সুশান্ত সিনহা
প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
প্রসঙ্গ সম্প্রচার সাংবাদিকতা
আউট অব ভিশন, আউট অব মাইন্ড
সুশান্ত সিনহা

দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টায় দেশে-বিদেশে অসংখ্য ঘটনা ঘটে। এগুলোর মধ্য থেকে সংবাদমূল্য অনুযায়ী সংবাদ সম্প্রচার করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। সংবাদমূল্যের ভিত্তিতে সংবাদের ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। টেলিভিশন মাধ্যমে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি প্যাকেজ বা প্রতিবেদন নামে পরিচিত। সব সংবাদই প্যাকেজ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আবার সংবাদমূল্যের তারতম্যের পাশাপাশি বুলেটিনের রানডাউন সাজাতে সংবাদ উপস্থাপনের ধরনে পরিবর্তন আনতে হয়। সংবাদ উপস্থাপনের এই ধরনের একটি ‘উভ’ (OOV) সংবাদ, যা আউট অব ভিশন নামে পরিচিত। কোনো কোনো চ্যানেল এটাকে ভয়েস ওভার বা ভিও বলে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দিনে-রাতে যতো সংবাদ সম্প্রচার করা হয়, তার মধ্যে উভের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি। ফলে উভ সংবাদের অবস্থান ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু এই অতি প্রয়োজনীয় সংবাদ পরিবেশনের ধরনটি লেখা ও ছবি ব্যবহারে কতোটা মনোযোগ পায় সম্প্রচার সাংবাদিকতায়? সম্প্রচার সাংবাদিকতার ধারাবাহিক আলোচনার ষষ্ঠ পর্বে থাকছে উভ বিষয়ক পর্যালোচনা। আলোচনার সুবিধার্থে এখানে ‘এটিএন নিউজ’, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’, ‘সময় টিভি’, ‘চ্যানেল টুয়েন্টিফোর’ ও ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের বিভিন্ন রাতের প্রাইম বুলেটিন থেকে বেশকিছু উভ সংবাদ উদ্দেশ্যমূলক নমুনায়নের মাধ্যমে স্ক্রিপ্টগুলো স্ব স্ব চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
উভ বা ভিও আলোচনার সঙ্গে আরেকটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা হলো উভ-সট্। কখনো কখনো অনুষ্ঠান বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরার প্রয়োজন হয়। তখন উভের সঙ্গে সাউন্ড বাইট বা সট্ যুক্ত করে সংবাদ করা হয়, যা উভ-সট্ বা ভিও সট্ হিসেবে পরিচিত। উভ আর উভ-সট্ পরস্পরে সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক সময় দেখা যায়, বক্তার মুখের কথা দিয়ে উভ সংবাদের ইন্ট্রো বা টপ লাইন করা হয়। কিন্তু ভিতরে বিস্তারিত লিখলেও মূল তথ্য সম্পর্কে তেমন কিছু লেখা হয় না। যুক্তি দেওয়া হয়, সেখানে বক্তার মুখে কথাটা থাকে বলে ভিতরে উহ্য রাখা হয়। কিন্তু মুশকিল হলো, কখনো সময় স্বল্পতার কারণে সট্ দিতে না পারলে সংবাদটির ছন্দপতন ঘটে, তথ্যও গুরুত্ব হারায়। বিশেষ করে দর্শক-শ্রোতা এর কোনো অর্থ খুঁজে পায় না। যদিও হরহামেশাই এমন ছন্দপতনের উভ সম্প্রচার হয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে।
সমস্যা ব্যক্তির না প্রতিষ্ঠানের?
অবশ্যই গুণে-মানে অনেক ভালো উভ সম্প্রচার হচ্ছে চ্যানেলগুলোতে। আবার অপ্রয়োজনীয় কথাও লেখা হয় অনেক উভে। এমন কী অনেক কথার ভিড়ে কখনো কখনো সংবাদের মূল উপাদানই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। অথচ একটু মনোযোগ দিলে আসল তথ্য তুলে ধরে অল্পের মধ্যে গোছানো সংবাদ লেখা যায়। নমুনায়িত টেলিভিশনগুলোতে এমন উভের সংখ্যা নেহাতই কম না। উল্টো দিকে দায়সারা গোছের উভের সংখ্যাও অনেক। সংবাদ সংগ্রহ শেষে অফিসে ফিরে যেনো ২৫—৩০ সেকেন্ডের জন্য একটু কিছু লিখলেই দায় শেষ প্রতিবেদকের। একেবারে গৎবাঁধা কিছু কথা, আয়োজকসহ স্থান-কাল-পাত্রের নাম দিলেই একটা উভ লেখা হয়! অনেকটা দাপ্তরিক কাজের মতো, অনুষ্ঠান দেখে এসে অফিসে অবহিত করলেই হলো। এটা কেরানির কাজ, এটুকু লিখতে কাউকে সাংবাদিক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। একজন প্রতিবেদকের কাজ অন্যত্র, সাধারণ মানুষের চোখে তিনি দেখবেন না; দেখবেন ভিন্ন চোখে, বুঝতে চাইবেন কোথায় কী আছে সংবাদে। আলোচনা থেকে লুক্কায়িত সংবাদমূল্যে উদ্্ঘাটন করে সংবাদ করাই তার দায়িত্ব ও কাজ। কিন্তু প্রতিবদেকরা তা কতোটা করছে? প্রতিবেদনের মতো গুরুত্ব দিয়েই কী উভ লিখছে টেলিভিশন প্রতিবেদকরা? না লিখলে কেনো লিখছে না—সমস্যা কোথায়, এসব বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি শুধু যে নতুন বা অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ প্রতিবেদকদের বেলায় হচ্ছে তা কিন্তু নয়। পাঁচ—সাত বছর বা তার চেয়ে অভিজ্ঞদের উভের মধ্যেও এ ধরনের অসঙ্গতি চোখে পড়ে মাঝে মাঝে। তাহলে সমস্যা কী ব্যক্তির, না প্রতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আন্তরিকভাবে।
কারণ প্রতিবেদকের অবহেলাজনিত এসব দুর্বল লেখনীর কারণে বুলেটিনের মান কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে চ্যানেলের সুনাম। টেলিভিশন চ্যানেলের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বেড়ে চলছে। ফলে এসব দুর্বলতা পরিহার করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে উত্তরণ কতোটা সম্ভব হবে? এভাবে চলতে থাকলে হরেদরে বুলেটিনের জায়গা ভরানোর কাজ চলতে পারে, কিন্তু সম্প্রচার সাংবাদিকতার গুণগত মান বাড়বে না। প্রতিবেদকদের লেখা উভের শুন্যতা দুর করার দায় বর্তায় বার্তাকক্ষের সম্পাদকদের কাঁধে। সম্প্রচারের আগে প্রতিটি সংবাদই সম্পাদনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ তীর বেরিয়ে গেলে তা ফেরানোর আর সুযোগ নেই; ফলে ভুল বা অসঙ্গতি তথ্যের সংবাদে বিভ্রান্ত হতে পারে দর্শক-শ্রোতা। প্রতিবেদকের লেখা উভ সম্পাদনা ছাড়াই সম্প্রচারের কথাও শোনা যায়। ভাষাগত দুর্বলতার কারণে সংবাদ উপস্থাপকরা পড়তে পড়তে হুট করে আটকে যাওয়া দেখে মনে হয়, সত্যিই সম্পাদনার ছোঁয়া লাগেনি। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যতো অভিজ্ঞ প্রতিবেদকেরই লেখা হোক না কেনো, তা সম্পাদনা হতে হবে এবং তাতে তা আরো ত্রুটিমুক্ত হবে, ভাষার গাঁথুনি শক্ত হবে—হবে শ্রুতিমধুর।
উভের ছবি, ছবির উভ
ভিজ্যুয়াল মিডিয়া বা দৃশ্যগত মাধ্যম মানেই কথার সঙ্গে ছবির গল্পের ঐকতান। অনেক সময় সেখানে কথার চেয়ে ছবি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাক্য যতোই শ্রুতিমধুর হোক না কেনো, যদি ছবি ব্যবহারে সিকুয়েন্স বা ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে তা দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারে না। কিন্তু কখনো কখনো লেখার মতোই উদাসীনতা চোখে পড়ে উভের ছবির ব্যবহারে। অনেক ক্ষেত্রে বুলেটিনের ৩০ সেকেন্ড জায়গা ভরাতে পর পর কিছু ছবি জুড়ে দেওয়া হয়। ছবির মধ্য দিয়েও সংবাদের গল্পটা বলা যায়—দর্শকের চোখের প্রশান্তি দিয়ে সংবাদে আটকে রাখা যায়—সেদিকে সংবাদকর্মীর খুব একটা নজর থাকে বলে মনে হয় না। ছবি ব্যবহারের বিষয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিত্র-সম্পাদক বা ভিডিও এডিটরের ওপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিশ্চয় সেটা সবক্ষেত্রে নয়, কিছু কিছু উভে এ ধরনের সমস্যা প্রকট। হয়তো দ্রুত সংবাদ ধরাতে গিয়ে ছবির ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন্ন হতে পারে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা গুছিয়ে ঠিক করার ক্ষেত্রেও অবহেলা পরিলক্ষিত হয়।
সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো, উভে কী লেখা আছে, তা জানার সুযোগ থাকে না ভিডিও এডিটরদের। একাধিক বক্তা থাকলে কোন কোন ব্যক্তির ছবি যাবে তা নিয়েও অন্ধকারে থাকে তারা। ফলে এক বক্তার নাম বলছে সংবাদ উপস্থাপক তখন হয়তো ছবি যাচ্ছে আরেকজনের! কথার সঙ্গে ছবির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। ভালো স্ক্রিপ্ট লেখা সংবাদের মান নেমে যেতে পারে ছবির এই ছন্দপতনের কারণে। একইভাবে ছবি ধারণের সময়ও ভিডিওগ্রাফার বা চিত্র-সাংবাদিকের সচেতন থাকা জরুরি। ভালো বা যথাযথ ছবি থাকলে তা দিয়ে ভালো স্ক্রিপ্ট লেখা এবং ছবির ব্যবহার করা সহজ হয়। এ কারণেই টেলিভিশন সাংবাদিকতা হলো যৌথতার কাজ, তিন—চার জনের অংশগ্রহণে একটি সম্প্রচারযোগ্য সংবাদ তৈরি হয়। দলনেতা হিসেবে সংবাদকর্মীকে তার কাজের ভালো আউটপুট পেতে আন্তরিকভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজটা আদায় করে নিতে হয়। দিন শেষে ভালো ছবি ছিলো না বা ব্যবহার করেনি বলে অভিযোগ করার মানসিকতা পরিহারের বিকল্পও নেই।
নির্বাক নয়, সবাক
টেলিভিশন হলো ছবি ও শব্দের খেলা। দর্শক দেখে এবং শোনে। প্রত্যেক ছবির নিজস্ব ভাষা ও শব্দ থাকে। চলমান ছবির ন্যাচারাল সাউন্ড থাকে, যা ন্যাট সাউন্ড হিসেবে পরিচিত। দৃশ্যগত মাধ্যমের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু উভ দেখলে মনে হয়, এ যেনো নির্বাক যুগের ছবি চলছে টেলিভিশনের পর্দায়। মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের সংবাদ চলছে, কিন্তু সেখানে যদি ছবির নিজস্ব শব্দ না থাকে, তবে তা মূর্ত হবে না। একইভাবে আলোচনা সভা, বৃষ্টি কিংবা রাস্তাঘাট সংক্রান্ত সবধরনের সংবাদেই শব্দের যথাযথ ব্যবহারে তা গুণে-মানে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়। এজন্য প্রত্যেক সম্প্রচার সাংবাদিকের এডিট প্যানেলে চিত্র-সম্পাদকের পাশে থাকা জরুরি। শুধু অনুসন্ধানী বা বিশেষ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে নয়, ছোটো-বড়ো সব সংবাদের ক্ষেত্রেই প্রতিবেদককে এভাবেই কাজ করতে হয়। মনে রাখতে হবে, দিন শেষে প্রোডাকশনটা তার নিজের, অন্যরা সহযোগী। ভালো হলে যেমন প্রতিবেদকের অর্জন, তেমনই খারাপ হলেও দায় তার ওপরই বর্তায়।
আছে কিন্তু নেই
বলা হয়, প্যাকেজ বা প্রতিবেদনের চেয়ে উভ লেখা বেশি কঠিন। এখানে বাড়তি কথা লেখার সুযোগ নেই; অনেকটা সারাংশ লেখার মতো। সংবাদমূল্য দিয়ে শুরু হওয়া সেই সারমর্মে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সাজিয়ে পরিবেশন করতে হয়। কোনটার পরে কোন তথ্য বা লাইনটা থাকবে সেটাও লেখা এবং সেই অনুযায়ী ছবি ব্যবহারে মনোযোগ জরুরি। ঠিক যেভাবে, নানা পদের খাবার সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। সংবাদের সঙ্গে তার উপস্থাপন ভঙ্গির ওপরে এর দর্শকপ্রিয়তা বেড়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, অনেক উভেই শুধু স্থান-কাল-পাত্রের নাম দিয়ে ভরিয়ে রাখা হয়। সংবাদের মূল তথ্যটা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কোনো ইভেন্ট বা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তাই কিছু একটা লিখতে হবে বলে, তাই লেখা আর কী! অবহেলার এই মনোভাব কতোটা তা বুঝতে কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে :
আই ভি
শিশু অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। বিটিভিসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে শিশুতোষ প্রোগ্রামের জন্য আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণেরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
উভ
জাতীয় শিশু একাডেমিতে, ‘শিশু অধিকার সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে ‘গণমাধ্যম ও শিশু’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর ও এটিএন নিউজ-এর প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা বক্তব্য রাখেন। একজন শিশুকে ভবিষ্যতের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। তাই, প্রচলিত শিক্ষার বাইরে, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেয় বক্তারা। শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে, আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত নানা আয়োজন থাকছে শিশু একাডেমিতে।
গত ১৪ অক্টোবর ২০১৭ সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলের উভ সংবাদে শিশু অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ৫২ সেকেন্ডের এই সংবাদে আর কোথাও এ নিয়ে টু শব্দটি করা হয়নি। কারা আয়োজক, গুরুত্বপূর্ণ বক্তার নামসহ অনেক কথা বলা হয়েছে। অথচ গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা আর একবারও আসেনি। সংবাদটিতে এ ধরনের কোনো আবেদনও নেই। ফলে এতো গুরুত্বপূর্ণ কথা দিয়ে শুরু হওয়া সংবাদটি দেখে শেষ পর্যন্ত দর্শকের অন্তঃসার শূন্য মনে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথার বদলে এখানে অল্প করে বলা হয়েছে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা। এছাড়া সংবাদটি লেখার সময় প্রতিবেদকের লেশমাত্র দরদ ছিলো বলে মনে হয় না।
প্যাকেজ বা প্রতিবেদন লেখার মতো উভ সংবাদের দুটি অংশ থাকে। ইন্ট্রো বা লিঙ্কের অংশটুকুর নাম ইনভিশন/আইভি অথবা অন ক্যামেরা/ওসি। দর্শক যে অংশটুকুতে উপস্থাপককে দেখে এবং তার কথা শুনতে পায় তাই আইভি বা ওসি। দ্বিতীয় অংশ পড়ার সময় উপস্থাপককে দেখা যায় না, শুধু তার কণ্ঠস্বর শোনা যায়। সংশ্লিষ্ট সংবাদের যে অংশে দর্শক ছবি দেখে, সেই অংশকে আউট অব ভিশন/উভ বা ভয়েস ওভার/ভিও বলে। উভে ভিডিও ছবি ছাড়াও গ্রাফিক্স চিত্র, স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়; ফলে সংবাদের উভয় অংশের সিনক্রোনাইজ বা মেলবন্ধন থাকতে হয়; লিঙ্ক শুনে যেনো দর্শক বাকি সংবাদটা দেখতে আগ্রহী হয়। কিন্তু অনেক সময় লিঙ্ক শোনার পর দর্শককের বিভ্রান্তিতে পড়ার জোগাড় হয়। কারণ দর্শক লিঙ্কে যা শোনে, তার কানাকড়িও খুঁজে পাওয়া যায় না নিচের অংশে। এ ধরনের সমস্যা হরহামেশাই চোখে পড়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। অনেক কথার ভিড়ে সংবাদের মূল তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
আই ভি
সব রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে সম্মতি দিলে তা ব্যবহারের পক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপি। সকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে একথা জানায় দলটি।
উভ
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসে জাতীয় পার্টি—জেপি। ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে যোগ দেন। এসময় সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেন দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বলেন, নির্বাচনে কোনো দল অংশ গ্রহণ করুক বা নাই করুক কমিশন যেনো সাংবিধানিক বিধান মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করে। প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে বলেও প্রস্তাব করা হয়।
গত ১৯ অক্টোবর নমুনায়িত একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল এই সংবাদটি সম্প্রচার করে। যথাযথ তথ্য দিয়ে এটি শুরু হলেও উভের ভিতরে এ সংক্রান্ত একটি কথাও বলা হয়নি। অনেকটা শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলার মতো। হয়তো বক্তার মুখের কথায়, যা সট্ হিসেবে পরিচিত সেখানে দেওয়ার কথা বলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও সটের আগে সংবাদের মূল তথ্যটি যুক্ত করে, কিছু কথা থাকতে হয়। কারণ মাথা ও শরীরের মধ্যে ব্রিজ বা ‘গলা’র মতো একটা সংযোগ সেতু না থাকলে তা খাপছাড়া লাগে। দর্শক যদি প্রথম লাইনটা না শোনে, তাহলে তা বোঝা কঠিন হবে। আবার সময় স্বল্পতায়, অনেক সময় সট্ চালানোর সুযোগ থাকে না, যা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এমন ছন্নছাড়া উভ সম্প্রচারের মাধ্যমে জায়গা ভরবে, কিন্তু তা আকৃষ্ট করতে পারবে না দর্শককে। প্রতিবেদকের অবহেলায় দর্শক বিরক্ত হয়ে পাশের ঘরে যেতে পারে, রিমোট কন্ট্রোল চেপে ছুট দিতে পারে অন্য চ্যানেলে।
আই ভি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়ার ইস্যু নিয়ে তুলকালাম করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
উভ
বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনে অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব শতবর্ষ উপলক্ষে সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যথা সময়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে জাসদের সিনিয়র নেতারাও বক্তব্য রাখেন। একটি র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সংবাদটি ১৫ অক্টোবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রচার করে নমুনায়িত সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেল। প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ সংক্রান্ত সংবাদটি গুরুত্ব পেয়েছে তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে। কিন্তু উভ লিখতে গিয়ে এটাকে গুরুত্বহীন করেছেন প্রতিবেদক। প্রাণহীন-নিরস অন্তঃসারশূন্য কিছু কথা লিখে তিনি দায় শেষ করেছেন। মূল বক্তব্যের কোনো কথা নেই, অন্য যা তথ্য আছে তার মধ্যেও নেই মিল। ‘একটি র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে’—কথা নেই, বার্তা নেই হুট করে এমন একটা বাক্য বেশ বেমানান। আগেই বলেছি, সারাংশ হবে সর্বোচ্চ তথ্য-উপাত্তে সাজানো, যেখানে পুরো বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। জায়গা কম হলেও প্রতিবেদককেই মাথা খাটিয়ে বের করতে হয়, কোথায় কাটছাঁট করে সংবাদমূল্যের নিরিখে সাজানো-গোছানো সংবাদটি তুলে ধরতে হবে। যাতে দর্শকের সংবাদ-ক্ষুধা মেটে। মূল সুর ঠিক রেখে লিখতে না পারার কারণটা বোধ করি জানা-বোঝার সমস্যা নয়; উদাসীনতায় হারিয়ে যায় দায়িত্বশীলতা।
আই ভি
লা লিগার ম্যাচে আজ অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টায়। তবে এর আগে রাত সোয়া আটটায় রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছে গেটাফে।
উভ
স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে ভোটের পর এই প্রথম স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে খেলতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। তাই ম্যাচটি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ একটু বেশিই। অবশ্য চলতি মৌসুমে লা লিগায় দারুণ ছন্দে আছে বার্সেলোনা। সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ভাল্ভার্দের দল। অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে ১৪ বারের মুখোমুখিতে ১১ বারই জিতেছে বার্সেলোনা। তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২২টি গোল করেছেন মেসি। আজকের ম্যাচে জিতে বার্সার বিপক্ষে জয় খরা কাটাতে চায় অ্যাটলেটিকো।
১৪ অক্টোবর সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত এ সংবাদের লিঙ্কে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের দুটি আলাদা খেলার কথা বলা হয়েছে। একটি খেলা চলমান আর অন্যটি হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের দুটো ঘটনা যুক্ত করা হলেও কোনটা আগে কোনটা পরে আসবে, সেই প্রশ্নটা কিন্তু জরুরি। কারণ লীগ ফুটবলে উল্লেখিত দুটি দলের জনপ্রিয়তা কাছাকাছি। প্রতিবেদক নিজের অজান্তে হয়তো ভবিষ্যৎকে লিখতে গিয়ে বর্তমানকে ভুলে গেছেন একেবারে। লিঙ্কের রিয়াল মাদ্রিদের ওই একটা লাইন ছাড়া আর কোনো তথ্য নেই পুরো সংবাদে। এটা বড়ো ধরনের অসঙ্গতি। প্রতিবেদক বার্সেলোনার সমর্থক বলে একপেশে উভ লিখেছেন এমন অভিযোগ করতে পারে রিয়াল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’র ভক্তরা!
ঘণ্টাখানেকের ফুটবল খেলার সংবাদে এ ধরনের দুর্বলতা তো চোখে পড়েই, তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সংক্রান্ত সংবাদেও এর দেখা মেলে। মূলত অসচেতনতায় জন্ম দিচ্ছে এসব অসঙ্গতির। এটা বুঝতে অবশ্য ১৫ অক্টোবর সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত নীচের সংবাদটি সহায়তা করবে—
আই ভি
রাজধানীর বস্তিবাসীর জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
উভ
দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ‘নগর-দরিদ্রদের জন্য গৃহায়ণে অর্থায়ন’ বিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নগর উন্নয়ন কর্মসূচি। এতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা অংশগ্রহণ করেন। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, শুধু নগর পরিকল্পনা পরিবর্তে গোটা দেশের জন্য গৃহায়ণ পরিকল্পনা জরুরি। তাই শহরের মতো গ্রামেও বাড়ি তৈরিতে অনুমতি নেয়ার নিয়ম থাকা উচিত।
আগেই বলেছি, টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কথা ও ছবির মেলবন্ধন করা হয়। দর্শক-শ্রোতার চোখ ও কানের জন্য ভাবতে হবে প্রতিবেদককে। এখানে কথা ও ছবি একে অন্যের পরিপূরক। ফলে ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে, তার সবটা হুবহু ধারাবিবরণী দেওয়ার সুযোগ নেই সংবাদে। বক্তা বসে, না দাঁড়িয়ে কথা বলেছে কিংবা টেবিল গোল না চারকোণা সেসব বিষয় জরুরি নয়। জরুরি নয়, আয়োজকদের নাম ঠিকানাসহ সনদের। দৃশ্যগত মাধ্যম হওয়ায় দর্শক দেখতে পায় বলে, অনুষ্ঠানের ব্যানারের শিরোনাম সংবাদে লেখার প্রয়োজনও পড়ে না সবসময়। এসব বিষয় সম্প্রচার সাংবাদিকতার প্রাথমিক ধাপ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরের উভটি কানায় কানায় ভরা, একেবারে টইটম্বুর আয়োজকদের নামধাম-স্থান-কালের বর্ণনায়। হুট করে দেখলে মনে হবে আয়োজকদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি হুবহু তুলে দিয়েছেন প্রতিবেদক। অথচ কাট-কপি-পেস্ট না করে অল্প কথায় গুছিয়ে লেখা যেতো এভাবে—
আই ভি
রাজধানীর বস্তিবাসীর জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করার কথা জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
উভ
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নগর-দরিদ্রদের জন্য গৃহায়ণ সংক্রান্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা বলেন, শুধু নগরভিত্তিক পরিকল্পনা নয়, গোটা দেশের জন্য গৃহায়ণ পরিকল্পনা জরুরি। পরিকল্পিত আবাসনের জন্যে গ্রামেও বাড়ি তৈরিতে অনুমতি নেয়ার বিধান চালুর প্রস্তাবও করেন তারা। বস্তিবাসীদের জীবন মান উন্নয়নে কম খরচে পরিকল্পিত আবাসনের কথা জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী।
সাধারণভাবে যেসব প্রশ্নের উত্তর দরকার তার সবই আছে এখানে। বাড়তি কথা ছেঁটে ফেলায় প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া যেমন সম্ভব হয়েছে, আগের চেয়ে তিনটি শব্দ কমও লেগেছে। তেমন সংবাদের মূল সুরের ছাপ রয়েছে সংবাদ জুড়ে। মন্ত্রীর বক্তব্য না চললেও দর্শকের বুঝতে অসুবিধা হবে না। নিশ্চয়, এই উভটি আরো শ্রুতিমধুর ও আকর্ষণীয় হবে, যখন তা একজন বার্তা সম্পাদকের সম্পাদনার মধ্য দিয়ে যাবে।
কী আছে, কী নেই
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সাধারণত সংবাদপত্র, অনলাইন, রেডিওসহ সব গণমাধ্যমের জন্য দেওয়া হয় বলে, সাধারণ তথ্যগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। এটা সহায়ক শক্তি হয়, তবে কোনোমতেই কেবল এই তথ্যের ওপর ভর করে সংবাদ করার সুযোগ থাকে না। সময় মতো ঘটনাস্থলে গিয়ে বক্তাদের কথা শুনেই নির্ধারণ করতে হয় কোনো সংবাদের সংবাদমূল্য। দ্রুততার সঙ্গে তা টেলিভিশনে স্ক্রল বা টিকারে দিয়ে প্রথমে সম্প্রচার করতে হয়। নিজের মতো সাজিয়ে লিখতে হয়। আবার শুধু লিখলেই চলে না, কী লিখছেন সেই প্রশ্নও জরুরি। কারণ কিছু কথা লিখলেই তা সংবাদ হয় না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা সাধারণ মানুষের লেখার চেয়ে একজন প্রতিবেদকের লেখা আলাদা হবে সেটাই কাম্য। তা রূপ-রস-গন্ধসহ পরিপূর্ণভাবে সাজাতে হবে সংবাদমূল্যের ভিত্তিতে। বালু-সিমেন্ট আর পানি মিশিয়ে গাঁথুনি ওঠে ইটের দেয়ালের। সবগুলোকে একত্রে গুলিয়ে দিলেই হয় না, কতোটুকু বালুর সঙ্গে কতোটা পানি আর সিমেন্ট দিতে হবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব আছেযা মেনেই ভবন নির্মাণ করতে হয় রাজমিস্ত্রিকে। ঠিক তেমনই সংবাদকর্মীকেও জানতে হয়, কীভাবে অল্প কথায় ভালো সংবাদ করা যায়। এটা একদিনের বিষয় নয়, কাজের অভিজ্ঞতা বাড়তে বাড়তে লেখার দক্ষতাও বাড়ে। কিন্তু এখনো সেই চেষ্টার বেশ অভাব রয়েছে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় উভের ক্ষেত্রে। সংবাদের সঙ্গে সময় ও স্থানের গুরুত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একই ঘটনা বাংলাদেশে ঘটলে যে গুরুত্ব পাবে, ভারত কিংবা পাকিস্তানে ঘটলে তার চেয়ে খানিকটা কম গুরুত্ব পাবে। আবার তা যদি লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকার কোনো দেশে হয়, তবে অন্য কথা। সাংবাদিকতার এই সাধারণ সূত্রটি মেনে চলার ক্ষেত্রে কখনো কখনো মনোযোগের ঘাটতি চোখে পড়ে।
আই ভি
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে ফেরার পথে নরসিংদীর কান্দাইলে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ৬ জনের। একই জেলার শীবপুরে নিহত হয়েছে তিনজন। দুটি ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।
উভ
সকালে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী কান্দাইলের বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ যায় চারজনের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরো দুজন। এর কিছু সময় পর একই জেলার শীবপুরে কানারচর এলাকায় লেগুনা ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরো দুজনের। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলে ৩০ অক্টোবর সম্প্রচারিত এই প্রতিবেদনটি সাধারণ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর চেয়ে বাড়তি গুরুত্বের দাবি রাখে। মিয়ানমারের সামারিক জান্তাদের হত্যা-ধর্ষণ-অগ্নি সংযোগসহ বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। সেই রোহিঙ্গার জন্য ত্রাণ বিতরণ শেষে ফেরার পথে এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনার। মানবিক কাজ করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনার সংবাদের আবেদন অনেক বেশি। কিন্তু গতানুগতিক চিন্তায় গা ভাসানোর ফলে এখানে মানবিকতা হারিয়ে গেছে এক নিমিষে। ‘রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে ফেরার পথে’ দুর্ঘটনার কথা লিঙ্কে বলা হয়েছে, অথচ ভিতরে এ বিষয়ে নেই কোনো কথা। মনে হচ্ছে, ব্যক্তি বা ঘটনার চেয়ে দুর্ঘটনাস্থল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে ছয় জন ত্রাণ দিতে গিয়ে মারা গেলো, তারা কে বা কোথাকার বাসিন্দা সে সম্পর্কেও কিছু বলা নেই এখানে। একই জেলায় আরেকটি দুর্ঘটনার ঘটনা কতক্ষণ পরে হয়েছে, সেই বর্ণনাও জরুরি নয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়েছে, কিন্তু লেখা হয়েছে ‘আইনশৃঙ্খলাবাহিনী’; সামান্য একটি শব্দ মনে হলেও তা কিন্তু ভুল। লেখার পর একবার পড়লেই ধরা পড়তো এসব দুবর্লতা। নিজেকে দর্শকের কাতারে ভাবলে, কোনো কিছু টেনে লম্বা করার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলা সহজ হয় সংবাদকর্মীর।
আই ভি
বর্তমান সরকারের আমলে, নারায়ণগঞ্জে দুই হাজার ছয়শ' কোটি টাকার রেকর্ড সংখ্যক উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চার আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। আগামী এক বছরে আরো একহাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হবে বলেও জানান তিনি।
উভ
গতকাল বিকেলে, সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুরে দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। ডিএনডি এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া প্রকল্পের কাজের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এ সমাবেশের আয়োজন করে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সমাবেশে, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে আগামী এক বছরের মধ্যে সকল উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন শামীম ওসমান।
ঘটনার ধারা বিবরণীর উভটি ১৯ অক্টোবর সম্প্রচারিত একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেলের। যে উন্নয়নের কথা দিয়ে সংবাদের লিঙ্ক করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সুনিদিষ্ট তথ্য নেই ভিতরে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সংবাদটিতে আয়োজক ও স্থানের নামে চাপা পড়েছে উন্নয়ন পরিকল্পনা। ‘গতকাল বিকেলে, সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুরে দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি’ না লিখে ‘সদর উপজেলার ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন’, বললেই যথেষ্ট ছিলো। এতে বাড়তি কিছু তথ্য তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যেতো। বিশেষ করে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বা ডি এন ডি বাধের কারণে বহু বছরের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরার প্রয়োজন ছিলো। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্য দিয়েও সংবাদটি আরো সমৃদ্ধ করা যেতো। কতো হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে, বা আয়োজক কারা, তার চেয়ে সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপগুলো জানতে পারলে দর্শকের আগ্রহ বাড়তো সংবাদটি নিয়ে। এক লাইনে লিখতে গিয়ে বাক্য গঠনেও জটিলতার মাত্রা ছাড়িয়েছে। ‘ডিএনডি এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া প্রকল্পের কাজের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এ সমাবেশের আয়োজন করে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ।’ এই বাক্য বুঝতে রীতিমত ঘাম ঝরাতে হবে। ডি এন ডি বাধের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বলা যেতো সহজে।
আই ভি
বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ একটি বেঞ্চ বাল্য বিয়ে বন্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।
উভ
আদালতের রুলে, বাল্যবিয়ের জন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কেনো আইনগত ব্যবস্থা ও পদচ্যুতির নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। জনপ্রশাসন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, আইন, স্বরাষ্ট্র সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এ আদেশের অনুলিপি সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহ একটা গুরুতর সমস্যা। সেই বিষয়ে এ ধরনের স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছেন আদালতের কোন বেঞ্চ তা বলা হয়নি। সাধারণভাবে আদালতের সংবাদে বিচারকদের নাম থাকে। ৩০ অক্টোবর সম্প্রচারিত নামহীন উপরের সংবাদটি বেশ ভাসা ভাসা মনে হয়েছে। এখানে রুল জারি এবং কেনো জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য থাকার পরও সংবাদটি ঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। নাম ব্যবহার না করলে বিপত্তিতে পড়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।
আই ভি
সাবেক বিচারপতির দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধে, দুদকে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের চিঠি আইন সম্মত হয়নি। হাইকোর্টে এমন মত দিয়েছেন, তিন অ্যামিকাস কিউরি। ...
দেশে সাবেক বিচারপতির সংখ্যা অনেক। ফলে ঠিক কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা অতীব প্রয়োজন। কিন্তু ২৫ অক্টোবর সম্প্রচারিত এই সংবাদটির কোথাও সেই বিচারপতির নাম উল্লেখ করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকায় সম্প্রচারিত সংবাদে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। কোনো অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তাই নাম-ধামসহ দু’কলম লিখে দিয়ে দায়সারার যেমন বিপদ আছে; আবার নাম ঠিকভাবে না লেখার বিপদও কম নয়।
আই ভি
শেরপুরের নকলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মাহবুব আলী চৌধুরী মুনিরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকালে, উপজেলার কূর্শাবাদাগৈর এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
উভ
পুলিশ জানায়, মাহবুব চৌধুরীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন স্বজনরা। সেখানে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। মাহবুব মুনির, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানান দলের নেতারা।
মৃত ব্যক্তির নামের বহুমুখী ব্যবহারের উভটি ২০ অক্টোবর সম্প্রচার করে সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেল। ৮৮ শব্দের সংবাদটিতে প্রথমে নিহত ব্যক্তির পুরো নাম মাহবুব আলী চৌধুরী মুনির উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝে লেখা হয়েছে মাহবুব চৌধুরী এবং শেষে মাহবুব মুনির। একই ব্যক্তির নাম তিনভাবে উপস্থাপনে ধোঁয়াশা তৈরি হবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি জেলা বিএনপি’র দায়িত্বশীল পদে ছিলেন মৃত ব্যক্তি। হত্যা বা আত্মহত্যা যাই হোক না কেনো, এই সংবাদটি অবশ্যই আর পাঁচটা ঘটনার চেয়ে গুরুত্ববহ। কিন্তু জেলা প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদটিতে বার্তাকক্ষ সম্পাদক বা নিউজরুম এডিটরের যথাযথ নজর ছিলো না বলে মনে হয়। অন্তত লেখার পর একবার পড়ে দেখলে এমন অসঙ্গতি দূর করা সম্ভব ছিলো।
আই ভি
রাজধানির বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বরিশালসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উভ
সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে হয়, প্রথম জানাজা। বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। হাইকোর্টে তৃতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেয়া হয়, জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায়। সেখানে হয় চতুর্থ জানাজা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানান চিফ হুইপ এস এম ফিরোজ। স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের পক্ষ থেকেও জানানো হয় শ্রদ্ধা। গুলশানের আজাদ মসজিদে সবশেষে জানাজার পর, সন্ধ্যার কিছু আগে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় সাবেক রাষ্ট্রপতিকে।
৪ নভেম্বর সম্প্রচারিত এই সংবাদটিসহ নমুনায়িত চ্যানেলের উভগুলো বানান ও বাক্য হুবহু রাখা হয়েছে। কেউ যদি সংবাদের প্রথম লাইন শুনতে না পায়, তবে কার দাফন তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে পারে দর্শক। রীতিমতো আন্দাজে ঢিল ছুড়তে হয় এই সংবাদ দেখে। দেশে সাবেক রাষ্ট্রপতির সংখ্যা নেহাত কম নয়। অথচ লিঙ্ক ছাড়া আর কোথাও কোন সাবেক রাষ্ট্রপতির দাফন তা উল্লেখ করা হয়নি। আর কফিন বন্দি থাকায় উভের ছবি দেখে বোঝার উপায় থাকে না মৃত ব্যক্তিটি কে? ফলে নামটা বলা খুবই জরুরি। এতো কথার ভিড়ে প্রতিবেদকের প্রয়োজন মনে হয়নি রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের নামটা দ্বিতীয়বার উচ্চারণের। এছাড়াও একই উভে প্রতিবেদক রাজধানী বানান লিখেছেন কখনো ই-কার আবার কখনো ঈ-কার দিয়ে।
বিড়ম্বনা আছে সংখ্যায়
পাটিগণিত, বীজগণিত যাই হোক না কেনো, সামান্য অসতর্ক হলেই পুরোটা শেষ। ছোটো একটা ভুলে পরীক্ষার খাতায় মিলে শূন্য। আবার ঠিক হলে দশে দশ। একইভাবে সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কষতে হয় হিসাবনিকাশ—পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারে থাকতে হয় সজাগ। না হলে গোলমাল বাঁধতে পারে, পাল্টে যেতে পারে গণেশ। অর্থনীতি বা অর্থনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকতা করি না অজুহাতে পরিসংখ্যান-উপাত্ত ব্যবহারে ভুল করার সুযোগ নেই। না বুঝলে প্রয়োজনে অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে ঠিকটা লিখতে হয়।
আই ভি
১২৬ হাজার মার্কিন ডলার বা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি চিঠি। সেটি লেখা হয়েছিল ১৯১২ সালের ১৩ এপ্রিল। টাইটানিক জাহাজে বসে ওই চিঠি লিখেন মার্কিন ব্যবসায়ী অস্কার হলভারসন।
উভ
যুক্তরাজ্যে আয়োজিত নিলামে ১০৫ বছর আগে লেখা ওই চিঠি বিক্রি হয়। নিলাম চলাকালে টেলিফোনের মাধ্যমে যে ব্যক্তি সেটি কিনেছনে তার পরিচয় জানায়নি কর্তৃপক্ষ। নিলামের আয়োজক অ্যান্ডু অ্যালড্রিজ জানান, ডুবে যাওয়ার পরও টাইটানিক জাহাজ থেকে উদ্ধার একমাত্র ভালো চিঠি ছিল এটি। সেটি কিনেছেন একজন ব্রিটিশ। ইতিহাসের অভিনব অনেক জিনিস সংগ্রহে থাকলেও কখনো নাম প্রকাশ করেন না তিনি। ব্রিটেন থেকে যাত্রা শুরুর পর টাইটানিকে বসে ওই জাহাজের নোট পেপারে মায়ের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেন অস্কার হলভারসন। তবে মায়ের ঠিকানায় পোষ্ট করা হয়নি সেটি।
নমুনায়িত একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেলের অর্থনৈতিক সংবাদ বুলেটিনে গত অক্টোবরের ২২ তারিখ এই প্রতিবেদনটি সম্প্রচার হয়। লিঙ্কের শুরুতে লেখা আছে ১২৬ হাজার মার্কিন ডলার। সেই অনুযায়ী সংবাদ উপস্থাপককে পড়তে হবে একশ ছাব্বিশ হাজার! শুধু শুনতেই হাস্যকর মনে হবে না, তা হবে ভুল। বলতে হবে, এক লাখ ২৬ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত, ডলারকে টাকায় পরিবর্তন করতে গিয়ে এক কোটি ৪২ লাখ টাকা বলা হয়েছে। এক ডলারের বিনিময় হার ৮০ টাকা ধরলে তা হবে এক কোটি ৮ হাজার টাকা। ৮৫ টাকা ধরলে হবে, এক কোটি সাত লাখ ১০ হাজার টাকা। সংবাদে উল্লেখিত চিঠির নিলাম মূল্য এক কোটি ৪২ লাখ টাকা হলে ডলার-টাকার বিনিময় হার হতে হবে একশো ১৩ টাকা প্রায়! ক্যালকুলেটর এখন প্রতিটি মোবাইলফোন সেট ও কম্পিউটারেই আছে। ফলে প্রতিবেদক ইচ্ছে করলেই হিসাবটা ঠিক করতে পারতেন। সেই সদিচ্ছা ছিলো না বলেই হয়তো ডলার-টাকার হিসাবে এই গোলমাল।
আই ভি
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্দ্যেগে উদ্বোধন করা হলো, আরবান স্লাম ফায়ার রেডিনেস প্রকল্পের। বুধবার সকালে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে এর উদ্ধোধন করা হয়।
উভ
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ২২ মাস ব্যপী এই প্রকল্পটি রাজধানীর কল্যাণপুর এবং কড়াইল বস্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। আর এর মাধ্যমে সংস্থাটি ৩৩০০’শ অগ্নি নির্দেশক অত্যাধুনিক যন্ত্র বস্তি দুটিতে স্থাপন করা হবে। এসময় আরো জানানো হয়, কোন স্থানে আগুন লাগলে গুগলে মাধ্যমে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যান্যেদের কাছে সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অষ্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জুলিয়া নিবেলট, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের, ন্যাশনাল ডিরেক্টর, ফ্রেড উইটিভেন এবং ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলী আহমদ খান।
১২৬ হাজারের মতোই ৩৩০০’শ লেখা প্রতিবেদনটি ১৮ অক্টোবর সম্প্রচার করে একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল। ভানু বন্দ্যোপাধায়ের সেই বিখ্যাত র-ফলা ব্যবহারে ‘দ্রিমু যখন তখন সবটাইতেই দ্রিমু’ কৌতুকের মতো এখানে প্রতিবেদক একই জিনিস কথায় ও অঙ্কে লিখে গোল বাঁধিয়েছেন। তিনি তিন হাজার তিনশো বা তেত্রিশশো না লিখে ৩৩ এর সঙ্গে দুটি শূন্য ও ’শ যোগ করে পরীক্ষায় রসগোল্লা পাওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন। শুধু অঙ্কে নয়, সংবাদ লেখার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা চোখে পড়ে। বস্তিবাসীর জন্য অগ্নি দুর্ঘটনা বড়ো ধরনের হুমকির কারণ। আগুনে পুড়ে এক নিমিষেই সামান্য সহায়টুকু হারিয়ে পথে বসার ঘটনা হামেশাই ঘটছে। ফলে অগ্নি সতর্কতামূলক যন্ত্রপাতি স্থাপন নিঃসন্দেহে বস্তিবাসীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনের। ফলে কীভাবে এই যন্ত্র ব্যবহার করে আগুনের ক্ষতি থেকে তারা বাঁচবে সেই প্রশ্নটাও মুখ্য। যদিও প্রতিবেদক সংবাদের গুরুত্ব খুঁজে পেয়েছেন প্রকল্পের নাম ও সংস্থার নামে। অপ্রয়োজনীয় কথা সামনে এনে সংবাদের আকর্ষণ খুইয়েছেন। একটু দায়িত্বশীল হলে গল্পের ছন্দে এটাই সুন্দরভাবে সাজিয়ে লেখা যেতো এভাবে—
আই ভি
বস্তিতে আগুন লাগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্তক বার্তা দেবে যন্ত্র। এর মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারবে ফায়ার ব্রিগেড।
উভ
রাজধানীর কল্যাণপুর ও কড়াইল বস্তিতে এমন তিন হাজার তিনশো যন্ত্র স্থাপন করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। ‘আরবান স্লাম ফায়ার রেডিনেস’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে বস্তিগুলোতে অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষতি অনেকাংশে কমবে। ...
এর সঙ্গে অন্যান্য তথ্যগুলো জুড়ে দিলেই তা দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় হতো এবং আগ্রহভরে জানতে চাইতো যন্ত্রটি সম্পর্কে। কিন্তু প্রতিবেদকের অবহেলায় সংবাদটি সেই আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। সংখ্যাতাত্ত্বিক ভুলের পাশাপাশি দিন তারিখ ব্যবহারেও বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ কোনো একটার হেরফের হলেই প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
আই ভি
পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি ২০১৬ সালে আগের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ডগঙ এর প্রতিবেদন বলছে, গেল বছর বায়ুমন্ডলে এই গ্যাসের বৃদ্ধির পরিমান বিগত ১০ বছরের গড় বৃদ্ধির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।
উভ
গবেষকরা জানান, ৮ লাখ বছরের মধ্যে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের এমন বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে মানবসৃষ্ট দূষণ এবং এল নিনোর প্রভাবকে দায়ী করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উঞ্চায়ণ ঠেকানো অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। ৫১টি দেশের আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। গত ৩০ বছরে বায়ুমন্ডল পর্যবেক্ষণ করে আসছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৭০ বছরে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধির পরিমান ৭০ গুণ বেড়েছে।
গুণ, কীভাবে গুণ হারানোর কারণ হতে পারে তারই উদাহরণ ৩০ অক্টোবর সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত এই প্রতিবেদনটি। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববাসীর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের এই সংবাদটি প্রতিবেদককে এতটুকু উদ্বেলিত করেনি বলে মনে হয়েছে। বরং সংবাদের একেক লাইনে একেক রকম তথ্য শুনে দর্শক-শ্রোতার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া ছাড়া উপায় নাই। প্রথমে বলা হয়েছে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের ‘১০ বছরের গড় বৃদ্ধির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।’ তারপর বলা হচ্ছে, ৮ লাখ বছরের মধ্যে এমন বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি। শেষ দিকে বলা হয়, ৭০ বছরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধির পরিমাণ ৭০ গুণ বেড়েছে! একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বছর তারিখের সঙ্গে গুণ আর শতাংশ বৃদ্ধির তথ্যে যে কেউ তালগোল পাকিয়ে ফেলবে নিশ্চিত। গড় গড় করে উপস্থাপক সংবাদ পড়বেন ঠিকই, কিন্তু এ ধরনের বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত উপাত্ত মানুষের মনে হয়তো দাগ কাটবে না, তৈরি করবে না উৎকণ্ঠা! বাড়তি তথ্য যোগ করতে গিয়ে মূলত এ ধরনের জটিলতা বেড়েছে। এখানেও সমস্যা একইলেখার পর দ্বিতীয় দফা না পড়া মানে সহজ কথায় যাকে বলে রিভিশন না দেওয়া। বার্তাকক্ষ সম্পাদকরা খতিয়ে দেখলেই এ ধরনের সমস্যা দূর করা যেতো। বছর, তারিখের চেয়ে কতো গুণ ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা জানা জরুরি। খ্রিস্টাব্দের সঙ্গে তারিখ ব্যবহারের বাহারও চোখে পড়ে।
আই ভি
বন ও পরিবেশমন্ত্রীর নেতৃত্বে, ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল যাচ্ছে, বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ২৩ তম আসরে। জার্মানির বন শহরে ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর হবে, কপ টোয়েন্টি থ্রি নামে এই সম্মেলনে।
উভ
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এর আগে মরক্কোর মারাকাশে অনুষ্ঠিত কপ টোয়েন্টি টুতে ঘোষণা হয়েছিল পরবর্তী সম্মেলন হবে দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে। কিন্তু সেখান এ ধরনের বড় সম্মেলনের অবকাঠামো না থাকায় জার্মানিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর টেকনিক্যাল নেগোসিয়েশন, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর হাই লেভেল সেগমেন্ট এবং ১৭ তারিখ হবে সমাপনী অধিবেশন।
নমুনায়িত সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলের ২ নভেম্বর সম্প্রচারিত এই সংবাদে লেখা হয়েছে ‘বন ও পরিবেশমন্ত্রী’। আদতে মন্ত্রণালয়ের নাম ‘পরিবেশ ও বন’। পরিবেশের অংশ হলো বন। দ্বিতীয়ত, এই প্রতিবেদনে আসল কথা নেই, আছে কেবল অনুষ্ঠানের ঠিকুজি বর্ণনা। অনুষ্ঠান কাভার না করে, হয়তো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেখে ৩০ সেকেন্ড বরাদ্দের জায়গা ভরা হয়েছে মাত্র। জলবায়ু সম্মেলেনে পরিবেশমন্ত্রী যোগ দেবেন এটা কী সংবাদ? কপ টোয়েন্টি থ্রি সম্মেলন ফিজির বদলে জার্মানিতে হওয়ার বিষয়টিও সংবাদ নয়। এমন কী, ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর টেকনিকাল নেগোসিয়েশন আর ১৫ ও ১৬ নভেম্বর হাই লেভেল সেগমেন্টের তথ্যও অপ্রয়োজনীয়। মোদ্দা কথা, তিন—চারটি তারিখ তুলে ধরে গৎবাঁধা কিছু কথা লিখেছেন প্রতিবেদক। জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের কথাবার্তা বলা হবে অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে কোন কোন বিষয় সম্মেলনে তুলে ধরবে, সেসব বিষয়ে সংবাদে নেই কোনো তথ্য। যে দেশে প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনে ধানসহ শস্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে—বাড়ছে অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি-বন্যাসহ ঝড়-জ্বলোচ্ছাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এক নিমিষে বহু বছরের অর্জন হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে উপকূলীয় ও নদীতীরের মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে কী ধরনের প্রস্তুতি আছে, সে বিষয়ে আগ্রহ আছে দর্শক-শ্রোতার। কিন্তু এসবের পাশ না মাড়িয়ে দিন-তারিখসহ অপ্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিয়ে দায় সেরেছেন প্রতিবেদক।
এছাড়া সময় ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে অনেক সময় এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টাও থাকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর। ফলে এক সংবাদে দুটি আলাদা বিষয় জুড়ে দিয়ে উভ সংবাদ প্রতিনিয়তই হয়। আবার সচেতনতার অভাবে অনেক সময় এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়ে জগাখিচুড়িও হয়। বিশেষ করে ছবির সঙ্গে বক্তার কথার মিল না থাকায় দর্শককে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। লেখা অনুযায়ী ছবি ব্যবহার না করায় বিপত্তি আরো বেড়ে যায়। এক অনুষ্ঠানে গিয়ে অন্য বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যেমন কথা বলে; তেমনি সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠান শেষে নানা বিষয়ে জানতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত অনুষ্ঠানের চেয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য সামনে চলে আসে। তাতে অসুবিধা নেই, যদি প্রতিবেদক দুটোর মধ্যে গুছিয়ে সংবাদটি লেখার চেষ্টা ও সেই অনুযায়ী ছবি ব্যবহার করে। দেখা যায়, কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অগ্রগতি বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য সংগ্রহ করেছে প্রতিবেদক। বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সেই সাংস্কৃতিক আয়োজনের ছবির সঙ্গে রির্জাভ চুরি সংক্রান্ত বক্তব্য জুড়ে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে অনেকেই। এসব ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের ছবির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বা রিজল ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবি দিয়ে সংবাদটি শুরু করা যেতে পারে। যাতে দর্শক ছবি দেখে আন্দাজ করতে পারে, সংবাদের মূল বক্তব্য কী।
উপমা আর বিশেষণ
বিশেষণের ব্যবহারে ভাষার সৌন্দর্য বাড়ে, বাক্য শ্রুতিমধুর হয়। কুখ্যাত ডাকাত বা হেরোইন সর্দারের অনেক বিশেষণ ব্যবহার করে থাকে পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাদের বিশেষণ যতোটা পরিহার করে সংবাদের ভাষায় লেখা যায়, ততোই ভালো। খেয়াল না করলে কখনো কখনো বিশেষণের কারণে ঘটনার গুরুত্ব কমে যেতে পারে।
আই ভি
কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি।
উভ
দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মো: শাহজালাল নামের ওই যুবক অভিযোগ করেন গত ১৮ জুলাই পুলিশ তাকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় ওই রাতে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুচিয়ে তার দুই চোখ তুলে নেয় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান ও সহযোগিরা। এ ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর ১৩ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শাহজালালের মা। মামলার তদন্ত চলায় খালিশপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহার না করার প্রতিবাদ জানান তারা। এই মামলা প্রতাহারে প্রত্যাহাররে জন্য পুলিশ চাপ ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলের ১৫ অক্টোবরের এই প্রতিবেদনের লিঙ্ক শুনে মনে হবে, আর পাঁচটি ঘটনার মতোই পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা-নির্যাতনের অভিযোগের সংবাদ এটি। এমন কী বোঝার উপায় নেই, নির্যাতনের শিকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন কতোটা দুর্বিষহ করেছে পুলিশ। ‘টাকা না দেয়ায় স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুচিয়ে দুই চোখ তুলে নিয়েছে খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান।’ এতটুকু শুনলেই আঁতকে উঠবে প্রাণ। নির্মম ভয়ঙ্কর ইত্যাদি বিশেষণের চেয়ে অনেক শক্তিশালী বর্ণনা চোখ তুলে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে। অথচ এসব তথ্য খুঁজতে হবে অনুসন্ধানী চোখ দিয়ে। থানা পুলিশের প্রধান দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন বর্বর নির্যাতনের অভিযোগের সংবাদটি প্রতিবেদকের কারণে সাদামাটা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও পরিবারের মানবিক আবেদন উবে গেছে। নির্যাতনের ঘটনা তিন মাস পর প্রকাশ হলেও সামনে আনতে হবে ঘটনার বিভৎসতা। মামলার কারণ ফলো-আপ সংবাদের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বের দাবি রাখে।
বিশেষণের মতো সতর্ক থাকতে হবে উপমা ব্যবহারেও। ‘দানব কী কখনও হয় না মানুষ/ যদি দানব কখনও বা হয় মানুষ/ লজ্জা কী তুমি পাবে না/ ও বন্ধু’, ভুপেন হাজারিকার অতিপরিচিত মানুষ মানুষের জন্য গানটা শুনলেও এমন ভুল করার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো উপমার ব্যবহারের ঝোঁকে দানব মানবের পার্থক্য হয়তো ভুলে গেছেন প্রতিবেদক।
আই ভি
অষ্ট্রেলিয়ান মিডিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে ক্রিস গেইলের করা মানহানি মামলার রায় ঘোষোনা হয়েছে। এই মামলায় জয় পেয়েছেন ক্রিস গেইল।
উভ
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে সিডনির ড্রেসিং রুমে ম্যাসাজ থেরাপি নেওয়ার সময় গেইলের বিরুদ্ধে অশ্বালীন আচরনের অভিযোগ তুনেল এক নারী থেরাপিষ্ট। এরপর ক্রিস গেইলেক নিয়ে অষ্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। এ খবর প্রকাশের পর বিব্রতবোধ করায় নিউ সাউথ ওয়েলসের সুপ্রিম কোর্টে মানহানির মামলা করেন গেইল। এই মানহানি মামলায় জয় পেয়েছেন ক্যারিবীয় দানব।
৩০ অক্টোবর সংবাদভিত্তিক চ্যানেলের এই প্রতিবেদনটির কথা ভাগ্যিস ক্রিস গেইল জানেন না, জানলে এটা নিশ্চিত, তিনি আরেকটি মানহানির মামলা করতেন এই প্রতিবেদক ও চ্যানেলের বিরুদ্ধে। উপমার গণ্ডগোলের পাশাপাশি বানান ভুলের মহড়া ছিলো পুরো সংবাদে। ন্যূনতম শালীনতা থাকলে ‘অশালীন’ বদলে গিয়ে ‘অশ্বালীন’ হওয়ার কথা নয়। বানান অনুযায়ী উচ্চারণ করতে গেলে বিপদে পড়তে হবে উপস্থাপককে। ‘ঘোষোনো’র ডালপালা কাটছাঁট করতে ঘোষণা দিতে হবে রীতিমতো। হয়তো প্রতিবেদক ভাবতে পারেন, স্ক্রিপ্টতো আর দর্শক দেখতে পারে না। তাই ভুল বানান থাকলে ক্ষতি কী? হ্যাঁ, ক্ষতি আছে; প্রথমত, বানান ভুলের কারণে বাক্যের অর্থ পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়ত, শুদ্ধভাবে লিখতে না পারলে নিজের সংবাদের সুপার, (সংবাদ চলাকালে ঘটনার মূল বিষয় অতি সংক্ষেপে লিখিতভাবে স্ক্রিনে তুলে ধরাকে সুপার বলে। শিরোনামসহ সুপার লেখা হয় তিন লাইনে) এস্টোন (বক্তার নামসহ পদ-পদবি) লিখতে বিপদে পড়তে হয়। স্ক্রল বা টিকার সংবাদ লিখতে গিয়ে ভুল হতে পারে। শুদ্ধভাবে বানান লিখতে পারার চেষ্টা না করাটা যেকোনো শিক্ষিত মানুষের জন্য লজ্জার। কিছু কিছু অতি প্রচলিত শব্দের বানানও নিয়মিতভাবে অনেক প্রতিবেদক ভুল লেখেন। তাই কে দেখলো আর কে দেখলো না, সেটা বিবেচ্য নয়, নিজের জন্যই শুদ্ধভাবে লিখতে হয় একজন সংবাদকর্মীকে।
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়ো!
উভের আকার কতো বড়ো তা নিয়ে নেই ধরাবাঁধা নিয়ম। বাংলাদেশে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় সাধারণভাবে ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে রাখা হয় উভ। প্রতি সেকেন্ডে দুটি শব্দ ধরা হয়। ফলে লিঙ্কসহ উভে ৬০—৬২টি শব্দ লিখতে হয়, যা প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে ভালো সংবাদ করার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়, সংবাদের গুরুত্ব বুঝে আকার কমবেশি হয় এবং এতে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো, উভ যখন ‘সবকিছু ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে।’ কঞ্চি বড়ো হতে পারে, কিন্তু তা বাঁশের চেয়ে বড়ো হওয়ার সুযোগ নেই। পরিতাপের বিষয় হলো, সেই প্রবাদ বাক্যকে সত্যি করার মতো কিছু উভ সম্প্রচার হচ্ছে চ্যানেলগুলোতে।
আই ভি
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আবারো বৈঠকে বসছে জাতি সংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আজ এই বৈঠকটি হবে অনানুষ্ঠানিক ও রুদ্ধদ্বার। এতে নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য, আঞ্চলিক দেশগুলো ও সংগঠনগুলোকে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উভ
ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে জাতি সংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের বক্তব্য শোনা হবে। এতে কফি আনানেরও উপস্থিত থাকার কথা। তার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দেয় আগস্টের শেষে। তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেয়ার সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, তাদেরও পর সেনাবাহিনী কঠোর নির্যাতন করেছে। শুক্রবারের ওই বৈঠকে কফি আনান বা তার কমিশনের মুখ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্ভোগের বিষয়ে বিস্তারিত শুনতে চায় নিরাপত্তা পরিষদ। এর আগেও দু’দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। ওই বৈঠকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়া হতে পারে বলে আন্দাজ করা হলে ও শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় নি। ফলে শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ফল কি তা অনুমান করা কঠিন। এ দিনই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে চারদিনের সফরে মিয়ানমার আসার কথা জাতি সংঘের রাজনৈতিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জেফ্রে ফেল্টম্যানের।
একশো ৬১ শব্দের উভটির জন্য দরকার হবে এক মিনিট ২০ সেকেন্ড। গত ১৩ অক্টোবর নমুনায়িত একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত এই উভ পড়তে পড়তে উপস্থাপক তো বটেই দর্শকও ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। মনের মাধুরী মিশিয়ে অনেক কথা প্রতিবেদক লিখেছেন। যে কথা দুই লাইনে বলা যেতো, তা বলা হয়েছে চার লাইনে। একটু দায়িত্বশীল হলে এই উভটি প্রতিবেদক নিজেই সংক্ষিপ্ত করতে পারতেন। সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট বার্তাকক্ষের কেউ এই প্রতিবেদনটি সম্পাদনা করার তাগিদ অনুভব করেনি! প্রতিবেদক ভিন্ন আরো কেউ দেখলে এই ঢাউশ স্ক্রিপ্ট সম্প্রচার হওয়ার আশঙ্কা কম ছিলো। আন্তর্জাতিক সংবাদের মতোই খেলার সংবাদেও মাঝে মাঝে এমন উপন্যাস মার্কা উভ চোখে পড়ে। ১৭৬ শব্দের এমন একটি নাদুসনুদুস উভের লিঙ্ক হলো—
আই ভি
অবশেষে এশিয়া কাপ হকিতে কাক্সিক্ষত জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। আজ চীনের বিপক্ষে প্রাক স্থান নির্ধারনী ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় পেয়েছে জিমি-চয়নরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র ছিলো। এই জয়ে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান।
গত ১৯ অক্টোবর একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত উভের এই লিঙ্কটি লেখা হয়েছে ৪৪ শব্দে। যতো ভালো সংবাদই হোক না কেনো, এমন বিশাল উভ দর্শকের বিরক্তি উৎপাদন ছাড়া আর কিছুই করবে না। একশো ৭৬ শব্দ মানে এক মিনিট ২৮ সেকেন্ড। এখনো অনুষ্ঠানভিত্তিক চ্যানেলগুলোতে দিনের ঘটনার প্যাকেজ বা প্রতিবেদন করা হয় দেড় বা পৌনে এক মিনিটের মধ্যে। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি করানোর কোনো ইচ্ছে নেই বলেই পুরো উভ তুলে ধরা থেকে বিরত থাকছি।
শুধু উভের আকার নয়, অহেতুক জটিল বাক্য গঠনের সমস্যাও আছে। দর্শকের বোঝার সুবিধার্থে বাক্য ভেঙে বললে সহজেই ভালো সংবাদ লেখা সম্ভব।
আই ভি
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ একুশে টেলিভিশনের সাবেক দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।
২৩ অক্টোবর সম্প্রচার হওয়া উভের লিঙ্কে এক বাক্যে রয়েছে ৩০ শব্দ। যা শুনে উদ্ধার করা কঠিন কী বলতে চায় সংবাদটি। অনায়াসে, দুই লাইনে লেখা যেতো এভাবে—
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ একুশে টেলিভিশনের দুই সাংবাদিককের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন।
তবু আশা বেঁধে রাখি
প্রতিবেদক কাজের প্রতি সচেতন, আন্তরিক হলে উভ কেমন হতে পারে তারও উদাহরণ আছে দেশের চ্যানেলগুলোতে। এমন কী অনুকরণীয়-শিক্ষনীয় অনেক কিছু খুঁজে পাওয়া যায় সেসব উভে। বিশেষ করে একই অনুষ্ঠানে বহু বক্তার উপস্থিতি থাকলে কীভাবে সহজ কথায় সংবাদ করা যায় তাও উঠে এসেছে নীচের উভে।
আই ভি
ঢাকার অধিবাসীদের মধ্যে এখন যাদের বয়স চল্লিশের কোঠায় তাদের দুরত্ব জীবনের সঙ্গী মধ্য সত্তর ও আশি দশকের স্মৃতি। নবীন লেখক তৌহিদ ফিরোজ সেই সময় কে নিয়ে লিখেছেন।
উভ
হারানো দিন কেমন স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি তার স্বপ্নের বই ড্রিমস অব ঢাকা। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. মীজানুর রহমান শেলী, বৃটিনের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। বইটি প্রকাশ করেছে পলক পাবর্লিশার্স। বক্তারা বলেন, সত্তর ও আশি দশক যারা পার করে এসেছেন তারা দেখেছেন কেমন করে দিনে দিনে এই শহরের রং বদলে গেছে। বদলে গেছে আমাদের চাহিদা কিংবা আকাংখা। কিন্তু আমরা কী তা মনে রেখেছি? সেই সব কথা মনে করে দিয়েছেন তৌহিদ তার বইতে। তিনি লিখেছেন কেমন করে পুরানো মার্কেটে লিভাইস জিনসের প্যান্ট বা শুধু একটা রঙ্গিন টেলিভিশন আশি দশকের সমাজের পরিবর্তন বা বৈষম্য সবকিছু তুলে ধরেছিল।
২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর এই প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করে একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল। এই উভটি নবীনসহ যেকোনো সংবাদকর্মীর জন্য অনুকরণীয়। গল্পে গল্পে পুরো ঘটনায় বর্ণনায় দর্শক-শ্রোতার বুঁদ করে রাখার মতো উভ। কোন সময়ের কথা বইতে তুলে ধরেছেন লেখক, কেনো বইটি মোড়ক উন্মোচনের ঘটনাটি সংবাদ তা যেমন উঠে এসেছে। তেমনই প্রকাশকসহ গুরুত্বপূর্ণ বক্তার নামও আছে। অনেক বক্তার বক্তব্যকে প্রতিবেদক এক সুতোয় তুলে ধরেছেন সহজ-সরল-প্রাঞ্জলভাবে। এক কথায় এটি একটি পরিপূর্ণ উভ। প্রতিবেদনের সব উপাদানই আছে এখানে। তবে এই উভের আকার খানিকটা বড়ো। দু—একটা লাইন ছেটে ফেললে হয়তো এটাকে আরো চমৎকার-ঝরঝরে-নিখাদ করা যেতো। তারও উদাহরণও আছে আমাদের টেলিভিশনগুলোতেই।
আই ভি
তুরস্কের আনকারায় ১৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে হাক-ইস স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের ষষ্ঠ আসর। উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়বে বাংলাদেশের দুটি ছবি।
উভ
ছবি দুটি হলো—রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের দুর্দশার কাহিনী নিয়ে জসিম আহমেদের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি আ পেয়ার অব স্যান্ডেল এবং মোহাম্মদ ইয়াসিন নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি অব দ্য বোট। ১২৪টি দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছবির মধ্যে থেকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে ছবি দুটি। তুরস্ক সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এই উৎসব।
শেষ ভালো যার সব ভালো তার। এ কারণে উদাহরণ হিসেবে ২১ নভেম্বর সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত ৩৬ সেকেন্ডের এই উভটি আনা হয়েছে।। অল্প কথায় সব তথ্য রয়েছে এতে। সাংবাদিকতার অতি প্রয়োজনীয় পাঁচটি তথ্য, যা ফাইভ ডব্লিউ ওয়ান এইচতুরস্কের আঙ্কারা (কোথায়), বাংলাদেশের দুই নির্মাতা (কে), হাক-ইস চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (কী), ১৫ ডিসেম্বর (কখন), উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়বে (কেনো) এবং চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত (কীভাবে)—সবকিছুর সন্নিবেশে এই স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক। এমন পরিপূর্ণ উভের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উপরের আলোচনা সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী। আলোচনার উদ্দেশ্য গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের এগিয়ে যাওয়া। এ কারণেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উহ্য রেখে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
লেখক : সুশান্ত সিনহা, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশন-এর বিশেষ প্রতিনিধি।
sinhasmp@yahoo.com
sinhaspb@gmail.com
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন