নুসরাত নুসিন
প্রকাশিত ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
রাজশাহীতে চলচ্চিত্রযাত্রা : ইতিহাসের সেকাল-একাল
নুসরাত নুসিন

শিল্প ও তার গুরুত্ব অনিবার্যভাবে ফিরে আসে। চলচ্চিত্র অবশ্যই ইতিহাসের সহযাত্রী, জীবন ও কালখণ্ডের প্রতিচ্ছবি। যা কোনো একটি সময়কে গভীরভাবে ধারণ করতে করতে অগ্রসর হয় এবং এর মধ্য দিয়ে গুরুত্ববহ হয়ে উঠতে থাকে। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র শুধু ইতিহাসকে দর্শনযোগ্য করে তোলে না বরং ইতিহাসকে অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে আসে। শিল্প অবশ্যই বিশেষ সময়ের দৃষ্টিভঙ্গি না, অথবা দৃষ্টিভঙ্গির একরৈখিক আলোকিত কোণ নয়; যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের সমগ্র জীবন ব্যবস্থাই একটি শরীর নিয়ে চলমান থাকে। এ কারণে শুধু দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যারেটিভ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে মানুষগুলো ইতিহাসের বয়ান নির্মাণ করেছে, সেই মানুষগুলোর দৃষ্টিতে না দেখে, সাধারণের চোখে দেখলে বোঝা যায়, ইতিহাস অনিবার্যভাবে ফিরে আসে।
এই ফিরে আসার প্রবাহে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত-পরিবেশ-প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্র নিশ্চিতভাবে তার সময়কে যাপনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে; আর এ কারণে চলচ্চিত্রের ইতিহাস লিখতে গেলে অন্যান্য সামাজিক ইতিহাস চলে আসে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ছাড়াও চলে আসে গভীরভাবে ক্রিয়াশীল সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার বিন্যাস; সেসময়ের রুচি, সংস্কার, বিশ্বাস, উৎসব, আনন্দ-বিনোদন ও সম্পূর্ণ সংস্কৃতির স্বরূপ।
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে চলচ্চিত্র চর্চার যেসব তথ্য এ পর্যন্ত পাওয়া যায়, সেগুলোর উত্তরণের আনুপূর্বিক শৃঙ্খলা লক্ষ করা যায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঔপনিবেশিক সময় থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র চর্চার বিচ্ছিন্ন প্রয়াসসমূহ একটি অপরিহার্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। চলচ্চিত্র চর্চা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে স্বীকার করেই মূলস্রোতে মিলিত হয়েছিলো। সুতরাং বলা যায়, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে কখনো স্পর্শ, প্রভাবিত, কখনো শঙ্কিত করেছে এবং কোনো কোনো সময় প্রণোদিত করেছে। চলচ্চিত্র চর্চার এই ধারা বাংলাদেশে একটি স্থায়ী শিল্পমাধ্যমের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে ব্যাপক প্রেরণা সঞ্চার করেছে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে।
১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে চলচ্চিত্রের আগমন। একই সময়ে তা মুম্বাই (বোম্বে), কলকাতা, ঢাকা এবং এর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় রাজশাহীতে চলচ্চিত্রশিল্প প্রবেশের কিছু ঐতিহাসিক কারণও ছিলো। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে সুদীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতার সঙ্গে সবচে ঘনিষ্ঠ আর উজ্জ্বল যোগাযোগ ছিলো রাজশাহীর। কলকাতার পরেই রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতির বিকাশে অন্যান্য সহায়ক সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মচাঞ্চল্যের পরিবেশ গড়ে ওঠে। সুতরাং চলচ্চিত্র আবির্ভূত হওয়ার পর তা একই সঙ্গে রাজশাহীতেও প্রবেশের সুযোগ ঘটে তার কর্মচাঞ্চল্যের কারণেই।
এ সময়ই ঢাকায় পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ শুরু হয়। নবাব পরিবারের ফটোগ্রাফি সোসাইটির তরুণরা প্রথম টেস্ট ফিল্ম হিসেবে সুকুমারী (১৯২৭-২৮) নির্মাণ করে। পরবর্তী সময়ে তারাই নির্মাণ করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস (১৯৩১)। এ অঞ্চলে তখন বড়ো লাট হিসেবে লর্ড কার্জন ক্ষমতাসীন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের আওতায় জমিদার, সামন্তপ্রভু কর্তৃক সমাজব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ হতে থাকে। স্থানীয় রাজা, জমিদার, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো, কলেজ প্রাঙ্গণ প্রভৃতি স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী চলে।১ এছাড়া বিভিন্ন মুক্তমঞ্চ ও থিয়েটারে বিচ্ছিন্নভাবে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হতো। এ সময়ে দ্য লাস্ট কিস কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিও পায়।
৪০-এর দশকে হিন্দু-মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান হয়। এ সময় শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে নিজেদের আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা শুরু করে মুসলমানরা। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুরে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে প্রথম ‘বঙ্গীয় চলচ্চিত্র সম্মেলন’-এর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। উক্ত সম্মিলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯-৩০ জানুয়ারি। বাংলা সবাক চলচ্চিত্র যুগের প্রায় সূচনাপর্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মিলন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচ্য। এতে বাংলা, বিহার, আসাম ও উড়িষ্যার চলচ্চিত্র শিল্পী, প্রযোজক, প্রদর্শকসহ কলাকুশলীরা মিলিত হয়েছিলেন। সম্মিলন অধিবেশনে অভ্যর্থনা কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক শ্রী প্রফুল্লকুমার মজুমদার রচিত এবং সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন (লাল মিঞা) এম এল সি কর্তৃক অভিভাষণে বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতিকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।২ চলচ্চিত্রকে ঘিরে এই যে, সম্মিলিত প্রয়াস তা নিশ্চিতভাবেই সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
আগেই বলেছি, ঢাকার বাইরে অন্যান্য শহরের পাশাপাশি শিক্ষা-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে রাজশাহীতেও চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। রাজশাহীর রাজা-জমিদারদের উদ্যোগে প্রেক্ষাগৃহ প্রতিষ্ঠা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। এতে বিশেষ করে হিন্দু সমাজের শিক্ষিত লোকজন এগিয়ে আসে। তবে এ সময়ে রাজশাহীতে চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনো প্রয়াস লক্ষ করা যায়নি।
৪৭-এ ব্রিটিশ শাসন পতনের পর মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং হিন্দুদের জন্য ভারতের জন্ম হয়। হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির চূড়ান্ত বিনাশ ঘটে এ সময়ে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তখন চরমে। উপমহাদেশ জুড়ে টালমাটাল অবস্থা। এ সময় অনেক মুসলমান তরুণ হিন্দু নাম গ্রহণ করে কলকাতায় চলচ্চিত্র-নির্মাণ, অভিনয় প্রভৃতি পেশায় আত্মনিয়োগ করে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে নাজির আহমদ তৈরি করেন ইন আওয়ার মিডস্ট। সরকারি উদ্যোগে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি পাকিস্তান শাসিত বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র।৩ যেটি সরকারি উদ্যোগেই পূর্ববাংলার বিভিন্ন শহরে প্রদর্শন করা হয়।
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রবাহের সঙ্গে চলচ্চিত্রের এই যে গতিধারা, তা রাজশাহীর চলচ্চিত্রের যাত্রাপথে জাতীয় ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে একই ধারায় সম্পর্কিত। চলচ্চিত্রের প্রসার চিন্তা ও সংশ্লিষ্ট চর্চাও একই সময়ে প্রবাহিত। ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতার পরেই রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী এসোসিয়েশন, নাগরিক সুবিধার জন্য টাউন হল ও নাট্যমঞ্চ। ফলে তৎকালীন রাজশাহীতে শিক্ষা-সংস্কৃতির একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারা তৈরি হয়। জমিদারদের অকুণ্ঠ প্রচেষ্টায় সংস্কৃতির স্ফুটন, সুনাম ও সমৃদ্ধির অধিকারী হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে।
একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের আবির্ভাবে মাধ্যমটির পরিচিতি, প্রসার, প্রচার ও ব্যবহার এই গুরুত্বকেও রাজশাহীর জমিদাররা সমানভাবে অনুভব করেছিলেন। পরবর্তী সময়েও তাদের কার্যকরী ভূমিকা লক্ষ করা যায়। রাজশাহীর ইতিহাসের পরিক্রমায় শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসারে জমিদারদের এই অধ্যায়টি সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৪৭-এর পরে এই গতির শরীরে কিছুটা ছেদ পড়ে। রাজনীতির ঘন ঘন পালাবদল রাজশাহীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সুখকর হয়ে ওঠেনি। পালাবদলের এ সময়টিতে উপমহাদেশের কোনো অঞ্চলই নিশ্চিতভাবে শিল্প বিকাশের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের উপযুক্ত ক্ষেত্র ছিলো না। দেশভাগের পর পাকিস্তান, পরে বাংলাদেশ—এই সময়কালে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে, এর চাহিদা বেড়েছে; কিন্তু শিল্পটি যে গতিময় একটি দিক নেবে, এই পরিস্থিতি আরামদায়ক ছিলো না। এ অবস্থায় রাজশাহীতে চলচ্চিত্র বিকাশের বিভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও কার্যক্রমে উদ্যোগী হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি উদ্যোগে ও পেশাগত কারণে কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী কাজ শুরু করে। কিন্তু সেটা ঢাকা, কলকাতার সঙ্গেই যুক্ত ছিলো।
স্বাধীন বাংলাদেশে রাজধানী থেকে রাজশাহীর দূরত্ব আছে; সঙ্গে সীমাবদ্ধতা ও সঙ্কট তো আছেই। তবু দু-এক দশক আগে থেকে রাজশাহীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র চর্চা ও বিকাশের একটি যূথবদ্ধ প্রয়াস লক্ষ করার মতো। টালমাটাল রাজনীতির বিভিন্ন বাঁক পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় পার করে বর্তমানের চলচ্চিত্র প্রয়াসীদের প্রচেষ্টা অদূর সম্ভাবনাকে আশান্বিত করে। অবশ্য ততোদিনে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রাপথও দীর্ঘ হয়েছে; বেড়েছে চলচ্চিত্রের চাহিদা; প্রযুক্তিও সহজলভ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় ইদানীং ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। এই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর চলচ্চিত্রপ্রেমীরাও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রায়োগিক চিন্তার একটি সুস্থির পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলচ্চিত্রযাত্রা : ইতিহাসের সেকাল
রাজশাহীতে সেকাল বলতেই মোড়ে মোড়ে ঢোপকল, স্বচ্ছ টলমল পুকুর ও তার জল আর ঘোড়ার গাড়ির ঠক ঠক শব্দ কানে ভেসে ওঠে। “... পাথুরে রাস্তা থেকে শব্দ উঠছে খটখট, চোখে-ঠুলি ঘোড়া চলেছে দুল্কি চালে, বাতাসে শণের দড়ির শক্ত চাবুকের শব্দ ‘সাই’ গাড়োয়ানের গলার আওয়াজ পাওয়া গেত [যেত], ‘যাবেন, যাবেন, যা: শালা।”৪ ধুলোমাটির এবড়োথেবড়ো পথ, সবুজ বাতাস সেই সঙ্গে শহরের নিজস্ব একটি গন্ধ। সরু সরু, পাতলা ইটে গাঁথা শহরের সুরকি খসা পুরনো দালান। শহরের প্রত্যেকটি বাড়িই যেনো দীর্ঘদিনের রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। ফাঁকা জায়গায় বড়ো বড়ো গাছের বাগান, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত জঙ্গল; সমস্তই রহস্যময়, নির্জন আর ঠাণ্ডা। শহরের দুটি মুখ্য রাস্তা—নাটোর ও স্টেশন রোড। আরেকটি স্টেশন থেকে শহরের দিকে। রেশম শিল্পের ব্যবসাও তখন তুঙ্গে।
মাইকে প্রচার হয় মাদ্রাসা মাঠে বায়োস্কোপ দেখানোর। পাশেই প্রবাহমান পদ্মা। রাতের পিনপতন নির্জনতা। এভাবেই মাঝে মাঝে বায়োস্কোপে চলচ্চিত্র দেখানো হতো ব্রিটিশ সরকারের তথ্য বিভাগের আয়োজনে। সেসব চলচ্চিত্রের বেশিরভাগই ছিলো সতর্কতা, উপদেশ ও জনকল্যাণমূলক। সেসময় কখনো কখনো লিফলেট দিয়েও সেসব চলচ্চিত্র দেখার প্রচার চালানো হতো।
সময় পেরোয়, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের স্থানিক পরিবর্তন ঘটে। রাজশাহীর ভিক্টোরিয়া ড্রামাটিক ক্লাবের উদ্যোগে নাট্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নির্মাণ হয়েছিলো রাজা প্রমথনাথ টাউন হল। সেখানে দীঘাপতিয়ার মহারাজা প্রমদানাথ রায় ও রাজশাহীবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় নির্মাণ হয় ভিক্টোরিয়া রঙ্গমঞ্চ। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, নাট্যাচার্য অশ্বিনীকুমার মৈত্র, সুরেন মৈত্রের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ‘ভিক্টোরিয়া ড্রামাটিক ক্লাব’। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের প্রথম সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন রাজা প্রমদানাথ রায় ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।৫ নাট্য চর্চাকে এগিয়ে নিতে ব্রিটিশ শাসনামলে এটি প্রথম ক্লাব হলেও এর কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না।
ভারতবর্ষে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরুর পর সপুরার জমিদার রূপেন্দ্র নারায়ণ ভাদুড়ী ভিক্টোরিয়া রঙ্গমঞ্চ ভাড়া নিয়ে চালু করেন ‘রূপেন সিনেমা’।৬ তিনি এখানে প্রথমে নির্বাক, পরে সবাক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। ৪০-এর দশকের প্রথম দিকে ঘোড়ামারার রেশমপট্টিতে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নিমচাঁদ মাড়োয়ারির উদ্যোগে ‘পূর্ণিমা’ নামে একটি প্রেক্ষাগৃহ চালু করা হয়। রাজশাহীর নাট্যব্যক্তিত্ব প্রশান্ত কুমার সাহা ও চিত্রশিল্পী আশফাকুল আশেকীনের বয়ানে এমন তথ্য পাওয়া যায়। পরে রেশমপট্টি ঘুরে প্রবীণ দুই-একজনের সঙ্গে কথা বলেও এর সত্যতা মেলে। এমনকি সেই প্রেক্ষাগৃহের ভবনটি এখন গুদাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে তারা জানান।
তবে ‘পূর্ণিমা’ খুব অল্পকালই চালু ছিলো। প্রেক্ষাগৃহের পাশেই মসজিদ থাকায়, সাম্প্রদায়িক গণরোষের কবলে কিছুকাল পর তা বন্ধ হয় বলে জানা যায়। যদিও এর কোনো লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়নি।
১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২ এপ্রিল ভিক্টোরিয়া ক্লাবের কাছ থেকে টাউন হলটি কেনে ‘রাজশাহী এসোসিয়েশন’। ঋণের দায়ে ভিক্টোরিয়া ক্লাব শেষ পর্যন্ত হলটি রক্ষা করতে পারেনি। তখন থেকে রাজশাহী টাউন হল ‘রাজশাহী এসোসিয়েশন’-এর নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এর পরে কলকাতার জনৈক এ কে রায়, এসোসিয়েশনের কাছ থেকে হলটি ভাড়া নিয়ে নিয়মিত চলচ্চিত্র দেখাতে শুরু করেন। মেয়ের নামে এটির নামকরণ করেন ‘অলকা সিনেমা’। তখন থেকে জনসাধারণের কাছে এটি ‘অলকা সিনেমা’ হল নামে পরিচিতি পায়।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত এর কার্যক্রম ভালোভাবেই পরিচালিত হয়। কিন্তু দেশ বিভাগের পর রাজা-জমিদার ও এসোসিয়েশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ক্রমান্বয়ে দেশত্যাগ করেন। পরিচর্যা ও যত্নের অভাবে ‘অলকা সিনেমা’র কার্যক্রম বিপন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হলটি জেলা প্রশাসকের প্রযত্নে আনা হয়। ‘রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকা’ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ই ‘এমেল গেমেটেড কোম্পানি’ নাম দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ‘অলকা সিনেমা’ হলটি ভাড়া নিয়ে কিছুকাল চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হলটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিলো। এ সময় তারা হলটি যথেচ্ছা ব্যবহার শুরু করে। ফলে সাহিত্য, নাট্য চর্চা সর্বোপরি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে নির্মিত এ হলটি নিয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। তারা মূলত প্রেক্ষাগৃহটিতে বিদেশি নীল চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতো। পরবর্তী সময়ে ‘এমেল গেমেটেড কোম্পানি’র কাছ থেকে প্রেক্ষাগৃহটি পুনরায় এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাধীনে নেওয়া হয়। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে এসোসিয়েশনের এক সভায় প্রেক্ষাগৃহটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘‘স্মৃতি সিনেমা’।৭ নাম পরিবর্তন হলেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তখনো প্রায় নিয়মিতভাবেই প্রেক্ষাগৃহটিতে বিদেশি নীল চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হতো। ২০ শতকের শেষের দিকে প্রেক্ষাগৃহটিতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দার কারণে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বন্ধ হয়ে যায় প্রেক্ষাগৃহটি। রাজশাহী এসোসিয়েশন হলটি ভেঙে সেখানে বহুতল বিপণি ভবন নির্মাণ করেছে।
‘অলকা সিনেমা’র সমসাময়িক নগরীর আলুপট্টিতে ‘কল্পনা সিনেমা’ নামে আরেকটি প্রেক্ষাগৃহ প্রতিষ্ঠা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে রাজশাহী সিন্ডিকেট নামে ১৬ বিনোদন-পিয়াসী ব্যক্তি প্রেক্ষাগৃহটি চালু করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কল্পনার অংশীদাররা সবাই ভারতে চলে যায়। স্বাধীনতার পর রাজশাহী সিন্ডিকেটের ম্যানেজার দীনবন্ধু দেশে ফিরে যোগসাজশ করে প্রেক্ষাগৃহটি নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন ঢাকার মোশাররফ চৌধুরীর কাছে। তার মৃত্যুর পর সহোদর সাইফুল ইসলাম চৌধুরী হস্তান্তর করেন রাজপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহমানের কাছে। তিনি ‘কল্পনা’ পরিবর্তন করে নামকরণ করেন ‘উৎসব সিনেমা’।৮ প্রেক্ষাগৃহটি ২০১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সচল ছিলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরীর বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের নথিপত্রে ঐতিহ্যবাহী কল্পনা প্রেক্ষাগৃহটির জমি সিন্ডিকেটের নামেই আছে। অথচ সরকারি প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে সেখানে ব্যক্তি উদ্যোগে ‘স্বচ্ছ টাওয়ার’ নামে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ চলছে।
পাকিস্তান আমলে বর্ণিল সাজে ‘বর্ণালী’ নামে আরেকটি প্রেক্ষাগৃহ যাত্রা শুরু করে শহরের কাদিরগঞ্জ ও আমবাগানের মধ্যবর্তী এলাকায়। এটি প্রতিষ্ঠা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক আফরাউজ্জামান খান চৌধুরী ওরফে বাবুল ও তার ছোটোভাই আব্দেল নাসের চৌধুরী ওরফে রুবেল। তখন পর্যন্ত নগরীতে এই প্রক্ষোগৃহটি সবচেয়ে আধুনিক এবং তার আবহ জমকালো ছিলো। এলাকাটি এখনো বর্ণালী নামে সমধিক পরিচিত। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রেক্ষাগৃহটির জায়গা কিনে নেয় ডেসটিনি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে এটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহটির বিশাল জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে।
১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে শহরের নিউমার্কেট এলাকায় ‘উপহার সিনেমা’ নামে একটি প্রেক্ষাগৃহ যাত্রা শুরু করে। ‘উৎসব সিনেমা’র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রেক্ষাগৃহটিও প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই একটি প্রেক্ষাগৃহ সচল রয়েছে।
যাহোক, ৫০-৬০-এর দশকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও দর্শকের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে যায়। তখন কলকাতা থেকে রাজশাহীতে সরাসরি চলচ্চিত্র আসতো। সেগুলো প্রজেক্টরের সাহায্যে ভ্রাম্যমাণভাবে দেখানো হতো নগরীর বিভিন্ন স্থানে। টমটম ভাড়া নিয়ে শহরের অলিগলিতে ঢোল বাজিয়ে, লিফলেট দিয়ে এর প্রচার চালানো হতো। এ সময়ে ‘কল্পনা সিনেমা’র ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করা এক হিন্দু ভদ্রলোক নগরীর সাগরপাড়ায় তার বাসার সামনের মাঠে (সেখানে ‘সাগর ভিলা’ নামে একটি সুপরিচিত বাড়ি ছিলো) প্রজেক্টরের সাহায্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতেন। এছাড়া সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের তালন্দ ভবনের পিছনে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের উদ্যোগে ভারতীয় চলচ্চিত্র দেখানো হতো। রম্য লেখক খোন্দকার আমিনুল হক তার স্মৃতি থেকে এমনই তথ্য দেন।
৭০-এর দশকের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হতো। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বজলুর মবিন চৌধুরী ঢাকা ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারই সূত্র ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্মশালা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতেন। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের বয়ানে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বিভাগীয় গ্যালারিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতেন। প্রফেসর ইমেরিটাস অরুণ কুমার বসাক জানান, তিনি এসব প্রদর্শনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন এবং দর্শকরা সম্মানীর বিনিময়ে সেখানে চলচ্চিত্র দেখতো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ৬০-এর দশকে রাজশাহী থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচেষ্টাও লক্ষ করা যায়। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে নগরীর জিরো পয়েন্টের ‘স্টার স্টুডিও’র মালিক মোতাহার হোসেন—যিনি মূলত পেশায় ফটোগ্রাফার—একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। খোন্দকার আমিনুল হকের বয়ানে জানা যায়, এই চলচ্চিত্রের জন্য পাত্রপাত্রীও নির্বাচিত হয়—হাসানুজ্জামান ও জুঁই। কিন্তু উদ্যোগটি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে এ সময়টায় রাজশাহীর থিয়েটার ক্লাবগুলো থেকে অনেকে মুম্বাই (বোম্বে), কলকাতা ও ঢাকায় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চলে যান।৯ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে প্রতিষ্ঠিত ‘সুদর্শন স্মৃতি ক্লাব’-এর অভিনেতা সুপ্রসন্ন চক্রবর্তী পরবর্তী সময়ে কলকাতার চলচ্চিত্র জগতে কাজ করেন। সাহিত্যিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের দৌহিত্র অমিত মৈত্রেয় সুদর্শন ক্লাবের লৌহনির্মিত ঘূর্ণায়মান মঞ্চের নকশাকার ছিলেন। যিনি পরবর্তী সময়ে মুম্বাই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। ৬০-এর দশকের আরেকজন উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব শেখ আতাউর রহমান, যিনি ঢাকায় নির্মিত প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এ অভিনয় করেন; তিনি এর প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তবে ৮০’র দশকের পর থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে রাজশাহীতে গতিশীল কার্যক্রম লক্ষ করা যায়। মঞ্চনাটকের মানুষ গোলাম পাঞ্জাতন বিয়ে বাড়িতে ভিডিও করা হয় এমন ক্যামেরা দিয়ে সেসময় একাধিক ‘চলচ্চিত্র’ ও নাটক নির্মাণ করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—কি পেলাম (১৯৮৫), পরিণতি (১৯৮৮), আশার আলো (১৯৯১), নাগরাজ (২০০৫), অভিশপ্ত জীবন (২০০৬), মুক্তিযুদ্ধের নাটক (২০০৭), মেঘলা আকাশ (২০০৮), ঝিলিক (২০০৮), অশুভ দৃষ্টি (২০১০), ভণ্ড উপাখ্যান (২০১১)।১০
এ সময় শেখ আবদুস সামাদ নামে আরেকজন ‘চলচ্চিত্র’ নির্মাণে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজশাহীর রাজা (১৯৮৪), প্রতিঘাত (১৯৮৬), এখনও এখানে (১৯৮৯), আতঙ্ক (১৯৯২) নামে ‘চলচ্চিত্র’ নির্মাণ করেন।১১ এছাড়াও মঞ্চকথা থিয়েটারের কে. এম. আব্দুর রব ইমানী নির্মাণ করেন ভাঙ্গন নামে একটি চলচ্চিত্র, পরবর্তী সময়ে এর নাম বদলে রাখা হয় বিবিসার ও দানব। তবে তার অকাল প্রয়াণে এ অবস্থা বেশি দূর এগোয়নি। রাজশাহীর চলচ্চিত্রিক পরিবেশ নিয়ে কথা বললে আরেকজনের নাম চলে আসে—রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির একসময়কার কালচারাল অফিসার আব্দুর রশিদ।১২
তবে এখানে একটি কথা বলা অত্যন্ত জরুরি যে, রাজশাহীতে চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা অনেক হলেও মানের দিক থেকে তা ছিলো দুর্বল ও হালকা। নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিম্নমানের ছিলো। ফলে এসব প্রচেষ্টা রাজশাহীর বাইরে কোনো জায়গা করে নিতে পারেনি। এমনকি রাজশাহীতেও এর প্রচার ছিলো সীমিত। কেবল নির্মাণ ইউনিট সংশ্লিষ্টরাই এসব চলচ্চিত্র দেখতো। চলচ্চিত্র নির্মাণের এসব প্রয়াস নিয়ে যতো সমালোচনাই থাক, তা আগামীর নির্মাতাদের কাজের পথকে যে সুগম করেছে সে কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
(চলবে)
লেখক : নুসরাত নুসিন, রাজশাহী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত কবিতা লেখেন।
nushinnushrat@gmail.com
তথ্যসূত্র
১. ইসলাম, আহমেদ আমিনুল (২০০৮ : ৮); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র : আর্থসামাজিক পটভূমি; বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
২. প্রাগুক্ত; ইসলাম (২০০৮ : ৯)।
৩. প্রাগুক্ত; ইসলাম (২০০৮ : ১২)।
৪. হক, হাসান আজিজুল; ‘উত্তরের উপেক্ষিতা’; বরেন্দ্রের বাতিঘর : অগ্রযাত্রার ৩ বছর; সম্পাদনা : ড. তসিকুল ইসলাম রাজা ও আকবারুল হাসান মিল্লাত; রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী, ডিসেম্বর ২০১১, পৃ. ১৬৭।
৫. মুখোপাধ্যায়, সুখেন; ‘রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য : অতীত এবং বর্তমান’; বরেন্দ্রের বাতিঘর : অগ্রযাত্রার ৩ বছর; সম্পাদনা : ড. তসিকুল ইসলাম রাজা ও আকবারুল হাসান মিল্লাত; রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী, ডিসেম্বর ২০১১, পৃ. ১৯৪।
৬. হক, অধ্যাপক ফজলুল;‘রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’; রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকা; সম্পাদনা : ড. তসিকুল ইসলাম রাজা; রাজশাহী এসোসিয়েশন, ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, জুলাই ১৯৮৭, পৃ. ১১৭।
৭. লতিফ, এস. এম. আবদুল; ‘শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন : রাজশাহী এসোসিয়েশন’; রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকা; সম্পাদনা : ড. তসিকুল ইসলাম রাজা; রাজশাহী এসোসিয়েশন, ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, জুলাই ১৯৮৭, পৃ. ২১।
৮. হায়দার, কাজী মামুন; ‘প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের মিছিল : নতুন প্রদর্শনী ভিন্ন চিন্তা’; ম্যাজিক লণ্ঠন; সম্পাদনা : কাজী মামুন হায়দার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১২, পৃ. ৩৫।
৯. প্রাগুক্ত; মুখোপাধ্যায় (২০১১ : ১৯৬)।
১০. লিটন, আহসান কবীর; ‘রাজশাহী চলচ্চিত্র বিকাশের নতুন সম্ভাবনা’; বরেন্দ্রের বাতিঘর : অগ্রযাত্রার ৩ বছর; সম্পাদনা : ড. তসিকুল ইসলাম রাজা ও আকবারুল হাসান মিল্লাত; রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী, ডিসেম্বর ২০১১, পৃ. ২১৮-২১৯।
১১. প্রাগুক্ত; লিটন (২০১১ : ২১৯)।
১২. প্রাগুক্ত; লিটন (২০১১ : ২১৯)।
দায় স্বীকার : কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, প্রফেসর ইমেরিটাস অরুণ কুমার বসাক, নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদল, রম্যলেখক খোন্দকার আমিনুল হক, গবেষক ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, নাট্যব্যক্তিত্ব আবদুর রশীদ ও প্রশান্ত কুমার সাহা, চিত্রশিল্পী আশফাকুল আশেকীন, অধ্যাপক ফজলুল হক, কবি আরিফুল হক কুমার, চলচ্চিত্রকর্মী আহসান কবীর লিটন।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন