নাজমা পারভীন
প্রকাশিত ০৫ মে ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
একজন চিত্রকরের অভিযাত্রা
নাজমা পারভীন

শিল্পী ও শিল্প
প্রতিটা শিল্প সাধনার ভিন্ন ভিন্ন জগৎ আছে। যারা শব্দ নিয়ে সাধনা করে; তারা প্রতিটি শব্দের মধ্যে, সেই শব্দের আবেগ খুঁজে পায়। রবীন্দ্রনাথেরও শব্দ নিয়ে অদ্ভুত কিছু অনুভূতি আছে। আবার সঙ্গীত সাধকরা প্রকৃতির শব্দের মধ্যে সুর খুঁজে পায়। কথা বলা থেকে শুরু করে তাদের জীবনের সবকিছু চলে ছন্দময় গতিতে। সুর, তাল, লয়, ছন্দকে নিয়েই চলে তাদের জীবনচর্চা। তেমনই চিত্রশিল্পীদের ভালো লাগার জায়গা হলো রঙ, ক্যানভাস। তারা এক একটা রঙের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ইমোশন খুঁজে পায়। প্রতিটি রঙ যেনো তাদের কাছে পৃথিবীর মতো বিশাল; ভ্রুণের মতো জীবন্ত; লজ্জাবতীর মতো স্পর্শকাতর; প্রেমিক-প্রেমিকার মতো অভিমানী। আর এই জীবন, স্পর্শকাতরতা আর অভিমানের রঙ দিয়েই সৃষ্টি হয় একেকটি চিত্রকর্ম। এসব চিত্রকর্ম এমনই মায়াময় যে, তা কখনো দর্শককে আনন্দ দেয়, কষ্ট দেয়, কখনোবা উদ্বিগ্ন করে। মায়াময় এই ছবির জগৎ নিয়ে নির্মিত শৈবাল মিত্রের চলচ্চিত্র চিত্রকর : দ্য লাস্ট মিউরাল (২০১৮)। নির্মাতার ভাষায়, ‘এই চলচ্চিত্র বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় বা মার্ক রথকোর জীবনকাহিনী নয়। তাঁদের জীবনের দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাল্পনিক এক কাহিনী।’ তার মানে বিনোদ কিংবা মার্কের জীবনের দুটি ঘটনা নিয়ে নির্মাতা অনুপ্রাণিত হলেও বাস্তবে তারা এখানে অনুপস্থিত। মূলত নেত্র-অন্ধ এক শিল্পীর শিল্পচর্চা ও শিল্পদর্শন নিয়ে চলচ্চিত্রের গল্প এগিয়েছে। এই প্রবন্ধে শব্দের মাধ্যমে আরেকবার চিত্রকর’কে দেখার চেষ্টা থাকবে।
সে আর লালন এক সাথে রয়
লক্ষ যোজন ফাঁক রে
‘এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’ সুকান্তের এই ভাবনাচিন্তা সাধারণভাবে ঘটার কথা থাকলেও বাস্তবে কিন্তু এমনটি হয় না। নতুন বা নবীনের জন্য বেশিরভাগই জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। প্রত্যেক নতুন পরিস্থিতিতে মানুষকে ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের জায়গা অর্জন করতে হয়। চিত্রকর-এর শুরুতেই দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ডে পর্দায় এক নারীকে দেখা যায়। দেয়ালে হেলান দিয়ে তিনি উদাস নয়নে চেয়ে আছেন; পাশে চেয়ার থাকা সত্ত্বেও বসে আছেন মেঝেতে। আশপাশে অনেক কাগজ ছড়ানো ছিটানো, দেখে ছবির লে-আউট মনে হয়। যেগুলো সাধারণত কোনো চিত্রশিল্পীর খুব যত্নে রাখার কথা; কিন্তু অবহেলায় পড়ে আছে সেগুলো। পরের শটেই দেখানো হয় দেয়াল থেকে চিত্রকর্ম (পেইন্টিং) নামানো হচ্ছে। গ্যালারির কেয়ারটেকার যাদবের সঙ্গে এই নারীর কথোপকথনে বোঝা যায়, তিনি প্রদর্শনী করেছেন কিন্তু গ্যালারির ভাড়া মেটাতে পারেননি। এ নিয়ে গ্যালারি মালিক পলাশের সঙ্গে কথা বলতে যান ওই নারী শিল্পী।
পলাশ : দেখো, বিজন দার ছবিগুলো কাল সকালে নয়টার মধ্যেই টাঙাতে হবে, কুন্তলা চলে আসবে। তার আগেই তুমি তোমার ছবিগুলো নিয়ে যেও। গ্যালারি রেটের বাকি টাকাটা দিয়ে দিয়েছো তো?
তিথি : আমার কাছে এখন টাকা নেই, আমি এখন কিছু দিতে পারবো না। একটা ছবিও বিক্রি হয়নি।
পলাশ : সে কী, তুমি যে বললে তোমার কিছু বায়ার আছে।
তিথি : হ্যাঁ বলেছিলাম, কিন্তু তারা কেউ আসেনি। অনেকবার ফোন করেছি।
পলাশ : বেশ, কাল সকালে যখন ছবিগুলো নিতে আসবে, টাকাটা সঙ্গে নিয়ে এসো।
তিথি : আরে কোথা থেকে আনবো? বলছি তো কিছু নেই। আর এখন জোগাড় করতেও পারবো না।
পলাশ : তিথি, আমি জানতাম তুমি একটা ঝামেলা পাকাবে। এতো কম টাকায় কিন্তু আমার গ্যালারি ভাড়া দিই না। আমার কন্ডিশনগুলো তোমাকে আগেই বলে দিয়েছিলাম। ভাড়া যদি পুরো ক্লিয়ার করতে না পারো ছবি কিন্তু আমি ছাড়বো না। যাও টাকা জোগাড় করো।
তিথি : আমি টাকা দিতে পারবো না পলাশ দা। আই অ্যাম কমপ্লিটলি রুয়েন্ড। একটা শেষ গ্যাম্বেল খেলার চেষ্টা করেছিলাম বলতে পারেন। পারলাম না, হেরে গেলাম। আমার ছবি কেউ কিনছে না। দেয়ার ইজ নো বায়ার। আমি ছবি-টবি আঁকা ছেড়ে দেবো। আঁকবো না। ছেড়ে দেবো সব।
এই কথোপকথনে বুঝতে কষ্ট হয় না নবীন শিল্পীর টিকে থাকার সংগ্রামের কথা। সেই সঙ্গে তার শিল্পাকাশে হতাশার মেঘও জমেছে। তবে এটা ঠিক ভারতীয় উপমহাদেশের বাস্তবতায় শুধু ছবি এঁকে জীবন ধারণ করা কঠিন। জীবিকার জন্য একজন শিল্পীকে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হয়। তবে বিরল উদাহরণ যে নেই তাও কিন্তু নয়। অনেকে সারাজীবনে আর কিছুই না করে, শুধু ছবিই এঁকেছে। ভিনসেন্ট ভ্যান গগ পেটে পাথর চাপা দিয়ে ছবি এঁকেছেন। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন। আবার সব ছেড়ে দিয়ে চিত্রা পাড়ের এক জঙ্গলে এসে ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন এস এম সুলতান। এই জীবন নিয়ে তাদের খুব আফসোস ছিলো বলে মনে হয়নি। প্রকৃত শিল্পীর হয়তো সেটা থাকে না। কিন্তু সেই প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য একজন মানুষকে নানা সাধনা, সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেই সাধনা, সংগ্রাম করার সাহস অবশ্য কতো জনের আছে, সেটা ভেবে দেখার বিষয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, অনেকে ছবি আঁকে কিন্তু শিল্পী হয়ে উঠতে পারে না।
নবীন শিল্পী তিথি, প্রদর্শনীর কয়েকদিন পর পলাশের সহায়তায় বিখ্যাত শিল্পী দৃষ্টিশক্তিহীন বিজন বোসের সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পান। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর বিজন এখন শহর ছেড়ে গ্রামে থাকেন। বিজনের একটা মিউরাল তৈরির কাজে সহায়তাকারী হিসেবে তিথি সেই গ্রামে যান। তিথিকে পেয়েই বিজন চলচ্চিত্রের ৩১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে তাকে আক্রমণ করে বসেন। বিজনের ভাষায়,
ওহে ছুঁড়ি, ভালো লাগার থেকে শ্রদ্ধা করাকে, মূল্যবানের থেকে গুরুত্বপূর্ণকে আলাদা করার সেই বিচার শক্তি তোমাদের আছে কি? বলেছিলাম পলাশকে একজন মজুর পাঠাতে; মুঠে, মুঠে। পাঠালো কাকে, এক ছুঁড়ি। মনে হচ্ছে তো একটা ডাইনোসর কথা বলছে, এক অদ্ভুত জীব, যেনো শরীরের সমস্ত অক্সিজেন শুষে নিচ্ছে! আমি এমন কিছু কথা বলতে চাই যা তোমাদের প্রজন্মের কাছে অজানা। তোমরা সিরিয়াসনেস কাকে বলে, সেটা তো জানোই না। পূর্বসুরীদের ছায়ায় হাঁটা ...।
পরবর্তী সময়ে জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নিয়ে বিজন আবারো তিথিকে আক্রমণ করেন। ৪৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তিথির ব্যক্তিগত বিষয় ধরে তিথিকে তাচ্ছিল্য করতে দেখা যায়।
বিজন : জীবনের অভীপ্সা কিছু আছে?
তিথি : আছে, মানে ছিলো।
বিজন : কী? সিনেমার নায়িকা হওয়ার?
তিথি : আমি ছবি আঁকি, মানে আঁকতে চেয়েছিলাম।
বিজন : তাই নাকি? দেখি হাতটা, দেখি কই দেখি। ও বাবা, এ ফ্যাশন করা আঙ্গুল তো; এ দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কোনো ছবি বের হবে না।
অবশ্য পর পর দুই দৃশ্যে নবীন শিল্পী হওয়ার চেয়ে, নারী হিসেবেই হয়তো তিথিকে অবজ্ঞা শুনতে হয়। যদিও সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা ঠিক যে, বড়োমাপের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব আদর্শ ও দর্শনের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের বেশিরভাগের জীবনেই তিথির মতো কমবেশি সংগ্রাম-ত্যাগ-তিতিক্ষা ছিলো/আছে। তাই বিজন হয়তো তিথির মধ্যে নিজেকেই খুঁজে পান। তাই চলচ্চিত্রে দুই ঘণ্টা ১৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে তিথির ব্যাপারে রামানন্দকে উদ্দেশ করে বিজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তিথিকে বলো ও যেনো একবার এসে [মিউরালটা] দেখে যায়। আর বলো ও যেনো হতাশ না হয়। তর্ক করে করে ওর সমসাময়িকদের কান যেনো খেয়ে নেয়, যাতে তারা ওর কাজ দেখতে বাধ্য হয়। মেয়েটা পারবে, ওর মধ্যে আগুন আছে।’
এর পরের শটে বেহালায় করুণ সুর বেজে ওঠে, আর শূন্য মরু প্রান্তরে একা পথ চলতে দেখা যায় বিজনকে। শুধু বিজন বোস নন, তিথিও তো তাই; এমনকি মানুষ মাত্রই প্রত্যেকেই একা জীবনপথ পাড়ি দেয়। সেখানকার কষ্ট-বেদনা দিনশেষে ব্যক্তিকেই বয়ে বেড়াতে হয়। তবে কোনো শিল্পমাধ্যমকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারলে কিন্তু সেটার স্থায়িত্ব আসে। পেশাদারিত্ব নিয়ে যেমনটা প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী বলেন,
... নেশার মাধ্যমে যেটা বোঝায় সেটা হলো তাৎক্ষণিক ইমোশনাল। আজকে নেশা আছে, কাল নাও থাকতে পারে। কিন্তু আমি যদি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করি, তাহলে নেশা শব্দটি দিয়ে যে কাজটা এক্সট্রিমলি বোঝানো হচ্ছে, আমি সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। কিন্তু যদি আমি শুধু নেশা হিসেবে এটা বেছে নিই, তাহলে আমার সেই কাজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, ডিসিপ্লিন থাকবে না, আমি দীর্ঘদিন সেই কাজের প্রতি লেগে থাকতে পারবো না। আর যদি আমি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করি, তাহলে যা কিছু নেশার কাজ, ভালোবাসার কাজ সেটাকে আমি ধারণ করে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবো। তাই আমি মনে করি, একজন অভিনয়শিল্পী তার পেশাদারিত্বের মাধ্যমে অনেক দূর যেতে পারবে। কিন্তু নেশা হিসেবে নিলে পারবে না।১
শুধু অভিনয়শিল্পী নয়, সব শিল্পীর ক্ষেত্রেই তাই। কেননা সবধরনের শিল্পের চর্চাতেই একটা নেশা বা টান আছে; যাকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে মেলাতে না পারলে স্থায়িত্ব আসে না। সেই সঙ্গে কোনো দেশে পেশার অবকাঠামোতে যদি শিল্পচর্চা করে জীবিকা অর্জনের অবকাশ না থাকে, তবে তো আরো বিপদে পড়তে হয়। আর সেই বিপদে পড়েন নবীন শিল্পী তিথি। তবে ইচ্ছা শক্তি যদি প্রবল থাকে, তবে কোনো না কোনো পথ বেরিয়ে আসে। তারই দৃষ্টান্ত হয়তো আজকের বিজন বোস।
ইন্দ্রিয়ের অতিক্রিয় অনুভূতি
মানুষ পঞ্চেন্দ্রিয়ের সাহায্যে পারিপার্শ্বিক জগৎকে অনুভব করে। এই পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনো একটি ঠিকঠাক কাজ না করলে, অন্যগুলো সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করে। তবে সবার ক্ষেত্রেই যে এটি হয়, এমন নয়। কারণ ব্যক্তিমানুষ নিজে যদি কোনো ইন্দ্রিয়ের অভাব নিয়ে সচেতন না থাকে, তাহলে সেই চর্চাটা হাজির থাকে না। আর চর্চা না থাকলে মানে আক্রান্ত ব্যক্তি না চাইলে হয়তো সেটা সম্ভব হয় না। মানুষের ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত এই সঙ্কট সাধারণত দুইভাবে হয়। কেউ জন্মগতভাবে ইন্দ্রিয়ের কোনো ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কেউ পৃথিবীতে আসার পর কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা অবস্থায় কোনো একটি ইন্দ্রিয় হারিয়ে ফেলে। এই দুই ধরনের মানুষের পৃথিবী কিন্তু একেবারে দুই রকম। দুইজনের চাওয়া-পাওয়া, উপলব্ধি ভিন্ন।
দর্শনেন্দ্রিয়ের কথাই ধরুন, এর অভাবে উপরের দুই ধরনের মানুষের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি হয়। যিনি জন্মান্ধ তার রঙ, আকার, কল্পনা এক রকম। আবার যিনি দেখার স্বাদ পাওয়ার পর দর্শনেন্দ্রিয় হারিয়ে ফেলেন, তার কাছে রঙ, আকার, কল্পনা আরেক রকম। চিত্রকর-এ বিজন দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষের অন্তর্গত। তিনি আগে দেখতেন, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তার চোখে অস্ত্রোপচার হলে তিনি একেবারে অন্ধ হয়ে যান। এই দেখতে না পারার অভাবগুলোকে তিনি হয়তো অন্যান্য ইন্দ্রিয়গুলোর সাহায্য নিয়ে পুষিয়ে নিতে চেয়েছেন। আগেই বলেছি, সবাই যে এটা পারে, এমন নয়। চলচ্চিত্রে বিজন এটা হয়তো পেরেছিলেন; তাই তিনি অন্য (অন্ধ) মানুষের থেকে হয়তো খানিকটা আলাদা।
অন্ধ বিজন রুটিন করে প্রত্যেকদিন সূর্যোদয় দেখতে যান। তার সঙ্গে থাকেন স্টেশন মাস্টার হিমেল। তারা খোলা মাঠের মধ্যে মোড়াতে বসে থাকেন, সূর্যোদয় দেখতে। সূর্য উঠলে কীভাবে যেনো বিজন বুঝতে পারেন! তার এই বোঝায় প্রত্যেকবার হিমেল খুব আশ্চর্য হন! চলচ্চিত্রে ১১ মিনিটে বিজন আর হিমেলের কথোপকথনে কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়।
বিজন : হিমেল উঠেছে।
হিমেল : কেবল এই জন্যেই রোজ সকালে আপনার সঙ্গে হাজির হই; সূর্য উঠলে আপনি ঠিক টের পান কেমন করে, তাই বোঝার চেষ্টা করি। আপনি বোধ হয় খানিকটা দেখতে পান?
বিজন : তা দেখি, তবে তা তোমাদের থেকে আলাদা। আমরা হলাম গিয়ে তোমাদের আলোর জগতে অন্ধকারের প্রতিনিধি। আমরা যে দৃষ্টি দিয়ে দেখি তার নাম অন্তর্দৃষ্টি, ইনার আই। বুঝলে কিছু?
হিমেল হয়তো বিজনের সে কথা সেভাবে বোঝেন না। কিন্তু এতোটুকু নিশ্চয় বোঝেন, বিজন তার থেকে আলাদা কেউ। হিমেল যেটা দেখেও অনেক ক্ষেত্রে বোঝেন না, বিজন কিন্তু সেটা বোঝেন। এখানেই তার বিশেষত্ব। এজন্যই বোধ হয় অন্ধ বিজন কাগজ দিয়ে কোলাজ, মাটির মূর্তি গড়তে পারেন। কারণ স্বাভাবিক আর দশজন মানুষের মতো তিনি হয়তো রঙকে অনুভব করতে পারেন না; তাতে কী, আকারের তো অনুভূতি আছে। তাই তিনি স্পর্শ দিয়েই রচনা করেন শিল্প।
চিত্রকর-এর এক ঘণ্টা ২১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে দেখা যায়, গভীর রাত, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে বিজনের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বৃষ্টির তীব্রতা বোঝার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে একখানা পুরনো সংবাদপত্র জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন। শুরুতে বোঝা না গেলেও, খানিক পরেই বোঝা যায়, সংবাদপত্রের উপরে পড়া পানির শব্দে বৃষ্টির তীব্রতা বোঝার চেষ্টা করেন বিজন। শব্দে ধরা পড়ে বৃষ্টি দেখার অনুভূতি। এভাবে তিনি প্রকৃতির অন্য কোনো শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে সময় গণনা করেন। ৪০ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে বিজন আঙুলের চাপে চাপে মূর্তি তৈরি করছেন, ঠিক তখন ট্রেনের শব্দ শুনে শ্যামকে বলেন,
বিজন : শ্যাম, শ্যাম।
শ্যাম : বাবু।
বিজন : এবারে হিমেল আসবে, শেষ ডাউন ট্রেনটা চলে গেলো; তুই চায়ের জলটা চাপিয়ে রাখ।
শ্যাম : আজ লেট করেছে বাবু।
বিজন : তাই নাকি রে; কয়টা বাজে দেখতো?
শ্যাম : সাতটা।
বিজন : সাতটা; তাই বলি প্রাণটা এতো চা চা করছে কেনো!
বিজন সাতটার আগেই চা পান করেন, আর সেটাকে মিলিয়ে নিয়েছেন শেষ ডাউন ট্রেনের শব্দের সঙ্গে। আবার ১৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শ্যামকে বিজন বলেন,
বিজন : শীতল মাছ দিয়ে যায়নি?
শ্যাম : হ্যাঁ, দিয়েছে বাবু।
বিজন : কই, সাইকেলের আওয়াজ পেলুম না তো।
শ্যাম : আজ তো হেঁটে হেঁটে এসেছে, সাইকেলটা চুরি হয়ে গেছে ওর।
বিজন : ওহ।
তার পরই আবহে গানের সুর ভেসে আসে, বুকের মধ্যে কেমন জানি একটা হাহাকার সৃষ্টি হয়। কেননা শীতলের সাইকেলের আওয়াজের সঙ্গে নিশ্চয় বিজন সময় হিসাব করেন। তিনি হয়তো নির্দিষ্ট সেই শব্দ/সময়ের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। অথচ কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই সেই সময় চলে যায়। তার মানে চারপাশের শব্দগুলো কখনো কখনো তার সঙ্গে প্রতারণা করতে থাকে। ট্রেন লেট করে, শীতল সাইকেল নিয়ে আসে না। এমন করে মূল্যবান সময় বিজনের কাছ থেকে হারিয়ে যায়।
সব মানুষ যে সবসময় সময়কে যথাযথ ব্যবহার করেছে এমন নয়। অনেকে সময়ের প্রতি সচেতন থেকে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছে। আবার অনেকে সময়টাকে গুরুত্ব না দিয়ে, নিয়মের মধ্যে না থেকে, নিয়মটাকে ভেঙেছে। এমনও হয়েছে অনেককে যে অর্থে সময়ানুবর্তী বলা হয় তারা হয়তো সে অর্থে তা নয়। তবে তারা হয়তো নিজেদের কাজের ব্যাপারে সময় মেনে চলেছে। এদের অনেকে সময়ের সঙ্গে নিজেদের সময়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে। অন্ধ বিজন সেই মানুষ, যেখানে মানুষ, প্রকৃতি একাকার হয়ে গেছে। বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক, সূর্যকে তিনি অন্যদের চেয়ে খানিকটা আলাদা করে জানেন, চেনেন।
শিল্পীর তীব্র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ শিল্প সৃষ্টি
প্রতিটি মানুষ তার অনুভূতি কারো না কারো কাছে প্রকাশ করতে চায়। এতে অন্তত তার কষ্ট খানিকটা লাঘব হয়। শিল্পীদের ক্ষেত্রে অবশ্য শিল্প সৃষ্টিই তার অনুভূতির প্রকাশ। হেমা সিবানেসান-এর ভাষায়, ‘শিল্প হলো একান্ত ব্যক্তিগত, একক ও আত্মগত আত্মপ্রকাশ।’২ যা প্রকাশ না হলে শিল্পীর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। চিত্রকর-এর ৪০ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে দেখা যায়, বিজন মাটির দলা দিয়ে কী একটা বানাচ্ছেন। একটু পরে বোঝা যায়, ছোট্ট কুকুর বসে আছে, এমন একটি মূর্তি। বিজনের হাতের স্পর্শে এক দলা মাটি জীবে পরিণত হয়।
আবার ৫২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে বিজন গ্রাউন পেপার দিয়ে হিউম্যান ফিগার তৈরি করেন। তার সহযোগী হিসেবে থাকেন তিথি ও শ্যাম। একটি লম্বা কাগজ হাতে নিয়ে তিনি ভাঁজ দিতে থাকেন। বিজন নিজে হাত দিয়ে মাপ করে ভাঁজ দেন কাগজ। সেই ভাঁজ কতো দক্ষ আর সাবলীল হাতের কাজ! এর মধ্যে কখনো শ্যামের কাছে শুনে নেন কাগজটি কতো ইঞ্চি হবে। আবার কখনো চৌকো বানানোর মোড়ক চেয়ে নেন। নিমিষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ফিগারের কতোগুলো অংশ। সৃষ্টির সে কী চরম মুহূর্ত! সেই সঙ্গে বেহালার করুণ সুর। বিজন এরপর তিথিকে কাগজের ছেড়া অংশগুলো দিয়ে মানুষের ফুল ফিগার সাজাতে বলেন। তিথি সাজানো শুরু করলে আবহে তানপুরার সুর বাজতে থাকে। তিথি দক্ষতার সঙ্গে ফিগার সাজাতে থাকেন।
এক ঘণ্টা ৫৪ মিনিট সাত সেকেন্ডে বিজন ছবি আঁকেন। লাইন ড্রইং করেন মোটা মার্কার কলম দিয়ে। এবং ৩০ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে তার বিখ্যাত ছবি ‘লাফটার’ আঁকেন। দৃষ্টিসম্পূর্ণ শিল্পীদের পক্ষে হয়তো এই কাজ করা সহজসাধ্য। কিন্তু দৃষ্টিহীন শিল্পীর পক্ষে এই কাজ করা সত্যিই খুব কঠিন। যারা জন্ম থেকে অন্ধ তাদের কথা আলাদা, কারণ তাদের সেই অর্থে দেখার কোনো অনুভূতি নেই। তবে যে মানুষ পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ, সবকিছু ঠিকঠাক উপলব্ধি করেছেন; হঠাৎ মাঝ বয়সে ছানি অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে দৃষ্টি হারিয়েছেন; যিনি এমন এক শিল্প সৃষ্টির কাজ করেন যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ হয় দেখার মাধ্যমে। এই কাজ মামুলি কিছু নয়, এর জন্য হৃদয়ের তাগাদাও লাগে। এমন অবস্থায় কোনো ব্যক্তির দৃষ্টি হারানো কী ভয়াবহ হৃদয়বিদারক! তবু তিনি হাল ছাড়েননি, আসলে শিল্পকে ছেড়ে তিনি থাকতে পারেননি। তার হৃদয়ের গুমরানো আর্তনাদ শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সৃষ্টির অসহ্য প্রেরণা তাকে তাড়িত করেছে। তাইতো তিনি একের পর এক কোলাজ সৃষ্টিতে মেতে ছিলেন। এসব প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে নিজেকে বলেছেন, ‘আলোর জগতে অন্ধকারের প্রতিনিধি’। যদিও সেই অন্ধকার দিয়েই বিজন জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলো জ্বালাতে চেয়েছেন।
নিয়তি ও মানুষ
অদৃষ্টক্রমে দৃষ্টিশক্তি হারান বিজন। চিত্রকর-এ তার ভয়ানক উপস্থাপন দেখা যায়। এক ঘণ্টা ১৯ মিনিটে আলো-আঁধারি পরিবেশে অনেক লোকের মধ্যে বিজন দাঁড়িয়ে আছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কার্ড পড়ছে, অন্যরা সবাই সেই কার্ড ধরার জন্য লাফাচ্ছে। বিজন দাঁড়িয়ে আছেন, কিছুটা হতবাক! দূর থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, ‘বিজন হা করে দাঁড়িয়ে থেকো না, এ হলো ভাগ্যচক্রের খেলা, ধরো, ধরো।’ বিজনও তখন কার্ড ধরার জন্য লাফাতে থাকেন। যখনই একটি কার্ড ধরে ফেলেন, তখনই কার্ডের ওপর রক্তের ছোপ পড়ে; আর সঙ্গে সঙ্গে আগের সেই কণ্ঠস্বর বলে ওঠে ‘মৃত্যুবান, মৃত্যুবান; কূলবানও হতে পারে, কে জানে, কে জানে?’ এর পরের শটে অন্ধকারের মধ্যে বিজন বলতে থাকেন ‘এতো অন্ধকার কেনো? আলো দে, আলো জ্বাল।’ একজন দৃষ্টিহীনের আলোর জন্য আর্তনাদ। কিন্তু পৃথিবীর কোনো মানুষ সেই আর্তনাদ আর শোনে না।
অনেকে মনে করে, মানুষ তার ভাগ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আবার তারা এও বিশ্বাস করে, কর্মের দ্বারা ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। তারপরও আকাঙ্ক্ষার বাইরে কিছু হলেই, তারা ভাগ্য বা নিয়তির দোষ দেয়। তবে কেউ কেউ নিয়তিকে অস্বীকার করে কর্মের দ্বারা। যেমন, বিজনের দৃষ্টিশক্তি হারালেও, তিনি কিন্তু কর্মের দ্বারা তা অস্বীকার করেন। চিত্রকর-এ দেখা যায়, নিয়তি নামের এক চরিত্র বিজনের সঙ্গে দেখা করতে আসে। সেখানে বিজনের সঙ্গে তার কথোপকথন এমন,
বিজন : এই দুর্যোগের রাতে তোমার আসার কারণ? আমি তো তোমার বেদিতে ফুল চড়ায়নি, কোনো দিন চড়াবোও না।
নিয়তি : জানি, কিন্তু আমার পূজায় ফুল বেল্যপত্র লাগে না। রিক্ত হস্তে নত মস্তকে আমার দীপ নেভা মণ্ডিপ [মণ্ডপ] প্রদক্ষিণ করে ঘুরছে; অহংকারের কারণে। আমি চাই অধীনতা; তুমি কি এসব দেখোনি, জানো না?
বিজন : ওই সব ফালতু কথায় কাজ হবে না। বলো, তুমি কী চাও? কী চাও তুমি?
নিয়তি : তোমার অহংকার এখনো ভাঙেনি দেখছি। আমি তোমার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছি, তবু তুমি হার মানবে না?
বিজন : না মানবো না। আমি মানুষ; মানুষ নিয়তির প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি তোমায় উপেক্ষা করি। জানো না সে কথা। যাকগে বাদ দাও, কী জন্যে এসেছো বলো।
নিয়তি : একটি সংবাদ দিতে এসেছি। তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে, সময় হয়েছে আমার সঙ্গে যাওয়ার।
বিজন : মৃত্যু? তুমি যে হও আমি নড়বো না, আমার কাজ বাকি। হয়তো শেষ কাজ, কিন্তু তা সম্পূর্ণ না করে আমি যাবো না।
নিয়তি : কী কাজ জানতে পারি?
বিজন : আমি শাশ্বত সৃষ্টির সাধনায় মেতেছি, আমার আর খানিকটা সময় দরকার। আমার দৃষ্টি কেড়েছো তাতে কী, আলো নেই তাতে কী? আকার তো আছে; ঝংকার তো আছে। আকারের ঝংকার, আকারের ঝংকার। রঙ, রঙ, রঙ আমার স্মৃতিতে; আকার আমি দেখতে পাই।
বিজন নিয়তির কাছে হার না মেনে, তাকে উপেক্ষা করার কথা বলেছেন। এবং তিনি নিজে তা করেছেনও। চিত্রশিল্পীদের সৃজনশীল উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশের জন্য, প্রধান সহায়ক হচ্ছে চোখ ও হাত। এই দুটি অঙ্গের কোনোটির অভাব হলে, তার জন্য চিত্রকর্ম করা খুব দুঃসাধ্য। বিজন এই দুঃসাধ্য কাজ করেছেন; সাধনায় নিজের আলো খুঁজে পেয়েছেন। সেই আলো দিয়ে সৃষ্টি করেছেন শিল্প।
আবার নিয়তি বলছে, সে অধীনতা চায়। নিয়তি ঐশ্বরিক মতবাদ হলেও; সমাজে এমন অনেক নিয়তির দেখা মেলে। যাদের প্রধান অবলম্বন ক্ষমতা, এই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে তারা প্রত্যেকে নিয়তিতে পরিণত হয়। নিয়তির মতো তারাও চায় অধীনতা। তা না হলে, শাস্তির বিধান হয়। সে বিধানের যাতাকলে পিষ্ট হয় মানুষ। সমাজের এই নিয়তিকে সবাই উপেক্ষা করতে পারে না। যারা নিজেদের স্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড়ো করে দেখে; তারা হয়তো নিয়তিকে অস্বীকার করতে পারে।
বিজন সাধনার মাধ্যমে নিয়তিকে অস্বীকার করেন তার কাজ দিয়ে। যে কাজে তিনি অনাবিল সৃষ্টির আনন্দ পান। সৃষ্টির এই আনন্দে থাকে পবিত্রতা। এই পবিত্রতার জ্যোতিতেই তিনি হয়তো নিয়তিকে অস্বীকার করতে পারেন। আর এই অস্বীকার থেকে যে শিল্প সৃষ্টি হয়, তা দেখে নিয়তিও বিস্মিত হয়! কারণ নিয়তি যেসব মানুষের কাছে উপস্থিত হয়; তাদের বেশিরভাগই তাকে দুঃখ ভরে মেনে নেয়। কিন্তু বিজন ব্যতিক্রম। তিনি শুধু মুখেই বলেন না, কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। শাশ্বত সৃষ্টিতে মেতেছেন, তাই তিনি স্রষ্টা। তারপরও নিয়তি আসে বিজনের কাছে।
নিয়তি : কর্তা, হলো তোমার শাশ্বত সৃষ্টি? আমি যে অপেক্ষা করে আছি, এবার চলো।
বিজন : যেতে তো হবে। কিন্তু আমি তো এখনো সৃষ্টির আনন্দকে উপলব্ধি করতে পারছি, তাকে ছুঁতে পারছি, সে আমার রক্ত স্রোতে বইছে। আর একটু সময় পাওয়া যাবে না?
নিয়তি : তুমি যা চাইছো তা অসম্ভব, এই ভাঙা-গড়ার আনন্দে কোনো শেষ নেই, প্রাপ্তির কোনো মন্দির নেই; যেখানে হেঁটে গিয়ে তুমি উঠবে। অমরত্ব পেলেও তোমার কাজ কখনো শেষ হবে না।
বিজন : অমরত্ব, অমর, শাশ্বত ওই সব আমার দ্বারা হবে না।
নিয়তি : এই সব তুমি কী করছো? আমার রসবোধ তেমন নেই, তবে তোমার জিনিসগুলো বেশ। কর্তা মশাই, চোখে কালো চশমা দিয়ে এসব তুমি করো কী করে!
বিজন : আমার জগতে যে আলো আছে, সেই আলো দিয়ে আমি এগুলো করি।
নিয়তি : তুমি তো মহাপুরুষের মতো কথা বলছো।
বিজন : না, মহাপুরুষ আমি নই। খুব সামান্য আমার আলো, আমি যখন পুতুল গড়ি, কাগজ মুড়ি ততোক্ষণই এই আলো থাকে। তারপরে সব অন্ধকার।
তার মানে সাধনার দ্বারা মানুষ এমন একপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, যেখানে তারা অনেক কিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমন কী মৃত্যুকেও। নিয়তি বার বার আসছে, কিন্তু বিজন ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি শাশ্বত সৃষ্টির কাজ শেষ না করে কোথাও যাবেন না। আর এই কাজ নিয়েও নিয়তির দুর্দান্ত অভিব্যক্তি এই আনন্দের যেমন শেষ নেই, তেমনই কোনো প্রাপ্তিও নেই। শিল্পী জীবনের চরম এক পরিস্থিতির কথা নিয়তি উল্লেখ করে। চিত্রকর-এ শিল্পের আদর, শিল্প তৈরির আনন্দের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু শিল্প তৈরি কেবল আনন্দের জন্যই নয়। এর একটা রাজনীতিও আছে। সেই রাজনীতির কথা কেনো জানি বিজন বলেন না! যদিও বিজনের জীবনের ট্রাজেডি ও সততার অন্য এক মাত্রা আছে।
শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি : প্রকৃতি ও শিল্প
ব্যক্তিমানুষের যেসব বিষয় নিয়ে ঝোঁক থাকে, তার চিন্তাভাবনাও সেটাকে ঘিরেই চলে। সে তার চারপাশ থেকে প্রতিক্ষণে সেসব ঝোঁকের উপাদান আরোহণ করতে থাকে। সে চিত্রশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, চিকিৎসক, শিক্ষক যাই হোক না কেনো। সবাই প্রকৃতি থেকেই সবকিছু খুঁজে পান এমন নয়; তবে জীবন, চারপাশ, প্রকৃতি তাদের আরোহণের জায়গা হয়ে ওঠে। আঙ্গিক আলাদা হলেও প্রত্যেক শিল্পী তার চারপাশের পরিবেশ থেকে খুঁজে পায় ছবি আঁকার উপাদান। ফলে তাদের জীবনাচরণে কিছু কিছু মুহূর্তকে চিত্রকর্ম মনে হয়। চিত্রকর-এ ২৫ মিনিটে বিজনের বাড়ির উদ্দেশে তিথি রওনা দিলে দেখা যায়, তিথি প্রকৃতির মাঝ দিয়ে এবং একটু পরে বিস্তীর্ণ মাঠের ছবির মধ্যে দিয়ে ভ্যানে করে যাচ্ছেন। এটি আসলে তিথির অনুভব, তিথি হয়তো মনে করেন, তিনি ছবির মধ্যে দিয়েই যাচ্ছেন। চলচ্চিত্রজুড়ে এমন বেশকিছু দৃশ্য আছে, যেখানে ক্যামেরার কাজ অসাধারণ। ন্যাচার থেকে ডিজলভ্ এর মধ্য দিয়ে ছবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার কখনো ছবি থেকে ডিজলভ্ এর মাধ্যমে বাস্তবে আসে। এমন দুটি ঘটনা দেখা যায়, এক ঘণ্টা ২৯ মিনিট ২১ সেকেন্ডে যখন সূর্যোদয় দেখে বিজন, তিথি, হিমেল ফিরছে। তিথি তখন বিজনের আঁকা ‘নিজের স্টুডিও’র ছবিটির কথা বলেন; আর তখন তারা যেনো সেই ছবির মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলে। পরের শটে মাতিসের ‘রেড স্টুডিও’ ছবির কথা বলেন বিজন। তখন আবার সেই ছবিটি দেখা যায়। এসব জায়গায় চমৎকার সব সম্পাদনার কাজ করেছেন নির্মাতা।
অনেক সময় যা কিছু সাধনা করা হয়, সেইসব কাজের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়। বৈষয়িক সব বিষয়ের ঊর্ধ্বে চলে যায় সেই ভালোলাগা। চিত্রশিল্পীদের সেই পৃথিবীতে হয়তো ছবি আর শিল্পীর বসবাস। সমাজের বিভিন্ন ঘটনায় জীবনের টুকরো টুকরো মৃত্যুকে হয়তো প্রতিরোধ করা যায়, সেই প্রশান্তিতে। এমন দৃশ্য দেখা যায়, ৩৭ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে। বিজনের কথায় তিথি খুব বিরক্ত হয়ে তার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার কথা জানান পলাশকে। কিন্তু তখনই তার মনে হয়, চলে গেলে পলাশের গ্যালারিতে থাকা ছবিগুলো তিনি আর ফেরত পাবেন না। সবকিছু মিলে একটা অশান্ত সময় কাটে তিথির। এমন সময় চোখ বন্ধ করলে তিথি দেখতে পান গ্যালারির দেয়াল থেকে ছবিগুলো নামানো হচ্ছে। তারপর তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, একটি ছবি কল্পনা করেন। ছবির দৃশ্য দেখা যায়, মাঠে গরুর গাড়ি, দূরে তালগাছ, আরো দূরে গ্রাম। ছবিটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে আবহে এস্রাজের সুর বাজতে থাকে। সত্যি শিল্পের এমন এক মোহিনী শক্তি আছে! যা মানুষকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। হৃদয়ের গুমরে ওঠা আর্তনাদের ব্যথা নিয়ে নেয় সেই শিল্প। শিল্পী ও দর্শককে দেয় আত্মপ্রশান্তি।
প্রশান্তির এই শিল্প সাধনা করতে করতে শিল্পী আর তার সাধনা এক হয়ে যায়। ফলে শিল্পকর্ম যেনো শিল্পীরই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। কখনো শিল্পী তার কর্মকে সন্তানতুল্য কখনোবা ধর্মাচরণ মনে করে। তাই শিল্পকর্ম শিল্পীর সততার সমান, আদরের আর সম্মানের হয়। সেই আদরের শিল্প কোথায় থাকবে, সেখানে তার যত্ন, শ্রদ্ধা থাকবে কি না, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন শিল্পীর কাছে। তাইতো তিথিকে উদ্দেশ করে বিজনকে এক ঘণ্টা আট মিনিট ১৩ সেকেন্ডে বলতে শোনা যায়,
বিজন : জানো মেয়ে, আমি সারাজীবন এটাই কামনা করেছি। একটা স্পেস, একটা অঞ্চল, যেখানে মানুষ আমার কাজের সামনে বসে ধ্যানমগ্ন হবে। আমি যে মনোযোগ আদর শ্রদ্ধা দিয়ে এদের সৃষ্টি করেছি; তারাও সেই মনোযোগ আদর শ্রদ্ধা দেখাবে। আমরা যেমন মন্দিরে করি, অনেকটা ধর্মাচরণের মতো।
তিথি : কিন্তু জায়গাটা তো একটা রেস্তোরাঁ?
বিজন : আমি ওটাকেই মন্দির বানাবো।
চলচ্চিত্রে যে কোলাজ ফিগারগুলো বিজন সৃষ্টি করেন, সেগুলো সৃষ্টি হয় কলকাতার এক রেস্তোরাঁর জন্য। সেখানকার দেয়ালে মিউরাল হিসেবে স্থাপন হবে সেগুলো। কাজ শেষের পর চিত্রকর্মগুলো কোথায় থাকবে, তা দেখার জন্য হিমেলকে নিয়ে বিজন সেই রেস্তোরাঁ দেখতে যান। দুই ঘণ্টা এক মিনিট ২৬ সেকেন্ডে একটি দৃশ্যে কেবল কিছু জল রঙের ছবি দেখা যায়। যার বিষয় কিছু মানুষ ব্যস্তময় রেস্তোরাঁয় খাচ্ছে, ধূমপান করছে। ভিন্ন কম্পোজিশনে দুটি দৃশ্য। ভয়েজ ওভার সাউন্ডে শোনা যায়, হিমেলকে বিজন জিজ্ঞাসা করছেন,
বিজন : কী দেখছো হিমেল? আমায় বলতো।
হিমেল : এ দেখছি ধান্দাবাজদের পার্লামেন্ট মশাই!
হিমেলের কাছে শুনে, বিজন দেখেন অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে। এরপর বিজন ফিরে আসেন। আর তারপরই পলাশকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি ছবিগুলো দিচ্ছেন না; কেনো, কী কারণে, কিছুই বলেন না। তবে আগেই তিথির সঙ্গে তার কথোপকথনে বোঝা যায়, ওই ব্যস্ত রেস্তোরাঁয় শিল্পের কদর কেউ করবে না; কেউ কখনো হয়তো সময় নিয়ে, শ্রদ্ধাভরে দেখবে না। যেখানে মানুষের জীবনযাপনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে ঘড়ির কাঁটা, লালসায় পূর্ণ হয় মন। সেখানে বিজন হয়তো তার ভালোবাসার চিত্রকর্মকে পাঠাতে চাননি। কেবলই ভালোবাসা নয়, সেখানে লুকিয়ে থাকে শিল্পীর সততা। বিজন তো সবসময় চেয়েছেন, তার শিল্পকর্ম দিয়ে তিনি শিল্পমন্দির বানাবেন। একটা রেস্তোরাঁ আর যাই হোক মন্দির হতে পারে না। শিল্পের পূজাও সেখানে হয়তো বাধাবন্ধ। যদিও এই কাজ বিক্রি করে বিজন অনেক টাকা পেতেন; কিন্তু তিনি অর্থের কাছে মাথা নোয়াননি। তার কাছে শিল্পের মর্যাদাটাই আসল। তিনি চেয়েছেন শিল্পমন্দির বানাতে। যেখানে মানুষ তার ছবির সামনে ধ্যানমগ্ন হবে। বিজন শেষ পর্যন্ত সেটাই করেছেন। এখানেই একজন শিল্পীর সার্থকতা; কেননা শিল্পী শিল্প-পরিপন্থি কোনো বিষয়ের সঙ্গে আপস করে না। তারা শিল্পের সততাকেই মূল্যায়ন করে সর্বাগ্রে।
শিল্প ও শিল্পীর মিথস্ক্রিয়া
আগেই বলেছি, তিথিকে নিয়ে বিজনের ইতি-নেতি দুই ধরনের মূল্যায়নই আছে। তিনি তিথির ‘সিরিয়াসনেস’, ‘আঙুলের ফ্যাশন’ নিয়ে যেমন অবজ্ঞা, হেয় করেছেন, আবার ‘মেয়েটা পারবে, ওর মধ্যে আগুন আছে’ বলেও প্রশংসা করেছেন। বিজন যেমন তিথিকে খুব সহজে গ্রহণ করেননি, আবার তাকে কোনোভাবে বঞ্চিতও করেননি। তবে চলচ্চিত্রজুড়ে এটা বুঝতে কষ্ট হয় না যে, বিজনের ওপর তিথির মারাত্মক রকমের রাগ-ক্ষোভ জমেছে। চলচ্চিত্রে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে দেখা যায়, বিজনের সঙ্গে তিথি উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার নিয়ে তর্ক করছেন।
তিথি : আপনার ওই কালো রঙের ব্যাখ্যা আসলে একটা ক্লিশে।
বিজন : তুমি তো সবই জেনে ফেলেছো দেখছি।
তিথি : হ্যাঁ, তো জানবো না কেনো? মনে করে দেখুন না, ভ্যান গগ-এর কথা। শালা মরতে যাওয়ার আগে মাঠে গিয়ে যে কয়টা ছবি আঁকলো; কী তার রঙ হলুদ, নীল, কী য়েস্থেটিক কালার। আর তারপর মাথায় বন্দুক চালিয়ে মরে গেলো। তারপর ধরুন মাতিস, ওই সকালে যার কথা বললেন। ব্যাটা মরতে বসেছে, হাতে তুলি ধরতে পারে না, তবু ছবি আঁকা চাই। রঙিন কাগজ দে, কী সব, কী সব কোলাজ তৈরি করলো। মরবে তবুও ছাড়বে না, মরতে মরতেও ...।
বিজন : আমার সঙ্গে তর্ক করতে নিশ্চয় পলাশ তোমায় এখানে পাঠায়নি।
তিথি : আপনিও খানিকটা ওই রকম, জানেন? বিদ্যানিকেতনে আপনার মিউরাল দেখেছি, আপনি তখন তো উজ্জ্বল কালার ব্যবহার করতেন না। কিন্তু এখন, যখন আপনি চোখে দেখতে পান না; এখন কিন্তু আপনি ...।
বিজন : অঁরি মাতিস মৃত্যু পথযাত্রী এক নায়ক। ভ্যান গগ যাকে কেউ কোনোদিন বুঝলোই না। জ্যাক্স এন ব্লক মাথা গুলিয়ে যাওয়া এক যুবক। তোমাদের ওই সব মহান শিল্পীদের অপমান করতে লজ্জা করে না! এদের সঙ্গে লড়াই করো তর্ক করো! কিন্তু কোনোদিন ভেবো না, তুমি ওদের বুঝেছো, ওদের ধরে ফেলেছো। পারবে না, কোনোদিন ধরতে পারবে না। ওরা তোমাদের অনেক ঊর্ধ্বে, ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ... শোনো, রেম্বান্টের রাজা বেলসাধারের ভোজ ছবিটা দেখেছো? ওই দেখো ওইখানে (দেয়ালে দেখিয়ে) টাঙানো আছে। ছবিটাতে রাজা বেলসাধারের পিছনের দেয়ালে স্বর্গীয় হস্তাক্ষরে কী লেখা আছে জানো? ... ইউ হ্যাভ বিন ওয়েট ইন দ্য প্যালেটস, অ্যান্ড হ্যাড বিন ফাউন্ডস ওয়ান্টিং কথাটা তোমরা আজকের শিল্পীরা মনে রেখো। তোমাদের তো সবই ফাঁপা। তোমরা শিল্পের আঙিনাকে অপবিত্র করতে এসেছো, রাজা বেলসাধারের মতো।
এই কথোপকথনের পরই তিথি স্টেশনে চলে যান, টিকিট কাটেন, ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ট্রেনে আর ওঠেন না। কারণ চলে গেলে গ্যালারি থেকে ছবিগুলো ফেরত পাবেন না। তিথির প্রতি বিজনের অবহেলা; বিজনের সঙ্গে তার বোঝাপড়ার ফাঁরাক। এই সবকিছু তিথি ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না। তারপরও অনেকটা বাধ্য হয়ে তিনি সেখানে থেকে যাচ্ছিলেন।
চিত্রকর-এর শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, হিমেলকে দিয়ে বিজন একটা খাম পাঠান তিথির কাছে। বোঝা যায়, এটা পারিশ্রমিক। দুই ঘণ্টা ৩৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে তিথিকে খামটি দেন। কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু তখনো তিথির তীব্র ক্ষোভ-অভিমান বিজনের প্রতি। হিমেলের সঙ্গে তিথির কথোপকথনে সেটা পরিষ্কার হয়।
তিথি : বিজন বোস মারা গেছেন, তো আমি কী করবো! আপনি, রামানন্দ দা ফোন করে করে আমায় তো পাগল করে দিলেন মাইরি।
হিমেল : কর্তা মশাই আপনার জন্য এই খামটা রেখে গেছেন।
তিথি : আমারও যা অবস্থা, আসতেই হলো। আপনাদের কর্তা মশাইয়ের ছাত্র পলাশ একটা শুয়োরের বাচ্চা! গ্যালারির টাকা দিতে পারিনি বলে সমস্ত ছবি বিক্রি করে পুরো টাকাটা মেরে দিলো। আর আপনাদের কর্তা মশাই এতোটা সময় যে খাটলাম একটা পয়সাও তো ... । তখনই জানতাম, এরকমই কিছু একটা হবে। নিজে ডুবলেন, আমাকেও ডুবালেন। এতোগুলো টাকা এরকম ভাবে কেউ ছেড়ে দেয়! যাকগে বিদ্যানিকেতনের বাসটা কখন ছাড়ে যেনো?
হিমেল : এবার ছাড়বে। আপনি চলুন ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
তিথি : তা উনি মরলেন কী করে?
হিমেল : ওই বিদ্যানিকেতনে মাসখানিক ধরে যাতায়াত করছিলেন তো; আপনারা যে কাজটা করলেন আর কী, সেটা ওখানেই লাগানো হয়েছে। খুব খাটুনি গেছে জানেন! কাজটা শেষ করার পরেই, রাতে ঘুমের মধ্যেই। উনার মন্দির তৈরি হয়েছে ওখানে, যান দেখতে পাবেন। একটু চা খেয়ে যান।
তিথি : না না, আমার চা-টা খাওয়ার সময়-টময় নেই।
হিমেল : কর্তা মশাই আপনার জন্য এটা রেখে গেছেন।
তিথি : কী এটা?
হিমেল : চেক, আপনার পারিশ্রমিক। চলুন।
তিথি বিস্ময় ভরে খামটা খুলে দেখেন এক লাখ টাকার চেক। তারপরও ক্ষোভ-অভিমান যেনো শেষ হয় না। এরপর তিথি বিদ্যানিকেতনে যান, মন্দির দেখতে।
দুই ঘণ্টা ২২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বিদ্যানিকেতনের বিজন মন্দিরের সামনে দেখা যায় তিথিকে। সাইনবোর্ডে ‘জুতা খুলে প্রবেশ করুন’ লেখা থাকলেও ভীষণ অবজ্ঞা ভরে জুতা পায়েই সেখানে তিথি ঢুকে যান। ভিতরে ঢুকে খানিক ঘুরে দেয়ালে সাজানো মিউরাল দেখে মনে হয় স্তব্ধ হয়ে যান তিথি। তিনি পা থেকে জুতা খুলে ফেলেন, একপর্যায়ে মিউরালের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। যেমনটা বিজন চেয়েছিলেন।
লেখক : নাজমা পারভীন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী।
তথ্যসূত্র
১. প্রাচী, রোকেয়া; ‘অভিনয় ও পেশাদারিত্ব’; ম্যাজিক লণ্ঠন; সম্পাদনা : কাজী মামুন হায়দার; বর্ষ ৭, সংখ্যা ১৪, জানুয়ারি ২০১৮, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ২৬২।
২. সিবানেসান, হেমা; ‘শিল্পের আধুনিকতা’; শিল্প ও শিল্পী; অনুবাদ : সুব্রত বড়ুয়া; সম্পাদনা : আবুল হাসনাত; বর্ষ ৫, সংখ্যা ১, নভেম্বর ২০১৫, পৃ. ৮৪।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন