অনিক ইসলাম
প্রকাশিত ০৩ মে ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
বায়োপিক চলচ্চিত্র সঞ্জু
বর্ণাঢ্য এক শিল্পী জীবনের, উদ্দেশ্যমূলক বয়ান
অনিক ইসলাম

বায়োপিক চলচ্চিত্র সঞ্জু
বর্ণাঢ্য এক শিল্পী জীবনের, উদ্দেশ্যমূলক বয়ান
একটু ভাবলেই বোঝা যায়, বর্তমান পৃথিবী দম বন্ধ হয়ে আসা এক স্থান ও অনুভূতিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা চার ডিগ্রি বেড়ে গেছে, ওজন স্তরে এতো বড়ো ছেদ হয়েছে যে তা দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ছে অপরিশোধিত সূর্যের আলো। অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, বিজ্ঞানীরা বলছে আর দুইÑতিন বছরের মধ্যে যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন করা না যায়, তবে আর কোনোদিন এটা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। বোধহয় সেই থেকেই হবে এই পৃথিবীর শেষের শুরু। শুধু তাই নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা চাপে মানুষ যেনো বৃহৎ এক জেলখানার বাসিন্দা হয়ে পড়েছে। শান্তি যেনো বজ্রপাতের মতো হঠাৎ ঝলকানি দিয়ে আবার শূন্যে মিলিয়ে যায়।
ধনী-গরিবের পার্থক্য এতোটা বেশি হয়ে পড়েছে যে, তাদের একই প্রজাতি বলে ঠাওর করাটাও মুশকিল। এই দমধরা পরিবেশ থেকে বাঁচতে কেউ নিজেকে মাদকের কাছে সঁপে দিচ্ছে, কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, আবার কেউ ভিতরে ভিতরে গুমরে চলে যাচ্ছে ডিপ্রেশনে। আর যারা ‘ভাগ্যবান’ তারা এখনো কোনোমতে যুদ্ধটা জারি রেখেছে এবং নিজেদের বিনোদনের জন্য নানারকম শিল্প কিংবা ক্রীড়াকে আশ্রয় করছে। তো এই বর্তমানে, মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র। তবে বাংলাদেশে এই মাধ্যমের বিকাশ এবং সম্ভাবনা নিয়ে যে রকম কাজ, গবেষণা হওয়া দরকার, ততোটা কখনোই হয়নি বা এখনো খুবই কম হচ্ছে। এ খাতে তেমন কোনো বরাদ্দও হতে দেখা যায় না। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু মানুষ নিজ উদ্যোগে এই গবেষণাগুলো করছে; প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র ও তার গুরুত্ব/প্রভাব নিয়ে কাজের বড়ো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড়ো শক্তি হলো, এটি একটি সম্মিলিত শিল্প। এখানে প্রায় সব শিল্পের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, যেটি আসলেই বিশেষ কিছু। বোধহয় ঠিক সে কারণে মানুষের মনোজগতে চলচ্চিত্রের মতো করে প্রভাব আর অন্য কোনো মাধ্যমের পক্ষে রাখা কঠিন।
দুই.
প্রতিবেশী দেশ ভারতে নানা কারণে বেশ কয়েকবার আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে বিগত ২২Ñ২৩ বছরে। সেখানকার মানুষের সঙ্গে মেশার সুবাদে এবং বই-পুস্তক থেকে আসা জ্ঞান থেকে আমি দেখেছি, বুঝেছি অসংখ্য ভাষা ও হাজারো ভিন্ন কৃষ্টি-কালচারের দেশ ভারত। এরকম বিচিত্র দেশ খুব বেশি পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তার পরও ভিন্ন ভিন্ন প্রকার, সংস্কৃতি ও মনোজাগতিক বৈশিষ্ট্যের মানুষের এক রাষ্ট্রের অধীনে থাকাটা বেশ বিস্ময়করই। নিশ্চিতভাবেই এই রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ধারণা উৎপাদন করা আবশ্যক ছিলো, যাতে করে ভিন্ন ভিন্ন সব মানুষকে নির্দিষ্ট অনুভূতির তলায় আনা যায়। আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যেই বেশকিছু আদর্শিক কারণ তাদের তৈরি করতে হয়েছে, কল্পিত শত্রু তৈরি করতে হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে একটি অনিঃশেষ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে রাখতে হয়েছে। এখন আরো শক্তিশালী শত্রুর দরকার পড়ছে, সে কারণে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী শক্তির নজর পড়েছে চিনের দিকেও। জনমানসকে সর্বদা একটা যুদ্ধকালীন অবস্থায় রাখা, যেনো মানুষ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে না থেকেও প্রতিদিন লড়ছে সেই সব শত্রুর বিরুদ্ধে। যাহোক, এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাটাতন এটি নয়।
তবে আমি মনে করি, ভারতীয় এই জাতীয়তাবাদ তৈরিতে আরো অনেক কিছুর পাশাপাশি ক্রিকেট এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশেষ করে বলিউডের বড়ো ভূমিকা আছে। এর থেকে চলচ্চিত্রের প্রচণ্ড শক্তি ও সম্ভাবনার আঁচ পাওয়া যায়। সে কারণে প্রপঞ্চ হিসেবে ভারতীয় চলচ্চিত্র সবসময় আমার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো। কলকাতার মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা আমার এই বেশকিছু দিনে তৈরি হয়েছে। তাই আমার ইচ্ছে ছিলো পশ্চিমবেঙ্গর নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার। এটা কখনোই একটি দুটি চলচ্চিত্র বা শো দেখে বোঝা সম্ভব না। কিন্তু সেই পর্যাপ্ত সময়টা এই যাত্রায়ও করে উঠতে পারলাম না।
এবারের কলকাতা যাওয়াটা আর দশটা বারের মতো ছিলো না। বলা যায় হাজারটা কাজ মাথায় নিয়ে যেতে হয়েছিলো। কিন্তু মাথায় এটাও ছিলো যে, বলিউডের অন্যতম বর্ণময় চরিত্র সঞ্জয় দত্তের ওপর করা বায়োপিকটা মুক্তি পেয়েছে, যেভাবেই হোক এটা দেখতে হবে। তবে সত্যিই এমন মুহূর্ত তৈরি হয়েছিলো যে, ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, বোধহয় চলচ্চিত্রটি এবার না দেখেই ফিরতে হবে। ভাগ্যিস সেটা হয়নি, হলে কী মিসটাই না হতো; আর সবচেয়ে বড়ো কথা ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করতে পারতাম না রাজকুমার হিরানি পরিচালিত, রণবীর কাপুর অভিনীত সঞ্জু’র কথা।
হাতে খানিক সময় পেতেই ছুটলাম আশপাশে কোনো প্রেক্ষাগৃহ আছে কি না, যেখানে ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টার মধ্যে সঞ্জুর শো শুরু হবে। আমি ছিলাম ই এম বাইপাসের কাছাকাছি একটি এলাকায়; ওখানে হাইল্যান্ড পার্ক বলে একটা জায়গা আছে, যেখানে আইনক্স-এর একটা দারুণ মাল্টিস্ক্রিন সিনেমা থিয়েটার আছে। ওখানে আমি এর আগেও অনেকবার চলচ্চিত্র দেখেছি, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এবার খুব বাধ্য না হলে ওখানে দেখবো না। দু-এক জনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানলাম, একটু দূরে ‘এক্রোপলিস’ নামে একটি মল আছে যেখানে ‘সিনেপোলিস’ নামে একটি মাল্টিপ্লেক্স আছে। মলটি রুবি হাসপাতাল থেকে একটু দূরে, রাজডাঙ্গা রোড ধরে পাঁচÑছয় মিনিট অটোরিকশার পথ। মলের সামনে পৌঁছে তো চক্ষু চড়কগাছ, আরে এ যে কোটিপতিদের হাট! মলের একদম গা ঘেঁষে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, মল থেকে স্টেডিয়ামটি দেখতে দুর্দান্ত লাগে, একটা বার্ডস আই ভিউয়ের মতো দেখা যায়।
ঝাঁ চকচকে মার্বেল পাথরে বাঁধানো মলের সামনের অংশটা দেখতে অসাধারণ। অনেককেই দেখলাম সেই মার্বেল পাথরের বেদীর উপরে বসে গল্প করছে, ওদের পোশাক এবং ভিতরে ঘুরে বেড়ানো মানুষের পোশাক দেখে মনে হলো কোথাও একটা অদেখা বিভেদরেখা আছে; যার কারণে সমাজের একটা শ্রেণি মলের ভিতরে খুব বেশি ঢুকছে না। একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক দেশে একজন নাগরিক বিশেষ কোনো জায়গা ছাড়া সব জায়গায় যেতে পারে, কিন্তু এসব মলগুলো এমন আভিজাত্য ও ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে, সহজে কোনো নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ওখানে প্রবেশ করে না। এ যেনো এক অদৃশ্য কারফিউ। এ কারফিউ একজন দরিদ্রকে নিজের ভিতরে চাপতে চাপতে এমন সঙ্কুচিত করে ফেলে যে, সে নিজেই নিজের অচেতনকে নির্দেশ দিয়ে রাখে, ওই সব জায়গায় যাওয়ার যোগ্যতা তার নেই। আগেকার দিনে অভিজাতদের রেস্টুরেন্টের সামনে লেখা থাকতো ‘ডগস্ অ্যান্ড নিগ্রোস আর নট এলাউড’, এখনকার দিনে অভিজাতদের আর সেই অমানবিক কাজটি করা লাগে না। তার বদলে তারা মানবিক কারফিউয়ের এক মোহর মেরে দেয় দরিদ্রদের চেতনার সংবিধানে, আর সেই অদৃশ্য শিকলেই সে আটকে থাকে আমৃত্যু। শুধু মানুষের ক্ষুধাই নয়, এই মানবিক অদৃশ্য শিকলও পুঁজিবাদ ও শোষণের রিমোটের গুরুত্বপূর্ণ বোতাম। যে কারণে মলের একদম সামনের ফুটপাতের খাবার দোকানিকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, ওখানে কখনো চলচ্চিত্র দেখেছেন কি না? তিনি অনেকটা আঁতকে ওঠার ভঙ্গিতে বললেন, ‘ওহ বাবা যা খরচা ওখানে’। ভিতরে হাঁটতে হাঁটতে নিজেও উপলব্ধি করলাম মলের ভিতরের বাতাসও নিঃশ্বাস নিতে চাওয়া গরিবকে বলে দেবে যে, এ বাতাস তোমার জন্য নয়।
তবে এখানে দর্শকের ইনভলভমেন্ট দেখে একটা বিষয় স্বীকার না করলে অন্যায় হবে যে, চলচ্চিত্রকে ওরা খুব সিরিয়াসলি নেয়। ‘চলো সিনেমা দেখতে দেখতে কিছু টাইম পাস করে আসি’¾এমন দর্শক মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে খুব কমই দেখেছি আমি। তবে হ্যাঁ, সেল্ফির ফেরিওয়ালাদের সরব উপস্থিতি ওখানেও জ্বলজ্বলে। মাল্টিপ্লেক্সে যারা চলচ্চিত্র দেখতে আসছে তাদের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসেছে এমন খুব কম মানুষকেই দেখেছি। শহুরে ছোটো পরিবারের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এটা যেমন সত্যি, আবার এক্সটেন্ডেড পরিবারের গল্প নিয়েও যে খুব বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে তেমনটাও না। এতে একধরনের ভাইস-ভার্সা আছে বা একে দুষ্টচক্রও বলা যেতে পারে। সঞ্জু’র টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি শো শুরু হতে এখনো ঘণ্টা খানেক বাকি। এই সুযোগে আরেকটু ঘুরতে গিয়ে বুঝলাম, এখানে যে দরিদ্ররা প্রবেশ করে না এটা এ ধরনের মলের দুর্বলতা নয় বরং সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন।
তিন.
চলচ্চিত্র শুরুর সময় হলে ঢুকে পড়ি থিয়েটারের ভিতরে। ঢুকেই কেমন একটা ভালোলাগা ও সম্ভ্রম জাগে থিয়েটারটির প্রতি¾গোছানো, ছিমছাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সবটা নিয়ে যেনো হাজির হয়েছে থিয়েটারটি। টিকিটের উচ্চমূল্যের একটা ব্যাখ্যা যেনো তৈরি হয়ে যায় এক ঝলকেই। কর্মীরা খুবই আন্তরিকতা নিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিলো দর্শকের নির্দিষ্ট আসনগুলো। চলচ্চিত্র শুরুর আগে থিয়েটারময় যে গুনগুন শব্দটা ছিলো, তা বন্ধ হয়ে গেলো চলচ্চিত্র শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। এ যেনো ম্যাজিক, এরকম প্রতিক্রিয়া আমি অন্তত কখনো দেখিনি। আগেই বলেছি, এটি সঞ্জয় দত্তের ওপর নির্মিত একটি বায়োপিক। এ প্রসঙ্গে একটু পরিষ্কার হয়ে নেওয়া দরকার যে বায়োপিক কাকে বলে বা বায়োপিক আসলে কী? কেমব্রিজ ডিকশনারিকে হুবহু কোট করলে বায়োপিক হলো, ‘A film about the life of a real person’। এখন এই সংজ্ঞাকে মাথায় রাখলে মনে দুটো প্রশ্ন ঘুর ঘুর করে।
এক. বায়োপিক বলে আসলে কি কিছু হয়?
দুই. কেনো সঞ্জুর বায়োপিক?
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর আমরা লেখার শেষার্ধে খোঁজার চেষ্টা করবো।
প্রথম প্রশ্নটির আমার নিজের একটা উত্তর আছে, যেটা সঞ্জু দেখার পর আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। সেটা হলো, সত্যিকার অর্থে বায়োপিক বলে কিছু হয় না। কারণ কারো জীবনকে এই আড়াইÑতিন ঘণ্টায় কখনো বর্ণনা করা যায় না। বায়োপিকগুলো আসলে একপ্রকারের ‘চুজেন রিয়েলিটি’। যেখানে একজন মানুষের সমগ্র জীবন থেকে নির্মাতা তার নিজ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো সেচে নেন। এখানে নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি মাছ ধরা জালের ভূমিকা পালন করে, জাল কতোটা নিদ্রি তার ওপর নির্ভর করে কতো সূক্ষ্ম ঘটনা আটকাবে সেখানে। এর পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়াতে আরো দুটো ব্যাপার অনুঘটকের মতো কাজ করে। এক. যার ওপর বায়োপিকটি হচ্ছে তিনি কিংবা তার পরিবার কতোটা সত্য সামনে আনতে চান।
দুই. বাজারে সেটা কতোটা চলবে। দুঃখজনক হলেও সত্য দুইটি ভাবনায় সঞ্জুর নির্মাণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। অন্য কোনো নির্মাতা হলে সেটা মেনে নেওয়া সহজ হয়। যেমনটা আমরা ২০১৫-তে টনি ডি’সুজার পরিচালনায় ক্রিকেটার আজহারকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের বেলায় দেখেছি। যেখানে আজহারকে প্রায় দেবতার পর্যায়ে ঠেলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্মাতা যখন রাজকুমার হিরানি, তখন দর্শকের মাথার পাশাপাশি মনেও একধরনের খেলা চলতে থাকে, সেটা হলো সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। যে প্রত্যাশাটা আসলে একদিনে তৈরি হয়নি। হিরানি নিজেই নিজেকে সেই জায়গাটাতে নিয়ে গেছেন। মুন্নাভাই এমবিবিএস থেকে শুরু করে পিকে পর্যন্ত। হিরানির এমন একটা চলচ্চিত্র পাওয়া যাবে না, যেখানে তার চলচ্চিত্রটি মানুষের আবেগের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেনি। তাহলে বায়োপিক সঞ্জু’র বেলায় কী হলো! সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্বই কি হিরানির অনুসন্ধানী সত্তার পথের বাঁধা হয়ে পড়লো, নাকি বাজারি সাফল্যের হিসাবনিকাশ হিরানিকে বুঁদ করে ফেলেছিলো! উত্তরটা যাই হোক, এই প্রশ্নটিই হিরানির ভক্ত হিসেবে আমাকে ধন্দের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
যদি বক্স অফিসের কথায় বলতে হয়, তবে সঞ্জয় দত্তের যে জীবন এবং তাকে নিয়ে যে উন্মাদনা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকের মধ্যে তাতে সাফল্য একপ্রকার নিশ্চিত ছিলো। কারণ রোলার কোস্টারের মতো উত্থান-পতনে ভরপুর সঞ্জয়ের জীবনে চড়াই-উৎরাই এতোটাই বেশি যে, সেটি এমনিতেই আর দশটা জীবন থেকে যোজন যোজন আলাদা; যা কোনো বায়োপিকের প্রথম ‘বাজারি’ শর্তও বটে। কী নেই তার জীবনে? একে তো বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রী সুনীল দত্ত ও নার্গিসের সন্তান, যে সুনীল দত্ত নিজে পরে জনপ্রিয় এম পি হয়েছেন। সঙ্গে নিজেও ক্যাসিনোভা ইমেজ সমৃদ্ধ সুপারস্টার, সমাজে প্রচলিত পুরুষত্বের উজ্জ্বল বাতিঘর তিনি। যে কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অসংখ্য ভক্তকুল তার। সেখান থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়া, তারপর মাফিয়া কানেকশন এবং সবশেষে কুখ্যাত মুম্বাই বিস্ফোরণে আসামি হওয়া; আর এসবের মধ্য দিয়ে একসময় বলিউডে ‘বাবা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া। সঞ্জয়ের বোন প্রিয়া দত্তও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের রাজনীতির মধ্য দিয়ে এম পি নির্বাচিত হন। সঞ্জয় দত্তের এই যে জীবন, যেখানে ভারতের অন্যতম দুটো প্রভাবশালী প্রপঞ্চ রাজনীতি ও চলচ্চিত্র সর্বাঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে, সে জীবনটা এমনিতেই তো একটি চলচ্চিত্রিক জীবন। বাজারের কথাও যদি ভাবা হয়, তাহলেও এটি সর্বাপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত বায়োপিক, এই সত্যে ইন্টারফেয়ার না করলেও পারতেন নির্মাতা। বরং সঞ্জয় দত্তের জীবনের যতোটুকু বলেছেন নির্মাতা, ততোটুকুও যদি সততার সঙ্গে বলতেন, তবে বক্স অফিস তো থাকতোই সঙ্গে বাহবাটাও আর কেউ না নির্মাতা নিজেই পেতেন।
চলচ্চিত্রে দেখা যায়, প্রভাবশালী বাবা-মার আদরে বড়ো হওয়া সন্তান সঞ্জয় দত্ত। যে আদরের আতিশয্যেই হোক কিংবা বাবা-মার লালন পালনের ব্যর্থতাতেই হোক ছোটোতেই বখে যায়। ধূমপান থেকে মদ্যপান সবটাই তার ছোঁয়া পেতে থাকে মোটামুটি কৈশোর থেকেই। জীবনে কোথাও কোনো সমস্যা না দেখা স্টার কিড সঞ্জু তর তর করে পাড়ি দিতে থাকে জীবন; আর পৌঁছে যায় হাজারো মানুষের আরাধ্য স্বপ্ন বলিউডের সেলুলয়েডে, বাবার সৌজন্যে। তারপর তার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়া, নিজে মাদকে জড়িয়ে পড়া, মায়ের চিকিৎসায় আমেরিকায় যাওয়া এবং সেখানে জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া। এরপর দেশে ফিরে আরো ভয়াবহভাবে মাদকে জড়িয়ে পড়া, গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাওয়া, এর মধ্যে মায়ের মৃত্যু। এই মৃত্যু সঞ্জয়কে জীবনের প্রথম ধাক্কাটি দেয়, যেখানে জীবনকে বুঝতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন এবং জড়িয়ে যান মাদকের অতল গভীরে।
এ ঘটনার এক সপ্তাহ পরই নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের প্রথম প্রদর্শনী। এরপর শুরু হয় সঞ্জুর জীবনের অন্যতম কঠিন লড়াই, প্রায় দেড় বছর আমেরিকার একটি রিহ্যাবে কাটানো, সেখান থেকে ফিরে নতুন করে ক্যারিয়ার গড়া, একই সময়ে মাফিয়াদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এবং সবশেষে মুম্বাই বিস্ফোরণে আসামি হয়ে সন্ত্রাসী পরিচিতি পাওয়া। শুরু হয় নিজেকে সন্ত্রাসী মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণের লড়াই। এ লড়াই আরো কঠিন, সবাই আঙুল তুলছে, সংবাদপত্র কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই তাকে ‘টেররিস্ট’ বানিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ক্রমাগত মিডিয়ার কুড়মুড়ে সংবাদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া সঞ্জয় দত্তের জীবনের সত্যিটা বলবে কে? তাই যোগাযোগ করা হলো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জীবনীকার বিনির (অনুষ্কা শর্মা) সঙ্গে। এই হলো মোটামুটি চলচ্চিত্রের মূল গল্প। যেখানে আমরা সঞ্জয়ের জীবনের অনেক ঘটনার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখেছি আবার গোটা চলচ্চিত্রে শুধু বিশেষ কিছু ঘটনার ওপর বেশি জোর দিতে দেখেছি। তবে একটা ব্যাপার, চলচ্চিত্রে সঞ্জয়ের বোন প্রিয়া দত্তকে বিক্ষিপ্তভাবে নানা দৃশ্যে দেখা গেছে, তাকে আরো খানিকটা ছুঁয়ে গেলেই পারতেন নির্মাতা। এই হাহাকারটা আর কোনো চরিত্রকে নিয়ে হয়নি। কেনো জানি মনে হয়, যে গল্প আমরা দেখেছি সেখানটাতে আরো কিছু যোগ করার ছিলো প্রিয়া দত্তের। ন্যারেটিভসে অন্য একটা অ্যাঙ্গেল পাওয়া যেতো তাতে।
সঞ্জু শেষ হয় হিপহপ ধরনের এক র্যাপ দিয়ে, ‘বাবা বোলতা হে আভি বাস হো গায়া’। গানজুড়ে গণমাধ্যমকে তুলোধোনা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রিপোর্টারের মা-বাবা তুলে পর্যন্ত গালি দেওয়া হয়েছে। এই প্রয়াসটা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নানাভাবে করে যাওয়া হয়েছে চলচ্চিত্রজুড়ে। কিন্তু গণমাধ্যম ঠিক কী করেছে যে তাকে এভাবে বিদ্ধ করতে হলো? চলচ্চিত্রে দেখি দাঙ্গা বিধ্বস্তদের জন্য যে ত্রাণসামগ্রী দত্ত বাড়ির আঙিনায় রাখা ছিলো, তা কোনো এক অতি উৎসাহী সাংবাদিক কোনো কিছু না জেনেই আর ডি এক্স ভর্তি ট্রাক বলে লিখে দিয়েছিলো। কিন্তু এটাও মনে রাখা আবশ্যক যে গণমাধ্যম যদি সঞ্জুর বাবার প্রতি সহানুভূতিশীল না হতো, তবে কারাগার জীবনটা এতো সহজ হতো না তার। সাজা চলা অবস্থাতেই এতো অনায়াসে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আরব সাগরের হাওয়া গায়ে মাখতে তিনি পারতেন না। এমনকি ৬০ মাসের সাজা মাত্র ৪২ মাস খেটেছেন সঞ্জয়, যা খোদ মুম্বাই আদালতই মেনে নিতে পারেননি।
নির্মাতার আরো মনে রাখা উচিত ছিলো যে, টাডা [Terrorist and Disruptive Activities (Prevention) Act] আদালতের রায়ে সন্ত্রাসবাদী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। কিন্তু সে রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলই সেসময় সি বি আই করেনি। ভারতবর্ষে আর কয়জনের এমন সৌভাগ্য হয়! কিন্তু এসব নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য সেসময় করেনি গণমাধ্যম, করলে পরিস্থিতিটা এতোটা সহজ হতো না বলিউডের আদুরে সঞ্জু বাবার জন্য। নির্মাতা এসব ব্যাপারে খুব বেশি দৃষ্টিপাত করেছেন বলে বোধ হলো না। আমি এর আগেও বলেছি, সঞ্জুতে কোথায় যেনো সততার জায়গাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কারণ সঞ্জয় দত্তের জীবনের যতোগুলো অন্ধকার দিক দেখানো হয়েছে (মানে যেটুকু দেখানো সম্ভব হয়েছে আর কী!) তার প্রত্যেকটির ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাতে তাকে পরিস্থিতির শিকার বলে দেখানোর আসুরিক প্রয়াস চলেছে, যা কোথাও না কোথাও হিরানিকে মহৎ নির্মাতা থেকে নামিয়ে দারুণ নির্মাতা করে ছেড়েছে!
বিষয়টা এমন যে, নাদান সঞ্জু কেবল না বুঝে নানা ফাঁদে জড়িয়েছেন। তার অবসাদগ্রস্ততার জন্য দায়ী বাবার ব্যক্তিত্বের পাহাড় প্রমাণ চাপ; মাদকের মৎসবে ভেসেছেন অসৎ সঙ্গে পড়ে; আবার বাড়িতে অ্যাসল্ট রাইফেল রেখেছেন তাও নাকি বাবাকে নিরাপত্তা দিতে। অথচ দত্তদের আগে থেকেই তিন তিনটি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো। সঞ্জয় দত্ত যে তিনটি চিনা অ্যাসল্ট রাইফেল নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন, তা ছিলো মুম্বাই হামলার জন্য আসা লুটের অস্ত্র, যা পরবর্তী সময়ে মুম্বাই পুলিশের তদন্তে এসেছিলো। সঞ্জয় দত্তের অনেক কিছুতেই চলচ্চিত্রের প্রলেপ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা বন্ধু হিরানি করেছেন, কিন্তু বন্ধুর একটি বিষয়কে একদম সিনা ঠুকে প্রচার করেছেন তিনি, সেটি হলো বন্ধুর অনিঃশেষ লিবিডো। তাই জীবন থেকে অনেক ঘটনা বাদ দিলেও হিরানি বেস্ট ফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে সঞ্জুর শোয়ার ঘটনাটিকে বাদ দিতে পারেন না। আরো দুঃখ লাগে যখন দেখি সঞ্জু ক্যারেক্টারলেস বলছেন, সেই মেয়েটিকেই! যেখানে চলচ্চিত্রে সঞ্জু বাবা নিজ মুখেই বলছেন, পতিতা বাদ দিলে প্রায় সাড়ে তিনশো আলাদা আলাদা নারী সঙ্গে শুয়েছেন তিনি। আর এটাই চলচ্চিত্রে ব্যক্তি সঞ্জু দত্তের ট্যাগ লাইন। এই দৃশ্য দেখে যখন গোটা সিনেমা থিয়েটার হাততালিতে ফেটে পড়লো, তখন একটুও অবাক হইনি আমি, আরে এটাই তো এখনকার দিনের পৌরুষ মাপার প্যারামিটার, তাতে বরাবরই ফার্স্ট বেঞ্চের ছাত্র আমাদের সঞ্জু বাবা!
চার.
সঞ্জু’তে অভিনয়ের কথা বললে বলবো রণবীর ভালোভাবেই উৎরে গেছেন সঞ্জয় দত্তের মতো মানুষকে পর্দায় নিয়ে আসার কঠিন চ্যালেঞ্জে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রণবীর দুর্দান্ত ছিলেন, কিন্তু সামান্য কয়েক সময় মিমিক্রি মনে হয়েছে। জিমি সার্ব ড্রাগ পেডলারের চরিত্রে মনে ছাপ ফেলেছেন, তার উচ্চারণটাই দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলতে যথেষ্ট। পরেশ রাওয়াল ভালো অভিনয় করেছেন তবে কয়েকবার মনে হয়েছে ওভার অ্যাক্টিং করছেন তিনি। আসলে সুনীল দত্তকে মোটামুটি দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যাবার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। মণীষা কৈরালা দারুণ অভিনয় করেছেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮ তে যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, নিজে ক্যান্সারের এই ভয়ঙ্কর লড়াইটা শেষের পর আবারও ক্যান্সার আক্রান্ত নার্গিস দত্তের চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছিলো? উনি বলেছিলেন, ‘খুব ভয় পাচ্ছিলাম, অতীতের সব অনুভূতি ফিরে ফিরে আসছিলো। কিন্তু নার্গিসজির রোলটা হারাতে চাইনি।’ আরেকজনের অভিনয় আমি অসম্ভব এনজয় করেছি¾যা মাত্র কয়েক মিনিটের¾মুম্বাইয়ের মাফিয়া কিঙ ভান্ডু দাদা। তবে আমার কাছে চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো সঞ্জয় দত্তের বন্ধু কমলেশ (ভিকি কৌশল)। বলিউড এক নতুন হীরার সন্ধান পেলো যেনো! এতোদিন সবাই ওকে প্রতিশ্রুতিশীল বলছিলো, এখন থেকে শুধু ওকে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্র হতে থাকবে। ভিকি কৌশল এমন একটি পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন সঞ্জুতে যাতে নিশ্চিন্তেই বলা যায়, এ ছেলে হারিয়ে যাবে না। চলচ্চিত্রের আবহসঙ্গীত তেমন একটা দাগ কাটেনি মনে, গানগুলো ঠিকঠাক কিন্তু ‘কার হার ম্যায়দান ফাতেহ’ গানটির দৃশ্যায়ন, গায়কী সবমিলিয়ে এতো দুর্দান্ত যে মনে থেকে যায়।
সঞ্জু টেকনিকালি প্রায় নিখুঁত এবং রাজকুমার হিরানির চলচ্চিত্র যে এতোটা জমাট, নিরেট ও নিশ্চিদ্র হয়ে ওঠে তার বড়ো কারণ এর কাহিনি, সংলাপ ও পরিচালনার পাশাপাশি নিজ হাতে সম্পাদনাটাও হিরানি নিজেই করেন। চলচ্চিত্রে একটা বহুল প্রচলিত কথা হচ্ছে, চলচ্চিত্র আসলে তৈরি হয় লেখার টেবিলে, আর সম্পাদনা প্যানেলে। সম্পাদনা যে কতো গুরুত্বপূর্ণ তা একটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে¾চলচ্চিত্র সম্পাদনা করার সময় নাকি হিরানি প্রায় দুইÑতিন মাস দরজা বন্ধ করে থাকেন, খাবার-দাবারও একা একা করেন নিজের সম্পাদনা কক্ষেই। আসলে কোন দৃশ্যটি কতোটুকু দেখানো হবে, কোনটি আগে কোনটি পরে¾একই ‘র’ ফুটেজ থেকে একদম ভিন্ন ভিন্ন গল্প পাওয়া যায় শুধু এডিটরের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনবোধ ও আলাদা গল্প বলতে চাওয়ার তাড়না থেকে। লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার, পরিচালক ও এডিটর যখন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি হন তখন কল্পনা ও আবেগের যে নিরবিচ্ছিন্নতা ও প্রবাহ তা বাধাগ্রস্থ হয়। কারণ কল্পনাই বলি বা আবেগ, ওটা তো আর রিলে রেসের ব্যাটন না যে লেখক সিনেমাটোগ্রাফারের হাতে তুলে দেবে; সে পরিচালকের হাতে আর পরিচালক এডিটরের হাতে তুলে দিয়ে রেস সম্পন্ন করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, হিরানির চলচ্চিত্রগুলো আর দশটা দারুণ বলিউডি চলচ্চিত্র থেকে একটু বেশি কিছু হয় তিনটি ভূমিকাতেই তার সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে।
পাঁচ.
সঞ্জু এমন এক চলচ্চিত্র যা আপনাকে হাসাবে, কাঁদাবে এবং এই চক্রটি চলচ্চিত্রজুড়েই চলতে থাকবে। কারণ চলচ্চিত্রটি আসলে সম্পর্কের গল্প বলতে চেয়েছে। মা-ছেলের সম্পর্ক, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বাবার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক। যেখানে আমরা দেখি ছেলে কারাগারে বিনা তোষক ও ফ্যান ছাড়া ঘুমায় বলে বাবা মেঝেতে চাদর পেড়ে ফ্যান বন্ধ করে ঘুমান। সবশেষে বলতে পারি চলচ্চিত্র হিসেবে সঞ্জু দুর্দান্ত কিন্তু বায়োপিক হিসেবে কেমন সে প্রশ্ন ভেসে বেড়াবে আরব সাগরে আরো বহুদিন। কারণ শক্তিশালী চলচ্চিত্র আর যাই হোক বাজারের স্রোতে ভেসে যায় না, বরং নিজে আরেক ধরনের দর্শক তৈরি করে। সঞ্জু কি সেটা পারলো?
লেখক : অনিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পূণ্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
anikislam.ru@gmail.com
https://www.facebook.com/aislam.ru
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন