Magic Lanthon

               

সোফি ভিকের্স

প্রকাশিত ১৬ জুন ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থাপন

সোফি ভিকের্স

 ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থাপন, ছবি: এআই


হরর বা ভৌতিক চলচ্চিত্রে কীভাবে নারীর উপস্থাপন করা হয় এ বিষয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছি। চলচ্চিত্রে সাধারণত নারীকে দুর্বল, সহজসরল ও ক্ষমতাহীন হিসেবে উপস্থাপন করা হয় (তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে)। একই সঙ্গে চরম দুর্দশার মধ্যেও নারীকে তুলে ধরা হয় অস্বাভাবিক যৌন-ক্ষমতা সম্পন্ন হিসেবে। ভৌতিক চলচ্চিত্রের সমালোচক মার্ক জানকোভিস বলেন, ‘ভৌতিক চলচ্চিত্রে সৌন্দর্য ও পশুত্বের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের বিষয়টিই গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার।’ বিষয়টা এ রকম যে, ভৌতিক চলচ্চিত্রে যেখানে পশুকে জঘন্য ও ভয়ঙ্করভাবে দেখানো হয়, সেখানে নারীর উপস্থাপন সুন্দর হওয়াই উচিত।

   ভৌতিক চলচ্চিত্রে লৈঙ্গিক বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, পর্দায় গগণবিদারী শব্দ করে আসা কোনো পুরুষের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়ার আগে নারীকে কেবল অর্ধনগ্ন হিসেবেই দেখানো হতো। নারীর এই উপস্থাপন পর্দায় তার অবস্থানকে একেবারেই নড়বড়ে করে ফেলে। অন্যদিকে অধিকাংশ হলিউডি চলচ্চিত্রে তো একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের নামে নারীকে সেই পুরুষের সেবাতেই ব্যবহার করা হয়।

   তবে ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারী ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে মূলত ৭০-এর দশকে। ওই সময় নারীবাদের উত্থানের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছিলো। এ ধরনের চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র মারপিট করে এবং ফাইনাল গার্ল (ফাইনাল গার্ল--যে নারী চরিত্র চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত বেঁচে থেকে প্রতিশোধ নেয়) হয়ে গল্পের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। হ্যালোইন, ফ্রাইডে দ্য থার্টিনথ, অ্যা নাইটমেয়ার অন এলমস স্ট্রিট, স্ক্রিম, ফাইনাল ডেসটিনেশন, দ্য টেক্সাস চেইনসো ম্যাসাকর, আই নো হোয়াট ইউ ডিড লাস্ট সামার, হেলরেইজার, এলিয়েন, দ্য এস্ট্রেঞ্জারসটেরর ট্রেইন-এর মতো অনেক চলচ্চিত্র আছে, যেগুলোতে ফাইনাল গার্ল দেখা যায়। এসব চলচ্চিত্রে ফাইনাল গার্লদের এমন সব নাম রাখা হলো, যাতে বোঝার উপায় ছিলো না এরা আসলে নারী না পুরুষ। যেমন, বিললি, সিডনি, টেডি ও জর্জি। এসব নারীকে চলচ্চিত্রের গল্পের পটভূমি সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নির্মাতারা অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছে। অন্যভাবে বললে, এটাই চলচ্চিত্রের ‘অনুসন্ধানী চৈতন্য’ হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে নারী সাধারণভাবে কৌতূহলী, সজাগ ও বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে ওঠে। ফলে ভৌতিক চলচ্চিত্র সমাজ ও চলচ্চিত্রের অন্যান্য শাখায় বেশ প্রভাব রাখে।

   ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নির্মিত ভৌতিক চলচ্চিত্রগুলো বর্তমানের এ ধরনের চলচ্চিত্রকে বেশ প্রভাবিত করেছে। সেসময় নির্মাতারা প্রায় নিষ্পাপ, অসহায় ক্ষমতাহীন নারীকে ভৌতিক চলচ্চিত্রে তুলে ধরতো। এক্ষেত্রে নসফেরাতু (১৯২২) চলচ্চিত্রটির কথা বলা যেতে পারে। এতে অ্যালেন নামের নারী চরিত্রটি এমন একটি বই খুঁজে পান, যেখানে একজন রক্তচোষাকে কীভাবে হার মানাতে হয় সেই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা থাকে। তবে এক্ষেত্রে একমাত্র শর্ত হলো, এটা এমন একজন নারী করতে পারবে, যে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী। নিজের চেষ্টায় যে নারী ওই রক্তচোষাকে সারারাত অন্যমনষ্ক করে রাখতে পারবে। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের দিকের ভৌতিক চলচ্চিত্রগুলোতে নারীকে অনেক সময় রাজকুমারী হিসেবেও দেখানো হতো, যারা ছিলো অনেকটাই দুর্বল ও অসহায়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় নসফেরাতুতে; অ্যালেন যখন জানালা খুলে রক্তচোষাকে ভিতরে আসতে দেন, তাকে দেখে তিনি আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে যান। আর এরই মাধ্যমে বোঝা যায়, নারী সম্পর্কে দর্শকের ধারণা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অথচ পরবর্তী সময়ের চলচ্চিত্রে খুনিদের অবান্তর ঘোষণা করে ‘ফাইনাল গার্ল’ বেঁচে থাকছে।

   সাইকো ফিল্ম উত্তর যুগে নারীর উপস্থাপন অনেকটা সন্তোষজনক হলেও ওই যুগেও নারীকে দুর্বল করে দেখানো হতো। অধিকাংশ চলচ্চিত্রে তাদের জবাই করে হত্যা করা হতো। এছাড়া ৭০ দশকে আরেকটি ধারার কথা বলা যায়। যেখানে দেখানো হতো, নারী যৌনক্রিয়ায় খুবই সক্রিয় এবং মাদকে আসক্তসহ নানা খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত। চলচ্চিত্রের শেষ পর্যায়ে ওই নারীকে মেরে ফেলা হতো কিংবা তাকে মৃত দেখানো হতো। এ বিষয়টিকে অধ্যাপক কেন্ডাল পিলিপস ‘যৌন সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যে, একজন নারী যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া মানেই তাকে হত্যা করতে হবে। এটি একটি নতুন ধারণার সৃষ্টি করে। অর্থাৎ ভৌতিক চলচ্চিত্রে যৌনক্রিয়া সমান মৃত্যু। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে হ্যালোইন চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রে অভিনয় করা জামি লি কারটিস ওই ধারার উপযুক্ত উদাহরণ। চলচ্চিত্রের গল্পে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়ার পর তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। এর ঠিক ২০ বছর পর স্ক্রিম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ নিয়ম ভাঙা হয়। এতে অভিনয় করেন নেভি কামবেল।

   আসলে বহু লেখক ও নির্মাতা নারীকে অসহায় কুমারী হিসেবে তুলে ধরেছে। কারণ এর মাধ্যমে তারা পুরুষ দর্শককে আকৃষ্ট করতে চায়। অধিকাংশ ভৌতিক চলচ্চিত্রে বিশেষ করে ৭০ দশকের পরে নির্মাতারা নারীকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরে। এ নিয়ে পুরুষ দর্শককে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়, কারণ তারা ওই দুর্বল নারীর জন্য একধরনের অসহায় বোধ করে। ৭০ দশকে যখন ভৌতিক চলচ্চিত্রের নারী দর্শক বাড়তে থাকে, তখন সেখানে অভিনীত নারী চরিত্রগুলো অনেক বেশি ক্ষমতাধর হতে শুরু করে। এটা ঘটে মূলত দুটি কারণে--প্রথমত, নির্মাতারা নারী দর্শককে আকৃষ্ট করে যতোটা সম্ভব অর্থ উপার্জন করতে চায় (বর্তমানে পশ্চিমে প্রেক্ষাগৃহের দর্শকের প্রায় অর্ধেক নারী)। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন হিসেবে নারীবাদের উত্থান। কারণ নারীকে এখন আর বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখা যায় না। ফলে ওই সময়ের ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীবাদও প্রভাব ফেলেছে।

   ৯০-এর দশকের ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীকে খুবই শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হতে দেখা যায়। সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস, থেলমা অ্যান্ড লাউজ অথবা টারমিনেটর ২ : জাজমেন্ট ডে প্রভৃতি চলচ্চিত্র এর বড়ো উদাহরণ। তবে এটা অনেকগুলো কারণে ঘটেছে। তার মধ্যে একটি কারণ হলো, ওই সময়ের ভৌতিক চলচ্চিত্রের জন্য অর্ধেক নারী দর্শক টার্গেট থাকলেও, তারও বেশ কয়েক বছর আগে নারীদের ভৌতিক চলচ্চিত্র দেখা অনেকটাই নিষিদ্ধ ছিলো। যদিও অনেকেই আগ্রহী ছিলো এ ধরনের চলচ্চিত্র দেখতে। হ্যালোইন (২০০৭), ফ্রাইডে দ্য থার্টিনথ (২০০৯) ও নাইটমেয়ার অন এলমস স্ট্রিট (২০১০) নিয়ে সম্প্রতি প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। তবে বর্তমানে হলিউডের অনেক নির্মাতাই এ ধরনের চলচ্চিত্রে নারীদের নিষ্পাপ, অসহায়ভাবে উপস্থাপনের পরিবর্তে শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হিসেবে উপস্থাপনে ইতস্তত বোধ করছে না। আর এখনকার এই উপস্থাপনও ইতিবাচক কিছু নয়। সম্প্রতি পিরানহা (২০১০) চলচ্চিত্রে দুই তরুণীকে হত্যা করা হয়, শুধু তারা পর্ন স্টার ছিলো বলে! অথচ ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীকে কীভাবে তুলে ধরা হবে, সেটা নারীরা কোন যুগে বা কোন সময়ে অবস্থান করছে সেটার ওপর নির্ভর করার কথা ছিলো না। তবে এটা ঠিক, সব যুগেই নারীকে কিছুটা ভিন্নভাবে বা যৌন উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

   সত্যি বলতে, ভৌতিক চলচ্চিত্রে পুরুষকে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়ার জন্য শাস্তি তো দেওয়াই হয় না, বরং প্রশংসা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথাই এখানে অনুসরণ করা হয়; ঠিক করে দেওয়া হয় নারী পুরুষের আচরণ ঠিক কী হওয়া উচিত। সাধারণত যে নারীরা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয় তাদের নানাধরনের খারাপ নামে ডাকা হয়। অন্যদিকে ওই কাজের জন্য পুরুষদের স্বাগত জানানো হয়।

   সাইকো (১৯৯৮) অত্যন্ত আলোচিত একটি চলচ্চিত্র। একজন সিরিয়াল কিলারের কাহিনি নিয়ে এটি নির্মিত। মরিয়ন, যিনি টাকা ও গাড়ি চুরি করে তার ছেলেবন্ধুকে সহযোগিতা করেন। চলচ্চিত্রে তাকে উপস্থাপন করা হয় একজন যৌনসেবক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে আততায়ীর হাতে মরিয়ন খুন হন। দর্শক অনুমান করে ওই হত্যাকারী ছেলেবন্ধু নরম্যানের মা। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীরা ক্ষমতাশীল এবং একই সঙ্গে বিদ্বেষীও হয়। নারীকে আখ্যানভাগে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ব্যবহার করাও শুরু হয়।

   আধুনিক ভৌতিক চলচ্চিত্রগুলোও আগের গল্পেরই সাম্প্রতিক রূপ। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ওহিভারতামবোরিনি চলচ্চিত্রের কথা বলা যেতে পারে। এছাড়া বর্তমানে অন্যান্য অনেক চলচ্চিত্রে ভৌতিক চলচ্চিত্র প্রভাব রাখে। উদাহরণ হিসেবে ব্ল্যাক কমেডি’র কথা বলা যায়। এ চলচ্চিত্রে বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীদের নায়িকা হিসেবে নেওয়া হয়। নারীকে উপস্থাপন করা হয় শক্তিশালী, প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিমান হিসেবে। তবে এ ধরনের চলচ্চিত্রে নারী হত্যাকারীর বিপরীত পুরুষ হত্যাকারীরা। পুরুষদের অনেককেই প্রচণ্ড সহিংস, ধর্ষণ এবং খোজাকরণের মতো কাজ করতে দেখা যায়। অনেক পুরুষ খুনি নিজেদের প্রকাশ করে এক ভয়ঙ্কর দানব হিসেবে। অথচ নারী একেবারে এর বিপরীত। কারণ নারী খুনিরা পরিবর্তিত হয় না; তবে তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

   ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারীর অবস্থান সমাজ ও চলচ্চিত্রের অন্যান্য শাখায় প্রতিধ্বনিত হয়। অনেকের মতে, মার্টারস (২০০৯) চলচ্চিত্রটি এ পর্যন্ত যতো ভৌতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক। এ চলচ্চিত্রে জেসি পামকে (লুসি) খারাপ মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি পালিয়ে বেড়ান এবং প্রতিশোধ নিতে চান। তার সঙ্গী এরিকা ইস্কট (আনা)। চলচ্চিত্রটি খুবই চমৎকার এ কারণে যে, এখানে দেখানো হয় একজন দুর্বল, অসহায় নারী কীভাবে পরবর্তী সময়ে দুর্ধর্ষ খুনিতে পরিণত হয়। লুসিকে এ রকম উল্টোভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে দর্শক নির্মাতার হাতের মুঠোয় থাকে এবং নারীর এ রকম উপস্থাপন সন্দেহ ও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়।

   নারীবাদের উত্থানের কারণে ভৌতিক চলচ্চিত্রের ফাইনাল গার্লকে একপ্রকার আন্দোলন হিসেবে চিন্তা করা যেতে পারে। কারণ চলচ্চিত্রে ওই অভিনয়শিল্পীকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়। আবার এমন হতে পারে, শুধু পুরুষ দর্শককে আনন্দ দেওয়ার জন্যও ফাইনাল গার্লকে এভাবে ক্ষমতা দেওয়া হয়। ‘ম্যান, উইম্যান অ্যান্ড চেইনসোজ’ গ্রন্থের লেখক ক্যারল জে ক্লভার বলেন, ‘চলচ্চিত্রে দানব ও নায়কের অভিনয় পুরুষকে দিয়ে করানো হয় এবং যিনি খারাপ পরিস্থিতির শিকার সেই চরিত্রে অভিনয় করানো হয় নারীকে দিয়ে। বিষয়টি হলো নারী যখন দানব ও নায়ক হিসেবে পুরুষের পোশাক পরিধান করে, অভিনয় করে এবং পুরুষের মতো আচরণ করে, তখন পুরুষ যারা খারাপ পরিস্থিতির শিকার তারাও শেষ মুহূর্তে নারী রূপ ধারণ করে।’

   ঠিক এ বিষয়টিই হ্যালোইন চলচ্চিত্রে দেখানো হয়। খুনিদের অনেকেই মিয়ারের সঙ্গে যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হয় এবং প্রচুর মাদক নেয়। চলচ্চিত্রটি ভৌতিক চলচ্চিত্রে নারী-পুরুষের ভূমিকা তুলে ধরে। আসলে আমি আগেই বলেছি, সমাজে যে জেন্ডার বেশি ক্ষমতাবান সেই জেন্ডার চলচ্চিত্রেও শক্তিশালী হয়। এছাড়া উপরের উদ্ধৃতি এটাই প্রমাণ করে, যদি একজন নারী নায়ক বা খুনি হয়, তাহলে সেও পুরুষালী বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। কারণ তখন পুরুষকেই বেশি আবেগী ও শক্তিশালী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলে মনে করা হয়।

   স্ক্রিম চলচ্চিত্রে ওয়েস ক্রাভেন দেখান, সিডনি দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন এবং খুনির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এ দৃশ্যের কারণে ওই নারী চরিত্রকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যাই হোক, ক্রাভেন এই অস্বাভাবিক আচরণ তুলে ধরেছেন, পরবর্তী সময়ে এ রকম আচরণের বৈপরীত্য প্রকাশ করতে। সিডনিকে দেখানো হয়, একজন পুরুষের পাশাপাশি শক্তিশালী, প্রভাবশালী প্রধান চরিত্র হিসেবে। তবে বিষয়টি দর্শকের মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ তৈরি করে। এছাড়া এলিয়েন চলচ্চিত্রে সিগোরনি উইভার নামে একজন ভয়ঙ্কর এলিয়েন মা চরিত্রে অভিনয় করেন। যিনি ছিলেন রাক্ষুসে এবং খাঁজওয়ালা যোনির অধিকারী। শেষ দৃশ্যে সিগোরনি পটারস তার জাহাজে ফেরার আগে কমলা বর্ণের বিড়ালের সঙ্গে ঘুমাতে যান। সিগোরনির অনেক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের পরে ওই দৃশ্যটি গুরুত্ব বহন করে। কারণ দর্শক নারী চরিত্রকে কীভাবে গ্রহণ করবে দৃশ্যটি তারই ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র : মূল লেখাটির হদিস পেতে ঢু মারতে পারেন এই লিঙ্কে https://bit.ly/30oNheu; retrieved on: 22.02.2019

লেখক : সোফি ভিকের্স চলচ্চিত্র প্রযোজক। তিনি ২০১২ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রকস নেস্ট এনটারটেইনমেন্ট-এ যোগদান করেন। তার প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে অভিয়াস চাইল্ড, স্মল ক্রাইম, ট্রাম্পস, দ্য উইচ ইত্যাদি।

ভাব-ভাষান্তর : আহমেদ মাসুম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে নিজ গ্রামে ফিরে তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা শেখানোর কাজে নিয়োজিত আছেন।

https://www.facebook.com/ahmed.masum.1291 

বি:দ্র: প্রবন্ধটি জুলাই-২০১৯ (১৭ সংখ্যা) ম্যাজিক লণ্ঠন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন