Magic Lanthon

               

সুসান ব্লক, ভাব-ভাষান্তর : মাজিদ মিঠু

প্রকাশিত ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

আমার পর্নতারকা বান্ধবী

সুসান ব্লক, ভাব-ভাষান্তর : মাজিদ মিঠু


সুসান ব্লক যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে বসবাসকারী একজন সেক্স থেরাপিস্ট। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই সেক্স থেরাপিস্ট ‘টেন কমান্ডমেন্টস অব প্লেজার বইটির জন্য সমধিক পরিচিত। তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে শো হোস্ট করে থাকেন। তেমনই একটি শোর অভিজ্ঞতায় তার এই প্রবন্ধ। ইংরেজি ভাষার মূল প্রবন্ধটি পড়তে যেতে পারেন-www.counterpunch.org/2010/11/12/my-porn-star-girlfriend/; retrieved on: 20.04.2018এই লিঙ্কে।


নতুন প্রজন্মের পর্নতারকাদের কাছে পর্নোগ্রাফি এখন আর কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটাকে তারা সম্মানজনক পেশা হিসেবেই দেখে। অনেক যুবক-যুবতী, নারী আছে যারা অপেক্ষাকৃত কমবয়সিদের সঙ্গে সেক্স করতে চায়-এমন অনেকেই আসছে পর্নোগ্রাফিতে। বিষয়টা মোটেও এমন নয় যে, তারা দুর্ঘটনাবশত মাদকের টাকা জোগাতে কিংবা হলিউডে ঢোকার স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় পর্নোগ্রাফি করছে। তারা সুস্থ মস্তিষ্কে, সজ্ঞানে পর্নোগ্রাফিকে বেছে নিচ্ছে পেশা হিসেবে। এর মানে এমন হতে পারে, নিজেকে প্রদর্শনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কিংবা প্রিয় ইচ্ছাগুলো সম্পর্কে জানা, এমনকি নিজের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেও তারা পর্নোগ্রাফিকে বেছে নিচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে, শুধু এগুলোই নয় বরং রোমাঞ্চকর ও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জীবনে চাহিদাগুলো পূরণের জন্যই পর্নোগ্রাফি বেছে নিচ্ছে তারা।


এর মধ্যে আবার অনেকেই আছে, যারা পর্নোগ্রাফিকে ‘যথাযথ কাজে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ তারা পর্নোগ্রাফিকে ব্যবহার করে সমাজের মঙ্গলের চেষ্টা করছে। পর্নোগ্রাফির বদৌলতে পাওয়া সমৃদ্ধি ও নিজেদের খ্যাতি ব্যবহার করে তারা দর্শককে শিক্ষা দিচ্ছে নিরাপদ যৌনাচরণ সম্পর্কে। তারা বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে চাইছে। ট্যাবু, যৌন শিক্ষার অভাবে যে মানুষেরা বিপদে পড়তে যাচ্ছে, তাদেরকেও বাঁচাতে চাইছে তারা। মুক্ত যৌনতার পক্ষের রাজনৈতিক প্রার্থীদের সাহায্যে কাজ করতেও তারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করছে। এইডসের বিস্তার রোধ করতেও এর মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া শৈল্পিকভাবে পর্নোগ্রাফিকে সাধারণ পর্যায় থেকে উন্নত করতেও কাজ করছে তারা। যেমন, তারা এমন কিছু পর্ন তৈরি করছে, যা বিভিন্ন উৎসবে পুরস্কার পাচ্ছে শৈল্পিক উৎকর্ষের জন্য। তাছাড়া তারা এমন কিছু পর্নোগ্রাফিও তৈরি করতে চাইছে যা নারীবাদকে সমর্থন করে এবং নারীর অগ্রগতিতে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি একটি বিষয় লক্ষণীয়-শিল্প, রাজনীতি অথবা সমাজ; ভালোবাসা, কাম বা অর্থ, যে জন্যই হোক-পর্নোগ্রাফি কিন্তু সেই পর্ন উপত্যকার স্যাঁতসেঁতে ভূগর্ভস্থ অন্ধকার কারাকক্ষ, বাংলোবাড়ি, খামারবাড়ি থেকে বের হয়ে আপনার নিকটবর্তী এলাকায় চলে এসেছে। এমনও হতে পারে, এরপর যে পর্নোগ্রাফিটি দেখবেন, সেটির তারকা আপনার প্রতিবেশীর স্ত্রী।


পর্নোগ্রাফি সবসময়ই ছিলো। কিন্তু ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার এই সময়ে যে কেউই পর্নোগ্রাফি নির্মাতা বা পর্ন তারকা হয়ে উঠতে পারে। ইন্টারনেটে লগ ইন করলেই বিভিন্ন নির্মাতার তৈরি করা পর্নোগ্রাফি এখন সুনামির মতো ধেয়ে আসছে। আপনার বন্ধু এমনকি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার মতো সাধারণ মানুষও এই পর্নোগ্রাফি নির্মাতা বা তারকা হতে পারে।


ইয়েলের পর্নতারকারা


পর্নতারকা আর পর্ননির্মাতা মাত্রই বিপ্লবী বা খামখেয়ালি হবে, তা জরুরি নয়। এখন একজন সাধারণ পেশাজীবীও পর্নতারকা হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, শপিংমলের কর্মকর্তা, করপোরেট চাকরিজীবী, অ্যাকাডেমিশিয়ান, অ্যাথলেট, হাসপাতালের কর্মচারী, এমনকি গির্জা বা মন্দিরে কাজ করা যেকোনো নারী-পুরুষই হয়ে উঠতে পারে পর্নতারকা। আর দশ জনের মতো পর্নতারকাদেরও শক্তি-দুর্বলতা, আশা-ভয়, শখ, রাজনীতি এবং অনেক ফলোয়ারের টুইটার পেইজ আছে। তাদেরও প্রেমিক-প্রেমিকা আছে-কখনো কখনো তারা একে অন্যকে বিয়েও করে। আবার এমন অনেক পর্নতারকাই আছে যাদের বন্ধুবান্ধব বা খুব কাছের মানুষেরাও পর্নোগ্রাফিতে যুক্ত আছে। তাছাড়া অনেক পর্নতারকার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু পর্নোগ্রাফিতে না থাকলেও ফটোগ্রাফি বা সঙ্গীতের মতো কাছাকাছি পেশায় রয়েছে।


একজন টক শো হোস্ট হিসেবে আমাকে (সুসান ব্লক) যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান রাখতে হয়। তাছাড়া খেয়াল রাখতে হয় যৌনতার সঙ্গে জড়িত সব বিষয়েও। প্রায় সব ধরনের অতিথি এবং অভ্যাগতদের প্রতিও আমার খেয়ালের কমতি থাকে না। নতুন প্রজন্মের এই গর্বিত পর্নতারকা, রাজনৈতিক বেশ্যা, বুদ্ধিমান নটী, তান্ত্রিক দেবী, মডেল এবং যত্নশীল যৌনকর্মী-যাদের খুব দ্রুত উন্নতি ঘটেছে-তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ প্রথম থেকেই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। যৌনতার দিক থেকে দ্রুত বিবর্তন হওয়া কয়েকজন স্বর্ণালি মানুষ আমার প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন সেক্স থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করে।


এদের কয়েকজন আবার আমার সঙ্গে ‘সেক্স ইউক অ্যাট ইয়েল’-এ সহকারী শিক্ষক হিসেবেও যোগ দিয়েছে। এদের মধ্যে আবার অনেকেই দেখতে আকর্ষণীয়, তাদের কলেজ পড়ুয়াদের মতো দেখায়। আবার অনেক তারকাই আছে, যারা একই সঙ্গে পর্নোগ্রাফিতেও অভিনয় করে আবার প্রচলিত চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে। যেমন, শাশা গ্রে। আমার সঙ্গে কাজ করা নানাধরনের এই তারকাদের যখন কোনো কঠিন প্রশ্ন করা হতো, তারা একটু অগোছালো হয়ে যেতো। তবে শেষ পর্যন্ত এদের অনেকেই সামলে নিতে পারতো ঠিকঠাকভাবে। পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত পর্নতারকা, প্রযোজক, নির্মাতা জোয়ানা অ্যাঞ্জেল তো একবার তার দুই ছোটো বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। যদিও তাদের কেউই পর্ন শিল্পের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু তারা তাদের পর্নতারকা বোনকে একজন শিল্পী ও ব্যবসায়ী রোল মডেল হিসেবে দেখতেই পছন্দ করে। তবে এটা ঠিক যে জোয়ানা সত্যিকার অর্থেই একজন অনুকরণীয় শিল্পী ও ব্যবসায়ী।


দ্য গার্লফ্রেন্ড এক্সপেরিয়েন্স


জোয়ানার ‘বার্নিং অ্যাঞ্জেল প্রোডাকশন-এর একজন উদীয়মান তারকা মিস্টি ডন, তিনি সম্প্রতি আমার একটি রেডিও শোতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলো মিস্টির পর্নতারকা বান্ধবী ক্যাডেন্স সেন্ট জন ও বন্ধু মাইকেল ভেগাস। এছাড়া সেদিনের শোতে আরো এসেছিলো সেন্ট জন ও মাইকেল ভেগাসের পর্নতারকা বন্ধু কেনি স্টাইল। কেনি স্টাইলের সঙ্গে এদের বন্ধুত্বটা একটু অন্যরকম। অর্থাৎ বন্ধু হলেও এদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক আছে। কেনি স্টাইলের বান্ধবী পর্নতারকা আমান্ডা ব্লো এবং আমান্ডার পর্নতারকা বন্ধু বন-জো-সে, এরা সবাই আমার শোতে এসেছিলো। মজার বিষয় হলো, এদের সবার মধ্যে সম্পর্কের যে ধরন, তা পর্ন সমাজের সম্পর্কের মতোই খানিকটা জটিল।



সেই রাতে আমাদের সঙ্গে ফোনে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবেক যৌনকর্মী বা এসকর্ট ও ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড এক্সপেরিয়েন্স’ নামে বইয়ের লেখক রেবেকা ডেইকিন। শাশা গ্রে অভিনীত স্টিভেন সোডারবার্গ-এর চলচ্চিত্রের (২০০৯ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পায় স্টিভেন সোডারবার্গ নির্মিত চলচ্চিত্র দ্য গার্লফ্রেন্ড এক্সপেরিয়েন্স। চলচ্চিত্রটিতে পর্নতারকা শাশা গ্রে ছাড়াও অভিনয় করেন দাভিদ লিভিন, গ্লেন কেন্নি প্রমুখ। এটি আমেরিকান এক্সপেরিমেন্টাল ড্রামা চলচ্চিত্র) সঙ্গে যদিও বইটির কোনো সম্পর্ক নেই, তবে বিষয়বস্তু একই। একজন এসকর্টের বাচনভঙ্গিতে রেবেকা ব্যাখ্যা করেছেন-একজন মেয়েবন্ধু হিসেবে কাউকে নিয়ে যে অভিজ্ঞতা, তা একজন পর্নতারকার অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন। রেবেকা মনে করেন, মেয়েবন্ধু হিসেবে যখন কোনো ছেলের সঙ্গে সময় কাটানো হয়, তখন বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা ও চুমু দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পর্নতারকা হিসেবে যে অভিজ্ঞতা, তাতে অদ্ভুত সব যৌন ক্রিয়াকলাপ গুরুত্বপূর্ণ।


রেবেকা তার অভিজ্ঞতা থেকে যা বললেন তা সঠিক হতেই পারে, তবে আমাদের শোতে পর্নতারকা বান্ধবী ও তাদের ছেলে বন্ধুরা এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছে। এরপর তারা একে অন্যকে চুমু খেয়েছে এবং অদ্ভুত যৌন ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত হয়েছে অবৈধ মদের দোকানের প্রতিটি কোণায়, বাথরুম থেকে বিছানায়, সোফায়, এমনকি আগুন লাগলে জরুরি নির্গমনের যে জায়গা সেখান থেকে পোল খেলার টেবিলের উপরে পর্যন্ত। এটা ছিলো বন্ধুদের মধ্যে এক বন্য আনন্দ উৎসব। মিস্টি ও মিশেল এ দুজনকে দেখে মনে হচ্ছিলো, তারা খুব ভালোবাসাময় সময় কাটাচ্ছে। একটি অবৈধ মদের দোকানে নির্মাণ করা এই যৌনমিলনের ভিডিওটিকে পর্ন রোমাঞ্চ বলা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না।


পর্ন রোমাঞ্চ


সেটা ছিলো গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমে এক অবৈধ মদের দোকানের মধ্যরাত। আমি জানি না, কীভাবে আমরা এই গরমের মধ্যেই ফায়ারপ্লেসের মাথায় উঠেছিলাম। কিন্তু এটা ছিলো মুখ দিয়ে মৈথুন করার মতো সুন্দর এক রাত। লস অ্যাঞ্জেলসের প্রাণকেন্দ্রে এক ঝকঝকে তারাজ্বলা আকাশের নিচে ছিলাম আমরা। পর্ন রোমাঞ্চের জন্য একদম উপযুক্ত একটি রাত।


মিস্টি ও মিশেল-তারা যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলো পর্নতারকাদের মতোই, তবে তারা একে অন্যের সঙ্গে এমনভাবে মিশেছিলো, দেখে মনে হচ্ছিলো যেনো তারা আত্মার আত্মীয়। তাদের এই শারীরিক সম্পর্ক দেখে মনে হচ্ছিল, তা একই সঙ্গে খুবই সুখময়, আবার নোংরাও। একই সঙ্গে এটাতে যেমন শান্ত-নিবিড় একটা ভাব আছে, আবার ততোটাই তা বন্য-আদিম। শারীরিক অনুভূতির দিক থেকে তা যতোটুকু গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততোটাই যেনো আবেগতাড়িত। এ যেনো এক কল্পনার রাজ্য, যদিও তারা বাস্তবেই একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এটা পর্নোগ্রাফি হলেও খুবই ভালোবাসাময় ও রোমান্টিক। পর্নোগ্রাফির এই জুটি অবশ্য তেমন বিশেষ কেউ নয়, তারা এক সাধারণ পর্নতারকা মাত্র। তবে তাদের দেখে মনে হয়-একবিংশ শতাব্দীর প্রায় শিম্পাঞ্জি মানুষ এরা, বন্ধু, সহকর্মী, পার্শ্ব-তারকা, ষড়যন্ত্রকারী কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকা-একটি পর্ন রোমাঞ্চে মিলিত হয়েছে।


বেশিরভাগ অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ হয়তো বলবে, শিম্পাঞ্জির মতো বন্য উন্মত্ততার সঙ্গে এতো বার যৌনমিলন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আমার পর্নতারকা এই বন্ধুদের একসঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে দেখে বিশেষজ্ঞদের সেই মতের সঙ্গে আমার একমত পোষণ করা সম্ভব নয়। অনেকেই হয়তো এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যৌনমিলনের জন্য কমপক্ষে তিনটি কারণ রয়েছেবিনোদন, সন্তান উৎপাদন ও সম্পর্ক। ভিন্নভাবে বললে, যৌনতা শুধু মজা করা বা বাচ্চা জন্ম দেওয়া নয়। একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতেও মানুষ যৌনতা ও কামোদ্দীপক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, অনেকটা শিম্পাঞ্জিদের মতোই। আর পর্নজগৎ মূলত আমাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোর সঙ্গে যৌন বিনোদন এবং কামোদ্দীপক চিন্তা-চেতনার একটা সমন্বয় ঘটায়।


পর্নতারকা বন্ধুবান্ধবীরা তাদের মূলধারায় উন্নয়নের পথ নিজেরাই তৈরি করে। ‘কেলভিন ক্লেইন’-এর মতো পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ফ্যাশন হাউজগুলো শুধু হার্ডকোর পর্নশিল্পী ও নির্মাতা তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। প্রকৃতপক্ষে, ফ্যাশন গুরু মিস্টার কেলভিন ক্লেইনের ব্যক্তিজীবনে একজন পর্নতারকা ছেলেবন্ধু আছে। এদের প্রত্যেকেরই টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে; সেখানে শুধু পর্নতারকাদের ক্লোজ আপ শারীরিক উপস্থাপনই নয় বরং একেবারে মনের গভীরের মানসিকতাও উঠে আসে, যা বাইরের সবাই উপভোগ করতে পারে। এমন হাজারো পর্নতারকার টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে, যাদের আপনি ফলো করতে পারেন। এবং সম্ভবত এদের মধ্যেও কোনো একজন আপনাকে ফলো করতে পারে। আর এটা হলে দেখবেন, আপনার নিজেরও একজন ভার্চুয়াল পর্নতারকা মেয়েবন্ধু আছে।


পর্ন অর্থনীতি


নতুন প্রজন্মের পর্নতারকা বন্ধুবান্ধবীদের জন্য একটি বড়ো উদ্দীপনার বিষয় হলো, আশঙ্কাজনকভাবে ডুবতে থাকা আমেরিকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। হেরে যাওয়া দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো অর্থনৈতিক সঙ্কটও মোকাবিলা করছে আমেরিকা। ৪০ মিলিয়নের বেশি মানুষ খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে। বর্তমান সময় বিবেচনায় অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের ভিত নড়ে গেছে এবং একই সঙ্গে আমেরিকান ডলারের মূল্যও কমছে। অনেকেই গায়ের জামা, বাড়ি-ঘর এমনকি আশা-স্বপ্ন পর্যন্ত হারিয়ে ফেলছে। আপনি গোপন খবর জানেন কিনা জানি না, আমেরিকায় এখন ধীরে ধীরে লোভনীয় সব কর্মসংস্থান কমছে।


কয়েক মিলিয়ন সৎ, কঠোর পরিশ্রমী, আইন মেনে চলা, চাকরিপ্রার্থী নারী এবং কিছু সংখ্যক সুন্দর যৌন আবেদনময় পুরুষ, নিজ ইচ্ছায় পর্ন পেশায় ঢুকেছে। তাছাড়া ভাড়ায় যৌনতা বিক্রি, নগ্ন মডেল, ম্যাসাজকারী অথবা তাদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী যৌনতা-সম্পর্কিত অন্য যে কাজ আছে-সেগুলোকে তারা বেছে নিচ্ছে।


শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, জীবনবৃত্তান্ত অথবা অতীত কাজের সামান্য অভিজ্ঞতা, যাই থাক না কেনো, পর্ন অর্থনীতির সঙ্গে তারা হিসাব কষে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে বড়ো গুণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে শক্তিমত্তা, বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা, এবং ভাবনাচিন্তার সক্ষমতা। তাছাড়া পরিস্থিতি এমন যে, একজন বোকাসোকা সৃজনশীলতাহীন মানুষও নিজের কাপড় খুলে একটি ক্যামেরা হাতে নিয়ে যৌন ভিডিও নির্মাণ করছে। কিন্তু এদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষই আছে, যারা লক্ষণীয় ও আকর্ষণীয় পর্নতারকার সফলতা পেতে পারে।


এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যৌনতা বিক্রি হয়। খাদ্য এবং ভয় ছাড়া সম্ভবত যৌনতাই একমাত্র পণ্য যা সত্যিকার অর্থেই বিক্রি হয়। যেভাবেই হোক, যখন সবাই এটা বিক্রি করছে, তখন অবশ্যই আপনার উচিত হবে, আপনি যেটি বিক্রির জন্য বানাচ্ছেন, তা যেনো আগ্রহোদ্দীপক ও আকর্ষণীয় হয়। এই যে নারী পর্নতারকা বৃদ্ধির যে বিপ্লব হয়ে গেলো, এতে একটি কাজ ভালো হয়েছে, তা হলো, কামোদ্দীপক এই শিল্প ক্রমেই মানের দিক থেকে উন্নত হচ্ছে। যদিও এর মধ্যে নিছক সাধারণ চিন্তা বিরোধী উপাদান বেশি হওয়ায় শিল্পের এই উন্নতি বুঝে ওঠা খুবই কষ্টসাধ্য।


পর্নতারকার অভিভাবক


সাধারণত পর্নতারকারা তাদের পরিবারের কাছে কেমন যেনো এক ভিনদেশি পর মানুষ হয়ে যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তবে আশার কথা হলো, একবিংশ শতাব্দীর পর্নজগতে এখন যারা এক প্রকার দুঃসাহসী অভিযানে নামছে, তারা তাদের কিছু পুরনো বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে পাশে পাচ্ছে। যারা এই নতুন সাহসী পর্ন অভিযাত্রীদের সামাজিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করছে। এই বন্ধু ও আত্মীয়রা তাদের পর্নজগৎ ও চলমান সমাজের মধ্যে একধরনের সমন্বয় সাধনের কাজ করে চলেছে।


কখনো কখনো পর্নতারকাদের বাবা-মা তাদের সঙ্গেই থাকে, তবে কখনো কখনো সে সম্পর্কের বন্ধন একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ব্যাপারটা এমন হয় যে, আবেগতাড়িত হয়ে কেবল স্নেহ-ভালোবাসার জন্যই বাবা-মা তাদের সমর্থন দেয়। মূলত নিজের অতি স্নেহের বা আদরের সন্তান যে পেশা বেছে নিয়েছে তা সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনেই তারা এ সমর্থন দেয়। তবে এমনও নয় যে, বাবা-মা এ নিয়ে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। ব্যাপারটা এমন যে, বাবা-মার সঙ্গে স্মৃতিকাতর এক সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের অবস্থা এক্ষেত্রে এমন হয় যে, বাবা-মায়ের সঙ্গে আগে যে এক প্রগাঢ় সম্পর্ক ছিলো তার বিন্দুমাত্রও অবশিষ্ট থাকে না; কেবল সেই প্রগাঢ় সম্পর্কের স্মৃতি থেকেই এ সম্পর্ক টিকে থাকে। এ যেনো তারা জন্ম দিয়েছে, তাই এ সম্পর্ক টিকে আছে।


কিছু তরুণ উঠতি পর্নতারকা, এখন পর্যন্ত সচেতনভাবেই তাদের বাবা-মাকে পেশা সম্পর্কে জানাতে চায় না। তারা পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহারের জন্য আলাদা নাম ব্যবহার করে এবং বন্ধুদের জানায় তিনি খণ্ডকালীন কাজ করেন। তারা জানে, তাদের বাবা-মা বা পরিচিত মামা-চাচারা ইন্টারনেটে হয়তো তাকে খুঁজতে পারে। কোনো একটি পর্নসাইটে বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করা মাত্র একটি ছবিই তাদেরকে বাবা-মা বা পরিচিত কারো মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে। এই পর্নতারকারা ধরেই রাখে, কোনো পর্নসাইটে গিয়ে যদি তাদের পরিচিতরা তাকে চিনে ফেলে, তবে তারা তো একই দোষে দুষ্ট (এমন যে, আমি করছি বলেই তুমি দেখতে পাচ্ছো)।


১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে ‘প্লেবয় টিভির জন্য আমি এক তরুণ পর্নতারকা জেনা জেমসনের সাক্ষাৎকার করেছিলাম। আমি খুবই আশ্চর্য হয়েছিলাম তার কথা শুনে; যখন সে আমাকে জানালো, পর্নতারকা হওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তার বাবার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে একটা বিষয় সত্য যে, কোনো মেয়ে যদি কোনো খারাপ কাজ করে বা মিথ্যা বলে, এজন্য অনেক সময়ই তার বাবা-মা তাকে ঘৃণা করে বা দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু একসময় সেই মিথ্যাবাদী মেয়েই যখন খুব বড়ো সফল ব্যবসায়ী বা বেস্ট সেলার লেখিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তখন তার প্রতি বাবা-মায়ের চিন্তা ইতিবাচক হয়ে যায়-তা সে যতো রক্ষণশীল বাবাই হোক না কেনো। আমার মনে হয়, মেয়ে সফল হলে এই ২১ শতকে প্রায় সব বাবাই তাকে নিয়ে গর্ববোধ করবে, তা সে যে উপায়েই সফল হোক না কেনো।


তবে অবশ্যই এমন অনেক বাবা-মা আছে, যারা নিজের সন্তানকে ক্যামেরার সামনে যৌনক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারটাকে মেনে নেয় না বা নিতে পারে না। যেমন, ওথেলো অ্যান্ড মরফিয়াস ইন দ্য মেট্রিক্স চলচ্চিত্রে মূল ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করা মনটানা ফিসবার্নের বাবা এখনো তা মেনে নিতে পারেননি। তবে মনটানার বাবা লরেন্স ফিসবার্ন অন্তত তার এই অবাধ্য মেয়েকে ত্যাজ্য করেননি। কিন্তু আগের জামানার এমন অনেক বাবাই আছে, যারা তাদের অপব্যয়ী-অবাধ্য পর্নতারকা হতে চাওয়া সন্তানদের নিশ্চিতভাবেই ত্যাগ করেছিলো।


তারপরও দেখার বিষয় হলো, মনটানা তার এই হঠাৎ পাওয়া খ্যাতি কীভাবে কাজে লাগাবেন। দেখা যাচ্ছে, মনটানা এই পর্নতারকা হওয়াটাকে তার পরবর্তী সময়ের পেশার ক্ষেত্রে একটি পরিকল্পিত ও নিশ্চিত পদক্ষেপ হিসেবে নিতে চাচ্ছেন। যেমনটা মনটানা বলেছেন, ‘আমি নিজ চোখে দেখেছি, কিম কার্দাশিয়ান কীভাবে এতোটা জনপ্রিয় ও সফল হয়েছেন। আমি মনে করি, এই সফলতার পিছনে তার যৌনমিলনের ভিডিও প্রকাশ হওয়া অনেক বড়ো ভূমিকা রেখেছে। প্রকৃতপক্ষেও তাই ঘটেছে। ভিভিদ থেকে মনটানার পর্নোগ্রাফি রিলিজ হওয়ার আগে কেউই তাকে চিনতো না। কিন্তু যখনই তার পর্নভিডিও প্রকাশ পেলো, তারপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এবং এখন সে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে।


পর্ন থেরাপি


যৌনতা নিয়ে শঙ্কিত পণ্ডিতরা এবং যৌনতা বিষয়টিকে যারা সহজেই ভয় পায় এমন কিছু মানুষ, যারা পর্নতারকা বন্ধুবান্ধবীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক স্বীকৃতির ইতিবাচক এই অবস্থাকে এমনভাবে দেখছে, যেনো অচিরেই মানব সভ্যতা যৌনতায় মোড়ানো কোনো হাতে ধরা ঝুঁড়িতে পরিণত হবে এবং পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে আমি বিষয়টি দেখছি ভিন্ন চোখে। আমার মনে হয়, যেভাবে যৌনতা মানুষের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে, তাতে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজব্যবস্থা আরো মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন হয়ে উঠছে। মানুষ যে প্রকৃতি থেকে আলাদা বা ঢেকে রাখার মতো কিছু নয়, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে বন্ধন তা উন্মোচিত হচ্ছে। এর ফলে মানুষ আরো বেশি করে শিম্পাঞ্জি এবং আমাদের শিকারি পুর্ব-পুরুষদের মতো হয়ে উঠছে। ‘সেক্স অ্যাট ডাউন বইতে ক্রিস্টোফার রায়ান এবং ক্যাসিলডা জেথাও এমন কথাই বলেছে।


এখানে অবশ্যই পর্নোগ্রাফির কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন, পর্ন আসক্তি, ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নতা, আন্তঃব্যক্তিক দ্বন্দ্ব, ঈর্ষা এবং অবশ্যই যৌনবাহিত রোগের বিস্তারের আশঙ্কা। কিন্তু সাধারণভাবে যৌনতার মুক্তি এবং সৎ সমাজের যে উপকারিতা তা এসব নেতিবাচক দিকের চেয়ে অনেক বেশি।


কারো যদি তার পর্নতারকা প্রেমিকা বা পর্ন ভালোবাসে এমন স্বামীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য সেক্স থেরাপি তো আছেই। আমাদের শোর অতিথি, পর্নতারকা নয়, আমার পুরনো বন্ধু আমেরিকার রাব্বি হিসেবে পরিচিত স্মুলি বোটেচ, তার কথার সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি। তিনি বিশ্বাস করেন, বিবাহ বিষয় নিয়ে যে কাউন্সেলিং বা পরামর্শ রয়েছে তা থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়া উচিত। এতে যে দম্পতিদের যৌনতাবিষয়ক পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে, তারা এই পরামর্শের খরচ সহজে বহন করতে পারবে। একজন সেক্স থেরাপিস্ট হিসেবে আমি জানি, অনেক অনেক দম্পতি আছে, যারা তাদের কম্পিউটারে যে পর্ন রোমাঞ্চ দেখছে এবং তাদের চিন্তাভাবনায় যে পর্ন রোমাঞ্চের ধারণা আছে; এমনকি তারা বিছানায় যে রোমাঞ্চ করে; সেই রোমাঞ্চের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে না-এই সেতুবন্ধন তৈরির জন্য তাদের সেক্স থেরাপিস্টের সাহায্য প্রয়োজন।


এই পর্নতারকা বন্ধুবান্ধবীরা, পর্ন রোমাঞ্চের এক সাহসী নতুন জগৎ, অর্থনীতি এবং হার্ডকোর আন্তঃব্যক্তিক ইস্যুগুলোর দিকে আমাদের টানছে। একই সঙ্গে তারা আমাদের পিছনে ফেলে আসা এমন একসময়ের দিকে টানছে, যখন আমরা সবাই একে অন্যকে ভালোবাসতে দেখতাম।

 

মাজিদ মিঠু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইতে রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।


mazid.mithu@gmail.com


টীকা


১. যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির আন্ডারগ্রাজুয়েট লিবারেল আর্টস কলেজটি ইয়েল কলেজ নামে পরিচিত। এ কলেজেরই দুজন শিক্ষার্থী এরিক রুবেনস্টাইন ও জ্যাকুলিন ফারবার ২০০২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেক্স উইক এট ইয়েল। যেখানে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের যৌনতাবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

২. রেবেকা দাকিন (Rebecca Dakin)-এর লেখা বই ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড এক্সপেরিয়েন্স : মাই ফান অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চারাস লাইফ অ্যাজ অ্যান এসকর্ট (২০০৯)। বইটিতে রেবেকা তার নিজের জীবনের গল্পগুলো তুলে এনেছেন। একজন সংসার ত্যাগী ধর্মচারী বা নান থেকে কীভাবে যৌনকর্মী বা এসকর্ট হলেন এবং তারপর একজন সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন তার বর্ণনা তিনি তুলে ধরেছেন তার এ আত্মজীবনী গ্রন্থে।

৩. কেলভিন ক্লেইন ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান পোশাক প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। কেলভিন ক্লেইন ও তার পার্টনার ব্যারি শোয়ার্টজ এটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পোশাক, প্রসাধনীসহ প্রাত্যহিক জীবনে পরিধেয় নানা পোশাক তৈরিতে বিশ্বে অন্যতম।

৪. ভিভিদ এন্টারটেইনমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসভিত্তিক একটি পর্নোগ্রাফি নির্মাণ, বিতরণ ও বিপণন প্রতিষ্ঠান। যেটি জোভিতা করপোরেশন লিমিটেডের মালিকানাধীন ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন