প্রিয়াংকা দেবনাথ
প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
দেখা অতঃপর লেখা
'আসা যাওয়ার মাঝে' যে জীবন মানুষের নয়
প্রিয়াংকা দেবনাথ

শহুরে নিম্নবিত্ত জীবন সমান সরু গলি, সস্তা রুটি আর লোকভর্তি বাসে বাদুরের মতো ঝুলে ঝুলে যাওয়া। সেখানে প্রেম-ভালোবাসা মানে হাজারো কষ্ট, দুঃখ, পরিশ্রম, অভাব, কর্মব্যস্ততা আর হতাশার ঊর্ধ্বে গিয়ে একটু ভালো থাকা। আর এই ভালো থাকার প্রয়াসেই শুরু হয় জীবনসংগ্রাম। সংগ্রামের বিপরীতে কখন যে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে স্থানিক দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে, তা বুঝে উঠতে জীবনের খেলাটাই শেষ হয়ে যায় কখনো কখনো। আবার জীবনকে সুন্দর করে চালিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে ভাবতে, হয়তো সুন্দর জীবনের কথাই ভুলে যায় অনেকে। কেউ কেউ সুন্দর জীবনের রাস্তায় পৌঁছেও যায়; কিন্তু সেই পৌঁছানোর পিছনের কষ্টগুলো মুছতে গিয়ে ‘সুন্দর জীবন’ বিষয়টি তার তাৎপর্য হারিয়ে ফেলে। আবার কখনো জীবন হয়ে ওঠে অনেকটা ‘এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি’ গানের লাইনটির মতো; যেখানে মাঝখানে নদীটা সর্বদা বহমান থাকে। দিন-রাত মিলে একটু সময়ের জন্য কর্মব্যস্ত দম্পতির দেখা হওয়া মানে পৃথিবীটাকে কোনো স্বর্গীয় স্থান মনে করে নিজেদের মধ্যে এক কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়া। কল্পনার জগতটা বড়ো হলেও প্রাপ্তির জায়গাটা ক্ষুদ্রই থেকে যায়। ঘড়ির কাঁটার শাসন সেই কল্পনার জগৎ থেকে তাদের বাস্তবে এনে দেয় টেনে-হিঁচড়ে। তখন ঠিক রবীন্দ্রনাথকে মনে পড়ে,
মেঘ কেটে গেল
আজি এ সকাল বেলায়।
হাসিমুখে এসো
অলস দিনেরি খেলায়।
আশানিরাশার সঞ্চয় যত
সুখদুঃখের ঘেরে
ভরে ছিল যাহা সার্থক আর
নিষ্ফল প্রণয়েরে,
অকূলের পানে দিব তা ভাসায়ে
ভাঁটার গাঙের ভেলায়।১
জীবনের চাওয়া-পাওয়াগুলো এই ঘড়ির কাঁটার শাসনে মেঘ রূপে এসে ফিঁকে করে দেয়। জীবনের আকাশে সকালের মেঘটা কেটে যাওয়ার কথা চিন্তাতেই আসে না। আর সেখানে অবসর ও অবকাশের জন্যও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। পুঁজিবাদের শাসনও তখন চুপ থাকে না, মাথা চাড়া দেয় দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণতর গতিতে। টিকে থাকতে চাইলে তার সঙ্গে যে লড়াই করতেই হবে, তারই ইঙ্গিত দেয় সে সর্বক্ষণ; এমনকি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে তার সঙ্গে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধ ময়দানে লড়াই করে যেতে হবে তারই বার্তা দেয়। দুজনের জীবনেই যখন এ রকম ব্যস্ততার কালো মেঘ ছেয়ে আছে; তখন তাদের কোথাও একটা আত্মিক মেলবন্ধন সেই মেঘকে এক মুহূর্তের মধ্যেই সরিয়ে দেয়। সুনীল আকাশে সুখগুলো তখন ডানা মেলে উড়ে চলে প্রেম, পূর্ণতা, উল্লাস ইত্যাদির সম্মিলিত অনুভূতি রূপে।
এক দম্পতির কর্মব্যস্ত জীবন—যে জীবন তাদেরকে প্রেম-ভালোবাসার পৃথিবী থেকে সরিয়ে এক অদ্ভুত জীবনে এনে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে দুজনের মধ্যে দেখা না হলেও কোথায় যেনো একটা দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যবোধ বিরাজ করে। শুরুতে যে বহমান নদীর কথা বলেছিলাম, শত ব্যস্ততার মধ্যেও সেটা কিন্তু বয়ে চলে তার নিজ গতিতে। কর্মব্যস্ততা, একাকীত্বের মধ্যেও তাদের জীবনটা থেমে থাকে না এক মুহূর্তের জন্যও। সেসব সময় তার নিজের গতিতে চলতে থাকে একরকম ঘূর্ণন যন্ত্রের মতো। আসা যাওয়ার মাঝেতে হয়তো নির্মাতা আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত এমনই কিছু দেখাতে চেয়েছেন। আদিত্য বিক্রমের জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র আসা যাওয়ার মাঝে; চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে। আসা যাওয়ার মাঝে নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ভারতের ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ডেব্যু চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা পুরস্কার পায় এটি।
দুই.
আসা যাওয়ার মাঝেতে ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং বাসবদত্তা শহুরে নিম্নবিত্ত দম্পতি। তাদের বাড়িতে পলেস্তারা খসা দেয়াল, শেওলা ধরা বাথরুম; ক্যাঁচ-ক্যাঁচ করে ঘোরা পুরনো ফ্যান, সকালের নাস্তায় সস্তা রুটি, মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা সব আছে। জীবন তরীকে সহজ পথে চালানোর জন্য তাদের এই জীবনসংগ্রাম। আর এই সংগ্রাম করতে করতে নিজেদের অজান্তেই তারা দূরে সরে যেতে থাকে। সেটা স্থানিকতার সঙ্গে মানসিকভাবেও। তাই তাদের জীবন হয়তো থেমে গেছে দীর্ঘশ্বাস আর মৌনতার মাঝেই। তার পরও দুজনের এমন ছড়ানো জীবনে কারো কোনো অভিযোগ, প্রতিরোধ নেই। তার উল্টো দিকে আছে পুঁজির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেওয়া; সাধারণ হয়ে থাকা আর একটু সময় স্বপ্নের জাল বোনা। এই স্বপ্নের জালটাকে একটু শক্তভাবে বাঁধানোর জন্য তাদের এই সবকিছু। টাকা জমানো থেকে শুরু করে নিয়ম করে চাবির গোছা রাখা পর্যন্ত যে নিয়মমাফিক কাজ, তা যেনো ‘সুন্দর জীবন’ প্রাপ্তির জন্যই সাজানো।
এই প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় যখন পৃথিবী এগিয়ে চলছে নিজের পথে; সঙ্গে বিশ্ব বাজারে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, একই সঙ্গে প্রথম বিশ্বের কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক অচল অবস্থা। যার প্রভাব এসে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। একদিকে নিত্য-নৈমিত্তিক জিনিসের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী সঙ্কোচনের নীতি, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে। আসা যাওয়ার মাঝে'র ৪০ মিনিট তিন সেকেন্ডে জনসভার শব্দ ভেসে আসে। সেখানে শোনা যায়, কারখানার ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক সনাতন মণ্ডলের কথা, স্লোগানের শব্দ। যা দেখা যায় না, তা হলো ওই মিছিল আর জমায়েতের ছবি। অর্থাৎ শ্রেণিসংগ্রামের বাস্তবতা চলচ্চিত্রে হাজির হয় পরোক্ষভাবে। আর তার প্রত্যক্ষ প্রকাশ পায় কর্মব্যস্ত দম্পতির জীবনাচরণ থেকে।
চলচ্চিত্রজুড়ে আর্থিক মন্দার কালো ছায়া স্পষ্ট। তাই জীবন চালানোর তাগিদে তাদের দুজনকেই কাজ করতে হয় দিন-রাতের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। বাসবদত্তা একটি ব্যাগের কারখানায় আর ঋত্বিক কাজ করেন সংবাদপত্রের ছাপাখানায়। ঋত্বিককে ছাপাখানায় সারারাত ধরে কাজ করতে হয়। আর ব্যাগের কারখানায় দিন কাটে বাসবা’র। দুইজন আলাদা সময়ে কাজ করায় তাদের দেখা হয় খুব অল্প সময়ের জন্য। সেই আকাঙ্ক্ষিত মিলন খুব স্থায়ী হয় না। কিন্তু স্বপ্নগুলো ঠিকই টিকে থাকে। দেখা হওয়ার মধ্যেও তাদের পিছুটান দেখা যায় প্রাত্যহিক কাজের জন্য। নিজস্ব কোনো অনুভূতি, আবেগ এই অল্প সময়ে প্রকাশ করতে চাইলেও সময় এবং কর্ম তাদের সর্বদা তাড়িত করতে থাকে। যে তাড়নার জন্য তাদের কল্পনার জগৎ বিস্তৃত বা স্বপ্নের মতো হলেও সময়টা খুবই স্বল্প হয়ে ওঠে।
তিন.
আসা যাওয়ার মাঝে এক নিম্নবিত্ত দম্পতির রোজনামচার, প্রাত্যহিকতার ছবি। যে ছবি একটি নিয়মমাফিক গড়পড়তা দিনের। যে ছবি প্রত্যক্ষ করে এক যান্ত্রিক জীবনের। একজনের সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, অন্যজনের সারারাতের কাজ; কাজ শেষে আবার নিয়মের মধ্যেই সব কর্মকাণ্ড। যে নিয়মগুলো মানতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনটাকে যন্ত্রের মতো করে তুলেছেন তারা। আসলেই কী মানুষের জীবনটা এতোটা যান্ত্রিক হতে পারে! হাসি, আনন্দ, সুখ-দুঃখ সবকিছু মিলিয়েই তো জীবন; সেই জীবনে কী শুধু যন্ত্রের মতো পরিশ্রম করাই সাজে কারো! নাকি স্বস্তিতে থাকারও প্রয়োজন পড়ে। এই দম্পতির জীবন রীতিমতো যান্ত্রিক করে তোলার নেপথ্যে যা রয়েছে, সেটা হয়তো নির্মাতা চাল-ডালের ওই ক্লোজআপ শটের (৫১ মিনিট ১০ সেকেন্ড) মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেন। এই যান্ত্রিকতার প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় তিন বেলা খেয়ে-পরে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকা, তারপরে তো অন্যকিছু; পর্দাজুড়ে চাল-ডালের বিশাল ক্লোজআপ হয়তো তারই কথা বলে।
এছাড়া লাল মেঝেতে দুজনের ভেজা পায়ের ছাপ, তা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়া; একজনের পূজার আগরবাতি জ্বালানো, অন্যজনের প্রণামের মধ্য দিয়ে তার শেষ হওয়া—এর সবগুলো দর্শক হিসেবে যে কারো মন কাড়ে। লাল মেঝেতে পায়ের ছাপের ওই দৃশ্য দেখে ইরানি চলচ্চিত্রনির্মাতা মাজিদ মাজিদির বারান-এর শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে। যেখানে নায়িকা গাড়িতে করে চলে যাচ্ছে; ওঠার সময় শেষ চিহ্ন হিসেবে সে কর্দমাক্ত মাটিতে তার পায়ের ছাপ রেখে যায়। গাড়ির ঠিক পাশেই নায়ক দাঁড়িয়ে; তার দৃষ্টি তখন নায়িকার সেই শেষ চিহ্নের দিকে নিবদ্ধ। নায়িকার এই বিদায়ে প্রকৃতি যেনো কেঁদে ওঠে। তার পায়ের চিহ্নে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে নায়ক, আর বৃষ্টির ধারা ধীরে ধীরে মুছে দেয় সেই শেষ চিহ্নটুকুও। মানুষ চলে গেলেও তার চিহ্ন রেখে যায়; কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই চিহ্ন স্থায়ী হয় না, মুছে যায়। হয়তো অন্য কোনো মানুষের চিহ্ন সেখানে পড়তে থাকে। জীবনে চলার পথে অগণিত ছাপ পড়ে—কখনো অন্য মানুষের জীবনে, কখনো এই পৃথিবীর বুকে। সেই ছাপও একসময় প্রকৃতির নিয়মে মুছে যায়; হয়তো প্রকৃতি তাকে মুছে যেতে বাধ্য করে।
আসা যাওয়ার মাঝে’র ঋত্বিক-বাসবা দম্পতির পরিশ্রমী কর্মকাণ্ড হয়তো তাদের জীবনকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে; সঙ্গে তাদের এই বৃত্তবন্দি জীবনও। কিন্তু সময়ের হাত ধরে একসময় তাও শেষ হয়ে যাবে; থেকে যাবে শুধু চিহ্নটুকু। সময়ের পরিক্রমায় এই চিহ্নও মুছে যাবে।
চার.
আসা যাওয়ার মাঝেতে সংসারে দুজনের যে অবদান সেটা প্রায় সমান। অথচ কিছু নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট জনকেই করতে হয়। বাজার করে ঋত্বিক, কিন্তু রান্না করে বাসবা। আবার সেই খাবার খেয়ে ঋত্বিককে কখনোই প্লেট পরিষ্কার করতে দেখা যায় না। অন্যদিকে কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখে যায় বাসবা, সেটা রোদে দেয় ঋত্বিক। রোদ থেকে তুলেও আনে। কিন্তু সেগুলো গোছাতে দেখা যায় বাসবা’কেই। এমনকি ঋত্বিকের সকালে খাওয়া চায়ের কাপও স্ত্রীকে দিন শেষে পরিষ্কার করতে হয়।
সংসার মাত্র দুজনের, তার পরও দুজন স্বতন্ত্র কাজ করেন। তাহলে কী আমরা সবাই দৈনন্দিন কাজগুলোকে এভাবেই অবস্থা ভেদে ভাগ করে নিয়েছি। নাকি এর পিছনে আমাদের সমাজব্যবস্থার হাত আছে। সমাজব্যবস্থা বা মানুষ, যাকেই দায়ী করি না কেনো, আমরা কেউই এ দায়বদ্ধতার বাইরে নই। সবার মধ্যেই এই কর্ম প্রভেদের সংজ্ঞাটা বা শ্রেণিকরণটা আমরা সহজাতভাবেই লাভ করেছি। যেখানে দুজন মানুষের সংসার; দুজনেই কর্মব্যস্ত—যদিও সংসারের জন্যই তাদের এ কর্মব্যস্ততা। কিন্তু দুজনের কাজের মধ্যে এই শ্রেণিবিভাজন সত্যিই ভাবায়।
সাইকেলের চাকার মতো যেনো এই দম্পতির প্রাত্যহিক জীবন চলমান। যে চাকাটা সবসময় ঘুরতেই থাকে। তাই একই জিনিস নির্দিষ্ট সময় পর তাদের জীবনে ফিরে ফিরে আসে। চালক আছে, তাই সেটা ঘুরবে। মানুষের জীবনের চাকাটাও ঠিক তেমনই, সে ঘুরিয়ে যাচ্ছে আর চাকাও ঘুরে যাচ্ছে। এবং একটা নিয়মের মধ্যেই। নিজেদের অজান্তেই সেই বৃত্তের বাইরে যাওয়া তাদের জন্য সম্ভব নয়। তাদের আশঙ্কা, বৃত্তের বাইরে যাওয়া মানেই হয়তো জীবনটা এলোমেলো হয়ে যাওয়া।
তাই দুজনেই সঞ্চয় করছেন, ঘরের ঠাকুরকে পূজা দিচ্ছেন; একজন বেতনের টাকাটা শুধু উঠিয়ে রাখছেন আর অন্যজন সেটা হিসাব করে গুছিয়ে রাখছেন; ঘরের একই ফ্যান একজন জোরে ঘোরাচ্ছেন, অন্যজন সেটা ধীরে চালাচ্ছেন; একজন বাজার করে রেখে যাচ্ছেন, অন্যজন রান্না করছেন; দুজনের মধ্যে কখনোই দেখা আর হচ্ছে না। যে স্বল্প সময়টুকু তাদের দেখা হচ্ছে, সংসার নিয়ে কথা না বলেও সংসারের কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে, তাদের আত্মিক যোগাযোগের মাধ্যমে। কিন্তু অদ্ভুত এই যোগাযোগের শেষ কোথায় সেটা কিন্তু তারা জানেন না।
পাঁচ.
পুরো চলচ্চিত্রে আবহে শোনা যায়, পুরনো দিনের কিছু খণ্ড খণ্ড গান, অসাধারণ সানাইয়ের সুর, যা জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে বাজে। যে গানগুলো কিছু না বলেও অনেক না বলা কথা বলে ফেলে। গানগুলো যেনো চলচ্চিত্রের ওই দম্পতির জীবনের মান-অভিমান, পাওয়া না-পাওয়া, আশা-নিরাশার কথাই প্রকাশ করে পরোক্ষভাবে। দুজনের মধ্যে যে বিশ্বাস, প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতি এগুলো নির্মাতা গানের কথার মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন। চলচ্চিত্রের মধ্যে চারদিকে শব্দের যে ব্যবহার, তা চেনা পৃথিবীকে খুব আপন অথচ একদম নতুন করে ধরিয়ে দেয়।
আসা যাওয়ার মাঝে’র শুরুতে বাসবা’র যাওয়ার যে দৃশ্য তা আবার ফিরে আসে পরদিন সকালে। ঋত্বিকের চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখা—সেই একই দৃশ্য দেখা যায় পরের দিনও। তার পরের গল্পটাও হয়তো আমাদের চেনা-ই; একজনের দিনের কর্মব্যস্ততা, অন্যজনের দিনের অবসর আবার রাতের ব্যস্ততা। এভাবেই আসা যাওয়ার মাঝে জীবন চলতে থাকে সাইকেলের চাকার মতো।
লেখক : প্রিয়াংকা দেবনাথ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সঙ্গীত চর্চা করেন।
priyankadebnath422@gmail.com
তথ্যসূত্র ও টীকা
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সানাই’ কাব্যগ্রন্থের ‘মরিয়া’ কবিতা থেকে নেওয়া।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন