তাজীন আহমেদ
প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
সিনেমার বাড়ি সিনেমা ঘর
তাজীন আহমেদ

পড়ালেখা শেষ করে আমার চাকরি জীবনের বয়স এখন প্রায় ১৪ বছর। এর আগে এতো বছরের শিক্ষাজীবন, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ জীবনের যে দিকটি সবচাইতে বেশি মনে পড়ে তা হলো বাৎসরিক শীতকালীন ছুটি। আমার মা আমাদের প্রজন্মের অনেক মেয়ের মায়ের মতোই অত্যন্ত কড়া ছিলেন। আমার ছেলে ক্লাসমেটরা সারাদিন মাঠে-ঘাটে, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ালেও কলেজে ওঠার পর আমার বেশিরভাগ সময় কাটতো বাসায়, সেটাও মহা আনন্দের ছিলো, কারণ কোনো লেখাপড়া তো নাই। কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া এ রকম দীর্ঘ সময় কাটানো নিয়ে চাকরি জীবনে কতোই না স্মৃতি রোমন্থন করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসার পিছনে এই বাৎসরিক ছুটির লোভও একটা কারণ ছিলো। কিন্তু খুব শিগগিরই বুঝতে পারলাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারগুলো মোটেই এমন নয়।
করোনা ভাইরাসজনিত বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা অনেকেই মার্চ মাস থেকে এক ধরনের বাধ্যতামূলক ঘরবন্দি ছুটি কাটাচ্ছি। আমার বেশিরভাগ বন্ধুই বিভিন্ন সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে বা নিজেরা ছোটোখাটো ব্যবসায় জড়িত। কোভিড-১৯ এর লকডাউনে তারাও এখন শীতকালীন ছুটি জাতীয় সময়ই কাটাচ্ছে; তবে এই বন্দিত্ব ভুলে থাকার জন্য তারা নানা রকম পাঁয়তারা কষছে। একেকজন একেক রকম কোপিং মেকানিজম তৈরি করছে। এর ভিতর আমার এক বন্ধু শুরু করলো একটি ফেইসবুক রেডিওর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার। সেখানে একদিন আমরা সিনেমা নিয়ে কিছু সময় আলাপ করি। এই লেখাটি সেই আলাপের বিষয়গুলোকে এক জায়গায় গুছিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই করা। ফেইসবুক লাইভে দুই ব্যক্তির আড্ডার ফরমেটেই আলাপটি হয়। অনেক কথা বাদ পড়ায় অথবা পরবর্তী সময়ে মনে পড়ায়, গুছিয়ে রাখার বিষয়টি আসে।
আলাপের প্রথম প্রশ্নটি ছিলো এ রকম--সিনেমা দেখার কথা সিনেমাহলে গিয়ে অথচ আমরা নানা স্ট্রিমিং সার্ভিস বা ভি ও ডি১ (Video on demand) প্লাটফর্মের মাধ্যমে এখন সিনেমা দেখছি। তাহলে কি এই দেখাকে সিনেমা দেখা বলা যায়? এটি অত্যন্ত মৌলিক, এমনকি সরল প্রশ্ন হলেও এর উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক চিন্তা গুছিয়ে নেওয়া যায়। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই নিম্নে এ বিষয়ে আমাদের কথোপকথনের সারমর্ম তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
এক. নামের মাঝেই সিনেমা
সিনেমা--এই শব্দটার আভিধানিক অর্থই হচ্ছে, যে থিয়েটারে জনসম্মুখে প্রদর্শনের জন্য ফিল্ম দেখানো হয়। আমাদের অঞ্চলে সাধারণ ভাষায় আমরা যেটাকে সিনেমাহল বলি, সেই হলটাই সিনেমা। সিনেমা নামক আর্ট ফর্ম/মাধ্যমটাকে আমরা বিভিন্ন নামে ডাকি, যেমন ফিল্ম, মুভি, ছবি ও বই। এসব নামের একটি হচ্ছে সিনেমা, যার উৎপত্তি এই আর্ট ফর্মকে শুরু থেকেই যেই স্থানে গিয়ে অ্যাক্সেস করতে হয়, সেটাকে ঘিরে। ঠিক যেমন ফিল্ম নামটি এসেছে যে বস্তুটি বা সেলুলয়েড ফিতাটি ইমেজ ধারণ করে, সেখান থেকে। অর্থাৎ এই সময় বসেও, বাসার চার দেয়ালে থেকেও আমাদের সেই সিনেমাহলের নামে সিনেমাকে ডাকতে কোনো সমস্যা হয় না; এর নামকরণের মধ্যে হল বিষয়টি এখনো বিদ্যমান। ‘আমরা স্ট্রিমিং দেখি’--এ জায়গায় এখনো বিষয়টি গিয়ে গড়ায়নি।
দুই. নতুন এক্সিবিশন উইন্ডো/প্রদর্শন পদ্ধতি
স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম অন্যসব প্লাটফর্মের মতোই সিনেমার জন্য একটি নতুন এক্সিবিশন উইন্ডো। সিনেমা ব্যবসায়, সাপ্লাই চেইনের যেই প্রান্তটা রিটেইল য়েন্ড, (যেকোনো পণ্যের খুচরা বিক্রয়) অর্থাৎ যেখান থেকে দর্শক সিনেমাকে অ্যাক্সেস করে, তাকে এক্সিবিশন উইন্ডো বলা হয়।২ শুরুতে সিনেমাহলই ছিলো একমাত্র এক্সিবিশন উইন্ডো। তবে সিনেমাহল থেকে সিনেমাকে বের করে ঘরের চার দেয়ালে নিয়ে আসা ওয়েব স্ট্রিমের মাধ্যমে প্রথম ঘটেনি। ৮০’র দশকে ভি এইচ এস (Video Home System), তারপর স্যাটেলাইট টিভি, ভিসিডি, ডিভিডি এবং এখন ওয়েব স্ট্রিম--এই হচ্ছে সিনেমার ঘরে ঢোকার গল্প। থিয়েট্রিকাল রিলিজের (সিনেমাহলে সিনেমা রিলিজ পাওয়া) বাইরে সিনেমার অ্যানসিলিয়ারি অর্থাৎ আনুসঙ্গিক মার্কেট।৩ এই সবগুলোর মধ্যে টিভি বাদে বাকিগুলোতে একটা নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব--আমরা যখন খুশি সিনেমাকে থামাতে পারি, এগোতে, পিছাতে পারি। এই এক্সিবিশন উইন্ডোগুলোতে সিনেমা দেখার সময় এক ধরনের ভাঙন তৈরি করা সম্ভব, যা সিনেমাহলে অর্থাৎ সিনেমা দেখার সবচেয়ে আদর্শ উপায়ে সম্ভব না। টিভিতেও ভাঙন তৈরি হয়, সিনেমা থামিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে ঘুরে আসা। এই ভাঙন কোনো আকাঙ্ক্ষার বিষয় না সিনেমার পূর্ণ অনুধাবনের জন্য; ঠিক যেমন বিখ্যাত ফটোগ্রাফের ওপর ওয়াটার মার্কওয়ালা গুগল ইমেজও কোনো আদর্শ কায়দা না স্থিরচিত্রকে অনুধাবনের।
সিনেমা যখন তৈরি করা হয়, টেলিভিশন সিরিজের মতো কিছু সময় অন্তর অন্তর সেখানে ভাঙতি পড়বে, এমনটা মোটেও ভাবা হয় না। সিনেমা একনাগাড়ে চলবে, এটাই ধরে নেওয়া হয়। ফিল্ম প্রজেকশনের যুগে ফিল্মের রিল পাল্টানো হবে এবং তাই ইন্টারমিশনে যেতে হবে ভেবে সিনেমার ভাষাতেই সেটা অন্তর্ভুক্ত করা হতো। কোনো আকস্মিক জায়গায়, কোনো অ্যাকশন ভেঙে সিনেমা থামিয়ে দেওয়া হতো না। তবে এটা ঠিক, এই নতুন প্লাটফর্মগুলো দর্শকের জন্য সিনেমা দেখার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, সহজ করে দিয়েছে। এবং থিয়েট্রিকাল রিলিজের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো একটি সিনেমার জীবন চলমান রাখতে সাহায্য করছে। থিয়েটার রিলিজ শেষ হয়ে গেলে একটি সিনেমাকে কোনো এক আর্কাইভের গুদাম ঘরেই বাকি জীবন পার করে দিতে হচ্ছে না আর। অবশ্য এমনটা ঘটে আসছে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরেই (৮০’র দশক থেকে), নতুন কোনো ঘটনা এটা নয়।
তিন. কমিউনাল রিচ্যুয়াল
ঐতিহাসিকভাবে সিনেমা বাসা-বাড়ির বাইরে বেড়াতে গিয়ে একটা অ্যাক্টিভিটি করা বা বিনোদন হিসেবেই যাত্রা শুরু করে। মেলা, যাত্রা, সার্কাস, যাদু ইত্যাদি বিনোদনের পাশাপাশি সিনেমার জনপ্রিয়তা তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে একটি প্রধান বিনোদন ও আর্ট ফর্মে পরিণত হয়। হলঘরে সিনেমা দেখতে যাওয়ার একটা রিচ্যুয়ালিস্টিক ব্যাপার আছে। সিনেমা দেখতে যাবো, কবে যাবো, কার সঙ্গে যাবো, কীভাবে যাবো, কী পরবো, কী খাবো, দেখার পর কী করবো ইত্যাদি নানা পরিকল্পনা এর সঙ্গে যুক্ত। কবে, কখন ও কোথায় সিনেমা দেখতে যাওয়া হবে তা দর্শকের হাতে থাকে না; সিনেমাহলের সময়সূচির ওপর নির্ভরশীল। একবার সিনেমা দেখার হলঘরে ঢুকে পড়লে সেখানেও কিছু বাধাধরা রীতি-রেওয়াজ আছে; সিনেমা শুরু হওয়ার আগে আসন গ্রহণ, শব্দ না করা, মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। যারা সিনেমায় যায়, তারা এ ধরনের অলিখিত শর্ত পালনে সম্মত থাকে, যেমনটি যেকোনো কমিউনাল রিচ্যুয়ালে আমরা করে থাকি।
সিনেমাকে ঘরের চার দেয়ালে নিয়ে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই এই সব রীতি-রেওয়াজের অনেকগুলোই বদলে যায়। সিনেমার সঙ্গে বেড়াতে যাবার, অজানা মানুষের সঙ্গে একই অভিজ্ঞতার অংশীদার হওয়ার যে নিবিড় সম্পর্ক, তা হোম ভিডিওতে পুরোপুরিই উধাও হয়ে যায়। তবে মজার বিষয় হলো, বাসায় সিনেমা দেখা ঘিরেও পারিবারিক, পাড়া অথবা বন্ধুবর্গীয় ছোটো ছোটো প্রচলন গড়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে, বন্ধুরা মিলে ভূতের সিনেমা দেখা, অথবা ভালো নতুন হিন্দি সিনেমাটা পরিবারের সবাই মিলে দেখা বাংলাদেশি মধ্যবিত্তের জন্য একটি সাধারণ ঘটনা ছিলো ভি এইচ এস আমলে। ৮০’র দশকে যখনই দূরদর্শনে হারানো সুর দেখাতো, আমার নানি পাশের বাড়ির বান্ধবীদের ডেকে একসঙ্গে চা-নাস্তার আয়োজন করে সিনেমা দেখতেন। এই ধরনের প্রচলনগুলো এখন স্ট্রিমিং সার্ভিসের মাধ্যমেও হয়ে চলছে।
চার. স্ক্রিন সাইজ/পর্দার আকার
সিনেমাকে যেহেতু এখন ডিজিটাল ফাইলে বন্দি করা সম্ভব, স্ট্রিমিং সার্ভিস অথবা অন্য উপায়ে ডাউনলোড করা সিনেমা টিভি ব্যতীত অন্যান্য স্ক্রিনেও দেখা সম্ভব; যেমন, ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ফোনসেট। কিন্তু সিনেমাহলে না গিয়ে বাসায় বসে একা অথবা কাউকে নিয়ে যেভাবেই সিনেমা দেখা হোক, এই দেখার সবচেয়ে আদর্শ উপায় কখনোই মোবাইল ফোনসেট নয়। একজন ব্যক্তিকে বাসায় সিনেমা দেখার উচ্চতর স্বাধীনতা যদি দেওয়া হয়, সে তখন যে ডিভাইসের মাধ্যমে এটা দেখতে চাইবে, তার নাম এখনো হোম থিয়েটার অর্থাৎ থিয়েটারের হোম ভার্সন, যার উদ্দেশ্য যতোটুকু সম্ভব সিনেমাহলের অভিজ্ঞতাকে পুনরুৎপাদন করা। উল্লেখ্য বাসার চার দেয়ালে ল্যাপটপ, ছোটো পর্দার টিভি অথবা মোবাইল ফোনসেটের পাশে এটাই সবচেয়ে বড়ো আকারের স্ক্রিন/পর্দা।
পর্দার আকার একটি জরুরি বিষয়। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নিয়ে একটি উক্তি প্রায়ই ব্যবহার হয়েছে; ‘সিনেমা ইজ লারজার দ্যান লাইফ’--সিনেমা জীবনের থেকেও আকারে বড়ো। এই ধারণাটি ঠিক যেমন দার্শনিক অর্থে ভাবা যায়; সিনেমার ‘হিরো’ বাস্তবের মানুষের চেয়ে নিখুঁত, ঠিক তেমনই আক্ষরিক অর্থেও সত্য। হলঘরের পর্দার দৃশ্যে যে বাস্তবতা আমরা দেখি তা আমাদের খালি চোখে দেখা চারপাশের চেয়ে আকারে বড়ো। এমনকি এই মুহূর্তে সবচাইতে বাণিজ্যিক সিনেমাও হলঘরকেন্দ্রিকই; বছরের সর্বোচ্চ বিনিয়োগে তৈরি সুপারহিরো কিংবা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইসের৪ হলিউড ব্লকবাস্টারের ব্যবসা আইম্যাক্স টেকনোলজিকে ঘিরে, যার প্রধান আকর্ষণ এর বিশালাকৃতির স্ক্রিন—৭২X৫২ ফুট। হোম থিয়েটার এই আকারকে বাসায় অনুকরণেরই এক ধরনের প্রচেষ্টা, যতো বড়ো স্ক্রিন, ততো ভালো হোম থিয়েটার।
উপরের আলোচনা থেকে আশা করি তিনটি বিষয় পরিষ্কার, যে তিনটি বিষয় সিনেমার জন্য হলঘরের প্রাধান্যকে এখনো তেমন কমিয়ে আনতে পারেনি। প্রথমত, সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া; পর্দায় চলমান দৃশ্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক বসাতেই দেখা হবে উদ্দেশ্য নিয়েই সিনেমা তৈরি করা হয়। দ্বিতীয়ত, সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা একটি কমিউনাল রিচ্যুয়াল। তৃতীয়ত, সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা চারপাশের বাস্তবতার থেকে আকারে বড়ো। এখনো একমাত্র হলঘরই সবগুলো শর্ত পূরণ করে।
নেটফ্লিক্স, চলচ্চিত্র উৎসব ও থিয়েটার রিলিজ
আমি মনে করি, স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে আবারও সিনেমা দেখার নতুন পন্থা তৈরি হয়েছে, যা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আগের থেকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং মানুষের সিনেমা দেখার সুযোগ বাড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, সিনেমার ধরন, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির ওপরেও এই সার্ভিসগুলোর প্রভাব পড়তেই পারে। যেমন, ৮০’র দশকের শেষ দিকে হোম অ্যালোন, বেবিজ ডে আউট জাতীয় পরিবারকেন্দ্রিক সিনেমার পিছনে ভি সি আর কালচারের অবদান ছিলো। ঠিক একইভাবে এই মুহূর্তে ‘নেটফ্লিক্স’, ‘অ্যামাজন’, ‘বায়স্কোপ’, ‘হৈচৈ’ ইত্যাদি সার্ভিসগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমাকে প্রচুর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে এবং সিনেমার ব্যবসা ও নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। যেহেতু এই প্লাটফর্মগুলো কেবল অন্যের তৈরি সিনেমাকেই কিনে নিয়ে দেখাচ্ছে না, তারা নিজেরাও সিনেমা প্রযোজনা করছে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের পছন্দ এক ধরনের অগ্রাধিকার পায়, সেটা চুক্তিতে লিখিত থাকুক অথবা মার্কেট চালিতই হোক। গল্পের ধরন, সিনেমার ভাষা ইত্যাদিতে ‘নেটফ্লিক্স’ বা ‘অ্যামাজন’ এর প্রভাব থাকতেই পারে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই, বিশেষত এই স্ট্রিমিং সার্ভিসের বাজারে এগিয়ে থাকা ‘নেটফ্লিক্স’ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমার জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ‘নেটফ্লিক্স’ই আবার আমাদের মূল প্রশ্নের মুখোমুখি করিয়ে দেয়, যখন গত তিন বছর ধরে কান চলচিত্র উৎসব ও ‘নেটফ্লিক্স’ এর মধ্যে এক অসমাপ্ত বিবাদ চলমান দেখি। ২০১৭-তে ‘নেটফ্লিক্স’ প্রযোজিত অকজা ও মেয়ারউইট্জ স্টোরিজ কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল শাখায় স্থান পায়। ফ্রান্সে যেকোনো সিনেমা, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার ৩৬ মাস পর অ্যানসিলিয়ারি অর্থাৎ আনুসাঙ্গিক মার্কেটে রিলিজ পেতে পারে। ‘নেটফ্লিক্স’ এই শর্তে রাজি না হয়ে সিনেমা দুটোর ফ্রেঞ্চ থিয়েটার রিলিজ প্রত্যাহার করে, যার প্রত্যুত্তরে কান চলচ্চিত্র উৎসব ঘোষণা দেয় এই শর্ত লঙ্ঘনকারী সিনেমা ভবিষ্যতে তাদের মূল শাখা, অর্থাৎ প্রতিযোগিতা শাখায় (পাম ডি’অর যার অন্তর্ভুক্ত) গ্রহণ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের কোনো হেরফের না হওয়ায়, ২০১৮-তে ‘নেটফ্লিক্স’ তাদের সিনেমা, অলফনযো কুয়ারনের রোমা ও অরসন অয়েলেসের আদার সাইড অব দ্য ইউন্ড উৎসবের নন-কম্পিটিশন শাখা থেকেও প্রত্যাহার করে। ২০১৯-এও ‘নেটফ্লিক্স’ প্রযোজিত সিনেমা কান চলচিত্র উৎসবে দেখানো হয়নি। স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো প্রযোজিত সিনেমা নানা চলচ্চিত্র উৎসবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক এখনো চলমান। এই বিতর্কের মূল দ্বন্দ্ব থিয়েটারকে প্রাথমিক রিলিজ প্লাটফর্ম হিসেবে রাখা নিয়ে, যা ‘নেটফ্লিক্স’ ব্যতীত বাকি প্রযোজক স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো এখনো লঙ্ঘন করেনি। ‘ভক্স’ পত্রিকার আলিস্যা উইল্কিন্সন৫ এর মতে, কান এবং ‘নেটফ্লিক্সে’র বিবাদ আসলে সিনেমা দেখার কালচারের বিবাদ; ফ্রান্স বা ইউরোপীয় আর্ট বনাম আমেরিকান মার্কেটকেন্দ্রিক বিনোদন কালচার--
There’s the French perspective, which sees cinema as a fundamentally communal experience devoted to an art that is meant to be projected onto a big screen. And then there’s the American one, which prizes choice and individual taste and looks at a movie as something that’s the same no matter the size of the screen and the viewing conditions under which you see it… Implicit in this argument are differing attitudes about the rules of cultural production. France is famously prescriptive about its culture… But it’s very different from the American perspective, which has very few rules about cultural production at all. Art and culture in America develops largely along the lines of what the market will bear.৬
আমেরিকান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বরাবরই ব্যবসাকেন্দ্রিক। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা ইউরোপেই সিনেমাকে ঘিরে সংরক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করা হয় এবং রাষ্ট্র প্রণোদিত বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়।৭ এর একটি সরাসরি ফল হলো, ইউরোপের ছোটো শহরগুলোতেও আর্ট গ্যালারি, আর্ট হাউজ সিনেমা থাকা কোনো বিরল ঘটনা নয়। উল্টো দিকে, আমেরিকার বড়ো শহর ব্যতীত ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা দেখার থিয়েটারের সংখ্যা দৈত্যাকৃতির থিয়েটার চেইনের প্রভাবেই সময়ের সঙ্গে কমে এসেছে। ‘নেটফ্লিক্স’ মনে করে, যাদের টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই কিংবা যাদের শহরে ভালো সিনেমাহল নেই, সেই দর্শককে তারা সুযোগ করে দিচ্ছে সহজেই নানা রূপের ও ধরনের সিনেমা দেখবার।৮
অন্যদিকে, কান চলচ্চিত্র উৎসব ‘নেটফ্লিক্সে’র জন্য শর্ত শিথিল না করলেও অন্যান্য খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নেটফ্লিক্স’ প্রযোজিত সিনেমা গ্রহণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো যদি সরাসরি স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে রিলিজ পাওয়া ছবি জমা নেয়, তাহলে কি আর সিনেমাহলের দরকার নেই? অকজা, রোমা ও আইরিশম্যান-এর মতো সিনেমা যখন চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পায়, সেক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, শেষমেষ এই ছবিগুলোকে উৎসবে সিনেমাহলেই দেখানো হয়, ল্যাপটপে তো আর দেখানো হয় না। কিন্তু আগের হোম ভিডিওতে সরাসরি বের হওয়া সিনেমার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি; ৮০’র দশকে ম্যাগ্নেটিক টেপে রেকর্ড করে সরাসরি ভি এইচ এস-এ প্রচুর ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা, বি-গ্রেড সিনেমা তৈরি হয়। কিন্তু এগুলোকে সিনেমাহলে রিলিজ দেওয়ার কোনো উপায় ছিলো না। তাই কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড৯ পর্যন্ত এই স্ট্রিমিং সার্ভিসে রিলিজ পাওয়া সিনেমা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না কিংবা অন্তর্ভুক্ত করার শর্তাবলি নিয়ে এখনো কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও, এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, এ ধরনের আলোচনা এর আগে কোনো নন-থিয়েট্রিকাল উইন্ডো নিয়ে হয়নি। ডিজিটাল টেকনোলজি এবং প্রজেকশন কি একটি কারণ হতে পারে এই পরিবর্তনের?
বলা বাহুল্য ‘নেটফ্লিক্স’ গত বছরের (২০১৯ খ্রিস্টাব্দ) শেষ দিকে নিউ ইয়র্ক শহরের বিখ্যাত ‘প্যারিস থিয়েটার’ ইজারা নিয়ে থিয়েটারটিকে বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে।১০ এবং ‘নেটফ্লিক্সে’র বেশ কয়েকটি সিনেমা (ম্যারেজ স্টোরি, আইরিশম্যান, ডলেমাইট ইজ মাই নেম ইত্যাদি) স্ট্রিমিং সার্ভিসে আসার আগে থিয়েটার রিলিজ পায়।১১ বাড়িতে বসে সিনেমা দেখার ঝাণ্ডাধারিরাও ব্যবসায়িক কারণেই হোক না কেনো, সিনেমা থিয়েটারকে বাতিল করতে পারেনি এখনো। আর এদিকে বড়ো থিয়েটার চেইনের বাইরে ক্ষুদ্র ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট থিয়েটারের মালিকদের বেশিরভাগই মনে করে স্ট্রিমিং সার্ভিসের আগমনে সিনেমা দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসলেও ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমার নিজস্ব মার্কেট ও দর্শক আছে, যারা এখনো সিনেমাহলকে বাঁচিয়ে রাখছে এবং এই ধরনের সিনেমা দেখার অভ্যাসের প্রসার ঘটছে।১২ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বিখ্যাত ‘ফোবর্স’ ম্যাগাজিনে (মূলত বাণিজ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন) কিছু জরুরি বিষয় উল্লেখ করা হয়--প্রথমত, বিগত ২০ বছর ধরে সিনেমাহলে টিকিট থেকে উঠে আসা মুনাফা ধারাবাহিকভাবেই ওঠা-নামা করছে; দ্বিতীয়ত, সিনেমাহলে যাওয়া দর্শকের সংখ্যা ২০১৯-এ বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়; তৃতীয়ত, থিয়েটার রিলিজ একটি সিনেমার সফল হওয়ার মাপকাঠি হিসেবে এখনো বিদ্যমান।১৩
শেষকথা
শেষ একটি মন্তব্য করতে চাই। বাংলাদেশে বসে হলঘরে সিনেমা দেখার সুযোগ যথেষ্ট সীমিত, যদি আমরা গ্লোবাল সিনেমার কথা ভাবি। যেই ইউরোপিয়ান আর্ট হাউজ সিনেমার দ্বারা এদেশের অনেক নির্মাতা অনুপ্রাণিত হয়েছে, সেই সিনেমাগুলো আমরা কজন সিনেমাহলে দেখেছি? আমরা কজনইবা সত্যজিৎ বা ঋত্বিক, এমনকি জহির রায়হানের সিনেমাগুলো হলঘরে এখন পর্যন্ত দেখতে পেরেছি? তাহলে আমরা যেভাবে টিভি বা ল্যাপটপে এই মায়েস্ত্রোদের কাজ দেখেছি, তা কি সিনেমা থাকেনি? এই ক্ষেত্রে ফেইসবুকের মেমোরিতে আসা একটি স্ট্যাটাস মনে পড়ে--‘সিনেমার পাওনা হোম থিয়েটার না, বড়ো পর্দাই সিনেমার বাড়ি।’(Cinema does not deserve a home theatre. The big screen is cinema's home.) নির্মাতা হুমায়রা বিলকিসের অসাধারণ মানবিক এবং জীবনঘনিষ্ঠ কাজ বাগানিয়া দেখার পর এই কথা মাথায় এসেছিলো। ২০১৯-এর ১৮ এপ্রিল গেঁটে ইন্সটিটিউটে বড়ো পর্দায় ছবিটি প্রদর্শিত হয়। ওই দিনের আগে অন্তত তিন—চার বার হলেও ছবিটি আমার দেখার সুযোগ হয় ল্যাপটপ এবং টিভি স্ক্রিনের হোম থিয়েটারে। কিন্তু বহুল পরিচিত ইমেজগুলো বড়ো পর্দায় যেনো অন্য আকর্ষণ তৈরি করেছিলো সেদিন; ভালো সিনেমা যে এক ধরনের মন্ত্রমুগ্ধতা সৃষ্টি করে, তা বড়ো পর্দার খুবই সহজাত একটি ব্যাপার। এ কারণেই ছোটোকাল থেকে অগণিতবার দেখা হয়েছে বলে হীরক রাজার দেশে সিনেমাহলে দেখার সুযোগ কোনো সিনেমাপ্রেমী ছাড়বে বলে আমার মনে হয় না।
এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ দুর্যোগে সারাবিশ্ব এখন বাসায় বন্দি। হোম থিয়েটারই এখন সিনেমাপ্রেমীর সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা। এ বছরের বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনলাইনে সিনেমা স্ট্রিমিং করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে এই সুররিয়্যাল বর্তমানে বসেও আমরা সিনেমাহলের রীতি-রেওয়াজ ছাড়তে পারছি না, বরং এর নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছি। ফেইসবুকে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে প্রচুর সংগঠন বা ব্যক্তি ‘ওয়াচ পার্টি’-এর ব্যবস্থা করছে, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ যোগ দিয়ে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখতে পারে। কিন্তু ইচ্ছে মতো সিনেমা থামিয়ে, উঠে গিয়ে চা বানিয়ে আনতে পারে না, বা রিওয়াইন্ড করে আগের দৃশ্যে ফিরে যেতে পারে না। একে আমরা তাহলে কী বলবো? আমরা কি আবারও আশঙ্কা করবো, সিনেমাহল প্রতিস্থাপিত হয়ে যাচ্ছে? আমার বরং উল্টোটা মনে হয়; এই ‘ওয়াচ পার্টি’ কালচার পুনরায় প্রমাণ করে, এখনো আমরা হলঘরেই সিনেমাকে দেখতে ভালোবাসি। সেই অন্ধকার ঘরে নাম না জানা মানুষের সঙ্গে বিশাল এক পর্দায় চলমান চিত্রের বলা গল্প, মেজাজ দেখে একসঙ্গে হাসি-কান্না অথবা বিরক্তি প্রকাশ করতে আমরা চাই এখনো। বাসায় নিজের ঘরে বসেও আমরা সিনেমাহলে আছি প্রিটেন্ড করতে চাই। সিনেমা এখনো থিয়েটার থেকে বের হয় নাই।
লেখক : তাজীন আহমেদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগে পড়ান।
tazeen20@gmail.com
https://www.facebook.com/tazeen.ahmed
তথ্যসূত্র ও টীকা
১. ভিডিও অন ডিমান্ড (ভি ও ডি) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখা যায় এমন ভিডিও প্লাটফর্ম/লাইব্রেরি, যেখানে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী সময়ে কোনো ভিডিও দেখা যায়। ভিডিও অন ডিমান্ড প্রধানত তিন প্রকার--১. অ্যাড বেসড ভি ও ডি (এ ভি ও ডি) যা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়; যেমন, ইউটিউব ২. ট্রান্স্যাকশনাল ভি ও ডি (টি ভি ও ডি) যেখানে প্রতিটি আইটেম আলাদা করে কিনতে হয় (পে-পার-ভিউ); যেমন, আই টিউন্স এবং ৩. সাবস্ক্রিপ্শন ভি ও ডি (এস ভি ও ডি) যেখানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু মূল্যের বিনিময়ে পুরো লাইব্রেরির সংগ্রহ ব্যবহার করা যায় নিজের ইচ্ছেমতো সময় অনুযায়ী।
2. Bordwell, David & Thompson, Kristin (2017: 40); Film art: An introduction; McGraw Hill, United States.
৩. অ্যানসিলিয়ারি (আনুসাঙ্গিক) মার্কেট হলো থিয়েটার রিলিজের পর সিনেমা বাকি যেসব নন-থিয়েট্রিকাল রিলিজ থেকে উপার্জন করে। প্রাগুক্ত;Bordwell & Thompson (2017: 42).
৪. সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইস : একই গল্প, প্লট, জগৎ অথবা চরিত্র নিয়ে বানানো সিনেমা যার আধারে নতুন স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে হলে ফ্রাঞ্চাইসের কপিরাইট কিনতে হবে অথবা কপিরাইট মালিকের অনুমতি লাগবে।
5. https://www.vox.com/culture/2018/4/13/17229476/netflix-versus-cannes-ted-sarandos-thierry-fremaux-okja-meyerowitz-orson-welles-streaming-theater. retrieved on: 03.05.2020
6. https://www.vox.com/culture/2018/4/13/17229476/netflix-versus-cannes-ted-sarandos-thierry-fremaux-okja-meyerowitz-orson-welles-streaming-theater. retrieved on: 03.05.2020
7. Thompson, Kristin and Bordwell, David (2003: 353_357, 374_375); Film history: An introduction; McGraw Hill, United States.
8. https://www.vox.com/culture/2017/5/24/15676892/cannes-netflix-controversy-culture-stiller-swinton-smith. retrieved on: 03.05.2020
9. https://www.theverge.com/2020/4/28/21240422/oscars-streaming-theaters-rules-2021-netflix-digital-release-academy. retrieved on: 03.05.2020
10. https://www.theguardian.com/film/2019/nov/26/paris-theater-nyc-netflix-cinema-future. retrieved on: 03.05.2020
11. https://www.theverge.com/2019/8/27/20835697/netflix-fall-movie-lineup-theatrical-release-steven-soderbergh-laundromat-martin-scorsese-irishman. retrieved on: 03.05.2020
12. https://www.indiewire.com/2019/06/movie-exhibition-distribution-future-1202152832/. retrieved on: 03.05.2020
13. https://www.forbes.com/sites/jamos/2020/02/05/no-cinema-isnt-dying-7-reasons-to-be-optimistic-yes-optimistic-about-hollywood-in-2020/#332784e93b6c. retrieved on: 03.05.2020
বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৯তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন