Magic Lanthon

               

এ এইচ মানিক

প্রকাশিত ০৪ জুলাই ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

গল্পটা কেবল হামি’র নয়

এ এইচ মানিক


এই সময়ের আখ্যান

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ঠিক এ সময়টায় দাঁড়িয়ে সমাজ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তন আসছে সমাজের স্তর ও ব্যবস্থাতেও। ‘উন্নত’ জীবনযাপনের জন্য মানুষ এখন শহরমুখী। অনেক আগ থেকেই যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে রূপ নিচ্ছে একক পরিবারে। ফলে শহর, এমনকি মফস্বলেও জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ফ্ল্যাট সংস্কৃতি’। এখন শহরের একটি দালানে বসবাস করে অনেক পরিবার, যা একটি গ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে কল্পনা করা যায়। ধীরে ধীরে হয়তো সমাজ ‘আধুনিক’ হচ্ছে। তবে বোঝা যায়, এ সবই পুঁজির অসম প্রতিযোগিতার ফল। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের বরাতে সবাই জেনে গেছে এ দেশ নাকি গত বছরে সবচেয়ে বেশি কোটিপতির জন্ম দিয়েছে। একটি প্রশ্ন বার বার ঘুরেফিরে আসে, এই সংবাদ বাংলাদেশিদের গর্বিত না করে কেনো উদ্বিগ্ন করে? এর সহস্র কারণ রয়েছে নিশ্চয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সম্পদ ধনিকশ্রেণির মুঠোয় বন্দি হওয়ার এই একমুখী খেলায় যেমন নিম্নবিত্ত, খেতে না পাওয়া মানুষ বাড়ছে, এ ঘটনার ঠিক উল্টোপথে জ্বলজ্বল করছে পুঁজিপতিদের নাম।

   ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বিভেদ স্পষ্ট ভাষা পাচ্ছে। যদিও এই পরিস্থিতির কুচক্রে সব মানুষ বন্দি, তবে একটি শ্রেণি একেবারেই মৃতপ্রায়। তাদের না আছে এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলার গলা, না আছে প্রতিবাদী মুষ্টিবদ্ধ শক্ত হাত। ওই শ্রেণিটি শিশুর। এ অবস্থায় পরিণত বয়সের মানুষেরা শুধু দারিদ্র্যে জর্জরিত হলেও, শিশুরা দারিদ্র্যে কিংবা বিত্তে দুভাবেই অত্যাচারিত, পরাধীন। ঠিক এই সময়েও হয়তো শহুরে বিত্তবান পরিবারের কোনো শিশু বাহিরের পৃথিবীটাকে দেখবে বলে বদ্ধ ঘরে মন মরা হয়ে বসে আছে। কারণ তার বাইরে যেতে মানা। কোটিপতি বাবা হয়তো বাচ্চার নিরাপত্তা নিয়ে বড়োই শঙ্কিত। মুখ্যত পুঁজির বিস্ফোরণের এ সময়ে মানুষ বড়ো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তা বুঝতে আর দেরি নেই। অন্যদিকে নিম্নশ্রেণির কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা শিক্ষার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো যথেষ্ট পাচ্ছে না বলে তাদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত। আবার বিত্তশালী শিশুরা শিক্ষার নামে যা পাচ্ছে তাতেও কি তাদের বিকাশ পুরোপুরি হচ্ছে? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন এখন গণমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে।

   যদিও সন্তানের শিক্ষাদানের জন্য অভিভাবকরা বেছে নিচ্ছে সবচেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তবুও সেই প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় শিক্ষার ওপরই তারা বিশ্বাস রাখতে পারছে না। কিংবা সেই ‘শিক্ষা’ আসলে কোন শিক্ষা তা খুঁজে খুঁজে অনেকে হয়রান। তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন সমাজে বেড়ে চলেছে খুন, ছিনতাই, নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো। ফলে একটি সঙ্কটময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে প্রতিটি শিশু। সন্তানদের সুরক্ষার চিন্তায় অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। তাদের সেই উদ্বেগের প্রকাশও ঘটছে নানাভাবে। তাদের এই অতি উদ্বেগের ফলে কখনো কখনো শিশুর মঙ্গল না হয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। শিশু, অভিভাবক আর কাক্সিক্ষত ‘সাত রাজার ধন’ নামক শিক্ষা নিয়ে সমাজে ঘটে চলা এমনই নানা টানাপড়েনের গল্প হাজির হয়েছে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের চলচ্চিত্র হামি’তে।

হামি এবং অন্যান্য

চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে স্কুলপড়ুয়া তনুরুচি ও বোধিসত্ত্ব নামের দুই শিশুকে কেন্দ্র করে। চঞ্চল স্বভাবের বোধিসত্ত্বের বিদ্যালয়ে সময় কাটে চিৎকার, লাফালাফি, দুষ্টুমি আর হইচই করে। তাই তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তার বাবা-মা, সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। বোধিসত্ত্ব কখনো শ্রেণিকক্ষে হাজির হয় জন্মদিনে বাবার দেওয়া উপহার স্মার্ট মোবাইল ফোনসেট নিয়ে। কখনো বন্ধুদিবসে তনরুচির গালে হামি দেয়। আবার কখনো খেলার ছলে প্রিয় বন্ধুকে মাখিয়ে দেয় সিঁদুর। মাঝে মাঝে কারণ ছাড়াই মারামারি করে। সবমিলিয়ে বোধি, তনুর সরল বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হওয়া গল্পটা ক্রমেই জটিল হতে থাকে। আর এসব নিয়ে অতি মাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তাদের বাবা-মা। অন্যদিকে অভিভাবকদের এসব উদ্বেগ প্রশমনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

হামি ’র দুই মিনিট ১৬ সেকেন্ডে প্রোলগ এ দেখা যায়, ‘চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ, সংবাদপত্রের তথ্য ও কিছু মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিত্তিক।’ সহজেই বোঝা যায়, নির্মাতা সমাজে ঘটে যাওয়া বাস্তব কিছু ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এতে। যেখানে উঠে এসেছে সমাজ-বাস্তবতার নিরিখে চারপাশের অস্থির ও অস্থিতিশীল বিরূপ পরিবেশের কথা; সঙ্কটময় সময়ের প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবনের গল্প।

   চারপাশে ঘটে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাগুলোকে সোজাভাবে চিন্তা করতে না পারাটা এই চলচ্চিত্রের অন্যতম বিষয়। চলচ্চিত্রে তনুরুচি ও বোধিসত্ত্বের মধ্যে গড়ে ওঠা সরল বন্ধুত্বে ‘অহেতুক’ চাপ সৃষ্টি করে তাদের অভিভাবকরা। বড়োরা ঢুকে পড়ে শিশুদের অন্দরমহলে। যদিও চলচ্চিত্রের বিষয় শিশু ও তার শৈশব, কিন্তু এতে সমাজের কথাই বেশি করে দেখিয়েছেন নন্দিতা ও শিবপ্রসাদ। বুঝতে কষ্ট হয় না, চলচ্চিত্রটি শিশুদের নিয়ে হলেও এর উদ্দিষ্ট দর্শক, অভিভাবক। যে অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে অতি মাত্রায় উদ্বিগ্ন।

‘কী দেখার কথা কী দেখছি’

চারপাশের সঙ্কটময় সময়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাই অভিভাবকদের অতি উদ্বিগ্নতার কারণ, চলতি বাস্তবতায় এটা বুঝতে মোটেও কষ্ট হয় না। টেলিভিশনের সংবাদ কিংবা পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে আসে খুন, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ হাজারো খবর। আর সন্তানরা যেনো এসব পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।

   হামি ’র ১৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, তনুরুচির বাবা-মা তাদের মেয়েসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিশুদের নিরাপত্তায় শিক্ষক এবং কর্মচারীদের সাইকোমেট্রিক টেস্টের (কোনো ব্যক্তির মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা) কথা বলে। উত্তরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রবীণ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মচারীদের ওপর আস্থা রাখার কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু এ কথাও ঠিক যে, সন্তানের সুরক্ষায় সাইকোমেট্রিক টেস্ট চাওয়া কোনো অভিভাবকের অযৌক্তিক দাবি নয়। কেননা স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়।

   চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ২৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরনো কর্মচারী চাচাজানের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে অভিভাবকরা। অভিভাবকরা খুব দ্রুতই ফেইসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে থাকে। অভিভাবকরা এতোটাই উদ্বিগ্ন হয় যে, ঘটনার মূল কারণ কী বা কীভাবে ঘটনাটি ঘটলো তা কেউই জানতে চায় না। এমনকি চলচ্চিত্রে এ বিষয়ে একবারও কাউকে প্রশ্ন করতে দেখা যায় না। এমনকি যে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার মাকে পর্যন্তও সেই ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাইতে দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ হলো, গণমাধ্যমে উঠে আসা খুন, ধর্ষণ, হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণের নিত্য সংবাদ দেখতে দেখতে অভিভাবকরা ভেবেই নেয় যে, এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। আর তাই তারা এর ভিন্ন কিছু ভাবতেই পারে না।

   এক ঘণ্টা ৪৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে নির্যাতনের শিকার শিশু ঝুমুর পালের মাকে বলতে দেখা যায়, তিনি আসলে ঘটনার সত্যটা জানার চেষ্টাই করেননি। এবং অন্যান্য অভিভাবকরাও তাই করেছে। পুরো ঘটনাটিই ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে ঘটেছে। এছাড়া অভিভাবকরা একবারও ভাবেনি বিদ্যালয়ের কথা, বিদ্যালয়ের সম্মানের কথা, তাদের এ ভুলের কারণে বিদ্যালয়টির এতোদিনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে। সর্বোপরি সেই মানুষটির কথা যিনি ৩৫ বছর ধরে পরম যত্নে, সতর্কতার সঙ্গে শিশুদের বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ার কাজটি করেছেন। ঝুমুর পালের মা এটাও বলেন যে, ‘তার মেয়ের সাথে আসলে কিছু ঘটেনি।’

   ঝুমুর পালের ঘটনায় একজন কর্মচারীর এতো দ্রুত জনরোষের শিকার হওয়ার ব্যাপারটা কর্মজীবীদের বর্তমান পরিস্থিতির নাজুকতাকেই নির্দেশ করে। কর্মজীবীরা যেনো শুধু টাকার জন্যই কাজ করে; তাদের পেশায় কোনো বিশ্বাস, সহানুভূতি, মানবিকতার প্রকাশ নেই। তারা যেনো মার্কসের ভবিষ্যৎ দুনিয়ার কল্পিত একেকটা যন্ত্র। যেখানে পুঁজিবাদের নিয়ম হলো, শ্রমিক আর মালিকের মধ্যকার সম্পর্কটা শুধুই বিনিময়ের; বিশ্বাস, সহানুভূতি, মানবিকতা প্রকাশের নয়। ‘শ্রম দাও অর্থ নাও’--শ্রমিকদের লক্ষ্য করে এই যেনো আজকাল মালিকপক্ষের ঘোষিত বাণী। যেনো মেশিন আর মেশিনচালকের একটা সম্পর্ক, এর বাইরে আবেগ অনুভূতি থাকার দরকার নেই!

সেফটি সার্কেলে কি সেফটি আছে?

হামি’র এক ঘণ্টা এক মিনিট ১৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিশুদের সেফটি সার্কেল (নিরাপত্তা বেষ্টনী) বিষয়ে বোঝান। শিক্ষক বলেন, ‘সেফটি সার্কেলে আমরা সবাই সেফ থাকি এবং আমাদের সবারই একটা সেফটি সার্কেল রয়েছে। এ সার্কেলে রয়েছে বাবা-মা, দাদা-দাদি এবং শিক্ষকরা।’ শিক্ষকের এ কথার মানে হলো, শুরু থেকেই শিশুদের মনে একটা নেতিবাচক ধারণা দেওয়া। মানে এই কয়জন মানুষের বাইরে যারা আছে, তারা শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। এই ধরনের চিন্তা নিঃসন্দেহে শিশুমনে একটা অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। যা তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে সমাজে শিশুর যে অবাধ বিচরণ এবং পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ভালো-খারাপ নির্ণয়ের দক্ষতা অর্জন, তা বাধাগ্রস্ত হয়। আবার ভালো-খারাপের যে দুটো দল তার সামনে থাকছে, সেখান থেকেও সে আশানুরূপ ব্যবহার না পেয়ে হতাশ হয়। অথচ এই সিদ্ধান্তগুলো কোনোভাবেই কংক্রিট কিছু নয়। কারণ সেফটি সার্কেলের মধ্যেও শিশুরা হরহামেশাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অধিকাংশ শিশুই যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তাদের পরিবার পরিজনের সদস্য দ্বারা। বি বি সি’র এক প্রতিবেদনে ভারতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের চিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনকারীরা শিশুদের পূর্ব পরিচিত বা এমন কেউ যাদের তারা বিশ্বাস করে। অথচ সেই বিশ্বাসের মূল্য কিন্তু বড়োরা দেয়নি। শিশুরা এই সম্পর্কগুলোর ছায়াতেই বেশি সময় পার করে, বেড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ভাষ্যে উঠে আসে একই ধরনের তথ্য। সংগঠনটি বলছে, ‘শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাচ্ছেন এমন মানুষরা--যাঁদের ওপরে তারা খুবই ভরসা করে থাকে। যেমন, পরিবারের লোকজন, নিকটাত্মীয়, স্কুলের শিক্ষক বা হোস্টেলে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।’ তাহলে শিশুরা কোথায় নিরাপদ, সুরক্ষিত!

ফলে অভিভাবকদের অস্থিরতার কারণও নানামুখী। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা জায়গায় শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের খবর। সম্প্রতি কলকাতার দুটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষক ও কর্মচারীর হাতে তিন ও চার বছরের দুই মেয়েশিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। আবার ব্যাঙ্গালুরুতে ৩৭ ও ৬৩  বছর বয়সি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছয় ও আট বছরের দুই শিশুকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। ঝাড়খণ্ডের একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়েও ৬৭ বছর বয়সি অধ্যক্ষ সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিগ্রহের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এসব খবর অভিভাবকদের মনে শঙ্কার সৃষ্টি করে। তাই তারা প্রতিনিয়ত সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়।

   বিশ্বের ১৯ শতাংশ শিশুর বসবাস ভারতবর্ষে। বিশ্বের যে দেশগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার মধ্যে ভারত অন্যতম। অথচ শিশু অধিকার রক্ষার আইনকানুন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে কম মনযোগী হতে দেখা যায়। ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশটিতে প্রতিবছর ২০ হাজার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন ৫০ জন বা ঘণ্টায় দুজন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

   এছাড়াও দ্য ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো’র (এন সি আর বি ডি) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে ৮২ শতাংশ। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ১০ হাজার আটশো ৫৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। যা ২০১৬ তে বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার সাতশো ৬৫ জন। সংবাদ মাধ্যমের বদৌলতে এসব পরিসংখ্যান এখন আর কারো অজানা নয়। ফলে স্বভাবতই চারপাশে তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য বিরূপ পরিবেশ। রাষ্ট্র তার শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে; আর অভিভাবকরা রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ না করে, চাপ সৃষ্টি করছে বিদ্যালয়ের ওপর। কিন্তু বিদ্যালয় তো সবার আগে একটা শিক্ষালয়, তারপর না নিরাপত্তার প্রশ্ন। আবার নিরাপত্তাই যদি বিদ্যালয়ের প্রধান কাজ হয়, তাহলে তো সেটা আর বিদ্যালয়ই থাকে না।

অকারণে উদ্বিগ্ন অভিভাবক

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আই ইউ বি) এর সমাবর্তনে বলেন,

আরেকটা সমস্যা হলো আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে। যেমন আমরা ১১ ভাইবোন ছিলাম। আমার দাদারা ছিলেন মাত্র ১৮ ভাই এবং ১৪ বোন। এত ছেলে-মেয়ে সেকালে থাকত যে বাবা-মা তাদের ঠিক দেখেশুনে রাখতে পারত না। তাই তাদের নিয়ে তেমন কোনো চাপ ছিলো না। তারা নিজেদের যা ইচ্ছা তাই হতে পারত। কিন্তু আজকের ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ২-এ নেমে এসেছে। সব সময় বাবা মায়ের তীক্ষন্ দৃষ্টি যে তাঁর ছেলেমেয়ে কী করছে। আজকের ছেলেমেয়েরা যেন বন্দিশালাতে আটকে আছে। সর্বদা নজরদারির কড়া শিকলে বন্দী তারা। আজকের মতো অত্যাচারিত শিশু আমাদের দেশে কখনো ছিলো না। সবচেয়ে বড়ো কথা, বাবা-মা যা হতে পারেননি, ওই ১-২ জন ছেলেমেয়ে দিয়ে তারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এটা তো বড় কঠিন কাজ। এই বাচ্চা ছেলেমেয়ে কীভাবে এই বড় দায়িত্ব পালন করবে। 

কথাগুলো অনেকটা হতাশার সুরেই বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তবে কথাগুলো বর্তমানের অভিভাবকদের ভূমিকার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। নিজেদের অবাস্তবায়িত স্বপ্নের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এই অভিভাবকদের অতিরিক্ত খেয়াল আর উদ্বিগ্নতার কারণে শিশুরা বাইরের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। কোথাও যেনো তারা হয়ে পড়ছে শুধুই একটি পরীক্ষার বস্তু। ফলে তাদের ওপর চলছে অতিরিক্ত নজরদারি। শিশুরা হয়ে পড়ছে চার দেয়ালে বন্দি। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া।

   শিশু খেলতে গিয়ে সামান্য আহত হলে উদ্বিগ্ন হচ্ছে বাবা-মা’রা। চলচ্চিত্রের আট মিনিট ৪০ সেকেন্ডে দেখা যায়, বোধিসত্ত্বের বাবা লালটু বিশ্বাস তার ছেলের হাতে একটি মোবাইল ফোনসেট দেন। ৩০ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে দেখা যায়, ফোনসেট নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বোধিসত্ত্ব ব্যস্ত। এ ঘটনা অজাতশত্রু রক্ষিত শিক্ষককে জানালে তিনি এসে ফোনসেটটা কেড়ে নেন এবং বোধিসত্ত্বকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। ক্লাস শেষে অজাতশত্রু এ নিয়ে ব্যঙ্গ করে বোধির সঙ্গে। ফল হিসেবে বোধিসত্ত্ব ও অজাতশত্রুর মধ্যে মারামারি হয়।

   এ নিয়ে ৩৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, বোধিসত্ত্ব ও অজাতশত্রু মায়েদের মধ্যে মারামারি; ওই দুই শিশুর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অথচ চলচ্চিত্রের ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে দেখা যায়, কয়েকদিন আগে মারামারি করা বোধিসত্ত্ব আর অজাতশত্রু সবকিছু ভুলে ঠিকই খেলাধুলা করছে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলে, চঞ্চলতাই হলো শিশুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য। শিশুরা যখন-তখন হাসবে, খেলবে, দুষ্টুমি করবে, হইচই, লাফালাফি করবে, সমবয়সি ও সহোদরদের সঙ্গে ঝগড়া করবে এটাই শিশুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

এক দেশে যা পাপ গণ্য

আরেক দেশে পুণ্য তাই

হামির এক ঘণ্টা আট মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, তনুরুচির বাবা-মা বোধিসত্ত্বের কাছ থেকে তাদের মেয়েকে আলাদা করার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে তাকে অন্য শাখায় নেওয়ার দাবি জানায়। কেননা তনুরুচিকে নিয়ে বোধিসত্ত্বের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। তারা এও মনে করে, কেবল বোধিসত্ত্বের কারণেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এমন অভিযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার্থে তৎপর হয়ে ওঠে। তারা চায় না বিদ্যালয় প্রশাসন কোনো প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হোক। এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে এর প্রমাণও পাওয়া যায়; বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্ধান্ত নেন, তনুরুচিকে অন্য শাখায় বদলি করার। কেননা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ কিছু ঘটে গেলে বিদ্যালয়ের সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে। তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। তার চেয়েও বড়ো কথা--সুনাম, মর্যাদা, নিরাপত্তার ধুয়া তুলে অনেক টাকা বেতনে এসব বিদ্যালয়ে শিশুদের পড়তে হয়। ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ কিছু ঘটলে তাদের সেই উচ্চ বেতন নেওয়ার যৌক্তিকতা থাকবে না।

   এজন্য অবশ্য অভিভাবকদের উদ্বেগ প্রশমনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। এই কৌশল এতোই ভয়াবহ যে, বিদ্যালয় আর শিশুর মানসিক বিকাশের স্থান হিসেবে থাকে না, দিনশেষে পরিণত হয় কারাগারে। অভিভাবকরাও না বুঝে তাতে সায় দেয়, নজরদারি বাড়াতে বলে। এ কথার প্রমাণও মেলে প্রধান শিক্ষকের কথায়। অভিভাবক সম্মেলনে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘ভারতে ৭২ শতাংশ অভিভাবকরা এখন আর স্কুলকে বিশ্বাস করে না।’ এর বিপরীতে অভিভাবকরা নানা অভিযোগ করে বিদ্যালয় প্রসঙ্গে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় শিশুদের সামান্য দায়ভারও নিতে চায় না। সবশেষে নানা তর্ক-বিতর্ক গিয়ে ঠেকে বিদ্যালয়ে একশো ৭৮টা নজরদারি ক্যামেরা থেকে দুইশো ২৫টা ক্যামেরা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গিয়ে। এই নজরদারি এখন শুধু বিদ্যালয়ে নয়, সব জায়গায় বিদ্যমান। অবশ্য এ পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টিও হয়নি।

   একটা সময় ছিলো যখন অপরাধীকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়া হতো। সময়ের বিবর্তনে এর পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর প্রকাশ্যে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না। আধুনিক রাষ্ট্রে অপরাধীর ওপর বিশেষ নজর রাখতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কারাগার। যেখানে শাস্তির বদলে অপরাধীর ওপর তার অগোচরেই চলে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ। একইভাবে আগের কুঁড়েঘর, খোলামেলা গাছের নিচে পাঠদান প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বিদ্যালয় হয়েছে, সঙ্গে সেখানেও যোগ হয়েছে নজরদারি। যেখানে শিশুরাও কয়েদিদের মতো সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকে। ফলে কোনো শিশু বিদ্যালয়ে ঢোকা মাত্রই ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে যায় একটা বস্তু বা অবজেক্ট।

   হামিতে একশো ৭৮টি সিসি ক্যামেরাওয়ালা সেই বিদ্যালয় আর কারাগারের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য থাকে না। মিশেল ফুকোর ‘ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ : দ্য বার্থ অব দ্য প্রিজন’ (১৯৭৫) গ্রন্থটিতেও বার বার এসেছে এ ধরনের বিদ্যালয় আর কারাগারের প্রসঙ্গ।

বিদ্যালয়, ফুকো মনে করেন, নিয়ন্ত্রণ আর নজরদারির একটা প্রতিষ্ঠান। স্কুল-বাড়িটাও তৈরি হয় সেই আদলে; তার লক্ষ্য হলো : শিশুদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে একটা বিশেষ দিকে পরিচালিত করা বা ‘ট্রেইন’ করা। পোশাক-আশাক অপরিচ্ছন্ন থাকলে, পড়ার কাজ ঠিকমতো না হলে, আচরণ ‘অশিষ্ট’ মনে হলে ছাত্র/ছাত্রীকে শাস্তিদানের ক্ষমতা বিদ্যালয় রাখে--সমাজ এই ক্ষমতা স্বীকারও করে নিয়েছে। শিষ্টতা-সুশীলতা-সুনীতি, এমনকি জ্ঞানেরও একটা মান বিদ্যালয় নির্ধারণ করে দেয়। বিদ্যালয়ের পরীক্ষা মানে নির্ধারিত জ্ঞান ছাত্র-ছাত্রীরা কতটা অর্জন করেছে তার বিচার। শিষ্টতা-ভদ্রতার প্রমিত মান থেকে কোনো-রকম বিচ্যুতি বিদ্যালয়ের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিদ্যালয়ের ভেতরেই যেন একটা ‘ছোট আদালত’ বসানো আছে, বলেছেন ফুকো।১০

আবার, রাষ্ট্র তার অনুশাসনতন্ত্রের চর্চা ও বিস্তার ঘটায় সমাজে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে। ফুকোর মতে, আধুনিক ক্ষমতাতন্ত্র সমাজের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জালের মতো বিস্তার লাভ করছে। যেখানে সমাজের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রত্যেককে নজরবন্দি করা। কেননা নজরবন্দি করা গেলেই অনুশাসনবদ্ধ করা সম্ভব হয়।

   ফুকো আধুনিক রাষ্ট্রে জেলখানাকে জেরেমি বেন্থাম নকশা করা ‘প্যানোপটিকন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্যানোপটিকনে একা একজন রক্ষী অনেক কয়েদির ওপর নজরদারি করতে পারে; যদিও তাকে দেখা যায় না। তেমনই বর্তমানে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই চলে প্রত্যেকের ওপর নজরদারি ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে, শ্রমিককে কারখানায়, রোগীকে হাসপাতালে, কয়েদিকে কারাগারে নজরদারি করা হয়। এখানেও প্যানোপটিকনে থাকা একজন রক্ষীর মতো সি সি টিভিগুলো সবার অগোচরে নজরদারি করে। ফলে সহজেই বোঝা যায়, শুধু হামির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে সতর্ক প্রহরী। এই প্রক্রিয়া শারীরিক বল প্রয়োগ না করলেও শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

   অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা যায়, দেশের খ্যাতনামা বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও শিক্ষকমন্ডলী এখন আর জবাবদিহিতার মনোভাবে নেই। কেননা এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ‘ভালো ফলাফল’ করে বলে যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে তৎপর থাকে। সম্প্রতি ঢাকার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী ‘আত্মহত্যা’ করে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনসেট পাওয়া গিয়েছিলো। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে অরিত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

   গণমাধ্যমের ভাষ্যানুযায়ী, অরিত্রী তার বহিষ্কার আদেশ তুলে নিতে অধ্যক্ষের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ক্ষমা চেয়েছিলো। অরিত্রীর বাবাও মেয়ের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আকুতি জানান। কিন্তু কোনো কিছুই অধ্যক্ষের মন গলাতে পারে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরো ঘটনাটি ঘটে অধ্যক্ষের সামনে বাবা ও মেয়ের উপস্থিতিতে। এ ঘটনার পর অরিত্রী বাসায় গিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করে। নবম শ্রেণির পরীক্ষা মানে অভ্যন্তরীণ মেধা যাচাইয়ের উদ্যোগ মাত্র। এটা কোনো পাবলিক পরীক্ষাও নয় যে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এতোটা কঠোর হতে হবে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান ‘খ্যাতনামা’র তকমা দিয়ে যাচ্ছেতাই সিদ্ধান্ত নেয়, তাও সব অভিভাবককে উদ্বিগ্ন করে।

   অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, শিশুদের শিক্ষা নিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই সতর্ক থাকে। তারা কোন বয়সে কোন ধরনের শিক্ষা নিবে, সেটাও সেই সব দেশে নির্ধারিত থাকে। যেমন, জাপানে সামাজিক শিক্ষার গুরুত্বটা কিন্ডারগার্টেন পর্যায় থেকেই শেখানো হয়।১১ বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের সর্বপ্রথম শেখানো হয় তিনটি শব্দ--হ্যালো, ধন্যবাদ, দুঃখিত। যেনো তারা পরিচিত মানুষকে দেখলেই ‘হ্যালো’ বলে, কারো দ্বারা বিন্দুমাত্র উপকৃত হলে ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাদের ভুলের জন্য ‘দুঃখিত’ বলে ক্ষমা চায়। এগুলো যে শুধু মুখস্থ করে শেখানো হয়, বিষয়টা এমন নয়। সেখানকার শিক্ষকরা সুযোগ পেলেই নানাভাবে এর চর্চা করায়। জাপানে এই শিক্ষা এবং তার চর্চা শিশুকাল থেকেই চলে। অবশ্য এভাবে শিশুদেরকে শেখানোর বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই অনুপস্থিত। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের চর্চা নেই বললেই চলে। এখানকার শিশুদেরকে স্বনির্ভরতার প্রশিক্ষণের শিক্ষাও দেওয়া হয় না। জাপানে শিশুর স্বনির্ভরতার শিক্ষা কিন্ডারগার্টেন থেকেই দেওয়া হয়।১২ জাপানের শিশুরা নিজের বইখাতা, খেলনা, বিছানা গোছানো, নিজের কাজ নিজে করা--এমনকি টয়লেট ব্যবহার, পরিষ্কার করা, নিজের খাবার নিজে খাওয়া, প্লেট গোছানোর কাজও শিশু বয়স থেকেই শিখে নেয়। অথচ ভারত, বাংলাদেশে শিশুর খাওয়া থেকে শুরু করে জুতা, বিদ্যালয়ের পোশাক পরানো এবং বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত কাজটা বাবা-মা-ই করে থাকে। অবশ্য সেই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হামিতেও দেখা যায়। চলচ্চিত্রে বাবা-মা তাদের শিশুদেরকে গাড়ি করে পৌঁছে দেন নতুবা স্কুলবাস রয়েছে। কিন্তু জাপানের চিত্র ঠিক এর ভিন্ন। বাসা থেকে ২০ মিনিট হাঁটা পথ হলেই শিশুকে একা হেঁটে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। সেখানে অভিভাবকদের সঙ্গে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। এমনকি গাড়ি করে পৌঁছে দেওয়ার অনুমতিও নেই।১৩

   জাপানে বয়সভেদে শিশুদের ক্লাস হয়। সেই ক্লাসে বাচ্চাদের চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয় চারটি রঙ দিয়ে।১৪ এতে শিশুরা অল্প বয়স থেকেই দলগতভাবে কাজ করতে শিখে। এতে একজন পিছিয়ে থাকলেও অন্যরা তাকে নিজেদের স্বার্থে এগিয়ে নেয়। এতে একক নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, বরং সবার মানোন্নয়ন হয়; কাউকেই হীনমন্যতায় ভুগতে হয় না। ফলে শিশুদের মানসিক বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা কমে যায়। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে শিশুদের দলগত কাজ শেখানো হয় না বললেই চলে। আবার শ্রেণিকক্ষে কে ধনী, কে গরিব, কে প্রথম, কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেনো তৈরি না হয়, সেজন্যও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয় জাপানের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। শ্রেণিকক্ষের রোল নম্বর তৈরি হয় নামের বানানের ক্রমানুসারে।১৫ এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনর্থক প্রতিযোগিতার মনোভাব দূর হয়।

এই উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ধনী-গরিবের বৈষম্যটা খুব ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হয়। হামির এক ঘণ্টা নয় মিনিট ১৮ সেকেন্ডে তনুরুচির বাবার মুখেই শোনা যায় ধনী-গরিবের বৈষম্যের কথা। শিক্ষকের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, কীভাবে তারা সবার ছেলে-মেয়েকে একই পাল্লাতে বসাতে পারে! যেখানে তনুরুচি অধ্যাপকের মেয়ে অন্যদিকে বোধিসত্ত্ব একজন ফার্নিচার বিক্রেতার ছেলে; যা তাদের কাছে বড্ড বেমানান। উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধনী গরিব বৈষম্যটা দেখা যায় না।

   আবার নেদারল্যান্ডসের শিক্ষাব্যবস্থায় ক্লাস ওয়ান থেকেই বাচ্চাদের সামাজিক উন্নয়ন, মানসিক উন্নয়ন আর পড়াশোনা এ তিনটি ভাগে পাঠদান করানো হয়।১৬ সামাজিক উন্নয়ন ভাগে থাকে শ্রেণিকক্ষে বন্ধুদের সাহায্য করা; বন্ধু ও অন্যদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা শেখা। মানসিক উন্নয়ন ভাগে শিশুর বয়সানুযায়ী ভালোলাগা, মন্দলাগা, শারীরিক গঠন, আবেগ বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওঠানামা করছে কি না ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর পড়াশোনার ভাগে থাকে শিশুর দলগতভাবে পড়াশোনার পদ্ধতি। হামিতে দেখানো খ্যাতনামা বিদ্যালয়টিতেও শিশুর সামাজিক ও মানসিক উন্নয়নে নেই কোনো নজর রাখার ব্যবস্থা। বরং চঞ্চল স্বভাবের বোধিসত্ত্বের যথাযথ মানসিক পরিস্ফুটনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়। বিদ্যালয় ও পরিবারে শিশুদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বড়োদের সিদ্ধান্তই সেখানে চূড়ান্ত। তবে ডাচ শিশুদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।১৭ তারা কী বলতে চায়, তার ওপর মনোযোগ দেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয় বড়োরা।

দিনশেষে গল্পটা সবার

হামির এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, বোধিসত্ত্বের মা তাকে তনুরুচির সঙ্গে মেলামেশা না করতে কড়া নির্দেশ দেন। এবং সে যদি তনুরুচির সঙ্গে মেশে তাহলে তাকে বোর্ডিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এর কারণ বিদ্যালয়ে বোধিসত্ত্বের দুরন্তপনা ও চঞ্চলতাকে বড়োরা একদমই শিশুসুলভ মনে করে না; বরং তারা এটাকে মনে করে ‘অপরাধ’। ফলে অন্যান্য অভিভাবক আর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বোধিসত্ত্বের নামে নানা অভিযোগ আসতে থাকে। শিশুর প্রতি বড়োদের এই বেঁধে দেওয়া গণ্ডি নিঃসন্দেহে তাদেরকে তার শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে। শৈশবের মূল্যবান সময়গুলো তারা ‘শিক্ষা’র নামে হারিয়ে ফেলে এসব প্রহসনে। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত শিশুরা ধনী পরিবারের শিশুর মতো পড়ালেখার চাপে শৈশব না হারালেও তাদের সঙ্কট অন্য জায়গায়। যে বয়সে তাদের খেলাধুলা করে কাটানোর কথা, সে বয়সে তাদের মাথায় উদরের চিন্তা ঘুরপাক খায়। দুই মুঠো অন্ন জোগাতে তারা লিপ্ত হয় নানা কাজে। যেখানে জীবনই সংশয়ে, সেখানে শিক্ষার্জন তো অনেক দূরের কথা।

   আবার পারিবারিক অশান্তি, কলহও শিশুর স্বাভাবিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চলচ্চিত্রের তিন মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী বাসা থেকে খাতা রঙ করে আনেনি; শিক্ষক তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘জানো না কী অশান্তি, বাড়ি ফিরলেই অশান্তি। বাবা তো মাকে মারে।’ এ ধরনের আচরণ শিশু মনে ভয়ের দাগ কেটে দেয়। সে বড়ো হতে থাকে একটা অসুস্থ পরিবেশের মধ্যে। ২২ মিনিটে এক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, তার পরিবারে বাবা-মা স্কচ (বিশেষ ধরনের মদ) খায়। এবং সেই মদের গন্ধ শুকলে তার টিপসি (মাতাল) হয়। ফলে বিদ্যালয়ে এসে তার শরীর খারাপ করে। শিশুদের সামনে পারিবারিক অশান্তি, কলহ বা বড়োদের মদ্যপান, যাই বলি না কেনো, এতে তাদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়। ৫৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে দেখা যায়, তনুরুচি তার মায়ের কাছে খুশি মাসির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ব্যাখ্যা চাইলে তার মা তাকে ভুলভাবে বোঝান--রণ ও খুশি মাসি দুজনেই ভালো বন্ধু; রণ মেসো খুশিকে আদর করে হামি খেলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরদিন বন্ধু দিবসে ক্লাসের ফাঁকে বোধিসত্ত্বকে তনুরুচি ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড পরিয়ে দিলে বোধিসত্ত্ব তাকে হামি দেয়। চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা এক মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে দেখা যায়, শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর সময় তনুরুচি হঠাৎই বলে ওঠে সে অন্তঃসত্ত্বা। এর একটু পরেই তনুরুচির অন্তঃসত্ত্বা হবার কারণ যে বোধিসত্ত্বের হামি খাওয়ার ফলে হয়েছে তা জানা যায়। তনুরুচি অন্তঃসত্ত্বা এ কথা শুনে শ্রেণিশিক্ষক অবাক হন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকসহ অভিভাবকদেরও রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে। এ থেকে বোঝা যায়, শিশুকে কোনো কিছু শেখানোর ব্যাপারে অভিভাবকদের যে যথেষ্ট সাবধান হওয়া বাঞ্ছনীয়, তা অনেকে খেয়ালই করে না।

   শিশুদের যে আলাদা জগৎ থাকে এবং সেই জগতে তারা মুক্তভাবে বিচরণ করে সেটাও বড়োরা খেয়াল করে না। চলচ্চিত্রের দুই ঘণ্টা সাত মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দেখা যায়, বোধিসত্ত্ব পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়ে কান্না করতে থাকে। তনুরুচি সেটা দেখে বোধিসত্ত্বের কান্না থামাতে তাকে হামি খায়। এই দৃশ্য অধ্যক্ষসহ তাদের বাবা-মা দেখে। অভিভাবকদের কিছু বলার আগেই অধ্যক্ষ তাদের বলেন, ‘শিশুদের পৃথিবীটা একটা সুন্দর, নিষ্পাপ ফুলের মতো, ভীষণ পবিত্র।’ তাই অভিভাবকদের তিনি হামিটাকে বড়োদের চোখে না দেখে শিশুদের চোখ দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। এবং শিশুদেরকে তাদের মতো করে বড়ো হতে দেওয়ার কথা বলেন। বোঝা যায়, সমস্যাটার অনেকখানি নিহিত বড়োদের বোঝাবুঝির মধ্যে।

   সবশেষে হামি নিয়ে আরো কয়েকটি কথা বলা জরুরি মনে করছি, চলচ্চিত্রটি দেখতে দেখতে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নিয়ে দ্বিধায় পড়তে হয়। কখনো মনে হয় শিশু দুটো, আবার কখনো তাদের অভিভাবকদের প্রধান চরিত্র মনে হয়েছে; যারা ‘অহেতুক’ ও ‘ভিত্তিহীন’ ঘটনাগুলোকে জটিল করে তুলেছে। আবার পরমুহূর্তেই মনে হয়েছে, হামি নামের অন্তরালে দর্শকের অচেতনকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে তাই প্রধান। নির্মাতা এক হামি দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার যে দুর্বলতা ও নোংরামি তুলে ধরেছেন তা সত্যিই মন কাড়ে। তাই হয়তো শেষ পর্যন্ত হামি শিশুর নয়, সবার চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে।

 

লেখক : এ এইচ মানিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ahmanikrumcj26@gmail.com

https://www.facebook.com/profile.php?id=100012199353572

 

থ্যসূত্র

১.https://www.bbc.com/bengali/news-40986422; retrieved on: 09.03.2019

২. https://www.bbc.com/bengali/news/2013/02/130207-pg-india-children-rape; retrieved on:15.03.2019

৩.https://ww.bbc.com/bengali/news-42995722; retrieved on: 19.03.2019

৪.https://ww.bbc.com/bengali/news-42995722; retrieved on: 22.03.2019

৫.https://bit.ly/2PwGquK; retrieved on: 07.04.2019

৬.https://bit.ly/2IWv5Ez; retrieved on: 11.04.2019

৭.https://bit.ly/2IWv5Ez; retrieved on: 19.04.2019

৮. সায়ীদ, আবদুল্লাহ আবু; ‘এই জীবন যদি জীবন হয় তাহলে আসল জীবন কোথায়’; রবিবারের বিশেষ ক্রোড়পত্র ‘প্র স্বপ্ন নিয়ে’; প্রথম আলো, ৭ এপ্রিল ২০১৯।

৯.https://bit.ly/2SRcRsy; retrieved on: 21.04.2019

১০. বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ (২০০৭ : ২৪৭); ‘পাঠশালা, কারাগার : ফুকো’; মিশেল ফুকো পাঠ ও বিবেচনা; সম্পাদনা : পারভেজ  হোসেন; সংবেদ প্রকাশনা, ঢাকা।

১১. ইয়াসমিন, তানজীনা, তালুকদার, তানবীরা ও অন্যান্য (২০১৯ : ১৭); ‘প্রতিটি শিশুই এক-একটি ফুল, প্রতিটি ফুলই স্বতন্ত্র’; তিন ভুবনের শিক্ষা: জাপান-নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশ; শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলন (শিশির), ঢাকা।

১২. প্রাগুক্ত; ইয়াসমিন ও অন্যান্য (২০১৯ : ১৮)।

১৩. প্রাগুক্ত; ইয়াসমিন ও অন্যান্য (২০১৯ : ২৫)।

১৪. প্রাগুক্ত; ইয়াসমিন ও অন্যান্য (২০১৯ : ২০)।

১৫.  আশির আহমেদ, উদ্ধৃত; আহমদ, নূর; ‘শিশুদের পরীক্ষা তুলে নেওয়া’; ‘চিঠিপত্র’; প্রথম আলো, ২৮ মার্চ ২০১৯।

১৬. ইয়াসমিন, তানজীনা, তালুকদার, তানবীরা ও অন্যান্য (২০১৯ : ৬৭); ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী শিশুদের শিক্ষা’; তিন ভুবনের শিক্ষা: জাপান-নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশ; শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলন (শিশির), ঢাকা।

১৭. প্রাগুক্ত; ইয়াসমিন ও অন্যান্য (২০১৯ : ১০৪)।

বি:দ্র: প্রবন্ধটি জুলাই-২০১৯ (১৭ সংখ্যা) ম্যাজিক লণ্ঠন পত্রিকায় প্রকাশিত।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন