মাজিদ মিঠু
প্রকাশিত ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
অন্তরালের অন্তরমহল
গ্রেটা গার্বো থেকে সুচিত্রা সেন
মাজিদ মিঠু

১৯৬২ সালে মনরো’র মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে দূর প্রাচ্যের এক পাড়াগাঁয়ের ভক্ত কবি দিলওয়ার লিখেছিলেন,
You may call her
A bad girl
A mad girl,
A morbid human fright.
But I know, O listen to me
She is a
Sad girl,
A red girl
Of zodiacal love and light.
When the night is dead
And sleep is rare,
I find her heart sad,
I find her in a prayer.1
মনরো’র অন্তর্গত বিষাদ, বেদনার রূপ এভাবেই এঁকেছিলেন কবি দিলওয়ার। কেনো, কী কারণে এতো মেঘ জমেছিলো মনরো’র আকাশে, যে জন্য তীব্র প্রতাপ নিয়ে থাকা এই নক্ষত্রকে হারিয়ে যেতে, পালিয়ে যেতে হয়েছিলো অন্য কোনো অসীমে? ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে একটা স্বাপ্নিক, কাব্যিক রূপ নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন। শতাব্দীর সবচেয়ে আবেদনময়ী চলচ্চিত্রাভিনেত্রী-মডেল-গায়িকা তিনি। শরীর, কণ্ঠ, হাসি, অভিনয়ের এক অপার মিশ্রণ তাকে অল্পদিনেই করে তুলেছিলো মানুষের হৃদয়ের রানি।
১ জুন ১৯২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দরিদ্র পরিবারে জন্ম মনরো’র। মায়ের মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বাবার মৃত্যু; এরপর মাত্র নয় বছর বয়সে তার জায়গা হয় এতিমখানায়। কষ্টময় জীবন থেকে মুক্তি পেতে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিয়ে করেন মনরো, কিন্তু ‘সুখ’ যেনো অধরাই থেকে যায়, প্রথম ঘর ভাঙে চার বছরের মাথায়। এরপর ১৯৪২ থেকে ১৯৬১, এর মাঝে ঘর ভেঙেছে চারবার।
সেলুলয়েডের স্বপ্নের জগতে মনরো পদার্পণ করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। এর পর আর থেমে থাকতে হয়নি। অসম্ভব মেধা, প্রতিভা আর ‘স্বর্গীয় সৌন্দর্যে’র প্রতীক এ মানবী অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন ভক্তকুলের মনের মানুষ, স্বপ্নের নক্ষত্র। ১৯৪৬ সালে চলচ্চিত্রে আসার পর মৃত্যু অবধি প্রায় ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজ কণ্ঠে গেয়েছেন ডজনখানেক গান, রয়েছে অসংখ্য টেলিভিশন ও রিয়ালিটি শো। যার অধিকাংশই ছিলো প্রচণ্ড দর্শকপ্রিয়; যা তাকে বানিয়েছিলো সুপারস্টার।
একদিকে বিশ্বজোড়া মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন তিনি, কোটি কোটি ভক্তের নক্ষত্র; ক্যারিয়ারের সিঁড়ি সবেগে চলছে আসমানের দিকে, এমন সময় হঠাৎ তিনি হারিয়ে গেলেন অন্ধকারে। এ যেনো কৃষ্ণ গহ্বরে নক্ষত্রের আত্মাহুতি। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলো তাকে। কিন্তু কেনো? তার খ্যাতি, যশ, মায়া, ভালোবাসা সব পিছনে ফেলে কেনো তিনি মুক্তি নিতে চাইলেন এ নক্ষত্রের জগৎ থেকে?
মনরো’র রুপালি জগতে আসার কিছু বছর আগে ১৯৪১ সালে সেলুলয়েডের জগতকে বিদায় জানান আরেকজন, ‘বিউটি অব দ্য বিউটি’ খ্যাত আরেক নক্ষত্র। তবে তিনি মনরো’র মতো শারীরিকভাবে এ পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাননি। দিনের আলোয় নক্ষত্র যেমন চোখের আড়াল হয়, তেমনি তিনিও আড়াল হলেন, তবে পরের রাতে আসমানের নক্ষত্রের মতো আর জ্বলে উঠলেন না। আমাদের কাছে তিনি পরিচিত গ্রেটা গার্বো নামেই। ১৯০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে জন্মেছিলেন তিনি। দরিদ্র পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান গার্বো, বেড়ে ওঠেন বস্তিতে। ছোটোবেলা থেকেই কাজ করেছেন সেলুন, টুপি, চুলের ফিতা বিক্রির দোকানে। অসম্ভব সুন্দরী গার্বো দোকানের ক্যাটালগ মডেলিং এবং পরে পোশাকের বিজ্ঞাপন দিয়ে পা রেখেছিলেন রুপালি জগতে।
১৯২৪ সালে সুইডিশ চলচ্চিত্র দ্য সাগা অব গোস্তা বার্লিং আই আনা ক্রিস্টি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক তার। চলচ্চিত্রের নির্বাক থেকে সবাক যুগে রেখেছিলেন অভিনয়-দক্ষতার ছাপ; হয়ে উঠেছিলেন সারাবিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্বপ্নের দেবী। হলিউডের সেরা পাঁচ অভিনেত্রীর মধ্যে তাকে একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। সৌন্দর্য আর অভিনয়শৈলীর এক অপার মিশ্রণে তিনি জয় করেছিলেন কোটি ভক্তের প্রাণ। কিন্তু কেনো জানি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অস্থির। জীবনে অনেকের প্রেমে পড়লেও তা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি। তার ভাষায়, ‘নিঃসঙ্গ জীবন যতো কষ্টকর হোক না কেনো, আমার কাছে তা অত্যন্ত মধুময়।’২ খুব যে বৈষয়িক ছিলেন এমনও নয়; নিজের একটি স্থায়ী আবাসস্থলও গড়েননি। সারাজীবন কাটিয়েছেন হোটেল কিংবা ভাড়া বাড়িতে।
ক্যারিয়ারের ২১ বছরের মাথায় ১৯৪১ সালে মুক্তি পায় তার টু ফেসড ওম্যান চলচ্চিত্রটি। এরপর হঠাৎ-ই বিদায় জানালেন চলচ্চিত্র জগতকে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দিলেন বাহিরের সঙ্গে যোগাযোগের সব জানালা, চলে গেলেন অন্তরালে। বয়স তখন সবে ৩৬, মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৮।
তার পর থেকে ১৯৯০ সালের ১৫ এপ্রিল নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত আসেননি ক্যামেরার সামনে, কোনো সাংবাদিককেও দেননি ইন্টারভিউ, আর মৃত্যুর পরও মিলেনি কোনো ফটোগ্রাফ। তার এ অন্তরালই তাকে অমর করেছে। আমাদের চোখে, মনে, চিত্তে এখনো সেই চিরযৌবনা, হাস্যোজ্জ্বল গ্রেটা গার্বো যার চেহারায় বার্ধক্যের কোনো দাগ নেই। তবে প্রশ্ন, জনপ্রিয়তা-যশ-খ্যাতি ছাপিয়ে কেনো বেছে নিয়েছিলেন অন্তরালের জীবন?
এবার বাঙালি বিউটি কুইনের কথা, যার অভিনয় দেখে স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্ম বড়ো হয়েছে। যখন গ্রামে গ্রামে দু-একটি টেলিভিশন, বি টি ভি ছাড়া আর কোনো চ্যানেল নেই, প্রেক্ষাগৃহগুলোতে পরিবারসহ চলচ্চিত্র দেখতে যেতো সবাই; সেসময় থেকে ৯০-এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ছিলো তার অসম্ভব দর্শকপ্রিয়তা। চট্টগ্রামের রাউজানের এই মেয়েটিই একসময় বাঙালি মনের সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন; কন্যা সন্তানের জন্ম হলে গর্ব করে বলা হতো, ‘দেখ দেখ, বড়ো হলে শাবানার মতোই হবে!’
সৌন্দর্যের এ রানির চলচ্চিত্রে আগমন পরিচালক বাবা ফয়েজ চৌধুরীর হাত ধরেই। ১৯৬২ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে নতুন সুর-এ শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু তার চলচ্চিত্রযাত্রা। তারপরে ১৯৬৬ সালে আবার বনবাসে রূপবান-এ অভিনয় করেন মূল চরিত্রে। স্বাধীনতাপূর্ব সময়েই তিনি প্রতিষ্ঠা পান নায়িকা হিসেবে। ৯০-এর দশকের মাঝ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন প্রতাপের সঙ্গেই; পেয়েছেন ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। প্রায় সাড়ে তিন দশক চলচ্চিত্র জগতের চোখের মণি ছিলেন শাবানা। কিন্তু ১৯৯৭ সালে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ৩৪ বছরের মাথায় এসে হঠাৎ তিনি চলচ্চিত্র থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন। এমনকি এখন পরিবারের সদস্য ছাড়া আর কারো সঙ্গেই তেমন দেখা করেন না। আসেন না ক্যামেরার সামনে। স্থানিক দূরত্বে পৃথিবীর অন্য পাশে—যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন শাবানা।
শাবানা এখন জীবনযাপন করছেন পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুসারে। নিজের চলচ্চিত্র দেখে বিব্রত বোধ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এখন এই বয়সে এসে নিজের এই চরিত্রগুলো দেখলে বিব্রত হতে হয়। এ ছাড়া আমি নিজেও আমার লাইফস্টাইল বদলে নিয়েছি। জানি দর্শকদের ভালোবাসাতেই আজ আমি শাবানা হয়েছি। কিন্তু সবকিছু তো একটা সময়ের সৌন্দর্যের ওপরেও নির্ভর করে।’৩ টেলিভিশন মালিকদের তার চলচ্চিত্র যতোদূর সম্ভব সম্প্রচার না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন শাবানা। বিশেষ করে রমজানে তার চলচ্চিত্র যেনো সম্প্রচার না করা হয়। একসময়ের ঢালিউডের হার্টথ্রব এ নায়িকা এখন রুপালি জগৎ থেকে অনেক ক্রোশ দূরে। আবারো সেই একই প্রশ্ন, কেনো?
এই উপমহাদেশে যিনি এই ‘কেনো’ প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত, যার জন্য এই ‘কেনো’ প্রশ্নটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বাংলা চলচ্চিত্রের সেই দিকপাল,মহানায়িকা সুচিত্রা সেন আমাদের ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অজানা অসীমে। ১৯৭৮ থেকে ২০১৪, এ সময়ের মধ্যে গুটিকয়েক ‘সৌভাগ্যবান’ ছাড়া কেউ দেখেনি তাকে, তার কথা কেউ শোনেনি; কোনো ক্যামেরা, কোনো লেখকের কলম তার ত্বকের, মুখের কথা রূপান্তর করতে পারেনি। কিন্তু কেনো?
খুব সচেতনভাবেই এসব মানুষেরা তাদের অন্তরালে থাকার গোপনীয়তা অন্তরালেই রেখেছেন। আমরা কেবল পারি আমাদের অনুভূতি, আমাদের বোঝাপড়া দিয়ে তা ব্যাখ্যা করতে, জানার চেষ্টা করতে। কেনো এমন হয়,কেনো জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের মতো এ মানুষগুলো মেঘে ঢেকে যান, আর কেনোই বা তারা সে মেঘ থেকে বের হন না? আসলেই কি মেঘ তাদের ঢেকে দেয়, নাকি তারাই ইচ্ছা করে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যান? পাঠক, একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করে দেখি না কেনো মেরিলিন মনরো’রা আত্মহত্যা করেন, গ্রেটা গার্বো-শাবানা-সুচিত্রা বেঁচে থেকেও ‘মরে’ যান আমাদের চোখে। আর কেনোই বা এ মৃত্যু/অন্তরালই আবার তাদের চিরজীবী করে আমাদের অন্তরে?
২.
দূর আকাশের অসংখ্য নক্ষত্র পানে চেয়ে থাকি অপলক নেত্রে। কখনো ছুঁতে চাই, পেতে চাই আপন করে। স্বপ্নের জগতে আঁকি তাদের নিয়ে কতো না রঙিন ছবি। মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে কিছু জ্বলে ওঠে, ঝিলিক দেয়, আমাদের আকাশ হয়ে ওঠে জ্যোতির্ময়। কিন্তু একসময় আবার হারিয়েও যায়; কিছু হারায় দিনের আলোয় আর কিছু চিরতরে কালো গহ্বরে। আমরা একেকজন তাকে পেতে চাই একেক রূপে, রঙে, ভাবনায়। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি সেই মানুষগুলো কী চান; অসংখ্য চাওয়ার ভিড়ে তাদের চাওয়াটার কি কোনো মূল্য আদতেও থাকে? যে মানুষটি জন্ম নেন আর ১০ জনের মতোই, বেড়ে ওঠেন একই সমাজে, সময়ের বিবর্তনে গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তা, সেই সত্তা কি তারকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমূল বদলে যায়, নাকি সেখানে চলতে থাকে সত্তার দ্বন্দ্ব? আর এই সত্তার দ্বন্দ্বই কি একসময় তাদের ঠেলে দেয় কৃঞ্চগহ্বরে?
এ দ্বন্দ্বই বা কেমন? বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের একটি কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায়—‘চলচ্চিত্র জগৎ ব্যক্তি-মানুষের মধ্যে একধরনের বিভাজন সৃষ্টি করে। তাই আমি বাস্তব বা যাপিত ও চলচ্চিত্রের জগৎ আলাদা করতে পারি না।’ সাধারণ একজন মানুষ যখন স্টার হয়ে ওঠেন, সবাই যখন তাকে তার সেই রূপগুলোতে দেখতে চায়, ভালোবাসতে চায়—যে রূপগুলো চলচ্চিত্র তৈরি করে দিচ্ছে; তিনি তখন ধীরে ধীরে নিজেকে তাই ভাবতে থাকেন—আদতে যা তিনি নন। ডার্ক নাইট সিরিজের অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা হিথ লেজার, অভিনয় করতে করতে তার মানসিকতা এমন হয়ে গিয়েছিলো যে, ক্যামেরা ফ্রেমের বাইরেও তিনি যেখানেই যেতেন সেখানেও তার চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়েই যেতেন। চলচ্চিত্র জীবনকে তিনি মিশিয়ে ফেলেছিলেন বাস্তব জীবনের সঙ্গে।
আধুনিক গণমাধ্যমের যুগে একমাত্র চলচ্চিত্রই বাস্তবতা বা সত্যের নিজস্ব ভাষ্য নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের ইচ্ছা পূরণের বিভ্রম খুব সফলভাবে সৃষ্টি করতে সক্ষম। আর সেই বিভ্রম মিশ্রিত ইচ্ছা, স্বপ্ন আমাদের সামনে যাদের উছিলায় হাজির হয়, যারা আমাদের মনের গহীনের সেই আদিম অপূরণীয় ইচ্ছেগুলো চোখের সামনে আনেন, তারাই আমাদের চোখে স্টার হিসেবে বিবেচিত হন। আমরা তাদের ভালোবাসি, অনুকরণ-অনুসরণ করি, যা তাদের মধ্যে একধরনের সত্তার জন্ম দেয়। নতুন জন্ম নেওয়া এ সত্তা ব্যক্তিসত্তার পাশাপাশি বেড়ে উঠলেও ব্যক্তিসত্তা ধীরে ধীরে ঢাকা পড়ে স্টার সত্তার আড়ালে। আর তখনই তৈরি হয় দুই সত্তার দ্বন্দ্ব। আর এ দুই সত্তার দ্বন্দ্বে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি-মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে ব্যক্তি জীবন আর স্টার জীবনের দুই কূল রক্ষা করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। তখনই হয়তো বিপর্যয় ঘটে। হয়তো কোনো একটি সত্তার মধ্যে অন্য সত্তাটি বিলীন হয়ে যায়। আর এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরাজয় ব্যক্তিসত্তারই।
হিথ লেজার, অভিনয়ের ওপর যার এতো ভালোবাসা, সেই তিনিই মাত্র ২৮ বছর বয়সে চলে গেলেন; তবে সেই চলে যাওয়া স্বাভাবিক ছিলো না। I’m Not There (২০০৭), The Dark Knight (২০০৮) চলচ্চিত্র দুটি তাকে তারকা খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেলেও শারীরিক-মানসিক প্রশান্তির শীর্ষে নিতে পারেনি! বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় দিন দিন ভেঙে যাচ্ছিলো তার শরীর, ঘুম হচ্ছিলো না, ব্যক্তি-লেজার যেনো হারিয়ে যাচ্ছিলেন। রুপালি চরিত্রগুলো থেকে বেরিয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না। তার ভাষায়, ‘গত সপ্তাহের রাতগুলোতে সম্ভবত গড়ে মাত্র দু’ঘণ্টা করে ঘুমিয়েছি। আমি আমার ভাবনাগুলোর লাগাম ধরতে পারছিলাম না। আমার শরীর ছিলো ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত, কিন্তু আমার মন তখনও ছুটে চলছিলো দুর্বার গতিতে।’৪ মনের এই দুর্বার ছুটে চলার সঙ্গে গতি ধরে রাখতে পারছিলো না তার শরীর। ফলে তারকা সত্তার এই গতি-চাহিদা মিটাতে গিয়ে ধীরে ধীরে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছিলো লেজারের ব্যক্তিসত্তা। হয়তো তিনি একটু স্বস্তি চেয়েছিলেন এই সত্তার টানাপড়েন থেকে। এ দ্বন্দ্ব থেকে হয়তো চেয়েছিলেন সাময়িক বিরতি, চেয়েছিলেন প্রশান্তিতে একটু ঘুমাতে; তাই নিয়েছিলেন অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ। আর তাতেই ২২ জানুয়ারি ২০০৮-এ সত্তার দ্বন্দ্বে ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন লেজার। জয় হলো, তবে স্টার সত্তারই! হয়তো স্টার লেজার বেঁচে থাকবেন সেভাবেই।
কে বলতে পারে, মনরো হয়তো এমন সত্তার দ্বন্দ্বে এক ফোঁটা স্বস্তি খুঁজে পেতেই পাড়ি জমিয়েছেন ওপারে। আর গার্বো বা সুচিত্রাও হয়তো সরে দাঁড়িয়েছেন ব্যক্তিসত্তাকে বাঁচাবার তাগিদেই। লেজারের মতোই মনরো, গার্বো, সুচিত্রা, শাবানারা নির্ঘুম রাতের যন্ত্রণা আর মানসিক চাপে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে কুঁকড়ে থাকেননি তার নিশ্চয়তাই বা কে দিতে পারে। হয়তো এজন্যই তারা শান্তির খোঁজে চলে গেছেন অন্তরালে! প্রকারান্তরে এটিও তো মৃত্যুই।
তবে তো গ্রেটা’র মৃত্যু হয়েছে ১৯৪১ সালে আর সুচিত্রা নেই ১৯৭৮ থেকেই। সত্তার দ্বন্দ্বে চাওয়া, না-চাওয়ার ঘেরাটোপে শাবানাও এখন সেই পথযাত্রী। এ হয়তো সত্তার দ্বন্দ্বে স্টার সত্তারই জয়। তবে একই সঙ্গে সেটি ব্যক্তিসত্তারও জয়ধ্বনি, কেননা ব্যক্তিসত্তা দীর্ঘকাল ধরে নিজের অন্য সত্তাটিকে বাঁচিয়ে রাখছে।
৩.
তারকা সৃষ্টি ও সত্তার দ্বন্দ্বে যে অনুষঙ্গটি চালকের ভূমিকা পালন করে সেটি পুঁজি। রঙিন দুনিয়ার দুর্নিবার আকর্ষণ, যশ, খ্যাতি আর স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন দেখিয়ে পুঁজি তার তারকা-কারখানায় বিনিয়োগ করে সৃষ্টিশীল মানুষদের। দিনমজুর থেকে টাকাওয়ালা আর খেলার মাঠ থেকে অন্দরমহল কিছুই বাদ পড়ে না তা থেকে। তারকার প্রথম ছবকেই বলা হয়, ‘তুমি সাধারণের জন্য কিন্তু সাধারণ থেকে আলাদা।’ পুঁজি বিস্তারের এই হাতিয়ারদের মাধ্যমেই শুরু হয় বিচ্ছিন্নতার অভিযান। ভোগের রাজ্যে বিচ্ছিন্ন সব মানব-দ্বীপ তৈরি এবং প্রতিনিয়ত পণ্য নামক বস্তুর ভোক্তা সৃষ্টিতে এ তারকারা ব্যবহার হন পারমাণবিক বোমার মতোই। যাতে আক্রান্ত দ্বীপগুলো শুধু নয়, স্বয়ং বোমারূপী তারকারাও হয়ে যান ডানা থেকে খসে পড়া সাদা পালকের মতো। প্রকৃতি, ভালোবাসা, কাছের মানুষ অধিকন্তু সাধারণ মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও বন্দি হয়ে যায় রঙিন বাক্সে। সৃজনশীল এই মানুষগুলোকে পুঁজি করে যে ব্যবসা,তাতে ঘুরেফিরে লাভ পুঁজির ঘরেই।
তারকার ব্যক্তিজীবন হয়ে পড়ে পণ্য, ব্যবহার হয় পণ্যেরই প্রসারে। ব্যক্তিজীবনের আড়াল আর থাকে না। যে আড়াল প্রয়োজন একজন ব্যক্তি-মানুষের বেঁচে থাকার জন্য। প্রতিনিয়ত তারকাকে তাড়া করে ফিরে হাজারো চোখ, ক্যামেরা। ফলে স্বাভাবিক, প্রকৃত যে জীবনের কথা বলা হয়, তা থেকে যোজন দূরে সরে যান তারকা। তার শরীর, মন-মানসিকতা, মতাদর্শ—এমন কোনো বিষয় নেই, যা বিক্রি করতে দ্বিধা করে আজকের বাজার।
ফলে যিনি তারকা, তার ব্যক্তিজীবন হয়ে পড়ে সার্বিক। যেখানে প্রবেশাধিকার পায় সবাই। তবে সব তারকা এ জীবন মেনে চলতে পারেন না। মেকআপ পরে যে জীবনে তিনি চলেন, মেকআপহীন জীবনের সঙ্গে বাধে তার শক্ত দ্বন্দ্ব। কাছের মানুষ,পরিবার,বন্ধু-বান্ধবের সংজ্ঞায়ন বদলে যায়। বিচ্ছিন্নতার ঘেরাটোপে ডুবে যান একান্ত ব্যক্তিগত এক বলয়ে। এ বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে শ্রমিকের বিচ্ছিন্নতার তেমন কোনো ফারাক দেখা যায় না। কাজ করে মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না শ্রমিকের,আর তারকার কাঙ্ক্ষিত সবকিছু হাতের নাগালে থাকলেও পারেন না ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে।
স্টারইজম তার সমাজ, পরিবার, ভালোবাসা, সময় সবকিছু কেড়ে নেয়। সাধারণের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়ে পড়ে যান্ত্রিক, ইচ্ছে করলেই খোলা আকাশের নিচে সাধারণের ভিড়ে তিনি হাঁটতে পারেন না; লুকিয়ে রাখতে হয় নিজেকে। শরীর-মন থেকে বিচ্ছিন্ন এক সত্তা গড়ে ওঠে। ফলে বিচ্ছিন্নতার একপর্যায়ে শ্রমিক যেমন তার নিজের কারখানাতে আগুন দিতে দ্বিধা করে না, তেমনি তারকা ও যাপিত জীবনের দ্বন্দ্বে কূলকিনারা না পেয়ে হয়তো গ্রেটা, সুচিত্রারা বিদায় জানান রুপালি জগতকে।
আবার অনেকেই চলে যান চিরতরে। এটাকে আত্মহত্যা না বলে হত্যা বললেও খুব একটা আপত্তি থাকার কথা নয়। কেননা তারকা সত্তাই তো তার ব্যক্তিসত্তাকে হত্যা করে। তবে পুঁজিই কি হত্যা করছে মনরো, লেজারদের?
৪.
মানবমনের গঠন প্রকৃতি বড়ো অদ্ভুত। কোন্ পরিস্থিতিতে মানুষ কী করবে, কী সিদ্ধান্ত নিবে তা তার ব্যক্তিত্বের গতিশীলতার ওপর নির্ভর করে। ফ্রয়েড যেমনটি বলেন, মানবমনের এ গতিশীলতা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত প্রবৃত্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হয়। মানবমনে প্রতিনিয়তই জীবন ও মৃত্যুর প্রবৃত্তিগুলো যুদ্ধ করতে থাকে। অধিকাংশ সময় গঠনমূলক বা জীবন প্রবৃত্তি জয় লাভ করে। ধ্বংসাত্মক বা মরণ প্রবৃত্তিকে সে লুকিয়ে রাখে অবচেতনে।
কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, জীবন বাঁকের অনেক সূক্ষ্ম ও জটিল ক্রাইসিসে এই ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি বেরিয়ে আসতে পারে। সামাজিকতা, আত্মীয়তার বন্ধন, ভালোবাসা,জীবনীশক্তি তখন আর মানুষকে ধরে রাখতে পারে না। সে তখন উপনীত হতে পারে ধ্বংসাত্মক যেকোনো সিদ্ধান্তে। অনেক সময় এটি মানুষকে আত্মহনন ও সেল্ফ ডমিনেশনেও প্রবৃত্ত করে। কিন্তু জীবন প্রবৃত্তির আধিপত্যের কারণে আত্মহত্যা করতে না পারলে, মরণ প্রবৃত্তি রূপান্তর হয় অভিমান-রাগ-ক্ষোভ-ঈর্ষা-ঘৃণায়।
এ অনুভূতিগুলো সবসময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে এমন নয়; পারিপার্শ্বিকতা ও বিদ্যমান সমাজ, জীবন ব্যবস্থার ওপর এই রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, অভিমান থেকে ব্যক্তি একসময় সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারে। চলে যেতে পারে সব বন্ধন ছিঁড়ে একাকী অন্তরালে। অনেক সময় এ রাগ, অভিমান, ঘৃণা হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী—এমনকি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
৫.
মানুষের বাঁচা আর জীবন বোধের বেশিরভাগই ‘অন্য’ কেন্দ্রিক। মানুষের ব্যক্তিত্ব,আচার-আচরণ,মূল্যবোধ, চেতনা সবকিছুই গড়ে ওঠে অন্যকে কেন্দ্র করে। অন্যে কী চায়, সেরূপে মানুষ নিজেকে গড়তে থাকে প্রতিনিয়ত। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন,স্বামী-স্ত্রী আর চারপাশের সবার পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে একজন মানুষ নিজেকে প্রতিনিয়ত নির্মাণ-বিনির্মাণ করতে থাকে। একজন তারকার জীবনে এসব চাওয়ার বাইরে আরো যোগ হয় ভক্ত,গণমাধ্যম এবং পুঁজির হাজারো চাওয়া। এতে ক্রমে বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে তারকার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়াগুলো। তাই অন্যের চাওয়ার ভয়ঙ্কর এ ফাঁদ থেকে পালিয়ে একসময় ব্যক্তি-তারকা চাইতেই পারেন নিজের মতো করে বাঁচতে;সামাজিকতা,সম্পর্ক আর অন্যের চাওয়ার টানাটানি থেকে পালাতে,লৌকিকতা আর সামাজিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করতে।
সামাজিক মূল্যবোধ আর সামাজিক জীব হিসেবে বেড়ে ওঠার কারণে গ্রেটা গার্বো, সুচিত্রা সেন, শাবানাদের হঠাৎ তারকা খ্যাতির মোহ ছেড়ে নির্জন, কোলাহলমুক্ত জীবন কাটাতে দেখে অবাক হই।ভাবি, এ আবার কেমন সিদ্ধান্ত! বলি, তারা চলে গেছেন অন্তরালে। আদতে কি তা অন্তরাল, নাকি মুক্তি!লক্ষ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব,হাজারো ক্যামেরা-সাংবাদিকের প্রশ্ন;ব্যক্তিত্বের দেয়ালহীন হাট-বাজারের কোলাহল;সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় প্রতিনিয়ত নিজেকে বিকানো;তারকা জীবনের ক্রমবর্ধমান শারীরিক-মানসিক চাপ আর খ্যাতির বিড়ম্বনা থেকে বেরিয়ে কেউ যদি জীবন ভিন্নভাবে সাজাতে চান,তবে কি তা অস্বাভাবিক? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তবে মানুষের জীবনের অ্যাটিটিউড বা প্রকৃতি কখন কার কেমন হবে তা নির্ভর করে একান্ত তার মানসিকতার ওপর। যেখানে ‘অন্য’ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু বদলাতে পারে না। ঐতিহ্য আর মতাদর্শের ভিতর থেকে তাই আমাদের মনে হয়, ওরা অস্বাভাবিক, পাগল কিংবা অসুস্থ।
তবে সৃষ্টিশীল মানুষ যারা,তাদের মনে কখনো কখনো একধরনের নৈরাজ্য-নৈরাশ্য ভর করে। কোথাও সূক্ষ্ম একটা ক্রাইসিস ঘটে,যা আমরা ধরতে পারি না। তখন তিনি নিরাপদ আশ্রয় চান,যা তাকে মানসিক শান্তি-স্বস্তি দিবে;পূরণ করবে তার চাওয়া-পাওয়া,ভাগ করে নিবে মনের একান্ত গোপন কথা; তাকে বাঁচাবে রাগ-ক্ষোভ-সমাজের অস্থিরতা-দুর্নাম থেকে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে চলে যান ধর্মের আশ্রয়ে। পরম সত্তার কাছে সবকিছু সঁপে দিয়ে চাইতে পারেন নিজের মুক্তি। হয়তো সেজন্যই সুচিত্রা গিয়েছিলেন রামকৃঞ্চ মঠ ও আশ্রমে, নিয়েছিলেন ভরত মহারাজের শিষ্যত্ব। শাবানাও জীবনযাপন করছেন ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুসারে।
তবে অনেকে ধর্মের বাইরে গিয়েও খুঁজে নিতে পারেন সেই নিরাপদ আশ্রয়। তবে সেখানেও তিনি নিজেই নিজের। একটা সময়ে এসে মানুষ উদ্ঘাটন করতে পারে জীবনের সত্য, পারে নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে নিতে। তবে কি সেটা অস্বাভাবিক? আদতেও কি আমরা পারি স্বাভাবিকতা আর অস্বাভাবিকতার সীমানা আঁকতে?
৬.
যে নোবেল লেখক-সাহিত্যিকদের স্বপ্নের বিষয়, সেই নোবেল প্রত্যাখ্যান করে চিঠি লিখেছিলেন জ্যঁ পল সার্ত্রে। সমর সেন ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে হঠাৎ-ই কবিতা লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা বিপ্লবী অরবিন্দ, পাঁচ-ছয়টি ভাষা জানতেন, সব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পন্ডিচেরির আশ্রমে। নিজেকে একা অন্তরালে নিয়ে যাওয়ার এ রকম উদাহরণ ভুরি ভুরি। মানুষ তার জীবনে যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।
অন্যদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, তাকে কলকাতা শহর ধরে রাখতে পারেনি;তিনি জীবন কাটিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। অঙ্কের লোক কবি বিনয় মজুমদার খ্যাতির স্বর্গ শহর ছেড়ে তিনিও বাস করতেন অনেক দূরে। পাকশির অমিয় ঘোষ তার জীবনটাই কাটিয়ে দিলেন কোচবিহারে। তিনি কখনোই তার লেখা ছাপাতে কলকাতায় যাননি। তারকা সত্তার হাতছানি এড়িয়ে বিদ্যাসাগর, বিনয় মজুমদারদের মতো তিনিও থেকেছেন কোলাহলমুক্ত, স্বাধীন।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, তার বাবা তাকে সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী করতে এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি; বোঝাতেন, আদর করতেন, এমনকি শাসনও করতেন কঠোর হাতে। এতে আলাউদ্দিন সঙ্গীতের কলা-কৌশল রপ্ত করলেও তার আগ্রহের বিন্দুমাত্র উন্নতি হচ্ছিলো না। কিন্তু বিয়ের রাতে নতুন বউ ছেড়ে হঠাৎ পালিয়ে গেলেন আলাউদ্দিন, উপলব্ধি করলেন সঙ্গীতই তার জীবন। তো এভাবেই মানুষ তার সিদ্ধান্ত, তার জীবনের প্রকৃতি বদলে ফেলতে পারে; জীবনের সত্য খুঁজে পেয়ে চলে যেতে পারে তার সন্ধানে—সুচিত্রাও হয়তো এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন। হয়তো চেয়েছিলেন জীবনের প্রকৃতি বদলাতে, তাই গার্বোর মতো চলে গিয়েছিলেন ‘অন্তরালে’!
লেখক : মাজিদ মিঠু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
mazid.mithu@gmail.com
তথ্যসূত্র
1. http://www.kabidilwar.com/author/nabil/
2. http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDdfMDFfMTNfNF8zN18xXzUyNDQ4
3.http://www.hello-today.com/19714#.U0JpV6DhXIU
4.Last week I probably slept an average of two hours a night. ... I couldn't stop thinking. My body was exhausted, and my mind was still going.
http://en.wikipedia.org/wiki/Heath_Ledger#cite_note-autogenerated2-74
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন