মো. হারুন-অর-রশিদ
প্রকাশিত ২৩ মে ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার
মডেল সাবিরার মৃত্যু এবং সভ্যতার মরীচিকা
মো. হারুন-অর-রশিদ

পুঁজি, তোমার লীলা বোঝা দায়
ঐতিহাসিক যন্ত্র সভ্যতার যুগে, সর্বনাশা উন্নয়নের যুগে, সমাজের প্রতিটি ঘরে-স্তরে-বাইরে মলিন হয়ে আসছে আলো। ধেয়ে আসছে ঘুটঘুটে অন্ধকার; ঘিরে ধরছে চারপাশ। নেই কোনো সুখকর, আরামদায়ক, প্রশান্তির জায়গা; যেখানে হাফ ছেড়ে বাঁচা যায়। প্রতিনিয়ত তাড়িত করছে উদ্বেগ। ক্ষয়ে যাচ্ছে অবশিষ্ট আশাটুকুও। সঙ্কট থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন সব সঙ্কট। সামগ্রিকভাবে এসব সঙ্কটের আঁতুরঘর খুঁজতে গেলে সামনে আসে পুঁজিবাদ নামের ভয়াবহ এক সিস্টেম। যে সিস্টেম মানুষকে করে তুলেছে পণ্য, মানবীয় সত্তা হয়ে পড়েছে যন্ত্রসত্তা; বিদ্যমান সবটাই কেবল শাসক আর শোষিতের গল্প। চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রেণির বাইরেও সৃষ্টি করেছে নতুন শ্রেণিবিভাজন। ফলে যাপিত জীবনে মানুষ এখন আত্মকেন্দ্রিকতাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে! প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বব্যবস্থায় তারা সদা ব্যস্ত জয়ী হওয়া নিয়ে। ব্যস্ত থেকে ব্যস্ততর এই মানুষ স্বভাবতই ব্যর্থতাকে আপন করে ভাবতে পারে না। ব্যর্থতাও যে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটা মেনে নিতে কষ্ট হয় তাদের।
মুক্তবাজার অর্থনীতির এই চরম স্তরে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি। যার ছোঁয়ায় মানুষ ‘বিশ্বগ্রাম’ কাঠামোকেও উতরে গেছে/যাচ্ছে। প্রযুক্তির আশীর্বাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কল্যাণে একদিকে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নব্য ‘সেতুবন্ধন’! অন্যদিকে এরই প্রভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচরণ, জীবনবোধে এসেছে পরিবর্তন। আর সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে গণমঞ্চ। যে মঞ্চে সমাজ-অর্থনীতি-সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার। কী নেই সেখানে! বাস্তবজীবনের ব্যর্থতার দায় নেওয়ার কেউ না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিন্তু সেই জায়গাটিও সৃষ্টি করেছে! যদিও সে দায়বোধ আর বাস্তবতার ফারাক পৃথিবীসম দূরত্বের।
বর্তমান সময়ে অন্যতম প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক। যে ওয়েবসাইটটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। পুঁজির কষাঘাতে সব হারানো মানুষও ফেইসবুকে নিজেকে খুঁজে পেতে চায়! শ্রেণি-বয়স-মত-পথ-ধর্ম ভুলে অসংখ্য মানুষ হয়ে উঠেছে ফেইসবুকবাসী। অথচ সেই ফেইসবুকও যে পুঁজিবাদ সুচারুভাবে চালু রাখার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে, সেটা মানুষের উপলব্ধিতেই নেই! সেখানে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, ভার্চুয়ালের আঘাতে আঘাতে গুলিয়ে ফেলছে বাস্তবতা। সঙ্কট নিরসনে প্রচেষ্টা চালালেও আলো-আঁধারির এই খেলায় সঙ্কট আরো জাগ্রত হচ্ছে; জোরালো রূপ লাভ করছে।
অতৃপ্ত আত্মা ঘুরিছে সদায়
সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজকের ‘সভ্য’ মানুষ নিজ প্রয়োজনে নানাভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে চলছে। দৃশ্য-অদৃশ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে এসব সম্পর্ক বিদ্যমান। কখনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে, ছেদ ঘটে, পুনরায় গড়ে ওঠে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব সম্পর্কের রকমফেরও হয়। কখনোবা সম্পর্কে মেলে নানাবিধ টানাপড়েন। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানেই বিদ্যমান এই সম্পর্ক সত্ত্বা। তবে মানুষের ক্ষেত্রে তা একটু বেশিই কাজ করে। মানুষ পরিবার, বন্ধু, স্বজন, ছাত্র-শিক্ষকের বাইরে হাজারো সম্পর্কে জড়ায়। যোগাযোগ এসব সম্পর্কে গভীরতা এনে দেয়। কারণ যেকোনো প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যাইহোক, এসব সম্পর্কের জেরে মানুষে মানুষে গড়ে ওঠে অদৃশ্য ভাব, দৃশ্যত আদান-প্রদান। যেখানে যোগাযোগ হয় মাধ্যম, মাধ্যমহীন দুভাবেই। এই মানুষের বাস্তবিক সম্পর্কের পালে নতুন হাওয়া লাগিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যার উৎকর্ষে মানব সমাজ প্রবেশ করেছে নতুন এক জগতে। যে জগতেও সম্পর্ক গড়ে, ভাটা পড়ে। সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই জগৎ ভার্চুয়াল বলে পরিচিত। ভার্চুয়াল এই জগতে প্রতিনিয়ত গতিশীল থেকে আরো গতিশীল হচ্ছে মানুষের যাপিত জীবন। যে জগৎ স্থান ও সময়ের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে/দিচ্ছে। ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে মাধ্যমহীন যোগাযোগ ও সম্পর্ক। তবে মানুষে মানুষে যে যোগাযোগ তা রূপ নিয়েছে বিশ্বজনীন। যেখানে নেই কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা! ‘মিথস্ক্রিয়াময়’ এ জগতে পরস্পরকে দেখা যায়, কথা বলা যায়, ভাব প্রকাশ করা যায়; শুধু যায় না স্পর্শ করা!
বাস্তব আর ভার্চুয়ালের অন্যতম ফারাক হলো, বাস্তবে পরিবারকে কেন্দ্র করে মানুষের নানাবিধ সম্পর্ক আবর্তিত হয়। যেখানে একটা ভিত্তি বিদ্যমান। বিপরীতে ভার্চুয়ালে কেবল ‘বন্ধুত্ব’কে ঘিরে আবর্তিত হয় ব্যাখ্যাতীত কিছু সম্পর্ক। যেখানে সম্পর্ক কেবলই ওই ওয়েবসাইটটিকে ঘিরে। যদিও সম্পর্ক স্পর্শ করার ন্যায় কোনো বস্তু বা জড় পদার্থ নয়, তারপরও বাস্তবিক সম্পর্কে একধরনের চ্শ্চিদ্র অনুভূতি কাজ করে। অন্যদিকে ভার্চুয়াল অনুভূতির বাস কেবল কয়েক ইঞ্চি মনিটর আর মুঠোফোনের স্ক্রিনেই। ফলে সম্পর্কের মাধ্যমটা বায়বীয়। বাস্তব আর ভার্চুয়ালের মধ্যে পার্থক্য মূলত অনুভূতিতে। যাকে কেন্দ্র করে মানুষ টিকে আছে।
ফেইসবুক বন্ধুত্ব নামক অনুসর্গে নতুন রূপ দিয়েছে। যার ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে বন্ধুত্বের জাল। শুধু হারিয়ে যাচ্ছে নিজস্বতা। পাড়ার চায়ের দোকান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে বসে আড্ডা না দিলেও ফেইসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা চলে। আবার কখনো প্রকৃত আড্ডার মধ্যেও সুযোগ পেলেই চোখ চলে যায় ফেইসবুক স্ক্রিনে! পাশাপাশি বসেও আড্ডা আর আড্ডা হয়ে উঠছে না। চেনাজানা, প্রতিদিন দেখা হওয়া এমন অনেক মানুষের সঙ্গে এখন যোগাযোগ হচ্ছে ফেইসবুকের মাধ্যমে! প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পরিণত হচ্ছে ফেইসবুক বাসিন্দায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, এমনও ব্যক্তি আছে বাস্তবে যার তেমন কোনো বন্ধু নেই, কখনো বাইরে আড্ডা দেয় না, পছন্দ করে একা থাকতে, যার মধ্যে কোনো রসবোধ নেই; অথচ একই ব্যক্তি ভার্চুয়ালি সম্পূর্ণ আলাদা জীবনবোধের অধিকারী। ফেইসবুকে তার কয়েক হাজার বন্ধু--সেখানে সে অত্যন্ত ‘মিশুক’, কোলাহলপূর্ণ জীবন যাপন করে। তার রসবোধ অনেককে বিনোদিত করে। এভাবে ব্যক্তি একই সঙ্গে বাস্তব আর ভার্চুয়ালকে যাপন করে চলে।
তবে এর ফলে কখনো কখনো ব্যক্তির মধ্যে বিপরীতধর্মী ক্রিয়া দেখা যায়। বিপত্তি বাঁধে তখনই--বাস্তব ও ভার্চুয়ালের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একজন অতিমাত্রায় ফেইসবুক আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে ভার্চুয়ালি যে অনুসর্গগুলো কাজ করে, সেটা তার বাস্তবজীবনেও প্রভাব বিস্তার করে। যা ওই ব্যক্তির মধ্যে ঘোরের সৃষ্টি করে। ভার্চুয়ালি ব্যক্তি অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়, বাস্তবে যদি হয় বিপরীত, সেক্ষেত্রে সঙ্কটে পড়াটাই স্বাভাবিক। তার পরও সামগ্রিকভাবে বাস্তবজীবনের চাইতে অনেক ক্ষেত্রে ফেইসবুকেই ঝুঁকছে মানুষ। ফলে ক্রমান্বয়ে তারা দূরে সরে যাচ্ছে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে।
তোর আপন ঘরে বেঁধেছে গোলমাল
মানুষের জীবন এক জটিল প্রক্রিয়ার নাম। যে প্রক্রিয়ায় বাস্তবিক ক্রিয়াকলাপ ভোগায় সারাক্ষণ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-রাষ্ট্রীয় নানাবিধ বিষয়ের টানাপড়েনে জীবন অতোটা সহজ হয়ে ধরা দেয় না। অন্যদিকে ভার্চুয়াল জীবনকে সাধারণ চোখে দেখলে মনে হয়, এই জীবনে নেই কোনো সঙ্কট, মাথার ওপর নেই কোনো কাজের চাপ, চিন্তার ছাপ! আছে কেবল আনন্দ, উৎসব, অনাবিল স্বাধীনতা! অথচ পরিস্থিতি কিন্তু মোটেও এতো সহজ নয়। এর পিছনেও একটা গভীর ক্ষত বিদ্যমান। উল্টো করে দেখলে ব্যক্তি জীবনের যে সঙ্কট, কাজের চাপ, চিন্তার কাঠামো সবকিছুরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ফেইসবুকে। স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পারিপার্শ্বিক নানাবিধ ঘটনা, নিজের সঙ্গে ঘটে চলা অসঙ্গতি, ব্যক্তি জীবনের ক্রোধ, সঙ্কট, মত, চিন্তার প্রকাশে ফেইসবুক অনবদ্য ভূমিকা রাখে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনচিত্র ফুটিয়ে তুলবার ডায়েরি হয়ে গেছে ফেইসবুক। যেখানে ব্যক্তি জীবনের সঙ্কটকে ঘিরে কখনো বাস্তবজীবনকে আড়াল করে ভার্চুয়াল জীবন, কখনো ভার্চুয়ালকে বাস্তব।
ব্যক্তি যখন ফেইসবুক ব্যবহার করে, তার মধ্যে একই সঙ্গে বাস্তবিক ও ভার্চুয়াল দুটো সত্তা কাজ করে। এমন কিছু বিষয় যা কোনো ব্যক্তি বাস্তবিক অর্থে প্রকাশ করছে না বা করতে পারছে না, কিন্তু ঢালাওভাবে স্ট্যাটাস দিয়ে ঠিকই তা ফেইসবুকে প্রকাশ করছে। এই ফেইসবুকে তারাও থাকছে যারা একই সঙ্গে বাস্তবেও তার বন্ধু, স্বজন, আপন। সেই স্ট্যাটাসে তারা নিজের মতো করে মন্তব্য করছে। ওই ব্যক্তি আবার সেসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও দেয় অবলীলায়। তার মানে, সবচেয়ে কাছের মানুষকে যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, বলার মতো কোনো পথ পাওয়া যায় না, এমনকি সেরকম আস্থা/পরিস্থিতি গড়ে ওঠে না, সেই কথাগুলো নির্দ্বিধায় ফেইসবুকে বলা যাচ্ছে! ফেইসবুক সে পথ বাতলে দিয়েছে। ফেইসবুকের বন্ধুরা এতো বেশি কাছে এসেছে যে, তাদের কাছে দ্বিধাহীনভাবে সবকিছু বলা যাচ্ছে--পাগলামি কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আস্থার নাম হয়ে উঠেছে ফেইসবুক!
ব্যক্তি যখন ফেইসবুককে আপন ভাবছে বা অচেতনে আপন হয়ে যাচ্ছে, তা বাস্তবকে পাশ কাটিয়ে চলার চর্চাটাও শেখাচ্ছে। ভার্চুয়ালে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ায় অনেক সময় দেখা যায়, ব্যক্তির ভাবনায় মত, পথ, বিপ্লব, সংশয়, আনন্দ-ব্যথা যা কিছুই আসুক না কেনো তা আর পুষে রাখতে পারছে না। ফলে মানুষ জৈবিকভাবে তার আবেগ অবদমন করতে ভুলে যাচ্ছে। তার আবেগের পরিবর্তন ঘটছে সামান্য সময়ের ব্যবধানে। একজন কষ্টের সঙ্গে তার অনুভূতি ব্যক্ত করছে, অন্যরা সেখানে মন্তব্য করছে, সহানুভূতি প্রকাশ করছে। পরোক্ষণেই আনন্দদায়ক কোনো কিছুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। কিংবা ফেইসবুকে যে অনুভূতি ব্যক্ত করছে, মেসেঞ্জারে তার বিপরীত বার্তা চালাচালি করছে। অর্থাৎ একই সঙ্গে ব্যক্তির মধ্যে ভিন্ন অনুভূতি কাজ করছে। কিংবা কোনো অনুভূতিই ব্যক্তির মধ্যে কাজ করছে না। কিংবা কষ্টানুুভূতি, উচ্ছ্বাস কোনোটাই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। মানুষের আবেগ কতো সস্তা রূপ নিয়েছে! যা কোনো মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচরণ হতে পারে না। আগেই বলেছি, ফেইসবুকে আর যাই করা যাক না কেনো, কাউকে স্পর্শ করা যায় না। তাই মানুষ ফেইসবুকে যা কিছুই করুক, কেউ কারো আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারছে/পারে না। অন্যদিকে পাছে লোকে কিছু বলে--এ সংশয়ও আর দানা বাঁধে না। ফেইসবুক ব্যবহারকারী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অসঙ্গতি প্রকাশ করছে নিয়মিত। এতে করে মানুষ বাস্তবজীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একধরনের ফেইসবুকীয় জীবনযাপন করছে, যা এক অর্থে জীবনের সমান্তরাল জীবন, সত্তার সমান্তরাল সত্তা!
আত্মীয়-অনাত্মীয় ফেইসবুক
মাত্র এক যুগ পেরিয়েই ফেইসবুক হয়ে উঠেছে গণমঞ্চ। যেখানে মানুষ তার নিজস্বতা চর্চা করতে পারে সহজেই। আর ফেইসবুকও অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা দূর করে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। মানুষ স্বতন্ত্র প্রয়োজনে ফেইসবুক ব্যবহার করছে। ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ও ব্যবহার অনুযায়ী সৃষ্টি হচ্ছে আলাদা স্তর। আর পৃথিবীব্যাপী চিন্তার ভিন্ন ভিন্ন স্তরকে এক করছে ফেইসবুক। সেখানে ঐকমত্যের মিথস্ক্রিয়া ঘটছে; ঘটছে উল্টোটাও। গবেষকরা বলছে, তিনটি প্রেরণা থেকে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। এক. সামাজিক বিষয় ও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, দুই. সম্পর্ক রক্ষা করা ও তিন. আত্মপ্রচার।১ অন্যদিকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা খোঁজা ও অন্যের দৃষ্টিগোচরে আসার প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।২
ফলে মাধ্যমহীন যোগাযোগ অপেক্ষা সম্পর্ক রক্ষায় ফেইসবুকের ব্যবহার এখন বেশ জোরালো। এর মধ্য দিয়ে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে নিজেদের খবরাখবর। আবার সম্পর্কে অবনতি ঘটলে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমও হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই ফেইসবুক। একদিকে সামাজিকীকরণ ও সম্পর্ক রক্ষায় ফেইসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরুদ্ধ মত, অন্যের দুর্বল তথ্য প্রকাশেও। ফলে যেকোনো সম্পর্কে সঙ্কট প্রতীয়মান হওয়াটাও সহজ হয়ে গেছে। মানুষ আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুলে যাচ্ছে ‘কে আপন কে পর’। জোনাথন ফোয়ার-এর মতে, ‘সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটা পদক্ষেপ আমাদের আবেগময় উপস্থিতিকে এড়িয়ে যাওয়া সহজ করে দিয়েছে, যেখানে মানবিকতা জানানোর চেয়ে তথ্য দেওয়া সহজ।’৩ এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনে সামাজিক মাধ্যমের তিন ধরনের প্রভাব লক্ষ করা যায়--
এক. মানুষের মধ্যে অনলাইন যোগাযোগের মিথ্যে ও অগভীর সম্পৃক্ততা এবং বাহ্যিক বন্ধুত্বকে জিইয়ে রেখে তাদের মানসিক বৈকল্য ত্বরান্বিত করে। দুই. পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নিয়ে আসক্ত করে ফেলে। এর ফলে সামাজিক দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং অসামাজিক আচরণ বেড়ে যায়। তিন. এসব মাধ্যম অপরাধীদের জন্য একটা হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে, যা খুব সহজে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্ম সম্পাদন করা যায়। এক্ষেত্রে জটিল মানসিক সমস্যার সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার সংযোগ বিদ্যমান।৪
অথচ মানবিকবোধ টিকিয়ে রাখতে অনুভূতির আদান-প্রদান জরুরি। জরুরি একজন আরেকজনকে স্পর্শ করা, সম্পর্কের বোঝাপড়া। সেক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলা হলেও মানবিক সমাজের যে গন্ধ সেটা কিন্তু ফেইসবুকে নেই। ফেইসবুক নেশায় বুঁদ হয়ে সম্পর্ক রক্ষার আড়ালে মানসিক বৈকল্যই বাড়ছে। ড. ডেভিলা’র মতে, ‘খুদে বার্তা, তাৎক্ষণিক বার্তা ও সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ কিশোর-কিশোরীদের আরও বেশি উদ্বেগপ্রবণ করে তোলে, যা পরবর্তী সময়ে হতাশায় পরিণত হয়।’৫ মাত্রাতিরিক্ত ফেইসবুক ব্যবহারে একটা আসক্তির সৃষ্টি হয়। নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে আসক্তি উদ্বেগে রূপ নিয়ে থাকে। যা চরম হতাশার ভিত্তি গড়ে দেয়। ফেইসবুকে প্রতিনিয়ত কী ঘটছে, নতুন কী এলো, কী গেলো--এমন তাড়না থেকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এমনটা ভাবে যে, তার চারপাশে সম্ভবত সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, সে কিছুই করতে পারছে না, নতুন কিছু থেকে সে বঞ্চিত হলো, যা আপনা-আপনি উদ্বেগের জন্ম দিয়ে থাকে। একই সঙ্গে অতিশয় চিন্তিত কোনো ব্যক্তি ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তা প্রশমনের চেষ্টাও করে। চেষ্টা করে মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনের। যার ফলে এমন স্ট্যাটাসও চোখে পড়ে, ‘আজ আমার মায়ের অপারেশন, সবাই দোয়া করবেন’, ‘আমার দাদু আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, সবাই দোয়া করবেন, তিনি যেনো জান্নাতবাসী হন’!
বলার অপেক্ষা রাখে না, ফেইসবুক বিশাল এক জনপরিসর। ব্যক্তির চিন্তাভাবনা প্রকাশে কিংবা আত্মপ্রচারে ফেইসবুক অন্যতম মাধ্যম। যেখানে ব্যবহারকারী প্রত্যেকে স্বতন্ত্রভাবে জনপরিসরে মিশে যায়। নিয়মিত ব্যবহারে এই পরিসরে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিকে অনেকটা নিজের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। একসময় বাস্তব আর ভার্চুয়ালের পার্থক্য ভুলে ব্যক্তি নিজেকে গুলিয়ে ফেলে ভার্চুয়াল জনপরিসরে। নিজেকে খুঁজে পেতে ব্যক্তির মধ্যে মানসিক চাপ ও দায়বোধ সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি বুঝে উঠতে পারে না নিজেকেই। এই উদ্বেগ, মানসিক চাপ, হতাশা সবটাই যে ভার্চুয়াল, তা সে উপলব্ধি করতে পারে না। নিয়মিত ব্যবহারকারী নিজেকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে মিথ্যে ও অগভীর সম্পৃক্ততায়। যেখানে আদতে তার কোনো দায়বোধ থাকার কথা নয়। এমনকি কখনো কখনো পারিবারিক-সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনবোধ থেকে দূরে সরে যায় ব্যক্তি। ফলে কখনো কখনো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অনেক সময় হতাশার সৃষ্টি করে। আবার হতাশা কাটিয়ে উঠতে ব্যক্তি প্রশান্তি খোঁজে ইন্টারনেটেরই বিভিন্ন সাইটে। যে সাইটগুলো হয়তো তাকে ক্ষণস্থায়ী প্রশান্তি দেয়। তবে ভার্চুয়াল জগতে সৃষ্ট হতাশা ভার্চুয়ালি ঘোচাতে চাইলে, সেই প্রভাব কিন্তু বাস্তবেও থেকে যায়। এর ফলে ভার্চুয়াল-বাস্তব উভয় ক্ষেত্রে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জাগে। ক্রমশ আত্মবিধ্বংসী হয়ে ওঠার প্রবণতাও বাড়ে। কেননা যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানসিক সমস্যার সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার সংযোগ রয়েছে।
ফেইসবুক ও একজন সাবিরা
বর্তমান সময়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে, লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং আত্মহত্যা করার বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তরুণ মডেল সাবিরা হোসাইনের আত্মহত্যার ঘটনাটি বাংলাদেশে অন্যতম একটি আলোচিত বিষয়। যা নাড়া দেয় অনেককেই। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে ফেইসবুক নিয়ে। ঘটনাটি ২৪ মে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের। ফেইসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সাবিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, সাবিরা চাকু হাতে বার বার পেটে ও গলায় চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যর্থ হয়ে ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ, আপাতত। ওকে, নেক্সট অ্যাটেম্প নেবো।’ পরদিন ঢাকার মিরপুরের রূপনগরের বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নয় মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তখন ভাইরাল হয়।
আত্মহত্যার আগে সাবিরা ফেইসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাসটিতে নির্ঝর সিনহা রওনক নামের এক আলোকচিত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেন, ‘আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না। এটা তোমার ছোটো ভাই প্রত্যয়কে বলা। সে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আর আমার প্রশ্ন হলো, তোমার কি একটুও ফিল হয়নি?’ শেষে রওনককে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। যদি আমি মারা যাই, তাহলে এর দায় তার।’ এছাড়াও ওই স্ট্যাটাসে তিনি আরো যা লেখেন, তাতে শারীরিক সম্পর্ক এবং পরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। সাবিরার ফেইসবুক লাইভে আসা, আত্মহত্যার চেষ্টা ও পরে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার, এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি কেস স্টাডি হিসেবে ধরে নানা প্রশ্ন তোলার জন্যই মূলত ফেইসবুক ও অন্যান্য বিষয়ে এই আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে।
হে পথিক, হাত বাড়িয়ে দাও
মানসিক অবসাদজনিত কারণে নিজ আত্মাকে চরম কষ্ট-যন্ত্রণা দেওয়া, স্বেচ্ছায় নিজের জীবনের সব কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো--আত্মহত্যাকে সাধারণ অর্থে এভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে অনেক রাষ্ট্রে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় আত্মহত্যাকে। আবার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও আত্মহত্যা মহাপাপ। যেকোনোভাবেই বিবেচনা করি না কেনো আত্মহত্যা নিঃসন্দেহে সাধারণ কোনো ঘটনা নয়; শুধুই একটি মৃত্যু নয়। এর পিছনে থাকে অনেক ধরনের বাস্তবতা, নানাবিধ কারণ। সাবিরার আত্মহত্যার ঘটনাটি যতোটা না নাড়া দেয়, তার চেয়ে বেশি ভাবায় তার এই সিদ্ধান্তের পিছনের বাস্তবতা। মনের মধ্যে উশখুশ করে এর পিছনের গল্পটা কী হতে পারে। অচেতনে অনেকগুলো প্রশ্ন ওঠে, কেনো তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো? আত্মহত্যার আগে তিনি ফেইসবুকে স্ট্যাটাসইবা দিলেন কেনো? কেনোইবা তাকে ফেইসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে হয়? তিনি যদি আত্মহত্যাই করবেন, তো এভাবে ঘটা করে জানানোর কী দরকার ছিলো? সাবিরার বাস্তবজীবনের পরিসরে নিশ্চয় বন্ধু, পরিবার, স্বজন ছিলো; তাদের কারো কাছে তার কষ্টের কথা না বলে কেনো ভার্চুয়াল পরিসরে জানাতে হলো? কেনো তিনি ফেইসবুককে ‘আপন’ করে ভাবলেন? আর ফেইসবুকের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধনটাইবা কোথায়? তবে কি সাবিরা বাস্তবজীবনের চেয়ে ভার্চুয়ালেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন? তাই যদি হয়, তবে তার জীবনে নিশ্চয় কোনো শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিলো। যা তাকে বাধ্য করেছিলো ভার্চুয়ালে নির্ভরশীল হতে। এই শূন্যতা সৃষ্টির পিছনের কারণইবা কী? তবে কি সাবিরা বাঁচতে চেয়েছিলেন? তাকে কি আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি।
আত্মহত্যার আগে সাবিরার ফেইসবুক স্ট্যাটাস এবং ফেইসবুক লাইভ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা হয়, নির্ঝরের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হয়তো তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সামগ্রিকভাবে বিষয়টিকে দেখলে আরো নানা বিষয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে মনে হয়েছে। তার সন্ধানও পাওয়া যায় সাবিরার আত্মহত্যার পর অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন৬ থেকে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সাবিরার বয়স যখন সাড়ে তিন বছর তখন তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। দুবাই প্রবাসী বাবা প্রথমদিকে তার ভরণ-পোষণ দিলেও পরে তা বন্ধ করে দেন। সাবিরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করলেও তা শেষ করতে পারেননি। এই পর্যায়ে পেশা হিসেবে তিনি বেছে নেন মডেলিং। এর পাশাপাশি তিনি অল্প পরিসরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনাও করতেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তাতেও। তার মডেলিং করা নিয়ে পরিবারে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আত্মহত্যা করার পাঁচ-ছয় মাস আগে এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াও হয় সাবিরার। একপর্যায়ে তিনি প্রেমিক নির্ঝরকে স্বামী পরিচয় দিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নেন। নির্ঝর নিজ বাড়িতে থাকলেও সাবিরার কাছে তার যাওয়া-আসা ছিলো নিয়মিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, একটা সময় নির্ঝরকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন সাবিরা। এতে কোনো কাজ না হলে নির্ঝরের বাসায় পর্যন্ত গিয়ে তিনি বিয়ের কথা বলেন। বাসায় গেলে তাকে বের করে দেন নির্ঝরের ছোটোভাই প্রত্যয়। যদিও বাসা থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি সাবিরার স্ট্যাটাস থেকেই জানা যায়।
ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে দেখার চেষ্টা করলে বোঝা যায়, সাবিরার আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে নির্ঝর ছিলেন সর্বশেষ অনুষঙ্গ মাত্র। তার বেড়ে ওঠার যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়াই অনেক জটিলতায় ভরা। প্রথমত, সাবিরা মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ দেখেন। বাবা প্রবাসী হওয়ায় তার একমাত্র আশ্রয় ছিলেন মা। মা হয়তো নানা কারণে সেভাবে মেয়েকে সময়ও দিতে পারেননি। যদি এমন হয়ে থাকে, তবে ‘মা’ নামক আশ্রয়টুকুও পাননি সাবিরা। অথচ একটি শিশুর কাছে তার পরিবার তথা বাবা-মায়ের বিকল্প নেই। সাবিরার সেই লাইভ ভিডিওতে করা দুজনের মন্তব্যে (কমেন্ট) বিষয়টি পরিষ্কার হয়। মেহরীন মৌ নামে সাবিরার স্কুল বান্ধবী লিখেছেন,
... ও (সাবিরা) প্রায় আসতো আমার বাসায়। আমি নিজের হাতে ওকে খাইয়ে দিতাম। ও আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো, ওর মা-বাবা ওকে কোনোদিন খাইয়ে দেয়নি। ও নাকি কোনোদিন আমার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
তাহমিনা আফরিন নামে আরেকজন মন্তব্য করেন,
আমি ওকে (সাবিরা) ওর স্কুল জীবন থেকে চিনি। ওর পরিবার থেকে ও যা পেয়েছে, তা যেনো আর কারো সাথে না হয়। কিন্তু এতোকিছুর পরও [ও] সবকিছু খুব শক্তভাবে পার করেছে। মানসিকভাবে খুব শক্ত মানুষ টুসি [যতোদূর সম্ভব এটা সাবিরার ডাকনাম]। বাচ্চা একটা ছোটোবোনের মতো করতো আমার সাথে। শুধু একটু ভালোবাসার ছায়া খুঁজতো। একটুখানি আদর করলে দুনিয়া এনে তার পায়ের কাছে রাখতো ও।
এ থেকে বুঝতে কষ্ট হয় না, পারিবারিক পরিবেশ বলতে যা বোঝায় সাবিরা তার কিছুই পাননি। পরিবার নামক আশ্রয়টি তার ছিলো না। অথচ একটি শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, সুস্থ বিকাশে পারিবারিক স্পর্শ, জীবনবোধের শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে বুকে জড়িয়ে বাবা-মায়ের স্পর্শ, আদর করে খাওয়ানোর সঙ্গে পরিচিত-ই হননি সাবিরা। অথচ ফ্রয়েডিয়ান ধারায়, কোনো শিশু বড়ো হয়ে কী ধরনের ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে, সেই বীজ তার শৈশবেই নিহিত থাকে। মানুষের শৈশবই তার ভবিষ্যতের মানসিক অবস্থার জন্য দায়ী।৭ জন্মের প্রথম দিন থেকেই শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠতে থাকে। এরপর ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রতিটি স্তরে অচেতনে জমানো প্রবণতাগুলো পরবর্তী সময়ে নানাভাবে প্রকাশ পায়। অর্থাৎ শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই ব্যক্তি নিজেকে মূল্যায়ন করতে, সম্পর্কের মূল্যায়ন করতে শেখে। অচেতনে জমানো অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করে ব্যক্তিত্বের কাঠামো। সিগমুন্ড ফ্রয়েডের এই চিন্তাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়েছেন বৃটিশ মনোবিজ্ঞানী জন বলবি। তার মতে, শিশুর বেশিরভাগ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে দেয় পরিবার। কোনো ব্যক্তির সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া নির্ভর করে ব্যক্তি কেমন পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে তার ওপর। সম্পর্ক নির্মাণ ও রক্ষায় প্রথম, প্রধান ও স্পষ্ট ধারণা শিশু পরিবার থেকেই পায়। এই সময় শিশুর আশ্রয় বলতে মা-বাবা, পরিবেশ বলতে কেবল মা-বাবার সৃষ্ট পরিবেশই বোঝায়।৮ তাই মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক এবং মা-বাবার মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তাই ব্যক্তিত্ব বিকাশে মায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক শিশুর সহজাত প্রয়োজন; যা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। সন্তানের বেড়ে ওঠায় মায়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, অনুপস্থিতির প্রভাব অতিমাত্রায় লক্ষণীয়। এমনকি মায়ের ব্যক্তিত্ব ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যও শিশুর ওপর পুরোদমে ভর করে। মায়ের সম্পর্কচ্ছেদ, হতাশা কিংবা দৃঢ় মানসিকতা সবকিছুর ছাপ সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে যথেষ্ট।
সাবিরা অল্পবয়সেই তার মা-বাবার সম্পর্কচ্ছেদ দেখেন। পড়ালেখায় ছেদ ঘটায় স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়ায় তার বেড়ে ওঠা ও সাংস্কৃতিক চর্চাটাও খানিকটা আলাদা হওয়া স্বাভাবিক। আবার শেষাবধি মায়ের সঙ্গে সম্পর্কেও সাবিরার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে বার বার তিনি শুধু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই দেখেছেন, গড়া দেখেননি। যা হয়তো তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে প্রতিনিয়ত; পার্থক্য করেছে তার সংস্কৃতি, সম্পর্ক, জীবনবোধে।
আবার মডেলের যে জীবন সাবিরা বেছে নিয়েছেন, সেখানেও ‘বন্ধু’র অর্থ কেবলই ‘প্রতিযোগী’। এ জীবন টিকে থাকে পেশার আদলে শরীর-নির্ভর উষ্ণতায়। নারী-খোলস থেকে বেরিয়ে আত্মপরিচয়ে পরিচিত হওয়ার বাসনাই মডেলিং, যাকে পুঁজিবাদেরই সর্বোচ্চ চর্চার একটা রূপ বলা যায়। যেমনটা চলচ্চিত্র গবেষক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘... পণ্যের প্রসার-প্রচারের জন্য করপোরেশনগুলোর প্রতিনিয়ত দরকার হয় সুন্দর দেহের নতুন নতুন নারীমুখ ...। একই নারী (দেহ) র্যাম্প, সিনেমা, সিরিয়ালে যুক্ত হয়ে তারকা-ইমেজ বলবৎ রাখে এবং পণ্যের মডেলিংয়ে নারীর বিক্রিমূল্য অটুট রাখে।’৯ তার মানে বলা যায়, নারীকে পণ্যকরণ, নারীর বিক্রিমূল্য নির্ণয়, নারীর সৌন্দর্য ও শরীর-নির্ভর প্রতিযোগিতাই মডেলিং। অন্যদিকে নির্ঝর একজন স্বাধীন (ফ্রিল্যান্সার) আলোকচিত্রী। যেখানে কাজের স্বাধীনতা থাকলেও অর্থের পরাধীনতা, অনিশ্চয়তা থাকে। এই অনিশ্চয়তায় প্রতিযোগিতার মাত্রা আরো তীব্র হয়।
পেশা হিসেবে সাবিরার মডেলিং কিংবা নির্ঝরের ফ্রিল্যান্সিং দুটোই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুই পেশায় টিকে থাকাটা যতোটা সহজ ভাবা হয়, এর পিছনের বাস্তবতা কিন্তু তা বলে না। যে কারণে সাবিরা হয়তো একাধারে পরিবার, বন্ধু, পেশা কোনোটাই ঠিকভাবে পাননি। শেষমেশ নির্ঝরও দাঁড়াতে পারেনি তার আশ্রয় হয়ে। কিংবা এমনও হতে পারে, হয়তো নির্ঝর ভেবেছেন, সাবিরার প্রতি তার প্রত্যাশা/চাহিদা শেষ হয়েছে। সাবিরা এখন তার কাছে নিষ্প্রয়োজন! সাম্প্রতিক নারী-পুরুষের অনেক সম্পর্কেই যা দেখা যায় আর কী। যেখানে সম্পর্কগুলো তৈরি হচ্ছে পারস্পরিক চেনাজানা, বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার আগেই। যে সম্পর্কগুলোতে একধরনের অসত্য/নকল/মিথ্যা গভীরতা তৈরি হয়। অথচ মানবিক সম্পর্কের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে মিথস্ক্রিয়া, তা ঠিক হয়ে ওঠে না। অন্যদিকে পারিপার্শ্বিক নানা কারণে, নানা জটিলতায় এসব সম্পর্কে মুখ্য হয়ে ওঠে শরীর। একদিকে সম্পর্কের পরিপক্কতা না থাকা, অন্যদিকে শরীর-প্রধান হওয়ায় এসব সম্পর্কে একটা শূন্যতা থেকেই যায়। যে শূন্যতার কারণেই একসময় সম্পর্ক সম্পর্কেই বিতৃষ্ণা চলে আসে। আবার যৌনতা নিয়ে সমাজ জীবনে, পরিবারে সাধারণত যে লুক্কায়িত মিথ তৈরি করে রাখা হয়েছে, তা স্বাভাবিক যৌন-সম্পর্ক সম্পর্কে একটা নেতিবাচক শিক্ষা দিয়ে থাকে।
সাবিরা হয়তো একটা আশ্রয় চেয়েছিলেন; নিরাপদ একটা সম্পর্ক; একটু নিশ্চয়তা। যাকে অবলম্বন করে অন্তত বেঁচে থাকা যায়। পরিবার যখন সেই জায়গাটুকু দিতে ব্যর্থ হয়, তখন ব্যক্তি নিজের তাগিদে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নির্ভরতার জায়গা খোঁজার চেষ্টা করে। কাউকে কখনো ভালো লাগলে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করে তাকে। যদি কোনো কারণে তা না পায়, সে ভীষণ রকমের হতাশ হতে পারে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, জড়াতে পারে অন্য সম্পর্কেও। কিন্তু নিজেকে নিঃশেষ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত সহজে নিতে পারে না। কারণ মানুষ কখনোই নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অসঙ্গতিকে মনে রাখতে চায় না। যেমনটা ফ্রয়েড বলেন, মানুষের ‘মরণ প্রবৃত্তির মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আত্মবিনাশ ও এর মনস্তাত্ত্বিক রূপ হচ্ছে মৃত্যু কামনা। তবে সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে জীবন প্রবৃত্তি শক্তিশালী হওয়ায় মরণ প্রবৃত্তির ক্রিয়াকলাপ প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্য করা যায় না এবং মানুষ তার মৃত্যু কামনা সম্পর্কে সচেতন থাকে না।’১০ মানুষ সারাক্ষণ তার চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকে। প্রতিটি মানুষ তাই-ই করে, আশ্রয় খোঁজে, নিরাপত্তা খোঁজে। কখনো নিজের সংহার প্রত্যাশা করে না। কিন্তু সাবিরা যখন কোনো আশ্রয়ই পাচ্ছিলেন না, তখনই হয়তো তিনি নির্ঝরকে বিয়ের চাপ দেন। সব হারানো সাবিরা নির্ঝরের কাছেও অবহেলিত হন। এর ফলে সম্পর্ক সম্পর্কেও তার একটা নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। কারণ ব্যক্তি যখন মানসিকভাবে একাকিত্ব বোধ করে, পরিবার-সমাজের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়, টানাপড়েনটা তখনই হয়। চরম সঙ্কট মুহূর্তেও ব্যক্তি যখন পারিবারিক সমর্থন পায় না; পায় না কোনো বন্ধুর সহযোগিতা; পরিস্থিতিই তখন তাকে বাধ্য করে চরম সিদ্ধান্ত নিতে।
আগেই বলেছি, প্রতিটা মানুষই নিরাপদ আশ্রয় চায়, চায় একটা নির্ভরতার সম্পর্ক, যেখানে আশ্রয় করে নিজেকে ঢেলে সাজানো যায়। পরিবার-সমাজ-সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন সাবিরা সেই আশ্রয়ই হয়তো খুঁজেছেন ফেইসবুকে। হয়তো এই ভেবে যে, ফেইসবুকের বিশাল জনপরিসরে তার কষ্টের কথা জানালে, কেউ না কেউ পাশে দাঁড়াবেই! তার আশ্রয় হয়ে তাকে আগলে রাখবে। কিন্তু সাবিরা উপলব্ধি করতে পারেননি, বাস্তব আর ভার্চুয়ালের ফারাক কতোটা নির্মম; তার ফেইসবুক লাইভ কেবলই ‘অন্যের পৈশাচিক বিনোদনের’ খোরাক হতে পারে মাত্র। হয়তো সাবিরাকে কেউ কখনো প্রকৃত জীবনের গল্পই শোনায়নি, বলেনি জীবনবোধের কথা। জীবনের অর্থ কী, ভালোবাসা-বন্ধন-সম্পর্ক কী, একটা সম্পর্ক নষ্ট হওয়া মানেই যে সব শেষ নয়; কোনো আঘাতের মানে যে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়, ফুরিয়ে যাওয়া নয়, পুনরায় নবরূপে প্রদীপ জ্বেলে প্রত্যাশার আলোয় বাঁচা যায়--এসব বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণাই হয়তো তিনি পাননি। হয়তো তিনি মানসিকভাবে শক্ত ছিলেন; কিন্তু একাকিত্ব যাকে গ্রাস করে, তার পক্ষে জীবন প্রবৃত্তিকে আর কতোদিন শক্ত করে ধরে রাখা সম্ভব? কারণ কোনো কিছুই তখন আর মানুষকে নাড়া দেয় না, স্পর্শ করে না কারো দগদগে ঘা! ফলে ক্রমশ ‘সাবিরা’ নামক গল্পের পরিবেশ চলে যায় প্রতিকূলে। ছোটো হয়ে আসে পরিসর। ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। বন্ধ হয়ে যায় দম!
এবেলা তোর ঘরের খবর জেনে নে রে মন
এখন প্রশ্ন, সাবিরা কি আসলেই মরতে চেয়েছিলেন? উত্তর হ্যাঁ কিংবা না, দুটোই হতে পারে। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে আরেকটি স্বীকারোক্তি হলো, আমরা সাবিরাকে বাঁচাতে পারিনি। সাবিরা কিন্তু তার জীবনের কথাগুলো বলতে চেয়েছিলেন, পারেননি। তার চারপাশ তাকে সেই পরিসর দেয়নি। আমরা কেউ সাবিরার কথা শুনিনি, শোনার চেষ্টাও করিনি। সাবিরা চেয়েছিলেন তার সমস্যাটাকে জানান দিতে, অস্তিত্ব বজায় রাখতে। কিন্তু পারেননি। সে দায় আমাদের। সাবিরা বাধ্য হয়ে ভার্চুয়াল জগতে তার কথা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু সাবিরা হয়তো জানতেন না সেই জগতের সীমাবদ্ধতার কথা। অবশ্য আমরাই তাকে তা জানার সুযোগ করে দিইনি।
উল্টো করে ভাবলে, আত্মহত্যার চেষ্টার মধ্য দিয়ে সাবিরা কিন্তু বাঁচতে চেয়েছিলেন। অনেকগুলো চিহ্ন দিয়ে তিনি জানান দিয়েছেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অসঙ্গতিগুলোকে; চেয়েছেন আমরা যেনো তাকে বোঝার চেষ্টা করি। পড়ার চেষ্টা করি তার মানসিক অবস্থা। হাজারো অসঙ্গতিপূর্ণ পৃথিবীতে, চরম সঙ্কট মুহূর্তে আমরা কেউই তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিইনি। প্রযুক্তি আমাদের সেই জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে মানবিকবোধগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে। কোনো কিছুই আর আমাদের স্পর্শ করে না; দাগ কাটে না। কিন্তু মানুষের সমাজ নিশ্চয় এভাবে টিকে থাকতে পারে না; পারবে না তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। সম্ভবত, এখনই সময় আমাদের আরেকটু সচেতন হওয়ার; মানবিক যোগাযোগ বাড়ানোর; প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে জীবনের কথা বলার। সাবিরার দিক থেকে হয়তো সেই ইঙ্গিতই এসেছে।
লেখক : মো. হারুন-অর-রশিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ডট রিপোর্ট-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
harunmcj25@gmail.com
https://www.facebook.com/profile.php?id=100005362547107
তথ্যসূত্র
১. আমেদি, জ্যাকব; ‘সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব’; অনুবাদ : মো. ফাহাদ হোসেন; প্রতিচিন্তা; সম্পাদনা : মতিউর রহমান; বর্ষ ৮, সংখ্যা ১, জানুয়ারি-মার্চ ২০১৮, ঢাকা, পৃ. ৩৪।
২. প্রাগুক্ত; আমেদি (২০১৮ : ৬৬)।
৩. প্রাগুক্ত; আমেদি (২০১৮ : ৬৪)।
৪. প্রাগুক্ত; আমেদি (২০১৮ : ৬৪)।
৫. প্রাগুক্ত; আমেদি (২০১৮ : ৬৭)।
৬.https://goo.gl/FTHuPy; retrieved on 08.10.2018
৭. মিত্র, মাধবেন্দ্রনাথ (২০০৯ : ৭৬-৮৫); ‘মনঃসমীক্ষণ’; নির্বাচিত ধ্রুবপদ-২; সম্পাদনা : সুধীর চক্রবর্তী; গাঙচিল প্রকাশন, কলকাতা।
৮. জন বলবি’র অ্যাটাসমেন্ট থিওরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন https://goo.gl/EMqVsV, https://goo.gl/t3AXYF I https://goo.gl/bDJEeN লিঙ্ক থেকে।
৯. হক, ফাহমিদুল (২০১১ : ৫১); “আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ ও সুন্দরী প্রতিযোগিতার রাজনৈতিক অর্থনীতি”; অসম্মতি উৎপাদন; সংহতি প্রকাশন, ঢাকা।
১০. মঞ্জুর আহ্মদ ও অন্যান্য (১৯৯২ : ২৩); মনঃসমীক্ষণ অভিধা; ইমপিরিয়্যাল বুকস, রাজশাহী।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন