মোহসিবা মোস্তারী
প্রকাশিত ১৯ মে ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
মৃত্যুপুরীতেও ‘কাসাব্লাঙ্কা’ দিয়ে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখান কার্টিজ
মোহসিবা মোস্তারী

শিল্প দিয়ে সমাজ দর্শন
যুগে যুগে সংঘটিত হয়েছে নানা যুদ্ধ-সংঘাত; তা কখনো প্রকাশ্যে কখনো অন্তরালে। যার পিছনের কলকাঠি নেড়েছে মানুষই। মানুষে মানুষে সৃষ্ট যুদ্ধে এক পক্ষের তুলনায় আরেক পক্ষ শক্তিশালী হলে সেই যুদ্ধ হয় মৌন। তবে এতে শক্তিশালী পক্ষের আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। অন্যদিকে এই যুদ্ধ-সংঘাত অশান্তি বয়ে আনলেও তা কখনো চিরস্থায়ী হয়নি। যেমনটা অন্ধকার আকাশের বজ্রপাতের মধ্যে শুরু হয় নির্মল বৃষ্টি, সেই বৃষ্টিতে সিক্ত হয় পৃথিবী। তেমনই কালের তরঙ্গাঘাতে অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে আসে বাঁধভাঙা প্রতিবাদ। তখন যুদ্ধ-সংঘাত আর কলহ শেষে ফিরে আসে এক সহানুভূতিশীল ভালোবাসাপূর্ণ সময়। আবার সেই মানুষই ভালোবাসার বন্ধনে গড়ে সুন্দর এক পৃথিবী। অত্যাচারীদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পুনরায় পৃথিবী হয় পরিশুদ্ধ, মুক্তি পায় মানবতা। পুনরায় নেমে আসে নির্মলতা। তবে বিপদাপন্ন সময় কিন্তু পিছু ছাড়ে না। ফিরে আসে বার বার স্বরূপে। আর তা মোকাবিলার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হয় সমাজের সচেতন মানুষদের। যেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই।
তবে অনিন্দ্য পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টা খুব বেশি মানুষের থাকে না। তাই হয়তো কালে কালে যুদ্ধ-মহাযুদ্ধের দামামা বাজে--শুনতে হয় লক্ষ কোটি মানুষের আর্তনাদ! তবে এর মধ্যেও অল্প সংখ্যক হলেও শিল্প-সাহিত্য-সমাজ সচেতন মানুষরা স্বপ্ন দেখে নির্মল-শান্তিময় পৃথিবীর; জীবনভর কাজের মাধ্যমে তা গড়ার চেষ্টাটাও করে যায় স্বপ্নের তালে। তারা শিল্পকর্মের মধ্যে লালন করে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। যেসব শিল্পকর্মে নিহিত থাকে একান্তই মানুষের গল্পকথা; সেখান থেকে মানুষও স্বপ্ন দেখে, শত কষ্টের মধ্যেও বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পায়। সেই অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে তাদের শিল্পকর্ম যুগে যুগে হয়ে থাকে স্মরণীয়। তেমনই এক শিল্পকর্ম মাইকেল কার্টিজ (Michael Curtiz) নির্মিত চলচ্চিত্র কাসাব্লাঙ্কা। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে সারা দুনিয়ায় যখন বাতাসে বাতাসে গোলাবারুদের গন্ধ, চারদিকে মানুষের আর্তনাদ, বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, মানবতার চরম বিপর্যয়, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে কার্টিজ নির্মাণ করেন কাসাব্লাঙ্কা।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে কাসাব্লাঙ্কা নির্মিত হলেও এতে নেই যুদ্ধের কোনো ডামাডোল। বরং সমালোচকরা একে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রেমের চলচ্চিত্র বলে পরিচয় দিতেই পছন্দ করে। সারাবিশ্বে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি লেখালেখি হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে। এর সাদা-কালো চিত্রায়ণের মাধুর্য আজও হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এই আলোচনাটি কাসাব্লাঙ্কা এবং এর স্রষ্টা কার্টিজকে নিয়ে।
ধূসর পথ ধরে কার্টিজের জীবন যাত্রা!
হাঙ্গেরিয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চলচ্চিত্রনির্মাতা মাইকেল কার্টিজের জন্ম এক ইহুদি পরিবারে; ২৪ ডিসেম্বর ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে এখনকার হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে। চলচ্চিত্র ইতিহাসে সমধিক ফলপ্রসূ নির্মাতা কার্টিজের বাবা ছিলেন ছুতার এবং মা অপেরা সঙ্গীতশিল্পী। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা কার্টিজ এক সাক্ষাৎকারে বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একটা অপ্রশস্ত কামরায় আবদ্ধ ছিলো আমাদের পরিবার। আর সেখানেই ছোট্ট একটা ঘরে দুই ভাই ও এক বোন মিলে আমরা থাকতাম। বেশিরভাগ সময়ই আমাদের ক্ষুধার্ত থাকতে হতো।
অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হলেও কার্টিজের পরিবারে শিল্পের আবহটা ছিলোই। যার সুবাদে ছোটোবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি তার একধরনের ভালোলাগা কাজ করতো। বিশেষ করে থিয়েটারের প্রতি তার ঝোঁক ছিলো প্রচণ্ড। সেই ভালোলাগা একসময় রূপ নেয় ভালোবাসায়, নেশায়। মাত্র আট বছর বয়সেই পাঁচ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ছাদেই কার্টিজ গড়ে তোলেন ছোট্ট এক থিয়েটার। বন্ধুরা সেখানে মঞ্চসজ্জা, সেট নির্মাণের কাজ করতো, আর কিশোর কার্টিজ দিতো নির্দেশনা।
মাধ্যমিক শেষ করা কার্টিজ কলেজের গণ্ডি পার করেন মাত্র ১৯ বছর বয়সে। এরপর ভর্তি হন মার্কোসি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে কলেজ পেরিয়েই তিনি একটি ‘ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার কোম্পানি’তে অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজে যোগ দেন। কিন্তু সেখানে বেশিদিন থাকা হয় না কার্টিজের। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন সার্কাসের অভিনয়শিল্পী হিসেবে। কিছুদিনের মধ্যে সার্কাস ছেড়ে যোগ দেন অন্য একটি ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার কোম্পানিতে। এই কোম্পানিতে টানা কয়েক বছর কাজ করেন তিনি। এই সময়ে তিনি ইসবেন ও শেক্সপিয়রের নাটক বিভিন্ন দেশে নানা ভাষায় প্রদর্শনের সুযোগ পান। ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের নানা জায়গায় অভিনয় করার সুবাদে কার্টিজ পাঁচটি ভাষা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেন। সেসময় কার্টিজকে নানাধরনের কাজও করতে হতো--বিল পোস্টার তৈরি, ছাপানো, সেট নির্মাণ এমনকি অডিটরিয়ামের চেয়ার গোছানো। দলের সঙ্গে কার্টিজকে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হতো ট্রেনে, আবার কখনো মঞ্চ সাজানোর মালামাল বহন করা গাড়িতে। তাদের অভিনয় করতে হতো কখনো অডিটরিয়ামে, কখনো রেস্তোরাঁয়, এমনকি খোলা মাঠেও।
১৯১২ খ্রিস্টাব্দে নিজের নাম কিছুটা পরিবর্তন করে মিহলি কার্টিজ নামে তিনি জাতীয় হাঙ্গেরিয়ান থিয়েটারে যোগ দেন। একই বছরে তিনি হাঙ্গেরিয় প্রথম কাহিনিচিত্র পরিচালনা করেন; যার ইংরেজি নাম টুডে অ্যান্ড টুমরো। যেটির প্রধান চরিত্রে ছিলেন তিনি নিজেই। ওই বছরেই কার্টিজ তার দ্য লাস্ট বোহিমিয়ান নির্মাণ করেন। সেই সঙ্গে হাঙ্গেরিয়ান খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্কটহোমে অলিম্পিক গেমসেও যোগ দেন তিনি। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে নির্বাক চলচ্চিত্রে কাজ করার তাগিদে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বসবাস শুরু করেন। এই সময়ে এসে প্রথমবারের মতো তিনি চলচ্চিত্রবিষয়ক পড়াশোনা করতে যান ডেনমার্কের ‘নরডিক্স স্টুডিও’তে। সেখানে সফল নির্মাতা ও প্রযোজক অগাস্ট ব্লোম-এর সহকারী পরিচালক এবং অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করেন ডেনর্মাকের প্রথম একাধিক রিল বিশিষ্ট কাহিনিচিত্র অ্যাটলানটিস-এ।
১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে কার্টিজ হাঙ্গেরিতে ফিরে এক বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। এর আগে রাশিয়া ফ্রন্টে যুদ্ধ করে তিনি আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কার্টিজ বলেন--
জীবনের মাতাল আনন্দ বাধাগ্রস্ত হয়েছিলো, পৃথিবী হয়েছিলো পাগল ...। আমাদেরকে হত্যা করতে শেখানো হয়েছিলো। আমি পড়েছিলাম সাম্রাজ্যবাদী সেনাবাহিনীর হাতে ...। এরপর অনেক ঘটনা ঘটে যায়--ধ্বংস, হাজার হাজার হত্যাযজ্ঞ, বেনামীদের কবরে পাঠানো। তারপর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, আর ভাগ্য আমাকে বাঁচিয়ে দেয়।
যুদ্ধের সময় হাঙ্গেরিতে রেডক্রসের তহবিল সংগ্রহ করার জন্য কার্টিজ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি বুদাপেস্টে ‘ফিনিক্স ফিল্মস’ নামে একটি স্টুডিও গড়ে তোলেন, যেটি সেসময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাঙ্গেরি ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই কাজ করেন। তবে দুর্ঘটনাক্রমে সেখানে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কার্টিজ প্রায় ৪৫টির মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে হাঙ্গেরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা হয়ে ওঠেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে হাঙ্গেরির ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট সরকার। সরকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত নিলে সেসময় কার্টিজ সিদ্ধান্ত নেন ভিয়েনায় গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের।
অবশ্য এর মধ্যে কার্টিজ অল্প সময়ের জন্য জার্মান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোডাকশন কোম্পানি ইউ এফ এ-তে কাজ করেন। সেখানে তিনি রপ্ত করেছিলেন কীভাবে অনেক লোক দিয়ে কাজ করা যায়, জটিল গল্প তৈরি এবং রোমান্টিক থিম তৈরির মতো বিষয়। এই সময় কার্টিজ কাজ করার সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ান নির্বাক ও সবাক চলচ্চিত্রের গোড়ার দিককার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আলেকজান্ডার কলয়ারত-এর সঙ্গে। যিনি সাসচা (Sascha) নামে সুপরিচিত। প্রকৃত অর্থে এখানে এসে চলচ্চিত্র সম্পর্কে কার্টিজের ধারণাই পাল্টে যায়। এ বিষয়ে কার্টিজ পরে লিখেছিলেন, ‘চলচ্চিত্রশিল্পের মৌলিক কলাকৌশলগুলো আমি সেখানেই শিখেছিলাম।’
যাহোক, ওই সময়ে অন্যান্য দেশের চেয়ে ভিয়েনার চলচ্চিত্র ছিলো বেশ উন্নত। কার্টিজ সেখানে ‘বাইবেল’-এর বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পরে একে একে নির্মাণ করেন সোডম অ্যান্ড গোমোরাহ (Sodom and Gomorrha, ১৯২২), মুন অব ইসরাইল (১৯২৪), রেড হিলস, দ্য গোল্ডেন বাটারফ্লাই-এর মতো চলচ্চিত্র।
এই সময়ে কার্টিজ দুই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে বেশি ঝুঁকে পড়েন--পরিশীলিত কমেডি ও ঐতিহাসিক দর্শন। ইতোমধ্যেই মুন অব ইসরাইল দৃষ্টিগোচর হয় জ্যাক লিওনার্দো ওয়ার্নার ও হ্যারি মরিস ওয়ার্নার ভ্রাতৃদ্বয়ের। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে শুধু কার্টিজ ও তার চলচ্চিত্র দেখার জন্য আমেরিকা থেকে ইউরোপে আসেন ওয়ার্নাররা। জার্মান অ্যাক্সপ্রেশনইজম দ্বারা প্রভাবিত কার্টিজের সৃষ্ট অনন্য ভিজ্যুয়াল স্টাইল, উচ্চ ক্রেন শট্, অস্বাভাবিক ক্যামেরা কোণ ওয়ার্নারদের প্রচণ্ডভাবে আকৃষ্ট করে। এছাড়া কার্টিজের চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মেলোড্রামা, চরিত্রের নানা দ্বন্দ্ব ও নৈতিক সিদ্ধান্ত আলোড়িত করে ওয়ার্নারদের। শেষ পর্যন্ত হলিউডে ওয়ার্নাররা যে নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্নার ব্রাদারস’ চালু করেছেন, তাতে কাজের জন্য কার্টিজকে প্রস্তাব দেন। ওয়ার্নার এও ঠিক করেন, পরবর্তী চলচ্চিত্র মহাকাব্যধর্মী নো’জ আর্ক (Noah's Ark) নির্মাণ করাবেন কার্টিজকে দিয়ে। যদিও ইতোমধ্যে ৬৪টি চলচ্চিত্রের নির্মাতা হিসেবে কার্টিজের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তবুও ওয়ার্নারদের প্রস্তাব তিনি হাতছাড়া করেন না।
নির্বাক থেকে সবাক-রঙিন পৃথিবীর পথে কার্টিজ
মাইকেল কার্টিজ জীবনের ৩৮টি বসন্ত ইউরোপে কাটিয়ে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের বসন্তে পাড়ি দেন হলিউডে। যদিও কার্টিজ অভিজ্ঞ নির্মাতা, তারপরও ওয়ার্নাররা তাকে পরামর্শ দেন, নিজেকে ভেঙে কিছু মূলধারার (average-quality) চলচ্চিত্র নির্মাণের। ওই বছরই কার্টিজ হলিউডে নির্মাণ করেন দ্য থার্ড ডিগ্রি। হলিউডে এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ হলেও কার্টিজের অনবদ্য ক্যামেরা কৌশল, অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলস সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
অবশ্য হলিউডে এসে কার্টিজ সর্বপ্রথম ভালোভাবে ইংরেজি ভাষা রপ্তের চেষ্টা করেন। কেননা এই ভাষা দিয়ে তাকে সেখানে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এরই মধ্যে একদিন জ্যাক ওয়ার্নার একটি চিত্রনাট্য কার্টিজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, এটাকে চলচ্চিত্রে রূপ দাও। তখন কার্টিজ বলেন, ‘আমি তো ইংরেজি বলতে পারবো না।’ চিত্রনাট্যটি ছিলো শিকাগো জেলবন্দি ও গ্যাংস্টারদের নিয়ে রোমান্টিক গল্প। আমেরিকার অন্ধকার জগৎ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় কার্টিজ চিত্রনাট্যটি ভালো করে বুঝতে পারেননি। তবে ভাষা ভালোভাবে রপ্ত না থাকলেও চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি সব বিষয় খুব ভালো করেই রপ্ত ছিলো কার্টিজের। তাই হলিউডে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বেগ পেতে হয়নি।
যখন কেউ কার্টিজকে প্রশ্ন করতো, ‘আপনি তো ভিনদেশি, আমেরিকান চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারেন?’ তখন তিনি বলতেন, ‘পৃথিবীর সব মানুষ প্রায় এক এবং তাদের মানবীয় আবেগ আন্তর্জাতিক।’ অবশ্য হলিউডে কাজ করে কার্টিজ সেটা প্রমাণ করেছেন। হলিউডে কাজ নিয়ে তিনি বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন বলে মনে হয়। তার ভাষায়, এই দেশটা কাজ করার জন্য খুবই সুন্দর, একসঙ্গে কাজ করার অনেক কিছুই পাওয়া যায় এখানে। নির্মাতাকে প্রোডাকশনের বাইরে গিয়ে এখানে কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে অ্যালান ক্রসল্যান্ড হলিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র দ্য জাজ সিংগার নির্মাণ করেন। এর তিন বছর পর কার্টিজ নির্মাণ করেন প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মাম্মি (১৯৩০)। পুরো ১৯৩০-এর দশকে কার্টিজ বছরে গড়ে চারটি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৩৫-এ তার নির্মিত ক্যাপ্টেন ব্লাড শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি অ্যাওয়ার্ড পায়নি। তবে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বিভাগে কার্টিজ পান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট। হলিউডে আসার আগে কার্টিজ সবসময়ই গল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য কৌশল বিকাশের পাশাপাশি গল্পটা যে মানুষের আগ্রহের মূল বিষয়, সেটা তিনি ভালো করেই জানতেন। এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা এরকম--তাকে যদি একটা গল্প দেওয়া হয়, প্রথমে তিনি মানুষের আগ্রহের দিকটা প্রাধান্য দিবেন। তিনি বিশ্বাস করতেন গল্পটা ভালো হলে সেই গল্পের ওপর মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে। কার্টিজ বলতেন, দৃশ্য ধারণের আগে যে কাজটি সবচেয়ে জরুরি তা হলো গল্প তৈরি, এর চেয়ে প্রয়োজনীয় আর কিছু নেই। মূলত একজন নির্মাতা কাজ করে আর্মির জেনারেলের মতোই। একজন নির্মাতার তার চলচ্চিত্র সম্পর্কে এতোটাই পরিচ্ছন্ন ধারণা থাকা দরকার, যা অন্যদের থাকে না। এছাড়া কার্টিজ কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণের আগে সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটা বিষয়ের ওপর। যখন তিনি হলিউডে যোগ দেন, তখনো তার দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্যাপ্টেন ব্লাড, দ্য অ্যাড্ভেনচ্যার অব রবিন হুড (১৯৩৮)-এর মতো চলচ্চিত্রকে জনপ্রিয় করে তোলেন কার্টিজ।
শুধু একজন বড়ো নির্মাতা নন, মানুষ হিসেবেও কার্টিজ ছিলেন বড়ো মনের। চলচ্চিত্রশিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো এবং কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ‘ইউরোপীয় চলচ্চিত্র ফান্ড’ গঠন করা হলে কার্টিজ তাতে আয়ের কিছু অংশ দান করে দেন। এর আগে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দেই অবশ্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। শুরুতে কার্টিজের চলচ্চিত্রগুলো অর্থনৈতিকভাবে খুব একটা সফলতা পায়নি। ১৯৪০-এর দশককে কার্টিজের চলচ্চিত্র জীবনের স্বর্ণযুগ বলা যায়। কেননা এই দশকে নির্মিত তার চলচ্চিত্রগুলো সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত ও ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। এ সময় তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে--দ্য সি হক (১৯৪০), ড্রাইভ বোমার (১৯৪১), দ্য সি উলফ (১৯৪১), কাসাব্লাঙ্কা (১৯৪২), ইয়াঙ্কি ডোডল ড্যান্ডি (১৯৪২), দিস ইজ দ্য আর্মি (১৯৪৩), মিলড্রেড পিয়েরস (১৯৪৫), লাইফ উইথ ফাদার (১৯৪৭)।
পার্ল হারবার আক্রমণের কয়েক মাস আগেই মুক্তি পায় ড্রাইভ বোমার (১৯৪১)। চলচ্চিত্রটি সময়োপযোগী হওয়ায় দর্শক তা ভালোভাবে গ্রহণ করে। এটি ছিলো ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং সে বছরের আলোচিত ছয়টি চলচ্চিত্রের একটি। পরের বছর রয়্যাল কানাডিয়ান বিমানবাহিনী নিয়ে কার্টিজ নির্মাণ করেন ক্যাপ্টেন অব দ্য ক্লাউডস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়, ঠিক তখনই ওয়ার্নার ব্রাদার্স ব্যয়বহুল এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেয়। এটিও ড্রাইভ বোমার-এর মতো সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একই বছর কার্টিজ গায়ক, নৃত্যশিল্পী, সুরকার জর্জ এম কোহানকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণ করেন সংগীতবিষয়ক চলচ্চিত্র ইয়াঙ্কি ডোডল ড্যান্ডি। এই চলচ্চিত্রে একই সঙ্গে তিনি দেশপ্রেম, সঙ্গীত, নৃত্যের সমন্বয় ঘটান। চলচ্চিত্রটি সমকালীন বক্স অফিসের ইতিহাসে সেরা ব্যবসা করে। ইয়াঙ্কি ডোডল ড্যান্ডি অস্কারের নয়টি বিভাগে মনোনীত হয়ে চারটিতে জিতে নেয়।
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কার্টিজ নির্মাণ করেন কাসাব্লাঙ্কা, যা হলিউডের সুবর্ণ যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত। এটি অস্কারে আটটি শাখায় মনোনয়ন পেলেও জিতে তিনটি। কার্টিজ সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতে নেন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্বদেশপ্রেম নিয়ে নির্মাণ করেন দিস ইজ দ্য আর্মি। আমেরিকা তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িত, আর এই চলচ্চিত্রটি জনগণ ও সৈন্যদের মনোবল অটুট রাখতে সাহায্য করে। চলচ্চিত্রটিতে নাচ, গান, রোমান্স, বিনোদনসহ যুদ্ধে সাহস জোগানোর অনেক উপাদানই ছিলো। সবমিলিয়ে চলচ্চিত্রটি সেসময় ব্যবসাসফল হয়।
এই সময় কার্টিজ মিশন টু মস্কো নামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে একটি প্রোপাগান্ডা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সেসময়ের মার্কিন সরকারের জোরালো সমর্থন ছিলো। তবে প্রথম দিকে চলচ্চিত্রটি সমালোচকরা গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে কার্টিজ খুব বেশি বিতর্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, পরে কার্টিজ রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই সিদ্ধান্তে তিনি শেষ পর্যন্ত অটল ছিলেন।
কার্টিজ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে আলোচিত অভিনয়শিল্পী উইলিয়াম পাওয়েল ও আইরেনি ডুইন’কে নিয়ে পারিবারিক কমেডি দ্য লাইফ উইথ ফাদার নির্মাণ করেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অস্কারে চারটি মনোনয়ন পায়। কার্টিজের চলচ্চিত্র সম্পর্কে চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ পিটার ওয়েলেন বলেন, কার্টিজের প্রায় সব চলচ্চিত্রেই উঠে এসেছে অবিচার, নিপীড়ন, নির্বাসন এবং স্থানচ্যুতির চিত্র। চলচ্চিত্রের জন্য সঠিক শৈলী খুঁজে পাওয়ার এক অবিশ্বাস্য ক্ষমতা ছিলো কার্টিজের মধ্যে।
১৯৫০-এর দশকে এসে কার্টিজ চলচ্চিত্র নির্মাণ কমিয়ে দেন এবং বছরে দুইটি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে থাকেন। এ সময়ে তিনি জীবনধর্মী, কমেডি ও সঙ্গীতনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এই দশকে নির্মিত আলোচিত চলচ্চিত্রের মধ্যে আই উইল সি ইন মাই ড্রিমস (১৯৫১), দ্য স্টোরি অব উইল রজার্স (১৯৫২), হোয়াইট ক্রিসমাস (১৯৫৪), কিঙ ক্রিওলে (১৯৫৮) অন্যতম। কার্টিজ নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র দ্য কম্যান্সেরোস (The Comancheros) মুক্তি পায় তার মৃত্যুর ছয় মাস আগে। চলচ্চিত্রটি শুটিংয়ের সময় কার্টিজের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তখন তার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন অভিনয়শিল্পী জন ওয়েন। কিন্তু ওয়েন অবশ্য কখনোই সহ-নির্মাতার কৃতিত্ব চাননি। শেষ কয়েক মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ১১ এপ্রিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে কার্টিজ পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।
চলচ্চিত্রের এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ পরিমিতিবোধ সম্পন্ন ছিলেন। শরীর সুস্থ রাখার জন্য তিনি নিয়মিত খেলাধুলা করতেন। কাজ-পাগল এই মানুষটি কাজের সুবিধার্থে দুপুরে খেতে চাইতেন না। তিনি মনে করতেন, দুপুরের খাবার শরীরকে অলস করে তোলে। তাই তিনি অনেক সময় অভিনয়শিল্পীদেরও দুপুরের খাবার বন্ধ করে দিতেন। কার্টিজের কর্মক্ষমতা নিয়ে তার সহকর্মী ও বন্ধু ওয়ালিস বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কার্টিজ ছিলেন দৈত্যের মতো। তিনি ভোর পাঁচটা থেকে রাত আট-নয়টা পর্যন্ত স্টুডিওতে টানা কাজ করে যেতেন। কার্টিজের এহেন আচরণে বন্ধুরা তাকে ‘আয়রন মাইক’ বলে ডাকতো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বছরের পর বছর ধরে বড়ো বড়ো সাফল্য ও সম্পদ নিয়েও বিলাসিতার ভাড়ে নিজেকে কার্টিজ কখনোই নিমজ্জিত হতে দেননি।
১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে অভিনয়শিল্পী লুসি ডোরেইন’কে বিয়ে করেন কার্টিজ। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন লিলি ডামিটা’কে (১৯২৫-১৯২৬)। লিলির সঙ্গেও তার দাম্পত্য সম্পর্ক স্থায়ী হয় না। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বেস মেরেডিথ-এর সঙ্গে ঘর বাঁধেন কার্টিজ এবং আমৃত্যু বেসের সঙ্গেই ছিলেন।
কাসাব্লাঙ্কার কথা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর স্থল, নৌ, আকাশপথে আক্রমণের বিপরীতে মিত্রবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো ইউরোপ। যে যেদিকে পারে জীবন নিয়ে ছুটতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। সারাবিশ্বে যুদ্ধের দামামা ছড়িয়ে পড়লেও একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। তাই অবরুদ্ধ ইউরোপ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের পথে ছুটতে থাকে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পথটা সহজ ছিলো না। বিভিন্ন দেশ ঘুরে যেতে হতো সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা।
অনেকের মতো যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য কাসাব্লাঙ্কায় আশ্রয় নেন এলসা ও তার স্বামী ভিক্টর। আর সেখানেই এক ক্যাফেতে এলসার দেখা হয় সাবেক প্রেমিক রিক-এর সঙ্গে। রিক সেই ক্যাফের মালিক। কাসাব্লাঙ্কায় দিনের পর দিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার অপেক্ষায় থাকেন এলসা ও তার স্বামী। তারা মূলত নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে। অন্যদিকে এলসাকে দেখে রিকের পরিচিত অনেকেই চিনতে পারে এবং সেখানে একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রিক-এলসার প্রেম চলাকালীন তারা দুজনও অবশ্য অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যাওয়ার সময় স্টেশনে আসেন না এলসা। সেই অভিমানে অনেক বছর পর দেখা হয়েও ভালো করে কথা বলতে চান না রিক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে যে ভিসার প্রয়োজন, তার জন্য একমাত্র ভরসার জায়গা রিক। যদিও নানাভাবে ভিক্টর ভিসার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন।
এমনই এক রাতে ভিক্টর বাইরে গেলে এলসা চুপিসারে দেখা করতে যান রিকের সঙ্গে এবং সেখানে তাদের মান-অভিমানের পালা শেষ হয়। রিকের কাছেই সমাধান চান এলসা, এখন তার করণীয় কী? তার আচরণে খানিকটা বোঝা যায়, রিকের কাছেই চিরদিনের মতো থেকে যেতে চান এলসা! এদিকে সেনাবাহিনী ভিক্টরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রিক উদ্ধার করে আনেন ভিক্টরকে। এছাড়া এলসা ও ভিক্টরের যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার সব ব্যবস্থাও করেন রিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিকের সঙ্গে এলসা থেকে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে রিককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি আমাকে সমাধান করতে বলেছিলে, আর এটাই আমার কাছে ঠিক মনে হয়েছে।’ শেষে এলসা-ভিক্টরকে বিদায় জানান রিক। চরম সঙ্কটময় সময়েও মানুষের মনে ভালোবাসা সজাগ থাকে, তার ক্রিয়া অবিরত চলে--তারই প্রকাশ দেখা যায় কাসাব্লাঙ্কায়।
লেখক : মোহসিবা মোস্তারী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প
ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
mohsibamostary@gmail.com
পাঠ সহায়িকা
রহমান, মুম (২০১০); বিশ্বসেরা ৫০ চলচ্চিত্র; ভাষাচিত্র, ঢাকা।
https://marocmama.com/the-real-story-of-casablanca-in-1942/; retrieved on: 31.07.18
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন