দা বলেন, ... নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এখনো চলছে ... এখন কোনো উৎসবকে বলা যায়, সিলেকশন কমিটিতে অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারী সদস্য রাখতে হবে।২০


এতো লড়াইয়ের পরও ভার্দার অনেক সময় পুরুষ প্রধান্যশীলতার বিরুদ্ধে পেরে উঠতে পারতেন না। তবুও চালাতেন লড়াই। জ্যঁ লুক গদার, রেঁনে ক্লুদ, লুলুশদের মতো ফ্রান্সের কিছু বিখ্যাত নির্মাতাদের জড়ো করে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে ফার ফ্রম ভিয়েতনাম শিরোনামে একটি যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছিলেন ক্রিস মার্কার। নির্মাতা হিসেবে এ দলে আনিয়েস ভার্দাও ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ভার্দার ব্যাপারে খুব একটা আলোকপাত করেনি কেউই। সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ম্যাগাজিনের জিল ফোর্বসের ভাষ্যমতে, এই নীরবতার অর্থ ভীষণ নিয়মানুগ; কেননা, ভার্দাকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণ তিনি একজন নারী।২১ আর ভার্দাও ফরাসি নবতরঙ্গের কোনো আলোচনায় নিজেকে কখনো জড়াননি। তার চলচ্চিত্র নারীবাদী হোক বা না-হোক, সেগুলো নিশ্চিতভাবেই নারীকেন্দ্রিক; সেগুলোতে নারীর সমাজ-রাজনৈতিক, দার্শনিক ও সমকালীন থিমের সমারোহ ঘটানো হয়েছে। আর সবশেষ দর্শকই বলবে আনিয়েস ভার্দার চলচ্চিত্র আসলে কাদের কথা বলে।


পৃথিবীর রাস্তায় আর হাঁটবেন না তিনি


কান চলচ্চিত্র উৎসবে ২০১৮-তে লাল গালিচায় হেঁটেছিলেন আনিয়েস ভার্দা। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আর হাঁটেননি। তবে নবতরঙ্গ চলচ্চিত্র ধারার অন্যতম এই নির্মাতাকে স্মরণ করা হয় এই উৎসবে। তিনি যেনো না থেকেও ছিলেন নানাভাবে তার কাজের মধ্য দিয়ে। এই উৎসবে কর্তৃপক্ষ প্রয়াত এই ফরাসি নির্মাতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উৎসবের অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ করে। নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের সময়ে তোলা হয়েছিলো ছবিটি। পোস্টারের ছবিতে দেখা যায়, একজন টেকনিশিয়ানের কাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে ভার্দা ক্যামেরা চালাচ্ছেন। কান উৎসবের প্রেস বিভাগ থেকে পাঠানো বার্তায় এই ছবি নিয়ে বলা হয়েছে, আনিয়েস ভার্দার এই ছবি একটি ইশতেহারের মতো। এটি তার আবেগ, আত্মবিশ্বাস ও আমুদে স্বভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।২২ লা পয়েন কোর্ট নির্মাণের বছর কান আন্তর্জাতিক উৎসবের আউট অব কমপিটিশন বিভাগে প্রদর্শিত হয়। আনিয়েস ভার্দার ৬৫ বছরের সৃজনশীল ও নিরীক্ষাপূর্ণ জীবন কান উৎসবের প্রায় সমবয়সি। ১৩ বার তার নির্মিত চলচ্চিত্র কান উৎসবের আনুষ্ঠানিক বিভাগগুলোতে নির্বাচিত হয়েছে। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি উৎসবের বিচারকও ছিলেন।

আনিয়েস ভার্দার সম্মানে কান চলচ্চিত্র উসব ২০১৯ এর পোস্টার



সারা জীবনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্মানজনক স্বর্ণপাম (পাম দ’র) গ্রহণ করেন।২৩ তবে আজীবনের সবচেয়ে বড়ো সম্মাননা পান ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে। তিনিই প্রথম কোনো নারী নির্মাতা, যাকে সম্মানজনক অস্কার পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।২৪ এক জীবনের অনেক কিছুই ভার্দা পেয়েছেন। সে জীবনে অপূর্ণতাও কম ছিলো না। তবে যে পথ তিনি ভক্তদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন তা আলোর মতো জ্বলবে। কারণ নিজের ক্যারিয়ারের পাঁচ-ছয় দশকে প্রত্যেকটিতে অন্তত একটি করে স্বতন্ত্র স্তর গড়ে তুলেছেন ভার্দা। তার কাজগুলোকে একসঙ্গে কোনো একটি ধারায়--হোক সেটি ফিকশন বা রিয়েলিস্টিক--ফেলা যাবে না। তবে তার কাজগুলো অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।


সময়ের দার্শনিকতা ছাড়িয়ে ভার্দা


ভার্দা শুরু করেছিলেন সেই ৫০-এর দশকে আর শেষ করলেন ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু যে পথ-মত তিনি তৈরি করেছেন, তা কি শেষ হয়ে গেলো। ভার্দাকে বলা হয় নিউওয়েভের দাদি। সেই দাদির কাজটা তিনি করেছিলেন নিউওয়েভের আগেই। আর তার সেই পথে হেঁটেছেন পরে আঁদ্রে বাঁযা, ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, গদারের মতো নির্মাতা। নিউওয়েভের ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭০ দশকে শেষ হয়ে গেলেও এ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ শেষ হয়নি। ভার্দা তার চলচ্চিত্রে সেই ছাপ সবসময়ই রেখে দিতেন। যতোদিন বেঁচে ছিলেন সেই পথেই ভিন্নভাবে হেঁটেছেন। তার নির্মাণে বার বার এসেছে নারী। শুধু নারীই নয়, তার চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী দিকটি হলো নিম্নশ্রেণির কণ্ঠস্বর। তার চলচ্চিত্রিক ভাষা ও বিষয়বস্তুও তাই বলে। আর তিনি সময়কে খুব ভালোভাবে বুঝতেন। নিউওয়েভের নির্মাতারাও বুঝতেন। তবে তার বিষয়টি অন্যদের থেকে আলাদা ছিলো। আর এ কারণেই ভার্দার চলচ্চিত্র শুধু নিউওয়েভের ছাঁচে ফেলা যাবে না। কেবল তো তিনি গত হলেন। আরো সময় পর হয়তো বোঝা যাবে তিনি নিউওয়েভকে কী দিয়েছেন, তিনি কী নিয়েছেন।

 

লেখক : শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষের শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি তিনি অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

shafiqulislamru32@gmail.com

https://www.facebook.com/profile.php?id=100008632759356

 

তথ্যসূত্র

1. http://archive.fo/K7KQb; retrieved on: 08.08.2019

2. http://archive.fo/K7KQb; retrieved on: 08.08.2019

৩. ‘আমি সারা জীবন র‌্যাডিক্যাল সিনেমার জন্য লড়েছি’; বণিক বার্তা, ৩১ মার্চ ২০১৯।

4. http://archive.fo/QDu4c; retrieved on: 08.08.2019

5.http://archive.fo/QDu4c; retrieved on: 08.08.2019

৬. আউয়াল, সাজেদুল; (২০১১ : ৮১); ‘চলচ্চিত্রের ধারাসমূহের অন্তর্গত পাঠ’; চলচ্চিত্রকলার রূপ-রূপান্তর; দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা।

৭. প্রাগুক্ত; আউয়াল (২০১১ : ৮১)।

৮. প্রাগুক্ত; আউয়াল (২০১১ : ৮১)।

9. http://archive.fo/K7KQb; retrieved on: 08.08.2019

১০. প্রাগুক্ত; বণিক বার্তা, ৩১ মার্চ ২০১৯।

11.http://www.newwavefilm.com/french-new-wave-encyclopedia/la-pointe-courte.shtml; retrieved on: 14.08.2019

12. https://www.azquotes.com/author/40662-Agnes_Varda; retrieved on: 14.08.2019

13. http://archive.fo/ckvEx; retrieved on: 14.08.2019

14. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

15. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

16. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

17. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

18. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

19. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

২০. প্রাগুক্ত; বণিক বার্তা, ৩১ মার্চ ২০১৯।

21. http://archive.fo/TfSnH; retrieved on: 20.08.2019

22. http://archive.fo/EVzPf; retrieved on: 10.09.2019

23. http://archive.fo/EVzPf; retrieved on: 10.09.2019

24. http://archive.fo/EVzPf; retrieved on: 10.09.2019

 

বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৮তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন