রোকন রাকিব
প্রকাশিত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
চলচ্চিত্র সম্পাদনার প্রাযুক্তিক উল্লম্ফন
বিভ্রমের বিশালতায় ‘সত্য’ খুঁজে পাওয়া দায়
রোকন রাকিব

রাঁধুনি বসিয়া পাকে পাক দেয় হাঁড়িতে
গৃহকর্তা হিসেবে অতিথি আপ্যায়নের অভিজ্ঞতা সবারই থাকবার কথা। কারা কারা বা কতো জনকে নিমন্ত্রণ করবেন তা নির্ধারণ করলেন; খাবারের তালিকা তৈরি করলেন; সেই অনুযায়ী বাজারও করা হলো। এবার রাঁধুনি রান্না করলেন। খাবারের সুস্বাদে অতিথিরা রীতিমতো আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ! গৃহকর্তার আনন্দ দেখে রাঁধুনির কী এক আকাশছোঁয়া সুখ! চলচ্চিত্রের পরিচালক আর সম্পাদকের সম্পর্কটাও ঠিক গৃহকর্তা ও রাঁধুনির মতোই। অন্তত ঋত্বিক ঘটক বিষয়টিকে এভাবেই দেখতেন।১
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরন বদলেছে সম্পাদনা প্রযুক্তির। বদলেছে মানুষের রুচি, নান্দনিকতা ও শিল্পবোধ। তবে বদলায়নি সম্পাদকের সঙ্গে নির্মাতার সম্পর্ক। তাই নির্মাতা আর সম্পাদকের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য না হলে, আর যাই হোক ভালো চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে না, উঠবার কথাও নয়। রাঁধুনির মতো প্রশংসা নাই জুটুক, অন্তত সার্থক সম্পাদক হতে অনুরণনে ‘ঐকতান’ থাকা চাই-ই চাই। কী, বিষয়টি একটু জটিল হয়ে গেলো! ধরুন, অনেক বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে সুর তৈরি করা হলো। কান পাতছেন, তো একটি সুরই ভেসে আসবে। এখন আপনি চাইলেও যন্ত্রগুলোকে আর আলাদা করতে পারবেন না। দর্শকের মনোনিবেশে প্রবেশের জন্য তাই চাই ঐকতান। নানান চরিত্র, ঘটনা বা পরিবেশ ভেদে গতি, আবহসঙ্গীত, কালার গ্রেডিং, শব্দের ব্যবহারে চলচ্চিত্রে কাহিনির মেলবন্ধন বা ঐকতান দরকার। আর হ্যাঁ, ঐকতান তৈরি বা পরিবেশনের ব্যঞ্জনার জন্য চিত্রনাট্যকে বাদ দিলে চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয়, কাজের শুরুতেই বিষয়টি মাথায় নেওয়া।
সম্পাদনার আগের কাজ, মানে ইমেজ ধারণের ব্যাপারটা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকে মোটেও এখনকার ডিজিটালের মতো সুখকর ছিলো না। তখন সেলুলয়েডের মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করিয়ে একেকটা ইমেজ তৈরি করা হতো। পরে সেলুলয়েডের ওই ফ্রেমই সম্পাদনা করতে হতো। এডিসনের হাত দিয়ে শুরু হওয়া ৩৫ মি. মি. চলচ্চিত্রকে দীর্ঘকাল ধরে আদর্শ মাপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ফ্রেম ৮, ১৬ বা ৭০ মি. মি. যে মাপেরই হোক না কেনো, শুরুর দিকে সম্পাদনা যন্ত্র মুভিঅলা’র আশ্রয় নিতে হতো নির্মাতাকে। মোটর চালিত এই যন্ত্রে সেলুলয়েড সম্পাদনা করা হতো। যেকোনো শট্ নিখুঁতভাবে কাটার জন্য ব্যবহার করা হতো এই উল্লম্ব যন্ত্রকে। অবশ্য সম্পাদনার জন্য মুভিঅলা’র চেয়ে জুতসই আর কোনো যন্ত্র চলচ্চিত্রের প্রথম দিকে ছিলো না। মুভিঅলা’র কয়েক বছর পর আসে সম্পাদনার আরেক যন্ত্র স্টিনবেক।
মুভিঅলা স্টিনবেক
তবে নতুন প্রযুক্তি স্টিনবেক আসার পরও গত শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত সেলুলয়েড সম্পাদনার জন্য মুভিঅলা’র বহুল প্রচলন ছিলো। সত্যজিৎ, মৃণাল সেনরাও মুভিঅলা’তেই সম্পাদনা করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। অন্যদিকে এখনকার সি আর টি (ক্যাথোড রে টিউব) মনিটরের মতো পর্দা থাকায় স্টিনবেকও অল্প সময়ের মধ্যে সম্পাদনায় বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই যন্ত্রে আর একটা বড়ো সুবিধা পাওয়া যেতো, দুই—তিনটা সাউন্ড ট্র্যাক সংযুক্ত বা বিযুক্ত করার ক্ষেত্রে। সবমিলে অধিকতর প্রাযুক্তিক সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে স্টিনবেক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ৯০ দশকে এসে প্রযুক্তির জটিলতর এই সব পদ্ধতিকে সহজ করে দেয় ডিজিটাল সম্পাদনা প্রযুক্তি। এক্ষেত্রে অবশ্য ইমেজ ধারণ করার পদ্ধতিটাও একটু আলাদা। সেলুলয়েডে যেমন আলো প্রবেশ করিয়ে ইমেজ তৈরি হয়, ডিজিটালে তেমন ওই আলোই বিশেষ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রিকালি ইমেজ তৈরি করে। পদ্ধতিগত খুব একটা তফাৎ না থাকলেও ডিজিটাল প্রযুক্তির কারিগরি সুবিধাকে উল্লম্ফন বলা যেতে পারে।
স্মরণকালের এই প্রযুক্তির কথা বললে ‘অ্যাভিড’ বা ‘ফাইনালকাট প্রো’,‘অ্যাডোবি প্রিমিয়ার’, ‘ইডিয়াস’ প্রভৃতি সফ্টওয়্যারের নাম অনেকেই বলে ফেলতে পারেন। আধুনিক এসব সফ্টওয়্যারের সাহায্যে কাটাকুটি, পরিবর্তন, যেকোনো শট্ ইচ্ছে মতো পরিবর্তন করা যায় অনায়াসেই। সেই সঙ্গে ইফেক্টের ব্যবহার ডিজিটাল সম্পাদনা প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক এ প্রযুক্তি তৈরি করছে বিভ্রমের বিশালতা। কালপরিক্রমায় বলতে গেলে প্রাযুক্তিক উল্লম্ফনের এই সময়ে চলচ্চিত্রে ‘সত্য’ আর ‘বাস্তবতা’র পার্থক্য করা মুশকিল। যদিও জগতের সবকিছুতে ‘সত্য’ খুঁজতে গিয়ে বিভ্রম হওয়াটাকেই ‘অপরিবর্তনীয় সত্য’ মনে হয়েছে!
পিছন ফিরে দেখা
চলচ্চিত্র আর সম্পাদনার ইতিহাসকে একেবারে সমান্তরাল বলা উচিত হবে না। তবে খুব কাছাকাছি সময়েই সম্পাদনার বিষয়টি উদ্ভাবন হয়। দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোই ধরুন—রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, ক্যামেরায় তা একটানা ধারণ করা হলো। শুরুর দিকে এ রকমই সাদামাটা সিঙ্গেল শটে নির্মাণ হতো চলচ্চিত্র। ফলে কোনো রকম সম্পাদনার ব্যাপার-স্যাপার ছিলো না। তবে পরবর্তীকালে একাধিক শট্ সমন্বয় করে চলচ্চিত্র-নির্মাণের ধারণা তৈরি হয়, মানে সম্পাদনার বিষয়টি আসে। প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনের তৃতীয় বছর ১৮৯৮ সালে সম্পাদনার মুখোমুখি হয় চলচ্চিত্র। নির্মাতা রবার্ট উইলিয়াম পল কামঅ্যালঙডু!-তে একাধিক শটের ব্যবহার দেখান। প্রথমে প্রতিটি শটকে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কেটে নেওয়া হয়। এরপর ক্রম অনুসারে সাজানো হয় শটগুলোকে। গল্প বলার জন্য চলচ্চিত্র সম্পাদনায় তখন কেবল সময়ক্রমকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো।
তবে খুব শিগগিরই বিকল্প চিন্তা দাঁড় করালেন ফ্রান্সের নির্মাতা জর্জ মেলিয়ে। পেশায় জাদুকর এই নির্মাতা চলচ্চিত্রে নিছক জাদু দেখাতে গিয়ে সমকালীন চলচ্চিত্রের ভাষাই বদলে দিলেন। কল্পনা, রহস্য, নাটকীয়তা, জাদুময় বিভিন্ন নান্দনিক কারিগরি কৌশল উদ্ভাবন করেন তিনি। ডিজল্ভ, ফেডইন, ফেডআউট, স্টপ অ্যাকশন, কাট, ট্রিক ফটোগ্রাফি, সুপার ইম্পোজিশন, স্লো বা ফাস্ট মোশন প্রভৃতি চলচ্চিত্রিক ভাষার হাতেখড়ি মেলিয়ে’র হাত ধরে। সেসময় চলচ্চিত্রে আবির্ভাব হয় আরো কিছু টেকনিকের। তবে এসব টেকনিকের বেশকিছু উৎকর্ষ লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা ডি ডব্লিউ গ্রিফিথের হাতে। তাকে বলা হয়ে থাকে ফাদার অব মডার্ন এডিটিং টেকনিক। ক্রস কাটিং বা প্যারালাল অ্যাকশন, হাই অ্যান্ড লো অ্যাঙ্গেল শট্, ব্যাক লাইটিং, সফ্ট ফোকাস প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন তিনি। মহান এই নির্মাতাকে গুরুর আসনে বসান তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার প্রখ্যাত পরিচালক সের্গেই আইজেনস্টাইন। অবশ্য আইজেনস্টাইনও কম যান না। তার হাতধরে চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ‘ইন্টেলেকচ্যুয়াল মন্তাজ’ প্রতিষ্ঠা পায়।
১৯২০ সালে সবাক চলচ্চিত্রের ধারণা তৈরি হয়। সংলাপের ব্যবহার চলচ্চিত্রকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মিজ-অঁ-সেন, ফ্ল্যাশব্যাক, ওভারল্যাপিং প্রভৃতি বিষয়গুলো সম্পাদনায় আসে। পাঠক, আপনাকে এখন একটু মঞ্চ নাটকে নিয়ে যাবো। দর্শক সারিতে বসে আপনি, মঞ্চে দুইজন শিল্পীর অভিনয় চলছে। এর মধ্যে মঞ্চে প্রবেশ করলো আরেকজন। কিছুক্ষণ কথা বলে বেরিয়ে গেলো আগের দুজনের একজন। মঞ্চের এই দৃশ্যাংশের মতো চলচ্চিত্রের কল্পমূর্তির নাম হলো মিজ-অঁ-সেন। সেক্ষেত্রে ধারাবাহিক শটে ধারণ করে কেবল একটার পর একটা জোড়া লাগিয়ে তা ব্যবহার করা হয়। ধরুন, নৌকায় পদ্মা নদী ঘুরতে গেছেন। সেখানে এক জেলের সঙ্গে কথা বলছেন। কথা চলছে নদীর বর্তমান অবস্থা এবং নদীপাড়ের জীবন যাপন নিয়ে। এর মধ্যে জেলের ছেলে আসলো বাবাকে সহযোগিতা করতে। মাঝি আপনাকে জেলের কাছে নামিয়ে দিয়ে ঘাটে চলে গেলেন। পুরো এই ঘটনাটিকে ভিন্ন ভিন্ন শটে ধারণ করে ধারাবাহিক জোড়া লাগিয়ে চলচ্চিত্রে ব্যবহার করলেন। এই মিজ-অঁ-সেনের বিপরীত হলো মন্তাজ। মন্তাজ বোঝার জন্য আগে আপনাকে গণিতের সাধারণ হিসাবটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। মানে, ১ ১ = ১ নয়, ১ ১ = ২ বা অন্য কোনো সংখ্যাও হতে পারে। একটা সিকোয়েন্স কল্পনা করুন—প্রথম শটে দেখানো হলো দামি গাড়ি থেকে নামছেন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী; পরের শটে গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাজ করার দৃশ্য। আর তৃতীয় শটে এই দুটো বিষয়ের সঙ্গে আপাত সম্পর্কহীন আখের ছোবড়া থেকে রস নিংড়ানোর দৃশ্য দেখানো হলো। এর মধ্য দিয়ে পাশাপাশি দুটি শটের দ্বন্দ্ব দেখিয়ে তৃতীয় একটি চিন্তার প্রকাশ করা হয়। তাই মন্তাজ তত্ত্বে সম্পাদনাই হয়ে ওঠে মুখ্য।
সময় পরিক্রমায় প্রযুক্তির পরিবর্তন তথা উল্লম্ফন হয়েছে বটে, তবে গ্রিফিথদের টেকনিকগুলো কিন্তু অপরিবর্তিতই থেকে গেছে। মানে ধরুন, টেকনোলজি আপনাকে অপেক্ষাকৃত ভালো রেজ্যুলেশন দিতে পেরেছে, অসাধারণ সাউন্ড দিয়েছে; তবে আধুনিকভাবে ব্যবহৃত সাবেকি টেকনিকগুলোই কিন্তু চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। তবে টেকনিকেরও যে পরিবর্তন আসেনি—এমনটা নয়। এখনকার মোটামুটি বা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যাই বলেন না কেনো, সেগুলোতে নিত্য নতুন অনেক কৌশলই এসেছে। সবগুলোর হয়তো তাত্ত্বিক কাঠামো দাঁড়ায়নি। পরিবর্তনই একমাত্র অপরিবর্তিত বিষয়—এই চিন্তা থেকে আর ১০ জনের মতো আপনিও চাইলে চিন্তা করে চিন্তা করাতে পারেন!
কেমন করে হয়
শুট হওয়া রাশ প্রিন্ট আর সাউন্ড ট্র্যাককে কেটেছেঁটে একটি গল্পের পরিশীলিত ভিজ্যুয়াল রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন সম্পাদক। চিত্রনাট্যের বক্তব্যের আগাগোড়া তাই সম্পাদকের মাথায় থাকতে হয়। কারণ রাশ প্রিন্টের দৈর্ঘ্য প্রত্যাশিত আকার থেকে কয়েকগুণ বেশি হয়ে থাকে। শুরুর দিকে লিনিয়ার প্রযুক্তিতে সম্পাদনার প্রচলন শুরু হয়। তখন দৃশ্য ও শব্দকে দুটো আলাদা ফিল্ম স্ট্রিপে নেওয়া হতো। এমনভাবে এই দুটো ফিতেকে মুভিঅলা’য় চালানো হতো, যাতে করে ফিতে দুটো সমন্বিত অবস্থায় থাকে।
সেলুলয়েডে সাধারণত দৃশ্যাংশ ও সাউন্ড ট্র্যাক সম্পাদনা করার পর গল্পের বক্তব্য অনুযায়ী আবহসঙ্গীত নির্বাচন করা হয়। তবে সেটিও দৃশ্যাংশের সঙ্গে সমন্বয় করে। এরপর মিক্সিং বা মিশ্রণ করা হতো দৃশ্য, সংলাপ, সঙ্গীত ও আবহধ্বনি। গল্প অনুযায়ী ভাবনার রূপ দেন সঙ্গীত পরিচালক। সবশেষে চূড়ান্ত সম্পাদনা অনুযায়ী চলচ্চিত্রের ফিল্ম স্ট্রিপ কাটা হতো।২ তবে সময় পরিক্রমায় কাটাকুটির এই পদ্ধতি বদলে গেছে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অর্থাৎ নন-লিনিয়ারের যুগে নেগেটিভের বালাই আর নেই; তার পর আবার দৃশ্য বা শব্দকে আলাদা ফিল্ম স্ট্রিপে নেওয়ার ভাবনাও করতে হয় না।
এখন শুট করার পর ক্যামেরার মেমোরি থেকে সরাসরি কম্পিউটারে সম্পাদনার জন্য ইনপুট করা যায়। সেখানে ইমেজ ও সাউন্ড সিনক্রোনাইজ বা আলাদাভাবেই সম্পাদনার সুযোগ থাকে। তবে এখনো অনেক নির্মাতা সেলুলয়েডে শুট করে সেটাকে ইলেকট্রিক সিগনালে ট্রান্সফার করেন। সেলুলয়েড থেকে প্রথমে টেপ ভিডিও আসে, টেপ ভিডিও থেকে সম্পাদনার জন্য ইলেকট্রিক সিগনাল ট্রান্সফার করা হতো। এখন অবশ্য অনেক ডিজিটাল ক্যামেরায় টেপ ভিডিওতে শুট করে তা থেকে ইলেকট্রিক সিগনাল সরাসরি কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়া যায়। তবে আজকাল ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে ইলেকট্রিক সিগনাল ধারণ করা হয়ে থাকে।
সেলুলয়েডে সম্পাদনায় অনেক জটিলতা ছিলো। স্পেশাল ইফেক্ট থেকে শুরু করে সাউন্ড ডিজাইন, রেকর্ডিং ইত্যাদি করার জন্য সেসময় অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু ডিজিটাল সম্পাদনায় সম্পাদক নিজেই এ কাজগুলো করতে পারছেন। এখন অনেক নির্মাতা নিজেই সম্পাদনার কাজটি করছেন। সেলুলয়েডে একজন পরিচালকের পক্ষে এই সম্পাদনা করাটা বেশ দুরূহ ব্যাপার ছিলো। কারণ ওখানে ভীষণ একটা প্রাযুক্তিক জটিলতা আছে। কিন্তু এখন ডিজিটাল সম্পাদনায় যাদের একটু কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান আছে, তাদের এটা আয়ত্ত করতে খুব বেশি সময় লাগে না।৩
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এখন অনেকে মুঠোফোন ব্যবহার করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। ২০০৮ সালে এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বাংলাদেশে আলোচনায় আসেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জার্নাল।৪ ঢাকায় অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবে সাত মিনিট চার সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের স্টেইনটাচ নামের চলচ্চিত্র নিয়ে হাজির হন জার্নাল।
আশার খবর হলো, মুঠোফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে এখন পুরোপুরি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যাচ্ছে। এ ধরনের অ্যাপের মধ্যে ‘ভাইন’, ‘সিনেমাটিক’,‘ইনস্টাগ্রাম’, ‘ভিডি’ প্রভৃতি দিয়ে চিত্র ধারণের নানান সুবিধা পাওয়া যায়। মুঠোফোনে চালিত ‘আইমুভি’ অ্যাপের সাহায্যে সম্পাদনার পাশাপাশি ভিডিও টাইটেল, সঙ্গীত, মুভি ট্রেইলারও করা যায়। ‘পিনাকল স্টুডিও’, ‘ভিডট্রিম’, ‘মুভি উইথ টাচ’, ‘ভাইভা ভিডিও’ এ রকমই আরো কয়েকটি অ্যাপের নাম। আর বিশেষ আবহের জন্য ‘এফএক্স গুরু’, ‘সিনেফাই’, ‘আইমোশন এইচডি’, ‘পারফেক্ট ভিডিও’, ‘দ্য মুভি মেকার’, ‘কিউট কাট’ অ্যাপগুলো বেশ কার্যকরী।
বিশেষ করে স্বল্পদৈর্ঘ্যর কল্পকাহিনির জন্য মুঠোফোনে চালিত এই অ্যাপগুলো নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে—নিঃসন্দেহে তা বলা যায়। এছাড়া শব্দ সম্পাদনার জন্য ‘অ্যাকুয়েস্টা’, ‘অডিও টুল’, ‘অ্যাডোবি অডিশন’, ‘আইট্যাগ’ এবং সাউন্ড মিক্সিংয়ের জন্য আছে ‘মিক্সপ্যাড মিউজিক মিক্সার’, ‘ডিজে’, ‘ক্রস ডিজে’র মতো অ্যাপগুলো। আরো তাক লাগানোর মতো কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো দিয়ে মুঠোফোনের সাহায্যে অ্যানিমেশনের দুনিয়ায় পথ চলা শুরু করা যায়। ‘স্টপ মোশন : অ্যানিমেশন মেকার’, ‘পিক্সেল স্টুডিও : অ্যানিমেশন মেকার’, ‘টুনাস্টিক’, ‘অ্যানিমেশন এক্সপ্রেস’ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে অ্যানিমেশনের কাজ।৫ মুঠোফোনে চালিত এসব সফ্টওয়্যার ব্যবহারের সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো স্বল্প ব্যয়েই চলচ্চিত্র প্রযুক্তি আস্বাদনের সুযোগ।
সম্পাদনার সত্য বিভ্রম এবং শিল্পবোধ
মেহগনি পাতার সবুজ সম্পর্কে সবারই জানা আছে নিশ্চয়ই। কখনো কি খেয়াল করেছেন, এই সবুজে সকালের স্নিগ্ধ আলো কিংবা দুপুরের কড়া রোদ বা বিকেলের নরম রোদ পড়লে কেমন দেখায়? ধরা যাক, আপনি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে বাংলার প্রকৃতির সবুজ-শ্যামলতার সঙ্গে এখানকার মানুষের সম্পর্ক, জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাণ-পরিবেশের বর্ণরূপের কথা বলতে চাইছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের কোনো সীমান্ত এলাকার কোনো ধানক্ষেত, বনে শুট করা হলো। সম্পাদনার টেবিলে বসে দেখছেন, সবুজের কাঙ্ক্ষিত রঙ পাওয়া যাচ্ছে না। কালার গ্রেডিংয়ের সাহায্যে নতুন এক রঙ তৈরি করা হলো। একটু বিবর্ণ বা ধূসর প্রকৃতি; সঙ্গে মানুষের জীবন সংগ্রামের বদল হওয়ার গল্প। অথচ উত্তরের ওই জায়গায় হয়তো প্রকৃতির ওপর খুব একটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবই পড়েনি। অন্যদিকে কাহিনিচিত্রের গল্প বলার জন্য আপনাকে বাস্তব-সত্য যে ধারণ করতেই হবে, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে গল্পে যা বলছেন বা যে বাস্তবতা নির্মাণ করছেন, তার অস্তিত্ব প্রকৃতিতে থাকা জরুরি নয় কি?
২.
বাস্তবের বর্ণ ছেড়ে বাস্তবতার কল্পমূর্তি তথা চলচ্চিত্রের সেট প্রসঙ্গে কিছু আলোচনার অবতারণা করতে চাই। বাস্তব কোনো সত্য প্রকৃতি বা অবকাঠামো বোঝানোর জন্য সাধারণত সেট নির্মাণ করা হয়। এর যেমন আর্থিক কারণ আছে, সেই সঙ্গে সময়ও একটা ফ্যাক্ট। সাধারণত মূলধারার চলচ্চিত্রে সেট নির্মাণ করে সেখানে কাঙ্ক্ষিত শট্ নেওয়ার প্রচলন লক্ষণীয়। কিন্তু বর্তমানের প্রযুক্তিতে চাইলে আপনাকে এখন আর ওই সেটও নির্মাণ করতে হচ্ছে না। একদম সাদামাটা জায়গায় শট্ নিয়ে প্রয়োজনীয় ইফেক্ট ব্যবহার করেই কাঙ্ক্ষিত অবয়বের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে সম্পাদককে যে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল ভূমিকা রাখতে হয়, তা বলাই বাহুল্য।
নিবিড়ভাবে ভেবে দেখুন, প্রয়োজনে চলচ্চিত্রের যে সেট নির্মাণ করা হয় সেটা প্রকৃতিতে সত্য নয়, তবে সেটির কিন্তু বাস্তবিক রূপ দিতে হয়। অর্থাৎ বাস্তবে আপনাকে নির্মাণ করতে হচ্ছে। আর সেটের নির্মাণ না করেও ইফেক্ট দিয়ে কল্পিত অবয়ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভৌতভাবে সত্য বা বাস্তবতার কোনো বিষয়ই থাকছে না। বোধ করি, নতুন এ প্রযুক্তিকে দৃষ্টিভ্রমেরও বিভ্রম বলা অতিশয় হবে না।
৩.
সম্পাদনার বদৌলতে দিনের আলোতে ধারণ করা শটকে সহজেই রাত বা অন্য সময় হিসেবে যেমন চালিয়ে দেওয়া সম্ভব, তেমনই কল্পনার বারোমিশালির সজীব উপস্থাপনও ‘ইফেক্ট’ প্রয়োগের ব্যাপার মাত্র। বিশেষ করে অ্যানিমেশন বা সেটের কারুকার্যের ভিডিও সম্পাদনা অলীক কল্পনারই ভিজ্যুয়াল রূপ দেয়। আপনি এখন বলতে পারেন, গল্প যদি উপকথা বা সায়েন্স ফিকশন হয়, তবে তো সত্য বা বাস্তবতার কোনোটারই দরকার নেই। কল্পনার সব রঙ মিশিয়ে গল্প তৈরি হলো। গল্পের সব অংশই যে দর্শকের ভালোলাগা তৈরি করবে, সেটা মনে করার কারণ নেই।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, সাধারণ ফিকশনের ক্ষেত্রে যে ইফেক্ট ব্যবহার হয় সেটার সম্পাদনাবোধ, সর্বোপরি নান্দনিকতার ‘যথাযথ’ প্রয়োগ নিয়ে। ধরুন, চলচ্চিত্রে মরুভূমির ওপর গানের শট্ নেওয়া হলো। এখন সেটা যতোটা বাস্তবধর্মী মনে হবে এর নান্দনিকতার মানও ততোটা প্রশ্নাতীত হবে। আর দর্শক যদি বুঝতেই পারেন, বাস্তবতা বোঝাতে ‘ছায়া মরুভূমি’র ব্যবহার হয়েছে, যেটাকে ‘কার্টুন’-‘কার্টুন’ লাগছে, তাতে দর্শকের মনোজগতে যে আবহ তৈরি হয় তা অনুধাবনে দেশি কয়েকটা চলচ্চিত্র দেখলেই আঁচ করা যায়! বিশেষ করে বর্তমানের আলোচিত প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতা অনন্ত জলিলের চলচ্চিত্রের কথা বলা যেতে পারে। অবশ্য সেটা নিয়েও হয়তো অনেকে হতাশ হবেন না!
অনেক চলচ্চিত্রকর্মী হয়তো বলবেন, ‘ইফেক্টই তো ব্যবহার করছি, দর্শক সেই সত্যটা জানবে না?’ ‘অদক্ষ’ হাতে সম্পাদিত অন্য কারো চলচ্চিত্র দেখেও কেউ বা বলবেন, ‘বাহ্, এই পরিচালক (সম্পাদক) তো অনন্ত স্টাইলকে বেশ ‘দক্ষভাবে’ নির্মাণ করেছেন।’ ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নামে এভাবে যদি কলাকুশলীরা ‘দক্ষতা’ দেখাতে থাকেন, তাতে যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তেমন কোনো কাজে আসবে না—এটা বলা সমীচীন বটে। সেজন্যই খুব অবাক হওয়ার কোনো কারণ দেখি না, যখন এ ধরনের প্রযুক্তি জানা মানুষকে ‘শিল্পী’ হতে দেখি, তারকা কিংবা কারো আইকন হতে দেখি!
ডিজিটাল সম্পাদনা ও আমাদের চলচ্চিত্র
শূন্য দশক পেরিয়ে এসে দেশীয় চলচ্চিত্রের দীনতা কেটে যেতে শুরু করেছে বলা ঠিক হবে কি না আমি নিশ্চিত না। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরে আলোর একটু ঝলকানি দেখা গেছে, এই সত্যটা স্বীকার করতে সঙ্কোচ নেই। সেটা যেমন শুট করা, তেমনই সম্পাদনা কিংবা প্রদর্শনের বেলাও বটে। তবে এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের চলচ্চিত্রে আধুনিক প্রযুক্তির কেবল ছোঁয়া লেগেছে, বিকাশ হয়নি। তবে খুব আশার কথা হচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে চলচ্চিত্র আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ডিজিটাল প্রদর্শনের ব্যবস্থা গড়ে উঠছে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে।
তবে আক্ষরিক অর্থে ডিজিটাল যুগের কথা বলা হলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রে সেই অর্থে প্রযুক্তির ব্যবহারের পারদর্শিতা চোখে পড়ার মতন নয়। সেটা সিনেমাটোগ্রাফি থেকে প্রদর্শন পর্যন্ত। যার ফলে ব্যক্তিগতভাবে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে গিয়ে সম্পাদনা নিয়ে অনেককে বলতে শুনেছি, ‘এটা তো অ্যাকশন নয়, কার্টুন।’ অনন্তের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। সেখানে একবার নায়ক তার হৃদপিণ্ড বের করে নায়িকাকে ভালোবাসার গভীরতা বোঝাতে চান। কিন্তু এটা করতে গিয়ে তিনি প্রযুক্তির যে ব্যবহার করেন সেটা দেখে দর্শক আবেগতাড়িত না হয়ে হাস্যরসে মেতেছে। কিংবা একটি গানের চিত্রায়ণে গানের কথা অনুযায়ী যেভাবে বাড়ি-ঘর-গাড়ি ভেঙে আগুন জ্বেলে ধ্বংসস্তূপ করা হয়েছে, সেটাও ছিলো অত্যন্ত বিরক্তিকর। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পাদনার ভাষা নিয়ে জানাশোনার সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণও বটে। কেননা, আপনি যদি ভালো সম্পাদক না হন, পরিচালকের যদি সম্পাদনা সম্পর্কে বোঝাপড়ার কমতি থাকে, তবে সেই চলচ্চিত্রের হ-য-ব-র-ল হওয়াটাকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।
যাই হোক, সামগ্রিক অর্থে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের যেমন বিকল্প নেই, তেমনই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নান্দনিকতার দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ারও সুযোগ নেই। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, নান্দনিকতার বিচার কী করে হবে? শুধু মাউসের ক্লিক জানা কিংবা উচ্চগতিতে সফ্টওয়্যার চালানো জানলেই চলবে? তাতে ভালো অপারেটর হওয়া সম্ভব কিন্তু সম্পাদক নয়। আর একটা বিষয়, অহেতুক ইফেক্টের ব্যবহার বা কালার গ্রেডিং ব্যবহার করে ‘নতুনত্ব’ তৈরি করা কি নান্দনিকতা বোধের পরিচায়ক? চলচ্চিত্রের যে আলাদা ভাষা আছে, সেটার কম্পোজিশন জানতে হলে সবার আগে দরকার রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সেই জন্যেই শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত-চিত্রকলা নিয়ে জানাশোনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রিক গতি বা ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করার বিকল্প নেই। আর তার চেয়েও বেশি জরুরি, প্রাণ-পরিবেশের ওপর পর্যবেক্ষণ। এতে করে জীবন-জীবিকা, সংগ্রাম, বেঁচে থাকার আকুলতা প্রভৃতি বিষয় চলচ্চিত্রে অঙ্কন করা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে।
শেষ কথা কল্পনায় কি!
বর্তমান সময়কে যদি প্রযুক্তির উল্লম্ফন ধরি, এর পরের বিপ্লবের নাম কী হবে? সেক্ষেত্রে প্রাযুক্তিক বিপ্লবই বা কী ধরনের ঘটতে পারে, সেটা কি আন্দাজ করা সম্ভব? বোধ করি, আমি-আপনি না পারি, যেকোনো উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মানবকুলের কাউকে না কাউকে তো কল্পনা করতে হয়েছে। আর ওই কল্পনার বাস্তবায়ন করতে হয়েছে সেই ব্যক্তি বা অন্য কাউকে। ফলস্বরূপ সেই উদ্ভাবন ব্যবহার করার সুযোগ পায় মানবকুল। ধরুন,
আপনি একলা। যেমন, একটা ছোট্ট ডিভাইস থেকে কানে হেডফোন লাগিয়ে একা একা গান শুনতে পান। এমন যদি হয় কোনোদিন, অবাক হবার কোনো কারণ দেখি না—আপনি একটা চশমার মতো ডিভাইস পড়লেন, একলা একলা সিনেমাটা দেখলেন, শুনতেও পেলেন কিংবা আপনার মনে হলো যে আপনি ফাঁকা মাঠে বসে আকাশের মধ্যে প্রজেক্ট করে দেখবেন নিজের পছন্দের সিনেমা; সেইটিও ঘটবার সম্ভাবনা রাখে। প্রতিদিন টেকনোলজি যতো দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে তাতে একদিন, কোনোদিন যদি এ-রকম সুযোগ হয় আমরা অবাক হবো না।৬
নিত্যনতুন চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির উন্মেষ চোখে পড়ার মতো। কাল পরিক্রমায় হয়তো হারিয়ে যাবে এখনকার প্রযুক্তি, দেখা মিলবে নতুন কোনো কিছুর। নতুনের আসাটাও স্বাভাবিক। সেই নতুন কেমন হতে পারে? বিভিন্ন গবেষণা বা প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা এর একটা ধারণা বাতলে দিতে পারেন। তবে ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তনকারী’ প্রযুক্তির ধারণা যে শুধু তারাই দিতে পারে—এটা তো নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই চলুক সাধারণেরও কল্পনা, হয়তো আপনিই লিখতে যাচ্ছেন সেই ইতিহাস। কাব্য রচনা হোক ইতিহাসের নায়কের।
লেখক : রোকন রাকিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী।
rakib.2071@gmail.com
তথ্যসূত্র
১. মুখোপাধ্যায়, হৃষীকেষ (১৯৯৬ : ১০০); ‘পরিচালক ও সম্পাদক’; শতবর্ষেচলচ্চিত্র১; সম্পাদনা : নির্মাল্য আচার্য ও দিব্যেন্দু পালিত; আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।
২. দাশগুপ্ত, ধীমান (২০০২ : ১০-১২); ‘চলচ্চিত্র সম্পাদনা : রীতি ও নীতি’; চলচ্চিত্রসম্পাদনা; সম্পাদনা : ধীমান দাশগুপ্ত; বাণীশিল্প, কলকাতা।
৩. শী, মহাদেব; ‘এডিটিংয়ের একাল-সেকাল : বিষয় চলচ্চিত্র’; উড়ালচিত্র; সম্পাদনা : সুমন দেলোয়ার; বর্ষ ১, সংখ্যা ১, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃ. ৮৯-৯১, বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ফিল্ম ক্লাব, ঢাকা।
৪. http://www.somewhereinblog.net/blog/Digontobdblog/28783701
৫. চৌধুরী, নুরুন্নবী; ‘চলুন অ্যাপ দিয়ে সিনেমা বানাই’; প্রথমআলো’র শুক্রবারের বিশেষ ক্রোড়পত্র ‘প্রজন্ম ডটকম’, ২২ আগস্ট ২০১৪।
৬. আতিক, নূরুল আলম ; ‘ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা-১ : জহির রায়হানের খোঁজ পাওয়া গেছে’; ম্যাজিকলণ্ঠন; সম্পাদনা : কাজী মামুন হায়দার; বর্ষ ২, সংখ্যা ১, জুলাই ২০১২, পৃ. ১৫৫, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৫ সালের জানুয়ারির ম্যাজিক লণ্ঠনের অষ্টম সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন