Magic Lanthon

               

প্রদীপ দাস

প্রকাশিত ১১ আগস্ট ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

প্রেক্ষাগৃহে শিশুর গমনাগমন এবং বিনোদন ভাবনা

প্রদীপ দাস

এই ছবিটি প্রম্পট ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি করা

আমার শৈশব, আমার বিনোদন

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ, দুর্গাপূজার সময়। তখন আমার সবে সাত বছর। রাস্তার ঠিক পাশেই ছিলো বাড়ি। উঠোনের পূর্বদিকটায় অনিল দাদু ও পশ্চিমে কাকাদের ঘর, আর দক্ষিণে কিছু গাছগাছালি, পরে ফসলি জমি। বাড়ির বড়োদের কারোরই অবশ্য স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বেশিরভাগই অন্যের পুকুরে মাছ ধরতো। তা দিয়েই কোনোরকমে দিন চলে যেতো আর কি। তবে আমরা মানে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে শুরু করেছি। এলাকার মুসলমানদের মধ্যে তখনো পড়াশোনার চল কেনো জানি খুব একটা ছিলো না। মাছ ধরাসহ তারাও অন্যান্য কাজ করে দিন এনে, দিন খেতো। এখনো যে এই অবস্থার বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়েছে তাও জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে এলাকার অনেকেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা জায়গায় পড়াশোনা করছে।

পূজাতে অনিল দাদুর মেয়ে কল্পনা পিসি এসেছে। আমাদের আনন্দ যেনো আর ধরে না! তবে আনন্দের জায়গাটা পিসি নয়, তার স্বামী সুনীল। কারণ সুনীল পিসা বাড়ির সবাইকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে পূজা দেখবে। পূজা দেখা শেষে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার প্রেক্ষাগৃহে সবাই মিলে দেখবে চলচ্চিত্র। আর এ কাজটা তিনি পূজাতে আসলে নিয়মিতই করে থাকতেন। এবার আমার বোন মিলনও যাবে পিসার সঙ্গে পূজা দেখতে, আমিও বায়না ধরি; বাবা-মাও তাতে বাধ সাধলেন না। পূজা দেখা শেষে আমরা দেখলাম কাজের মেয়ে (১৯৯৯)। এর আগে কখনো প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখেছি কি না মনে পড়ে না। তবে এর আগে কোনো একবার প্রেক্ষাগৃহে মার কোলে বসে ঘুমিয়েছি, এমনটা মনে পড়ে। তাই বলা যায়, কাজের মেয়েই আমার দেখা জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র।

এর বেশকিছু দিন পর এলাকায় বড়োরা ভি সি আর ভাড়া করে আনলো। সে কী আনন্দ! আমরা সবাই বিকেল থেকে রাস্তায় গিয়ে বসে থাকলাম। কখন ভ্যানে করে ভি সি আর নিয়ে আসবে, সবাই পিছনে পিছনে ছুটবো, কখনো ঝুলে পড়বো। অনিল দাদুর বাড়িতে বিদ্যুৎ আর পিছনে খানিকটা ফাঁকা জায়গা থাকায় সেখানেই ভি সি আর দেখার ব্যবস্থা হয়। ভি সি আর আনা মানেই এলাকায় সেদিন উৎসব উৎসব রব। ততোদিনে অবশ্য ভি সি ডি প্লেয়ার এসে গেছে। কিন্তু তখনো আমাদের এলাকায় তা দেখা যায়নি।

ওই সময়টাতে খেলাধুলার বাইরে আমাদের, মানে শিশুদের বিনোদন বলতে কালেভদ্রে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া আর ভি সি আর-এ চলচ্চিত্র দেখা এটুকুই ছিলো। অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় আমাদের পাড়ায় তখনো টিভি ছিলো না। তাই তা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এই সুযোগটা আমার হয় আরো কয়েক বছর পরে। তখন আরো একটু চারপাশটা চিনতে শিখেছি। ওই সময় লক্ষ করলাম, শুক্রবার দুপুর হলেই অনেকেই তাড়াহুড়ো করে কোথায় যেনো যায়। একপর্যায়ে জানতে পারলাম তারা সবাই আধা কিলোমিটার দূরে, গ্রামের শেষ প্রান্তে আলি ক্বারির বাড়ি যায় টিভিতে চলচ্চিত্র দেখতে। আমিও ঠিক করলাম যাবো। একদিন গিয়েই বেশ বিপদে পড়ে গেলাম। কারণ চলচ্চিত্র দেখতে হলে আগে টিভি মালিকের কাজ করে দিতে হতো। ওইদিন কাজ ছিলো পানিতে নেমে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো; তার পরেই চলচ্চিত্র দেখা। অল্প একটু কাজ করার পর বুঝতে পারলাম, আমাকে দিয়ে এটা হবে না। তাই চলচ্চিত্র দেখে কাজ নেই, বাড়ির দিকে ছুটলাম।

এরপর অবশ্য এলাকার দুই-একটা পরিবার অল্পবিস্তর টিভি কেনা শুরু করেছে। সেসব বাড়িতেও হানা দিয়েছি, অল্পবিস্তর টিভি দেখেছিও। এ সময় অনিল দাদুর বড়ো ছেলে সুনীল কাকা টিভি কিনলেন। এরপর অন্তত টিভি দেখার জন্য এখানে-সেখানে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়নি। হাতের নাগালে টিভি পেয়ে প্রথম প্রথম সারাদিন টিভির সামনে বসে থাকতাম। তবে অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই এই ঘোর কাটে। তখন দু-একটা অনুষ্ঠান ছাড়া টিভি দেখতে ভালো লাগতো না। তবে চলচ্চিত্র না বুঝলেও তার ভিতরের প্রেম, মারামারি, ফ্যান্টাসি দেখতে বেশ ভালোই লাগতো।

সেসময় সারাক্ষণ এখানে-সেখানে ছুটোছুটি, হুড়োহুড়ি, খেলাধুলা, একটু স্কুলএসব করেই দিন পার হয়ে যেতো। এখনকার শিশুদের মতো নানাধরনের ইলেক্ট্রিক ডিভাইস না পেলেও সেসময় যে খুব একটা বিনোদনহীনতা ছিলো বিষয়টা এমন নয়। তবে চলচ্চিত্র, ভি সি আর, টিভি দেখার আলাদা একধরনের আগ্রহ ছিলো। যদিও সেটা খুব একটা পাওয়া হয়নি।

ওই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমানে শিশুদের বিনোদন উপাদানের মধ্যে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নগরায়ণ, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা সেই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গতিশীল করেছে। এজন্য গত দুই দশক আগেও যেখানে প্রযুক্তি মাধ্যমে বিনোদন বলতে ছিলো রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, সেখানে বর্তমানে যোগ হয়েছে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব, ভিডিও গেমস প্লেয়ার প্রভৃতি। বর্তমান প্রজন্ম বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত শিশুদের বেশিরভাগ সময়ই কাটে এসব প্রযুক্তির সংস্পর্শে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা হয়ে পড়ছে পরিবার, সমাজ ও প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। এদিকে এই শিশুরা প্রেক্ষাগৃহের পরিবর্তে এখন চলচ্চিত্র দেখছে টিভি, কম্পিউটার, ট্যাব ও মোবাইলফোন সেটে। গত এক দশকে এই চর্চা এমন পর্যায়ে গেছে, চলচ্চিত্র যে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জিনিস তা অধিকাংশ শিশু জানেই না! অথচ এই শিশুরাই কিন্তু আগামীর দর্শক। প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে এই সামাজিক, পারিবারিক চর্চা নিশ্চয় প্রেক্ষাগৃহের জন্য সুখকর কিছু বয়ে আনেনি। এতে গণমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্র দেখার সংস্কৃতিতেই একধরনের আমূল পরিবর্তন এসেছে; যা কখনোই প্রাযুক্তিক/বিনোদন/শিল্প কোনো মাধ্যম হিসেবেই চলচ্চিত্রের প্রকৃত স্বাদ দিতে পারবে না। আর চিন্তার বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকছে শিশুরা। সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচার হিসেবে প্রেক্ষাগৃহমুখীনতা এবং সেখানে শিশুদের অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাবে এই আলোচনা।

শুরুর সেকাল

লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের আগেই ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করেছিলেন চলচ্চিত্র দেখার যন্ত্র কিনেটোস্কোপ। বিশাল কিনেটোস্কোপে থাকা একটি মাত্র ছিদ্র দিয়ে কেবল একজনই চলচ্চিত্র দেখতে পারতেন। এডিসনের চলচ্চিত্র-যন্ত্রের এই সীমাবদ্ধতা দূর করে লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কার করলেন সিনেমাটোগ্রাফ। যার বদৌলতেই শত শত মানুষের একসঙ্গে বিশাল পর্দার সামনে বসে চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ হয়। লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় সিনেমাটোগ্রাফ আবিষ্কারের কিছুদিনের মধ্যেই নির্মাণ করেছিলেন বেবিস মেল (১৮৯৫)। বাবা-মা টেবিলের দুপাশে বসা, মধ্যখানে আদরের সন্তান। তাকে সকালের নাস্তা করাচ্ছেন বাবা-মা, সঙ্গে নিজেরাও। এক শটে ধারণ করা ৩৯ সেকেন্ডের এই দৃশ্যটুকুই বেবিস মেল-এর কাহিনি। কোনো কিছুকে জীবন্ত দেখা যাচ্ছে, এটাই যখন মুখ্য ব্যাপার, তখনই সন্তানকে বিষয় হিসেবে ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়। অর্থাৎ চলচ্চিত্রের প্রথম পদচারণা থেকেই কোনো না কোনোভাবে বিষয় হিসেবে শিশু ছিলো; হতে পারে তা পরিকল্পিত কিংবা অন্য কিছু।

তবে শুরুর অল্প কয়েক বছরের মাথায় চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে লুমিয়েররা নিরাবেগভাবে তা ছেড়ে দেন। এই সময়টাতে চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন জর্জ মেলিয়ে। ফ্রান্সের জাদুকর এই মানুষটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জাদু দেখাতে গিয়ে কিন্তু লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের নির্মিত কাঠামোর মধ্যে থাকতে পারেননি। কারণ তিনি জাদুকর, চলচ্চিত্র দিয়ে তাকে জাদু দেখাতে হবে। তাই জাদু দেখাতে গিয়ে কাঠামো ভেঙে তিনি নির্মাণ করেন সিন্ডারেলা (১৮৯৯), ট্রিপ টু দ্য মুন (১৯০২), মেরি ফ্ললিকস অব স্যাটন-এর (১৯০৬) মতো চলচ্চিত্র। যা সহজেই দর্শকদের জাদুর খোরাক মেটাতে সক্ষম হয়। তবে বিষয়গুলো যে চলচ্চিত্রে নতুন পথের দিশা দিচ্ছে তা হয়তো মেলিয়ে নিজেও ভাবেননি। আর এই চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে মেলিয়ে হয়ে ওঠেন শিশুদের জন্য চলচ্চিত্রের বিকাশ পর্বের সারথি।

জোড়াতালি দেওয়া পোশাক আর রুক্ষ-সূক্ষ্ম চেহারার এক তরুণী; তাকে সুন্দরী মনিবের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হতে দেখে নেমে আসেন এক দেবী। দেবীর বর পেয়ে জন্তু-জানোয়ার রূপ নেয় রাজভৃত্যে আর কুমড়ো রাজ-বাহনে। এদিকে এই তরুণীও বর পেয়ে হয়ে যান অপরূপ সুন্দরী; যার স্লিম ফিগার, উন্নত বক্ষ, ছোটো চুল, শ্বেত বর্ণ। পরে রাজ-বাহনে করে রাজ-অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিলে রাজা তাকে দেখে মুগ্ধ হন। রাজাকে রূপে মুগ্ধ করা এই তরুণীই সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলা দিয়ে সেই যে পথ চলা শুরু হলো তা আজও  দৃশ্যমান। চলচ্চিত্রে হঠাৎ শূন্যের মধ্যে দেবীর আগমন; হঠাৎ করেই পশুর উপস্থিতি, পরে সেগুলো মানুষ, শেষে রাজভৃত্যের রূপ ধারণ করা; কুমড়োর রাজ-বাহন হওয়া; অন্যদিকে সিন্ডারেলার অপরূপ সুন্দর বেশ ধারণবিষয়গুলো শিশুদের বিনোদন দেয়। ফলে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে সিন্ডারেলা, পরে এর আদলে তৈরি হয় জনপ্রিয় অ্যানিমেশন, কার্টুনসহ নানাধরনের শিশু চরিত্র।

চলচ্চিত্রের প্রাণ দর্শকদের বড়ো একটা অংশ শিশু হওয়ায় তা নির্মাতাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারেনি। ফলে জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় আর জর্জ মেলিয়ে শিশুদের জন্য চলচ্চিত্রের যে বীজ বপন করেছিলেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরো অনেক নির্মাতার ভাবনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে এইসব নির্মাতাদের মধ্যে যার নাম অনায়াসেই চলে আসে তিনি হলেন জার্মানির লটে রায়নিগার। টানা তিন বছর পরিশ্রম করে রায়নিগার নির্মাণ করেন পৃথিবীর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব প্রিন্স আহমেদ। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে আরব্য রজনীর গল্প অবলম্বনে নির্মিত এটিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র বলে ধারণা করা হয়।

তবে শিশুতোষ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ এ বছরেরই ১৮ নভেম্বর স্টিমবোট উইলি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে মানুষ প্রথম দেখতে পায় মিকি মাউস। স্টিমবোট উইলিতে দেখা গেলেও এই চলচ্চিত্রে কিন্তু মিকি মাউসকে প্রথম তৈরি করা হয়নি, হয়েছিলো প্লেন ক্রেজিতে। কিন্তু ওয়াল্ট ডিজনি এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেন ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ। প্রথম প্রদর্শনীর পর থেকেই তা সারাবিশ্বে তোলপাড় তোলে। হ্যারি পটার (২০০১-২০১১) এ রকমই আরেকটি নাম; এই সিরিজের চলচ্চিত্রগুলো চলতি ও গত দশকে সারাবিশ্বের কিশোরদের সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিরিজ হ্যারি পটার, যার আটটি চলচ্চিত্র আয় করেছে সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শিশুদের জন্য এ রকম অনেক চলচ্চিত্রই পাওয়া যাবে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূলধারাকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে অন্যান্য ধারার মতো শিশুতোষ চলচ্চিত্র যে খুব বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নির্মাণ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। তাই বক্স অফিস হিট করা এইসব চলচ্চিত্র বাদে পুরো বিশ্বে শিশুতোষ চলচ্চিত্র খুব বেশি প্রত্যাশার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে এমনটা হয়তো বলা যাবে না। তার পরও সেসব দেশে শিশুরা চলচ্চিত্র দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যায়। তবে সেটা চলচ্চিত্রের গুণে নয়, বাবা-মা যায় কিংবা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার চল আছে বলেই হয়তো।

ও আমার দেশের মাটি

দেশভাগ হওয়ার আগে এই ভূখণ্ডে চলচ্চিত্র নির্মাণ হলেও মুখ ও মুখোশ-এর (১৯৫৬) পর তা গতি পায়। কারণ হয়তো দেশভাগের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কলকাতার পরিবর্তে ঢাকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি চর্চা বেড়ে যাওয়া; সঙ্গে চলচ্চিত্রে লাগে সবাকের হাওয়াও। তবে সবাক হওয়ার পরও এখানে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে দেখা যায় না, যদিও বিশ্ব চলচ্চিত্রে শুরু থেকেই কোনো না কোনোভাবে তা ছিলো। শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের পালে এখানে প্রথম হাওয়া লাগে মুখ ও মুখোশ-এর ঠিক এক দশক পর, ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে। সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল হক নির্মাণ করেন এদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র সান অব পাকিস্তান (১৯৬৬)। সান অব পাকিস্তান-এর নাম শুরুতে কিন্তু এটি ছিলো না, ছিলো প্রেসিডেন্ট। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সেন্সরে আটকে দিয়ে প্রেসিডেন্ট-এর পরিবর্তে সান অব পাকিস্তান নাম রাখতে বাধ্য করে। অর্থাৎ কোনো ধরনের সহযোগিতার পরিবর্তে শুরুতেই চাঁছাছোলা চলে এদেশের শিশুতোষ চলচ্চিত্রে।

পাকিস্তান আমলে এদেশে আর কোনো শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে এ ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে তাও না। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর তিনটি চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এবং এর মধ্যে একটি চলচ্চিত্র অবশ্যই শিশুতোষ হতে হবে বলে শর্তও আরোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিশুদের জন্য প্রথম চলচ্চিত্রের প্রায় দেড় যুগ পর নির্মাণ হয় এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০)। বাদল রহমান নির্মিত এটিই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র। যদিও এর আগে ১৯৭৭-৭৮ খ্রিস্টাব্দে সালাহউদ্দীন জাকী অংকুর নির্মাণ করেছিলেন, তবে তা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছিলো না।

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে আজিজুর রহমানের ছুটির ঘণ্টা শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। কেবল চলচ্চিত্রটির নিদারুণ করুণ কাহিনিই নয়, এর গানও শিশুদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এই বছরটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণই বটে। সরকারি অনুদান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে এ বছরই বাংলাদেশ শিশু একাডেমী শিশুতোষ চলচ্চিত্র-নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮০-২০০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য মিলিয়ে প্রায় ৪১টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। যার মধ্যে রয়েছে গ্রাম দেখে এলাম (১৯৮০), ডানপিটে ছেলে (১৯৮০), গল্প দাদুর গল্প কথা (১৯৮২), লাল বেলুন (১৯৮৪), পুরস্কার (১৯৮৫), এক ঝাঁক পাখী (১৯৮৭), রাণী খালের সাঁকো (১৯৯০), আমরা তোমাদের ভুলব না (১৯৯৩), ঘুম ভাঙ্গানো দাদী (১৯৯৪), খুকী ও কাঠবেড়ালী (১৯৯৯), শরৎ৭১ (২০০০), একাত্তরের মিছিল (২০০১), সাহসী ছেলে (২০০৪), অচিন পথের বন্ধু (২০০৫) প্রভৃতি।

শিক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডিসট্যান্স এডুকেশনও (বাইড) শিশুদের জন্য কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, যার মধ্যে ভোর হলো দোর খোলো, অমূল্য ধন উল্লেখযোগ্য। এফ ডি সি, জার্মান কালচারাল ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ হয় ঢাকা টোকাই। পরে এনায়েত করিম বাবুলের চাক্কি (১৯৮৫), মোরশেদুল ইসলামের দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬), দূরত্ব (২০০৫), আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১) এবং ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে আশরাফ শিশির নির্মাণ করেছেন গাড়িওয়ালা। এছাড়া জেনী ইসলাম ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র ললিপপ

চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াতের মতে, ১৯৫৬ সালের মুখ ও মুখোশ থেকে শুরু করে ২০০৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৫০০-এর অধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র এবং অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র নির্মিত হয়েছে। এসব ছবির তুলনায় শিশু ও কিশোরতোষ চলচ্চিত্রের সংখ্যা অতি নগণ্য। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের পরও শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়াস খুব একটা দেখা যায় না। অথচ এই শিশুরা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ। এতে এ কথা অন্তত প্রমাণিত যে, মোট জনসংখ্যার এই ৪৫ শতাংশ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে দর্শক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতাই পায়নি! তাই স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটা সামনে চলে আসে, শিশুদের দর্শক হিসেবে যদি গ্রহণই না করে এদেশের চলচ্চিত্রশিল্প, তাদের দেখার মতো বিশেষ কিছু যদি নাই থাকে, তাহলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে কেনো যাবে প্রেক্ষাগৃহে?

দর্শক হিসেবে শিশুরা

বাংলাদেশে শিশুদের সাধারণত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়শৈশবকাল, পাঁচ বছরের নীচের শিশুদের; বাল্যকাল, ছয় থেকে ১০ বছরের শিশুদের এবং কৈশোরকাল, ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুদের। কিন্তু চলচ্চিত্র এই তিন শ্রেণির শিশুদের মধ্যে কোনোটিরই সুষ্ঠু বিনোদন ও মানসিক বিকাশে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। শিশুরা কিন্তু কোনো না কোনোভাবে এই চাহিদা ঠিকই পূরণের চেষ্টা করেছে, তবে সবসময় যে তারা সফল হয়েছে, এমন নয়।

এখন খেয়াল করার বিষয়, এদেশের শিশুরা সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কী কী বিনোদন পাচ্ছে। শহরের শিশুদের প্রাত্যহিক কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে নিয়ম করে স্কুলে যাওয়াযেসব স্কুলের বেশিরভাগই একটি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নেই কোনো মাঠআবার স্কুল শেষে সোজা বাসায় ফেরা। অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা তো আছেই। তাই তাদের সপ্তাহে একদিন পরিবারের সঙ্গে ঘুরাঘুরি ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই কাটে বদ্ধ ঘরে। ফলে এই শিশুদের বিনোদনের সঙ্গী বা সময় কাটে টেলিভিশন-বেতার-সংবাদপত্র, কম্পিউটারের সামনে। অর্থাৎ শহরের শিশুদের বিনোদন বলতে এটুকুই। আর শহরের বস্তিতে যেসব শিশুরা থাকে, জীবনের কঠোর বাস্তবতার কারণে শিশুকাল বলে তাদের বিশেষ কিছু নেই। অন্যদিকে কেবল শহরই নয়, এখন গ্রামে চলে গেছে ডিশ অ্যান্টেনা। তাই গ্রামের শিশুদেরও সময়ের বড়ো একটা অংশ কাটে টেলিভিশনের সামনে, অন্যদিকে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে তাদের ওপরও চাপ কম না। তাই এখন গ্রামের অল্পসংখ্যক শিশুদেরই সুযোগ হয় প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠার।

এবারে দেখা দরকার, শিশুদের বিনোদন, মানসিক গঠনে যে মাধ্যমগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো কতোটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে। শিশুরা শৈশব-বাল্যকালে সংবাদপত্র খুব একটা দেখে না, দেখলেও সংবাদপত্রের আলোকচিত্রগুলোর ওপর তাদের বিশেষ মনোযোগ থাকে। কিন্তু দেশের বর্তমান যে সহিংস পরিস্থিতি তাতে শিশুদের উপযোগী আলোকচিত্র খুব বেশি থাকার কথা নয়। অন্যদিকে কৈশোরে সংবাদপত্র পড়তে শুরু করলেও তাদের উপযোগী পাতা বা সংবাদ খুব কমই চোখে পড়ে। সংবাদ পরিবেশন, গান, বিজ্ঞাপন বিরতি, কিছু সচেতনতা-স্বাস্থ্য-শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, মোটা দাগে এইগুলোই বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান সূচি। এর মধ্যে শিশুদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠানমালা খুঁজে পাওয়া ভার। আর বাণিজ্যিক এফ এম রেডিওগুলো হরেক রকমের গান, কয়েক কিস্তিতে সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ বাংলাদেশ বেতার, এফ এম রেডিও কারো কাছেই শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি।

অপরদিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ঘণ্টায় ঘণ্টায় সংবাদ, বিজ্ঞাপন, নাটক, চলচ্চিত্র, রিয়ালিটি শো, টকশোসহ নানাধরনের অনুষ্ঠানে ভরপুর। এর মধ্যে দু-একটা অনুষ্ঠান শিশুদের জন্য সম্প্রচার করা হলেও চ্যানেলের আধিক্য ও শিশুদের মনোযোগ বিশেষভাবে আকর্ষণ করতে না পারায় সেগুলো থেকে যায় অনেকটাই অগোচরে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ি, এসো গান শিখি, সিসিমপুর-এর মতো অনুষ্ঠানগুলো শিশুদের আগ্রহ ধরে রেখেছে। কিন্তু স্যাটেলাইট চ্যানেলের অবাধ প্রাপ্তি ও রাজনৈতিক নানা কারণে এখন আর বাংলাদেশ টেলিভিশনও বিশেষ কেউ দেখে না।

শিশুরা সব থেকে বেশি সময় কাটায় ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, নিক-এর মতো বিদেশি চ্যানেলে জীবজন্তু, কার্টুন চলচ্চিত্র দেখে। কম্পিউটারও শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গেমস ও কার্টুন দেখার জন্যই ব্যবহার করে থাকে। আর শিশুতোষ চলচ্চিত্র তো বরাবরই উপেক্ষিত। অর্থাৎ, শিশুদের উপযোগী বিশেষ কিছু দিতে পারছে না এই সমাজ-রাষ্ট্র-গণমাধ্যম। যা শিশুদের যেমন সঙ্কটের দিকে ধাবিত করে, তেমনই দেশ-জাতিকেও।

খুলে দে মা শিকলের বন্ধন

শিশুতোষ চলচ্চিত্র-নির্মাণকে উপেক্ষা করার বিষয়টি শুরু থেকেই এদেশে চালু আছে। যদি উপেক্ষিত না-ই হতো, তাহলে এ নিয়ে চলচ্চিত্র-নির্মাণের আগ্রহ অনেকের মধ্যেই দেখা যেতো এবং শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র-নির্মাণও হতো। এদেশের শিশুতোষ চলচ্চিত্রের ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করে তার চিত্রও মিলতো, কিন্তু তা মেলে না। ফলে শিশুতোষ চলচ্চিত্রহীন বা চলচ্চিত্রে বিনোদনহীন এক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শিশুরা বেড়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।

অথচ ফ্রয়েডের মতে, মানুষের ব্যক্তিত্ব, মানসিক গঠন কেমন হবে তা বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে শিশুকালেই বিকাশ লাভ করে। শিশুকালের সেই বিভিন্ন ধাপ যদি কেউ সুষ্ঠুভাবে অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সে নানাধরনের শারীরিক-মানসিক সমস্যা উতরে যায়; তা না হলে ভবিষ্যতে দেখা দেয় নানাধরনের সঙ্কট। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায়, শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে প্রয়োজনীয় কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বের। তবে মানসিকতা বুঝে শিশুদের জন্য কাজ করাই বেশ জটিল। এ বিষয়ে সত্যেন বসুর মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাজ করা মানে কোনও এক অনির্দিষ্ট অ্যাডভেঞ্চারের পথে যাত্রা করা। তারা কখন কী করে বসবে, তার কোনও ঠিক নেই। ... আমি বিশ্বাস করি, যে পরিচালক কিশোরদের নিয়ে কাজ করতে নেমেছেন, তিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জুয়াড়ি।

এদেশের নির্মাতারা হয়তো এই জুয়া খেলতে বা অ্যাডভেঞ্চারের পথে যাত্রা করতেই ভয় পায়। কারণ আমাদের দেশের কয়েকজন চলচ্চিত্রকার শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণে কিছুটা হলেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন সত্য, কিন্তু এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে বেশির ভাগ চলচ্চিত্রকারেরই কোন অভিজ্ঞতা নেই। তার পরও আশার জায়গা থাকে, কারণ অভিজ্ঞতা নেই মানে এই নয় তা অর্জন করা সম্ভব না। আবার এদেশের নির্মাতারা যেখানে কিছুটা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছে, সেখানে চাইলে আরো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই সবার আগে যেটা প্রয়োজন, শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণকে উপেক্ষা করে দেখার যে মানসিকতা তার পরিবর্তন।

ঘণ্টা বাঁধার দায়িত্ব কাউকে নিতেই হবে

প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়, শিশুতোষ চলচ্চিত্রে ব্যবসা হয় না, অলাভজনক। এমন অভিযোগ প্রবীণ অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানারও। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পারভেজ ফিল্ম-এর বেশকিছু চলচ্চিত্র দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু ব্যবসা হয় না বলে সোহেল রানা শিশুতোষ চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করেননি, করতে নারাজও। শুধু সোহেল রানা নয়, অধিকাংশ নির্মাতা-প্রযোজক-প্রদর্শকই এই ধরনের মত পোষণ করেন। অথচ এর ভিন্ন ধারণাও বিশ্ব চলচ্চিত্রে রয়েছে। কেবল বিদেশেই নয়, এখানকার এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী, ছুটির ঘণ্টা কিন্তু ব্যবসাসফল। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায়।

শিশুতোষ চলচ্চিত্রকে লাভজনক করে তুলতে হলে প্রয়োজন শিশু দর্শকশ্রেণি তৈরি করা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শ্রেণির দর্শক তৈরি করেছে। তাইতো উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত দুটি শ্রেণিরই পদচারণায় একসময় সরগরম ছিলো দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো। এসেছে নিম্নবিত্তও, আবার নিম্ন-মধ্য-উচ্চ সব শ্রেণিই প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিদায়ও নিয়েছে। এখন কোনো শ্রেণিরই সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে সব শ্রেণির অল্প কিছু দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছে। এই যাওয়া দিয়ে হয়তো চলচ্চিত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।

তাই নতুন করে যদি শিশু দর্শকশ্রেণি তৈরি করা যায়, তাহলে এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে যেমন এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনই শিশুদের বিনোদনে যোগ হবে এই মাধ্যমটি। তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। কারণ দেশের সামগ্রিক চলচ্চিত্রশিল্প নিয়ে দর্শকের মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আর এই ধারণা ভাঙতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও নিষ্ঠাবান চলচ্চিত্রকর্মীর। যারা অন্যান্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে সুষ্ঠু বিনোদন, শিক্ষা, গঠনমূলক শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে; যা শিশুদের সঙ্গে মা-বাবাও দেখতে পারবে। একই সঙ্গে পরিবেশক, প্রদর্শকরা তা যথাযথ বিপণনে আগ্রহী হবে। আর এর মধ্যে দিয়ে নেতিবাচক ধারণা হয়তো ভাঙতে শুরু করবে। যার ফল হিসেবে পাওয়া যাবে শিশু দর্শকশ্রেণি। 

আর আগেই বলেছি এই পুরো প্রক্রিয়া সফল করতে সরকার ও কিছু চলচ্চিত্রকর্মীকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এদেশ কিন্তু সান অব পাকিস্তান, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীদীপু নাম্বার টুর মতো চলচ্চিত্র-নির্মাণের ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি।

এসব দেখি কানার হাট-বাজার

বর্তমান সময়ে অনেকেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দেখাকে সেকেলে, অনুন্নত রুচিবোধ সম্পন্ন মনে করে। বিপরীতে এরাই রুচির মানদণ্ড মনে করে হলিউড, বলিউড, টালিগঞ্জ কিংবা তথাকথিত আর্ট ফিল্ম দেখাকে। এখন যদি প্রশ্ন ওঠে, এমন মনে হওয়াটা কি অস্বাভাবিক? উত্তরে হয়তো বলতে হবে, না। কারণ বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দেখে বড়ো হয়নি। শিশুকাল থেকে তারা বড়ো হয়েছে বা হচ্ছে হলিউড-বলিউড-টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র দেখে। তাই যে শিশু দর্শকশ্রেণি তাদের জন্য উপযুক্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রহীন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে, তারা যে বড়ো হয়ে এদেশের চলচ্চিত্রের ভালো দর্শক হবে এমনটা প্রত্যাশা করা নিতান্তই বোকামি। আর এই বিষয়টি হয়তো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের নিদারুণ অনীহার অন্যতম কারণও; সঙ্গে চলচ্চিত্রের মানের দৈন্যদশা তো আছেই।

তাহলে যে প্রসঙ্গটা আপনা-আপনি সামনে চলে আসে, শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র হয়নি কিংবা শিশুদের চলচ্চিত্র দেখার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি, এই দায় কি শুধুই চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের? এই রাষ্ট্রের কোনো দায় নেই? এর উত্তর খুঁজতে দেখা প্রয়োজন চলচ্চিত্র মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনে এই রাষ্ট্র কী ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে সরকারি উদ্যোগে গঠিত হয়েছিলো পাকিস্তান শিশু চলচ্চিত্র সমিতি। শিশুদের মন ও চরিত্র গঠনে শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র-নির্মাণ, এমন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পথ চলা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠানটি কোনো সফলতার স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেনি। এরপর ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতি বছর তিনটি চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন, এর মধ্যে একটি অবশ্যই শিশুদের জন্য হতে হবে বলে শর্তও আরোপ করেন। কিন্তু এই ধারাও অব্যাহত থাকেনি। তাহলে কি এইসব উদ্যোগের পিছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকে? যার জন্য উদ্যোগগুলো চলতে শুরু করতে না করতেই থেমে যায়!

তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিশু একাডেমী শিশুতোষ চলচ্চিত্র-নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে যেসব শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে তার বেশিরভাগই এই প্রতিষ্ঠানের প্রযোজনায় নির্মিত। তাই প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগকে নিঃসন্দেহে সাধুবাদ জানানো যায়। তার পরও প্রশ্ন উঁকি দেয়, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য যেসব চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে তা কতোটুকু শিশুদের কাছে যেতে পেরেছে? কারণ চলচ্চিত্র-নির্মাণের মধ্য দিয়েই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, কাঙ্ক্ষিত দর্শক যদি তা দেখতে না পায় তাহলে তার সার্থকতা নেই। এতে বুঝতে কষ্ট হয় না, এই চলচ্চিত্র-নির্মাণের পিছনে কোথাও হয়তো একটা গলদ রয়ে গেছে।

আলোচনার এ পর্যায়ে এসে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির প্রসঙ্গ না টানলেই নয়। কারণ এই সংগঠনটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এবং শিশুরাই এসব চলচ্চিত্র-নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির কলেবর এখন বেশ বেড়েছে। ঢাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্র স্থান পায়। উৎসবে শিশুরা চলচ্চিত্র দেখে, শিশুতোষ চলচ্চিত্রবিষয়ক সেমিনার, পাঠচক্র, আলোচনা-সমালোচনা হয়, যা আশাব্যঞ্জক। তার পরও কথা থাকে, এই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রমের সঙ্গে কোন শিশুরা জড়িত? নির্দ্বিধায় শহরের শিশু বললে হয়তো ভুল হবে না। শিশুদের অল্প একটা অংশ শহরে থাকে, অথচ সব শিশুদের নিয়ে কাজ করার কথা বলে শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। বর্তমানে গ্রামের শিশুদের নিয়ে কাজ করারও যথেষ্ট জায়গা আছে। অথচ সেদিকে তাদের খুব একটা ভ্রূক্ষেপ আছে বলে মনে হয়নি। তাহলে এই উৎসবের আয়োজন, সভা-সেমিনার, আলোচনা-সমালোচনা এর পিছনেও কি কোনো স্বার্থগত ব্যাপার রয়েছে?

এ শিকল ছিঁড়বো আমি কেমন করে

সমাজে শিশুদের সম্পর্কে একটা বদ্ধ ধারণা প্রতিষ্ঠিত আছেএরা ছোটো, বয়স কম; কিছুই বোঝে না। হ্যাঁ, এ কথা হয়তো অনেকটাই প্রাসঙ্গিক; এই সমাজের রীতিনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে শৈশব-বাল্যকালে হয়তো শিশুরা অতোটা সচেতন থাকে না। তবে শিশুরা কিন্তু তাদের অধিকার ও রাজনীতি সম্পর্কে ঠিকই সচেতন। তাই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পরই সে কেঁদে উঠে নিজের অবস্থান জানান দেয়। চাহিদা অনুযায়ী কিছু না পেলে কান্নাকাটি-ভাঙচুর-রাগ করে; কৈশোরে গিয়ে কারো কথা শোনে না, গোমড়া হয়ে থাকে, বিচ্ছিন্ন আচরণ করে। ভালো লাগা, মন্দ লাগার মতো অনুভূতির জায়গাগুলোও শিশুদের বেশ প্রখর। কিন্তু এই সবকিছু উপেক্ষা করে শিশুরা বোঝে না এই ধারণা দাঁড় করে বড়োরা। তাই শিশুরা কী খাবে কী খাবে না, কীভাবে চলবে কীভাবে চলবে না, কী চিন্তা করবে কী চিন্তা করবে না, সবই নির্ধারণ করে তাদের ওপর চাপিয়েও দেন বড়োরা।

শিশুদের বিনোদন নিয়েও সমাজে নেতিবাচক নানা ধারণা প্রতিষ্ঠিত আছে। এই ধারণায় বিনোদন মানেই সময় নষ্ট, পড়াশোনার ক্ষতি, ছেলেমেয়েদের মাথা নষ্ট করার নিয়ামক। তাই বড়োরা এই বিনোদনের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে এজন্য পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা শিশুদের চলচ্চিত্র, টিভি দেখা থেকে বিরত রাখে। কখনো কখনো টিভি দেখার সময়ও নির্ধারণ করে দেয়। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের এমন কড়াকড়ি আরোপ, সঙ্গে সমাজের সবাইকে তা সমর্থন করতে দেখে শিশুদের মধ্যেই এই ধারণা সমর্থন পেয়ে যায়। একপর্যায়ে শিশুরা বিনোদন থেকে নিজেরা অনেকটাই দূরে সরে গিয়ে পড়াশোনায় মজে থাকতে বাধ্য হয়।

আর এখন তো পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখার চল অনেকটাই বিলুপ্ত। পরিবার নিয়ে দেখার মতো চলচ্চিত্রের অভাব, চলচ্চিত্রের মধ্যে কাটপিস সংযোজন, কারণে-অকারণে যৌনতাকে টেনে আনাসহ নানাবিধ কারণ এর সঙ্গে জড়িত। তবে বর্তমান সময়ে পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে দেখার মতো চলচ্চিত্র যে অল্পবিস্তর হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু এখন আর দর্শকরা পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে নিরাপদ বোধ করছে না। আবার প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখার যে সামাজিক আচার, রীতি ছিলো সেটাও দিন দিন নষ্ট হয়ে গেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দু-একটা চলচ্চিত্র দর্শককে আগ্রহী করলেও বিশেষ করে নারী ও শিশুরা প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা যাচ্ছে না। স্কুল পালিয়ে চলচ্চিত্র দেখার যে চল ছিলো তা এখনকার শিশুদের চিন্তাতেই নেই।

পরিস্থিতি সবমিলিয়ে এমন দাঁড়িয়েছে যে, প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখা নিয়ে সমাজে একধরনের নেতিবাচক চর্চা চালু আছে। প্রেক্ষাগৃহ মানেই খারাপ জায়গা, খারাপ লোকজনই কেবল সেখানে যায়। এদিকে শিশুদের যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়, সেখানেও বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবেই তুলে ধরা হয়। ফলে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখার যে আচার ও আনন্দ তা থেকে এখনকার শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। এই ধারণাকে ভাঙতে হলে দরকার শিশুদের উপযোগী পর্যাপ্ত পরিমাণ চলচ্চিত্র-নির্মাণের উদ্যোগ, সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহের আধুনিকায়ন ও উন্নত পরিবেশ। আর এইসব সীমাবদ্ধতা দূর হলে নতুন চর্চায় শিশুদের মধ্যে হয়তো আবারো প্রেক্ষাগৃহ এবং সেখানে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হবে। শুধু শিশুরাই নয়, অভিভাবকরাও প্রেক্ষাগৃহ সম্পর্কে যে নেতিবাচক চর্চার অংশ হয়ে উঠেছে তাও হয়তো ভাঙতে শুরু করবে।

মেলা কি আর জমবে না

একসময় এদেশের মানুষজন দল বেঁধে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে যেতো। ঈদ-পূজা-পার্বণে, ছুটির দিনে, আত্মীয়স্বজন আসলে কিংবা ফাঁকা সময় পেলেই ছুটতো প্রেক্ষাগৃহে। যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে বসে চলচ্চিত্র দেখতো। আড়াই-তিন ঘণ্টার জন্য সব ধরনের বৈষম্য ভুলে দর্শকরা পাশাপাশি বসে হাসতো, কাঁদতো, স্বপ্ন দেখতো, কখনো রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়তো। আর তাই শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো প্রেক্ষাগৃহও ছিলো একধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান। অথচ বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সামাজিকতার সঙ্গে নেই বিশেষ কোনো পরিচয়। বস্তুতপক্ষে, অন্ধকার ঘরে বড়ো পর্দায় না দেখলে চলচ্চিত্রের যে আমেজ তা কখনোই টেলিভিশন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখার যে সামাজিক রীতি ছিলো সেটাও আর থাকে না।

আর এই সামাজিক রীতি ধ্বংস হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র না দেখার ফলে। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখার আচার সারাদেশেই ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পর খুব একটা অব্যাহত থাকেনি। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে আমি যখন কাজের মেয়ে দেখি তখনো এলাকায় প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া খারাপ কিছু, এ রকম চর্চা ছিলো। তবে সেটা বর্তমানের মতো প্রকট ছিলো না। সেজন্যই হয়তো পূজায়, ঈদে, অনেক দিন পর কেউ এলাকায় আসলে কয়েকজন মিলে প্রেক্ষাগৃহের দিকে ছুটতো। কিন্তু এরপর এই চর্চা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছলো, সাধারণ দর্শক তো প্রেক্ষাগৃহে যেতোই না, তরুণ-যুবকদের মধ্যে অল্পবিস্তর যারা যেতো তাদেরকে খারাপভাবে দেখা হতো। ফলে পরের দিকে আমার বয়সিদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখার অনুভূতি থাকলেও সামাজিক কারণে তা সক্রিয় থাকেনি।

কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে বড়ো একটা অংশের প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে সেই অনুভূতিটুকুই নেই। তাদের অনেকে বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শক। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ আর তাদের আলাদাভাবে টানে না।

 

লেখক : প্রদীপ দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি নিউজ পোর্টাল এনটিভি অনলাইন-এ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত।

pradipru03@gmail.com

তথ্যসূত্র

১. চট্টপাধ্যায়, সোম্য (১৯৯৮ : ৭১); ছোটদের সিনেমা; শতবর্ষে চলচ্চিত্র ২; সম্পাদনা : নির্মাল্য আচার্য ও দিব্যেন্দু পালিত; আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

২. https://en.wikipedia.org/wiki/Harry_Potter_%28film_series%29; retrieved on 25.04.2016

৩. বর্মন, তপতী ও ইমরান ফিরদাউস (২০০৯ : ৪৮); বাংলাদেশের শিশুতোষ চলচ্চিত্র : একটি সমাজতাত্ত্বিক সমীক্ষা; বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, ঢাকা।

৪. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81; retrieved on 10.04.2016

৫. প্রাগুক্ত; চট্টপাধ্যায়, সোম্য (১৯৯৮ : ৭৫)।

৬. কাদের, মির্জা তারেকুল (১৯৯৩ : ২৮০); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প; বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

৭. প্রাগুক্ত; বর্মন, তপতী ও ইমরান ফিরদাউস (২০০৯ : ৬৩)।  

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন