সুজন নাজির
প্রকাশিত ২৩ জুন ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
স্বপ্নজাল : মানুষে মানুষে প্রেম, না ধর্মের জয়গান!
সুজন নাজির

ভূমিকা
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্ব তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বের পিছনে ফিরে তাকানোর ফুরসত নেই। অবশ্য প্রযুক্তির এ বাতাস উন্নয়নশীলদের চেয়ে উন্নতদের গায়েই লেগেছে বেশি। প্রযুক্তি ব্যবহারের শীর্ষ বিন্দুতে এসেও ধর্মকে পুঁজি করে একদল ব্যবসা, আধিপত্য ও বাজার দখলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কৌশলে। ধর্মসন্ত্রাসী তকমা যাদের গায়ে এঁটে দেওয়া হচ্ছে, তাদেরই আবার সহযোগিতা করা হচ্ছে গোপনে। এমন রাজনীতি আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভূরিভূরি! জাতীয়ভাবেও পিছিয়ে নেই এ পথের মানুষজনরা। বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে অধিকতর সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। নিজেদের মৌলবাদী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে কখনো চাপ দিয়ে, কখনো কৌশলে। নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে নির্দ্বিধায়! কখনো তাদের দুর্বলতা ঢাকবার জন্য, কখনো আবার সেই ধর্মের দোহাই দিয়েই!
বাঙালি একটি চেতনা, একটি জাতি, একটি আদর্শ! বহুকাল আগ থেকেই বাঙালির ঝোঁক ছিলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের। দিন দিন যদিও তাতে ভাটা পড়েছে। যার প্রভাব শিল্প, সংস্কৃতি, নাটক, চলচ্চিত্রেও পড়ছে। এর কারণ কি ধর্মভীরুরা সক্রিয়! যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর! তারা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী! ভোটের মাঠে সরব! বিষয়গুলো অমীমাংসিত। তবে এ কথা ঠিক, গত এক দশকে ধর্মীয় শক্তির সঙ্গে অন্যান্য দলের নেতারা প্রকাশ-অপ্রকাশ্য বহুবার আঁতাত করেছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে ভালোবাসা নয়, ধর্মের বিজয় দেখিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম! প্রেম-ভালোবাসা কি হিন্দু-মুসলমান বোঝে! প্রেম কি ধর্ম বোঝে! সবার ওপরে তো প্রেম! মানবতা! তাহলে ২০১৮ তে এসে কেনো এমন গল্প বেছে নিলেন নির্মাতা, নাকি বৃহত্তর কোনো রাজনীতি লুকিয়ে আছে তার সিদ্ধান্তের অন্তরালে!
কাহিনি বিন্যাস
স্বপ্নজাল-এ মূলত তিনটি পরিবারের হালহকিকত বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সেলিম। তবে নিতান্তই তিন পরিবারের কাহিনি বললেও ভুল বলা হবে। কারণ গল্পটি এই তিন পরিবারের বাইরেও ডালপালা ছড়িয়েছে। দেখে মনে হয়েছে, মফস্বল শহরের দুজন একাদশ শ্রেণি পড়ুয়া তরুণ-তরুণীর নিরেট প্রেমকাহিনির ওপর ভর করে বৃহত্তর কোনো দর্শন দেখাতে চেয়েছেন নির্মাতা। একই পাড়ার সমবয়সি শুভ্রা-অপু একে অন্যকে পছন্দ করেন। তাদের এ সম্পর্কে প্রধান বাধা ধর্ম! অপু মুসলমান আর শুভ্রা সনাতন ধর্মালম্বী। তাদের প্রেম, পরিবারের মেনে নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নে পরে আসছি।
শুভ্রার বাবা হীরন শাহ্, পেশায় ব্যবসায়ী। আছে ছোটো-বড়ো অনেকগুলো ব্যবসা। যেমন, ইলিশ মাছের আড়ত, তেল মিল, বরফ কল প্রভৃতি। পাশাপাশি প্রায় একই ধরনের ব্যবসা করেন আয়নাল গাজি নামের আরেকজন। হীরনকে খুন করে তার সম্পত্তি দখল করে নেন আয়নাল। কিন্তু শুভ্রার পরিবারকে বলা হয়, হীরন তার (আয়নাল) কাছে সম্পত্তি বিক্রি করে কলকাতায় গিয়ে নতুন বিয়ে করেছেন। একপর্যায়ে ষড়যন্ত্র করে শুভ্রা, তার মা ও ভাইকেও কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে অপুর বাবাও ব্যবসায়ী। কলকাতায় চলে যাওয়ার পরও অপুর সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি হয়নি শুভ্রার। তাদের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হয় চিঠি। এরই মধ্যে অপু কলকাতা যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন একবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেমের টানে তিনি ঠিকই শুভ্রার কাছে চলে যান কলকাতায়।
কলকাতা থেকে শুভ্রাকে নিজেদের বাড়ি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনেন অপু। উদঘাটন করেন হীরন হত্যার রহস্য। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপুর প্রচেষ্টায় শুভ্রার বাবার খুনি আয়নালকে জেলে ঢোকানো হয়। যদিও তার আগে থেকেই প্রকৃতিগত শাস্তি ভোগ করতে থাকেন আয়নাল। হীরনকে হত্যা করানোর পর থেকে আর কোনো কিছুই তিনি খেতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় হীরনের হারানো ভিটেমাটি। তখন অপু ও শুভ্রা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাদের ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম! দুই পরিবারের কেউই চায় না তাদের বিয়ে হোক। শুভ্রার অন্যখানে বিয়ে হয়। শুভ্রাকে না পেয়ে অপু আত্মহত্যা করে।
দৃশ্যায়ন ও চিত্রায়ণ কথা বলে
নির্মাতা সেলিমের প্রথম চলচ্চিত্র মনপুরা (২০০৯)। গ্রামীণ পটভূমিতে প্রেম-বিচ্ছেদের রোমান্টিক কাহিনিনির্ভর মনপুরা দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন সেলিম। বেদের মেয়ে জোস্না’র পর মনপুরা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ব্যবসার প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে। ফলে একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজার মূল্য সেলিমের আগে থেকেই তৈরি ছিলো। এটা যেকোনো দর্শকই মেনে নেবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কালপ্রবাহে বেদের মেয়ে জোস্নার পর আর কোনো চলচ্চিত্র এতোটা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল হয়নি।১
স্বপ্নজাল-এরও কাহিনি বিন্যাস, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা সেলিম নিজেই করেছেন। এই চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের পাশাপাশি কারিগরি ক্ষেত্রেও সাবধান ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা ছিলো নির্মাতার; যা চলচ্চিত্রটি দেখে এককথায় বলা যায়। চলচ্চিত্রে গল্পের গাঁথুনি, কাহিনি বিন্যাস, চিত্রায়ণ, অভিনয়, সংলাপ, শিল্প নির্দেশনা, সময়, স্থান, পোশাক, আলো, শব্দ, আবহসঙ্গীত, সম্পাদনার মধ্যে দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তাল-লয়, ছন্দ, গতি ধরবার চেষ্টা দেখা গেছে শুরু থেকে শেষ অবধি। বরাবরই সেলিম থরে থরে শট্ বা ক্যামেরার সুনির্দিষ্ট ফ্রেম সাজিয়ে গল্প বলতে চান। প্রতি শট্ ব্যবহারে অনেক অর্থ বোঝানোর চেষ্টা থাকে তার। স্বপ্নজাল-এও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
চলচ্চিত্রের শুরুতে ধবধবে সাদা পাখি উড়ার শটটি দর্শককে প্রথমেই ভাবতে বাধ্য করে। কেনো এমন শট্ দেখালেন নির্মাতা, এর ব্যাখা কী? নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। শেষ থেকে শুরু হয় স্বপ্নজাল-এর গল্প। শুভ্রা বিয়ের পর জাহাজ করে চলে যাচ্ছেন--এমন শট্ দিয়ে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর পর নয় মিনিট ৩০ সেকেন্ডে একটি গানের দৃশ্যে কখনো লঙ শটে, মিড ক্লোজ শটে, নদী, কাশফুল, ফাঁকা বালুচরের চিত্রায়ণ আকৃষ্ট করে। গানের সঙ্গে পরিবেশ, অভিনয়, কোরিওগ্রাফি, ক্যামেরার ফ্রেমিং বাধ্য করে চোখের পলক না ফেলতে।
সেলিমের এ চলচ্চিত্রের শক্তিশালী দিক হলো, শুরুর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই গল্পের ক্লাইমেক্সে ঢুকে যাওয়া। দর্শকের চোখ পর্দায় আঠার মতো আটকে যেতে বাধ্য হয়। এর পরে কী হয়! এর পর কী? শেষ পর্যন্ত এই কৌতূহল ও আগ্রহ রেখে প্রেক্ষাগৃহ ছাড়তে বাধ্য হয় দর্শক।২ নির্মাতা যতোদূর সম্ভব এই ভূমির ৯০ দশকের গল্প বলতে চেয়েছেন ক্যামেরার চোখ দিয়ে। আর এই ক্যামেরার চোখে হাত রেখেছেন সিনেমাটোগ্রাফার কামরুল হাসান খসরু। বাংলাদেশের মফস্বল শহর চাঁদপুরের পাশাপাশি ৯০ দশকের ডাকাতিয়া নদী, কলকাতা শহর, চাঁদপুরের অলিগলি দর্শককে চিনিয়েছেন সিনেমাটোগ্রাফার খসরু। আধুনিক এই সময়ে রাস্তাঘাটে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি, যা ৯০ দশকে এমনটি ছিলো না--কি কলকাতা, কি বাংলাদেশে। তার বড়ো ধরনের পরিবর্তন এসেছে সবখানেই।
নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ৯০ দশকের সেই পরিবেশ ক্যামেরায় তুলে এনেছেন খসরু। এখানে নির্মাতা ও সিনেমাটোগ্রাফারের মুন্সিয়ানা টের পাওয়া যায়। স্বপ্নজাল-এর শেষ দিকে দুই ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে অপুর মৃত্যুর পর নদীর পানিতে বিগ ক্লোজ শটে পাখির পালক ভাসতে দেখা যায়। পালকের শট্ দেখে মনে হয়, মানুষের লালায়িত স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে; যে স্বপ্নকে হয়তো বাঁচানো যেতো। দুর্দান্ত অর্থবহ একটি শট্। যার ব্যাখ্যা অবশ্যই নিজের মতো করে দর্শক তাদের পোড় খাওয়া জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে। এছাড়াও অপুর মৃত্যুর পর শুভ্রাকে (দুই ঘণ্টা ১৯ মিনিটি ৪০ সেকেন্ডে) নদীর মধ্যে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। দেখে মনে হয়, শুভ্রা যেনো তার হারানো স্বপ্ন খুঁজছেন! যে স্বপ্নকে এখন আর ধরাও যায় না, ছোঁয়াও যায় না। এ যেনো নিজ স্বপ্নের মৃত্যু চোখের সামনে।
শুভ্রারা বাড়িঘর ছেড়ে একবারে কলকাতায় মাসির বাড়িতে চলে যাবে। তার আগে অপুর সঙ্গে দেখা করেন শুভ্রা। চরজাগা নদী, বিস্তীর্ণ বালুর ভিতর শুভ্রা ও অপু বসে আছেন; লঙ শটে অপূর্ব রোমান্টিক সেই বিচ্ছেদ। মনে হয়, তাদের পাশে এ পৃথিবীতে কেউ নেই। ৩১ মিনিট এক সেকেন্ডে শুভ্রারা লঞ্চযোগে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়। ঘাটে বিদায় জানাতে আসেন অপু। ক্লোজ থেকে লঙ শটে, লঞ্চ ধীরে ধীরে অপু ও শুভ্রার দূরত্ব তৈরি করে। এমন দৃশ্য গভীর ব্যঞ্জনা তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এ ধরনের অর্থবহ আরো শট্ রয়েছে স্বপ্নজাল-এ। ৩৫ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে লঙ শটে সরাসরি না দেখিয়ে হীরনকে হত্যা করে আয়নাল গাজীর আজ্ঞাবহ ঠাণ্ডু। দর্শকের বিন্দুমাত্রও অবিশ্বাস হয় না, হীরনের হত্যা নিয়ে! হিন্দু মরা চিতা পায়নি--এমন দহনে ভুগতে থাকেন আয়নাল। শেষ পর্যন্ত হীরনের লাশ চিতায় তোলেন আয়নাল; আগুন জ্বালিয়ে ফিরে আসে আয়নাল, ঠাণ্ডু ও তার স্ত্রী। ফাঁকা চিতায় আগুন জ্বলার দৃশ্য এক ঘণ্টা ১২ মিনিট সাত সেকেন্ডে দর্শক মনে এক ভয়াবহ হাহাকার তৈরি করতে সক্ষম হয়। এছাড়া চলচ্চিত্রের অন্তিম দৃশ্যে শুভ্রার শাড়ির আঁচল পাখির পালকের মতো পানিতে ভাসার ক্লোজ শট্ আরেকবার আবদ্ধ করে স্বপ্ন ও মৃত স্বপ্নকে। পানিতে ভাসা ধবধবে সাদা আঁচলের শট্ দর্শকের বোধে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। মানুষের ছিনতাই হয়ে যাওয়া, মরে যাওয়া বা ভাসমান স্বপ্নগুলো মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের অসংখ্য দৃশ্য ক্যামেরার চোখ দিয়ে নিপুণ হাতে ফ্রেমে বন্দি করেছেন নির্মাতা।
এ সময়ে চোখে না পড়া অভিনয়
সেলিম বরাবরই অভিনয়শিল্পী নির্বাচনে প্রবীণদের পাশাপাশি নবীনদের জায়গা করে দেন। এটা নিশ্চয় নিরীক্ষাও বটে। নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থা, এ ধরনের নিরীক্ষায় সাহায্য করে। মনপুরাতে ফারহানা মিলিকে নিরীক্ষা করে নির্বাচন করেছিলেন এই নির্মাতা। স্বপ্নজাল-এও নবাগত ইয়াশ রোহানকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিরীক্ষায় শতভাগ না হলেও, খারাপ দৃষ্টান্ত সেলিম স্থাপন করেননি। এছাড়া স্বপ্নজাল-এ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে দেশের ডাকসাইটে থাকা সব অভিনয়শিল্পী। খলচরিত্র আয়নাল গাজীর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, শুভ্রা চরিত্রে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী পরীমনি, অপুর বাবার চরিত্রে শহিদুল আলম সাচ্চু, শুভ্রার বাবার চরিত্রে মিশা সওদাগর, ঠাণ্ডু চরিত্রে ইরেশ যাকের, আনোয়ার উকিল চরিত্রে শাহেদ আলী সুজন, শাহানা সুমী, শিল্পী সরকার অপু, ফারহানা মিঠু, আহসানুল হক মিনু। এছাড়াও কলকাতার নাটকপাড়া ও চলচ্চিত্রের পাত্র-পাত্রীরাও অভিনয় করেছে স্বপ্নজাল-এ।
ইয়াশ রোহান নবাগত হলেও চলচ্চিত্রজুড়ে সাবলীল অভিনয়ের চেষ্টা ছিলো তার মধ্যে। তবে রোমান্টিক বা গানের দৃশ্যে তার কাছে আরেকটু প্রাণবন্ততা আশা করাই যায়। শুভ্রার খোঁজে কলকাতা রওনা দেন অপু। প্রথমবার কলকাতায় না গিয়ে তিনি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় চলে যান। ওখানে দুষ্ট লোকদের খপ্পরে পড়ে পায়ে গুলি লাগে অপুর। আহত অবস্থায় এক বাড়ির সামনে সাহায্যের জন্য আহাজারি করতে দেখা যায় তাকে। এই দৃশ্যে (৫৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে) পুরোপুরি না হলে খানিকটা বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব ছিলো ইয়াশের মধ্যে। এছাড়া শুভ্রাদের বাড়িতে ঠাণ্ডুর বউ জুলেখার সঙ্গে দেখা করতে আসার একপর্যায়ে ইরেশ যাকেরের সঙ্গে ইয়াশের ধস্তাধস্তি হয়। এমন দৃশ্যে ইয়াশকে খানিকটা নবীন অভিনয়শিল্পীই মনে হচ্ছিলো ইরেশ যাকেরের দারুণ অভিনয়ের কাছে। তবে প্রথম চলচ্চিত্র স্বপ্নজাল-এ ত্রুটির চেয়ে সফলতার পাল্লা ভারী ইয়াশের।
সাধারণত বাণিজ্য প্রাধান্যশীল চলচ্চিত্রেই অভ্যস্ত জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী পরীমনি। গল্পনির্ভর, রোমান্টিক, ট্র্যাজিক ধারার চলচ্চিত্রে কেমন অভিনয় করবেন পরীমনি--এমন ভাবনা হয়তো ছিলো দর্শকের মনে ও চিন্তায়। অথচ চরিত্রের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানানসই অভিনয় করে নিজের অবস্থানের জানান দিয়েছেন এই অভিনয়শিল্পী। এখানে অন্য এক পরীমনিকে আবিষ্কার করে দর্শক। তবে স্বীকৃতিটা নির্মাতা সেলিমকে না দিলে, তার প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ অভিনয়শিল্পী নির্বাচন ও অভিনয় করিয়ে নেওয়া তো নির্মাতারই কাজ। চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ১৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে কলকাতার পেশাদার থিয়েটার মিনার্ভা’তে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটকের মহড়ার সময় নন্দিনী চরিত্রের অভিনয়ের জন্য নাট্য-পরিচালকের কাছে প্রসংশা কুড়াচ্ছেন শুভ্রা বা পরীমনি। সেখানে কিছুটা হলেও ঘাটতি লক্ষ করা যায় পরীমনির অভিনয়ে। যদিও কলকাতায় শুভ্রার স্বাবলম্বী হওয়াটা খুব তাড়াহুড়ো করেই দেখানো হয়েছে। এতো তাড়াতাড়ি অচেনা জায়গায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো ব্যাপারটা চিত্রনাট্যের দুর্বলতাই প্রকাশ করে।
সাম্প্রতিক ঢাকাই চলচ্চিত্রে মিশা সওদাগর খলনায়ক চরিত্রে বেশ জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। স্বপ্নজাল-এ তার উপস্থিতি খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার ফুরসত খুব কম দর্শকই পেয়েছে। এই চরিত্রের মাধ্যমে একঘেয়েমি খলচরিত্রের বাইরে গিয়ে যে মিশাকে ব্যবহার করা যায়, তার প্রমাণ দিয়েছেন সেলিম। অপুর বাবার চরিত্রে সাচ্চু অভিনয় করেছেন রহমান নামে। সামাজিক মর্যাদা, সম্মানবোধ মাথায় রেখে চরিত্রানুযায়ী সাচ্চু ভালো অভিব্যক্তি দিয়েছেন। দুই ঘণ্টা ১৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে অপু যখন নদীতে ঝাঁপ দেন, তখন সন্তানের জন্য শতভাগ হাহাকার তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তিনি। চিৎকার করে লঞ্চের সবাইকে ডাক দিয়ে তিনি বলতে থাকেন, ‘ভাই কে আছে ...’। এই দৃশ্য দর্শকের বুকে আঁচড় কাটে। স্বপ্নজাল-এ ঠাণ্ডু চরিত্র ইরেশের সঙ্গে বেশ মানিয়েছে বলতে হয়। তার শরীরী ভাষা, অভিব্যক্তি, চরিত্রায়ণ, মেক আপ-গেট আপ দেখে কোথাও কমতি মনে হয়নি। শুভ্রাদের বাড়িতে ধস্তাধস্তির সময় অপুর গলা টিপে ধরেন ঠাণ্ডু; ওই দৃশ্যে তার মুখের দুর্দান্ত অভিব্যক্তি ক্লোজ শটে ধরা পড়ে। আয়নালের সঙ্গে মদ খাওয়ার দৃশ্যগুলোতে তার অভিনয় বাড়াবাড়ি মনে হলেও খারাপ লাগেনি।
সাধারণত ইতিবাচক চরিত্রেই ফজলুর রহমান বাবুকে দেখে অভ্যস্ত দর্শক। ফলে আয়নাল চরিত্রটি খানিকটা চ্যালেঞ্জই ছিলো বাবুর জন্য। তবে সেই চ্যালেঞ্জে নির্মাতা, বাবু দুজনই উতরে গেছেন। চলচ্চিত্রে দ্ব্যর্থহীনভাবে কুকর্ম করেন আয়নাল। পরে অবশ্য এজন্য তিনি অনুশোচনায় ভোগেন। অভিনয় দেখে মনে হয়, যেনো তার শুকনো হৃদয়--মায়া, মমতা নেই! কিন্তু একই অভিনয়শিল্পী যখন অন্যায় করে দ্বিধাহীনভাবে আবার সেই অন্যায়ের অনুশোচনা করে, পাপবোধে ভোগে--এমন দ্বৈত চরিত্র তুলে ধরা বেশ কঠিন। স্বপ্নজাল-এ এই কঠিন কাজই বাবু দক্ষতার সঙ্গে করেছেন। এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে পুলিশ যখন আয়নালকে ধরে নিয়ে যায়, তখন তার ‘ভি’ চিহ্ন দেখানো দর্শকের চোখে লেগে থাকে। এই চিহ্ন দেখে বর্তমানের অসৎ নেতাদের ছবি ভেসে ওঠে মানসপটে। তাছাড়া অপুকে দেখা মাত্রই আয়নাল বলে উঠতেন, ‘অপু, আব্বায় কই?’ এই সংলাপটি একেক সময় একেক রকমভাবে প্রক্ষেপণ করেছেন তিনি। প্রত্যেকটির আলাদা রস টের পাওয়া যায়।
এছাড়াও আয়নাল চরিত্রটি অনেক রাজনৈতিক অর্থ প্রকাশের চেষ্টা করেছে; নির্মাতা এখানে অনেক ক্ষেত্রেই নিরীক্ষার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয়েছে। বাবু ছাড়াও শাহানা সুমী, শিল্পী সরকার অপু, ফারহানা মিঠুসহ প্রায় সবার অভিনয় ভালো হয়েছে। তবে আইনজীবী চরিত্রে শাহেদ আলী সুজনের অভিনয়ে ঘাটতি চোখে পড়েছে। অনেক দৃশ্যেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে চাটুল্যের অভিব্যক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ফলে চরিত্রটি গল্পের গাঁথুনিতেও কিছু সমস্যা তৈরি করেছে।
চলচ্চিত্রে কলকাতার কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও কাজ করেছে। তাদের মধ্যে স্বাভাবিক অভিনয় করবার চেষ্টা ছিলো। কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয়শিল্পীরা অনেক সময় ন্যাকামি সুরে সংলাপ প্রক্ষেপণ করে থাকে। কিন্তু এই চলচ্চিত্রে তাদের স্বাভাবিকভাবে চলিত ভাষা বা উটকো সুরবিহীন সংলাপে কথা বলার চেষ্টা ছিলো। নির্মাতা সেলিমের অভিনয় নন্দনজগৎই এমনটা ঘটতে সহযোগিতা করেছে হয়তো। যদিও অভিনয়ে শতভাগ সফল বলে কোনো কথা নেই। তবে স্বপ্নজাল-এর অভিনয় দর্শক সানন্দে গ্রহণ করেছে।
সংলাপ, শিল্প নির্দেশনা, পোশাক ও শব্দ
স্বপ্নজাল-এ স্বতন্ত্র গল্প বলার ধরন আয়ত্ত করেছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। শুধু গল্প দিয়ে যে দর্শককে ধরে রাখা যায়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন মনপুরাতে অনেক আগেই। তার গল্পের গাঁথুনি, উত্থান-পতন, ক্লাইমেক্স পর্দায় চোখ রাখতে বাধ্য করে দর্শককে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র দুটি দেখে--এটা হলো কেনো, এমনভাবে শেষ করা কি ঠিক হলো, নায়ক/নায়িকাকে মেরে না ফেললে কী হতো!--নানা প্রশ্নের তীর ছুড়ে দর্শক। এটাই হয়তো সেলিমের মুন্সিয়ানা বা শৈলী।
সংলাপ চলচ্চিত্রের প্রাণ। আবার গল্প ও সংলাপের বন্ধুত্ব ছাড়া ঠিক রসায়নটা সৃষ্টি হয় না। স্বপ্নজাল-এর সংলাপে নির্মাতার নিজস্ব দর্শন, চিন্তা ও চাহিদা প্রকাশ পেয়েছে। নির্মাতা সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এর বাঁকে বাঁকে। থিয়েটার, ছড়া, সংবাদপত্র, চিঠি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিলো চলচ্চিত্রটিতে। ২৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে শুভ্রা কলকাতায় যাওয়ার আগে ছড়া কেটে অপুকে বলেন,
মনটাকে আমার বসতে দিও
মুড়ি মুড়কি খেতে দিও।
জলের গ্লাস দেওয়ার ছলে
একটু শুধু ছুঁয়ে দিও।
ছড়া আকারে শুভ্রার সংলাপ প্রক্ষেপণ হলেও এর ব্যঞ্জনা অনেক বৃহৎ। চরিত্রের মনোজগতের টানাপড়েন, ঈর্ষা, ক্ষমতা, লোভ, প্রেম যা কিছু নিয়ে চলচ্চিত্রের নির্যাস তৈরি হয়, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংলাপ রচনাকে যথাযথ মনে হয়েছে।৩ ভালোবাসা পাওয়া না পাওয়ার মধ্যখানে বসে সংলাপগুলো দিয়ে নির্মাতা নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এবং স্বপ্নজালকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আবদ্ধ করবার চেষ্টা করেছেন কিছুটা হলেও। চলচ্চিত্রজুড়ে দুর্দান্ত সব সংলাপে ভরপুর ছিলো, যা ক্ষণে ক্ষণে দর্শককে যেমন আনন্দ দিয়েছে, আবার করুণ রসের প্রকাশ ঘটিয়েছে। কিছু সংলাপ সমাজের বোধেও ধাক্কা দিয়েছে, যা নিয়ে দর্শক ভাবতে বাধ্য হয়েছে। ঠাণ্ডুর বউ জুলেখা চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ১৪ মিনিটি ৪০ সেকেন্ডে তার স্বামী সম্পর্কে অপুকে বলেন, ‘সে তো একটা ঢোঁড়া সাপ।’ এ দিয়ে সমাজের মাথামোটা নির্বোধদের চেনা যায় সহজেই।
আয়নালের সংলাপের গাঁথুনি ও প্রক্ষেপণ শৈলী দর্শককে যেমন হাসিয়েছে, তেমনই ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশও ছিলো। সমাজের গোঁড়ামি, অন্ধত্ব, একগুয়েমির প্রকাশ ছিলো তার নানা সংলাপে। শুভ্রার মুখে প্রতিবাদী সংলাপ ছিলো অনেক বেশি--‘কীসের সমাজ, সমাজ কি আমাদের বিপদে এগিয়ে এসেছিলো!’ দুই ঘণ্টা ২১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে শুভ্রা বলেন, ‘ভালোবাসা মনে নাকি?’ এ দিয়ে ভালোবাসাকে অনেক বড়ো করে দেখানো হয়। অপু এক সময় বলেন, ‘খুনের অভিনয় করার জন্য খুন করে অভিজ্ঞতা নিতে হবে?’ কী শক্তিশালী সংলাপ! এর অর্থ, ব্যাখ্যা, দর্শন দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।
এছাড়া সেলিম খুব মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নাটক ‘রক্তকরবী’র সংলাপের সঙ্গে স্বপ্নজাল-এর সংলাপ ও পাত্র-পাত্রীদের সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। শুভ্রাকে ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী আর অপুকে রঞ্জন-এর চরিত্রের সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে তুলনা ও উপস্থাপন ছিলো। তবে এ তুলনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়াই যায়। নন্দিনী মঞ্চে বলেন, ‘আমার রঞ্জন আজ আসবে’। পক্ষান্তরে অপু কলকাতায় শুভ্রার উদ্দেশে রওনা দেন। যদিও সাহিত্য, চলচ্চিত্র আলাদা মাধ্যম। তারপরও সংলাপ দিয়ে এ দুটির সংযোগ ঘটানো পারদর্শিতা বটে। তবে কিছুটা অসঙ্গতিও চোখে পড়েছে। অপু ও শুভ্রার সংলাপে অনেক জায়গা অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা জুড়ে দিয়েছেন নির্মাতা। যা শুধু সময় অতিক্রম করানো ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি। অপুর বাবা শুভ্রার মাকে বৌদি বলে সম্মোধন করেন, কিন্তু অপু বলেন মাসি! অপুর বলার কথা কাকিমা বা চাচি। এছাড়া ডাকাতিয়া পাড়ের চাঁদপুরের গল্প তুলে ধরেছেন নির্মাতা, কিন্তু তেমন কাউকে দিয়েও এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা প্রক্ষেপণ করাননি। হয়তো তিনি সচেতনভাবে এমনটি করিয়েছেন। তবে সংলাপ নির্মাণে ব্যর্থতার তুলনায় সফলতার ধাপই বেশি।
চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পাঠ বটে। অনেক ভালো গল্প-অভিনয় মার খেতে পারে দুর্বল দৃশ্যধারণ ও শিল্প নির্দেশনার গুণে। প্রত্যকটি শট্ সুন্দর বা দৃষ্টিনন্দন হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিল্প নির্দেশনা। যথাযথ শিল্প নির্দেশনা ভালো ফ্রেম তৈরিতে সাহায্য করে। ভালো ফ্রেম, ভালো শটে রূপান্তরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মানসম্মত চলচ্চিত্রে রূপ নেয়। স্বপজাল-এ প্রতিটি সেট, দৃশ্য নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছে। এই ব্যস্ত সময়ে এসে ৯০ দশককে তুলে ধরা খুবই কঠিন কাজ বটে! যার ষোলো আনা না হলেও অনেকটা সফল এর শিল্পনির্দেশক। নদী, মফস্বল শহর, জাহাজঘাট, ঘরবাড়ি, রাস্তা, মাছের আড়ৎ, তৎকালীন দৈনিক পত্রিকা, মোটরবাইক, দেয়ালে কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের পোস্টার, ক্রিকেটারদের ছবি, খেলার সামগ্রী, টেলিফোন, কলকাতার রাস্তাঘাট, বাড়ি, ট্রাম, মানুষে টানা রিকশাসহ সবকিছুতে একটা সময়কে ধরার চেষ্টা ছিলো শিল্পনির্দেশকের। তবে কিছু ত্রুটি চোখে ধরার মতো। আয়নাল ও ঠাণ্ডুর বাংলা মদ খাওয়ার দৃশ্যে বোঝা যায়, নতুন বাঁশ দিয়ে সেট নির্মাণ করা হয়েছে। যা, যে কারো চোখে লাগে।
চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ২৯ মিনিটি ১৫ সেকেন্ডে কলকাতায় শুভ্রার বিয়ার খাওয়া শেষে টেবিলের উপর চারটি বোতল দেখা যায়। শুভ্রা তো মদ খেয়েছেন সামান্য, কিন্তু এতো বোতল কেনো! কলকাতা থেকে শুভ্রার পরিবার দেশে ফেরত আসার পর ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার দৃশ্য দেখে মনে হয় মাটিগুলো গুছিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। আয়নাল সাহেব, হীরন আড়তে ঢোকার সময় লঙ শটে ১৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বাড়িঘরগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র (এ সি) লাগানো দেখা যায়। ৯০ দশকে চাঁদপুরের মতো মফস্বল শহরে এ সি থাকাটা কতোটা যৌক্তিক? চলচ্চিত্রটিতে ভুল-ত্রুটি সমানতালে চর্চা হলেও দৃশ্যায়ন আগাগোড়াই ভালো হয়েছে।
শব্দ নিয়ন্ত্রণেও অনেক ক্ষেত্রে অনেক ভালো করেছে স্বপ্নজাল। তবে কিছু জায়গায় অতিরঞ্জিত প্রয়োগ ছিলো। এসব ক্ষেত্রে নির্মাতার আরো সর্তক থাকা দরকার ছিলো। চলচ্চিত্রে অনেক জায়গায় আয়নালের বমি ও মল ত্যাগের শব্দের উচ্চ ব্যবহার ছিলো। যা ভালো লাগেনি।৪
আবহসঙ্গীত, মেক আপ, আলো ও সম্পাদনা
স্বপ্নজাল-এ সরাসরি সঙ্গীতের ব্যবহার ছিলো খুব কম। অবশ্য নির্মাতা সেলিম আগেই বলে নিয়েছিলেন, তার এই চলচ্চিত্র সঙ্গীতনির্ভর নয়। গল্পের প্রয়োজনে, প্রদেয় পরিস্থিতির চাহিদানুযায়ী নির্মাতা সঙ্গীতের খানিক ব্যবহার করেছেন। তবে তার আগের চলচ্চিত্র মনপুরার গানই দর্শক নিয়েছিলো সানন্দে। মুক্তির আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো সেই গানগুলো। তবে স্বপ্নজাল-এ সঙ্গীত ব্যবহারের কমতি আছে বলতে হয়। তারপরও গানের ব্যবহার আছে। ছয় মিনিট ৫০ সেকেন্ডে রোমান্টিক কথায় ও ভালো দৃশ্যায়নে দারুণ এক মুহূর্ত তৈরি হয়--
এমন করে বলছিটা তুই বলে
একলা পেলে একটুখানি ছুঁই বলে।
সেই কথা কী অন্য লোকে সব জানে?
জানলে কী হয় রঙ মেখেছি সজ্ঞানে
এছাড়াও চলচ্চিত্রের দুই ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে অপুর মৃত্যুর পর শুভ্রার নদীর পানি বেয়ে ছোটাছুটির দৃশ্য, দর্শকের চোখ, মন ও শিল্পমানসকে সক্রিয় করে। দৃশ্যায়নের সঙ্গে গানের কথা বেশ প্রাসঙ্গিক। গান ও দৃশ্যায়ন দেখে দর্শক ঠিক এই মুহূর্তে শুভ্রা ও অপু হয়ে ওঠার খানিকটা সুযোগ পায়।
আমারে ভাসতে দিও একলা আকাশে
রাইখো বন্ধু আমায় তোমার বুকেরও পাশে।
সুখের আগুন নিভা গেলে বুকের হুতাশে
এই নাও কই যাও, বাও বইঠা বাও,
আমারে পাও, না বা পাও।
এছাড়া চলচ্চিত্রজুড়ে আবহসঙ্গীতের যুক্তিযুক্ত ব্যবহার দেখা যায়। দৃশ্যায়নের সঙ্গে যথাযথ আবহসঙ্গীতের ব্যবহার প্রাসঙ্গিকতার মাত্রাকে যুতসই করেছে। শুভ্রাদের কলকাতায় চলে যাওয়ার দৃশ্যে ৩১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বাঁশি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সঙ্গীতযোগ দর্শকের হৃদয়ে হাহাকার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। শুভ্রার বৃষ্টিতে ভেজার সময় এক ঘণ্টা দুই মিনিট ২০ সেকেন্ডে নাচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঙ্গীতের কম্পোজিশন ব্যবহারের জন্য নির্মাতা ও সঙ্গীত পরিচালক অবশ্যই বাহবা পাবেন। এছাড়া গল্পের প্রয়োজনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার চলচ্চিত্রটিকে শিল্পের মানদণ্ডে উঁচুস্তরে নিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে সঙ্গীত ব্যবহারে একটা পরিমিতিবোধ ছিলো নির্মাতার।
অভিনয় নিয়ে আগেই কথা হয়েছে। অভিনয়কে বাস্তবসম্মত করার জন্য যে মেক আপ বা বেশভূষা, সেখানে আড়ম্বর কিছু চোখে পড়েনি। নায়ক-নায়িকা অনেক জায়গায় কোনো মেক আপ ছাড়াই অভিনয় করেছেন বলে মনে হয়েছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য হালকা ফাউন্ডেশন মেক আপ সবারই প্রয়োজন পড়ে। সেটুকু ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই মেক আপ এর বাড়াবাড়ি ছিলো না বললেই চলে। তবে প্রত্যক অভিনয়শিল্পীই মেক আপ এর নির্ভরতা কমিয়ে গেট আপ এ গুরুত্ব বেশি দিয়েছে।
পোশাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিরীক্ষা চালিয়েছেন সেলিম। খুব সাদামাটা, অনাড়ম্বর পোশাকেই ফ্রেমে ফ্রেমে গল্প বলেছেন সেলিম। আয়নাল, রহমান ও হীরন খুব কাছাকাছি বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে সামাজিকভাবেও তারা মোটামুটি একই মর্যাদার মানুষ। পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রেও এ মূল্যায়ন প্রায় কাছাকাছিই ছিলো। শুভ্রা ও অপুর পোশাকেও চেষ্টা ছিলো নির্দিষ্ট বয়স ধরার। তবে ৯০ দশকের সময়কে প্রতিনিধিত্ব করা এই চলচ্চিত্রে অপুর গোল গলা টি-শার্টের উপর বোতাম খোলা শার্ট আর মোবাইল পকেটের প্যান্ট কতোটুকু মানানসই সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। অপুর পোশাক নির্বাচনে আরেকটু সর্তক থাকার দরকার ছিলো মনে হয়।
প্রাসঙ্গিক আলোর ব্যবহার যেকোনো চলচ্চিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সহায়তা করে। স্বপ্নজাল-এ আলোর প্রাসঙ্গিক ব্যবহার করে ধারাবাহিক গল্প বলার চেষ্টা আছে। রাতের দৃশ্যে মফস্বল শহরের আলো, নদীতে লঞ্চ চলাচল, জানালা দিয়ে বাইরে আলো ছড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্যগুলো দেখার মতো ছিলো। ৩১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে শুভ্রা লঞ্চযোগে কলকাতায় যাচ্ছেন। ঘাটে দাঁড়িয়ে অপু। লঞ্চের হেড লাইটের আলো পড়ে অপুর গায়ে। এমন বাস্তবধর্মী আলোর প্রক্ষেপণে ওই মুহূর্তে মনে হয়, অপুর স্বপ্ন যেনো ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে অন্যপাশে। আগরতলায় যাওয়ার পথে রাতে কাঁটাতারের বেড়া পার হন অপু, সেখানে গুলি লাগার পর ছোটাছুটি দৃশ্যে আলোর যথাযথ প্রয়োগের কারণে লোমহর্ষক হয়ে ওঠে।
স্বপ্নজাল সম্পাদনা করেছেন জুয়েল। চলচ্চিত্রটি শেষ থেকে শুরু হয়েছে। সম্পাদনায় ত্রুটি তেমনটি চোখে না পড়লেও শুভ্রার কলকাতায় যাওয়ার পর অপু ও শুভ্রা দুজনই চিঠির জন্য অপেক্ষা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করেছে। এই শটগুলো এবং সম্পাদনার দুর্বলতা চোখে লাগে।
কেনো এই গল্প
একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবী যখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখন কেনো এমন গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেন সেলিম। এর প্রশ্ন বার বার আঘাত করেছে মননে ও মগজে। ধর্মকে জয়ী করে বা ধর্মকে ইস্যু করে রোমান্টিক, বিয়োগাত্মকভাবে তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প মৃত্যু দিয়ে শেষ করা হয়েছে স্বপ্নজাল-এ। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে কেনো এমন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়! কী ছিলো এর উদ্দেশ্য? শুধুই সাদামাটা প্রেম, নাকি নির্মাতার কোনো রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন এই চলচ্চিত্র! তবে এই আলোচনার ধরন চলচ্চিত্র বহির্ভূত কোনো বিষয় নিয়ে নয়। স্বপ্নজাল-এর বিষয়বস্তুতেই ছিলো--রোমান্টিক অপরিণত প্রেম, হিন্দু-মুসলমান বিভেদ, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি, কুকর্মের জন্য অনুশোচনা, ভূমি দখল, অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, শেষ পর্যন্ত ধর্মের জয়, মুসলমান ও হিন্দু পরিবার মানসিকভাবে উদার হলেও ধর্মের বিষয়ে রক্ষণশীল, হিন্দুদের আসল ভূমি ভারত, গুরুদেবের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য দেওয়া, ধর্মের কাছে মানবতা বা প্রেমের পরাজয়। স্বপ্নজাল বিশ্লেষণ করলে এমন অনুষঙ্গ বেরিয়ে আসে। এখন প্রশ্ন এই প্রেমকাহিনিতে কেনো ধর্মের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু আবদ্ধ করলেন নির্মাতা?
ক. প্রেম নাকি ধর্মের জয়
স্বপ্নজাল নামটি বিশ্লেষণ করলেই এর অর্থ কিছুটা বোঝা যায়। প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন দেখে বা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। কারো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়, কারোটা নেয় না। এমন পাওয়া না পাওয়ার মধ্যে মানুষের জীবনচক্র ঘুরপাক খায়। প্রকৃত স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু এই চলচ্চিত্রের গল্পানুসারে মানুষের স্বপ্ন আবদ্ধ হয়ে আছে; জালে আটকে আছে। তাই হয়তো চলচ্চিত্রটির নামকরণ করা হয়েছে স্বপ্নজাল। কিন্তু পুরো চলচ্চিত্র নিবিড়ভাবে দেখলে অনেক প্রশ্ন উঁকি দেয় মনে। সেলিমের এই জালটি কি ধর্মের, না অন্য কিছুর? কলকাতা থেকে শুভ্রার খোঁজে তার মেসো চাঁদপুরে অপুদের বাড়িতে আসলে প্রথমেই প্রশ্ন করেন--‘শুভ্রা তোরা কি বিয়ে-টিয়ে করে ফেলেছিস?’ অপুর মা উত্তর দেন--‘না না বিয়ে করেনি।’ সংলাপ প্রক্ষেপণই বলে দেয়--হিন্দু-মুসলমানের বিয়ে হয় নাকি!
যদি ধর্মকেই বড়ো করে দেখানো না হবে, তাহলে এমন সংলাপের দরকার কী ছিলো! একইভাবে শুভ্রা তার মা ও গুরুদেবকে বলেন, ‘আমি একজনকে পছন্দ করি, সে মুসলমান।’ তখন গুরুদেব ও শুভ্রার মা এমন আচরণ করেন যেনো শুভ্রার জাত-কূল-ধর্ম সবই গেলো! এখন যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব হিন্দু ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়াই প্রধান কাজ। বাঙালির মনের ভিতরে আরেক মনে লুকিয়ে থাকে ধর্মের বীজ। সে যে ধর্মের লোকই হোক না কেনো। উপরে অনেকেই প্রগতিশীলতার লেবাস দেখালেও ধর্মের ব্যাপারে যেনো সবাই এক। নিজ ধর্মই শ্রেষ্ঠ! বাঙালি মুসলমানের মন ধর্মকেই উপরে রাখার চেষ্টা করে সবসময়। আবার অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না কী করা দরকার। বাঙালি মুসলমানদের মন যে এখনো আদিম অবস্থায়, তা বাঙালি হওয়ার জন্যও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়। সুদীর্ঘকাল একটি ঐতিহাসিক পদ্ধতির দরুন তার মনের ওপর একটি গাঢ় মায়াজাল বিস্তৃত রয়েছে, সজ্ঞানে তার বাইরে সে আসতে পারে না। তাই এক পা যদি এগিয়ে আসে, তিন পা পিছিয়ে যেতে হয়।৫ নির্মাতা বাঙালি মুসলমানের মন হয়তো আগেই পড়েছেন। তাছাড়া কেনো এমন পরিণতি বা ফলাফল দাঁড়ালো! সাম্প্রদায়িক বিতর্ক এড়ানোর জন্যই হয়তো নির্মাতা কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।
খ. ধর্মীয় নানা অনুষঙ্গ
হিন্দু ও মুসলমানের মানসিক বা সামাজিক দ্বন্দ্ব দিয়েই স্বপ্নজাল-এর গল্প শুরু এবং শেষ হয়। মাঝখানে তরুণ-তরুণীর প্রেম গল্পটিকে শেষ পর্যন্ত টেনে নেয়। চলচ্চিত্রের দ্বন্দ্ব যখন চরমে, তখনই নির্মাতা ধর্মের অনুষঙ্গ টেনে এসেছেন বার বার। হীরনকে হত্যা করে অনুতাপে ভুগছেন আয়নাল। তিনি যতোটা না শারীরিক, তার চেয়ে বেশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একসময় অপুর বাবার কাছে আয়নাল কোরআন শরীফের ওপর হাত রেখে বলেন, ‘আমি অপুর কোনো ক্ষতি করিনি।’ এই দৃশ্যে কেনো কোনআন শরীফ দরকার হয়? অনুরূপভাবে শুভ্রাদের বাড়িতে ধর্মগুরুর আবির্ভাব হয়। গুরু যে সিদ্ধান্ত দেন, সবাই সেটাই মেনে নেয়। পুরো চলচ্চিত্রে আর একবারও ধর্মগুরুর দেখা মেলেনি। কেনো শেষ সময়ে অনেকটা জোর করেই গুরুদেবের আগমন ঘটালেন নির্মাতা।
অপু ও শুভ্রার প্রেমের পরিণতিতে ধর্ম যে বাধা সৃষ্টি করবে তা গল্পের গাঁথুনি দেখেই মনে হয়েছে। তবে শেষাংশে ধর্মগুরুর ক্ষমতা প্রদর্শন কিছুটা আরোপিতই মনে হয়েছে।৬ ধর্মীয় এসব অনুষঙ্গ নিরেট প্রেমনির্ভর কাহিনিতে ঢোকানোর মাজেজা ঠিক কী? আর যাই হোক, এর উত্তরে ক্ষমতাকাঠামোর নোংরা রাজনীতির কিছু খেলা যে আছে, সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না।
নিধুয়া পাথারে নেমেছি বন্ধুরে
ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ বটে, কিন্তু ধর্মের চেয়ে মানুষের জীবন বড়ো নয় কি? মানুষই তো ধর্ম সৃষ্টি করেছে। তাহলে মানুষ কেনো সেই ধর্মে নিগৃহীত হবে। নাকি নির্মাতা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা কিংবা ধর্মকে রাষ্ট্রের বগলে রেখে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার যে চেষ্টা তাতে আঘাত দিতে চাননি? এর উত্তর ঠিক কী সেটা নিশ্চয় পাঠক ও দর্শকই ঠিক করবে। এমন গল্প নির্মাণ প্রতিক্রিয়াশীল মানুষদের সঙ্গে মানসিকভাবে আঁতাতের শামিল নয় কি! এই চলচ্চিত্র ঠিক এমন এক সময়ে নির্মিত, যখন বিশ্ব এমনকি বাংলাদেশের রাজনীতিতেও একটি বড়ো অংশ ধর্মের ধুয়া তুলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমনকি তাদের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে প্রগতিশীলতার ধ্বজাধারী সরকারকে বাস্তবায়ন করতেও দেখা যাচ্ছে। ঠিক তখন এমন গল্পের চলচ্চিত্র দর্শকের সামনে আনায় প্রশ্ন জন্মে। তাহলে এখানে ধর্ম না মানবতার জয় হলো! মধ্যযুগের কবি বড়ু চণ্ডিদাস এর দুটো লাইন মনে পড়ে--‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ শেষ অবধি স্বপ্নজাল মানুষে মানুষে প্রেম না ধর্মের জয়গান! কোনটা করলো?
লেখক : সুজন নাজির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জেনারেল এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রভাষক।
sujonnazeer91@gmail.com
https://www.facebook.com/sujon.nazeer
তথ্যসূত্র
১. হাসান, গাজী মাহতাব; ‘স্বপ্নজাল নিয়ে’; শিল্প ও শিল্পী; সম্পাদনা : আবুল হাসানাত; বর্ষ ৭, সংখ্যা ২, ২০১৮, ঢাকা, পৃ. ৯০।
২. https://www.prothomalo.com/entertainment/article/1468396; retrieved on: 10.01.2019
৩. প্রাগুক্ত; হাসান, গাজী মাহতাব (২০১৮ : ৯৫)।
৪. প্রাগুক্ত; হাসান, গাজী মাহতাব (২০১৮ : ৯৬)।
৫. ছফা, আহমদ (২০১৩ : ৩৮); বাঙালি মুসলমানের মন; খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, ঢাকা।
৬. প্রাগুক্ত; হাসান, গাজী মাহতাব (২০১৮ : ৯৫)।
বি:দ্র: প্রবন্ধটি জুলাই-২০১৯ (১৭ সংখ্যা) ম্যাজিক লণ্ঠন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন