Magic Lanthon

               

সেলিম আহ্‌মেদ ও রাজীব আহ্‌সান

প্রকাশিত ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

‘আমি সিনেমা বানাতে জানি, আমি সিনেমায় খাই, ঘুমাই, স্বপ্ন দেখি-আর কিছু জানি না’

সেলিম আহ্‌মেদ ও রাজীব আহ্‌সান


চাষী নজরুল ইসলাম। ৭১-এ বন্দুক হাতে যুদ্ধ করেছিলেন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। যুদ্ধ শেষে নতুন আরেক যুদ্ধে নামেন সিনে-ক্যামেরা নিয়ে। অবশ্য শুরুটা করেছিলেন আরও একটু আগেই। ১৯৫৫ সালে টাটানগরে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে তার প্রবেশ। ১৯৬১ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন ফতেহ লোহানীর সঙ্গে। ১৯৭২ সালে নির্মাণ করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন। প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দীর্ঘসময় ধরে।

১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া এই গুণী লোকটি একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন এবং করছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-সংগ্রাম (১৯৭৪), ভালো মানুষ (১৯৭৫), বাজীমাত (১৯৭৮), দেবদাস (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৫), শুভদা (১৯৮৬), রঙিন বেহুলা লখিন্দর (১৯৮৭), বিরহ ব্যাথা (১৯৮৮), মহাযুদ্ধ (১৯৮৮), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), আজকের প্রতিবাদ (১৯৯৫), শিল্পী (১৯৯৫), হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৯৫),  মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), শাস্তি (২০০৫), শুভা (২০০৫), ধ্রুবতারা (২০০৬), দেবদাস (২০১১)। চাষী নজরুল ইসলাম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮৬ ও ১৯৯৭ সালে। ২০০৪ সালে ভূষিত হন একুশে পদক-এ। প্রবীণ এই চলচ্চিত্রনির্মাতার সঙ্গে ম্যাজিক লণ্ঠন-এর হয়ে কথা বলেছেন সেলিম আহ্‌মেদরাজীব আহ্‌সান।

 

গল্প নাই। বেশিরভাগ পরিচালকের মেধা প্রশ্নবিদ্ধ। এফডিসির যন্ত্রপাতি নাই। চলচ্চিত্র শিল্প সঙ্কটে। সিনেমা বন্ধ হলে হবে, এদের শাস্তি হওয়া দরকার। আজকে চলচ্চিত্রকে যারা নষ্ট করেছে, মেরে ফেলেছে-তাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার। পাকিস্তানের অবস্থা দেখো, একটা ছবি রিলিজ হয় না, ইন্টারনেটে খবর নিলে দেখবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস। আর এই চলচ্চিত্র শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে প্রদর্শকরা কিন্তু বড়ো নষ্টের গোড়া, মনে রেখো।

ম্যাজিক লণ্ঠন : চাষী ভাই, ৫৭ বছর পরে এসে আপনার মতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে?

চাষী নজরুল ইসলাম : আরে এখন কতো সহজ হয়ে গেছে সিনেমা বানানো। আগে আমরা কখনও ভাবতেই পারতাম না, রাস্তাঘাটে ছবির কাজ করবো। রাস্তায় মানুষজন, শ্যুটিং করলে আবার কারেকশন করবার কোনো উপায় নাই; সুতরাং স্টুডিওই ছিলো একমাত্র ভরসা। নাসির ভাই, ফতেহ লোহানী তাদের মতো বড়ো বড়ো মানুষকে বলতে শুনেছি, এতো ভিড় ইচ্ছা থাকলেও তো গুলিস্তানে ছবির শ্যুটিং করা যাবে না। আজ হাসি পায়, তখন কয়টা মানুষ যেতো গুলিস্তানে, তখন রাতে কিছু ছবির শ্যুটিং হয়েছে।

ভারতে ও পশ্চিম পাকিস্তানে তখন করুণ অবস্থা হ্যান্ডমেড ব্যাকপ্রজেকশন-এর বেশি অন্যকোনো ধারণা ছিলো না। তখন ১৯৫৭ সালে আমাদের জন্য ব্যাকপ্রজেকশনের সব আধুনিক জিনিসপত্র আনা হলো, জানি না কেনো ওই জিনিস আজও খোলা হয় নাই। ওইসব দিয়ে কাউকে কাজ করতেও দেখি নাই। টেকনিক্যাল বিষয় দেখলেও তো জ্ঞান বাড়ে তাই না? এখন যতো মানুষ, রাস্তা কী দেখা যায়? এখনই দরকার ব্যাকপ্রজেকশন। তাই দেখছো না এমন গল্প লিখতে হয় যে, রাস্তাঘাট দেখানোর দরকার নাই। ভাড়ায় কয়টা বাড়ি আছে সবাই ওখানেই যাচ্ছে, একই সোফা একই জানালা আর কতো দেখবে মানুষ? একশ ছবিতে একই সেট, দর্শকের আগ্রহ থাকবে?

গল্প নাই। বেশিরভাগ পরিচালকের মেধা প্রশ্নবিদ্ধ। এফডিসির যন্ত্রপাতি নাই। চলচ্চিত্র শিল্প সঙ্কটে। সিনেমা বন্ধ হলে হবে, এদের শাস্তি হওয়া দরকার। আজকে চলচ্চিত্রকে যারা নষ্ট করেছে, মেরে ফেলেছে-তাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার। পাকিস্তানের অবস্থা দেখো, একটা ছবি রিলিজ হয় না, ইন্টারনেটে খবর নিলে দেখবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস। আর এই চলচ্চিত্র শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে প্রদর্শকরা কিন্তু বড়ো নষ্টের গোড়া, মনে রেখো।

ম্যাজিক লণ্ঠন : আপনার কী মনে হয় চাষী ভাই, এফডিসি বর্তমানের এ সঙ্কটে আরও সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারে কি না?

চাষী : এফডিসির ফ্লোরের ভাড়া এখনও অনেক বেশি। এই তো কয়েক দিন আগে এফডিসির এমডিকে বললাম, দেখুন নাগরিকরা এই এফডিসিতে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে কি না? আমাদের টাকায় কেনা জিনিস-ই আমরা ঠিক মতো পাচ্ছি কিনা, সেবা পেলাম কিনা-সেই দিকে একটু মনোযোগ দেন। কারণ এফডিসি শুধুমাত্র সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। আমি ছবির মানুষ, এফডিসি ছবির জায়গা-এগুলো থাকবে; কিন্তু আপনি কয়েকদিনের জন্য এসেছেন কয়েকদিন পর চলে যাবেন। সব এমডি তো আর ইতিহাস হয় না, সফল এমডি খুব কম।

এফডিসির এমডি ইউসুফ হোসেন সকাল আটটায় এসে প্রত্যেক ফ্লোরের বাথরুম দেখতেন, খাবার সব জায়গা পরিষ্কার আছে কি না দেখতেন। সাড়ে নয়টার মধ্যে যারা আসতো না তাদের লালকালি, মানে অনুপস্থিত করে দিতেন; তারপর অন্য বিষয়ে আলোচনা। আমাদের ডেকে মিটিং করতেন, সিনেমা চলছে না কেনো? বলতেন চাষী ভাই আপনি তো পরিচালক সমিতির সভাপতি, আপনি বলেন কী করবো? তখন বছরে ১১০টি সিনেমা রিলিজ হতো। আমাদের বলতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জরিপ করুক, সারা দেশে কেনো ছবি চলছে না। দর্শক কী দেখতে চায় আমাদের জানতে হবে, তারপর আপনারা সেইসব ছবি বানাবেন। এইসব জরিপ এফডিসির অর্থায়নে হবে। উনি ছিলেন যথার্থ এমডি, আর এখন সব এমডি বলে আমরা করছি, সরকারকে বলেছি, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অনুদানের কথা বলেছেন-আসলে কিচ্ছু হচ্ছে না।

ম্যাজিক লণ্ঠন : অনুদানের সিনেমা সর্ম্পকে কিছু বলেন। এ নিয়ে এখন কী হচ্ছে?

চাষী : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবসরগ্রহণের পর সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, আপনি অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকা নষ্ট করবেন কেনো ছবি বানিয়ে। উনি বলেছিলেন, আপনারা তো বানাচ্ছেন। আমি বলেছিলাম, আমরা তো জুয়া খেলছি, এ খেলা আপনাকে খেলতে দিবো না। প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন, পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি ঢাকাতে হয়েছে আর আপনারা এখনও সাদা-কালোতে আছেন, রঙিন বানাতে হবে টিভি সিনেমা সব; তিনি করলেনও তাই। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তো ওনারই প্রবর্তন। আমাদের সিনেমাকে আরও শক্তিশালী করবার জন্য অনুদান শুরু করলেন, ভালো পরিচালকরা সুযোগ পাবে। পৃথিবীর অনেক দেশে আছে, এটা নতুন কোনো কিছু না। দুই লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলো সরকার। এখন অনুদান নিয়ে আমলা আর বুদ্ধিজীবীরা মিলে কী করছে তা তো দেখতেই পাচ্ছো। ভালো পরিচালক কি হচ্ছে?

আমরা বিষয়ের ভিতরে যাই না, আবার জানি না। নাজির আহমেদ আর ফতেহ লোহানীকে কে মনে রেখেছে? বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টে যে-বিল এনেছিলো এফডিসির জন্য তার পিছনের মানুষ তো আছে, তাই না? সিনেমায় কেনো রাজনীতি থাকবে বলো তো?

নতুন পরিচালক তৈরি এত্তো সহজ, এই অনুদান দিয়ে! এইসব পরিচালক তৈরি করেছে আমাদের কিছু সিনেমাটোগ্রাফার; সিনেমা শুধু না, নাটকেও এই একই ঘটনা। একটা দৃশ্য লেখা আছে স্ক্রিপ্টে এর কোথায় ক্যামেরা বসবে, অভিনেতারা কোথায়, লেন্স কোন্‌টা এইসব সিনেমাটোগ্রাফার ঠিক করে। শুধু তাই না, কোথায় কাট্‌ বলতে হবে তাও পরিচালককে শিখিয়ে দেয়। বড়ো বড়ো নাটক বানিয়ে বলছে সিনেমা, এরা তো জানে না নাটক আর সিনেমার ভাষা এক নয়।

খুব দুঃখজনক, কারা এইসব পরিচালক। শুনছি অনুদান নাকি আর থাকবে না, এইবার শেষ অনুদান। অনুদানের কোনো দোষ আছে? দোষ সিদ্ধান্তের। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুদানের টাকা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছবি বানাচ্ছে। আর আমাদের তো সব দলীয়করণ, ন্যাক্কারজনক। এরা হবে পরিচালক?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললে বলতে হবে আজও কিছুই হয় নাই, অনেক ভালো সিনেমা নিশ্চয় হবে। একটা জীর্ণ বাড়ি সংস্কার করলে যেমন অনেক কিছু ঢেকে যায় আমাদের তেমন হয়েছে; সব ক্ষত ঢেকে মুক্তিযুদ্ধ একটা নতুন বাড়ি। টাকা টাকা করে আমরা সবাই জীবন শেষ করছি। পুরো জাতি টাকার স্বপ্নে বিভোর; সবাই যেভাবে ‘আমি আমি’ করতে ব্যস্ত সেইটা খারাপ, ‘আমরা’ বলতে শিখলে কিছু হবে।

ম্যাজিক লণ্ঠন : মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা নিয়ে কিছু বলেন। আমরা আপনার ওরা ১১ জন-এর কথা বলছি না। অন্যকিছু শুনতে চাই।

চাষী : খুব কম মানুষের জীবনে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়, এ যুদ্ধতো বারবার করতে হয় না। আমরা ছিলাম সৌভাগ্যবান, স্বাধীনতা দেখেছি।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললে বলতে হবে আজও কিছুই হয় নাই, অনেক ভালো সিনেমা নিশ্চয় হবে। একটা জীর্ণ বাড়ি সংস্কার করলে যেমন অনেক কিছু ঢেকে যায় আমাদের তেমন হয়েছে; সব ক্ষত ঢেকে মুক্তিযুদ্ধ একটা নতুন বাড়ি। টাকা টাকা করে আমরা সবাই জীবন শেষ করছি। পুরো জাতি টাকার স্বপ্নে বিভোর; সবাই যেভাবে ‘আমি আমি’ করতে ব্যস্ত সেইটা খারাপ, ‘আমরা’ বলতে শিখলে কিছু হবে।

এক কথায় বলতে পারি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কোনো ছবি হচ্ছে না। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ আর চেতনার কথা আমরা বলতে পারি নাই, এটা আমাদের দোষ। এখন তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি শুনলেই বিরক্ত হয়। ওরা ১১ জন ছবিতে তুমি স্বাধীনতার শুরু আর শেষটা দেখতে পাবে। একটা ডকুমেন্ট তো? বোম্বে ফিল্ম ফেস্টিভালে রাজকাপুর এই ছবি দেখে অবাক, আমাকে বললো এটা কী বানিয়েছো? ঋত্বিকদা আমার এই ছবি দেখে বললো, ‘তুই তো ঝামেলা করলি, স্বাধীনতার ছবি বানাইলে এখন তো জটিল হবে। চাষী তুই ডিফিকাল্ট করে রাখলি।’ আমি স্বাধীনতাযুদ্ধের বা সংগ্রামের এতো সিনেমা নির্মাণ করি কেনো জানো? আমি মনে করি এটা আমার দায়িত্ব, আর কিছুই না।

ম্যাজিক লণ্ঠন : এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। বলুনতো আবার কেনো দেবদাস বানাচ্ছেন?

চাষী : একটা কথা বলি, রাখ-ঢাকের কিছু নাই; এখানে কোনো ইন্টেলেকট্যুয়েলিটি নাই, গল্প নাই। এটা এমন গল্প এইবার নিয়ে উপমহাদেশে ১২ বার সিনেমা হলো। আরও ১২ বার হবে, দেখো। বিরহে যে এতো প্রেম থাকে, বিচ্ছেদে প্রেম এতো গাঢ় হতে পারে তা একমাত্র দেবদাস দেখলে অনুভব করা যায়।

এখন গল্প হচ্ছে না-তো। শুধু গল্পতো আর সিনেমা না। ১৯৮২ সালের দেবদাস ছিলো অন্যরকম; তখন শিল্পীদের যে-চরিত্রের প্রতি মমত্ব, বিষয় বা গল্পের ভিতর ঢুকে যাবার চেষ্টা তা মনে রাখবার মতো। এখন শিল্পীরা এসেছে অভিনয় করতে, তারপর যদি এই সিনেমা দেখে দর্শক মুগ্ধ হয়-তবে তার বেশিরভাগ সাফল্যের দাবিদার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এখন সব তারকা, অভিনেতা কোথায়? একজন বিদেশ থেকে ফোন করে বলেছে, আপনি আপনার দেবদাসকে অতিক্রম করতে পারবেন না। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, আগে দেখেন তারপর আলাপ হবে।

ম্যাজিক লণ্ঠন : ভারতীয় সিনেমার আমদানি নিয়ে কিছু বলুন।

চাষী : এটা নতুন না, বঙ্গবন্ধু এসব জানতেন, আমরা ভারতীয় সিনেমা আমদানি নিষিদ্ধ করার আন্দোলন যখন করেছিলাম উনি লিখে দিয়েছিলেন ভারতীয় না বলে উপমহাদেশের কথা বলো। বঙ্গবন্ধু আমার সংগ্রাম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, না? উনি তখন প্রধানমন্ত্রী, শাহ্‌বাগ দিয়ে যাচ্ছেন। আমার ছবির শ্যুটিং হচ্ছে শাহ্‌বাগে। প্রধানমন্ত্রী থেমে গেলেন, জিজ্ঞেস করলেন, কী হচ্ছে? আমি এগিয়ে বললাম, ওরা ১১ জন-এর শ্যুটিং। উনি বললেন ভালো, অসুবিধা কী? আমি বললাম টাকা নাই, উনি বললেন হবে, হবে। সব হবে।

ম্যাজিক লণ্ঠন : একজন প্রবীণ পরিচালক হিসেবে সিনেমা নিয়ে আপনার শেষ কথা কী?

চাষী : পরিচালক জানে না কোন্‌ ছবি চলবে আর কোন্‌ ছবি চলবে না। পরিচালকের কাজ হলো ছবি বানানো, আর কী? বেদের মেয়ে জোসনা চলে নাই? পানুর ছবি তো মানুষ দেখে এতোটাই হিট করলো, আমরা হাসতে হাসতে বলতাম জিন ছবি দেখছে। অঞ্জু ঘোষ সম্পর্কে আমাকে কলকাতায় অমিতাভ বচ্চন বলেছে, ওই নায়িকা অসাধারণ মনে হয়। অপর্ণা সেন তো বললো, নায়িকার চোখে অসম্ভব মায়া আছে।

শান্তিনিকেতনে এক বটগাছের নীচে বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়িকা অঞ্জু ঘোষ বসেছে, সেখানে মানুষ তাকে পূজা করলো; সিনেমায় সব সম্ভব। আমি সিনেমা বানাতে জানি, আমি সিনেমায় খাই, ঘুমাই,  স্বপ্ন দেখি-আর কিছু জানি না।

 

সেলিম আহ্‌মেদ স্নাতক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে ভাস্কর্যে। দীর্ঘসময় হস্তশিল্প, ফ্যাশন গ্রাফিক্সের সঙ্গে তার বসবাস। বর্তমানে তৈরি হচ্ছেন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য। রাজীব আহ্‌সান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে একটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা নিয়ে ব্যস্ত আছেন এবং পাশাপাশি চিত্রনাট্য লিখছেন।

selim24march@yahoo.com

razibaahsan@gmail.com

 বি. দ্র. এ  সাক্ষাৎকারটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ের ম্যাজিক লণ্ঠনের তৃতীয় সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন