ইব্রাহীম খলিল
প্রকাশিত ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
করোনায় ও টি টি’র দাপট ও প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক মলিন চলচ্চিত্রশিল্প
ইব্রাহীম খলিল

করোনায় বিপর্যস্ত মানুষ, বিপর্যস্ত বিনোদন
২০২০ খ্রিস্টাব্দে সারাবিশ্ব মরণঘাতি করোনায় বিপর্যস্ত। বিশ্বের কোনো দেশই এই ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক প্রলয় থেকে রক্ষা পায়নি। ফলে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে/বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দিশেহারা মানুষ। এখনো এ থেকে রক্ষায় আশা জাগানিয়া কোনো কিনারার হদিস মেলেনি। ২০১৯-এর নভেম্বরে চিনের উহানে প্রথম সংক্রমণ হওয়ার পর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকলে একটি নির্দিষ্ট সময় অধিকাংশ দেশ ও মানুষ রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যত লকডাউন বা ঘরবন্দি ছিলো। একপর্যায়ে অর্থনীতি, অস্থিরতা, একঘেয়েমি, জীবিকার সন্ধানসহ নানা কারণে কয়েক মেয়াদে ঘরবন্দি থাকার পর অনেকটা বাধ্য হয়েই মানুষ ঘরের বাইরে আসতে থাকে। অনেক দেশ অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে লকডাউন উঠিয়ে নিলেও ছোঁয়াচে এ ভাইরাসের তাণ্ডব এখনো কমেনি।
করোনা পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যেই কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশ্ব বিনোদন জগতও। বিনোদন জগতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলচ্চিত্রশিল্প। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ, শুটিং স্থগিত, করোনায় আক্রান্ত হওয়া, মৃত্যু--সবকিছুই যেনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে এই সময়ে অর্থনীতিতে করোনার বিরূপ প্রভাব পড়লেও প্রসার বেড়েছে অনলাইন বাণিজ্যের। শুরুতে শপিংমল বা রেস্তোরাঁয় বড়ো জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশেষ করে শহরাঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করেছে পছন্দের পণ্য। ওষুধ, পোশাক, খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য কেনাকাটা করেছে অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার বিধিনিষেধ থাকায় বিনোদনও হয়ে পড়েছে অনলাইন নির্ভর। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম বা ওভার দ্য টপ (ও টি টি) মিডিয়া সার্ভিসে ব্যবসার প্রসার হয়েছে। মানুষও নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এসব মাধ্যমকে ব্যবহার করেছে। এমতাবস্থায় স্বল্পকালীন হলেও মানুষের মধ্যে অনলাইনভিত্তিক যে অভ্যাস গড়ে উঠেছে সেটার স্থায়িত্ব, ও টি টির ব্যবসা, বিনোদনজগৎ ও প্রেক্ষাগৃহের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের আসন্ন পরিস্থিতি নিয়েও বিশ্লেষণ জরুরি।
করোনায় ও টি টি’র পৌষ মাস, বাকিদের সর্বনাশ
করোনা সঙ্কটের কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি যখন প্রায় স্তব্ধ, সেখানে অনলাইনভিত্তিক কিছু কোম্পানির ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে। লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষ একঘেয়েমি কাটাতে ইন্টারনেটে একের পর এক চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক দেখার ফলে ‘নেটফ্লিক্স’, ‘অ্যামাজন’, ‘জি৫’ এর মতো ও টি টি কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক দিক থেকে চরমভাবে এগিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যদি শুধু ‘নেটফ্লিক্স’-এর ব্যবসা বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে, করোনা এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার আকারই পাল্টে দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, চলতি বছরে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ‘নেটফ্লিক্স’-এ রেকর্ড সংখ্যক গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনার এ সময়ে তিন কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক পেয়েছে ও টি টির জায়ান্ট এ প্রতিষ্ঠানটি! বিভিন্ন দেশে যখন আস্তে আস্তে লকডাউন শিথিল হতে থাকে তখনো তাদের গ্রাহক বাড়ার হার ছিলো ঈর্ষণীয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর--মাত্র তিন মাসে ‘নেটফ্লিক্স’-এ ২২ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। সবমিলে বর্তমানে তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
অবাক করা বিষয় হলো, বৈশ্বিক অতিমারি পরিস্থিতিতে গৃহবন্দি কোটি কোটি দর্শকের চাপে ইন্টারনেট সংযোগ ও সম্প্রচার অবকাঠামোই আকস্মিক চাপের মুখে পড়ে! এ চাপের অন্যতম কারণ ছিলো, করোনা বিস্তার করায় এই খাতের অনেক প্রকৌশলী এবং কর্মীদের ছুটিতে থাকা। ফলে চাপ সামাল দিতে গত অক্টোবরের মাঝামাঝিতে নিজেদের সেবার মান কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ‘নেটফ্লিক্স’।
করোনাকালীন ‘নেটফ্লিক্স’-এর আন্তর্জাতিক গ্রাহক সংখ্যা তাদের ব্যবসাকে আরো জটিল করে তোলে। কারণ চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে তাদের যতো গ্রাহক এসেছে, তার প্রায় অর্ধেকই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। তবে এখনো কোম্পানিটির সিংহভাগ আয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহক থেকে। তাই ‘ডিজনি’ ও ‘এইচ বি ও’র মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে টিকে থেকে তাদের বাড়ির বাজার ধরে রাখাই মূল বিষয়। লকডাউনের কারণে চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল তৈরির সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেলেও ‘নেটফ্লিক্স’ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০টি করে চলচ্চিত্র মুক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি নানাধরনের সিরিয়াল তো ছিলোই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, করোনায় অন্যরা যেখানে কনটেন্ট সঙ্কটে তখন ‘নেটফ্লিক্স’ এতো কনটেন্ট পেলো কোথায়? আসলে এসব চলচ্চিত্রের অনেকগুলোই ‘নেটফ্লিক্স’ প্রযোজিত নয়। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-পরিচালকের কাছ থেকে এসব কিনে নিয়েছে। এছাড়া করোনার সময়েও নানা কৌশলে চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক নির্মাণ করে সেগুলো নিজেদের প্লাটফর্মে মুক্তি দিয়েছে।
তবে বর্তমানে ‘নেটফ্লিক্স’-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ তাদের বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ধরে রাখা। যদিও ‘নেটফ্লিক্স’ এ বিষয়ে তেমন উদ্বিগ্ন নয়; তাদের ভাষ্য--আমরা কনটেন্টের বিষয়ে আরো ‘ভালো ও সাবধানী’ হতে চাই। তারপরও কোম্পানিটি প্রত্যাশা করছে, আগামী বছর তাদের প্রযোজনার সংখ্যা প্রতি ত্রৈমাসিকে ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ত্রৈমাসিককেও ছাড়িয়ে যাবে।১ এদিকে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে ‘নেটফ্লিক্স’। এ সময়ে তারা মোট আয় করেছে ছয়শো ৪০ কোটি মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৬ হাজার চারশো ৪০ কোটি টাকা (এক ডলারে ৮৩ টাকা হিসাবে)!
অন্যদিকে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম শুরু করা ভারতীয় ও টি টি প্রতিষ্ঠান ‘জি৫’ যেনো নতুন দিশার সন্ধান পেলো করোনা অতিমারির কারণে। ভারতে করোনা শুরু হওয়ার আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ও টি টি ছাড়া শুধু ইউটিউব চ্যানেল থেকেই তাদের আয় যেখানে ছিলো মাত্র ৩২ হাজার পাঁচশো মার্কিন ডলার (২৬ লাখ ৯৭ হাজার পাঁচশো টাকা) সেটা জুলাইতে গিয়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলারে। আগস্টে তা তিন লাখ ছয় হাজার এবং সেপ্টেম্বরে তিন লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। এর এক মাস পর অর্থাৎ অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়ায় চার লাখ ১২ হাজার মার্কিন ডলারে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা!২ আবার ও টি টি ব্যবসাতেও পিছিয়ে নেই ‘জি৫’। বর্তমানে একশো ৯০টির বেশি দেশে ১২টি ভাষায় চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল পরিবেশন করছে তারা। বর্তমানে তাদের সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে প্রায় সাত কোটি ৬৪ লাখ। গত সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রাহক মাসে গড়ে একশো ৫২ মিনিট ‘জি৫’ এর ভিডিও দেখতে ব্যয় করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি।৩ তবে ‘নেটফ্লিক্স’ অপেক্ষা ‘জি৫’ এর কনটেন্টের জোগান কম হওয়ায় করোনাকালীন তুলনামূলক কম আয় করেছে ভারতীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ‘অ্যামাজন’, ‘অ্যাপল টিভি’, ‘ডিজনি’র ও টি টি ব্যবসাতেও ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ও টি টির এ প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ভারতের প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী প্রসেনজিৎ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ও টি টি প্লাটফর্মগুলো করোনার সময় অনেক ভালো করেছে। তবে এটা এই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে যদি মনে করা হয় তাহলে ভুল হবে। কারণ এই ও টি টি প্লাটফর্ম আস্তে আস্তে এমন একটা জায়গা করে নিচ্ছে যেটা এন্টারটেইনমেন্ট জগতে অনেক বড়ো জায়গা দখল করে নিবে। তার মতে, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৩০ শতাংশ বাজার দখল করে নিয়েছে ও টি টি। এটা যদি আস্তে আস্তে ৭০ শতাংশ জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে বিনোদনের জগৎ আরো বড়ো হবে। তিনি বলেন, ‘ও টি টি এমনিতেই সারাবিশ্বে অনেক বড়ো হয়েছে। এখন তাদের ফোকাস হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মত দেশগুলোর ওপরে। এছাড়া করোনার সময়ে মানুষ যেহেতু বাইরে যেতে পারছে না সেখানে ও টি টি প্লাটফর্ম খুব বড়ো একটি রোল প্লে করছে।’৪ তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ‘বায়োস্কোপ’, ‘রিং’, ‘আইফ্লিক্স’সহ বিভিন্ন ও টি টি প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো ব্যবসা করতে পারেনি। কারণ পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও কনটেন্টের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক বাড়ার পরিবর্তে বরং কমেছে।
ও টি টির স্থায়িত্ব ও আধিপত্যের আভাস
অনলাইনভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের ব্যবসা বিশ্বব্যাপী দ্রুত সম্প্রসারণ হওয়ার প্রধান কারণ কনটেন্টে বৈচিত্র্য এবং এক উৎস থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কনটেন্ট দেখতে পারার সুযোগ। একইসঙ্গে এর ব্যয়ও হাতের নাগালে। শুধু তাই নয়, এখানে যেসব চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল রয়েছে তা কখনোই কোনো প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয় না। এদের নিয়মিত গ্রাহক ছাড়াও যারা সাধারণত প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করতো তাদের অনেকেই করোনার সময়ে ঘরে বসে মোবাইল-ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা স্মার্ট টেলিভিশনে চলচ্চিত্র দেখেছে। প্রায় এক বছর তারা এসব ডিভাইসে চলচ্চিত্র দেখে অভ্যস্ত হয়েছে কি হয়নি, সে প্রশ্নের উত্তর করোনা পরবর্তী সময়ই বলে দিবে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আদৌ এসব দর্শককে ও টি টি-বিমুখ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না! অনেকের কাছে এই চিন্তা অবান্তর মনে হতে পারে, কিন্তু বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখলেই পরিষ্কার হবে। সাধারণত ও টি টির ব্যবসা যে আকার নিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই তা কেবলই ঊর্ধ্বমুখী চলছে। একইসঙ্গে প্রযোজক, নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরাও ও টি টিতে নির্ভরতার জায়গা পাওয়ায় এবং লোকসানের আশঙ্কা প্রায় না থাকায় বিনিয়োগকারীরা এতে ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে এ খাতে বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও অনেক বেড়েছে। একসময় জেমস বন্ড সিরিজের মতো চলচ্চিত্রগুলোতে যেসব পণ্য দেখানো হতো সেটার ক্রেতা-দর্শক ছিলো নির্দিষ্ট। কিন্তু ও টি টির দর্শক সর্বজনীন। কারণ এর কনটেন্টেও শ্রেণি-বয়স-রুচি ভেদে বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। ফলে এখন তাদের দর্শক সংখ্যা অনেক সময় পূর্বানুমানকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সেকারণেই ও টি টিতে প্রতিনিয়তই গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান চিন্তা--যেহেতু প্রায় অধিকাংশ পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে এবং তাদের বিনোদনও প্রয়োজন--ও টি টির মাধ্যমে নানাধরনের ব্যবসা ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া হলিউড ও বলিউডের বিখ্যাত সব অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা সম্প্রতি ও টি টি প্লাটফর্মের হয়ে টানা কাজ করে চলেছে। ফলে তাদের কাজের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি পেয়েছে। ও টি টির সাফল্য নিয়ে জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী প্রসেনজিতের ভাষ্য--যখন টেলিভিশন এসেছিলো তখন প্রযোজকদের জন্য অনেক বড়ো একটা দ্বার খুলে গিয়েছিলো। আজকে ও টি টি প্লাটফর্মেও রেভিনিউ আয়ের বড়ো একটা খাতে পরিণত হয়েছে। টেলিভিশনের চেয়ে ও টি টি আরো বড়ো মডেল হচ্ছে। এখানে অনেক মেধাবীরা কাজের সুযোগ পাবে। অনেকে বড়ো চলচ্চিত্র বানাতে পারছে না, স্বল্পদৈর্ঘ্য বানাচ্ছে। এই কাজগুলো এসব প্লাটফর্মে জায়গা পাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রচুর নতুন শিল্পী ডিরেক্টরদেরও এখানে পাওয়া যাবে। এগুলো যতো বাড়বে এ ইন্ডাস্ট্রি আরো বড়ো হবে। আবার ভালো চলচ্চিত্র বানিয়ে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসা যে কতো বড়ো যুদ্ধ এবং লড়াই সেটা বাইরে থেকে যতোটা সহজ মনে হয়, বিষয়টা ততোটা সহজ নয়। সবমিলিয়ে প্রসেনজিৎ মনে করেন, এই ধরনের প্লাটফর্ম যতো বাড়বে সেটা সবার জন্যই ভালো।৫
দর্শক করোনা পরবর্তী সময়ে ও টি টির অভ্যাস ছেড়ে সত্যিই কি প্রেক্ষাগৃহে ফিরে যাবে--এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রসেনজিৎ বলেন,
আমি মনে করি যাবে। কারণ আমাদের কাজের শুরুর দিকে যখন টেলিভিশন আসলো মানুষ বলল সবাইতো বাসায় বসে টেলিভিশন দেখবে তারা আর সিনেমাহলে যাবে না। যখন ভিসিআর, ডিভিডি আসলো তখন মানুষ বাসায় বসে সিনেমা দেখতে লাগলো তখন সবাই বললো মানুষ আর সিনেমাহলে যাবে না। সবার বাড়িতে একটা হোম থিয়েটার চলে আসলো। তখনও একই কথা। আমি মনে করি আট থেকে ১০ বছর পর পর টেকনোলজির কিছু বিস্তার ঘটবে কিন্তু সিনেমাহল থেকে যাবে। এরমধ্যে কিছু সিনেমা সিনেমাহলে ভালো করবে কিছু ও টি টি প্লাটফর্মে ভালো করবে। একইসঙ্গে যেকোনো কাজ আন্তর্জাতিকভাবে ও টি টিতে জায়গা পাচ্ছে, সারাবিশ্বের মানুষ দেখছে। যেটা আগে ছিলো না। এর মাধ্যমে আমাদের অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও টেকনেশিয়ানরাও পরিচিতি পাচ্ছে। যেটা এখন কেবল ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ভাষার কারণে আমরা এতোদিন যে জায়গায় যেতে পারিনি সেটা হয়তো সামনে থাকবে না। আগে বাংলাদেশের বা আমাদের দেশের [ভারতের] মারাঠি থেকে শুরু করে স্থানীয় অনেক ছবি দেখতে পারতাম না। কিন্তু আমরা এখন এই ওটিটির মাধ্যমে সারাবিশ্বের সিনেমা দেখতে পারছি।৬
ঢালিউডের সর্বনাশ এবং প্রেক্ষাগৃহের টিকে থাকা
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ ২০২০ এবং প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। করোনায় আক্রান্ত বাড়তে থাকলে ১৮ মার্চ থেকেই দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর একে একে পিছিয়ে যেতে থাকে চলচ্চিত্র মুক্তির তারিখ। দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর ১৬ অক্টোবর ২০২০-এ সাহসী হিরো আলম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দেখতে তেমন দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। একপর্যায়ে বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ চলচ্চিত্রটি নামিয়ে ফেলে। পরের সপ্তাহের ২৩ অক্টোবর মুক্তি পায় ঊনপঞ্চাশ বাতাস। এটি সাতটি মাল্টিপ্লেক্সসহ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও আশাব্যঞ্জক দর্শক টানতে পারেনি। ফলে আর কোনো চলচ্চিত্র মুক্তির সাহস করছে না প্রযোজক ও নির্মাতারা (২৮ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত)। করোনার কারণে নতুন করে কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে না পারায় সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও নেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প। করোনার সময়ে সাহসী হিরো আলম ও ঊনপঞ্চাশ বাতাসসহ মাত্র ২২টি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়।৭ এর মধ্যে উল্লিখিত দুটি ছাড়া বাকি কোনোটির ক্ষেত্রে লোকসানের ভয়ে মুক্তির ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রেক্ষাগৃহের টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
গত কয়েক দশকে দেশের প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে দেড় শতাধিকে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্র মুক্তি না পাওয়ায় এসব প্রেক্ষাগৃহ টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি বলিউডসহ ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির ঘোষণা দেয়। ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে সাফটা চুক্তির আওতায় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভারতের সঙ্গে একযোগে নতুন এসব চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছে তারা। ফলে বাংলাদেশে একচ্ছত্র ব্যবসা করা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনপ্রিয় এ অভিনয়শিল্পীর ভাষ্য এমন--
বলিউডের ছবি আমাদের এখানে মুক্তি পেলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বলিউডের দেড়শ কোটি রুপি বাজেটের ছবির সঙ্গে বাংলাদেশের এতো কম বাজেটের ছবি টিকতে পারবে না। ... এইভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। ... হিন্দি ছবির প্রভাবে শ্রীলংকার চলচ্চিত্র হারিয়ে গেছে। নেপালের চলচ্চিত্রও ধ্বংস হয়ে গেছে।৮
কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দিয়ে ব্যবসা করতে না পারা, পর্যাপ্ত চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলে প্রেক্ষাগৃহ কীভাবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব সে সম্পর্কে কোনো কথাই বলেননি বাংলাদেশে চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া এ অভিনয়শিল্পী। তবে আরেক জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরীর ভাষ্য হলো--
আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণেই এমনটি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেমন মন খারাপ হচ্ছে, তেমনি আবার বাস্তবতাকে অস্বীকারও করতে পারি না। সিনেমা হলগুলো যদি ভালো-মানসম্মত সিনেমা না পায়, তাহলে কী করবে। সিনেমা হল বন্ধ হয়ে মার্কেট হয়ে যাবে। বলিউডের ছবি কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে দেখি, দেখে আসছি। একসময় ডিশের মাধ্যমে দেখেছি। এখন হিন্দি সিনেমা মুক্তির পরের দিনই বা দুদিনের মধ্যে আমরা পাইরেটেড কপি দেখছি। বলিউডের সিনেমা দেখা কিন্তু আমাদের থেমে নেই। নেটফ্লিক্স, হইচই প্ল্যাটফর্মে আমরা দেখছি। ... এখন আমাদের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। যারা ব্যর্থ হবে তারা টিকতে পারবে না। আন্তর্জাতিক মানের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। মানসম্মত কাজ করতে হবে, না হলে আগামীতে আরও কিছু আসবে। এইসব ভাবতে হবে। ভালো কাজের দিকে বেশি মন দিতে হবে। বিগত কয়েক বছরে কয়টি ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়েছি আমরা? এইগুলো আমাদের ব্যর্থতার ফসল।৯
অন্যদিকে নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘আমি চাই বলিউডের সিনেমা আসুক। একটি প্রতিযোগিতা হোক আমাদের মধ্যে। তাহলে ভালো সিনেমা নির্মিত হবে। ভালো সিনেমা ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারবে না। যারা ভালো ছবি বানাবে শুধু তারা টিকে যাবে।’১০ আয়নাবাজিখ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীও একই মত পোষণ করেছেন। তবে এর জন্য তিনি কিছু শর্তজুড়ে দিয়ে বলেছেন,
আমাদের এখানে সবখানেই হিন্দি গানের জোয়ার। গ্রাম থেকে শহরে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের প্রাধান্য দেখা যায়। মানুষ হিন্দি সিনেমার খবর বেশি রাখে। ... এখানে শুধু বলিউড কেনো? ইরানি, কোরিয়ান ভাষার ছবিও মুক্তি দেওয়া হোক। তবে সব দেশের ছবির অবশ্যই বাংলা সাব টাইটেল থাকতে হবে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা--আমাদের দেশের দর্শক সিনেমা হলে বলিউডের চেয়ে ভালো বাংলা সিনেমা দেখতে বেশি পছন্দ করেন। ... হিন্দি সিনেমা মুক্তি বিষয়ে সরকারের কিছু স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। টিকিটের দাম থেকে শুরু করে মূল্য সংযোজন কর বিষয়ে অবশ্যই পার্থক্য থাকতে হবে। ... নিয়মনীতির বিষয়ে কঠোর হতে হবে। তাহলে সব ভাষার ছবি মুক্তি পেলেও কোনো সমস্যা নেই।১১
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের তাহলে ভবিষ্যৎ কী? ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা যখন একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তখন চলচ্চিত্রশিল্পীরা এর প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি বন্ধ করে। কিন্তু এবারে চলচ্চিত্রশিল্পীরাও দ্বিধা-বিভক্ত। কারণ সঙ্কটকালীন এ পরিস্থিতিতে একদিকে সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা যেমন কঠিন বিপদের সম্মুখীন, অন্যদিকে লোকসানের ভয়ে নির্মাতারাও তাদের চলচ্চিত্র মুক্তি দিচ্ছে না। ফলে এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি ছাড়া বিকল্প কোনো পথও দেখছে না প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা। আবার তাদেরকে যদি ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি করতে না দেওয়া হয় অনেকে হয়তো করোনার সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে ফেলবে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে একযোগে যখন কোনো নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া হবে, সেটার সঙ্গে নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। কারণ ভারতের তুলনায় দেশীয় চলচ্চিত্রে একদিকে যেমন বিশাল বাজেটের পার্থক্য তেমনই গল্প, ক্যামেরার কাজ, এডিটিং থেকে শুরু করে সার্বিক মানও নিম্ন। ফলে বলিউড ও ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জোয়ারে ঢালিউডের চলচ্চিত্র কতোদিন নিজের দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন হবে সময়ই সেটা বলে দিবে।
প্রযুক্তির জোয়ারে ও টি টি এবং কতিপয় ‘শঙ্কা’
চলচ্চিত্রে একসময় স্ক্রিন বলতে কেবল প্রেক্ষাগৃহের বড়ো পর্দা বোঝালেও এখন স্ক্রিনের ধারণাতেও পরিবর্তন এসেছে। কারণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন এখন আর প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ নেই। প্রেক্ষাগৃহের পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশন, কম্পিউটার এমনকি মোবাইলের স্ক্রিনকে কেন্দ্র করেও নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের নানা মাধ্যমের উদয় হয়েছে। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম বা ও টি টি প্রযুক্তি বিকাশেরই একটি ফসল। বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নতুন নতুন কনটেন্ট নির্মাণ হওয়ায় শুরু থেকেই এ মাধ্যমটির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ফলে অনেক সম্ভাবনার সঙ্গে এর নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক মুনাফার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই ইন্টারনেট বা অনলাইনভিত্তিক। ফলে ব্যবসায়িক অংশীদার বা একান্ত কাছের মানুষের বাইরে যখন কোনো কনটেন্ট একাধিক ব্যক্তিকে শোনা-দেখা কিংবা সম্পাদনার অধিকার দেওয়া হয়, সেটা ততোই অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সঙ্গে মুনাফা আদায়ের ক্ষেত্রেও সেটা ততোই অন্তরায় হয়ে ওঠে। তবে এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব নিরাপত্তা বলয় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেটে কোনোকিছুই সুরক্ষিত নয়! আর সেটাতে যদি কোটি কোটি মানুষ সংযুক্ত থাকে তাহলে তো কথাই নেই। কারণ প্রতিটি নিরাপত্তা বলয়ের বিপরীতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ঠিকই সেটার দুর্বলতা খুঁজে বের করতে সক্ষম।
ফলে সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মও তাদের কনটেন্ট সুসংহত করে রাখার ক্ষেত্রে সক্ষম নয়! কারণ যতো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই গড়ে তোলা হোক না কেনো, তাদের ভিডিও পাইরেসি হবেই। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের সদস্য নয় এমন ব্যক্তিদের চেয়ে বরং যারা সদস্য তাদের কাছেই ওই প্লাটফর্মটি বেশি অরক্ষিত! এই নমুনা ইতোমধ্যে দেখা গেছে। কারণ ‘নেটফ্লিক্স’ থেকে শুরু করে যেকোনো ও টি টির আলোচিত চলচ্চিত্র-সিরিয়াল মুক্তির কিছুক্ষণ পরই এর সদস্য না হয়েও দর্শক দেখতে পায়। কারণ কোনো না কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান সেটা বিশেষভাবে ডাউনলোড কিংবা স্ক্রিন রেকর্ড করে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সার্ভারে আপলোড করে দেয়।
প্রশ্ন হলো, ইন্টারনেট থেকে যদি এভাবেই দেদারসে ভিডিও নামিয়ে দেখা যায়, তাহলে ‘নেটফ্লিক্স’-এর ২০ কোটির বেশি সাবস্ক্রাইবার কেনো, বা অন্যান্য ও টি টি প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রাইবার ক্রমেই বাড়ছে কেনো? এর প্রধান কারণ ও টি টির সহজলভ্যতা। বর্তমানে ও টি টি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘নেটফ্লিক্স’-এর মাসিক চার্জ সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশি দর্শকের জন্য ১২ ডলার বা নয়শো ৯৬ টাকা (এক ডলারে ৮৩ টাকা হিসেবে)। এই টাকায় চারজন চারটি আলাদা স্ক্রিন বা ডিভাইসে একই সময়ে লগ ইন করে এই সেবা নিতে পারে। বাংলাদেশে অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা একটি স্ক্রিন মাসে দুইশো ৫০ টাকা থেকে তিনশো টাকায় তৃতীয় পক্ষ হয়ে বিক্রি করছে। সঙ্গে ‘জি৫’, ‘অ্যাপল টিভি’, কখনো কখনো ‘হইচই’সহ নানা ও টি টির স্ক্রিনও একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি দিচ্ছে! ফলে স্বল্প টাকায় যে কেউ এ সেবা নিতে পারে। এছাড়া ‘জি৫’, ‘হইচই’ বা ‘অ্যাপল টিভি’র স্ক্রিন ফি তো আরো কম। তাই বিশ্বব্যাপী নামমাত্র টাকার বিনিময়ে মনের মতো সেবা নেওয়ার দিকেই মানুষ বেশি ঝুঁকছে। একইসঙ্গে ও টি টিতে একটি অ্যাকাউন্ট থাকলে বিশ্বের সব দেশের চলচ্চিত্র-সিরিয়াল দেখার সুযোগ রয়েছে। যেটা সবসময় অনলাইনে পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়। মূলত তৃতীয় কোনো পক্ষ এ পাইরেসির ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বড়ো সমস্যা হলো, প্রায় সময়ই দেখা যায়, নতুন চলচ্চিত্রের নাম দিয়ে ভিন্ন কোনো চলচ্চিত্র আপলোড দেওয়া হয়েছে; অথবা সেটা একেবারেই মানহীন ভিডিও। ফলে নিরাশ হয়ে আস্তে আস্তে এভাবে ডাউনলোডের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। তবে কোনো চলচ্চিত্র পাইরেসির মাধ্যমে ব্যবসায়িক ধস নামানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ‘ইউটিউবের’ মতো ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটই যথেষ্ট। কারণ এখানে কোনো আলোচিত নতুন চলচ্চিত্র আপলোড করে দিলে মুহূর্তেই কোটি কোটি দর্শক সেটা ডাউনলোড/প্রদর্শন করে ফেলে। ফলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণেও প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে যদি কোনো চলচ্চিত্র, ভিডিও ক্লিপস বা অন্য কোনো ভিডিও ‘ইউটিউব’ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয় এবং সেটার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদি আগে থেকেই পাইরেসির বিষয়ে সতর্ক করে থাকে তাহলে ওই ভিডিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিলেট/ব্লক করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এভাবে যদি একই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিনিয়ত এমন পাইরেসি ভিডিও আপলোড হতে থাকে তাহলে একসময় সেই অ্যাকাউন্ট ডিলেট/ব্লক করে দেয় ফেইসবুক ও ‘ইউটিউব’। একইসঙ্গে ওই ভিডিও যদি আগে থেকেই অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে আপলোড করা থাকে এবং সেটা তাদেরই ইউনিক কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত থাকে তাহলে সেটা আর কেউ আপলোড দিতে পারবে না। সেটা যদি কোনো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের হয় তবুও। তখন ওই কনটেন্ট নিজেদের করে নিতে অনেক সময় নানা প্রমাণ হাজির করতে হয়। অনেক সময় সরাসরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হতে পারে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, ফেইসবুক-‘ইউটিউব’-এ তো এমন অনেক ভিডিও দেখা যায় যেটা পোস্ট করা অ্যাকাউন্টধারীর নির্মিত নয়; একইসঙ্গে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে যেহেতু বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় সেহেতু সেগুলো ইউনিক কনটেন্ট হয় কীভাবে, তাদেরটা ব্লক করা হচ্ছে না কেনো? পাশাপাশি একই ভিডিও বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেও পোস্ট করা হচ্ছে এবং সবারটাই দীর্ঘদিন দর্শকের কাছে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর পিছনে আসলে দুর্বলতা রয়েছে প্রযুক্তির। কারণ ফেইসবুক ও ‘ইউটিউব’ সাধারণত আগে আপলোড করা ভিডিওর মতো হুবহু অন্য কোনো ভিডিও আপলোড হলে সেটা বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রে যদি কোনো ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে ভিডিওর দুই দিকে কিছু অংশ/লেখা জুড়ে দেয়, ভিন্ন কোনো লোগো যুক্ত করে, মূল ভিডিওর স্ক্রিনে কোনো স্থায়ী কিছু যুক্ত করে, পুরো ভিডিও উল্টো করে দেয় অথবা স্ক্রিন রেকর্ডের মাধ্যমে ওই ভিডিওর কিছু অংশ মূল সাউন্ডসহ পরিমার্জন করে, তাহলে আগের ভিডিও থেকে দ্বিতীয় ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। যেটা সাধারণত ফেইসবুক ও ‘ইউটিউব’ থেকে রিমুভ/ডিলেট/ব্লক করা হয় না।
তবে এসব কিছুর পরও আপলোড করা ভিডিও ও অ্যাকাউন্ট কিন্তু ডিলেট বা ব্লক করে দেওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ভাবছেন কীভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লেখক একটি ফেইসবুক পেইজ খুলে সেখানে একটি ভিডিও আপলোডের জন্য সেটা নানাধরনের পরিমার্জন করে ভিডিওটির মৌলিকত্বই পরিবর্তন করে ফেলি (শুধু এ লেখার স্বার্থে এবং প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে এটা করা হয়। আমরা অবশ্যই সব ধরনের পাইরেসির বিরুদ্ধে এবং নৈতিকভাবে তা কখনোই সমর্থন করি না)। ওই ভিডিওটি ছিলো ইসরাইলের ‘কান ১১’ নামের একটি টেলিভিশনের নির্মিত সিরিয়াল--তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি অভিযান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ তুমুল আলোচিত এ সিরিয়ালটি ইসরাইলে প্রকাশের পর ও টি টি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল টিভি’ কিনে নেয়। ফলে এটার স্বত্বাধিকারীও হয়ে যায় তারা।
সিরিয়ালটি নিয়ে নানা আলোচনার পর ‘অ্যাপল টিভি’র সাবস্ক্রাইবার না হওয়ায় এটা অনলাইনে খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোথাও এটা না পেয়ে ফার্সি ভাষার ইরানের একটি ওয়েবসাইট থেকে তা নামিয়ে দেখা হয়। তবে সিরিয়ালের ভাষা ইংরেজিতেই ছিলো। সিরিয়ালটি অনলাইনে না থাকায় এটা অনেকটা নিরাপদ বোধ হওয়ায় পরীক্ষার অংশ হিসেবে লেখক ভিডিওটির এডিটিং সম্পন্ন করে এক সন্ধ্যায় আপলোড করেন। সাধারণত কোনো ভিডিও অন্য ভিডিওর সঙ্গে মিলে গেলে সেটা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফেইসবুক ও ‘ইউটিউব’ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপলোড করা ভিডিওটির সঙ্গে মূল ভিডিওর কোনোধরনের মিল না থাকায় ফেইসবুক থেকে কোনো বার্তা পাঠানো হয় না। তারপরও আসলেই প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়া গেছে কি না সেটা যাচাইয়ের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ওই ভিডিওর দিকে নজর রাখা হয়। সেদিন রাতে কোনোধরনের বার্তা না আসায়, ফেইসবুক তার ব্যবহৃত সতর্কতামূলক প্রযুক্তি দিয়ে এটা ধরতে পারেনি বলে লেখক মনে করেন। আরো পর্যবেক্ষণের জন্য ওই ভিডিও কয়েকদিন ফেইসবুক পেইজে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরদিন সকালেই প্রশ্নের উত্তর মিলে যায়। মোবাইল অন করতেই দেখা যায়, ফেইসবুক থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় যেটা জানানো হয় সেটা অনেকটা এ রকম--‘আপনি গতকাল যে ভিডিওটি আপলোড করেছেন সেটা আপনার পেইজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ আপনার ওই ভিডিওটি আপলোড হওয়ার পর অ্যাপল টিভির পক্ষ থেকে কিছু প্রমাণসহ এক ইমেইল বার্তায় জানানো হয়েছে সেটার প্রকৃত মালিক তারা। আমাদের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে থাকলে আপনি আপিল করতে পারেন।’
ফলে এ সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে, ফেইসবুক ও ‘ইউটিউব’ এর মতো প্রতিষ্ঠান প্রাযুক্তিক দুর্বলতার কারণেও যদি পাইরেসি বন্ধ করতে না পারে, তাহলে মূল প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিগোচর হলে সেটা তাদেরকে জানালেই তা সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে যারা বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের ভিডিও আপলোড করছে তাদের জন্য হতাশার কথা হলো, আপনাদের সময়ও সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। কারণ ‘নেটফ্লিক্স’, ফেইসবুক, ‘জি৫’ ও ‘ইউটিউব’সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ করছে। কেননা প্রতিবছর বিজ্ঞাপন বাবদ এখান থেকে বিপুল রাজস্ব হারানোয় এসব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় নিয়ে আসছে সরকার। ফলে তারাও নিজেদের ব্যবসা নির্বিঘ্নে করতে এবং অন্যরাও যাতে ব্যবসা করতে পারে, সেজন্য এসব বিষয়ের ওপর নজরদারি করবে। একইসঙ্গে যারা ওয়াই-ফাইয়ের নিজস্ব মুভি সার্ভারসহ দেশীয় অবৈধ ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটের মাধ্যমে পাইরেসির সঙ্গে জড়িতদেরকেও সহজে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে গুগলড্রাইভে আপলোড করে বা পেনড্রাইভে নিজেদের মধ্যে পাইরেসির এ বাউন্ডারি সীমাবদ্ধ রাখতে হবে! স্বাভাবিকভাবেই বলা যেতে পারে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে চলচ্চিত্রের প্রদর্শন, ধারণা ও এর আকার পরিবর্তন করতে চলেছে ও টি টি মাধ্যম। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।
স্বস্তিতেও অস্বস্তি
কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রমণে দেশে লকডাউন শুরু হলে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি জীবন কাটিয়েছে সবাই। ব্যক্তিগতভাবে এ সময় লেখক হোম অফিস করার পাশাপাশি একটা বড়ো সময় বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল দেখেই সময় কাটিয়েছে। তবে যেসব চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল দেখেছে তার অধিকাংশই ছিলো বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের নির্মিত। এ সময় তারা কেবল নতুন নতুন চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল মুক্তি দিয়েই থামেনি, নির্মাণও চালিয়ে গেছে। সারাবিশ্ব লকডাউনে কার্যত স্থবির হয়ে যাওয়ায় প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে নিজ নিজ বাসা থেকে তারা এসব নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। যেগুলো দেখে মানসিক স্বস্তি পেলেও মনের কোথায় যেনো অস্বস্তি কাজ করেছে। কারণ ঠিক একই সময় অন্যরা ভালো করলেও বাংলাদেশভিত্তিক ও টি টি প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারেই ছিলো নির্লিপ্ত। ব্যবসা তো দূরের কথা অনেকের ওয়েবসাইটই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডাউন হয়ে পড়ে। এমনও সময় ছিলো অনেক চেষ্টা করেও সেগুলোতে দিনে একবারও লগ ইন করা যায়নি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের নির্মাতা-প্রযোজক-পরিবেশক-অভিনয়শিল্পী সমিতি ছিলো অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত। এক দল আরেক দলকে বহিষ্কার-অবাঞ্ছিত করতেই তারা যেনো ব্যস্ত। করোনাকালে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্প এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ কেবলই পিছিয়েছে। ফলে চলচ্চিত্রের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের কেবল আর্থিক সহযোগিতা নয়, মুমূর্ষু চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার ও ব্যক্তি পর্যায়ে আন্তরিকতা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শেষ করছি জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী রিয়াজের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। দেশের চলচ্চিত্রের সার্বিক সঙ্কট, প্রেক্ষাগৃহের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
খুব সংকটময় অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। অনেক দিন ব্যবসাসফল ছবি নেই। করোনার জন্য শুটিংও হয়নি অনেক দিন, সিনেমা হলও বন্ধ। অনেকে লগ্নি করে বসে আছেন, কিন্তু জানেন না কবে ছবির কাজ শুরু করতে পারবেন। সিনেমা তৈরি হয় সিনেমা হলের জন্য, অথচ বেশিরভাগ হলের অবস্থা করুণ। অনেকে তাই হল বন্ধ করে দিয়েছেন। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোও করোনার জন্য সিনেমা দেখাতে পারছেন না। যে জন্য আমরা যারা শিল্পী, তারা বাধ্য হয়ে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। অনেকে বলছেন, চলচ্চিত্রের কফিনে সর্বশেষ পেরেক হলো করোনা। কিন্তু তার আগেই তো আমরা এই শিল্পের যা ক্ষতি করার তা করে ফেলেছি।১২
লেখক : ইব্রাহীম খলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চের টোব্যাকো ট্যাক্স প্রজেক্টের প্রকল্প কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
ibrahimrumcj@gmail.com
https://www.facebook.com/ibrahimrumcj
তথ্যসূত্র
1. https://www.prothomalo.com/business/world-business/নেটফ্লিক্সের-ব্যবসা-যেভাবে-পাল্টে-দিয়েছে-করোনাভাইরাস; retrieved on: 30.11.2020
2. https://gb.youtubers.me/zee5/youtube-estimated-earnings; retrieved on: 30.11.2020
3. https://www.medianama.com/2020/11/223-zee-earnings-q2fy21/; retrieved on: 30.11.2020
4. https://www.facebook.com/watch/?v=2641473302738286; retrieved on: 30.11.2020
5. https://www.facebook.com/watch/?v=2641473302738286; retrieved on: 30.11.2020
6. https://www.facebook.com/watch/?v=2641473302738286; retrieved on: 30.11.2020
7. https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/অনুমতি-মিললেও-খুলছে-না-অনেক-হল; retrieved on: 30.11.2020
8. https://www.thedailystar.net/bangla/anandadhara/বলিউডের-নতুন-সিনেমা-বাংলাদেশে-শিল্পী-পরিচালকদের-প্রতিক্রিয়া-187981; retrieved on: 30.11.2020
9. https://www.thedailystar.net/bangla/anandadhara/বলিউডের-নতুন-সিনেমা-বাংলাদেশে-শিল্পী-পরিচালকদের-প্রতিক্রিয়া-187981; retrieved on: 30.11.2020
10. https://www.thedailystar.net/bangla/anandadhara/বলিউডের-নতুন-সিনেমা-বাংলাদেশে-শিল্পী-পরিচালকদের-প্রতিক্রিয়া-187981; retrieved on: 30.11.2020
11. https://www.thedailystar.net/bangla/anandadhara/বলিউডের-নতুন-সিনেমা-বাংলাদেশে-শিল্পী-পরিচালকদের-প্রতিক্রিয়া-187981; retrieved on: 30.11.2020
12. https://samakal.com/entertainment/article/200937188/কফিনে-সর্বশেষ-পেরেক-হলো-করোনা; retrieved on: 30.11.2020
বি.দ্র. এই প্রবন্ধটি ম্যাজিক লণ্ঠন ২০তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২১ এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন