Magic Lanthon

               

হাবিবা আক্তার

প্রকাশিত ২৯ জুন ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

‘অবাস্তব’ নারী-ইমেজ নির্মাণের বিপরীতে ‘হক’

হাবিবা আক্তার


মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে

শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী

পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি

আপন অন্তর হতে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘মানসী' কবিতায় বলছেন, নারী কেবল বিধাতার সৃষ্টি নয়। পুরুষই নারীর আসল সৌন্দর্য গড়ে। পুরুষের অধীনেই নারী সম্পূর্ণ, পুরুষ নারীকে লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, আবরণ দিয়ে পরিপূর্ণ করে। তবে বাস্তবিক পক্ষে এই লজ্জা, সজ্জা, ভয়ের আবরণেই নারীদের আটকে রাখে সমাজের পুরুষ প্রাধান্যশীল কাঠামো। কখনো ধর্ম, কখনো সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজালে নারীদেরকে আবদ্ধ করতে চায়। সেখানে পুরুষ নিজে রক্ষাকর্তা হিসেবে হাজির হয়ে নারীদের শোষণ করে নানাভাবে। ফলে সমাজের নানা পরিসরে পুরুষ অতিমানবীয়, রক্ষাকারী বা পবিত্র কোনো সত্তা হিসেবে উপস্থাপিত হয়, অন্যদিকে নারী নিজেই নিজের ওপর হওয়া অন্যায়কে নিয়তি বলে মেনে নিতে শুরু করে। ফলে নারীরা তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস পায় না! বিপরীতে পুরুষেরা বিয়ে, বৈবাহিক সম্পর্কের নামে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করে নারীর ওপর। জন্ম থেকে নারীকে শেখানো হয়, পুরুষের তুলনায় সে কম শক্তিশালী, নিজের সুরক্ষার জন্য হলেও পুরুষের সাপেক্ষে তাদের জীবনযাপন করতে হবে। এই নীতি বাস্তবায়নে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখে।

নারীরা কেনো এ রকম সম্পর্কে টিকে থাকে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে সমাজে বিদ্যমান ডিসকার্সিভ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। ডিসকার্সিভ ফরমেশনের ফলে সমাজে একপ্রকার ভাষা তৈরি হয়। যার মাধ্যমে ছোটোবেলা থেকেই নারীকে বোঝানো হয়, স্বামীর ঘরই তার আসল ঘর। তাই বিবাহিত নারীর অন্যতম কর্তব্য স্বামীর সেবা করা। এবং নিজের হাজার অসুবিধা হলেও স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখা। নারীদের আরো শিক্ষা দেওয়া হয়, ‘পতি পরম গুরু, স্বামী পরম ধর্ম'। ফলে বৈবাহিক সম্পর্কে নারী অনেক কিছুরই প্রতিবাদ করতে পারে না। এভাবে পুরুষ আরো নিপীড়ক হয়ে ওঠে। এর ফলে নারী হারায় তার জৈবিক সত্তা।

বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো নানাভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবাদ হয়তো জারি থাকছে; কিন্তু সমাজ, ক্ষমতা, ক্ষমতাকাঠামোর আধিপত্যে নারীর অবস্থানের তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। বিভিন্ন সামাজিক চাপে নারীদের অবস্থান আরো সঙ্কুচিত হয়েছে। তার প্রভাব গিয়ে পড়ছে বিচারিক কাঠামোতেও। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও কাঠামোগত জটিলতার কারণে নারীসংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রমগুলো শেষ হয় না। ফলে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে শুধু আইনই যথেষ্ট নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি। এই জায়গাতেই চলচ্চিত্র হিসেবে হক (২০২৫) গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমাজে নারীর যে অবস্থান ও ইমেজ নির্মাণ হয় প্রতিনিয়ত, তার বাইরে গিয়ে ভারতীয় নির্মাতা সুপর্ণ ভার্মা নারীর প্রতিবাদী রূপ শাজিয়া বানুকে নির্মাণ করেছেন। এখানে তিনি দেখান সামাজিক চাপ, ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং পারিবারিক ক্ষমতা সম্পর্ক অনেক সময় ব্যক্তির অধিকারকে ছাপিয়ে যায়। ফলে একজন নারীর জীবন কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গায় থাকে না; সেটা সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। তাই সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় সফল না হলেও প্রতিবাদ জারি রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। হক নিয়ে এই প্রবন্ধের গুরুত্ব ঠিক সেখানেই।

রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্ম : শাজিয়া বানুর ঠাঁই কোথায়?

নারী ও পুরুষের পৃথকীকরণ শুরু হয় লিঙ্গীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। এই পৃথকীকরণ যতোটা সামাজিক, ততোটা জৈবিক। লিঙ্গ বা জেন্ডার সামাজিক সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো; এটা শুধু যে সামাজিক তা নয়, এখানে জৈবিক পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সমাজে লৈঙ্গিক নির্মাণ কীভাবে ঘটছে তা বোঝাও জরুরি। অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতিসহ বিভিন্ন মতাদর্শও এই লৈঙ্গিক পার্থক্যকে নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠিত করে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপত্তি যেনো পুনর্গঠন করে এই পৃথকীকরণকে। নারী নির্মিত হয় গৃহী কিংবা নির্ভরশীল হিসেবে। বিপরীতে পুরুষ নির্মিত হয় কারখানার মালিক-শ্রমিক কিংবা পরিবারের কর্তা হিসেবে।

নারীত্বের অর্থ কী, তাদের আচার-আচরণ, বেশভূষা, চালচলন কেমন হওয়া উচিত? সমাজে তাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? কী করলে বা কী ভাবলে নারীত্বের অবমাননা ঘটে? কোন সামাজিক ভূমিকা পালন তার নিয়তিসেই ধারণাগুলো নারীরা পরিবার ও সমাজ থেকেই পায়। অর্থাৎ বেশিরভাগ সময় সমাজই নারীর ভূমিকা নির্ধারণ করে দেয়। সেখানে নারীর নির্মাণ ঘটে কোমল, নাজুক, সহজসরল ও সচ্চরিত্রের অধিকারীরূপে। এ কারণে নারীর সতর্ক থাকা, আড়ালে থাকা, গৃহের আশ্রয়ে থাকা জরুরি। বিপরীতে পুরুষেরা স্বভাবজাতভাবেই বহির্জাগতিক, তাদের শক্তি, মাহাত্ম্য, মান মর্যাদা সবকিছুই তুঙ্গে!

তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় নারীর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে নানাভাবে। অবশ্য প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা এখনো বেশ পিছিয়ে। নারীর শিক্ষার এই সুযোগ এখনো সমাজে কর্মমুখী নয়। তাদেরকে শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা ‘ভালো' মা হতে, ভালো স্ত্রী হতে, গৃহস্থালির কাজ সামলানোয় দক্ষ করে তুলতে। এই উদাহরণ সাম্প্রতিক বাস্তবতাতে ভূরিভূরি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যদিও সমাজভেদে বিয়ের ধারণা, প্রকৃতি ও অর্থ ভিন্ন হয়ে থাকে। নৃবিজ্ঞানীরা বিয়ের সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণের চেষ্টা করেছিলেন দুটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেযৌনতা নিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের বৈধতা প্রদান। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম গুডএনাফ বলছেন, বিয়ে হচ্ছে একটা চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন নারীর যৌনতার ওপরে অধিকার সৃষ্টি করা হয়। এবং ক্যাথলিন গফ বলছেন, বিয়ের মাধ্যমে নারী-পুরুষ যৌন মিলনের স্বীকৃতি লাভ করে এবং সন্তান জন্মদানে এক ধরনের বৈধতা তৈরি হয়।

তবে তথাকথিত সভ্য সমাজে যে ধরনের বিয়ের ধারণা প্রচলিত আছে, তাতে পুরুষেরা নারীর যৌনতার ওপরে অধিকার সৃষ্টির পাশাপাশি সন্তান জন্মদান ও গৃহকর্মে তাদের নিয়োজিত করতে চায়। ফলে স্ত্রীর কাজই যেনো বিয়ে নামক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে গৃহশ্রমিক হিসেবে সংসারের সমস্ত কাজ সামলানো এবং সন্তান লালনপালন। একজন ‘আদর্শ’ স্ত্রীর একমাত্র কাজই হয় স্বামীর সাপেক্ষে জীবনযাপন করা। পুঁজির বিকাশ এই সামাজিক নির্মাণকে আরো পাকাপোক্ত করে। গৃহী সত্তা এবং অধিকতর নৈতিকতা সম্পন্ন চরিত্র হিসেবে নারীর নির্মাণ ঘটে। চলচ্চিত্র হক-এর শাজিয়া বানুর সঙ্গে এই ঘটনাগুলোই ঘটতে থাকে। শুরুর দিকে তার বৈবাহিক জীবন খানিক ভালোই চলছিলো। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক তখন পর্যন্ত সহজ ছিলো। ধীরে ধীরে আব্বাস বদলে যেতে শুরু করেন। ফলে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

ততোদিনে শাজিয়াকে ব্যস্ত করে তুলেছে তার সংসার। তার জীবন আবদ্ধ হয়ে গেছে রান্নাঘর ও সন্তান লালনপালনে। স্বামী আব্বাস উদ্দিনও আধিপত্যবাদী রূপ দেখাতে শুরু করেছেন। তিনি বিভিন্নভাবে শাজিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, নারীদের কাজ সন্তান লালনপালন ও গৃহ পরিচর্যা। কাঠামোয় বেড়ে ওঠা শাজিয়াও আব্বাসের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকেন। আব্বাসকে নিয়ে তার মনে সন্দেহও তৈরি হয় না কখনো। একপর্যায়ে আব্বাস দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। শাজিয়া বানু সব মেনে নিলেও এটা মেনে নিতে পারেন না। এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে আব্বাস ধর্মের দোহাই দেন, এবং বলেন, তিনি বিপদগ্রস্ত এক নারীকে বিয়ে করেছেন।

শাজিয়া ভেঙে পড়েন, কিন্তু সেই অর্থে কোনো প্রতিবাদ করেন না। চর্চিত বাস্তবতায় সতী নারীর যে ধারণা তাতে নারীকে এক পুরুষ ছাড়া কারোর সঙ্গেই যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া যাবে না, সমাজে সতী নারীর মর্যাদাই সর্বাধিক! আর সমাজের মর্যাদাবান এই সতীত্বের আসন গ্রহণ করতে নারী তার হাজার চাওয়া-পাওয়াকে মাটি চাপা দেয়। পুরুষের চাওয়া-পাওয়া অনুসারে নিজেকে বদলাতে থাকে। চলচ্চিত্রে শাজিয়াকে আব্বাস সতীত্বের নীতিতে অটল রেখে নিজে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিপরীতে নারী অন্য পুরুষে আসক্ত হলেই নষ্টা, ভ্রষ্টা হয়। এমনকি স্বামী মরে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয় কোনো সম্পর্কে জড়ায় না। যদিও বেশিরভাগ পুরুষের ক্ষেত্রে এর বিপরীত অবস্থা-ই দেখা যায়।

চলচ্চিত্রে শাজিয়া সতী নারীর নীতিতে অটল থাকতে আব্বাসের সমস্ত অপমান, অবহেলা সহ্য করেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে আব্বাস শুরুতে সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। এই নিয়ে শাজিয়া প্রতিবাদ করলে আব্বাস তাকে মুখে মুখে তালাক দেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে স্থাপিত সম্পর্ককে আইনগত উপায়ে ভেঙে দেওয়াকে তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদ বলে। আইন অনুযায়ী কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক যেকোনো পক্ষ চাইলে ভেঙে দিতে পারে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী সবারই সমান অধিকার রয়েছে।

আইনের দৃষ্টিতে বিয়ে যেহেতু চুক্তি। এর ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তি রয়েছে। তবে প্রচলিত বাস্তবতায় যেকোনো সময় স্বামী চাইলেই তালাক দিতে পারেএমন ধারণাই প্রচলিত। ‘যেখানে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকে থাকে স্বামীর মেজাজ-মর্জির ওপর। স্বামী যে কদিন চাইবে সে কদিন স্ত্রী ঘর-সংসার করবে। স্বামীর মন চাইলেই আউট।' চলচ্চিত্রে শাজিয়াকেও আব্বাস তার মর্জি মতোই তালাক দেন। এরপর শাজিয়া ভরণপোষণের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ব্যর্থ হন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের আহমদ খান ও শাহ বানু বেগম-এর বিবাহ বিচ্ছেদসংক্রান্ত মামলার রায়ে বলা হয়, একজন নারী পুনঃবিবাহ না করা পর্যন্ত ভরণপোষণের অধিকার পাবে। এবং এই আইন মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একই ধরনের রায়ের উদাহরণ বাংলাদেশেও আছে।

হক-এ শাজিয়া তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের ব্যাখ্যা কোরআর শরীফ থেকে দেন। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আব্বাসের তালাক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভুল এবং শরীয়ত মতে আব্বাসকেই এর জন্য সাজা পেতে হতে পারে। তবে শাজিয়ার এই আবেদন খারিজ করেন মুসলিম ল’ বোর্ড। পরবর্তী সময় শাজিয়া ভরণপোষণের খরচ চান। তিনি সেখানে সাময়িকভাবে সফলও হন। এভাবে শাজিয়া তার ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়ে যান; কিন্তু ক্ষমতাকাঠামো, আইনের মারপ্যাঁচ এবং পুরুষ প্রাধান্যশীল সমাজের দাপটে তিনি পেরে ওঠেন না। পুরুষ প্রাধান্যশীল সমাজ নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে স্বীকার করতে চায় না। ফলে নারীর ওপর নির্যাতনের নানা বিষয় একপ্রকার চাপা পড়েই যায়।

তবে আশা জাগানিয়া বিষয় হলো, অতীতে নারীর ওপর নির্যাতন হলেও এর বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হতো শিক্ষা ও যোগ্যতার অভাবে। কিন্তু সময় খানিক বদলেছে। নারী শিক্ষিত হয়েছে, এতো কিছুর মধ্যেও নিজেকে যোগ্য করে তুলছে। নিজেকে আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার ফলে এখন তারা আর পুরুষের নির্যাতন সইতে বাধ্য নয়। চলচ্চিত্রে শাজিয়াও একইভাবে সমস্ত ভয়, দ্বিধা কাটিয়ে তার ও সন্তানদের অধিকার আদায়ে লড়াই করতে থাকেন। সমাজ, পরিবার, ধর্ম ও তথাকথিত ‘সতী' নারীর নীতি থেকে বেরিয়ে, তার প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন।

বিবাহ ও বৈবাহিক সম্পর্ক, আব্বাসের অবস্থান এবং অন্যান্য

বিবাহ, বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নানা মত থাকলেও বিয়ের সর্বজনীন সংজ্ঞা দাঁড় করানো প্রায় অসম্ভব। সমাজ-সংস্কৃতিভেদে এর ধারণা এবং প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়। অনেক নৃবিজ্ঞানী ধারণা করে, বিয়ে মানে নারী-পুরুষের যৌন মিলনের সামাজিক স্বীকৃতি ও সন্তান জন্মদানের বৈধতা প্রদান। কিন্তু বিয়ে কেবল এই দুই কাজই সম্পাদন করে না। সব সমাজে এই ধারণা প্রযোজ্যও নয়। যেমন, দক্ষিণ সুদানের ভূত বিবাহ ও নারীতে নারীতে বিবাহ প্রচলিত আছে। বিয়ে মানেই যে বৈধ সন্তাননুয়ের জনগোষ্ঠী বিষয়টাকে এভাবে দেখে না। কারণ সেখানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুইজন নারী এবং এটা সামাজিকভাবে স্বীকৃত। এবং ওই সমাজে বিয়ে না করেও একজন নারী প্রেমিকের সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে। বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা কিছুটা খাটে। এর বাইরে মুসলিম সমাজে বিয়ে নিয়ে নারী পুরুষের সমঅধিকারসহ সর্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত করার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এর প্রয়োগ তেমন চোখে পড়ে না।

সামাজিকভাবে নারীর যে নির্মাণ, তাতে স্বভাবগতভাবেই তারা বিয়ের ওপরে অধিক নির্ভরশীল হয়। বিপরীতে নারীর এই নির্ভরশীলতা, নাজুকতা, অসহায়ত্বের ইমেজ রক্ষাকারী পুরুষের পুরুষপনা বাড়িয়ে তোলে। ফলে তারা বিয়ে, ধর্ম, ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নারীদেরকে নানাভাবে শোষণ করে, নির্যাতন করে। বিপরীতে নারীরা সন্তান, পরিবার, সমাজের কথা ভেবে সব সহ্য করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এ প্রসঙ্গে ক্যাথরিন হল বলেন, ‘ভিন্ন আইনি সংস্কার থাকা সত্ত্বেও, বিয়ে হচ্ছে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আইনীভাবে একটি বৈষম্যমূলক সম্পর্ক। এ কারণে, পুঁজিবাদী সমাজে বিয়ে এবং পরিবার হচ্ছে অধস্তনতা, এবং পুরুষ আধিপত্য বিস্তারের ভিত্তি।' চলচ্চিত্রের একপর্যায়ে শাজিয়ার সঙ্গে আব্বাস একই ঘটনা ঘটান। তিনি বিভিন্নভাবে বৈষম্য করেন শাজিয়ার প্রতি।

চলচ্চিত্রের ১৪ মিনিট ছয় সেকেন্ডে সায়রাকে আব্বাস বিয়ে করে আনলে শাজিয়া এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আব্বাস যুক্তি দেন, তিনি একজন বিপদগ্রস্ত নারীকে বিয়ে করেছেন। এবং আব্বাসের মা শাজিয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, শাজিয়াই পৃথিবীর একমাত্র নারী নয় যে, তার স্বামীকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে। এভাবে শাজিয়ার প্রতি হওয়া অন্যায়কে একরকম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন আব্বাসের মা-ও।

এতে শাজিয়া ভেঙে পড়েন; তিনি আব্বাসের দ্বিতীয় বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। চলচ্চিত্রের ১৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে শাজিয়া নিজেকে খুঁজে পান নষ্ট প্রেশার কুকারের মধ্যে। প্রেশার কুকার নষ্ট হয়ে গেলে যেমন আব্বাস সেটাকে বদলে ফেলেন, শাজিয়াও যেনো একরকম পুরনো হয়ে গেছেন। তাই শাজিয়াকে বদলে আব্বাস তার জায়গায় সায়রাকে বসিয়েছেন। আব্বাসের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, সন্তানের জন্য তার ত্যাগ কোনো কিছুরই আর ভিত খুঁজে পান না শাজিয়া।

সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুরুষরা নারীদের অধিকার, তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে চায় না বেশিরভাগ সময়। তারা তাদের মর্জি মতো বিয়ে করে, তাদের মর্জি মতো নারীদেরকে গৃহস্থালি কাজে, সন্তান লালনপালনে বাধ্য করে। আবার তাদের মর্জি মতোই নারীদের ছুড়ে ফেলে। বিপরীতে নারীরা ‘সতী’ নারীর নীতিতে বহাল থাকতে বাধ্য হয়, এবং সেই অর্থে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। বিয়ে, বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে বারবারা ড্যাফো হোয়াইটহেড তার ‘দ্য ডিভোর্স কালচার' বইতে লেখেন, ১৯৫০-এর দশকে পৃথিবীর অধিকাংশ অসুখী দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতো না সন্তানদের কারণে আর সামাজিক দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে, তবু তারা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অসুখী সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতো।

বিয়ে, বিচ্ছেদ নিয়ে অনেকরকম মন্তব্য হাজির থাকলেও প্রথাগত সমাজে নারী ও নারীর ক্ষমতায়নকেই বিচ্ছেদের মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় বেশিরভাগ সময়। নারী শিক্ষিত হলে, কর্মজীবী হলে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বিবাহবিচ্ছেদের পেছনের কারণ কিন্তু ভিন্ন। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নৈতিকতার পতন, মূল্যবোধের অবক্ষয়, নারী-পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক চাপের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জায়গায় আস্থাহীনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

এছাড়া মেনে নেওয়া কিংবা মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা হ্রাস, সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন নাটক-সিনেমায় চোখ ধাঁধানো কৃত্রিম সম্পর্ক দেখে নিজের বাস্তব জীবনে তা খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরার অন্যতম কারণ। এ কথার সমর্থন পাওয়া যায় অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল-এর ভাষ্যে। তার মতে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ, ‘সমাজে সহিষ্ণুতা কমছে। নগরজীবনের চাপ, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, সঙ্গীর পছন্দ-অপছন্দ, জৈবিক চাহিদা পূরণ না হওয়া ইত্যাদি বিষয় দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে। নারীরা সংসারে নিজের মর্যাদা না পেয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।'

সমাজে পুরুষ নানা কারণে নারীকে অসম্মান করে, দমিয়ে রাখতে চায়। তারা কখনো যৌতুকের জন্য নারীর ওপর চড়াও হয়, আবার কখনো বিয়ে, ধর্ম ইত্যাদিকে পুঁজি করে তাদেরকে নিজের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করে। এতে বৈবাহিক ধর্ষণসহ আরো নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানকে হাতিয়ার করে পুরুষেরা যেমন যৌনতা, সন্তান জন্মদানের সনদ পায়; অন্যদিকে নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তারেরও সুযোগ পায়। পুরুষেরা নারীদের বিয়ে করে ঘরে নেয় বিনা বেতনের শ্রমিক হিসেবে। নারীরা গৃহস্থের সমস্ত কাজ করে, সন্তান জন্ম দেয়, লালনপালন করে, কিন্তু বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক পায় না। বিপরীতে এই শ্রমের জন্যই তাকে হেয় হতে হয়। চলচ্চিত্রে শাজিয়াও বিনা পারিশ্রমিকে সংসারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যান। এবং স্বামীর প্রতি অন্ধবিশ্বাস, সন্তানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সমস্ত অন্যায় আচরণ সহ্য করেন।

চলচ্চিত্রে সায়রার প্রতি আব্বাসের ভালোবাসা; শাজিয়ার তুলনায় সায়রাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া; সায়রার পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুর খেয়াল রাখাএগুলোর কোনোকিছুই শাজিয়া মেনে নিতে পারেন না। প্রতিবাদ করতে চাইলেও কোনো সুরাহা হয় না; আব্বাস তাকে দমিয়ে রাখেন। চলচ্চিত্রের ২৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে সায়রার সঙ্গে বাজারে গেলে শাজিয়ার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়। শাজিয়াকে ‘চ্যারিটি কেস’ বলে সায়রা অপমান করেন! সায়রা জানান, শাজিয়ার সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই সায়রাকে ভালোবাসতেন আব্বাস। এবং ভালোবেসেই আব্বাস তাকে বিয়ে করেছেন। কোনো বিপদগ্রস্ত নারী কিংবা সেবিকা হিসেবে নয়! শাজিয়া এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে আব্বাস তাকে থামিয়ে দেন। এবং বলেন, সায়রাকে বিয়ে করে তিনি সওয়াবের কাজ করেছেন। পুরুষেরা নারীকে ঠকিয়ে বিয়ে, পরকীয়া করলে, কিংবা যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হলে তাতে কোনো দোষ নেই! বিপরীতে নারীরা কোনো কারণে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে, কিংবা সম্পর্কের ইচ্ছে পোষণ করলে তা সমাজের দৃষ্টিতে ভয়াবহ অপরাধ বলে ধরা হয়। আগেই বলেছি, সমাজে ‘সতী নারী’র মূল্য সর্বাধিক! আর সেই সতীত্বের নীতিতে বহাল থাকার দায় কেবল নারীর!

নীরবতা ভেঙে আত্মপ্রকাশের লড়াই এবং হিরো আর্কেটাইপ

মধ্যপ্রাচ্যে আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে নারীসন্তান জন্ম নিলে জীবন্ত কবর দেওয়ার চল ছিলো! তৎকালীন আরবে সমান সম্মান, অধিকার দেওয়ার কথা প্রচলিত থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে পুরুষ প্রাধান্যশীল সমাজ কাঠামোই নারীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতো। পরিবার প্রধান হিসেবে পুরুষদেরই প্রাধান্য ছিলো এবং তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে স্বীকৃত হতো। ইসলাম আবির্ভাবের আগে অজ্ঞতা, অশ্লীলতা, স্বেচ্ছাচারিতায় ভরা ছিলো। অসত্য, অন্যায়ের কাছে হার মেনেছিলো সমস্ত সত্য! বাজারে পণ্যের মতো কেনাবেচা করা হতো নারীদের। বিয়ে দেওয়ার নামেও তাদের নানা ধরনের ব্যাভিচারের প্রচলন ছিলো। ইসলাম আর্বিভাব পরবর্তী সময়ে সমাজে নারীদের অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছেএমন নয়। হয়তো অপরাধের ধরন ও কৌশলে কিছুটা বদল ঘটেছে। সেই পুরুষালী সমাজকাঠামো, তাদের প্রাধান্য, নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি রয়েই গেছে। সনাতন ধর্মেও নারীরা আমৃত্যু কোনো না কোনো বিধি নিষেধে আবদ্ধ থাকে। পুরুষেরাই নিয়ন্ত্রণ করে নারীদের। ব্রাহ্মণ সমাজে নারীদের অবস্থান তাদের পুরুষ আত্মীয়রা নির্ধারণ করতো এবং তারাই নারীদের অভিভাবক হিসেবে পরিগণিত হতো। মনুরা মনে করতো, ‘কন্যা হলো স্নেহপরায়ণতার সর্বোচ্চ লক্ষ্যবস্তু। এবং নারী স্বাধীনতা ভোগের অনুপযুক্ত। তার বাবা তাকে যৌবনে রক্ষা করবে, পুত্র তাকে বৃদ্ধকালে পালন করবে। সুতরাং একজন নারী কখনোই স্বাধীন হতে পারে না।'১০

সনাতন ধর্মে রাখি-বন্ধন নামের আচার প্রচলিত আছে। পরিবারের ভাইয়েরা বোনদের রক্ষার দায়িত্ব নিতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই রক্ষাবন্ধন কিংবা রাখি-বন্ধন নিছক কোনো আচার নয়, এর মাধ্যমে নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়, নারীদেরকে ভাইয়ের বা পুরুষের অধীনে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়। সনাতন ধর্মে যেমন রক্ষাবন্ধনের নাম করে নারীদেরকে পুরুষালী আধিপত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, মুসলিম সমাজে তেমনই পর্দার নাম করে, ধর্মের নাম করে নারীদের ঘরে আটকে রাখা হয়।

তবে এই সবকিছুর বাইরে গিয়ে শাজিয়ার মতো কেউ প্রতিবাদ করেন। চলচ্চিত্রে শাজিয়াকে না জানিয়ে সায়রাকে আব্বাস বিয়ে করলে, শাজিয়া প্রশ্ন তোলেন। আব্বাসের সঙ্গে তিনি হয়তো পেরে ওঠেন না, কিন্তু প্রতিবাদ জারি রাখেন। বিবাহ বার্ষিকীর দিনে আব্বাসের করা অপমান সহ্য করতে না পেরে শাজিয়া তার সন্তানদেরকে নিয়ে আব্বাসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। শাজিয়া বুঝিয়ে দেন নারীরা পুরুষের অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য নয়। এই শুরু, তার পর থেকে শাজিয়া তার সাধ্যমতো প্রতিবাদ জারি রেখেছেন। আব্বাস তার সন্তানদের ভরণপোষণ বাবদ টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করে পরবর্তী সময়ে সেটা অস্বীকার করলে তিনি আইনের সহায়তা নেন। এই যে ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে শাজিয়ার যে লড়াই, সমস্ত অন্ধকারকে পেছনে ফেলে তার যে আত্মপ্রকাশ, এই পুরো পরিস্থিতিকে কার্ল ইউং-এর ধারণার সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করা যায়।

চলচ্চিত্রে শাজিয়ার যাত্রা মূলত আত্ম-উন্মোচনের যাত্রা। শুরুতে সামাজিক বাস্তবতার চাপে নির্মিত মুখোশ বা পারসোনার আড়ালে তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখলেও, ক্রমে তার ভেতরের অ্যানিমাসযা মূলত সাহস, প্রতিরোধ ও আত্মসচেতনতার শক্তির প্রতীকজেগে ওঠে। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও রূপান্তরের ভেতর দিয়েই শাজিয়ার এই জার্নি হিরো আর্কেটাইপে পরিণত হয়। যেটা কেবল বাহ্যিক দমন নয়, নিজের ভেতরের ভয় ও সঙ্কটের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এবং আব্বাসের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। অচেতনে সমাজে নারীর যে আদর্শিক, প্রতিরোধী চেতনা লুকায়িত অবস্থায় থাকে, সেই অ্যানিমাসকে সামনে এনে শাজিয়া তার লড়াই জারি রাখেন।

আইন, ক্ষমতা, ধর্ম ও নারী অধিকারের টানাপড়েন

সমাজে নারী অধিকারের প্রশ্ন কখনোই শুধু নারীর প্রশ্ন হয়ে থাকেনি; বরং এটা রাষ্ট্র, ধর্ম, পরিবার, সংস্কৃতি ও ক্ষমতার জটিল সম্পর্কের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে। আইন অনেক সময় নারীর সুরক্ষার ভাষা তৈরি করে, কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই আইন কার্যকর হয় ক্ষমতাকাঠামোর ভেতর দিয়ে। ফলে কাগজে অধিকার থাকলেও সামাজিক বাস্তবতায় নারীকে প্রায়ই আপস করতে হয় ভয়, নীরবতা ও সামাজিক নজরদারির সঙ্গে। আইনের প্রয়োগও অনেকাংশে নির্ভর করে কার হাতে ক্ষমতা আছে, কে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য, কার পেশা কী, এগুলোর ওপর। নারী যখন নিজের অধিকার বা নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে, তখন তাকে শুধু আইনি লড়াই নয়, সামাজিক ও নৈতিক বিচারেরও মুখোমুখি হতে হয়। এখন নারী অধিকার প্রসঙ্গে তৎপরতা বাড়লেও এই সমস্যার তীব্রতা কমেনি। নারীরা অন্যায়ের বিচার চাইতে গেলে কিংবা প্রশ্ন তুললে তাকে সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়!

আগেই বলেছি, পুঁজিবাদী সমাজ আর্বিভাবের পরে শ্রম বিভাজনের ভিত্তিতে নারী পুরুষের পৃথকীকরণ আরো প্রকট হয়। ফলে নারীরা নিজেদের দুর্বল ভাবতে শুরু করে। অতীতে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তে যখন পুরুষ প্রাধান্যশীল সমাজব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, তখন থেকেই নারীরা পুরুষের সাপেক্ষে জীবন পরিচালনা করে। নারীরা তাদের অধিকার, তাদের প্রাপ্যতা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায় না, দেখানোর সুযোগও হয়তো দেওয়া হয় না! সুরক্ষার অজুহাতে নারীদের বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, এতে তারা এক ধরনের পদ্ধতিগত দুর্বলতার শিকার হয়। এই বিচ্ছিন্নতা তাদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা এবং সচেতনতা কমিয়ে দেয়। পুরুষের এই অবস্থানকে সমাজবিজ্ঞানী আরভিং গফম্যান বর্ণনা করেন এভাবে‘... এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একটিমাত্র কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানে ক্ষমতার একপক্ষীয় ব্যবহার (পাওয়ার অ্যাবিউজ) হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ, তিনি জানেন, তার কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই।'১১

হক-এ এই ধরনের পরিস্থিতি চোখে পড়ে। চলচ্চিত্রের শুরুর দিকে লিয়াকত সাবেরের তার স্ত্রীকে ছোটো করা, শাজিয়াকে কটাক্ষ করা এবং পরবর্তী সময়ে শাজিয়ার প্রতি আব্বাসের করা অন্যায়সবমিলিয়ে আব্বাসও হয়তো ধরেই নেন তাকে প্রতিরোধ করার কেউ নেই। তবে শাজিয়া রুখে দাঁড়ান। যদিও ক্ষমতাকাঠামো আর আইনের মারপ্যাঁচে তার টিকে থাকা সহজ হয় না।

গ্রামসির হেজিমনি তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়েও পুরো পরিস্থিতিকে পাঠ করা যায়। ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে না; বরং সমাজের সাধারণ বিশ্বাস, নৈতিকতা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসের মধ্য দিয়েও তা টিকে থাকে। মানুষ অনেক সময় শাসনকাঠামোর ধারণাগুলোকে স্বাভাবিক ও নৈতিক সত্য হিসেবে মেনে নেয়। হক-এ আব্বাসই যেনো শাসক, তিনি চাইলেই শাজিয়ার প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারবেন, নিপীড়ন করতে পারবেন। এর ব্যাখ্যাও তিনি তার মতো করে হাজির করবেন এবং সমাজও যেনো তা গ্রহণ করতে বাধ্য। সমাজ, ধর্ম কখনো কখনো তার বৈধতাও দেয়।

ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা হলেও সমাজে তার ব্যাখ্যা প্রায়ই ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ধর্ম ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ালেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা নারীর স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে। পাপপুণ্যের নামে নারীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়। চলচ্চিত্রে আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাওয়ার ব্যাপারে শাজিয়াকে সমাজপতি বাধা দেন, বিষয়গুলোকে পারিবারিকভাবে আপস করে নিতে বলেন। যদিও তাতে কোনো সুরাহা হয় না।

চলচ্চিত্রের ৪২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে আব্বাসের বিরুদ্ধে শাজিয়া মামলা করতে গেলে উকিল আব্বাসের পেশা, প্রভাব প্রতিপত্তির কথা শুনে মামলা নিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে শাজিয়া সুপ্রিম কোর্টে গেলে বিচারপতিও মামলা নেন না। সমাজপতি বা কাজীর কাছ থেকে সমাধান করে নিতে বলেন। তিনি জানান, এই মামলা মুসলিম বোর্ডের অধীনে, তিনি চাইলেই এই মামলা নিতে পারেন না। আইনকানুনের ফিরিস্তি শুনিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে আইনজীবী বেলা জান ও ফরহাজ আনসারী এই মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এই মামলা করায় শাজিয়াকে অন্যায়ভাবে আব্বাস তালাক দেন।

সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায় দিতে অস্বীকার করেন। মুসলিম ল’ বোর্ডে গেলে সেখানকার প্রতিনিধিরা শাজিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াকে লজ্জাজনক বলে দাবি করে। শাজিয়ার সমস্যার কোনো সমাধান না দিয়ে তার শিক্ষাকে কটাক্ষ করেন। ইসলামকে নিয়ে তামাশা করার কথা বলেন। বিপরীতে আব্বাস যে অন্যায়ভাবে শাজিয়াকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং অন্যায়ভাবে ইসলাম ধর্মের কোনো শর্ত পূরণ না করেই শাজিয়াকে তালাক দিয়েছেন, তা নিয়ে কোনো কথা বলেন না। তারা কেবল শাজিয়াকে দোষারোপ করেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিরূপ সেই পরিস্থিতিতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান শাজিয়ার বাবা। তিনি শাজিয়ার লড়াইয়ে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত পাশে থাকেন। এখানে পুরুষ প্রাধান্যশীল কাঠামোয় আরেক পুরুষের ভূমিকাকে নতুনভাবে দেখা যায়। যাইহোক, এই পরিস্থিতিতে শাজিয়া মামলা জিতে যান। পরে আব্বাস কৌশলে মামলা হাইকোর্টে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জিতে যান শাজিয়া। একইসঙ্গে ক্ষমতা, ক্ষমতাকাঠামো, ধর্ম ও সমাজের বিদ্যমান ডিসকোর্সের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নারীর রিপ্রেজেন্টেশন, নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল বিন্যাস

চলচ্চিত্রে নারী চিহ্ন হিসেবে কাজ করে, কিন্তু এই চিহ্নের অর্থগত মালমশলা নারীর বাস্তব জীবনের অংশ থেকে নয়, নির্মিত হয় পুরুষের আকাক্সক্ষা ও ফ্যান্টাসি থেকে। সেখানে নারীকে সাধারণত উপস্থাপন করা হয় ভুক্তভোগী হিসেবে, নিষ্ক্রিয় হিসেবে, আবার কখনো কখনো নারীর দেহকে দর্শনীয় বিষয় হিসেবে প্রদর্শন করা হয়, সেখানে নারী হিসেবে অনুপস্থিত থাকে নারী।১২ কিন্তু এই দুই নির্মাণের মধ্যেই নারীর বাস্তব সামাজিক অবস্থান প্রায়শই অনুপস্থিত থেকে যায়। হক এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রে নারী চরিত্র শাজিয়াকে কোনো অতিনাটকীয় কিংবা নৈতিক, তথাকথিত আদর্শ নারী হিসেবে হাজির করা হয়নি; বরং তাকে ধর্ম, আইন, পরিবার ও সামাজিক ক্ষমতার জটিল সম্পর্কের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে।

হক-এর বিভিন্ন দৃশ্যে ক্যামেরার স্থিরতা, সঙ্কীর্ণ ফ্রেম, মৃদু আলোয় শাজিয়াকে নায়কোচিত ভঙ্গিতে নির্মাণ করা হয়নি। বরং তার চারপাশের দেয়াল, দরজার ফ্রেম এবং দীর্ঘ নীরবতা তাকে সামাজিক নজরদারির বেড়াজালে আটকে থাকা কোনো নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রেহনুমা আহমেদ বলছেন—``সাধারণত মিডিয়াতে প্রচারিত নারীর ইমেজ ‘অবাস্তব', এগুলোর সঙ্গে নারীর বাস্তব জীবনের, তার সংগ্রামের ও আকাক্সক্ষার কোনো সম্পর্ক নাই।"১৩ হক নির্মাণে নির্মাতা এই অবাস্তব নারী-ইমেজ নির্মাণের পথ থেকে সচেতনভাবে সরে এসেছেন বলে মনে হয়েছে। বলা চলে নির্মাতা শাজিয়ার চরিত্রকে বর্তমান সময়ের নারীদের যে টানাপড়েননারী ও পুরুষের যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, নারীর যে সামাজিক নির্মাণ, তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

শাজিয়ার বিয়ে পরবর্তী সময়ে ‘কবুল হ্যায়' গানটি বার বার ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতা নারী অধিকারের টানাপড়েন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঠিকই, কিন্তু বার বার ‘কবুল হ্যায়' গানের ব্যবহারে নারী যে পুরুষের দাসত্ব মেনে নেয় এবং পুরুষের ওপরেই আগাগোড়া নির্ভরশীল থাকে; পুরুষের আধিপত্য যে তারা মেনে নিতে বাধ্যএই ব্যাপারগুলোকেই ইঙ্গিত করেন। চলচ্চিত্রে শাজিয়ার জীবনে আব্বাস বেশ কতোগুলো জটিলতা তৈরি করেন। নির্মাতা কৌশলে শাজিয়াকে বেশ ধৈর্যশীল নারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কম সংলাপ, ধীরস্থির পরিবেশ যেনো শাজিয়া চরিত্রকে আরো প্রতিবাদী করে তোলে।

শেষকথা

হক চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সুপর্ণ ভার্মা, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক বাস্তবতা ও ক্ষমতার অদৃশ্য কাঠামোগুলো একইসঙ্গে পাঠের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এখানে ধর্ম, নৈতিকতা, পরিবার, পুরুষ প্রাধান্যশীল নিয়ন্ত্রণ কিংবা সামাজিক শৃঙ্খলা আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয় না; বরং মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত ও টানাপড়েনের ভেতর জটিলভাবে কাজ করে। এবং চলচ্চিত্রে সমসাময়িক বাস্তবতা অতিনাটকীয়তার মাধ্যমে নয়, বরং সংযত দৃশ্য নির্মাণ, নীরবতা ও চরিত্রগুলোর অন্তর্গত অস্বস্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। বিশেষত শাজিয়ার চরিত্র সমকালীন নারীর অবস্থানকে বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বর্তমান সমাজে নারীর সামগ্রিক অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু সেই অংশগ্রহণ কিংবা সক্রিয় উপস্থিতির আড়ালেও তার শরীর, সিদ্ধান্ত, বিশ্বাস ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে ঘিরে নানা ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় থাকে। শাজিয়ার ভেতরকার দ্বিধা, নীরবতা এবং ক্রমাগত সমঝোতার পরিস্থিতি তাই কেবল ব্যক্তিগত সঙ্কট নয়; বরং বর্তমান সময়ের বহু নারীর অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।

হক কোনো সহজ সমাধান হাজির করে না। বরং চরিত্রগুলোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেখানে ক্ষমতা সবসময় প্রকাশ্য দমনপীড়নের মাধ্যমে কার্যকর না হয়ে তা পরিবার, নৈতিকতা কিংবা ধর্মীয় ব্যাখ্যার আড়ালেও কার্যকর থাকে। চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত বর্তমান সময়, সমাজ ও মানুষের ভেতরকার সঙ্কটকে নতুনভাবে পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করে। ফলে হক কেবল শাজিয়ার হক/অধিকার আদায়ের গল্প নয়, গোটা দুনিয়ার হাজারো শাজিয়ার জীবনের গল্প হয়ে ওঠে।

লেখক : হাবিবা আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

habibaruacbd@gmail.com

https://www.facebook.com/share/1D4T6rS5Wb/


তথ্যসূত্র ও টীকা

১. আহমেদ, রেহনুমা ও চৌধুরী, মানস (২০০৩ : ৭৭); নৃবিজ্ঞানের প্রথম পাঠ : সমাজ ও সংস্কৃতি; একুশে পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ঢাকা।

২. প্রাগুক্ত; আহমেদ ও চৌধুরী (২০০৩ : ৭৪)।

৩. শজিব, শাহরিয়ার; “‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট' : নারী জীবন ও দাম্পত্য জীবনের সীমানা ভাঙ্গার গল্প”; ম্যাজিক লণ্ঠন; সম্পাদনা : কাজী মামুন হায়দার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ১৫, সংখ্যা ৩০, পৃ. ২১৫।

৪. ‘তালাক ও খোরপোষ'; দেখুন : https://shirshobindu.com/archives/47933retrieved on: 15.05.2026

৫. প্রাগুক্ত; ‘তালাক ও খোরপোষ'।

৬. প্রাগুক্ত; আহমেদ ও চৌধুরী (২০০৩ : ৭৪)।

৭. প্রাগুক্ত; আহমেদ ও চৌধুরী (২০০৩ : ৭৯)।

৮. ‘বিবাহবিচ্ছেদ কেন বেড়ে চলেছে'; প্রথম আলো; দেখুন : https://www.prothomalo.com/opinion/column/বিবাহবিচ্ছেদ-কেন-বেড়ে-চলেছে; retrieved on: 10.05.2026

৯. ‘বৈবাহিক সম্পর্কে এত ফাটল ধরার কারণ কী'; প্রথম আলো; দেখুন : https://www.prothomalo.com/opinion/letter/dabhlul91f; retrieved on: 10.05.2026

১০. হোসেন, শাহনারা (২০০৭ : ৮৭); ‘সাংস্কৃতিক জীবনে বিবর্তন, ক. প্রাচীন যুগ'; সাংস্কৃতিক ইতিহাস; সম্পাদক : মোহসীন ও আহমেদ; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা।

১১. হক, মনযূরুল; ‘মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পাশে কে দাঁড়াবে'; প্রথম আলো; ৭ মে ২০২৬।

১২. আহমেদ, রেহনুমা (২০২৫ : ৪৫); রেপ্রিজেন্টেশন (ও বাস্তবতা); ম্যাজিক লণ্ঠন প্রকাশন, রাজশাহী।

১৩. আহমেদ, রেহনুমা (২০২৫ : ৪১); রেপ্রিজেন্টেশন (ও বাস্তবতা); ম্যাজিক লণ্ঠন প্রকাশন, রাজশাহী।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন