শাকিল আহাম্মেদ
প্রকাশিত ০৫ জুলাই ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
মিশরের ভিতর-বাইরের বাস্তবতার পাঠ ‘ক্ল্যাশ’
শাকিল আহাম্মেদ

প্রায় পাঁচশো কোটি বছর হলো পৃথিবীর বয়স। এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ এখানে এসেছে আবার চলেও গেছে। আসার একেবারে শুরুর দিকে মানুষের মধ্যে এতো বিভাজন ছিলো না। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে তৈরি হতে থাকে ভিন্ন মত, আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রায় বৈচিত্র্য। উদ্ভব ঘটে নানা জাতি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের; সেই সঙ্গে পক্ষ-বিপক্ষ, নেতা-শীর্ষ-আমজনতার। ঠিক এ রকম একটা পরিস্থিতিতেই শুরু হয় মানুষে মানুষে মারামারি, হানাহানি, সংঘর্ষ এবং যুদ্ধে জয়ী হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সেই শুরু, আজকের উত্তরাধুনিক যুগেও তার চর্চা চলছেই। ভবিষ্যতেও হয়তো চলবে। কথা হলো এ প্রতিযোগিতায় কার লাভ-ক্ষতি, তা আদৌ কি কেউ বিবেচনা করে দেখেছে? হ্যাঁ, লাভ আছে; নেতা, শাসকের আসনে বসে থাকা গুটি কয়েকজনের। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আমজনতা কিছু না বুঝেই তাদের পিছনে দৌড়ায়, তাদের লাভ কী? এ ধরনের একটা আলোচনার চিত্রায়ণ দেখা যায় মিশরীয় চলচ্চিত্র ক্ল্যাশ (ইশতেবাক)-এ।
আরেকটু খোলাসা করা যেতে পারে। নোবেলজয়ী প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের মৃত্যুর পর মিশরের প্রেসিডেন্ট হন দেশটির সামরিক বাহিনী থেকে তারই ধারার উত্তরসূরি হোসনি মুবারক। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর মুবারক ক্ষমতায় থাকলেও আরব বসন্তের ঝড়ো হাওয়ায় ২০১১ খ্রিস্টাব্দে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এর পরের বছর মিশরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয়ী হন ‘ইখওয়ানুল মুসলেমিন’ বা ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর নেতা মুহাম্মদ মুরসি। মুরসিই ছিলেন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট। প্রথমদিকে মুরসিকে সমর্থন করলেও পরে তারই বিরোধী পক্ষে পরিণত হয় দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছরের মাথায় সামরিক অভ্যুত্থানে মুরসি ক্ষমতা হারান। রাষ্ট্রের মুকুট চলে যায় আবার সেনাবাহিনীর হাতে। এরপর মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী-সমর্থক, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ। সংঘর্ষ একসময় পুরো মিশরে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থার দিকে যেতে থাকে। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে জনজীবনের ভবিষ্যৎ। ঠিক এ পরিস্থিতির পুরো একটা দিন দেখা যায় ক্ল্যাশ-এ।
মোটাদাগে বললে, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবিই ক্ল্যাশ । মজার ব্যাপার হলো, পুরো চলচ্চিত্রটির দৃশ্যায়ন করা হয়েছে একটি প্রিজন ভ্যানের মধ্যে। ভ্যানের মধ্যেই একের পর ঘটনা, কথাবার্তা, সহানুভূতি, নির্মমতা, অনিশ্চয়তা দেখতে দেখতে মনে হয়, সেই প্রিজন ভ্যানই যেনো একটি মিশর। আরো ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, ভ্যানের ভিতরে এক মিশর আর বাইরে যেনো আরেকটা মিশর। মূল চলচ্চিত্রে যাওয়ার আগে মিশরের রাজনৈতিক ইতিহাসটা একটু দেখে নেওয়া যাক।
দুই.
খ্রিস্টের জন্মের পাঁচ হাজার বছর আগে নীলনদের তীরে গড়ে উঠেছিলো মিশরীয় জনপদ। ভূ-মধ্যসাগরীয় এলাকা এবং ভারত ও চিনের মধ্যকার বাণিজ্য পথের ওপর অবস্থিত ছিলো বলে প্রাচীনকাল থেকেই মিশর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত মিশর মূলত আরব দেশ। প্রায় ৮৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এ দেশটিতে শতকরা ৯৫ ভাগই মুসলমান। স্থানীয় নাম মিশর হলেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ থেকে দেশটির প্রশাসনিক নামকরণ করা হয় ‘আরব রিপাবলিক অব ইজিপ্ট’।১
ভৌগোলিক মানচিত্রে মিশর যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। মিশর রাজনীতির মূল ভিত্তির সূচনা হয় ‘প্যান ইসলামিজম’ আন্দোলন শুরুর মধ্য দিয়ে। প্যান ইসলামিজম বা সর্ব-ইসলামবাদ ছিলো মুসলিম উম্মাহ্র বা মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ঐক্যের একটি রাজনৈতিক আন্দোলন। অনেকটা আজকের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো। আর এ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন জামালউদ্দিন আফগানি। এ আন্দোলনের পথ ধরেই পরবর্তী সময়ে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করে ‘ইখওয়ানুল মুসলেমিন’ বা ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’। ইসলামপন্থি এ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ও ত্রাণকর্তা ছিলেন হাসান আল বান্নাহ্। বান্নাহ্ ছিলেন মূলত সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কারক। ইসলামকে সঠিক জীবনব্যবস্থা ও কোরআনকে এই ব্যবস্থার একমাত্র সংবিধান বলে মনে করতেন বান্নাহ্। তাই মিশরকে পরিপূর্ণ ইসলামি মতাদর্শে নির্মাণের লক্ষ্যেই তিনি গঠন করেন মুসলিম ব্রাদারহুড। তখন মিশরের নেতৃত্ব দিচ্ছিলো জাতীয়তাবাদী উদার রাজনৈতিক দল ‘ওয়াফদ পার্টি’। ওয়াফদ পার্টিই ছিলো সেসময়ে মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজ করে জনপ্রিয় হতে থাকে মুসলিম ব্রাদারহুড। ৪০-এর দশকের মধ্যে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের ধারণা। তখন পর্যন্ত বৃটিশ অনুশাসনে রাজতন্ত্র চলছিলো মিশরে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মিশরীয় বিপ্লবের নেতা লে. গামাল আবদেল নাসেরের নেতৃত্বে একদল সামরিক কর্মকর্তার চরম বিরোধিতার মুখে ভেঙে পড়ে রাজতন্ত্র এবং বৃটিশরা মিশর থেকে চলে যেতে শুরু করে। এর পরের বছর ১৮ জুন জেনারেল মুহাম্মদ নাগিব ক্ষমতায় বসার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মিশরের প্রজাতন্ত্রের পথচলা। নাগিবই ছিলেন মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে মিশরীয় বিপ্লবের শুরুর দিকের নেতা। তরুণ সেনা কর্মকর্তারা জেনারেল নাগিবকে ক্ষমতায় বসালেও মূল ভূমিকায় ছিলেন নাসের; যে কারণে বছর না ঘুরতেই নাগিবকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। ১৯৫৬-তে ক্ষমতা চলে যায় নাসেরের হাতে। তিনি অবশ্য জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হন। ওই সময় তার ‘প্যান অ্যারাবিজম’ চিন্তাধারা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হন।
এর ১৪ বছর পর ১৯৭০-এ নাসেরের মৃত্যু হলে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হন আনোয়ার সাদাত নামে আরেক সামরিক কর্মকর্তা। সাদাত ছিলেন মিশরীয় বিপ্লবে বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুতকারী অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং গামাল আবদেল নাসেরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ক্ষমতায় বসেই তিনি মিশরের নানা জায়গায় পরিবর্তন আনতে থাকেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি বহুদলীয় প্রথার প্রবর্তন হয় তার সময়েই। ইসরাইলের দখল করা মিশরের সিনাই উপদ্বীপ তার নেতৃত্বে উদ্ধার হলে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন সাদাত। মিশর ও আরব বিশ্বে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এরপর ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করায় মুসলিম বিশ্বে আনোয়ার সাদাতই প্রথম শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিটে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমেই মিশর ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তারা সিনাই উপদ্বীপ ফিরে পায়। সাধারণ মিশরীয়দের কাছে এই চুক্তি জনপ্রিয় হলেও মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অনেকেই সেসময় মিশর-ইসরাইল চুক্তির বিরোধিতা করে। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে আততায়ীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন সাদাত। এরপর মিশরে ক্ষমতায় আসেন হোসনি মুবারক। তিনি ছিলেন মূলত মিশরীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা।
গামাল আবদেল নাসের নামমাত্র যে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মুবারক সেটারই রূপ খানিক পরিবর্তন করে গঠন করেছিলেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এন ডি পি)। আর এন ডি পি’কে পুঁজি করেই তিনি ক্ষমতায় ছিলেন টানা ৩০ বছর। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার-ব্যবস্থায় পার্লামেন্ট থাকলেও সেখানে কার্যকর কোনো বিরোধী দল ছিলো না। এন ডি পি’র পাঁচশো সংসদ সদস্যের বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্য ছিলো মাত্র ২০ জন।২ মুবারক বার বার জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তার ক্ষমতা পোক্ত করেন। অনেকের মতে, মুবারকের ৩০ বছরের সময়কে বলা হয় ‘দুঃশাসনের সময়’। এমনকি মিশরের গণমাধ্যম তাকে প্রাচীন মিসরের ‘ফারাওদের’ সঙ্গে তুলনা করে।৩ ২০১১ খ্রিস্টাব্দে বসন্ত বিপ্লবের ঢেউয়ে ইতি ঘটে মুবারকি শাসনের।
তিউনিসিয়ায় বোউআজিজি নামে এক সবজি বিক্রেতার আত্মহনন পুরো আরব বিশ্বে যে গণজোয়ারের সূচনা করেছিলো তা দারুণভাবে নাড়া দেয় মিশরকেও। ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কায়রোর তাহরির স্কয়ার। জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিপ্লবের প্রকাশ পায় লাখো মানুষের গর্জনে। যার ফল হিসেবে এর ১৭ দিনের মাথায় পতন ঘটে ৩০ বছরের মসনদের। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ খ্রিস্টাব্দের জুনে মিশরের সাধারণ নির্বাচনে নিষিদ্ধ হয় মুসলিম ব্রাদারহুড। ঠিক তখনই নতুন নামে প্রকাশ হয় আরেকটি রাজনৈতিক দল ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টি (এফ জে পি) এবং সে বছরই নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে এফ জে পি এবং ক্ষমতায় বসেন পার্টিপ্রধান মুহাম্মদ মুরসি। মিশরের ইতিহাসে মুহাম্মদ মুরসি প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।৪
জনপ্রিয়তা থাকলেও রাষ্ট্রের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তখন দরকার ছিলো ব্যাপক ঐকমত্যের, যা করতে ব্যর্থ হন মুরসি। তাছাড়াও তিনি প্রশাসন পরিচালনাতেও তেমন দক্ষতা দেখাতে পারেননি। তরুণ প্রজন্মের যে প্রত্যাশা, সে ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রাষ্ট্রকে বেশি মাত্রায় ইসলামিকরণের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর শক্তিকে কিছুটা ‘আন্ডারমাইন’ করে তিনিও নাকি চেয়েছিলেন নিজের হাতেই সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। অন্যদিকে মাত্র দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘আল নূর’ নামে সেনা মদদপুষ্ট আরেকটি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল বেশ জনপ্রিয়তা পায় মিশরে। মূলত সুবিধা নিতেই সেনাবাহিনীকে সমর্থন করেছিলো আল নূর। সবকিছু মিলে এক বছর না পেরোতেই ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই সামরিক অভ্যুত্থানে মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন।
তিন.
এবার মিশরের ইতিহাসের সঙ্গে ক্ল্যাশ-এর বিষয়বস্তু মিলিয়ে দেখা যাক। চলচ্চিত্রের শুরুতেই দেখা যায়, দুই মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মিশরীয় সেনাবাহিনীর ধাক্কাধাক্কি। সেই দুই মার্কিনি নিজেদেরকে ‘এসোসিয়েট প্রেস’ (এ পি)-এর সাংবাদিক পরিচয় দিলেও এক সেনা কর্মকর্তা তাদেরকে প্রিজন ভ্যানে তোলার নির্দেশ দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয় তারা। ভ্যানে বন্দি হয়েই সাংবাদিক আদমকে তার কাছে থাকা ছোট্ট একটি ডিজিটাল হাতঘড়িতে অফিসে তাদের বর্তমান অবস্থা জানাতে দেখা যায়। এরপর তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ঠিক এই সময় সেনা সমর্থকদের একটি দল মিছিল নিয়ে প্রিজন ভ্যানের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলো। ভ্যান থেকে তার চিৎকার শুনে মিছিল থেকে কয়েকজন এগিয়ে আসে। মিশরীয় মার্কিন সাংবাদিক জিয়েন তখন তাদেরকে একটা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে আদম তার সেই হাতঘড়ির সঙ্গে যুক্ত গোপন ক্যামেরায় চারপাশের পরিস্থিতি ধারণ করতে থাকেন। আর এটা নজরে পড়ে যায় মিছিলকারীদের। এ ঘটনায় তারা মনে করে ভ্যানে থাকা দুই জন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। অবশ্য এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা প্রথমত, তারা সেনাবাহিনীর প্রিজন ভ্যানে আটক; দ্বিতীয়ত, তারা সেনা সমর্থকদের কার্যক্রম ভিডিও করছিলো। এজন্য সঙ্গে সঙ্গে তারা সাহায্য না করে ক্রমাগত ঢিল ছুটতে থাকে। এ ঘটনা দেখে পাশে থাকা সেনা কর্মকর্তারা দৌড়ে এসে মিছিলকারীদের বাধা দেয় এবং তাদেরকেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক ভেবে প্রিজন ভ্যানে তুলতে থাকে। তারা বার বার নিজেদের সেনা সমর্থক বলে দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত যুবক-বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায় না। এমনকি শিশুসহ এক দম্পতিকেও আটক করতে দেখা যায়।
মিছিল থেকে আটক হওয়া লোকজন ভ্যানে ওঠার পরও আদম আর জিয়েনকে মারতে উদ্যত হয়। নিজেদের আবারও সাংবাদিক পরিচয় দিলে আটক হওয়াদের একজন বলে উঠেন, ‘সাংবাদিকরা মিথ্যাবাদী ও দেশের শত্রু।’ এ কথা থেকে মনে প্রশ্ন জাগে, সেসময় মিশরের গণমাধ্যম তাহলে কী ভূমিকা পালন করেছিলো? কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও মিশরকে তখন কীভাবে দেখানো হয়েছে। আর কেনোইবা সাংবাদিক পরিচয় শুনে মিশরের লোকজন এতো ক্ষেপে গেলো! বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সঙ্কটে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গণমানুষের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেনি। সবসময় একটা নির্দিষ্ট শ্রেণি একে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ নিয়ন্ত্রণের পিছনে কাজ করেছে বড়ো রকমের স্বার্থ। স্বার্থগত নানা বিষয়ই ঠিক করে দিয়েছে কোন ঘটনা সংবাদ হয়ে উঠবে, উঠবে না। মার্কিন করপোরেট মিডিয়াকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এডওয়ার্ড এস হারম্যান ও নোম চমস্কি যেমনটা বলেন,
আধিপত্যশীল মিডিয়া-সংস্থাগুলো অনেক বড় আকারের ব্যবসা; খুবই ধনী ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কিংবা ব্যবস্থাপকরা নিয়ন্ত্রণ করে, যারা আবার মালিক ও অন্যান্য বাজার-মুনাফাকেন্দ্রিক শক্তিগুলোর চাপের মুখে কাজ করে। এই মিডিয়াগুলো ঘনিষ্ঠভাবে আন্তঃসম্পর্কিত এবং অন্যান্য প্রধান কর্পোরেশন, ব্যাংক ও সরকারের সাথে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্বার্থগত সম্পর্ক রয়েছে।৫
ইরাক যুদ্ধেও গণমাধ্যমের নিন্দনীয় ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ববাসী। এই যুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সংবাদই উঠে আসেনি আমলাতান্ত্রিক কর্পোরেট মিডিয়াগুলোতে। মূলত যুদ্ধ-সংক্রান্ত সংবাদে ক্রমাগত সত্যকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। গণমাধ্যমের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘যুদ্ধ সাংবাদিকতা’ নামে সাংবাদিকতার একটি নতুন ধারার কথাও বলা হচ্ছে।৬ অর্থাৎ কোনো বিশেষ সময়ে গণমাধ্যমের একটি ধরন হচ্ছে ‘যুদ্ধ সাংবাদিকতা’। মূলধারার গণমাধ্যমের ন্যাক্কারজনক এসব ভূমিকার পিছনে রয়েছে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক মিডিয়া-বাজার। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কায়রোর চিন্তাবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট সামির আমিনের মতে, এ বাজারে মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে এমনভাবে দুর্বল করে রাখা, যাতে তারা নিজেদের কোনো স্বার্থের কথা উত্থাপন করতে না পারে।৭
মিশরও তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারেনি। তবে মূলধারার গণমাধ্যম জনগণকে নির্ভরযোগ্য তথ্য না দিতে পারলেও বিকল্প হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেটা করেছে। তিউনিসিয়া থেকে লিবিয়া, জর্দান, আলজেরিয়া, ইয়েমেন ও মিশর; প্রত্যেকটি আন্দোলনে এ বিকল্প মাধ্যম দারুণভারে প্রভাব ফেলে। আরব জাগরণেও অনেক আগে থেকে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার মিশরে ২৫ মিলিয়নই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এ আন্দোলনে যোগদান ও সমর্থন থাকলেও সবকিছুর কেন্দ্রে এবং নেতৃত্বে ছিলো এই তরুণরাই। সামাজিক মাধ্যম ‘ফেইসবুক’ ও ‘টুইটার’ এ বিপুল সংখ্যক তরুণসহ সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলো। যে কারণে এ বিপ্লবকে ‘টুইটার বিপ্লব’ বা ‘ফেইসবুক অভ্যুত্থান’ও বলে কেউ কেউ। বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভই আসলে বিপ্লবের সব মাধ্যমকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছিলো।৮
সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি আন্দোলনেও ফেইসবুক কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ‘কোটা সংস্কার’ ও ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ শুরু হয়েছিলো অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে। পরে অল্প সময়ের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরিণত হয়েছিলো গণমানুষের আন্দোলনে। একপর্যায়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। এখানেও মূলধারার গণমাধ্যমের ব্যর্থতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক।
ক্ল্যাশ-এ এই ঘটনার ঠিক পরেই আট মিনিট ৫০ সেকেন্ডে আরেকজন সেনাসমর্থক সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলে উঠেন, ‘তোমাদের মুখে তাহলে দাড়ি কেনো!’ আজ থেকে আরো সাত বছর আগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশে দাড়িও নির্ধারক হয়ে ওঠে, কে কোন দলের সমর্থক! তাহলে দাড়ির কি আলাদা কোনো ডিসকোর্স আছে মিশরে? থাকলে সেটা কী? এ সম্পর্কে বলতে গেলে একটু পিছনে ফিরে যেতে হয়। ১৯৯০ পরবর্তী বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর নতুন প্রতিপক্ষ নিয়ে সঙ্কটে পড়তে হয় মোড়ল রাষ্ট্রগুলোকে। কারণ নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রতিপক্ষ ছাড়া--সে প্রতিপক্ষ যতো শক্তিশালী কিংবা দুর্বলই হোক--অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার খেলাটা আর জমে না। ফলে নতুন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় বিশ্বকে প্রায় এক দশক অপেক্ষা করতে হয়। ৯/১১ এ আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার পর সারাবিশ্বে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে হাজির হয় ইসলাম ও তার অনুসারী মুসলিমরা। শুরু হয় দাড়ি, টুপির এক নতুন রাজনীতি; সরাসরি বললে ইসলামি জঙ্গিবাদ।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একটা বড়ো অংশের মানুষ মাথায় টুপি ও মুখে দাড়ি থাকায় জঙ্গিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে এগুলো। এই চর্চায় সারাবিশ্বের মানুষের কাছে নেতিবাচক চেহারা নিয়ে হাজির হয় ইসলাম। প্রকট হয় মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ও প্রতিহিংসা। পরিস্থিতি এমন হয় যে, লম্বা দাড়ি ও মাথায় পাগড়ি বাঁধা অনেক শিখদের মুসলিম ভেবে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাও করা হয় টুইন টাওয়ারের ঘটনার পর।৯ ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে তাজিকিস্তানে ১২ হাজার আটশো মানুষের দাড়ি কেটে দেয় পুলিশ, দেশটিতে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির অজুহাতে।১০ এই চর্চার বাইরে যেতে পারেনি ইসলামি রাষ্ট্রগুলোও। ফলে শুধু মিশরই নয়, অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও দাড়ি নিয়ে রাজনীতি চলেছে, চলছে।
চলচ্চিত্রে প্রিজন ভ্যানে থাকা এক যুবকের মোবাইল ফোনসেট হঠাৎই বেজে ওঠে। সবাই খানিকটা হতচকিত হয়। কারণ ভ্যানে তোলার সময় সবার নাগরিক পরিচয়পত্রসহ মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নিয়েছিলো সেনাবাহিনী। ১১ মিনিট ২১ সেকেন্ডে দেখা যায়, সাংবাদিক জিয়েন মোবাইল ফোনসেটটি তার সঙ্গী আদমকে দিতে একটু অনুরোধ করে এবং বলে, মিশরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ফোন করলে তারা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এই কথা শুনে এক বৃদ্ধ হুংকার দিয়ে উঠে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার সাহায্য চাই না।’ বোঝা যায়, অনেক ক্ষোভ জমে আছে আমেরিকার প্রতি। ক্ষোভের নিশ্চয় কারণও আছে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই মোড়ল রাষ্ট্রটিই প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেয় সারাবিশ্বের অনেক কিছুরই। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলও ঘটে এর হাত ধরেই। দেশটির প্রধান আয়ের উৎস অস্ত্র ব্যবসা। দুনিয়াজুড়ে চলা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের স্রষ্টাও যে স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ কথা এখন অনেকেরই জানা। ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাদের অস্ত্র ব্যবসার জন্য সারা বিশ্বের শান্তি বিনাশ ঘটিয়েছে, আরও ঘটাবে। সারা দুনিয়ায় যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে তাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে আমেরিকা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এটাই তাদের বাঁচার পথ। পুঁজিবাদী সংকট মোকাবেলা করতেই তাদের দেশে দেশে এই যুদ্ধ।’১১
এই যুদ্ধের রথ সবচেয়ে এগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে। তেল ও বিভিন্ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ থাকায় অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নজর অনেক বেশি। ৯০-এর শুরু থেকে একের পর এক যুদ্ধ যেনো লেগেই আছে সেখানে। আর এসব যুদ্ধ ও যুদ্ধ লাগার শঙ্কায় অনেক দেশ অস্ত্রের মজুদ বাড়ায়। সেই অস্ত্র যোগান দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ‘ডেমোক্রেসি নাউ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি আই এসসহ ইসলামী জিহাদিদের অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। হিলারির ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।’১২ হিলারির মতো হয়তো আরো একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থে এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে নানা সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এর বেশিরভাগই অপ্রকাশিত থেকে যায়। ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বিশিষ্ট মার্কিন ব্যবসা বিশেষজ্ঞ পল ফ্যারেল বলেন,
আমেরিকার অর্থনীতি হলো যুদ্ধের অর্থনীতি। শিল্প অর্থনীতি নয়। কৃষি অর্থনীতি নয়। সেবার অর্থনীতি নয়। এমনকি ভোক্তার অর্থনীতিও নয়। আসলে আমাদের মনের গভীরে যুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। আমরা যুদ্ধ চাই। যুদ্ধ দরকার। যুদ্ধ উপভোগ করি। যুদ্ধে সমৃদ্ধ হই। যুদ্ধ আমাদের জিনে। আমাদের ডিএনএতে। যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতিকে আন্দোলিত করে। আমাদের উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করে। আমেরিকানদের চিত্তকে রোমাঞ্চিত করে। এটা স্বীকার করো। যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক।১৩
ফলে অনুমান করাই যায়, বসন্ত বিপ্লবের শুরু থেকে মুরসির ক্ষমতা হারানো পর্যন্ত সবকিছুর উত্থান-পতনের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আমেরিকার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দেশের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে কোনো নাগরিক নিশ্চয় নতুন করে আর সেই ‘গিরিগিটি আমেরিকার’ সাহায্য নিতে চাইবে না।
চার.
প্রিজন ভ্যানটি কিছুদূর যাওয়ার পর মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থকের বিশাল এক মিছিলের সামনে পড়ে। শুরু হয় সেনাবাহিনী ও ব্রাদারহুড সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে ঢুকায়। ব্রাদারহুড সমর্থকদের ভ্যানে তোলার পর সেখানে শুরু হয় তুমুল এক কাণ্ড। ভ্যানের মধ্যে থাকা সেনা ও ব্রাদারহুড সমর্থকদের মধ্যে মারামারি লেগে যায়। এমনকি এক সেনা সমর্থক ব্রাদারহুডের এক সমর্থকের মাথায় ব্লেড দিয়ে আহত করে। জীবন সংহারের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী বাইরে থেকে এই পরিস্থিতি খেয়াল করে ভ্যানের ভিতর জলকামান দিয়ে পানি নিক্ষেপ করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই ভ্যানে নেমে আসে সুনশান নীরবতা। যদিও পরিস্থিতি বেশিক্ষণ এ রকম থাকে না।
চলচ্চিত্রের ২০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে দেখা যায়, এক সেনা কর্মকর্তা ভ্যানে সবাইকে হুশিয়ারি করতে আসলে সাংবাদিক আদম এগিয়ে এসে বলেন, ‘এখানে শিশুরা আছে, ওদের ছেড়ে দিন।’ এর উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলে ওঠেন, ‘ভেবেছো আমেরিকা তোমাকে এখান থেকে বাঁচাবে!’ পাশ থেকে তখন আরেক সেনা কর্মকর্তা যোগ করেন, ‘এই বিশৃঙ্খলার পিছনে তো আমেরিকাই আছে।’ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদম নিজেকে মিশরীয় দাবি করলে রেগে যান সেই কর্মকর্তা এবং আদমের এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন। আদমের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তার ওই আচরণ থেকে দর্শক ধরেই নিতে পারে, আমেরিকার সঙ্গে মিশরের সেনাবাহিনীর হয়তো বৈরী সম্পর্ক।
এ প্রসঙ্গে যে আলোচনাটি ইতিহাসের অগোচরে পড়ে যায় সেটি হচ্ছে, মুরসির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এ অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। মুরসির ক্ষমতা আসায় শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকলেও যখন তিনি মিশরকে ইসলামি শাসনের পথে হাঁটান, তখনই নাখোশ হয় যুক্তরাষ্ট্র। তার ফলই এক বছরের মাথায় সামরিক অভ্যুত্থান। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যে মিথ্যা নয়, তার প্রমাণও পাওয়া যায়; কারণ মিশরের সেনাবাহিনীকে যে এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়ে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্র, এ ঘটনার পর তারা কিন্তু সেটা বন্ধ করেনি।১৪ মুসরিকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রেসিডেন্ট হন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আব্দেল ফাত্তা আল সিসি। তার মানে আজকের মিশরের ত্রাণকর্তা হিসেবে হাজির আবারও সেই সেনাবাহিনীই। অথচ ক্ল্যাশ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে একেবারেই ভিন্ন কথা বলে!
চলচ্চিত্রের ২৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে দেখা যায়, আরেকটি প্রিজন ভ্যান এসে তাদের পাশাপাশি দাঁড়ায়। তখন অনেকেই জানালার কাছে গিয়ে পাশে দাঁড়ানো ভ্যানে পরিচিত কেউ আছে কি না খুঁজতে থাকে। এ সময় এক বাবা তার ছেলে হুজাইফা’কে দেখতে পান পাশের ভ্যানে। হুজাইফার কাছে তিনি জানতে চান, তার আরেক ছেলে মালেক কোথায়? মিনিটখানেক পর আরো একটি ভ্যান এসে অন্য পাশে দাঁড়ায়। সেখানেও মালেককে পাওয়া যায় না। এভাবে পুরো কায়রো পরিণত হয় এসব প্রিজেন ভ্যানের ছোটো ছোটো ভ্রাম্যমাণ জেলখানায়। কে জানে, মালেক হয়তো অন্য কোনো জায়গায় এভাবেই আটকা পড়ে আছে। ব্রাদারহুড সমর্থিত এক চিকিৎসক তখন পাশের ভ্যানের সমর্থকদের একত্রিত হওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী, তারা ভ্যানের মধ্যেই সংঘবদ্ধ হয়ে সেনা সমর্থকদের বিরুদ্ধাচরণ করতে চায়। কিন্তু ভ্যানে থাকা সেনা সমর্থকরা তাতে আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু চলচ্চিত্রের ৩০ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে দেখা যায়, সেনা সমর্থিত দুই বৃদ্ধের একজনের প্রস্রাব করার প্রয়োজন হলে অন্যজন ভ্যানের দরজায় গিয়ে সামনে থাকা সেনাদের জানান। তখন তাকে সমর্থন দেয় ব্রাদারহুড সমর্থকরাও। অবশেষে সেনারা প্রস্রাব করার জন্য ভ্যানের মধ্যে একটা বোতল দেয়। তখন দুই পক্ষকেই এটা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই সহানুভূতি আরো প্রবলভাবে দেখা যায় চলচ্চিত্রের ৫২ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে; বৃদ্ধের মতো এবার শিশু আয়েশা একই সমস্যায় পড়ে। দল, মত, পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে সবার সহানুভূতি দেখা যায় আয়েশার ব্যাপারে। কোনো সমাধান না পেয়ে সবাই একসঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়ে আড়াল করে আয়েশাকে। তবুও লজ্জায়, অস্বস্তিতে গাড়ির মধ্যে প্রস্রাব করতে পারে না আয়েশা। তার কিছুক্ষণ পরে দেখা যায়, চাপ সামলাতে না পেরে আয়েশা কাপড় নষ্ট করে ফেলেছে। এ দুটো ঘটনায় ভ্যানের মধ্যের যে মিশর তার পরিস্থিতি যেনো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ষমতার ফেরে পড়ে সাধারণ মানুষের যে অসহায়ত্ব, সেটা যে দেশকাল ভেদে একই তার প্রমাণ মেলে ক্ল্যাশ-এ।
পাঁচ.
দিন পেরিয়ে রাত হয়। প্রিজন ভ্যান কোন দিকে কোথায় যাচ্ছে কোনো গন্তব্য যেনো মিলে না। ৫৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে প্রিজন ভ্যানটি একটা ওভারব্রিজের নিচে এসে দাঁড়ায়, সেখানে থাকা সেনাবাহিনীর ওপর হঠাৎই আক্রমণ করে বসে ব্রাদারহুড সমর্থকরা। এ সময় তারা ব্রিজ ও বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে সেনাদের উদ্দেশ করে ঢিল ও টিয়ার গ্যাস ছুড়তে থাকে। আওয়াদ নামে এক সেনা একপর্যায়ে বিপজ্জনক জায়গায় চলে গেলে ভ্যানে থাকা কয়েকজন বন্দি আওয়াদকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে। আওয়াদ না শুনতে পেলে তাকে সতর্ক করার জন্য তাদের সঙ্গে থাকা লেজার রশ্মি ফেলে ফোকাস করে। আবার এ ঘটনার আগে ৪৬ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দেখা যায়, পাশাপাশি দাঁড়ানো অন্য ভ্যান থেকে বন্দিরা যখন বলছিলো, তারা ভিতরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, তখন এক সেনাকে অন্য সেনাদের বলতে শোনা যায়, ‘দরজাটি খুলে দাও, তারা দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে।’
সংঘর্ষের পর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জনশূন্য হয়ে পড়ে ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকা। শুধু বন্দিদের নিয়ে পড়ে থাকে তালাবদ্ধ প্রিজন ভ্যানটি। এমনকি ভ্যানটির কোনো চালককেও দেখা যায় না সেসময়। তখন কিছুক্ষণের জন্য আবার শান্ত হয়ে যায় ভ্যানের ভিতরের পরিবেশ। সারাদিনের ক্ষোভ, ক্লান্তি, মারামারি, চিৎকার-চেঁচামেচি, পারস্পরিক বাক্যুদ্ধ সবকিছু ভুলে সবাই যেনো একটু প্রশান্তি খুজতে থাকে। শত কষ্টের মধ্যেও এক টুকরো ভালোবাসা আর দু লাইন গানে হাসতে দেখা যায় অনেককেই। কিন্তু এ পরিবেশ অল্প সমেয়ের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়, যখন ভ্যানে বন্দি হুজাইফার ভাই মালেক চালকের আসনে বসে। মালেক ঠিক কোত্থেকে এসে ভ্যানটি চালাতে শুরু করে, ঠিক বোঝা যায় না। হতে পারে, আক্রমণকারী ব্রাদারহুড সমর্থকদের মধ্যেই ছিলেন মালেক। সবাই চলে যাবার পর তিনি বন্দিদের বিশেষ করে তার বাবা ও ভাইকে বাঁচাতে ভ্যানটি নিরাপদ স্থানে নিতে নিজেই চালাতে শুরু করেন। তবে ভ্যানের কেউ কেউ আরো বিপদে হতে পারে ভেবে মালেককে ভ্যান থামাতে বলে, কেউ কেউ সামনে এগোতে বলে। এতে ভ্যানের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনা অভ্যুত্থান পরবর্তী মিশরের মানুষের দ্বিধা-দ্বন্দ্বকেই তুলে ধরে। একদল মানুষ হয়তো চায় এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাক মিশর, আরেকদল হয়তো মনে করে এ পরিবর্তন তাদের ক্ষতির কারণ।
মালেকের বেপরোয়া অবস্থা থামাতে গিয়ে একপর্যায়ে মালেককে তার ভাই হুজাইফা জানান, তাদের বাবা মারা গেছেন। এ কথা শুনে মালেক আরো বেপরোয়াভাবে প্রিজন ভ্যান চালাতে থাকেন। এমন সময় একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের সামনে পড়ে ভ্যানটি। মিছিল দেখে এতো অনিশ্চিত মুহূর্তেও ভ্যান থেকে ব্রাদারহুডের সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকে। এই বিশাল জনস্রোতে এতে কী আর ফল হয়! দিনশেষে অচেনা মিছিলে নিজেদের ভিড়ে নিজেরাই হারিয়ে যায় তারা। একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায়, ভ্যানের ভিতরটাই যেনো মিশর। সেখানে একই সঙ্গে বৈচিত্র্য আবার ঐক্যের সমাহার; অথচ প্রতিটা মুহূর্তই অনিশ্চিত। ক্ল্যাশ-এ নির্মাতা দিয়াব-এর এই কৌশলী উপস্থাপন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। চলচ্চিত্রে সেনা সদস্য থেকে সাংবাদিক, চিকিৎসক, বৃদ্ধ, যুবক এমনকি শিশুর উপস্থাপন যেনো মিশরেরই প্রতিচ্ছবি।
ছয়.
আগেই বলেছি, ক্ল্যাশ মূলত মুরসির ক্ষমতা হারানোর পর একদিনের মিশরের উপস্থাপন। এ একদিনের মিশরে যে অস্থিরতা ফুটে ওঠে, তা যেনো বিপ্লব পরবর্তী মিশরের বাস্তবিক প্রেক্ষাপটই জানান দেয় দর্শককে। ১৭ দিনের আরব বসন্ত আসলে কী দিয়েছিলো মিশরকে, ক্ল্যাশ সেই প্রশ্ন তোলে। এবার সেদিকে একটু চোখ রাখা যাক।
কোনো দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে সে দেশের অর্থনীতি। আর এ অর্থনীতির বিকাশ মিশরে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে বিপ্লবের পর থেকে। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবের আগে মুবারক আমলে যেখানে দেশটির জি ডি পি’র প্রবৃদ্ধি ছিলো সাত শতাংশ, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে সেখানে জি ডি পি’র প্রবৃদ্ধি এসে দাঁড়ায় দুই শতাংশেরও নিচে। বাজেটের ঘাটতি, সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়াসহ মারাত্মক পতন ঘটে ডলারের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় হারেও। এছাড়াও দারিদ্র্য, বেকারত্ব বৃদ্ধি তরুণ সমাজকে হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছিলো। এমনকি ২০১৯-এ এসেও বন্ধ হয়ে আছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বিভাগ। অথচ এই পর্যটন বিভাগের ওপরই মিশরের অর্থনীতি অনেকখানি নির্ভরশীল।১৫ যে তিউনিসিয়ায় প্রথম এ আরব বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিলো, তাদেরইবা এখন কী অবস্থা? বি বি সি’র একটি প্রতিবেদন বলছে, যে স্বপ্ন নিয়ে সেখানকার তরুণরা আন্দোলনে নেমেছিলো তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্থিতিশীলতা আসেনি অর্থনীতিতেও। বেকারত্বের হার বেড়েছে আগের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি। চাকরির বাজারে খুবই খারাপ অবস্থা সদ্য হওয়া স্নাতকদের। ক্ষমতার পালাবদল হলেও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে।১৬
শুধু মিশর বা তিউনিসিয়াতেই নয়, বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় নিজেদের মুক্তির জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য, ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য শোষিত, বঞ্চিত, সাধারণ মানুষেরা জীবন দিয়েছে। তার বিনিময়ে তারা যে একেবারে কিছুই পায়নি এমন নয়। তবে যেকোনো পরিবর্তনের মূল সফলতাটা তারা পায়নি কোনোদিনও। আলজেরিয়ার দিকে তাকালেও একই ঘটনা দেখা যায়। এবার আলজেরিয়ায় আরেক বিপ্লবের মুখ দেখছে সারাবিশ্বের গণতন্ত্রকামী, আশাবাদী মানুষরা। কিন্তু এ বিপ্লব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে হয়ে যাওয়া পূর্ব ইতিহাস দেখে একটু চিন্তায় পড়ে যেতে হয় এই ভেবে যে, বিপ্লব শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে যাবে তো?
সাত.
নির্মাতা দিয়াব মুরসির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একদিনের মিশরকে দেখিয়েছেন খুব মুন্সিয়ানার সঙ্গে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, একদিনের ঘটনা দিয়েই কি আর সবকিছুকে একদিকে নিয়ে যাওয়া যায়! ১০ লাখ ১৪ শো ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে শুধু একটি শহরের চিত্র তুলে ধরেই তিনি পুরো মিশরকে দেখিয়েছেন! যা অবশ্যই ক্ল্যাশ-এর সীমাবদ্ধতা। তারপরও একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অস্থিতিশীল মিশরের যে চিত্র ক্ল্যাশ-এ উঠে এসেছে তাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
যে মানুষগুলো একই সমাজের মধ্যে বসবাস করে একসঙ্গে চলাফেরা করে; একসঙ্গে হাসে, একসঙ্গে গান শোনে; একজন আরেকজনের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়, অন্যকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়; প্রত্যেকদিন একত্রে কাজ করে, সেই জনতাই আবার অন্যকে ক্ষমতায় বসাতে অন্ধ হয়ে নিজেরা নিজেরাই মারামারি, খুনোখুনি, সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কখনো ভেবে দেখে না, এতে তার কী লাভ। যে ক্ষমতার মোহ তাদের পারস্পরিক বন্ধনকে ভেঙে দেয়, সেই মোহ কতোক্ষণ থাকে! ঘরে ফিরলেই তারা আবার খেটে খাওয়া মানুষই থেকে যায়। আর শাসকরা চলে যায় তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবুও শেষ হয় না সবকিছু। রাত শেষে শুরু হয় আরেকটা নতুন দিন।
লেখক : শাকিল আহাম্মেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
shakilmcj26@gmail.com
https://www.facebook.com/shakilahamed1689
তথ্যসূত্র
১. রেহমান, তারেক শামসুর (২০১৯ : ১০৫); মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি; শোভা প্রকাশ, ঢাকা।
২. প্রাগুক্ত; রেহমান (২০১৯ : ১০৯-১১০)।
৩.https://www.jugantor.com/old/ten-horizon/2013/08/26/23515; retrieved on: 16.03.2019
৪.https://bangla.bdnews24.com/world/article538249.bdnews; retrieved on: 16.03.2019
৫. মামুন, আ-আল (২০১৩ : ২৬); ‘মগজে কারফিউ : কোনটাকে বলি সংবাদ?’; মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি : যোগাযোগ পত্রিকার নির্বাচিত প্রবন্ধ; সম্পাদনা : ফাহমিদুল হক ও আ-আল মামুন; আগামী প্রকাশনী, ঢাকা।
৬. নাসরীন, গীতি আরা (২০১৩ : ৩০৩); ‘যুদ্ধবাজ সাংবাদিকতা বনাম মুক্ত-মিডিয়া মিথ’; মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি : যোগাযোগ পত্রিকার নির্বাচিত প্রবন্ধ; সম্পাদনা : ফাহমিদুল হক ও আ-আল মামুন; আগামী প্রকাশনী, ঢাকা।
৭. প্রাগুক্ত; নাসরীন (২০১৩ : ৩০৩-৩০৫)।
৮.https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/5016; retrieved on: 25.03.2019
৯. https://bit.ly/2H08KD4; retrieved on: 29.03.2019
১০. https://bit.ly/2H0cmnv; retrieved on: 29.03.2019
১১.https://www.amadershomoy.com/bn/2018/06/03/564818.htm; retrieved on: 11.04.2019
১২.https://bit.ly/2Y49cpr; retrieved on: 12.04.2019
১৩.https://bit.ly/2Lp93vl; retrieved on: 17.04.2019
১৪.প্রাগুক্ত; রেহমান (২০১৯ : ১২৭-১২৯ ও ১৩১)।
১৫. প্রাগুক্ত; রেহমান (২০১৯ : ১৩২)।
১৬.https://bit.ly/2IZ6QEX; retrieved on: 21.04.2019
বি:দ্র: প্রবন্ধটি জুলাই-২০১৯ খ্রি: ম্যাজিক লণ্ঠন পত্রিকায় ১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন