Magic Lanthon

               

পায়েল কাপাডিয়া; ভূমিকা ও ভাষান্তর : রীতা জান্নাত

প্রকাশিত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

‘দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মিডিয়াতেই নারীদের পরস্পরের শত্রু হিসেবে দেখানো হয়’

পায়েল কাপাডিয়া; ভূমিকা ও ভাষান্তর : রীতা জান্নাত

ভূমিকা

পায়েল কাপাডিয়া সমকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য স্বর। তার কাজ নীরব অথচ গভীরভাবে রাজনৈতিক, সংবেদনশীল ও তীক্ষ্ন। ব্যক্তিগত স্মৃতি, নারীর অন্তর্জগৎ, শহরের রূপান্তর এবং সময়ের সাবজেক্টিভ অনুভূতিকে তিনি এমনভাবে একসূত্রে বেঁধে দেন যে, তার চলচ্চিত্রভাষা একইসঙ্গে কবিতাময় ও সমালোচনামূলক হয়ে ওঠে। মুম্বাই তার নিজের শহর, তবুও সেই শহরের সঙ্গে তার সম্পর্ক দ্বান্দ্বিকনিজের শহর অথচ সম্পূর্ণ যেনো নিজের নয়। এই অবস্থানের কারণেই দূর থেকে শহরকে দেখা ও ফিরে এসে বদলে যাওয়া রূপ আবিষ্কার করার অভিজ্ঞতা তার কাজে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। নগরায়ণ, সমুদ্রভূমি ভরাট, বদলে যাওয়া স্কাইলাইনএসব তার কাছে কেবল প্রেক্ষাপট নয়; বরং এক পরিবর্তনশীল চরিত্র, যার ভেতরে মানুষের স্মৃতি ও অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকে।

পায়েল কাপাডিয়া পুনের ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া’য় চলচ্চিত্রশিক্ষা নিয়েছেন। সেখানে পড়াশোনার সময় আন্দোলন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক টানাপড়েনের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এই রাজনৈতিক সজাগতা তার শিল্পচর্চায় স্পষ্ট হলেও তা কখনো সরাসরি স্লোগানে পরিণত হয় না; বরং স্মৃতি, চিঠি, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনের সূক্ষ্ম বয়ানে প্রকাশ পায়। ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হন। সাহিত্য, ব্যক্তিগত নোট, স্থিরচিত্র ও বাস্তব পর্যবেক্ষণএসবের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। বাস্তব ও কল্পনার সীমানা ভেঙে সময় ও স্মৃতিকে দৃশ্যমান করার আকাক্সক্ষাই তাকে চলচ্চিত্রের দিকে টেনে আনে।

এখন পর্যন্ত তিনি দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। প্রথমটি আ নাইট অব নোয়িং নাথিং (২০২১); যেখানে ব্যক্তিগত চিঠি, আর্কাইভাল ফুটেজ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে এক ‘স্মৃতির সিনেমা’। চলচ্চিত্রটি কান ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রদর্শন হয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসাও কুড়ায়। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট (২০২৪) এ নগরজীবনে নারীদের বন্ধুত্ব, সামাজিক বৈধতার প্রশ্ন এবং অভ্যন্তরীণ নিঃসঙ্গতাকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তার চরিত্রেরা আত্মবিশ্বাস ও অনিশ্চয়তার মিশ্র সত্তাযেখান থেকে জন্ম নেয় একধরনের অস্বস্তিকর অথচ মানবিক হাস্যরস। পূর্ণদৈর্ঘ্যরে পাশাপাশি তিনি একাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন।

তার নান্দনিকতায় চিত্রশিল্পী ভুপেন খাখর [ভারতীয় আধুনিক চিত্রশিল্পী, যিনি মধ্যবিত্ত জীবন, কুইয়ার অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নময় বর্ণনাশৈলীর জন্য পরিচিত) এর প্রভাব লক্ষণীয়। খাখরের চলচ্চিত্রের মতোই তার চলচ্চিত্রে ন্যারেটিভ, স্বপ্ন ও কুইয়ার, জেন্ট্রিফিকেশন এবং প্রান্তিক জীবনের মমতাময় উপস্থিতি রয়েছে।

কাপাডিয়ার চলচ্চিত্রে সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি সময়কে কেবল গল্প বলার ধারক হিসেবে দেখেন না; বরং এক অভিজ্ঞতামূলক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার কাজ ধীর, অন্তর্মুখী ও প্রশ্নময়; কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও কোমল দৃঢ়তা। তিনি সম্পর্কের বৈধতা-অবৈধতার সামাজিক কাঠামো, শহরের রূপান্তর, সময়ের অভিজ্ঞতা ও নারীদের আন্তঃপ্রজন্মীয় বন্ধনের ভেতর দিয়ে এক জটিল মানবিক ভূগোল নির্মাণ করেন। তার চলচ্চিত্রে ব্যক্তিগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বাস্তবতাদুটিই পাশাপাশি থাকে, যেমন থাকে হাস্যরস ও বেদনার সহাবস্থান।

পায়েল কাপাডিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে তার শিল্পদর্শন, কর্মজীবনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রতিটা সাক্ষাৎকারে পায়েল কাপাডিয়ার শিল্পদর্শন স্পষ্ট। তার মধ্য থেকে দুটি সাক্ষাৎকার ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর পাঠকের জন্য ভাব-ভাষান্তর করা হলো।

তার প্রথম সাক্ষাৎকারটি মূলত নিউ ইয়র্ক ও প্যারিস কেন্দ্রিক অনলাইন চলচ্চিত্রবিষয়ক প্লাটফর্ম ‘Le Cinéma Club’-এ ২২ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্নাল ‘Interview Magazine’ ওয়েবসাইটে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রকাশ করা হয়। এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শাহামত উদ্দিন।

প্রথম সাক্ষাৎকার

ল্য সিনেমা ক্লাব : আপনার চলচ্চিত্রে [অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট] তিনজন নারীর চরিত্রে বন্ধুত্ব যেমন উষ্ণ ও প্রাণবন্ত, তেমনি তাদের জীবনের কষ্টও গভীর। বিশেষ করে পুরুষদের নিয়ে তাদের খুনসুটি; যারা কিনা অদৃশ্যভাবে তাদের জীবনকে তাড়া করে বেড়ায়। এই দ্বৈত সুর কি শুরু থেকেই চিত্রনাট্যে ছিলো, নাকি শুটিংয়ের সময় সেটা যুক্ত করা হয়েছে?

পায়েল কাপাডিয়া : আমি এমন চরিত্র নির্মাণ করতে ভালোবাসি, যাদের ভেতরে একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাস ও তীব্র অনিশ্চয়তা কাজ করে। এ এক অদ্ভুত সহাবস্থান; যেটা আমার মধ্যেও আছে। এই দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সময় হাস্যরসের জন্ম হয়। একটু অপ্রস্তুত, খানিকটা অস্বস্তিকর মানুষদের কথাবার্তা কিংবা প্রতিক্রিয়ায় যে অচেতন কৌতুক তৈরি হয়, সেটাই আমাকে টানে। আমি নিজেও অপ্রস্তুত প্রকৃতির মানুষ, এবং অপ্রস্তুততার সৌন্দর্য বহন করে এমন চলচ্চিত্র আমার প্রিয়। যেহেতু হাস্যরসকে আরো গভীরভাবে খোঁজার ইচ্ছেটা আমার বরাবরই ছিলো, ফলে এই টোন আমি শুরু থেকেই নির্ধারণ করেছিলাম।

আমি চার প্রজন্মের নারীর পরিবারে বড়ো হয়েছি। তাদের ভেতর দূরত্ব ছিলো, মতভেদ ছিলো, আবার সম্পর্কও ছিলো। সেখান থেকেই প্রজন্মগত বন্ধুত্ব, ভুল বোঝাবুঝি ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন আমাকে দীর্ঘদিন ধরে ভাবিয়েছে। এই চলচ্চিত্রে প্রায় ৪০ বছর বয়সি এক নারী আছেন; তার সঙ্গি নিখোঁজ। যিনি তাকে কখনো সত্যিকারের ভালোবাসেনইনি, তবু তাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। এর কারণ সমাজ এই সম্পর্কটাকেই ‘বৈধ’ বলে মেনে নেয়। অন্যদিকে চলচ্চিত্রে এমন এক তরুণীও আছে; যে সদ্য প্রেমে পড়ছে, সম্পর্কের একেবারে শুরুতে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে সততা আছে, প্রাণ আছে; কিন্তু, সমাজ সেই সম্পর্কটাকে ‘অবৈধ’ বলে।


এই ব্যবধান আমাকে ভাবায়, বিষণ্ন করে। আমি দেখেছি, কে কার সঙ্গে থাকতে পারবে, পরিবার গ্রহণ করবে কিনা, পরিচিত মানুষজন কি বলবে এসব নিয়ে আমার বন্ধুরা অনেকেই ভীষণ উদ্বেগে ভোগে। পুরুষরাই যেনো এইসব জটিলতার অনিবার্য কেন্দ্রবিন্দু।

ল্য সিনেমা ক্লাব : আপনি বলেছেন নিউ ইয়র্ক ও মুম্বাই এমন কসমোপলিটান শহর, যেখানে মানুষ কেবল উচ্চাকাক্সক্ষার পেছনে ছুটে বেড়ায়; আবার তীব্র জেন্ট্রিফিকেশনের মুখোমুখিও হয়। কেনো এ ধরনের প্রেক্ষাপট আপনাকে টানে?

কাপাডিয়া : আমি মুম্বাইয়ের মানুষ। কিন্তু এই শহরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিছুটা দ্বান্দ্বিক। পরিবার মুম্বাইয়ের হলেও আমি সেখানে বড়ো হইনি। ফলে শহরের সঙ্গে শৈশবের যোগ বা অন্তরঙ্গ বন্ধন সেভাবে তৈরিই হয়নি। দীর্ঘদিন পর কাউকে দেখলে হয়তো তার চেহারার পরিবর্তন চোখে পড়েচুল বড়ো হওয়া, ওজন কমা। প্রতিদিন দেখলে হয়তো তা বোঝা যায় না।

শহরের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। কিছুদিন দূরে থেকে ফিরে এলে হঠাৎ আপনি দেখেন আপনার পছন্দের বেকারি উধাও, তার জায়গায় শপিংমল। বাড়ির সামনের রাস্তা হয়ে গেছে হাইওয়ে। যে সমুদ্রতটে সন্ধ্যায় বসে ঢেউ দেখতেন, সেখানে এখন রাস্তা; আপনার সেই বসার জায়গাটাতে এখন বাস দাঁড়িয়ে থাকে। এই পরিবর্তনটা দূরত্বের মধ্যে আরো তীব্রভাবে ধরা পড়ে। না হলে তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যায়।

ফলে মুম্বাই আমার শহর, আবার পুরোপুরি আমার নয়ও। এই দূরত্ব থেকেই আমি তার বৈপরীত্যগুলো বুঝতে চেয়েছি। গত ২০ বছরে জেন্ট্রিফিকেশন দৃশ্যমানস্কাইলাইন বদলে গেছে, এমন কি সমুদ্র ভরাট করে শহরের ভৌগোলিক আকৃতিও বদলানো হচ্ছে। ধরে নিলাম, জায়গার প্রয়োজন আছেকিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, সেই নতুন জায়গার এক্সেস কারা পাবে?

ল্য সিনেমা ক্লাব : এই চলচ্চিত্রে দুটি ভিন্ন সময়বোধ আছেমুম্বাইয়ের দৃশ্যগুলো ব্যস্ত, আর সমুদ্র তটের দৃশ্যগুলো শান্ত। শুটিংয়ে ‘সময়’ কীভাবে কাজ করে?

কাপাডিয়া : চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে আমরা সময়কে একপ্রকার কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সময়ের ব্যক্তিগত অনুভূতিটাই আমাকে টানে। একঘেয়েমির সময় আর ব্যস্ততার সময়দুটোই আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। চলচ্চিত্র নির্মাণে সময় যেনো আমাদের আরেকটি সরঞ্জাম। দর্শকের সামনে আমরা যে সময় উপস্থাপন করি, সেটাই তাদের অভিজ্ঞতাকে নির্মাণ করে।

ল্য সিনেমা ক্লাব : কাজ শুরু করার সময় প্রথমে আপনার মাথায় কী আসে; গল্প, চরিত্র, শব্দ, না চিত্র?

কাপাডিয়া : আমার কাছে চরিত্রই প্রথম। আমি তাদের আকাশে ভাসমান বস্তু হিসেবে কল্পনা করি, তারপর চেষ্টা করি তাদের একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করতে। কখনো কখনো চলচ্চিত্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন দৃশ্যও লিখি। শুধু দেখতে চাই দুটি চরিত্র একত্র হলে কী হয়! স্থানও আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, মিজ-অঁ-সেন; চরিত্র ও স্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাকে টানে। শহর বা প্রেক্ষাপট চরিত্রের সঙ্গে কথা বলে।

ল্য সিনেমা ক্লাব : আপনার মতে এমন শিল্পী কে, যিনি যথেষ্ট মূল্যায়ন পান না, এবং কেন?

কাপাডিয়া : ভুপেন খাখর। ভারতে তিনি পরিচিত, কিন্তু বিশ্বব্যাপী আরো বেশি পরিচিত হওয়া উচিত ছিলো। তিনি ভারতের প্রথম দিককার প্রকাশ্য সমকামী শিল্পীদের একজন। তার চিত্রকর্মে গল্প, প্রেম, স্বপ্ন সব মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তরুণদের তার কাজ আবিষ্কার করা উচিত। তিনি একজন চমৎকার লেখকও।

ল্য সিনেমা ক্লাব : বর্তমান জীবনের কোন বিষয়টি আপনার শৈশবের নিজেকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করতো বলে আপনি মনে করেন?

কাপাডিয়া : ছোটোবেলায় আমি লেখালেখিতে তেমন আগ্রহী ছিলাম না। নিজেকে বেশি ভিজ্যুয়াল ভাবতাম। কিন্তু এখন লেখাই আমাকে স্থিরতা দেয়। শব্দের ভেতর আমি শান্তি খুঁজে পাই।

ল্য সিনেমা ক্লাব : প্রিয় চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক কোনটি?

কাপাডিয়া : Wong Kar-wai-এর Fallen Angels

ল্য সিনেমা ক্লাব : এই সাক্ষাৎকারটি আপনি কোন ধরনের চিত্র বা অনুভূতির মাধ্যমে শেষ করতে চান?

কাপাডিয়া : Marc Chagall-এর Quai de Bercy


দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার

শাহামত উদ্দিন : প্রথমেই এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য ধন্যবাদ। চলচ্চিত্রটি টরেন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম দেখেছিলাম, সকাল নয়টার প্রেস স্ক্রিনিংয়ে।

কাপাডিয়া : সকাল নয়টা তো একেবারেই নিষ্ঠুর সময়!

শাহামত : তবুও দিনটা সুন্দরভাবে শুরু হয়েছিলো। তবে গতরাতে নিউ ইয়র্কেও ফিল্ম ফোরামে চলচ্চিত্রটি আবার দেখলাম। রাতের আবহে চলচ্চিত্রের নকটার্নাল সুরটা যেনো আরো গভীর লাগলো। আমার পরিবার বাংলাদেশের সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছে; গ্রাম ও শহরের যে টানাপড়েন, চলচ্চিত্রে তার সাযুজ্য পেয়েছি। আপনার নিশ্চয় বছরটা অসাধারণ কেটেছে। তো এখন কেমন লাগছে আপনার?

কাপাডিয়া : নিজের চোখেই তো দেখছেন। আমি কোন টাইম জোনে আছি জানি না। এক শহর থেকে আরেক শহরে শুধু কথা বলেই চলেছি।

শাহামত : এক বছর আগে কি কল্পনা করেছিলেন এমন সময় আসবে?

কাপাডিয়া : একেবারেই না। আমাদের চলচ্চিত্রের পেছনে বড়ো কোনো বিপণন ব্যবস্থা নেই। সমালোচকদের লেখনী আর চলচ্চিত্র উৎসবের সমর্থনই চলচ্চিত্রকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ভারতে তো আরো কঠিন। দুটি ব্লকবাস্টার বলিউড চলচ্চিত্রের মাঝখানে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক লেখা অনেক বড়ো সহায়তা।

শাহামত : শুনেছি এই চলচ্চিত্রের ভাবনা এসেছে অনেক আগেহাসপাতালে অসুস্থ স্বজনদের দেখতে যাওয়া থেকে। আপনার সৃজনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

কাপাডিয়া : প্রতিটি চলচ্চিত্রের প্রক্রিয়া আলাদা। এই চলচ্চিত্রের [অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট] ক্ষেত্রে সময় নিয়েছি। প্রথম পৃষ্ঠা লিখেছিলাম যখন আমি ফিল্ম স্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাই লেখার জন্য কিছুটা সময় ছিলো, আবার বাধ্যবাধকতাও। কারণ স্ক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। আমি একটু ‘নার্ড’ ধরনের; মাথার মধ্যে কেউ ডেডলাইন দিলে ভালো কাজ হয়।

শাহামত : আপনার কাজের জায়গাটা কেমন?

কাপাডিয়া : একটি ভালো পৃষ্ঠার জন্য অন্তত পনেরোটি খারাপ পৃষ্ঠা লিখি। সকাল নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শুধু লিখি, অনেক কফি খেতে খেতে। লেখাই আমার সবচেয়ে প্রিয় অংশ। বিকেলে গবেষণা করি, সিনেমা দেখি, মানুষের সঙ্গে কথা বলি। দুপুরে ঘুম পায়, তখন লেখা কঠিন।

শাহামত : আপনি নিজেকে ‘হোপলেস রোমান্টিক’ বলেন। সিনেমায় প্রেম যেমন আছে, তেমনি নারী বন্ধুত্বেও এক গভীর রোমান্স রয়েছে। কান উৎসবে আপনার বক্তব্যে নারী বন্ধুত্বের শক্তির কথা বলেছিলেন। কী দেখাতে চেয়েছিলেন?

কাপাডিয়া : দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মিডিয়াতেই নারীদের পরস্পরের শত্রু হিসেবে দেখানো হয়। টেলিভিশনে এতো নারীবিদ্বেষ দেখায় যে, মাথা ধরে যায়। সমাজ নারীদের বন্ধুত্বকে ভয় পায়, কারণ যদি তারা একত্র হয়ে পিতৃতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে! তাই আমি এমন এক সম্পর্ক দেখাতে চেয়েছি যা সুস্থ, গ্রহণযোগ্য, অনেকটা ইউটোপিয়ান।

শাহামত : সেই সুস্থ বন্ধুত্বের কোন দিকটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো?

কাপাডিয়া : বন্ধুত্বে কোনো সামাজিক ‘বাগেজ’ নেই। আনু তার প্রেমিককে বাবা-মা না, বন্ধুর কাছে স্বীকৃতির জন্য আনে। প্রভা মেনে নেয়, আবার খুনসুটি করে। আগে সে হয়তো ঈর্ষান্বিত বা হতভম্ব হতো। ঈর্ষা ও মুগ্ধতার এই মিশ্র অনুভূতি বাস্তব। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সমর্থনটাই মুখ্য, যা ভবিষ্যতের লড়াইয়ের শক্তি জোগায়।

শাহামত : মালায়লাম আপনার মাতৃভাষা নয়। তবু এই ভাষায় সিনেমায় নির্মাণ করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

কাপাডিয়া : পাগলামি বলা যায়। আগে হিন্দি ও বাংলায় কাজ করেছি। বাংলা পুরোপুরি না জানলেও বুঝি। কিন্তু, মালায়লাম ভিন্ন শিকড়ের ভাষা; তামিল ও সংস্কৃতের মিশ্রণ। দুই বছর সংলাপ লেখকদের সঙ্গে কাজ করেছি। অনুবাদ করতাম, বন্ধুদের দিয়ে রেকর্ড করাতাম, শুনে শুনে শব্দ বাছতাম। কোনো শব্দ খুব কঠোর শোনালে কোমল প্রতিশব্দ খুঁজতাম। যেনো সঙ্গীত রচনা করছি, শব্দের সুর মিলিয়ে।

শাহামত : ডকুমেন্টারি নির্মাতা হিসেবে আপনার পটভূমি আপনার ব্যবহৃত বিভিন্ন কৌশলে সত্যিই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। চলচ্চিত্রের শুরুটা একেবারে ডকুমেন্টারির মতো মনে হয়, এরপর আমরা ধীরে ধীরে একটা কল্পকাহিনির কাঠামোর দিকে চলে যাই।

কাপাডিয়া : আমি ঘরানার খোপে থাকতে চাই না। ‘এটা কি ফিকশন, নন-ফিকশন’, এই অনির্দিষ্টতা আমাকে টানে। প্রথমে নন-ফিকশন দিয়ে দর্শককে বিশ্বাস করাতে চেয়েছি সব সত্যি। যদিও সবই অভিনয়। ধীরে ধীরে গল্প স্বপ্নের ভেতর ঢুকে যায়, লোককথার মতো। মানুষ তো বহুস্তরীয় বাস্তবে বাস করে; দুঃস্বপ্নও আমাদের দিনের অংশ হয়ে যায়।

শাহামত : চলচ্চিত্রটির আরেকটি অংশ, যা আমার কাছে সত্যিই বিশেষভাবে চোখে পড়েছে, তা হলো এর নাম : অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট। পুরো চলচ্চিত্রজুড়ে আলোকে অত্যন্ত সচেতন ও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। রঙ ও আলোর ব্যবহার নিয়ে আপনার উদ্দেশ্য একটু ব্যাখ্যা করবেন কিকীভাবে শুধু প্রদর্শনই নয়, বরং চলচ্চিত্রের বার্তাকেও এর মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে চেয়েছেন?

কাপাডিয়া : আপনার প্রশ্নে অনেকগুলো বিষয় আছে।

শাহামত : [হাসি] জানি, আমি অনেক প্রশ্নই করে ফেলেছি।

কাপাডিয়া : আমার সিনেমাটোগ্রাফার আর আমি অনেকগুলো টেস্ট করেছি। প্রায় দুই বর্ষা আগে আমরা একটা ছোটো ক্যামেরা নিয়ে মুম্বাই শ্যুট করা শুরু করি; একধরনের ডকুমেন্টারি অনুশীলনের মতো করে; আমরা কীভাবে দেখি সেটা বোঝার জন্য। সেজন্য আমরা দু’জনেই ঘুরে ঘুরে অনেক শ্যুট করেছিলাম। আর আমরা একটা জিনিস লক্ষ করলাম, বর্ষা একটা খুব নির্দিষ্ট সময়। বাংলাদেশে সম্পর্কে যদি ভাবেন, তাহলে আপনারও বর্ষা নিয়ে একই রকম অনুভূতি থাকতে পারে, তাই না? আমার মনে হয় ওখানে একের বেশি মনসুন থাকে, কিন্তু ...

শাহামত : হ্যাঁ, অনেকগুলোই।

কাপাডিয়া : আমাদের এখানে শুধু মনসুন আর নন-মনসুনএই দুইটাই। অদ্ভুত বৃষ্টি, যেটা খুব ঠান্ডাও না; গরম লাগে। একটা ক্লাস্ট্রোফোবিক অনুভূতি তৈরি হয়। চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রেও মনে হচ্ছিলো তারা সবাই একটু যেনো আটকে আছে। তাই আমি মনে করলাম এটা বর্ষা ঋতুর সঙ্গে ভালো যায়। আর যখন আমরা সেই ডকুমেন্টারি শ্যুট করছিলাম, তখন আমরা লক্ষ করলাম, বর্ষায় মুম্বাই পুরোটা নীল হয়ে যায়। কারণ সবকিছু নীল প্লাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া থাকে। অনেকেই এই নিয়ে ফটো সিরিজও করেছে। আমরা এই উজ্জ্বল, প্লাস্টিকের মতো নীল রঙটাকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।

আর দ্বিতীয় ভাগে আমরা রত্নাগিরি নামের একটা জেলায় শ্যুট করেছি; যেখানে মূল ল্যান্ডস্কেপটা ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে তৈরি, যার রঙ টেরাকোটার মতো। আমরা সেই ল্যান্ডস্কেপের বৈশিষ্ট্যটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা লাল-হলুদ রঙের দিকে গিয়েছিলাম। এই ছিলো পুরো চিন্তাভাবনা।

শাহামত : এটা সত্যিই বোঝা যায়। আমি জানি আপনাকে এটা অনেকবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তাই আমাকে ক্ষমা করবেন, কিন্তু অস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনি ১৩ জন পুরুষের ভারতীয় বোর্ড কমিটির সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন, যারা বলেছেন আপনার চলচ্চিত্র যথেষ্ট ‘ভারতীয়’ নয়। তাই আমি জানতে চাই, আপনার কাছে ভারত কী?

কাপাডিয়া : দেখুন, আমি জানি না তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। আমি তো এটাও ঠিকভাবে বলতে পারি না যে, আমরা ‘ভারতীয়’ বলতে আসলে কী বুঝি। ভারতে তো অনেকগুলো ‘ভারত’ আছে। আমাদের দেশটা বিশাল, বৈচিত্র্যময়। মুম্বাইয়ের একটা চলচ্চিত্রের সঙ্গে তামিলনাডুর চলচ্চিত্রের কোনো মিল নেই। পশ্চিমবঙ্গ বা আসামের চলচ্চিত্রের সঙ্গেও কোনো মিল নেই। সবকিছুই এতো ভিন্ন। তাই একটাই ভারত নেই, একটাই ভারতীয় বিষয়ও নেই। আর সেটাই এই দেশের সৌন্দর্য।

পুরস্কার পাওয়া খুব ভালো ছিলো, এই স্বীকৃতিগুলোও ভালো লাগার। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, চলচ্চিত্রটা ভারতে মুক্তি পেয়েছে। কারণ ভারতে চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া মোটেও সহজ নয়। আমি বড়ো বড়ো বলিউড চলচ্চিত্রের মাঝখানে আছি। ভারতে বিতরণ ব্যবস্থাটাই খুব খারাপটিকিটের দাম এতো কম যে, প্রদর্শকেরা ভয় পায় সিনেমা চলবে না, তাই তারা Pushpa 2-এর মতো চলচ্চিত্রই বুক করতে চায়। কিন্তু আমরা আমাদের ছোট্ট সিনেমাটা কোনো মার্কেটিং বাজেট ছাড়াই, কোনো গান-নাচ ছাড়াই, কোনো বড়ো তারকা ছাড়াই মুক্তি দিয়েছি। আর মানুষ সিনেমাহলে গিয়ে সেটা দেখছে। আমার কাছে এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড়ো আনন্দ এটাই।

শাহামত : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের তুলনায় ভারতের দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো?

কাপাডিয়া : দেখুন, এই সিনেমাতে অনেক ‘ইস্টার এগ’ আছে, যেগুলো শুধু ভারতীয়রা বুঝবে, আর কিছু আছে যেগুলো শুধু ভারতীয় নারীরাই বুঝবে। আমি এগুলো খোলাখুলি বলতে পারি না, কিন্তু সেগুলো আছে। সৌভাগ্যবশত মানুষ সেগুলো খেয়াল করেছে। আমি অনেক মেসেজ পাচ্ছি। মানুষের প্রতিক্রিয়া জানার জন্যই আমি ইনস্টাগ্রামে যোগ দিয়েছিলাম, আর আমি সিনেমাটা নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা পেয়েছি। আমি নিজেও যেসব সিনেমা পছন্দ করি সেগুলো নিয়ে লিখতাম, আর নির্মাতাকে লিখেও জানাতামতাই এটা আমার কাছে সত্যিই খুব বিশেষ অনুভূতি।


রীতা জান্নাত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর করেছেন।

jannatulru.mcj@gmail.com

https://www.facebook.com/profile.php?id=100010314337649


প্রথম সাক্ষাৎকারের লিঙ্ক : https://www.lecinemaclub.com/journal/qa-with-payal-kapadia/

দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারের লিঙ্ক : https://www.interviewmagazine.com/film/director-payal-kapadia-on-all-we-imagine-as-light

টীকা

১. কুইয়ার (Queer) : যে সব লিঙ্গ ও যৌন পরিচয় প্রচলিত হেটারোনরমেটিভ কাঠামোর বাইরে; যেমন, সমকামী, উভকামী, ট্রান্সজেন্ডার। তাদের সমষ্টিগত পরিচয় বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার হয়।

২. জেন্ট্রিফিকেশন (Gentrification) : কোনো শহরের পুরনো বা নিম্ন-আয়ের এলাকা ধীরে ধীরে উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তদের দখলে চলে যায়। এর ফলে মূল বাসিন্দাদের ভাড়া বা জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যায়। অনেককে তাদের পুরনো বাড়ি বা এলাকা ছাড়তে হয়। এতে সেই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও কমে যায়।

৩.Marc Chagall, চিত্রশিল্পী। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বেলারুশে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি ফ্রান্সে কাজ করেন। তার শিল্পশৈলী স্বপ্নময় ও প্রতীকধর্মী; ভাসমান মানুষ, প্রেম, ধর্মীয় চিহ্ন ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে তিনি এক অতিবাস্তব আবহ তৈরি করতেন। চিত্রকর্মের পাশাপাশি ভাস্কর্য, স্টেইনড গ্যাস ও মঞ্চসজ্জাতেও তিনি কাজ করেছেন। স্মৃতি, প্রেম, লোকজ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক স্বতন্ত্র নান্দনিক ভাষা।

৪. Quai de Bercy : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি নদীতীরবর্তী সড়ক। সড়কটি সেঁন (ঝবরহব) নদীর তীরে অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকা ওয়াইন গুদাম ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিলো। তবে বর্তমানে এটা আধুনিক স্থাপনা, অফিস ভবন ও সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য পরিচিত।

৫. নকটার্নাল (nocturnal) : এটা এমন এক সুর বা আবহ; যা রাতের নীরবতা, রহস্য, একাকিত্ব বা গভীরতার অনুভূতি বহন করে। সাহিত্য, সঙ্গীত বা চলচ্চিত্রে ‘nocturnal mood’ বলতে সাধারণত অন্ধকার, নীরব, অন্তর্মুখী বা কিছুটা রহস্যময় আবহ বোঝানো হয়।

৬. নার্ড (Nerd) : আগে শব্দটা কিছুটা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হতো। যেমন, সামাজিকভাবে কম মিশুক, কিন্তু পড়াশোনায় খুব ভালো এমন কাউকে বোঝাতে। বর্তমানে এ শব্দটি অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে যখন কেউ নিজের আগ্রহের বিষয়ে খুব দক্ষ, জ্ঞানপিপাসু বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অতিরিক্ত আগ্রহী এমন।

৭. বাগেজ (Baggage) : সাধারণত বাগেজ বলতে বোঝায় ভ্রমণের সময় সঙ্গে নেওয়া জিনিসপত্র, যেমন, স্যুটকেস, ব্যাগ, ট্রলি ইত্যাদি। এখানে রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে অতীতের অভিজ্ঞতা, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যা, যা সে নিজের সঙ্গে বয়ে বেড়ায়।

৮. ক্লাস্ট্রোফোবিক আবহ (claustrophobia) : ক্লস্ট্রোফোবিক আবহ বলতে দমবন্ধ, সঙ্কীর্ণ, চাপে ভরা ও মানসিকভাবে আটকে থাকার অনুভূতি তৈরি করে এমন পরিবেশকে বোঝায়। গল্পের চরিত্ররা যেমন জীবনে আটকে আছে, শহরের এই পরিবেশও তেমন আটকে থাকার অনুভূতি তৈরি করে।

৯. ‘ইস্টার এগ’ (Easter egg) বলতে বোঝায়, গল্প বা ছবির ভেতরে লুকানো ছোটো ছোটো ইঙ্গিত, প্রতীক বা দৃশ্য। যেগুলো সবার চোখে পড়ে না। এই ইঙ্গিতগুলো এমনভাবে রাখা হয় যে, নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা বা সংস্কৃতির মানুষ সহজে সেটা বুঝতে বা অনুভব করতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন