Magic Lanthon

               

ইসলাম রাজু

প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

গণ অভ্যুত্থানের এক বছর

দৃশ্যমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ইসলাম রাজু


শুরুর কথা


বাংলাদেশে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং তা একবিংশ শতকের অন্যতম জনপ্রতিরোধের প্রতীক। অভ্যুত্থানের এক বছর পর ফিরে তাকালে বোঝা যায় বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট, প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, পোস্টার এবং গ্রাফিকাল নানা উপস্থাপন, এই আন্দোলনকে শুধু নথিভুক্তই করেনি, নতুন ভাষা ও অর্থ দিয়েছে। হিস্টোরিওগ্রাফির কাজটা আরো সহজ করে দিয়েছে এইসব ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট। এ কারণেই দৃশ্যমাধ্যমকে কেন্দ্র ধরে জুলাই আন্দোলনকে পড়া মানে কেবল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা নয়, বরং তা রাজনৈতিক স্মৃতিচর্চা ও গণঅভিজ্ঞতার প্রতিফলন প্রকাশ করে। বিশেষ করে ক্যামেরায় ধারণ করা সেই সময়ের ছবি, ভিডিওগুলোতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্তাল মিছিল, আবু সাঈদের দুহাত প্রসারিত বুক, আন্দোলনকারীদের কাছে মুগ্ধর পানি বিতরণ, কাভার্ড ভ্যান থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ ফেলে দেওয়ার দৃশ্য, দেশের আপামর জনসাধারণকে সেসময় ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে দৃঢ় করতে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিলো। এছাড়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ডিজিটাল পোস্টার ও গ্রাফিক্সের সমন্বয়ে তৈরি রাজনৈতিক বার্তাও অন্যসব আন্দোলন থেকে একে অনন্য করেছিলো। ফলে দ্রুতই এই আন্দোলনের রেশ কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ছড়িয়েছিলো শহর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে, এমনকি প্রবাসে।


দেশের ইতিহাসে এর আগের আন্দোলনগুলো যেমন ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, কিংবা ৯০-এর গণআন্দোলন-এসব ক্ষেত্রেও দৃশ্যমাধ্যম ও নানা উপাদানের ভূমিকা ছিলো। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও বিকল্প প্রদর্শন প্রক্রিয়ার কারণে দৃশ্যমাধ্যম হয়ে উঠেছিলো আরো তাৎক্ষণিক, বহুমাত্রিক ও ফিডব্যাকধর্মী। দৃশ্যমাধ্যমের এসব ফ্রেমে কেবল দমন-পীড়নই ধরা পড়েনি, সেখানে তারুণ্যের স্বপ্ন, গণআকাক্সক্ষার নানা রূপও ছিলো। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে কীভাবে আর্কাইভ হয়েছে তা দেখা। একইসঙ্গে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচর্চার ভেতর দিয়ে এক বছরে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ভিজ্যুয়ালের একটি বিশ্লেষণ হাজির করা।


জুলাই অভ্যুত্থান ও দৃশ্যমাধ্যমের ব্যবহার


বাংলদেশে নানা আন্দোলন সংগ্রামে হাতিয়ার হিসেবে ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমাধ্যমের ব্যবহার খুব বেশি দিনের নয়। সেটার খুব বেশি সুযোগও ছিলো, এমন নয়। তবে ১৯৫২, ৬৯ ও ৭১-এ ব্যানার, পোস্টার ও দেয়াল লিখনের বাইরে ভিজ্যুয়ালের ব্যবহার ছিলো না বললেই চলে। অবশ্য এসব ঘটনা নিয়ে কিছু ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণ হয়েছে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে। একমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ই ব্যানার, পোস্টার ও দেয়াল লিখন ছাড়াও বিশ্ব জনমত তৈরিতে অল্পবিস্তর কিছু নিউজরিল এবং স্টপ জেনোসাইড-এর মতো প্রামাণ্যচিত্র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছিলো। তার পরের ইতিহাস মানে ৯০-এর গণআন্দোলনে দৃশ্যমাধ্যমের ভূমিকা ব্যানার, পোস্টার ও দেয়াল লিখনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।


তারপর দীর্ঘ বিরতি হলেও ছোটোখাটো যে কিছু আন্দোলন হয়নি, এমন নয়; ১৯৯৬-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ২০১৩ তে গণজাগরণ মঞ্চ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬-এর আন্দোলনে দৃশ্যমাধ্যমের ব্যবহার গতানুগতিক; আর ২০১৩ তে অল্প হলেও সেখানে নতুন ধরনের দৃশ্যমাধ্যম ব্যবহার হয়েছে। এরপর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে দুটি বড়ো আন্দোলন হয়। এর মধ্যে একটি সরকারি চাকরিতে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন, আরেকটি ছিলো ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। এই দুইটি আন্দোলনে দৃশ্যমাধ্যমের ব্যবহার ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রযুক্তির কল্যাণে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলো ভিডিও ক্লিপ, ফেইসবুক লাইভ, অ্যানিমেশন ভিডিও, গ্রাফিকাল পোস্টার। এই আন্দোলনের যেকোনো ঘটনার ভিডিও তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বিভিন্ন অবস্থান থেকে আন্দোলনকারীরা ফেইসবুক লাইভ করতো। এসব ভিডিও ও ফেইসবুক লাইভ তখন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। যদিও তখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইন্টারনেট এতোটা সহজলভ্য ছিলো না, তবুও আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।


তবে এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনে দৃশ্যমাধ্যমের ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছিলো। এর মধ্যে ইরানের সবুজ আন্দোলন (২০০৯-২০১০), আরব বসন্ত (২০১০), অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট (২০১১), হংকংয়ের আম্ব্রেলা বিপ্লব (২০১৪) এবং যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিরোধী সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগঠিত ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (২০১৩) রয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যায়, এসব আন্দোলনের তীব্রতা কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তারা কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। তথ্য প্রবাহের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং তার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেইসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য সোশাল সাইটসমূহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যার বরাতে লাইভস্ট্রিম, ভিডিও ক্লিপ ও ডিজিটাল পোস্টার মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মনোযোগ কাড়ে। একইসঙ্গে হ্যাশট্যাগ, গ্রাফিকাল ভিজ্যুয়াল ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রতিবাদের বার্তা বৈশ্বিক স্তরে পৌঁছে যায়। ফলে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভিজ্যুয়াল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।


বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত একদিনে হয়নি, এর পেছনে রয়েছে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়, শোষণ ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং তার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রতিফলন। এর আগে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি ‘সুবোধ মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ‘সুবোধ, ভোর হবে কবে?’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই!’, ‘সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করে মানুষের মনে, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, ভুলেও ফিরে আসবি না!’, ‘সুবোধ তুই তৈরি হ-এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে গ্রাফিতি দেয়ালে দেখা যেতে থাকে। এরপর ২০১৮র কোটা আন্দোলন শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে। সেই ধারাবাহিকতা ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে চূড়ান্ত রূপ পায় এবং সরকার পতনের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।


বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম আন্দোলন, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্ত বিশেষ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা, কোথায়, কখন, কতোক্ষণ অবস্থান করা হবে, সবকিছু ছড়িয়ে পড়তো ভিডিও ক্লিপ, লিখিত পোস্ট, ডিজিটাল পোস্টার কিংবা লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে। ফেইসবুক, ইউটিউবের মতো প্লাটফর্ম তখন তথ্যপ্রবাহের বিকল্প গণমাধ্যমে পরিণত হয়। সমন্বয়করা যেখানে নির্দেশনা দিতো, শিক্ষার্থীরা ঠিক সেভাবে সেখানেই মিছিল-মিটিং করতো। একইসঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা, ছবি ও ভিডিও তারা শুধু প্রচলিত গণমাধ্যমেই নয়, বরং ব্যক্তিগত ফেইসবুক ওয়াল কিংবা টেলিগ্রাম চ্যানেলেও শেয়ার করতো। শুধু তাই নয় আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিবর্ষণ, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী সেøাগান, টি এস সি কিংবা শাহবাগে জনসমুদ্রের জোয়ার-সবকিছুই ছড়িয়ে পড়েছিলো সামাজিক মাধ্যমে। এর মধ্যে, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করার দৃশ্য, ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ মুগ্ধের কণ্ঠ থেকে ‘পানি লাগবে পানি বাক্য, ৩১ জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা মো. নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের সময় তার মুখ চেপে ধরার দৃশ্য; ছাত্রলীগ দুই তরুণীকে লাঠি দিয়ে পেটানোর ছবি এবং ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদার লাঠি হাতে রক্তমাখা ছবি যেনো নতুন ধরনের বার্তা নিয়ে হাজির হয়। প্রতিটি ইমেজ হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর প্রমাণ।


বিপরীতে রাষ্ট্রও এই ভিজ্যুয়াল প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙা, ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা, সোশাল মিডিয়া ব্লক করে দেওয়া থেকে শুরু করে সরাসরি ইন্টারনেট বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ১৮ জুলাই বিকেল থেকে রাত নয়টায় সারাদেশে বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। পরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফেরত আসে ২৪ জুলাই আর মোবাইল ইন্টারনেট ২৮ জুলাই। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিলো ইন্টারনেট। মাঝে আন্দোলনের গতি কিছুটা থমকে গেলেও শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি। তখন তারা ভি পি এন ব্যবহার করে বার্তাগুলো আদান-প্রদান করেছে।


ফ্রেমে ফ্রেমে জুলাইয়ের দৃশ্যপট


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এক বছরে চারপাশে এক বিস্তৃত ভিজ্যুয়াল জগৎ তৈরি হয়েছে। জুলাইকেন্দ্রিক এসব ভিজ্যুয়াল শিল্পমাধ্যমের নানা ফর্মে উৎপাদিত হয়েছে। যার মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি, সম্প্রচার মাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং পোস্টার উল্লেখযোগ্য। এসব ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট মিলে গড়ে উঠেছে জুলাইয়ের বহুমাত্রিক দৃশ্যপট এবং ব্যাখ্যার পরিসর।


একেবারে প্রথমদিকে জুলাইকে কেন্দ্র করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পাওয়া গেছে তিনটি। যার মধ্যে নির্মাতা আজিজ হাকিম-এর জুলাই ৩০৩, রাকিবুল ইসলাম নির্মিত মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, সালমা সুলতানা আশাসাইলেন্স ইন দ্য ক্যাওস এবং নির্মাতা আশফাক নিপুন নির্মিত সাত পর্বের ওয়েব সিরিজ জিম্মি। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এখন পর্যন্ত একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেলুপি (২০২৫) নির্মাণ করেছেন তাওকীর ইসলাম সাইক।



ডকুমেন্টারি পাওয়া গেছে মোট ১৫টি। সেগুলোকে থিম অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথমত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ডকুমেন্টারি-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত কণ্ঠ হারানো জুলাই যোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিকের কথা; দৃষ্টি হারানো এক জুলাই যোদ্ধার গল্প; শহীদ দীপ্ত দে ও শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর কথা; শহীদ আক্তার হোসেন ও শহীদ ওমর ফারুকের কথা; তুমি কি আর কখনো ঘুমাতে পারবা মা?; বাবার কাঁধে ছেলের লাশ, যে বহন করেছে সেই জানে; ঔঁষু ডড়সবহ; ফেইল টু কিল আবরার ফাহাদ। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নির্মাণ করেছে জুলাই অনির্বাণ নামে একটি ডকুমেন্টারি। দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক ডকুমেন্টারির (রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকেন্দ্রিক) মধ্যে রয়েছে-এমনকি লাশেরাও পায়নি রেহাই; হিরোস উইদাউট কেপস : প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস ইন জুলাই; দ্রোহের জুলাই এ সিলেট। এই তিনটি ডকুমেন্টারিও নির্মাণ হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তৃতীয়ত, বিশ্লেষণমূলক ডকুমেন্টারি-আরিফুর রহমান নির্মিত শ্রাবণ বিদ্রোহ; জুলাইয়ের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহকে ধরে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির নির্মাণ করেছে 36 July: Wings of Freedom; ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ নির্মাণ করেছে দ্রোহের জুলাই: সংবাদে সংগ্রামে দ্য ডেইলি স্টার


এর বাইরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাওয়া গেছে নয়টি। এই রিপোর্টগুলোকেও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত, ঘটনাভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে, দৃক (Drik) এর অনুসন্ধানে ‘ÔSHOOT ME, I BARE MY CHEST; ‘নেত্র নিউজ-এর অনুসন্ধান ‘তাইমের শেষ চা; ‘দ্য ডেইলি স্টার-এর ‘রামপুরা হত্যাকাণ্ড; ‘প্রথম আলোর ‘রক্তাক্ত মহাসড়ক: যাত্রাবাড়ী হত্যাযজ্ঞ; ‘৫ আগস্টের যাত্রাবাড়ী, শেখ হাসিনার ফোনরেকর্ড, বৃটিশ প্রভাবশালী দৈনিক ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর ‘ÔBangladesh’s missing billions, stolen in plain sight। দ্বিতীয়ত, জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিক উপস্থাপন করা হয়েছে ‘বিবিসি বাংলার ‘শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান হলো যেভাবে; ‘আল জাজিরার ‘Ô36 Days in July: Sheikh Hasina’s secret orders revealed শিরোনামের প্রতিবেদনে। এর বাইরে শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তীর ১৬০টি ডিজিটাল পোস্টার পাওয়া যায়। জুলাই অভ্যুত্থান এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বেশ আলোচনায় আসে এই পোস্টারগুলো।


কী আছে ওইসব কনটেন্টে?


জুলাই ৩০৩ চলচ্চিত্রটি গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইকনিক মুহূর্তকে ফোকাস করে নির্মিত। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি, আন্দোলনকারীদেরকে মুগ্ধের পানি খাওয়ানো, পুলিশের নির্বিচারে গুলি, সাধারণ নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া, টর্চার, গুম, খুন ইত্যাদি বিষয়গুলোকে দেখানোর চেষ্টা করেছে। এছাড়া আন্দোলনে ভ্যানচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা কীভাবে বেড়েছে সেই বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু চলচ্চিত্রটি নির্মিত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে। যে স্পৃহা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভ্যুত্থান ঘটালো, সেই জুলাইয়ের চেতনা যেনো বৃথা না হয়; নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেনো একইভাবে সবাই একত্রিত হয়ে নানা সমস্যা মোকাবিলা করে, এসব দিক উঠে এসেছে। এতে অভ্যুত্থান পরবর্তী  লুটপাট, ঘরবাড়ি পোড়ানো, মব তৈরি করে সহিংসতা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অসহযোগিতামূলক আচরণের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।


সাইলেন্স ইন দ্য ক্যাওস যদিও জুলাই আন্দোলনকে সরাসরি উপস্থাপন করেনি, তবুও এটা এমন এক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে যেখানে গত ফ্যাসিস্ট রেজিমের চিত্রটি প্রতীকীভাবে হাজির হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে মূলত একজন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যে চরিত্রটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সরাসরি যুক্ত না থেকেও কীভাবে তাতে জড়িয়ে পড়ে, তারই বর্ণনা উঠে এসেছে। ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে ২৮ মার্চ ‘হইচই-এ মুক্তি পাওয়া সাত পর্বের ওয়েব সিরিজ জিম্মিতে এমন একটি বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে, যা বিগত ১৫ বছরের স্বৈরশাসনকে রিপ্রেজেন্ট করে। সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেয়। সেই টাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লুকিয়ে রাখা এবং তা অন্যজনের কাছে হস্তগত হওয়া থেকে শুরু করে নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ব্ল্যাক কমেডি ঘরানার এই সিরিজ যেনো রাজনৈতিক ‘আয়না, যেখানে অনেকেই নিজেকে দেখেছে। এছাড়া পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেলুপি মুক্তি পায় ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ নভেম্বর। এতে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি ইউনিয়নের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে একদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছে, অন্যদিকে পরাক্রমশালী সরকারের পতনের ফলে ক্ষমতাকাঠামোয় বড়ো ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চলচ্চিত্রের গল্পের ওই ইউনিয়নটাই যেনো বাংলাদেশ।



ডকুমেন্টারির ক্ষেত্রে জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোতে যারা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে, বুলেটের সামনে শূন্য হাতে লড়েছে বুকভরা সাহস ও দেশপ্রেম নিয়ে কিংবা মৃত্যুর দুয়ার থেকে যারা ফিরে এসেছে তাদের কথা বলা হয়েছে। ‘কণ্ঠ হারানো জুলাই যোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিকের কথা, ‘দৃষ্টি হারানো এক জুলাই যোদ্ধার গল্প, ‘শহীদ দীপ্ত দে ও শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর কথা, ‘শহীদ আক্তার হোসেন ও শহীদ ওমর ফারুকের কথা সেরকমই কয়েকটি ডকুমেন্টারি। এখানে কণ্ঠ হারানো জুলাই যোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিকের কথা মূলত কুমিল্লার তরুণ আবু বকরের গল্প নিয়ে। তিনি অন্যদের মতোই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে সেøাগান তুলেছিলেন। কিন্তু আজ তিনি স্লোগান তো দূরের কথা, কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন না। পেটোয়া বাহিনী কেড়ে নিয়েছে তার কণ্ঠস্বর। ডকুমেন্টারিতে আবু বকরের নীরব দৃষ্টি এবং তার পরিবারের বয়ানে পুলিশের নির্মমতা ফুটে উঠেছে।


নারায়ণগঞ্জের মাহবুব আলমকে নিয়ে নির্মাণ হয়েছে দৃষ্টি হারানো এক জুলাই যোদ্ধার গল্প। আবু বকরের মতো তিনিও নির্ভীক যোদ্ধা। দৃষ্টি হারিয়েছেন। তার বয়ানে উঠে এসেছে গুলিবিদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর কথা, ভালো লাগা, খারাপ লাগার কথা। শহীদ দীপ্ত দে ও শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর কথা ডকুমেন্টারিতে তাদের বাবা-মায়ের কণ্ঠে উঠে এসেছে সন্তানের মৃত্যু-বেদনা। একইভাবে শহীদ আক্তার হোসেন ও শহীদ ওমর ফারুকের কথা ডকুমেন্টারিতে মায়ের কণ্ঠে ধরা পড়েছে ছেলের শেষ স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরা বেদনা; আর ওমর ফারুকের স্ত্রীর কণ্ঠে উঠে এসেছে স্বামী হারানোর গভীর কষ্ট। একই ঘরানার ডকুমেন্টারির মধ্যে আরো রয়েছে তুমি কি আর কখনো ঘুমাতে পারবা মা? এবং বাবার কাঁধে ছেলের লাশ, যে বহন করেছে সেই জানে। তবে জুলাই অনির্বাণ ডকুমেন্টারিতেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা উঠে এসেছে সাত শহীদের স্বজনের বয়ানে। কারো বাবার মুখে, কারো মায়ের, কারো বোন, কারোবা চার বছরের রেখে যাওয়া সন্তানের মুখে বর্ণিত হয়েছে হৃদয়বিদারক সেই গল্প। শহীদরা হলেন-আবু সাঈদ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, শাহরিয়ার খান আনাম, তাহির জামান প্রিয়, সুমাইয়া আক্তার, ফারহান ফাইয়াজ, আমিনুল ইসলাম আমিন এবং আন্দোলনে পা হারানো মোহাম্মদ তামিম।


তবে ব্যক্তিনির্ভর বিষয়ের বাইরে খানিকটা আলাদা দুটি বিষয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি জুলাই উইমেন এবং ফেইল টু কিল আবরার ফাহাদ। জুলাই উইমেন-এ তিনজন নারীর বয়ানে জানা যায়, কীভাবে তারা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলো। এর মধ্যে দুজন ছিলো সক্রিয় অংশগ্রহণকারী সুস্মিতা মিম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) ও শাহেলা আক্তার উমামা (ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট, দৃক, পাঠশালা), তৃতীয়জন আইনুর নাহার। যিনি শহীদ নাইমা সুলতানার মা। ডকুমেন্টারিতে নিজের মেয়ের কথা বলেছেন নাইমা আর সুস্মিতা ও উমামার বয়ানে উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের হলের গেট ভেঙে আন্দোলনে যোগ দেওয়া, ছাত্রলীগ কর্মীদের হুমকি-নির্যাতনের মুখেও দৃঢ় অবস্থানের কথা।


অন্যদিকে ফেইল টু কিল আবরার ফাহাদ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে। এতে তুলে ধরা হয়েছে আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ ঘটনাক্রম। এমনকি লাশেরাও পায়নি রেহাই-এ গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্টে ঢাকার আশুলিয়া গণহত্যার নৃশংসতা তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ বিক্ষোভরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। তারপর আহত ও মৃত দেহগুলোকে জড়ো করে ট্রাকে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিভীষিকাময় সেই ঘটনার নানা ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়।


জুলাই আন্দোলনের একপর্যায়ে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনের কৌশল হিসেবে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়। তখন এগিয়ে আসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হিরোস উইদাউট কেপস : প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস ইন জুলাই ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে সেই অধ্যায়। শ্রাবণ বিদ্রোহ মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি বিশ্লেষণধর্মী ডকুমেন্টারি। এতে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে-প্রথমত, জুলাই আন্দোলন কীভাবে চিত্রিত হলো এবং কীভাবে গণমানুষের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হলো। দ্বিতীয়ত, বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে গুম, খুন ও আধিপত্যের যে ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিলো, সেই শাসন কীভাবে ক্রমেই ফ্যাসিবাদে রূপ নিলো, তা তুলে ধরা হয়েছে। এই ডকুমেন্টারিতে সমন্বয়ক, সাধারণ শিক্ষার্থী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, ফটো সাংবাদিকদের পাশাপাশি গুম ও খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর ভাষ্য, বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর, আসিফ নজরুল, সলিমুল্লাহ খান, আনু মুহাম্মদ প্রমুখের ভাষ্য উঠে এসেছে।


দ্রোহের জুলাই: সংবাদে সংগ্রামে দ্য ডেইলি স্টার ডকুমেন্টারিতেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি দিন, অর্থাৎ টানা ৩৬ দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে ফ্রেমে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন কীভাবে বিস্তৃত হয়ে দেশের সরকার পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো, তারই দিনলিপি নির্মাণ করেছে দ্য ডেইলি স্টার। ৩৬ ঔঁষু: ডরহমং ড়ভ ঋৎববফড়স নামে এক ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের এই ডকুমেন্টারিটি শ্রাবণ বিদ্রোহ-এর মতোই জুলাই আন্দোলনকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ২৪-এর জুলাই যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফল নয়; এর পেছনে দীর্ঘ এক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি রয়েছে সেই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে দেশজুড়ে মেগা মেগা প্রজেক্টের নামে বিলিয়ন ডলার চুরি করে বিদেশে পাচার; মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল বানিয়ে পুরো দেশকে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটে ফেলানো; ২০০৯ এ পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩র শাপলায় গণহত্যা, গুম-খুন এবং বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনকে দলীয়করণের ঘটনা আলোকপাত করা হয়েছে। অন্যদিকে দল হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা গণঅভ্যুত্থানে কীভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি জুলাইয়ে আহত ও শহিদ পরিবারের সাক্ষাৎকার এবং তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও সংযোজিত হয়েছে।


এবার নজর দেওয়া যাক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর দিকে। ÔSHOOT ME, I BARE MY CHESTÕ শিরোনামের প্রতিবেদনটি মূলত জুলাইয়ের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধানকে ঘিরে। এখানে সরকারি বয়ানের বিপরীতে ফরেনসিক অনুসন্ধান চালিয়েছে বাংলাদেশের দৃক পিকচার লাইব্রেরি এবং যুক্তরাজ্যের ফরেনসিক আর্কিটেকচার। তাদের যৌথ অনুসন্ধানে গভীর সাক্ষাৎকার, ফটোগ্রাফি, স্যাটেলাইট ইমেজ, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে স্পষ্ট করা হয়েছে পুলিশের গুলিতেই আবু সাঈদ নিহত হয়েছেন।



তাইমের শেষ চা শিরোনামে যৌথভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে ‘নেত্র নিউজ ও ‘বাংলাদেশ প্রোটেস্ট আর্কাইভ  ২০২৪ এ আন্দোলন চলাকালীন ২০ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পায়ে গুলিবিদ্ধ তাইমকে তার এক বন্ধু টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল পুলিশ সামনাসামনি দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটির বিশ্লেষণে অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে তাইমের ভাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল ওই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে পুরো ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।


Tech Global Institute -এর সঙ্গে যৌথভাবে ১৯ জুলাই রামপুরার ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে ‘দ্য ডেইলি স্টার। ‘রামপুরা হত্যাকাণ্ড শিরোনামের ওই প্রতিবেদন তৈরিতে রামপুরা এলাকার দুই শতাধিক ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এটা নির্মিত। প্রতিবেদনে হত্যাকারীদের পোশাকের ডিজিটাল প্যাটার্ন, ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং ক্রোনোলোকেশন বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গতিপথ বোঝার চেষ্টা হয়েছে। ‘রক্তাক্ত মহাসড়ক: যাত্রাবাড়ী হত্যাযজ্ঞ ছিলো ‘রামপুরা হত্যাকাণ্ড-এর মতোই আরেকটি প্রতিবেদন। তবে এটা আরো বৃহৎ পরিসরে নির্মিত। এই প্রতিবেদনে ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর এক কিলোমিটার মহাসড়ক কীভাবে সাত ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিলো তা তুলে ধরা হয়েছে। নিরস্ত্র মানুষকে কতো কাছ থেকে পুলিশ গুলি করেছে, কাকে, কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে এই প্রতিবেদনে। এই অনুসন্ধানে সেদিনের শত শত সরাসরি ফুটেজ, সিসি টিভি ফুটেজ, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও, স্যাটেলাইট ইমেজ এবং স্পেশাল রিকনস্ট্রাকশন (থ্রিডি) ব্যবহার করা হয়েছে। এতে একই ঘটনা ও সময়ের একাধিক ফুটেজ মিলিয়ে দেখা হয়েছে। খণ্ড খণ্ড চিত্র বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ দৃশ্যপট দাঁড় করানো হয়েছে ৩৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের এই প্রতিবেদনে।


একই বিষয়ে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা হয়েছে ‘৫ আগস্টের যাত্রাবাড়ী, শেখ হাসিনার ফোনরেকর্ড শিরোনামে। এটা করেছে ‘বিবিসি বাংলা। প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন ফোনকলে, তার অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে। একইসঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আন্দোলন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বয়ানের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়েছে। বিশেষ করে শহিদ মিরাজের বন্ধুদের বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিনের ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।


ÔBangladesh’s missing billions, stolen in plain sightÕ একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। যেখানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা কীভাবে দেশের বাইরে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তার সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রভাবশালী বৃটিশ দৈনিক ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস(FT) এর এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে পাচার হয়েছে; যার প্রধান পদ্ধতি ছিলো ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং (পণ্যের দাম বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেখানো), হুন্ডি ও যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে সম্পত্তি বিনিয়োগ।


এছাড়া ‘বিবিসি বাংলার তৈরি প্রতিবেদন ‘শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান হলো যেভাবে, মূলত কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সংঘাত, হত্যাকাণ্ড এবং নানা রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হলো কীভাবে তা তুলে ধরেছে। তবে ঘটনাপ্রবাহের কোনো গভীর বিশ্লেষণ ‘বিবিসি এতে হাজির করেনি। এখানে কেবল তারিখ ধরে ধরে কী কী ঘটেছে সেই চিত্র, বিভিন্ন সংবাদের কাটিং এবং রিপোর্টারের ব্রিফিং রাখা হয়েছে।


আল জাজিরার ‘36 Days in July: Sheikh Hasina’s secret orders revealed প্রতিবেদনটি জুলাইয়ের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান। বৃহৎ পরিসরে এই প্রতিবেদনে ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে প্রহসন ও দমননীতি চালিয়েছিলো, তার নেপথ্যের নানা গোপন ফোনালাপ ও তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। যদিও ‘৫ আগস্টের যাত্রাবাড়ী, শেখ হাসিনার ফোনরেকর্ড শিরোনামের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, তবুও আল জাজিরার এই অনুসন্ধান আরো গভীরে গিয়ে কল রেকর্ডের পাশাপাশি বহু অজানা তথ্য তুলে ধরেছে। যেমন হাসিনা আকাশপথে আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশও দিয়েছিলেন।


এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জুলাই, জলযুদ্ধ ও মায়ের ডাক নামে তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র; ফেলানী, ঝুঁকির যাত্রা, হু হ্যাজ মেইড আস ফ্লাই ও বোবা নামে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অনুদান দেওয়া হয়েছে জেলায় জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আটটি বিভাগের আটটি প্রামাণ্যচিত্র, অভ্যুত্থানে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ডায়াস্পোরা এবং গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন ও কার্টুনে তারুণ্যের স্বপ্ন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র গ্রাফিতি নির্মাণের জন্য।


ভিজ্যুয়ালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম পোস্টার। পোস্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তী। আন্দোলনের সময় থেকে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেবাশীষের তৈরি ১৬০টির বেশি পোস্টার প্রকাশ পায় সামাজিক মাধ্যমে। এসব পোস্টারে আন্দোলন ও অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। জুলাই কেনো অনিবার্য হয়ে উঠেছিলো এবং তার বর্বরতার চিত্র এখানে উঠে আসে। কয়েকটি পোস্টারের কথা না বললেই নয়-কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দৃঢ়সংকল্প শিক্ষার্থীরা, তাতে লেখা ‘মাননীয় মাদার অফ গণহত্যাকারী পদত্যাগ করুন; আরেকটি পোস্টারে সেই বিখ্যাত স্লোগান ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার; আরেকটিতে ‘খুনি হাসিনার কত দম দেখে নিবে জনগণ, আরো আছে ‘আওয়াজ উডা কথা ক, ‘রক্তাক্ত জুলাই, ‘রাষ্ট্র সংস্কার লাগবে, ‘শেখ হাসিনার অনেক গুণ, পুলিশ দিয়ে করেছে খুন,‘পারমাণবিক চোর ইত্যাদি। লাল-কালো-হলুদ রঙ ব্যবহার করা এসব পোস্টারে মূলত বিগত ১৫ বছরে না বলতে পারা কথা এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা অসঙ্গতির কথা উঠে আসে।


সবকিছুই রাজনৈতিক নির্মিতি


প্রামাণ্যচিত্র, সত্য ঘটনানির্ভর কাহিনিচিত্র ও কাহিনিচিত্র নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি বেশ পুরনো। প্রামাণ্যচিত্রে একজন নির্মাতা যা দেখেন এবং দেখাতে চান তা তার নিজস্ব সত্য হিসেবে হাজির হয়। এই কথাটি হয়তো অনেকের মনে ধাক্কা দিতে পারে; তবে এটাই বাস্তব। কারণ, যে বিষয় ও বিষয়ীর ওপর ডকুমেন্টেশন হয়, সেখানে কী দেখানো হবে, কীভাবে দেখানো হবে, ক্যামেরা ফ্রেমিং কী হবে, কতোখানি হবে, তা একেবারে নির্মাতার একক সিদ্ধান্ত। কাজেই বাস্তবের নানা ধরনের চিত্রায়ণের ভেতর দিয়ে নির্মাতা দর্শকের জন্য যে সত্যকে হাজির করতে চায়, সেটা নির্মাতার নিজস্ব ভাষ্য-বলা যায়, নিজস্ব সত্য। কাজেই এখানে ব্যক্তি সত্য কিংবা সত্য-বাস্তবের দ্বন্দ্ব সবসময় কাজ করে। সত্য এবং বাস্তবতার মধ্যকার এই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই চলতে থাকে ভিজ্যুয়ালের রাজনীতি। মিশেল ফুকো বলেন, সমাজ বা রাষ্ট্রিক পরিসরে কোনো বিশেষ বক্তব্য যখন বয়ান হিসেবে উপস্থাপন হয়, তখন তা ‘সত্যে পরিণত হতে থাকে। আর এর মাধ্যমেই জারি হতে থাকে সত্যের শাসন বা রেজিম অব ট্রুথ। এই সত্য একেকটা ডিসকোর্স আকারে ভাষার মধ্য দিয়ে রিপ্রেজেন্ট হয়।


এছাড়াও ভিজ্যুয়াল অ্যানথ্রোপলজির জায়গা থেকে যদি বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে এইসব ভিজ্যুয়াল একেকটা ‘মাঠ বা গবেষণার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এই মাঠও নানা রাজনৈতিকতার ভেতর দিয়েই নির্মাণ ও নির্ধারিত হতে থাকে। গবেষক যেটাকে ‘মাঠ বা গবেষণার ক্ষেত্র বলে চিহ্নিত করে, সেটাই আসলে ‘মাঠ বা গবেষণার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। তার মানে এখানেই ‘মাঠ বা গবেষণার ক্ষেত্র (নির্বাচিত ভিজ্যুয়ালসমূহ) আর বস্তুনিষ্ঠ না থেকে ব্যক্তিনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। তবে ভাষা হিসেবে ভিজ্যুয়াল অনেক বেশি কার্যকর। কারণ মানুষ জন্মগতভাবেই চিন্তা করে ইমেজ বা ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে। তাই তার জ্ঞানীয় পরিসরে ভিজ্যুয়াল সবসময়ই থেকেছে। আর এই ভিজ্যুয়ালকে কেন্দ্র করেই শাসনব্যবস্থার যতো টেকনিক ও টেকনোলজি হাজির হয়।


সেই জায়গা থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিজ্যুয়ালকে পাঠ করা যেতে পারে। কারণ জুলাই পরবর্তী সময়ে যেভাবে নানা প্রক্রিয়ায় বয়ান এবং চেতনার রাজনীতি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেই বিবেচনা মাথায় নিতে গেলে কয়েকটা বিষয় ভাবতে হবে। প্রথমত, ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে জুলাইকে আর্কাইভ করা হয়েছে; দ্বিতীয়ত, ভিজ্যুয়ালের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের অনেক কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে; তৃতীয়ত, কোনো কোনো ডকুমেন্টারিতে সুনির্দিষ্ট বয়ানও হাজির করার চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। যেখানে নির্দিষ্ট কোনো দল, মত ও আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।


জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথাগত রাজনৈতিক ইতিহাসের যে বয়ান তা নিয়ে বিশাল বিতর্ক তৈরি হতে দেখা যায়। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও নানা পরিসর থেকে নানাভাবে প্রশ্ন উঠতে থাকে। এই যে জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে বয়ান নির্মাণের প্রচেষ্টা, সেখানেও এসব ভিজ্যুয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

ভিজ্যুয়াল নিজে কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না। কারণ যখনই ক্যামেরা অন হয়, তখনই সেখানে সুনির্দিষ্ট পার্সপেকটিভ এবং বিশেষ করে নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটতে থাকে। একইভাবে সেটা সম্পাদনা প্রক্রিয়াতেও নির্মাতা আরো একবার নিজের মতো করে বয়ান হাজির করে। সেই অর্থে ভিজ্যুয়াল নিজেই এক ধরনের সামাজিক নির্মাণ। যার সঙ্গে বৃহদার্থে বয়ানের রাজনীতির ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। জুলাই নিয়ে যেকোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলেরই নির্মাণ সেই আওতায় পড়বে সন্দেহাতীতভাবেই।

 

এভাবেই জুলাই পরিণত হয়েছে বয়ান আর তার রাজনৈতিক নির্মাণের ঊর্বর ক্ষেত্র হিসেবে। কাজেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আরো ক্রিটিকালি চিন্তা করতে গেলে সত্য-বাস্তবতার দ্বন্দ্ব, মাঠের নির্মিতি, শাসকের সত্য-এ ধরনের নানা পরিসরকে গুরুতরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।


লেখক : ইসলাম রাজু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।


rajubdmcj@gmail.com


http://www.facebook.com/md.rajuislam.7505468


তথ্যসূত্র ও টীকা


১. হোসেন, মাহমুদুল (২০১০ : ১১০); ‘প্রামাণ্যচিত্র : সত্যবিষয়ক সমস্যা ও কিছু বিবেচনা; সিনেমা; প্রকাশক : মাহমুদুল হোসেন, ঢাকা।

২.‘জ্ঞান, ক্ষমতা ও মিশেল ফুঁকো; দেখুন: https://archive.roar.media/bangla/main/world/michel-foucault-the-interrelation-of-power-and-knowledge; retrived on: 13.10.2025

৩. আহমেদ, রেহনুমা ও চৌধুরী, মানস (২০০৩ : ২৩); “‘মনুষ্যজাতির অধ্যয়ন; নৃবিজ্ঞানের প্রথম পাঠ : সমাজ ও সংস্কৃতি; একুশে পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ঢাকা।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন