Magic Lanthon

               

রোকসানা আরশি

প্রকাশিত ২৯ জুন ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

‘দ্য পিয়ানিস্ট’ : ক্ষুধা, মৃত্যু ও নিষ্পেষণের মধ্যেও বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা

রোকসানা আরশি


ক্ষুধার দাবানলে

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি'কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা পরিচিত এই লাইনটিতে ‘ক্ষুধা' শব্দটির এমন এক বর্ণনা পাওয়া যায়, যা ক্ষুধা ব্যতীত পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত অনুভূতিকে যেনো নিমিষেই খর্ব করে দেয়। ক্ষুধা কি তবে এমনই এক অনুভূতি যা দমিয়ে দিতে পারে বাকি সমস্ত অনুভূতিকে! তবে কি ক্ষুধা এতোটাই শক্তিধর? একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলে মনে হয় এ পৃথিবীতে সমস্ত অনুভূতির পেছনেই বোধহয় এক ধরনের ক্ষুধা থাকে। চারদিকে চোখ বুলাতেই দৃষ্টির গোচরে আসে কেবল ক্ষুধা আর ক্ষুধা! একদিকে ক্ষমতাধরের ক্ষমতার ক্ষুধা, মর্যাদার ক্ষুধা; যা জন্ম দেয় অসংখ্য অমর্যাদা। অন্যদিকে শিল্পীর থাকে শিল্পের ক্ষুধা, ভালোবাসার ক্ষুধায় মরে বঞ্চিতেরা; আবার খাবারহীন কোনো যুদ্ধ উপত্যকায় ক্ষুধার্ত মানুষের কেবলই খাবারের ক্ষুধা। ক্ষুধার এ অনুভূতিকে কেবল খাবারের অভাব বলে চিন্তা করলেও দেখা যায়, পৃথিবীতে যা কিছু বর্তমানশিল্প, সাহিত্য অথবা ভালোবাসা কিংবা স্বৈরাচারিতা, আর যুদ্ধের ভয়াবহতাএর পেছনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষুধা। তবে কখনো কখনো এ ক্ষুধা এতোটাই উগ্র করে তোলে, যার ফলে মানুষ পরিণত হতে পারে দানবে, যা গ্রাস করতে থাকে সমস্ত পৃথিবীকে।


এমনই ক্ষমতার ক্ষুধায় মরিয়া দানবের আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাংশের ভূখণ্ড ফিলিস্তিন আজ এমন এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে দিনের পর দিন ক্ষুধার দাবানলে পুড়ে ছাই হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ জীবন। অতি আধুনিক পৃথিবীর এক কোণে বসে প্রতিনিয়ত স্বচক্ষে দেখতে হচ্ছে এ দাবানল; অনুভব করতে হচ্ছে চলমান এই ভয়াবহ দাবানলে ভস্ম হওয়া সেই ফুলেদের, যারা ফোঁটার আগেই এক চরম নৃশংসতায় মুখ থুবড়ে পড়ছে।


এই মুখ থুবড়ে পড়া পৃথিবীতে এ যেনো এক বিস্ময়ের ব্যাপার, ভয়ঙ্কর সব নৃশংসতার মধ্যেও কেউ কেউ এখনো ছবি আঁকে, গান গায়; পিয়ানো বাজে, নির্মাণ হয় চলচ্চিত্র। আর এমনই এক বিস্ময়ের চিহ্ন হিসেবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ভয়াবহ নৃশংসতা অবর্ণনীয় হারানোর বেদনার মধ্যেও শিল্প আর ক্ষুধাকে পিয়ানোর সুরে আগলে রেখেছিলেন এক পিয়ানিস্ট। সেই পিয়ানিস্টের গল্প নিয়েই দুই যুগ আগে নির্মাতা রোমান পোলানস্কি নির্মাণ করেছিলেন দ্য পিয়ানিস্ট (২০০০) চলচ্চিত্রটি। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও চলচ্চিত্রটিকে আজও সারাবিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি জ্বলন্ত চিত্র বলেই মনে হয়। পুরনো ধাঁচে নির্মিত সেই চিত্রের ভাষা কেমন করে আজকের পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তারই বর্ণনার প্রয়াসে এই প্রবন্ধের অবতারণা।


মানবতার দুর্ভিক্ষ

করোনা পরবর্তী সময়ে ‘নিউ নরমাল' টার্মটি বোধহয় অনেকেরই জানা। এর অর্থ দাঁড়ায় নতুন কিছুকে গ্রহণ করা। তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, অতি গ্রহণযোগ্যতার এ জোয়ারে অনেক নির্বিচার হত্যা, বঞ্চনা, অত্যাচার, অপমানও কি গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যাচ্ছে? আরেকটু সহজ করে বললে, প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে হত্যা, বঞ্চনা, অত্যাচার, ক্ষুধা, মৃত্যু দেখতে দেখতে যেনো অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে সবাই। এসব ভয়াবহতা ভেতর ছুঁয়ে যায় ঠিকই, মন ভাঙেএমনকি তীব্র ঘৃণার জন্মও হয়, তবে অত্যাচারীর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা কঠিন হয়। হয়তো এ কারণেই অত্যাচারীও ক্ষান্ত হয় না। এ অত্যাচারে আরো একবার মনে আঁচড় কাটে বিশ্বযুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় সময়গুলো, মনে হয় যেনো আবারও ভারত-পাকিস্তান, ইউক্রেন-রাশিয়া কিংবা ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোর মধ্যকার নৃশংসতার রূপে সেই অতীত বর্তমানে ফিরেছে। এ পৃথিবীর বুকে যেনো প্রতিনিয়ত ক্ষমতার সঙ্গে ক্ষমতার লড়াই চলছে। আর এ লড়াই কেবল মানুষই নয়, বরং মেরে ফেলে মানুষের মনুষ্যত্বকেও। আর মনুষ্যত্বের এ দুর্ভিক্ষে কেবল মানবিকতার মৃত্যুই চোখে পড়ে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সত্য ঘটনার আদলে নির্মিত রোমান পোলানস্কির দ্য পিয়ানিস্ট চলচ্চিত্রের ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি দৃশ্যে চোখে পড়ে এমনই এক মৃত্যু। দৃশ্যটিতে দেখা যায়, যুদ্ধের ভয়াবহতায় আতঙ্কিত পোল্যান্ডের ছোট্টো শহর ওয়ার্শার নির্জন এক রাস্তার মাঝ বরাবর সেসময়ের বিখ্যাত ইহুদি পিয়ানোবাদক স্পিলম্যান হাঁটছেন। রাস্তার পাশেই, দেয়ালের ওপাশ থেকে জার্মান সৈন্যরা কিছু খাবারের ব্যাগ রাস্তার এপাশে ছুঁড়ে দিচ্ছে। সেই সময়ে যুদ্ধ-বিধস্ত, একইসঙ্গে অভাবগ্রস্ত শহরে খাবার যেনো যক্ষের ধন; যা নিতে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাঁটতে হাঁটতে সেই অসহায়ত্ব স্বচক্ষে দেখছিলেন স্পিলম্যান। এমন সময় এক শিশুর কান্না তার কানে আসে। কাছে যেতেই দেখতে পান, শিশুটি খাবারের ব্যাগ নিয়ে দেয়ালের নিচের দিকে থাকা সুড়ঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বের হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ওপাশ থেকে জার্মান বাহিনীর কোনো এক সেনা সদস্য তাকে দেখে ফেলে; এক পর্যায়ে সেই সেনা সদস্য শিশুটির পা টেনে ধরেন। এতে করে শিশুটি সুড়ঙ্গে আটকে যায়। কান্না শোনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে স্পিলম্যান সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা শিশুটির পাশে যান এবং তাকে বের করার চেষ্টা করেন। অনেকক্ষণ ধস্তাধস্তির পর তিনি শিশুটিকে বের করেন ঠিকই, কিন্তু মৃত অবস্থায়। কিছুক্ষণ মৃত শিশুর দিকে তাকিয়ে থেকে, চোখ-ভর্তি অসহায়ত্ব নিয়ে স্পিলম্যান নিরবে সে স্থান ত্যাগ করেন।

সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে অনেক ধস্তাধস্তির পর শিশুটিকে বের করেন স্পিলম্যান


চলচ্চিত্রের অন্য একটি দৃশ্যে দেখা যায়, এক বৃদ্ধা অনেক কষ্টে কোথাও থেকে এক বাটি খাবার জোগাড় করেছেন। সন্তর্পনে পাত্রটি হাতে নিয়ে যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধ তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারপর খাবার নিয়ে দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি চলে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পাত্র থেকে সমস্ত খাবার রাস্তায় পড়ে গেলে, বৃদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে তা জিভ দিয়ে চেটে খাওয়া শুরু করেন। এ সময় বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে আঘাত করতে থাকেন সেই বৃদ্ধকে। এক সময় আঘাত ম্লান হতে থাকে, বিপরীতে বৃদ্ধার কান্না হতে থাকে আরও করুণ। এ কান্নায় কেবল তার খাবার হারানোর বেদনা নয়, বরং ধরা পড়ে যুদ্ধ-বিধস্ত শহরে মানবেতর জীবনযাপন করা জীবন্ত সব লাশের আর্তনাদ।


ক্ষুধা আর বেঁচে থাকার আর্তনাদে ভরপুর পত্রিকার পাতাও আজকাল জানান দেয় অসংখ্য জীবিত ও মৃত লাশের কথা। সম্প্রতি জাতিসংঘ এক সংবাদ মাধ্যমে ফিলিস্তিনের গাজা শহরে দুর্ভিক্ষ চলমান বলে মন্তব্য করে। সেখানে বলা হয়, ‘এ দুর্ভিক্ষ পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের পরিকল্পিত বাধার কারণে ... খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো যায়নি।'১ এ প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ‘গাজা শহর এখন খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সূচকে পঞ্চম ধাপে আছে। এটি এই সূচকের সবচেয়ে মারাত্মক ও সর্বোচ্চ স্তর।'২


‘নিউ নরমাল'-এর এই পৃথিবীর কোনো এক কোণে আজও খাবারের অভাবে অসংখ্য ক্ষুধার্ত ধুকে ধুকে মরে। পত্রিকার পাতায় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে তাদের লাশের ছবি চোখে পড়ে। সেসব ছবিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অসংখ্য প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ে। তবে বেদনাদায়ক ব্যাপার, এ প্রতিক্রিয়ায় গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের পেটে খাবার যায় না। বন্ধ হয় না সেই উপত্যকায় মৃত্যুর মতো অভিশাপের আগমন।


যদি নির্বাসন দাও ...

যুগে যুগে কতো মানুষই তো নির্বাসিত হয়েছে, বেছে নিতে হয়েছে এক অনন্ত নির্বাসন। যুগ-যুগান্তরে কেবল মানুষ নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিরাও যেনো নির্বাসিত হয়। তেমনই জীবনের পথে কতো সহচরের ঝড়ো হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া দেখতে হয়, কতো পিপাসায় পানি পান না করে থাকতে হয়। এর সবই বোধহয় কোনো না কোনোভাবে নির্বাসনেরই আওতাভুক্ত! এদিক থেকে চিন্তা করলে প্রায় প্রতিটি মানুষইহোক তিনি শিল্পী, লেখক কিংবা কবিজীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে নির্বাসনের ব্যথা অনুভব করে। এ কারণেই বোধহয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কবিরা লেখেন, ‘যদি নির্বাসন দাও/ আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো/ আমি বিষ পান করে মরে যাবো'। লাইনটি থেকে স্পষ্ট হয়, সুনীলের কাছে নির্বাসনের চেয়ে বিষ পানই অধিক শ্রেয়।


কেবল সুনীলই নন, বিভিন্ন আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, দেশ বিভক্তকরণ, '৭১'র মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার রোষানলে পড়ে কিংবা নানামুখী ষড়যন্ত্রে যারা নির্বাসিত হয়েছে, সেই প্রতিটি মানুষের কাছেই বোধহয় এই শব্দটি ভয়াবহ। তেমনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময়ের এক বিখ্যাত পিয়ানোবাদক স্পিলম্যানকে বরণ করতে হয়েছিলো এক নির্মম নির্বাসন। আর সেই সত্য ঘটনার আদলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত দ্য পিয়ানিস্ট। এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ চলাকালীন একজন পিয়ানোবাদক ও তার পরিবারের নির্মম বিচ্ছিন্নতা ও নির্বাসনের চিত্র ফুটে উঠেছে।


পোল্যান্ডের শহর ওয়ার্শায় বসবাস ছিলো পিয়ানোবাদক স্পিলম্যান ও তার পরিবারের। মা-বাবা আর ভাইবোনের সঙ্গে স্বচ্ছলভাবেই চলছিলো স্পিলম্যানের পারিবারিক জীবন। তবে হঠাৎ এক দমকা হাওয়া এসে নিমিষেই যেনো তার এ সমৃদ্ধ জীবনের ইতি টেনে দেয়। বুঝে ওঠার আগেই স্পিলম্যানের বিচ্ছেদ হয়ে যায় পরিবার, বন্ধু, এমনকি প্রিয়তমার সঙ্গেও। তারপরই এই অনন্ত নির্বাসনে স্পিলম্যান হয়ে পড়েন পুরোপুরি একা। চলচ্চিত্রের ৪৯ মিনিটে চোখে পড়ে, যুদ্ধে পুরোপুরি বিধস্ত এক জনস্রোত ঠেলে স্পিলম্যান তার পরিবারের সঙ্গে শহর ছাড়ার উদ্দেশ্যে রেললাইনের দিকে এগোচ্ছেন।


হঠাৎ এক পূর্বপরিচিত জার্মান সেনা তাকে সেই বিশাল জনস্রোত থেকে আলাদা করে তাদের সারিতে নিয়ে যায়। আর তার পরিবার সেই জনস্রোতে মিশে যায়। স্পিলম্যান পেছন থেকে তার বাবাকে ডাকতে থাকেন, বাবাও ফিরে ফিরে তাকান আর স্পিলম্যানকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তাদের আর দেখা হয় না। এর ঠিক পরের দৃশ্যে, চলচ্চিত্রের ৫২ মিনিটে স্পিলম্যানকে যুদ্ধ-বিধস্ত, জনশূন্য সেই শহরের রাস্তায় ধ্বংসস্তুপের মধ্য দিয়ে একা হাঁটতে দেখা যায়। হাঁটতে হাঁটতে একসময় তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কাঁদতে কাঁদতেই এগোতে থাকেন সামনের দিকে। তার এ কান্না যেনো জীবনের পথে শত আঘাত সহ্য করেও সামনে এগোনোর বার্তা দিয়ে যায় নীরবে।


তবে এ দৃশ্যে স্পিলম্যান যতোটা সাহস করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হয় না। তাইতো জমে থাকা সমস্ত বঞ্চনা, অপমান আর কান্না একসময় ক্ষোভে পরিণত হয়। আর তখন পুরো পৃথিবীটাই যেনো অপেক্ষা করতে থাকে, কবে এ ক্ষোভের আগুন পুড়িয়ে দেবে ব্যক্তির সমস্ত অস্তিত্বকে!


বেঁচে থাকার আড়ালে

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্পিলম্যানের জীবনে একইসঙ্গে নেমে আসে ক্ষুধা আর নিঃসঙ্গতা। তিনি শেষবার তার পরিবারের সঙ্গে যে খাবারটি ভাগ করে খেয়েছিলেন তা ছিলো একটি ছোট্ট ট্রফি (চকলেট), যার পাঁচ ভাগের এক ভাগের অংশীদার ছিলেন স্পিলম্যান। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর জার্মান সেনারা তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে স্পিলম্যানকে মজুরের কাজ করতে হয়। হাড় ভাঙা সেই খাটুনি সহ্য করতে না পেরে, গোপনে তার পরিচিত এক খ্রিস্টান দম্পতির কাছে সাহায্য চেয়ে তিনি চিঠি পাঠান। ক্যাম্প থেকে শহরে খাদ্যসামগ্রী আনতে যাওয়া এক ইহুদি মজুরের মাধ্যমে চিঠির উত্তরও মেলে। চিঠিতে সেই দম্পতি স্পিলম্যানকে সাহায্য করতে রাজি হলে, সুযোগ বুঝে স্পিলম্যান ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। তারপরেই শুরু হয় তার পলাতক জীবন।


ক্যাম্প থেকে পালিয়ে শুরুতে স্পিলম্যান সেই দম্পতির অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। সেখানে গোপন একটি কক্ষে তাকে থাকতে দেওয়া হয়। পরেরদিন সকালে স্পিলম্যানকে পাঠানো হয় সেখানকার এক বস্তিতে। বস্তির পাশেই একটি বাড়িতে খ্রিস্টান ছদ্মবেশে তিনি থাকতে শুরু করেন। প্রায়ই সেই দম্পতির একজন এসে তাকে বাজার করে দিয়ে যেতো। শেষদিন লোকটি বাজার দিতে এসে স্পিলম্যানকে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, ‘পর্দার এপাশে কতো শান্তি অনুভূত হয় তাই না?’ উত্তরে স্পিলম্যান বলেন, ‘কিন্তু মাঝে মাঝে আমি ভুলে যাই, পর্দার কোনপাশে দাঁড়িয়ে আছি!' স্পিলম্যানের এ সংলাপে বোঝা যায়, তিনি ক্যাম্প থেকে পালিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু পালাতে পারেননি অশান্তি আর একাকিত্ব থেকে। তিনি ফিরতে পারেননি তার নিশ্চিত সেই জীবনে।


এরপর স্পিলম্যানের জীবন কাটতে থাকে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তা আর একাকিত্বের মধ্যে। একসময় জমানো খাবার শেষ হয়ে গেলে তিনি হন্যে হয়ে রান্নাঘরে খাবার খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় প্লেট ভাঙার আওয়াজে এক প্রতিবেশী নারী দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খুলে দিলে কথায় কথায় সেই নারী আবিষ্কার করেন স্পিলম্যান খ্রিস্টান নন, বরং ইহুদি। এরপর তিনি স্পিলম্যানকে জার্মানদের হাতে তুলে দিতে চাইলে, সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান। অবশ্য তাকে নতুন ঠিকানার হদিসও দিয়েছিলো সেই খ্রিস্টান দম্পতিই।


এর ঠিক পরের দৃশ্যে কলিংবেল বাজাতেই ওপাশ থেকে যে নারী দরজা খুলে দেন তিনি স্পিলম্যানের সেই প্রাক্তন প্রেমিকা। পরে তিনি জানান, গত এক বছর যোগাযোগ না করায় তিনি ধরে নিয়েছিলেন স্পিলম্যান বেঁচে নেই। এ কারণে তিনি বিয়ে করেছেন এবং কিছুদিনের মধ্যে মা হতে চলেছেন। এবারও স্পিলম্যান ছোট্ট একটি দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে সব মেনে নেন। এর কিছুদিন পর স্পিলম্যানের প্রাক্তন প্রেমিকা ও তার স্বামী সেখান থেকে চলে যায়। আবারও স্পিলম্যানকে বরণ করতে হয় সেই ক্ষুধা আর ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা! একসময় স্পিলম্যানের নিঃসঙ্গতা, অসুস্থতা, অশান্তি সবই সয়ে গিয়েছিলো, বিপরীত বেড়ে চলছিলো কেবল ক্ষুধা। শুরুতে তার প্রাক্তন মাঝে মাঝে খাবার নিয়ে আসলেও সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে তাকে অন্যত্র যেতে হয়। এরপর স্পিলম্যানের খাবারের দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়, তিনি কয়েক সপ্তাহ পরপর এসে অল্প কিছু খাবার দিয়ে চলে যেতেন, যা ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এতে করে স্পিলম্যানকে বেশিরভাগ সময় না খেয়েই কাটাতে হতো।


একরকম অনাহারে প্রায় দুই সপ্তাহ কাটানোর পরে লোকটি আবার কিছু খাবার নিয়ে আসেন। এবার স্পিলম্যান দেরির কারণ জিজ্ঞেস করতেই লোকটি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘কিছু সমস্যা হচ্ছে। টাকা। খাবার আনতে গেলে টাকার প্রয়োজন। আমার বিক্রি করার মতো কিছু জিনিস প্রয়োজন।' সঙ্গে সঙ্গে স্পিলম্যান তার হাতে থাকা ঘড়ি খুলে লোকটির হাতে দিয়ে বলেন, ‘এটা বিক্রি করে দাও। সময়ের চেয়ে খাবার এখন বেশি জরুরি।' অবশেষে একটি যুদ্ধ একজন শিল্পীকে এমন এক ক্ষুধার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করায়, যেখান থেকে কেবল অনুভূত হয়, আসলে যুদ্ধ কেবল মৃত্যুই নয়, বরং দিতে পারে এমন এক জীবন যা মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাময়।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দ্য পিয়ানিস্ট

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ‘ভার্সাই চুক্তি' নামে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিলো, তার মধ্য দিয়ে জার্মানির ওপরে বেশকিছু অনৈতিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, ভার্সাই চুক্তিতে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, সামরিক, অর্থনৈতিকসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জার্মানিকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। যার ফলে জার্মানদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ দানা বাধতে শুরু করে। মূলত জার্মানির চান্সেলর হওয়ার পর নাৎসি পার্টির এডলফ হিটলার এই ক্ষোভকেই কাজে লাগান। একদিকে অ্যালাইস বা মিত্রশক্তি, যেখানে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো দেশ; আর অন্যদিকে এক্সেস বা অক্ষশক্তি যার মধ্যে ছিলো জার্মানি, ইতালি আর জাপানের মতো দেশ। একদিকে ভার্সাই চুক্তির অনৈতিকতা ও জার্মানদের অপমান, ক্ষোভ, ভেঙে পড়া অর্থনীতি, ক্ষুধা, কর্মহীনতা; অন্যদিকে হিটলারের নাৎসি পার্টির দেখানো মিথ্যা স্বপ্নই ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ।


১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর জার্মানরা পরিবর্তনের আশা করেছিলো। তারা ভেবেছিলো এবার বোধহয় অন্ধকারে আলোর দেখা মিলবে। তবে জনসাধারণের এ আশা আশাই থেকে যায়। তারপরও মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দেখতে অনেকেই ইতিহাসে হিটলারের অত্যাচারী মনোভাবের কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছে। তবে দ্য পিয়ানিস্ট-এ সেভাবে তা লক্ষ করা যায় না।


একটিমাত্র দৃশ্য ছাড়া বাদবাকি পুরো চলচ্চিত্রে কেবল অত্যাচারী জার্মান ও নিষ্পেষিত ইহুদিদেরই দেখানো হয়, যা এ চলচ্চিত্রের একটি অন্যতম দুর্বল দিক বলা যায়। চলচ্চিত্রের দুই ঘণ্টা দুই মিনিটে এক জার্মান সেনাকে স্পিলম্যানের অবস্থান করা পরিত্যক্ত এক বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। স্পিলম্যানের গায়ে জার্মান ইউনিফর্ম দেখে তিনি প্রথমে স্পিলম্যানকে জার্মান সেনা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু স্পিলম্যান তার (জার্মান সেনা) কাছে আসল পরিচয় জানান। পাশাপাশি স্পিলম্যান এটাও বলেন যে, তিনি একজন পিয়ানোবাদক। এ কথা শুনে জার্মান সেনা তাকে বিল্ডিংয়ের ভেতর পড়ে থাকা পিয়ানোটি পুনরায় বাজাতে বলেন। এরপর স্পিলম্যান বাজাতে শুরু করলে তার সুর ওই সেনা সদস্যকে মুগ্ধ করে। পাশাপাশি স্পিলম্যানের সততা ও সরলতা ভালো লাগায় প্রায়ই ওই জার্মান সেনা স্পিলম্যানকে খাবার দিয়ে যেতেন। বলা যায়, চলচ্চিত্রের এই একটিমাত্র দৃশ্যই কেবল জার্মানদের প্রতি ইতিবাচক। যেখানে ওই জার্মান সেনা শত্রু হয়েও বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করেন। এছাড়া এ চলচ্চিত্রে জার্মানদের ওপর আক্রমণের স্পষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।


যদিও কেউ কেউ মনে করে থাকে, জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই নিষ্পেষণ আর নির্যাতনের শিকার হওয়া জার্মান যুবকদের প্রতিচ্ছবি হিটলার শৈশব থেকেই চরম ইহুদি বিদ্বেষ নিয়ে বেড়ে ওঠেন। যা পরবর্তী সময়ে পুরো জাতির মধ্যে নৃশংসতা আর ত্রোধের জন্ম দেয়। মূলত জার্মান পরিবারগুলোর দুর্দশা এবং তাদের সম্পদে ইহুদিদের আয়েশ হিটলারকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। যদিও নিষ্পেষিত হওয়ার এ ইতিহাস কোনোভাবেই নিষ্পেষণের অধিকার দিতে পারে না, অথবা কোনো ধরনের নিষ্পেষণকে বৈধতাও দিতে পারে না। তারপরও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ ইতিহাস থেকে বলা যায়, রাজা যায় রাজা আসে, জনগণ চিরকাল প্রজাই থেকে যায়। ফলে কালান্তরে রাজার শাসন ও প্রজার শোষণ উভয়ই বহাল থাকে। এতোকিছুর পরেও সাধারণ মানুষ বার বার স্বপ্ন দেখে।


বর্তমান সময়কে ধরেই চিন্তা করে দেখুন, ঠিক এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে যে যুদ্ধ, যে সংঘাত, যে নির্মম গণহত্যা চলমান; তার পেছনে কি আসলেই এমন কোনো কারণ আছে, যা উল্লিখিত নির্মমতাকে বৈধতা দিতে সক্ষম? যদি এ প্রশ্নের উত্তর ‘না' হয়, তবুও কেনো বছরের পর বছর ধরে চলছে এ নির্মমতা? এ নির্মমতা কতোখানি হতে পারে তার উদাহরণ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা; যেখানে ক্রমাগত গুণতে হচ্ছে লাশের পর লাশ। কেবল ফিলিস্তিনের গাজাই নয়, বিশ্বের আরো অনেক রাষ্ট্র এমন লাশের স্তুপ বয়ে বেড়াচ্ছে দিনের পর দিন। আফ্রিকার সুদান এর মধ্যে অন্যতম। এ দেশটিতে দুই বছরে দেড় লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু, ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। পুরো দেশে তীব্র দুভিক্ষ। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদানে গৃহযুদ্ধের ফলে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট চলছে বলে জাতিসংঘ তথ্য দিচ্ছে। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে দেশটির ক্ষমতায় দুই নেতার টিকে থাকার লড়াইকে কেন্দ্র করে এ দেশের সেনাবাহিনী ও আর এস এফ-এর মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হয়। আড়াই বছর ধরে চলা যুদ্ধের পর এ দেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর হাতে চলে যায়।


শেষ কোথায়!

মানুষ তার স্বপ্নের তাগিদেই বোধহয় কঠিন এ জীবনের সহজ অর্থ খুঁজে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। তারপরও এমন কিছু মুহূর্ত প্রত্যেকের জীবনেই আসে, যখন জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়াটাই কঠিন হয়ে পড়ে। হয়তো শুরুর রেখা পেরিয়ে সমাপ্তির দিকে ছুটতে ইচ্ছা করে। অনেক সময় এ রেখা পেরুতে গিয়েও যেনো পেরুনো হয় না। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষ বোধহয় কেবলই শেষ খুঁজে বেড়ায়। তাইতো শেষপ্রান্তে এসেও নিজেকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, শেষ আসলে কোথায়?


অনেকে আবার এই শেষ দেখার উদ্দেশ্যেই শেষ পর্যন্ত ছুটে যায়। দ্য পিয়ানিস্ট দেখেও মনে হয় এর প্রোটাগনিস্ট স্পিলম্যানও শেষ দেখার উদ্দেশ্যে গল্পের শেষ পর্যন্ত ছুটে যাচ্ছেন। প্যাকেট নিঙড়ে বের করা খাবারের অংশ থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত হাসপাতালে বহুদিনের জমে থাকা পানি সবকিছুই তখন বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া হিসেবে স্পিলম্যানকে গ্রহণ করতে হয়েছিলো। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে কেবল প্রতিদিনের খাবার খোঁজাই তখন তার জীবনের সবচেয়ে বড়ো উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।


সবকিছু ছাপিয়ে চলচ্চিত্রটি চরম হতাশার মধ্যেও যে আশার আলো দেখায়, তা অমূল্য। দ্য পিয়ানিস্ট-এ অসংখ্য হতাশাকে কাটিয়ে একমাত্র আশার নাম হয়ে ওঠে বেঁচে থাকা। কেবল বেঁচে থাকার আশাকে পুঁজি করেই অসংখ্য নিষ্পেষণের জাল ছিন্ন করে পৃথিবী আজ বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপরও বর্তমানে দাঁড়িয়ে মানচিত্রে চোখ রাখলে মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনের গাজা অথবা ইউরোপের ইউক্রেন-রাশিয়া, অথবা এশিয়ার ভারত-পাকিস্তান কিংবা সর্বশেষ দক্ষিণ সুদান আরো একবার মনে করিয়ে দেয় নিষ্পেষণের এ বেড়াজাল ছিন্ন হয়নি। যুদ্ধের দামামা এখনো বেজে চলেছে, দ্বার এখনো বন্ধ, নিষ্পেষণ এখনো চলমান।


তারপরও আশার কথা এটাই যে, চরম নিষ্পেষিতরাই এক এক করে জেগে উঠে বন্ধ দুয়ারে কড়া নেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। নিষ্পেষণের পরোয়া না করে, মুক্তির আশা বুকে নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটে চলা এই নির্ভীকদের সাধুবাদ জানাই। আরো সাধুবাদ জানাই সমস্ত নিষ্পেষণ, দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা আর মৃত্যুকে যারা প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শেষ থেকে এক নতুন শুরুর দিকে, স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য এখন তাদেরই কাছাকাছি। এখন কেবল সেই আলোর অপেক্ষা!


লেখক : রোকসানা আরশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

rokshanaarshi339@gmail.com



তথ্যসূত্র ও টীকা

১. ‘গাজা নগরে দুর্ভিক্ষ চলছে : জাতিসংঘ সমর্থিত প্রতিবেদন'; প্রথম আলো, ২২ আগস্ট ২০২৫।

২. প্রাগুক্ত; ‘গাজা নগরে দুর্ভিক্ষ চলছে : জাতিসংঘ সমর্থিত প্রতিবেদন'।

৩. ‘সুদানে চলমান সংঘাতের পেছনের কারণ কী?';বিবিসি নিউজ বাংলা; দেখুন : https://youtu.be/RJ5BtRXMeek?si=1XubUQ4pf_vZeXeV; retrieved on: 22.06.2026

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন