Magic Lanthon

               

মৃণাল সেন

প্রকাশিত ২৮ জুলাই ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

সাধু’দা

মৃণাল সেন

ম্যাজিক পুর্নপাঠ


২০০২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে জসীম উদ্দীনের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের জন্য লেখা সংগ্রহের কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্যিক মফিজ ইমাম মিলন ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো ফরিদপুরের ছেলে মৃণালের কাছ থেকে জসীম উদ্দীনের কথা জানা। সেই মোতাবেক কলকাতা শহরের বেলতলার বাসায় মৃণাল সেনের সঙ্গে দেখা করেন তারা। তাদের দেখে আবেগে আপ্লুত হন মৃণাল; দেশের মানুষ পেয়ে স্মৃতি যেনো আর বাঁধ মানে না; একের পর এক বেরিয়ে আসে ফরিদপুরের ঈশান ইন্সটিটিউশন, রাজেন্দ্র কলেজের সেই সব দিনের কথা। রাজেন্দ্র কলেজ থেকেই আই এস সি পাস করেছিলেন মৃণাল। প্রথম দিন ফরমায়েশি লেখাটির প্রস্তাব আর স্মৃতিতর্পণ করেই মিলন ও মামুন বিদায় নেন। তাদের প্রস্তাবে দুই দিন সময় নেন মৃণাল। সে মোতাবেক দুই দিন পর আবার তারা মৃণালের বাসায় যান। ‘সাধু’দা’ শিরোনামের এই লেখাটি মৃণাল তুলে দেন তাদের হাতে। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ‘ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ’ জসীম উদ্দীনের জন্ম শতবার্ষিকী উৎসবের আয়োজন করে। নাসির আলী মামুনের সম্পাদনায় প্রকাশ হয় ‘শতবর্ষে জসীম উদ্দীন’ নামে স্মারকগ্রন্থ। লেখাটির সেখানেই প্রকাশ হয়। ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর পাঠকের জন্য এই লেখাটি পুনর্মুদ্রণ করা হলো। এখানে ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর নিজস্ব বানান রীতি অনুসরণ করা হয়েছে। [সম্পাদক]   

 

বড়দার বন্ধু ছিলেন সাধু’দা। তিনি আমাদের বাড়িতে নিয়মিত আসতেন। বড়দা ১০ লাইনের একটি কবিতা লিখে সাধু’দাকে দেখিয়েছিলেন, তাতে বেশকিছু বানান ভুল ছিলো। বড়ো হয়ে জানতে পারি, বড়দার বন্ধু ছিলেন কবি জসীম উদ্দীন।


আমি ফরিদপুরের ঈশান ইন্সটিটিউশনের ছাত্র ছিলাম। ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হই। ভর্তির সময় খুব ছোটো ছিলাম বলে হেডমাস্টার বলেছিলেন, আরো পরে ভর্তি করতে। কিন্তু আমাকে সে বৎসরই ভর্তি করা হয়। তখন একটা অভ্যাস ছিলো, প্রায়ই ছেলেরা ক্লাসে পায়খানা করে দিতো। একদিন আমিও ক্লাসে পায়খানা করে ফেলি, তখন থেকে লজ্জায় আর স্কুলে যেতে পারি নাই। পরের বৎসর আবারও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তে হয়। ঈশান স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাস করি।


পরে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হই এবং সেখান থেকে আই এস সি পাস করি। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। রাজেন্দ্র কলেজে তখন বি এ বি কম থাকলেও বি এস সি ছিলো না। গোয়ালচামটে মহেন্দ্রগুপ্তদের বাড়ির কাছে থাকার সময় ওখানকার বাড়িতে আমার জন্ম হয়। ৪০-এ কলকাতায় যাই। ৪৩-এ ছুটিতে ফরিদপুরের বাড়িতে আসি এবং এই শেষ আসা। ৪৩-এর পর আর বাড়িতে আসা হয় নাই।


রথের সময় রথ দেখতে যেতাম, সাত দিন পর উল্টো রথ দেখতে যেতে বায়না ধরলে মা বলতেন, উল্টো রথ দেখে বাড়ি ফেরার সময় পা উল্টে যায়। তখন কুমার নদীর উপর কাঠের ব্রিজ ছিলো। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে আড্ডা মারতাম। রথখোলার পাশে জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) ছিলো। আমার ঠাকুরদার নাম মহীম সেন। বাবার নাম দীনেশ সেন। আমাদের বাড়ির নাম ছিলো ‘তীর্থনিবাস’। ঠাকুরমার নাম তীর্থমনি অনুসারে এ নাম রাখা হয়। আমাদের সময় সকালে জেলে আসতো বাড়িতে মাছ ধরতে। তিন ভাগের দুই ভাগ বাড়িওয়ালা আর একভাগ পেতো জেলে। ইলিশ মাছের মাথার ভিতর যেনো কী থাকে? আমরা বলতাম, রুভা। ইলিশ মাছ পাতার ভিতর ভরে একধরনের রান্না করতো।


আমাদের সময় প্রবচন ছিলো, চোর চুট্টা খেঁজুর গুড়, যতো আছে ফরিদপুর। আইতে শাল, যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল। আমার মায়ের রান্নার কথা ভুলতে পারিনে। আমার স্ত্রী যাই রান্না করতো, আমি বলতাম, এটা দেশের বাড়ির মতো হয়নি। কিন্তু অনেক যত্ন করে সাধ করে সে রান্না করতো। আমি বলতাম, ছোটবেলার ফরিদপুরের তরকারির মতো স্বাদ হয়নি। এখনো এই বুড়ো বয়সে প্রসঙ্গ এলেই আমি ফরিদপুরের কথা বলি। ৪৭-এ দেশ ভাগ হয়ে গেলো। আমার জন্মস্থান বিদেশ হয়ে যায়। এটা অনেকের জন্যই চরম বেদনার। আমার নিজের দেশে, জন্মস্থানে যেতে পাসপোর্ট-ভিসা লাগে। ভাবলে বিস্ময় জাগে যে, আমার জন্মভূমি এখন ভিনদেশ। নিজের দেশের মানুষজনদের কাছ থেকে ৪৭-এর পর থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে হলো।


আমাদের বাড়ি ঢোল সমুদ্রের পাড়ে। ঢোল সমুদ্র একটা বিল। আমার শহরের মানুষ ছিলেন কবি জসীম উদ্দীন। তার সঙ্গে আমার অনেক ঘটনা জড়িয়ে আছে। এই দরদি মানুষটির কথা মনে হলেই আমার শহর ফরিদপুরের কথা এসে যায়। অনেককাল হলো আমি কলকাতার বাসিন্দা। কিন্তু ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে জসীম উদ্দীনের ছোট্ট শহর ফরিদপুরের কথা।


৪৭ বছর পর ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি আমার স্ত্রী সমেত ঢাকা হয়ে ফরিদপুরে গিয়েছিলাম। অনেক পুরনো লোকজনদের সঙ্গে দেখা হলো। আমার চেনা মানুষদের কয়েকজনকে পেলাম। অধিকাংশই কলকাতা চলে গেছেন। আর বাকিরা বেঁচে নেই। নেই আমার প্রিয় সাধু’দা। সেই ফেলে যাওয়া ছোট্ট শহরটার রাস্তা-ঘাট, নদী-পুকুর, গাছ-গাছালি প্রায় আগের মতোই আছে। আমূল পরিবর্তন হয়নি। কিছু প্রিয় মুখ বিয়োগ হয়েছে। যে মাঠে আমি খেলতাম, ভিতর দিয়ে কোনাকুনি সংক্ষিপ্ত পথ ছিলো। বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলতাম। ওটা ছিলো নড়াইলে কাচারীর পাশে। এতোকাল পরে মাঠটা আংশিক দেখে এলাম। মনে পড়েছিলো, মুকুন্দদা কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অনাথ বলে একজন ছিলেন, ভীষণ পরিচিত। আচারের ব্যবসা করতেন। প্রফেসর কোয়ার্টার সন্নিহিত মঠ, মন্দিরটা ভেঙে গেছে। মঠ দেখে ভয় পেতাম। ভয়ে কাছে আসতাম না। সে মঠটা অবিকল আগের মতোই আছে, কালে কালে আমার মতো বুড়ো হয়েছে, এই যা। ওখানে দীনেশ বাবুর বাড়িও ছিলো--আমার পিতা। এক এক করে সিনেমার মতো সব চোখের সামনে যেনো দেখতে পাচ্ছিলাম।


অনাথকে দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, দীনেশ সেনকে মনে আছে? আমি তার ছেলে মৃণাল। গণেশ, কার্তিক, মৃণাল। অনাথ আন্তরিক গলায় বললেন, হ্যাঁ চিনেছি, মিণাল। এ সময় অনাথের পা ছুঁয়ে সালাম করলো আমার স্ত্রী গীতা সেন। আমার বড়দা বলেছিলো, অনাথের সঙ্গে দেখা করিস।


তমিজউদ্দীন সাহেব (পাকিস্তানের স্পিকার) এক ঘণ্টাব্যাপী পুকুর পাড়ে বসে গায়ে তেল মাখতেন। দুটি ঘাট ছিলো। একটিতে পরিবারের লোকেরা, আরেকটিতে আমরা চান [স্নান] করতাম। ঈদের সময়, মহররমের সময় মুসলমানদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে আসতাম। এইখানটায় গরুর গাড়ির গাড়োয়ানদের বাড়ি ছিলো। তাদের এক মেয়ে ছিলো, খুব সুন্দর। ছোটোবেলা [তাকে] আমার খুব ভালো লাগতো। তার সঙ্গে আমার খুব ভাব ছিলো।


শহরের দক্ষিণ কালীবাড়ি এলাকায় আমাদের বাড়িতে একটা লম্বা-ঘর ছিলো, আমি থাকতাম ওই দিকের ঘরে, মানে ডান দিকেরটায়। বর্ষাকালে ঘরের ভিতর জল আসতো। এটা ছিলো রান্নাঘর। বৈঠকখানায় রেবার একটা ছবি ছিলো--পোর্ট্রটে। আমার ছোটোবোন। বাড়ির পিছনে পুকুর পাড়ে ঘাট ছিলো। ওইখানে কোনো গাছ ছিলো না। আরো পিছনে খাল ছিলো। তারপর মাঠের পরে ছিলো চাঁদমারী। সকালে পুলিশের লোকেরা এসে গুলি ছোড়া প্র্যাকটিস করতো। পরে গিয়ে আমরা টোটা কুড়াতাম। এই পুকুর ৮০ বারও পার হয়েছি। ছবির মতো ফরিদপুরের সবকিছু আমার সামনে খেলা করতে লাগলো।


একদিন রেবাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বত্র সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করলো। অবশেষে মেজদা এই পুকুরের জলে ডুবে তুললো রেবাকে। জীবনে এই প্রথম আমি মৃত্যু দেখি। রেবার বয়স ছিলো পাঁচ। আমাদের বাড়িতে এসে সাধু’দা খুব কাঁদলেন। মাকে বললেন, আমাকে একটা পাটি দিন, আমি পুকুর পাড়ে বসবো। কেউ যেনো ডিস্টার্ব না করে। মাঝখানে আমি একবার সাধু’দার কাছে গেলে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। সারাদিন বিষণ্ন মুখে পুকুর পাড়ে বসে রইলেন সাধু’দা। সন্ধ্যের সময় মায়ের হাতে কয়েক পাতার একটা কবিতা দিয়ে বললেন, কবিতাটা রেবাকে নিয়ে লেখা, যত্ন করে রাখবেন। এখন কবিতাটি আর নেই, আমি দাদাদের জিজ্ঞেস করে দেখেছি, তাদের কাছেও কবিতাটি নেই। অনেক খুঁজেও পাইনি। আমার জানতে ইচ্ছে করে, কবি জসীম উদ্দীন আমার বোন রেবাকে নিয়ে কী লিখেছিলেন!


আমার স্ত্রী গীতা সেন ফুলের তোড়া রেবার বেদীর পাশে রেখে এলেন। বললেন, তোড়াটি আমি দিয়ে গেলাম। রেবা সাধু’দার কোলে বসে বলতো, ফুল কেমন করে ফোটে? সাধু’দা বলতেন, ফুল রাতে ফোটে। সাধু’দা রেবাকে খুব আদর করতেন।


বাবা এই রুমে থাকতেন। সাধু’দা এলে এই ঘরে খেতে দিতো। সাধু’দা মাকে মা বলে ডাকতো। বলতো, মা আমাকে এই ঘরে খেতে দাও কেনো? ওদের মতো রান্নাঘরে খেতে দাও না কেনো? মা সাধু’দাকে জড়িয়ে ধরে বলতো, তুই জানিস না? ওই ঘরে তোকে খেতে দিলে অসম্মান করা হবে। আমিই তোর থালা-বাসন নিজ হাতে ধুই।


এখানে ফলের বাগান ছিলো। যুগ পাল্টে গেলেও মানুষ পাল্টায়নি। আমাদের সময় শিক্ষিকা ছিলেন কিরণদি। ঢাকায় থাকলে বাংলার মাটির গন্ধ পাওয়া যায় না। পদ্মাকে দেখে আমার সিগনিফিকেন্ট মনে হয়। যুগ পাল্টে গেছে, কিন্তু হৃদয়ের সুর পাল্টে যায়নি। জসীম উদ্দীন বাঙালিদের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে আছেন।


ঢাকা থেকে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার সময় আমার মনে হয়েছে, কখন ফরিদপুরে যাবো? আমি আবেগহীন লোক। কিন্তু যে মুহূর্তে ফরিদপুরে প্রবেশ করলাম, নিগূঢ় অনুভব আমাকে অভিভূত করলো। আমার তীর্থ মক্কা-মদিনা-বানারসি নয়, আমার তীর্থে আমি এসেছি। ফরিদপুরে এসে তীর্থে আসা হয়েছিলো। আমি সবসময় বর্তমানে থাকি। ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য থাকে; সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আজ বার বার অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যাচ্ছি। ফরিদপুর এসে ভীষণভাবে আপ্যায়িত হয়েছিলাম। আবেগহীন হলেও বার বার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। গলা আটকে এসেছিলো। কাউকে বুঝতে দেইনি, আমার ভিতরে অশ্রুপাত হচ্ছে। ৫৫ বছর আগে আমার যে বোন মারা গিয়েছে, আজও তার স্মৃতি বুকে ধারণ করে সেই বেদী অক্ষত রয়েছে, যা আমার বাবা তৈরি করেছিলেন। ৫৫ বছর ধরে সেই বেদী থাকবে ভাবিনি। এর মধ্যে পৃথিবীর কতো পরিবর্তন হলো। রাজনীতি দিয়ে, ধর্ম দিয়ে আমাদের মধ্যে কতো বিভেদই না সৃষ্টি হয়ে গেলো।


প্রথম যৌবনে ‘অরোরা সিনেমাহলে’ নির্বাক ছবি দেখতাম। তখন ভাবিনি, ছবি তৈরিতে আসবো। পশ্চিম বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমার ভালো লাগে; এ কারণে ছোটোবেলায় পূর্ব বাংলাকে আমার ভালো লাগতো। সাম্প্রদায়িক সখ্যতা গড়বার লক্ষ্যে সেই ছোটোবেলায় লিলি নামের এক মুসলামান মেয়েকে বিয়ে করার সাধ ছিলো। আগামীতে সাধু’দার ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’-এর চলচ্চিত্রায়নের চেষ্টা করবো।


আমি অতীতে যেতে চাই না। বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে তার মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য গতিধারা নির্ণয়ের ও নির্মাণের চেষ্টা করি। চারপাশের বাস্তবতা আমি নিজে যেভাবে রিঅ্যাক্ট করি তাই-ই শিল্পভাষ্যে চলচ্চিত্রে ধারণ করি। পৃথিবীর যে স্থানে যখন থাকি তখন সে স্থানই আমার ভালো লাগে। কোনো কোনো ল্যান্ডস্কেপ আমার ভালো লাগলে সেখানে গিয়ে নীরবে নিভৃতে বসে থাকি। অনেক ছবির লোকেশন ভালো লাগলে সেখানে মাঝে মাঝে গিয়ে বসে থাকি। প্রতি বৎসর অনেক বই-ই পড়া হয়। সেখান থেকে কিছু কিছু বই ভালো লাগে। একজন লেখক নিজের বই নিজের নামে উৎসর্গ করে বলেছিলেন, তার নামেই বইটি উৎসর্গ করলাম যাকে সবচেয়ে ভালোবাসি। ছবিকে বুঝতে হলে হৃদয় খুলে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় টেনশন ইনভাইট করি। এতে কাজ ভালো হয়।


কবি জসীম উদ্দীনকে নিয়ে ভাবতে গেলে আমার চোখের প্রান্তরে ফরিদপুরের শহরটা এসে যায়। আমাদের বাড়ির ক্ষেত্রফল ছিলো এক একর ৪৭ শতাংশ, একতলা সাদা বিল্ডিংয়ে পাঁচটি রুম ও একটি ছনের ছাওয়া। বাড়ির সামনে বড়ো একটি লিচু গাছ ছিলো। ছিলো অনেক নারকেল গাছ। পাঁচটি আম গাছ। বাড়ির পিছনে একটি পুকুর। রেবা নামান্বিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। এখানে কবি জসীম উদ্দীন বহুবার ভালোবেসে এসেছেন। তার অনেক স্মৃতিছবি আমার ফরিদপুরের প্রিয় স্মৃতি হয়ে ফিরে ফিরে আসে। জন্ম শতবর্ষে সাধু’দাকে আমার শ্রদ্ধা জানাই।

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন