কাওসার বকুল
প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
ডগমি ৯৫
স্বার্থ ভুলে পুঁজির লাগাম টেনে শিল্প রক্ষার মহাসংগ্রাম
কাওসার বকুল

... জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব-- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি--
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।।১
মূল আলোচনার আগে
দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বেশকিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফলে যাত্রা শুরু হয় যৌগিক শিল্পমাধ্যম চলচ্চিত্রের। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ফ্রান্সের অগাস্ত লুমিয়ের ও লুই লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মার্চ চলমান চিত্র ধারণ করতে সক্ষম হন। লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম যে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শন করেছিলেন, এক মিনিটের মতো ছিলো সেগুলোর দৈর্ঘ্য। সেগুলোতে ছিলো রাস্তা দিয়ে মানুষ হেঁটে যাওয়ার, স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ করার আবার কোনোটিতে শ্রমিকের খাওয়ার দৃশ্য। সবই একেবারে বাস্তবে ঘটে যাওয়া সাধারণ দৃশ্য।
তবে শুরুর দিকে চলমান দৃশ্য ধারণ করাটাই ছিলো বড়ো ধরনের সাফল্য তথা বিস্ময়। যদিও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেবল চলমান দৃশ্য ধারণ করে আর তৃপ্তি মেটেনি ইতিহাসে আসন করে নেওয়া কতিপয় চলচ্চিত্রনির্মাতার। লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় যে সাধারণ বাস্তবতা চলচ্চিত্রে ধারণ করতেন, তার পাশ কাটিয়ে ফ্রান্সের যাদুকর জর্জ মেলিয়েঁ ফুটিয়ে তুলতেন কল্পিত বাস্তবতা। সর্বকনিষ্ঠ এই শিল্পমাধ্যম ব্যবহার করে বহু নির্মাতা মানুষের মানসিক বিকাশ ও ভাবনা প্রকাশ করেছেন। মানুষ-সমাজ-রাষ্ট্রকে প্রভাবিত ও নতুন চিন্তাকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্য অনেকেই চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করেছেন হাতিয়ার হিসেবেও। এসব প্রয়োজনে শুরুর দিকে লুমিয়ের ভাইদের দেখানো সমাজ-বাস্তবতা কিংবা মেলিয়েঁর কল্পিত বাস্তবতার ধারা থেকে সরে এসে সময়ে সময়ে জন্ম নিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ধারা।
এর পিছনে অবশ্য চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানা প্রাযুক্তিক যন্ত্রপাতির উন্নতির প্রভাব রয়েছে। চলচ্চিত্রে শব্দ যোগ হওয়া থেকে শুরু করে আরো পরে এসে রঙিন হওয়ার ফলে একদিকে বাস্তবতার অনেক কাছাকাছি চলে যায় এই শিল্পমাধ্যম। সেই সঙ্গে চিত্রধারণ থেকে শুরু করে প্রদর্শনে ব্যাপক উন্নতির ফলে ইমেজকে নির্মাতারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক ব্যবহারের সুযোগ পান।
আগেই বলেছি, চলচ্চিত্র হয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের আবিষ্কার কাজে দিয়েছে। চিত্রধারণের জন্য ক্যামেরার আবিষ্কার, সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরো কিছু জিনিসের উদ্ভাবন, প্রদর্শন ব্যবস্থার উন্নয়ন; সর্বোপরি চলচ্চিত্রকে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি হয়ে পড়েছিলো। হলফ করেই বলা যায়, পুঁজিপতিরা এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে এগিয়ে না এলে আরো লম্বা হতো চলচ্চিত্র বিকাশের পথটা।
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় চলচ্চিত্রকে সবার সামনে প্রদর্শনের জন্য তাদের আবিষ্কার করা সিনেমাটোস্কোপ নামক যন্ত্রটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেন। তাদের কর্মচারীরা মাত্র পাঁচ কেজি ওজনের ওই প্রদর্শন যন্ত্রটি রাশিয়া, ইউরোপ থেকে শুরু করে ভারতেও নিয়ে আসেন। ওই সময় থেকে দেশে দেশে অর্থ আয়ের উৎস তথা ইন্ডাস্ট্রি হতে শুরু করে চলচ্চিত্র। একে একে গড়ে উঠতে থাকে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি; সেসব ইন্ডাস্ট্রিতে লগ্নি হতে থাকে শত কোটি টাকা। সমাজ-বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে বিশাল বাজেটে নির্মাণ হতে থাকে বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে পুঁজির কারণে পুঁজিপতিদের কাছে চলচ্চিত্র হয়ে পড়ে জিম্মি।
কিন্তু চলচ্চিত্রের এই জিম্মিদশা মেনে নিতে পারেনি কিছু মানুষ। তারা চেয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বড়ো বাজেট এবং বিশাল সেটের ব্যবহার অস্বীকার করতে। সেই সঙ্গে সবচেয়ে প্রভাবশালী এই শিল্পমাধ্যমে কেবল চলচ্চিত্রনির্মাতার একক আধিপত্য যেনো না থাকে, অভিনয়শিল্পী থেকে কলাকুশলী সবাই যেনো তা নিজের মনে করতে পারে এবং লগ্নি করা অর্থ তুলে নিয়ে আসার খাতিরে আধেয় যেনো বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে না পড়ে; সেভাবে কাজ করার স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছেন। যদিও তারা পুঁজি আর প্রযুক্তির কাছে স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা বিকিয়ে না দিয়ে নির্মাতার সৃজনশীল কিছু সীমাবদ্ধতা রাখার কথাও বলেছেন। এসব স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কে ‘ডগমি ৯৫’ নামে প্রতিষ্ঠানবিরোধী চলচ্চিত্রগোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা লার্স ভন তিয়ার ও থমাস ভিনটারবার্গ নেতৃত্ব দেন তাতে। তাদের দেখানো পথে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একটি চলচ্চিত্র আন্দোলন শুরু হয়। ‘ডগমি ৯৫’ আন্দোলনের শিরোনামে একে একে নির্মিত হতে থাকে ফেস্টন (১৯৯৮), দ্য ইডিয়টস (১৯৯৮), মিফিউনস লাস্ট সঙ (১৯৯৯), দ্য কিং ইজ অ্যালাইভ (২০০০), লাভারস (১৯৯৯) চলচ্চিত্র।
মায়ের প্রভাবে
‘ডগমি ৯৫’ আন্দোলনের ব্যাপারে আলোচনা শুরুর আগে লার্স ভন তিয়ার সম্পর্কে জেনে নেওয়া দরকার। জীবন্ত এই কিংবদন্তির জন্ম ১৯৫৬ খ্র্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের বাণিজ্যিক এলাকা কনজেন্স লিনবাই-এ। লার্স ভন তিয়ারের বামপন্থি মা ইঙ্গার হোস্ট ছিলেন নগ্নতায় বিশ্বাসী; আর তার ইহুদি বাবা উলফ তিয়ার ছিলেন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তবে তিনিও নগ্নতা উদযাপন করতেন। ছোটোবেলা থেকেই তিয়ারের বাবা-মা ছেলের ওপর ধর্ম থেকে শুরু করে কোনোধরনের বিষয় চাপিয়ে দিতেন না। ফলে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোটোবেলায় নগ্ন মানুষজনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাম্পে তিনি বহু সময় পার করেছেন। কিশোর বয়সেও ছুটির দিনগুলো তারা নগ্নদের সঙ্গে পার করতেন। নগ্ন মানুষদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং মায়ের কাছ থেকে শেখা বিষয়গুলোর ব্যাপক প্রভাব পড়ে তিয়ারের ওপর। সে কারণে পরবর্তী সময়ে তার নির্মাণ করা চলচ্চিত্রেও ঘুরে ফিরে উঠে আসে নগ্নদের প্রসঙ্গ।
লার্স ভন তিয়ার
ব্যাপক উচ্চতা ভীতি থাকার কারণে ছোটোবেলায় কোপেনহেগেন শহরের বাইরে খুব একটা যাননি লার্স ভন তিয়ার। স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর সেলুলয়েডের প্রতি ব্যাপক আগ্রহের কারণে তিনি চলচ্চিত্র তত্ত্বের ওপর পড়াশোনা করেন কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজেকে আরো শাণিত করে নিতে এরপর সেই শহরেরই ন্যাশনাল ফিল্ম স্কুল অব ডেনমার্ক থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে পাঠ নেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই জার্মানির মিউনিখে আয়োজিত ফিল্ম স্কুলের আন্তর্জাতিক উৎসবে গীতিকার হিসেবে বেস্ট স্কুল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পান লার্স ভন।যদিও তিনি আরো আগে থেকেই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সঙ্গীত রচনা করে আসছিলেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে টারেন টিল কুয়াশল্যান্ড (১৯৬৭) নির্মাণের পর কিশোর বয়সেই একাধারে নির্মাণ করেছেন নাট স্কাট (১৯৬৮), অ্যাট স্কাসপিল (১৯৬৯), ফর্দি দু য়ের এন কুজন (১৯৭০), এন ব্লমস্ট (১৯৭১) নামে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পড়াশোনা শেষে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে লার্স ভন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ইমেজেস অব লিবারেশন নির্মাণ করেন। তবে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে দ্য এলিমেন্ট অব ক্রাইম এবং এপিডেমিক (১৯৮৭) নির্মাণের পর তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন; এই দুই চলচ্চিত্র কানসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শন করা হয়। দ্য এলিমেন্ট অব ক্রাইম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ১২টি অ্যাওয়ার্ড পায়; তার মধ্যে কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’অর-এর জন্যও মনোনয়ন পায়। তরুণ বয়সেই বিশ্বজুড়ে নামডাক ছড়িয়ে পড়ার পরেও লার্স ভন কেবল অর্থের কারণে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে টেলিফিল্ম মিডা নির্মাণ করেন। যদিও সেই টেলিফিল্মটিও তাকে এনে দেয় ফ্রান্সের জঁ ডি’আর্চি পুরস্কার। এর পরের বছর আকস্মিকভাবে জীবনের মোড় বদলে যায় তার; না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার মা ইঙ্গার হোস্ট।
মায়ের মৃত্যুশয্যায় এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটে লার্স ভনের জীবনে। মায়ের কাছে তিনি জানতে পারেন, যে উলফ তিয়ারকে এতোদিন বাবা জানতেন, তিনি আসলে তার জন্মদাতা নন; তার জন্মদাতা ফ্রিট্জ মাইকেল হার্টম্যান। জন্মদাতাকে অবশ্য খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়নি লার্স ভনের; কারণ, ডেনমার্কের বিখ্যাত গায়ক মাইকেল হার্টম্যানই ছিলেন সেই লোক। মাইকেল হার্টম্যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন; এই যোদ্ধা পরে সোশ্যাল ডেমোক্রাট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। একপর্যায়ে সে দেশের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিতও হন। আর হার্টম্যানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভিগো কাম্পম্যান পরবর্তী সময়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এছাড়া মাইকেল হার্টম্যানের বাবা, দাদা, পরদাদা, চাচা, ভাই, ভাতিজা সবাই ছিলেন সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারপরও মায়ের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে লার্স ভন বড়ো ধরনের ধাক্কা খান। একপর্যায়ে এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য তিনি দেখা করেন মাইকেল হার্টম্যানের সঙ্গে। তবে হার্টম্যান তাকে সাফ জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে কথা বলা তো দূরের কথা, লার্স ভন যেনো তার সঙ্গে আর কখনো দেখা না করেন।
পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আর কখনো তেমন কিছু বলেননি লার্স ভন। এমনকি নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকা তিয়ার পদবিও তিনি বদলে ফেলেননি; তার বদলে নব উদ্যমে শুরু করেন কাজ। অবশ্য তার রক্তেই মিশে আছে শিল্প-সংস্কৃতি। সে কারণেই হয়তো জন্মদাতার বংশের লোকজনের সঙ্গে বেশি মিল পাওয়া যায় লার্স ভনের। চলচ্চিত্র তো বটেই, চিত্রকলা ও সঙ্গীতের প্রতিও বেশ ভালো দখল ছিলো তার। তিনি নিজেও বলেছেন, মায়ের কাছে বিষয়টি জানার আগে নিজেকে ইহুদিই ভাবতাম। তবে সত্যিই আমি অনেকটা নাজি (বাবার মতো)। আর সৃজনশীল কোনো কাজ করতে গেলে বিষয়টি দ্বারা (জন্মদাতার) প্রভাবিত হওয়ারই কথা।
যাই হোক, মাকে হারানোর ধাক্কা সামলে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে লার্স ভন তিয়ার নির্মাণ করেন ইউরোপা। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পর তিনি নিজেকেই ছাড়িয়ে যান; কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন এবং ডেনমার্কে দু’টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়নসহ মোট নয়টি চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যাওয়ার্ড পায় চলচ্চিত্রটি। এর পরের বছর বন্ধু পিটার আলবায়েক জেনসেনের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করেন, নাম দেন ‘জান্ত্রপা এন্টারটেইনমেন্টস’। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে টেলিফিল্ম, টেলিভিশন নাটক এবং পর্নোগ্রাফি নির্মাণের জন্য অর্থ লগ্নি করে। জান্ত্রপার প্রযোজনায় নির্মিত বহু চলচ্চিত্র ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব তো বটেই, তার সাতটি চলচ্চিত্র অস্কারে মনোনয়ন পায়।
লার্স ভন তিয়ার নির্মিত ড্যান্সার ইন দ্য ডার্কও (২০০০) অস্কারে মনোনয়ন পায়। আইসল্যান্ডের বিখ্যাত গায়িকা বিজর্ক’কে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি অস্কারে সেরা মৌলিক গানের ক্যাটাগরিতেও মনোনয়ন পায়। যদিও পরবর্তী সময়ে সঙ্গীতশিল্পী বিজর্ক নাম উল্লেখ না করেই লার্স ভন তিয়ারকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এমনকি তিনি সেটের অন্যদের সঙ্গেও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ তোলেন ওই নারী; অবশ্য সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন লার্স ভন। তবে মজার বিষয় হলো, তিয়ারের চলচ্চিত্রে অভিনয় করা কেউই এ ধরনের অভিযোগ করেনি।
১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ডগমি ৯৫ আন্দোলন শুরুর পর লার্স ভন তিয়ার ব্রেকিং দ্য ওয়েভস (১৯৯৬) এবং দ্য ইডিয়টস (১৯৯৮) নির্মাণ করেন বিনা পারিশ্রমিকে। তার মধ্যে প্রথমটি অস্কারে মনোনয়ন পায় সেরা পুরুষ অভিনয়শিল্পী ক্যাটাগরিতে। তবে লার্স ভন তিয়ারের এতো সাফল্যে ভরা জীবনে বিতর্ক যে একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়। হতাশা ট্রিলজির (The Depression Trilogy) দ্বিতীয় চলচ্চিত্র মেলানকোলিয়া (২০১১) নির্মাণের পর তা কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনয়ন পায়। কিন্তু কান-এ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের আগেই নিজেকে জার্মান শাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের সমর্থক হিসেবে মন্তব্য করার জেরে তাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়; এমনকি ওই উৎসবে তাকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়। পরে লার্স ভন তিয়ার এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলে বিষয়টি মিটে যায়।
চরম আবেগী এই মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক হতাশায় ভোগেন। এমনকি কখনো কখনো হতাশার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কারো সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করেন না; ওই সময় কোনোধরনের কাজও করতে পারেন না তিনি। হতাশা ছাড়াও তার উচ্চতা নিয়ে তো ভয় আছেই। সে কারণে তিনি তার বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণ করেন ডেনমার্ক ও সুইডেনে। নিজের ফোবিয়া নিয়ে তিনি খোলাখুলিই বলেন, ‘চলচ্চিত্র ছাড়া জীবনের সবকিছুতেই আমার ভয়।’ নিজের জীবনে হতাশার অভিজ্ঞতা থেকে লার্স ভন ডিপ্রেশন ট্রিলজি নির্মাণ করেন--অ্যান্টিক্রাইস্ট (২০০৯), মোলানকোলিয়া (২০১১) এবং নিমফোম্যানিয়াক (২০১৩); যেগুলোতে আসলে তার নিজের জীবনের হতাশারাই প্রতিফলন ঘটেছে। অবশ্য সেই হতাশা তুলে ধরেই বিশ্বজোড়া সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১৬টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে লার্স ভন একশো ৭৬টি মনোনয়ন পেয়ে ৯৮টিতে পুরস্কার জিতেছেন।
৬৩ বছর বয়সি এই নির্মাতা দু’বার ঘর বেঁধেছেন; দুই স্ত্রীর গর্ভে চার সন্তানের জন্ম। তবে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকেই একাকী জীবন পার করছেন লার্স ভন। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্র ছাড়াও একটি করে টেলিফিল্ম, প্রামাণ্যচিত্র; দু’টি টেলিভিশন সিরিজ এবং বেশকিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণ করেন লার্স ভন। কিন্তু হতাশার ট্রিলজি নির্মাণের পর তিনি দীর্ঘ সময় বিরতি নিয়েছেন। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে মানসিক সমস্যানির্ভর ভৌতিক চলচ্চিত্র দ্য হাউস দ্যাট জ্যাক বিল্ট নির্মাণ করে দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটান এ নির্মাতা। চলচ্চিত্রনির্মাণ ও প্রযোজনার বাইরেও জার্মান এক্সপ্রেশনিজম, হাইপাররিয়ালিজম এবং ডগমি ৯৫ আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত তিনি। বিশেষ করে ডেনমার্কের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ডগমি ৯৫ আন্দোলন একটি মাইলফলক।
বিশ্বস্ততার কসম!
চলচ্চিত্র আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্বের খ্যাতনামা নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ও প্রযোজকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ আমন্ত্রিত হয়ে সেই সম্মেলনে হাজির হন লার্স ভন তিয়ার এবং তার স্বদেশি থমাস ভিনটারবার্গ। জাঁকজমকপূর্ণ সেই আয়োজনে শরিক হয়েও যেনো তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না এই দুই নির্মাতা। বড়ো বাজেটে নির্মিত হলিউডের চলচ্চিত্রের দাপট এবং প্রযুক্তির বাড়-বাড়ন্ত তাদেরকে ভিতরে ভিতরে কুরে কুরে খাচ্ছিল। তারা সবসময়ই ভেবেছেন, বাজেট কখনো গুণগত মান নির্ধারণ করতে পারে না; সেটা নিজেরাও দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্রের কাহিনি, অভিনয়, স্পেশাল ইফেক্টের ব্যবহার নিয়েও ভিন্ন চিন্তা ছিলো তাদের। সেইসব ভাবনা, ইতালির নব্য-বাস্তববাদ ধারা এবং ফ্রান্সের নিউ ওয়েভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্যারিসে বসে মাত্র ৪৫ মিনিটে ডগমি ৯৫ আন্দোলনের মেনিফেস্টো রচনা করেন চলচ্চিত্রের বিখ্যাত সমালোচক আঁদ্রে বাঁযার ভাব-শিষ্য লার্স ভন তিয়ার ও থমাস ভিনটারবার্গ। তারা সেই মেনিফেস্টোর নাম দেন বিশ্বস্ততার শপথ (Vows of Chastity)। ওই দিনই (১৩ মার্চ) সেই সম্মেলনে উপস্থিত সবার সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডগমি ৯৫ আন্দোলনের ঘোষণা দেন লার্স ভন। ডগমি মতাদর্শ যে বিশ্বস্ততার শপথের কথা বলে, তা ১০টি শর্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে; যার মূলকথা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক মায়ার বিরুদ্ধে লড়াই। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে মিল থাকলেও এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য হলো, নির্মাতার ওপর কিছু বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা, যাকে আন্দোলনকারীরা সৃজনশীল সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করে। তারা মনে করে, কখনো কখনো সম্পূর্ণ স্বাধীনতা থাকার ফলে সৃজনশীলতা বন্দি হয়ে পড়ে এবং অফুরান সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতা রাখলে, সৃজনশীলতা যেমন তৈরি হয়; পরবর্তী সময়ে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নির্মাতা অনেক ভালো মানের কাজ উপহার দিতে পারেন।
ডগমি ৯৫ আন্দোলনের মেনিফেস্টোতে২ বলা হয়েছে--
১. দৃশ্যধারণ অবশ্যই লোকেশনে গিয়ে করতে হবে। প্রপস এবং সেট কোনোভাবেই কেনা যাবে না। এমনকি গল্পের প্রয়োজনে কোনো প্রপসের প্রয়োজন হলে, এমন লোকেশন বাছাই করতে হবে যেখানে সেই প্রপস পাওয়া যাবে।
২. চলচ্চিত্রে কোনোভাবেই কৃত্রিম শব্দ তৈরি করা যাবে না। দৃশ্যধারণের সময় প্রাকৃতিক শব্দই ব্যবহার করতে হবে। যেখানে দৃশ্যধারণ করা হবে, সেই স্থানে সংলাপ, শব্দ ও সঙ্গীতের ব্যবহার না থাকলে বাইরে থেকে কোনোভাবেই তা চলচ্চিত্রে সংযোজন করা যাবে না।
৩. ক্যামেরা সবসময় হাতে ধরে রাখতে হবে। হাতে ধরে রেখেই স্থান পরিবর্তন কিংবা প্যান করা যাবে (টিল্ট আপ কিংবা টিল্ট ডাউনও করা যাবে)।
৪. চলচ্চিত্রটি অবশ্যই রঙিন হতে হবে। বাড়তি কোনো আলো ব্যবহার করা যাবে না। লোকেশনে আলোর পরিমাণ একেবারেই কম থাকার কারণে দৃশ্যধারণে সমস্যা হলে ক্যামেরার সঙ্গে কেবল একটি বাল্ব সংযোজন করা যাবে।
৫. চলচ্চিত্রে ‘অলৌকিক’ কোনো ঘটনার অবতারণা করা যাবে না এবং কোনোধরনের ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে না।
৬. কোনোভাবেই চলচ্চিত্রে কাউকে হত্যা কিংবা অস্ত্রের ব্যবহার দেখানো যাবে না।
৭. চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে দীর্র্ঘ বিরতি কিংবা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা নিষিদ্ধ (এক্ষেত্রে লোকশনে চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ শেষ করতে হবে। কোনোভাবেই পরবর্তী সময়ের দোহাই দিয়ে আধেয়ের কোনো অংশ অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না)।
৮. ন্যারেটিভধর্মী কিংবা ফরমুলানির্ভর চলচ্চিত্র গ্রহণযোগ্য নয়।
৯. চলচ্চিত্রটি অবশ্যই ৩৫ মিলিমিটারে নির্মাণ করতে হবে।
১০. চলচ্চিত্রের টাইটেলে নির্মাতার নাম অবশ্যই উল্লেখ থাকবে না।
এই মেনিফেস্টো ঘোষণা করেই থেমে যাননি লার্স ভন তিয়ার ও থমাস ভিনটারবার্গ। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে লার্স ভন নির্মাণ করেন ব্রেকিং দ্য ওয়েভস। তবে চলচ্চিত্রটি নির্মাণে ডগমি ৯৫ আন্দোলনের মেনিফেস্টো সঠিকভাবে মানা না হওয়ায় এটাকে এ ধারার চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সে কারণে থমাস ভিনটারবার্গের ফেস্টনকে (১৯৯৮) প্রথম ‘ডগমি চলচ্চিত্র’ হিসেবে ধরা হয়। নির্মাণের বছরই চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কার লাভ করে। একই বছর লার্স ভন তিয়ারের দ্য ইডিয়টসও মুক্তি পায়।
বিশ্বস্ততার শপথ মেনে দুটি চলচ্চিত্র মুক্তির পর আরো অনেকেই এগিয়ে আসেন; বাড়তে থাকে ডগমি ৯৫ আন্দোলনকারীদের সংখ্যা। এমনকি ডেনমার্ক থেকে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। একে একে নির্মিত হতে থাকে মিফিউনস লাস্ট সঙ (১৯৯৯), লাভারস (১৯৯৯), দ্য কিং ইজ অ্যালাইভ (২০০০), ইতালিয়ান ফর বিগিনারস (২০০০), অ্যামেরিকানা (২০০১), ওপেন হার্টস (২০০২) চলচ্চিত্র। ফ্রান্সের বংশোদ্ভূত মার্কিন নির্মাতা জঁ মার্ক বার থেকে শুরু করে হারমোনি করনিস’ও ডগমি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন; একে একে তাতে ডেনমার্কের অন্য নির্মাতারাসহ নানা দেশের উল্লেখযোগ্য নির্মাতারা যোগ হয়। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সর্বমোট ৩৫টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় ডগমির শর্ত মেনে। সেসব চলচ্চিত্রে গৎবাঁধা কাহিনির পরিবর্তে সমাজের ভিতরের বাস্তবতা উঠে আসতে থাকে; একই সঙ্গে সেগুলোতে কেবল নির্মাতা গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে উঠে চলচ্চিত্রের সবাই অর্থাৎ অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলীও সমান অংশীদার হয়ে ওঠে। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে এসে লার্স ভন ও ভিনটারবার্গ ডগমি চলচ্চিত্র আন্দোলন শেষের ঘোষণা দেন।
আসলে যে বিশ্বস্ততার শর্ত উল্লেখ করে লার্স ভন ও ভিনটারবার্গ এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন; তার অপব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছিলো। সত্য কথা বলতে কী, বিশ্বস্ততার শপথ যারা ঠিক করেছিলো, সেই দুজনও চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় ঠিক মতো সেসব পালন করেননি। লার্স ভন তিয়ারের ব্রেকিং দ্য ওয়েভস চলচ্চিত্রটি তো এসব শর্ত পূরণ না করার জেরে তালিকাতেই রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, দ্য ইডিয়টস নির্মাণের সময় কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিয়ম ভেঙেছেন; যেমন, দৃশ্যধারণের সময় অভিনয়শিল্পীদের জন্য খাবার কিনেছেন। এমনকি দ্য ইডিয়টস-এ ব্যবহৃত গাড়িটিও ভাড়া নেওয়া হয়েছিলো এবং চলচ্চিত্রে পিয়ানোর সুর সংযোজন করা হয়। যদিও সেখানে নাকি পিয়ানোর সুর সংযোজন করা হয়েছিলো দৃশ্যধারণের সময়ই।
তবে ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকেই ডগমি মেনিফেস্টোর ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রের ব্যাপারে কিছু কথা উঠছিলো। লার্স ভন তিয়ার ও থমাস ভিনটারবার্গও খেয়াল করছিলেন, শুরুর দিকের প্রভাব অস্বীকার করা না গেলেও ডগমি চলচ্চিত্রগুলো একটা ঘরানার হয়ে যাচ্ছে; সে কারণে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে ডগমি চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পাগল পাগল সবাই পাগল, আমরা পাগল ধরাধামে
লার্স ভন তিয়ার সবসময় ট্রিলজি আকারে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। কেবল টেলিফিল্ম মিডাকে তিনি কোনো ট্রিলজির ভিতর রাখেননি। ইউরোপা ট্রিলজি (দ্য এলিমেন্ট অব ক্রাইম, এপিডেমিক, ইউরোপা) দিয়ে তার সেই যাত্রার শুরু। এরপর গোল্ডেন হার্ট ট্রিলজিতে রাখেন, ব্রেকিং দ্য ওয়েভস, দ্য ইডিয়টস এবং ড্যান্সার ইন দ্য ডার্ক; পরে প্রস্তাব ও হতাশার দুটি ট্রিলজি নির্মাণ করেন তিনি। লার্স ভন নির্মিত ট্রিলজিগুলোর মধ্যে গোল্ডেন হার্ট ট্রিলজি খুবই প্রশংসিত হয়; অস্কারে এই ট্রিলজির দু’টি চলচ্চিত্র মনোনয়ন পায়। ব্রেকিং দ্য ওয়েভস মনোনয়ন পায় সেরা নারী অভিনয়শিল্পী ক্যাটাগরিতে এবং ড্যান্সার ইন দ্য ডার্ক মনোনয়ন পায় সেরা মৌলিক গানের ক্যাটাগরিতে।
এই ট্রিলজির চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণে ডগমি মেনিফেস্টো মেনে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তুলনামূলক কম জনপ্রিয়তা পাওয়া দ্য ইডিয়টস সেই শর্তগুলো সঠিকভাবে মেনে নির্মাণ করার কারণে ডগমি ক্যাটাগরিতে স্থান পায়। দ্য ইডিয়টস শুরুর দৃশ্যে দেখা যায়, ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান মধ্যবয়সি নারী কারেন। সেখানে খেতে বসার পর স্টোফার নামে এক মদ্যপ এসে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অপরিচিত কারেনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য নাছোড়বান্দা হয়ে জোরাজুরি শুরু করেন তিনি; কারেনও কী যেনো ভেবে স্টোফারের সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসেন। এরপর তারা একটি কারখানা ঘুরে দেখার পর স্টোফারের বাড়িতে হাজির হন। সেখানে স্টোফার ছাড়াও আরো নয় জনের বসবাস। আসলে এরা সবাই নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে; সোজাসুজি বললে ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ আরকি, সমাজে যাদেরকে প্রতিবন্ধী (মানসিক) বলা হয়। তবে স্টোফারের বাড়িতে সবাই স্বাধীন; নিজেদের ভিতরে লুক্কায়িত পাগলামি কিংবা যার যা খুশি, তা এখানে করা যায়। তারা একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজেরা যে আচরণ করে, সেটা অন্যদের সঙ্গেও করবে। সে অনুযায়ী বারে যাওয়া থেকে শুরু করে সুইমিংপুলে যাওয়া, ক্রিসমাস উপলক্ষে জিনিসপত্র বিক্রি, এমনকি স্টোফারের বাড়ি বিক্রির চেষ্টাও চলতে থাকে। এরই মধ্যে স্টোফারের জন্মদিন উপলক্ষে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে হাসি-আনন্দের একপর্যায়ে সংঘবদ্ধভাবে উন্মত্ত যৌনতায় মেতে ওঠে সবাই।
এ ঘটনার খানিকবাদেই জসফিনে নামে এক তরুণীকে সেই দল থেকে নিয়ে চলে যায় তার বাবা। আর তারপরই যেনো বিষাদে ভরে যায় দলের সবার মন। ঠিক করা হয়, এবার দল ছেড়ে সবাই চলে যাবে। সে অনুসারে লটারি করে নির্ধারণ করা হয় কার পর কে চলে যাবে। লটারিতে একপর্যায়ে নাম আসে কারেনের। ততোদিনে সুসানে নামে এক নারীর সঙ্গে কারেনের মনের মিল হয়ে গেছে। সবাইকে ছেড়ে যেতে কষ্ট হলেও সামর্থ্যরে জায়গা থেকে সুসানেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন কারেন। এতোদিন সেই দলে যেভাবে নিজের মতো করে চলেছেন, বাড়ি ফিরেও কারেন সে ধরনের আচরণ করতে থাকেন। কিন্তু তার সে আচরণ মেনে নেন না স্বামী; সজোরে চড় বসিয়ে দেন গালে। একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে আবারও বেরিয়ে পড়েন কারেন ও সুসানে।
চলচ্চিত্রটি দেখার সময় যেকোনো দর্শকেরই খটকা লাগার কথা। বিশেষ করে স্টোফারদের ১১ জনের কর্মকাণ্ডে দর্শকের মনে হতেই পারে, এসব কোন ধরনের পাগলামি! সেই বিবেচনায় চলচ্চিত্রটির নামকরণ একেবারেই নিখুঁত হয়েছে। কিন্তু দ্য ইডিয়টস-এ কি আসলেই পাগলামি দেখানো হয়েছে; এগুলোর কি আদৌ কোনো ভিত্তি নেই? এর উত্তর পেতে হলে চলচ্চিত্রটির আধেয় বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। তাহলেই জানা যাবে, আসলে ওই দলের সদস্যরা ঠিক কী কারণে এমন করেছে এবং সেগুলোর ভিত্তিইবা কী।
দ্য ইডিয়টস-এ সেই দলের ১১ জন তাদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে স্টোফারের বাড়িতে বসবাস করে। তাদের মনের মধ্যে অচেতনে কিংবা চেতনে যা ঘটে, সে অনুসারে যাবতীয় আচার-আচরণ করে তারা। বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক সিগমুণ্ড ফ্রয়েডও তার মনোসমীক্ষণ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে মানুষের মনের গহীনে লুক্কায়িত মননপ্রক্রিয়া এভাবে উপলব্ধি করে মানসিক চিকিৎসা করতেন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভিয়েনায় সহযোগী জোসেফ ব্রুয়ারের সঙ্গে মানসিক রোগীদের ব্যাপারে কাজ করেন ফ্রয়েড। ওই সময় তিনি লক্ষ করেন, সম্মোহিত অবস্থায় রোগীরা তাদের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা ভাবনা ও উদ্দীপনা যখন সচেতন স্তরে নিয়ে এসে বলতে পারে এবং সে অনুসারে কাজ করে, তখন অনেকটাই সুস্থ বোধ করে। ফ্রয়েড নিজের অভিজ্ঞতায় আরো দেখেছেন, সম্মোহিত অবস্থা ছাড়াও তার রোগীরা অনর্গল যেখানে সেখানে নিজেদের মতো করে আচরণ করতে পছন্দ করে। এ ধরনের কাজে ফ্রয়েড সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন।
আসলে ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন বা অবাধ ভাবানুষঙ্গ যাকে বলা হয়, সেই পদ্ধতিতে রোগীর যা মনে হয়, রোগী সে ধরনের আচরণই করে। সেই হিসেবে স্টোফারের বাড়িতে তার দলের ১১ জনকে সার্বক্ষণিক ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যেই থাকতে দেখা যায়। চিকিৎসা শাস্ত্র মোতাবেক সেটা মানসিক রোগীর চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এ ধরনের অবাধ ভাবানুষঙ্গের পরেও কিন্তু কিছু বিষয় মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা গোপন রাখতে চায়। ফ্রয়েডও খেয়াল করেছেন, তার রোগীরা যৌন উদ্দীপনা অবদমন করে পীড়িত হওয়ার ফলে এ ধরনের কাজ করেন। আসলে মানুষের যৌন উদ্দীপনার মধ্যে যে আবেগ লুকিয়ে থাকে, সেটা অবদমন করার ফলে তার মধ্যে উদ্বিগ্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে অবদমিত আবেগ নানাধরনের রোগলক্ষণ বা উপসর্গ আকারে প্রকাশ হয়। মূলত, ভয়, আতঙ্ক, অপরাধবোধ, আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক মনোভাবের ফলেও উদ্বিগ্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়। কাছের কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলেও এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
দ্য ইডিয়টস-এ এ সমস্যা তৈরি হওয়া এবং বেরিয়ে আসার সবগুলো বিষয়ই উপস্থিত। কারেন নামে যে নারী সর্বশেষ স্টোফারের দলে যোগ দেন, তিনি আসলে নিজের সন্তানের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। এমনকি সন্তান মারা গেছে জেনে তিনি আর বাড়িতেই ফিরতে পারেননি। বাস্তবতা মেনে নিতে না পারা এবং সেই বিষয়টি অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা করতে না পারার কারণে উদ্বিগ্নতা থেকে মানসিক সমস্যা তৈরি হয় তার মধ্যে। তবে স্টোফারের দল ছেড়ে বাড়ি ফেরার পরও কারেন নিজের মনমতো খাবার খেতে থাকেন; যেটা আসলে ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া সুইমিংপুলে যাওয়ার পর নিজের ইচ্ছানুসারে নারীদের বাথরুমে যান স্টোফার, সেটাও ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন। একই কারণে বারে গিয়ে সেখানকার টয়লেটে প্রস্রাব করতে গিয়ে তাদের দলের জেপি’র বাসনা জাগে, কেউ যেনো তার যৌনাঙ্গ ধরে রাখে। নিজেদের মনের ইচ্ছা গোপন না করে সে অনুসারে কাজ করার ফলে একদিকে যেমন উদ্বিগ্ন হওয়া থেকে বাঁচা যায়, সেই সঙ্গে কাটিয়ে ওঠা যায় মানসিক সমস্যাও।
লার্স ভন তিয়ারের আলোচিত কিছু চলচ্চিত্রের পোস্টার
স্টোফারের জন্মদিনে নিজেদের খুশিমতো উন্মত্ত যৌনতায় মেতে ওঠে সবাই। মনস্তত্ত্বানুসারে মনের সেই ইচ্ছা তারা অবদমন করলে একধরনের উদ্বিগ্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। তবে এ ধরনের কাজে উদ্বিগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া যেমন আটকানো যায়, মানসিক সমস্যাও কাটিয়ে ওঠা যায়। সেই হিসেবে স্টোফারের বাড়িটাকে মানসিক রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের যেমন আবেগজাত সম্পর্ক তৈরি হয়; চিকিৎসকের সঙ্গেও মানসিক রোগীদের সে ধরনের আবেগের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার ফলে অচেতনভাবেই রোগী তার চিকিৎসকের কাছে অবদমিত কামনা-বাসনাকে প্রকাশ করতে পারে এবং এ প্রক্রিয়ায় মানসিক রোগী সেরে ওঠে। একই ঘটনা ঘটে স্টোফারদের দলের সদস্যদের মধ্যেও। তারা একে অন্যকে ঘনিষ্ঠ ভেবে অচেতনেই নিজেদের অবদমিত কামনা-বাসনা পূরণ করে। যার জেরে একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারে। এই চলে যাওয়াকে কল্পনা করা যেতে পারে, কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার সঙ্গে। সেই হিসেবে, দ্য ইডিয়টস আসলে খেয়াল-খুশিমতো বাস্তবতা বিবর্জিতভাবে নির্মিত তো নয়ই, বরং জটিল মনস্তত্ত্বের শক্ত গাঁথুনিতে নির্মিত।হিসাব মেলানোর পালা
এবারে দেখা যাক, দ্য ইডিয়টস-এ ডগমি মেনিফেস্টো কতোটা মেনে চলা হয়েছে। প্রথম শর্ত মোতাবেক এই চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণ লোকেশনে করা হয়েছে। দৃশ্যধারণের প্রয়োজনে বাস্তবে রেস্টুরেন্ট, কারখানা, সুইমিংপুল, বার ও পার্কে গেছেন লার্স ভন তিয়ার। চলচ্চিত্রের প্রপস এবং সেট দেখে কোনোভাবেই সেগুলো কেনা বলে মনে হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে প্রপসের প্রয়োজন হলে, সে ধরনের লোকেশন বাছাই করতে দেখা গেছে। যেমন, পানিতে খেলার সময়কার খেলনাগুলো কেবল সুইমিংপুলেই পাওয়া যায়, আর কারখানায় প্রবেশের সময়কার পোশাকও সেখানকার। স্থানান্তরের প্রয়োজনে সবসময় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় শর্তও মেনে চলা হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র শুরুর দৃশ্যে এবং টাইটেল কার্ড দেখানোর সময় পিয়ানো বাজানোর সুর শোনা যায়। লার্স ভন স্বীকার করেছেন, দৃশ্যধারণের সময়ই পিয়ানো বাজিয়ে সুরও ধারণ করা হয়েছে; আলাদাভাবে সেটা সংযোজন করা নয়। তার পরেও এ নিয়ে তাকে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি। অবশ্য দৃশ্যধারণ করার সময় সেই স্থানে সঙ্গীত না বাজলে কোনোভাবেই তা চলচ্চিত্রে সংযোজন করা যাবে না বলে যে শর্ত রয়েছে, সেটাও পালন করা হয়েছে। সেজন্য গাড়িতে চড়ে স্টোফাররা যাওয়ার সময় ওই দলের সদস্যরা নিজেরা গান গাইতে থাকে। অন্য কোনো শিল্পীর গাওয়া গান সেখানে সংযোজন করা হয়নি। খুব সচেতনভাবেই লার্স ভন গাড়িতে ক্যাসেটও বাজাননি।
ডগমি মেনিফেস্টো মেনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করার কারণে সবসময় ক্যামেরা হাতে ধরে রাখা হয়েছে। এজন্য চলচ্চিত্রজুড়েই ফ্রেমে একধরনের কাঁপুনি লক্ষ করা যায়। একদিক থেকে অন্যদিকে সরাতে গিয়ে হাতে ধরেই ঘোরানো হয়েছে ক্যামেরা। যদিও সেটা দৃষ্টিকটু মনে হয়নি। এছাড়া রঙিন এই চলচ্চিত্রে বাড়তি কোনো আলো ব্যবহার করা হয়নি। স্টোফারের বাড়িতে রাতের দৃশ্য ধারণে বাড়তি মোমবাতি জ্বালাতে দেখা যায়। আর মোমবাতির আলোতে দৃশ্যটাও ফুটে ওঠে দারুণভাবে। যদিও এর ফলে কিছু কিছু জায়গায় কারো কারো চেহারা অতি লালবর্ণ ধারণ করেছে। তবে ফিল্টার করার অনুমতি না থাকায় দৃশ্যটি সেভাবেই রাখা হয়।
চলচ্চিত্রটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা গতি আছে। এখানে কোনোধরনের ফ্ল্যাশব্যাক বা দীর্ঘ বিরতি নেই। এমনকি এক জায়গা থেকে হুট করে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার ব্যাপারও নেই। সবমিলিয়ে দ্য ইডিয়টস ফরমুলানির্ভর চলচ্চিত্র তো নয়ই, বলা চলে তুলনামূলক কম জনপ্রিয়তা পেলেও লার্স ভন তিয়ারের এটা মাস্টারপিস। যদিও ডগমি মেনিফেস্টো অনুসারে চলচ্চিত্রে নির্মাতা হিসেবে কারোরই ক্রেডিট দেওয়া হয়নি।
পরমে পরম জানিও
বড়ো বাজেট ও প্রযুক্তির আগ্রাসনকে অগ্রাহ্য করে যে লড়াই করেছে ডগমি ৯৫ আন্দোলনকারীরা, তার ফল হিসেবে তারা হয়তো খুব বড়ো কিছু করতে পারেনি, তবে নবীন চলচ্চিত্রনির্মাতাদের জন্য একটা রাস্তা বাতলে দিতে পেরেছিলো। খুব বেশি বাজেট ছাড়াও কীভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যায়, তাতে সংশ্লিষ্ট সবার সমান অংশগ্রহণ থাকে, গুণগত মান বজায় থাকে, তার দৃষ্টান্ত ডগমি ৯৫ আন্দোলনে নির্মিত ৩৫টি চলচ্চিত্র। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার কবিতায় যে জঞ্জাল সরানোর মহাসংগ্রামের কথা বলেছেন, বাস্তবে নিজেদের স্বার্থ ছেড়ে সেটা করতে মাঠে নেমেছিলো লার্স ভন তিয়াররা। তবে এখনকার পৃথিবীতে তো অন্ধরাই চোখে বেশি দেখে; আর মানুষের প্রতি যাদের ব্যাপক আস্থা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে মহৎ রীতি কিংবা শিল্প সাধনার জন্য যারা প্রাণপণে লড়ে যায়, তারা বরাবরই অবহেলিত, উপেক্ষিত। অথচ লার্স ভন তিয়ার কিংবা থমাস ভিনটারবার্গদের যে খুব দরকার, অন্য কোনো আন্দোলনে কিংবা নতুন পথের সন্ধানে।
লেখক : কাওসার বকুল, দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।
bokulmcj71@gmail.com
https://wwws.facebook.com/kawsar.bokul.9
তথ্যসূত্র
১. কবিতার এই লাইন কয়টি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
2.https://nofilmschool.com/2014/02/explanation-of-the-controversial-film-movement-dogme-95-by-co-creator-lars-von-trier; retrieved on: 11.08.19
বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ১৮তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন