Magic Lanthon

               

তানভীর শাওন

প্রকাশিত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

চৌকোবাক্সের অন্ধকারে গজানো এক ঝোপ বিষাক্ত ছত্রাক

তানভীর শাওন

আদ্যিকালের করা কবিগানে উক্তি, সুরটুকু নয়

এ কালের কথাযুগে ছড়াকাটা-কথকতা, গূঢ়টুকু নয়

তবু তার বাড়ে দাম দুধে-ভাতে আচমকা মঙ্গায়

গৃহবধূ খড়ি ঠেলে গনগনে উনুনে শঙ্কায়

বধূর বিধুর খে’লে ভাতপোড়া গন্ধে, গৃহস্বামী হ’ল যেই ত্যক্ত

রাগতাপে টঙ্কার, ক্ষুধাজালা হুঙ্কার কী কঠিন! কতোখানি শক্ত।

বহুরূপে গড়িয়ান শিল্পকতকের অঙ্গুরীয় পরেই চলচ্চিত্র নামের শিল্পপ্রদর্শনীর খেলাটি তার পর্দা তোলে। দর্শককে জানিয়ে দেয় তার সাধু উপস্থিতি। দর্শকের স্বাদপ্রতিম মননে শিল্প-অমৃতের সিক্ত কণা ঢেলে দেয় অকৃপণতায়। আগ্রহী দর্শক চেখে দেখে, স্বাদ নেয় এবং উপলব্ধি করে, শিল্প আজও নতুন। যেনো মহাকালিক সে শিল্প আজও তার জৌলুস একটুও হারায়নি। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর প্রক্ষেপিত আলোকণার বহমানতায় শিল্প ক্রমাগতই তার ভোল পাল্টায়, পাল্টাচ্ছে। এই যে ভোলটুকুর নতুন স্বাভাবিক উপস্থিতি যুগ-যুগান্তরে, এটুকুই চলচ্চিত্রকে করে তুলেছে অনন্তসম্ভবা কিছু। যেনো তার থেকে নতুন কিছু চাওয়ার এক নীরব চিৎকার অবিরত ধ্বনিত হচ্ছে এ দুনিয়ার কোটি দর্শনপ্রার্থীর অন্তরে। এ চাওয়া যে আজও নিরর্থক হয়ে যায়নি¾এটাই প্রমাণ করে চলচ্চিত্র তো নতুন কিছু দেয়!

   চলচ্চিত্রের এই উষ্ণ ক্রোড়জুড়ে যে শিল্প ক্রমাগত ভূমিষ্ঠ হচ্ছে, কোল আলো করছে, সে শিল্পসৃষ্টির বীজটুকুর কিন্তু একটা জাত থাকে। আছে একটা রকম-সকম। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের মুখে মুখে যে ভাষার কলকলানি, তাদের চলন-বলনের যে বোল, তাদের স্বপ্নে আর চেতনায় যে রঙ আর রূপ খেলে যায়, মোদ্দাকথা তাদেরকে যা বাঁচাতে আশা জোগায় সেসবই কিন্তু তাদের উপযুক্ত শিল্পসৃষ্টির প্রারম্ভ শুরুর প্রেষণা দেয়। শিল্পীরা তাদের সন্ধানী চোখে সেই সপ্তকলার নির্যাসটুকুই ধরে থাকে। এ নির্যাসটুকু সম্বল করেই কিন্তু একজন চলচ্চিত্রনির্মাতা কোনো মূর্তি গড়ায় হাত দেয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর দিনগুলোর দিকে যদি আমরা নজর দিই, সেসবের প্রায় প্রত্যেকটির আখ্যানভাগে নির্মল বাংলার মাঠঘাট, মানুষগুলোর সরস, কোমল মন ও তাদের অনাসক্তিক সব আর্তির প্রতিফলন দেখা যায়। এসবের মধ্যেই যেনো কলাকুশলীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব উপাদান খুঁজে নিয়েছিলো। এবং দর্শকসমাজও যেনো তাদের অনুরূপ প্রতিকৃতি তাতে খুঁজে পেয়েই যুগ যুগ ধরে তুষ্ট হয়ে আসছিলো। এমনকি বাঙালি সমাজে এই একবিংশ শতাব্দীতেও উন্মুক্ত বিশ্বের উত্তরাধুনিকতার প্রভাব যে পড়ছে না, তা বলা না গেলেও বাঙালির মনের সেই স্বাভাবিক সহজিয়া প্রবৃত্তি যে অনেকটাই বর্তমান, তা বেশ জোর দিয়েই বলা যায়। তাই বাংলা চলচ্চিত্রের গল্পপটের চোখ ছানাবড়া করা যে পরিবর্তনটা ঘটে চলেছে, চারপাশে তা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া গেলেও দু-একটা অতিঘটনা কিন্তু হজম করা প্রায়শই কঠিন হয়ে উঠছে। আমাদেরকে সেরকম কিছুরই স্মরণ করায় টালিগঞ্জের অন্যতম চলচ্চিত্র ছত্রাক-এর প্রি ও পোস্ট রিলিসড্ মেমোরিটুকু।

মৃদুবায়ু আশা লয়ে খুলিনু খানিক বাতায়ন

হঠাৎ ঘুর্ণি বায়ুর ঝোড়ো বেগে হ’ল আগমন

২০১১ খ্রিস্টাব্দে ছত্রাক মুক্তির কয়েক মাস আগে থেকেই প্যারালাল চলচ্চিত্রে আগ্রহী মানুষদের মুখে মুখে বেশ জোরালোভাবে ফলাও হতে থাকে চলচ্চিত্রটির নাম। দর্শক-বোদ্ধাদের উন্মুখতা দেখে পরবর্তী সময়ে লেখক বেশ অবাক হয়েছিলেন। তার অবাক হওয়ার কারণটা নিশ্চয়ই বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শীতা নয়, সে সচেতন পাঠকমাত্রই জেনে থাকবে। তার চমকানোর মূলে ছিলো কোনো বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তির আগেই সেটা নিয়ে এতোটা কানাঘুষা হয় কী করে! কেননা এর আগে লেখক লক্ষ করেছেন, বাংলা চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে ও ইন্টারনেটে উপভোগ করার পরেই মানুষ সমালোচনায় বসে। তবে ছত্রাক কী এমন জাদু ছড়ালো যে, সেই জাদুটোপ অনেকে গিললো তো গিললোই, উপরন্তু তার রেশ যেনো কাটেই না। পৌনে তিন মিনিটের একটা ভিডিও ক্লিপ (সাধারণত যেটাকে পর্ন ক্লিপ বলা হয়) চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই সাইবার দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু কেনো ছড়ালো? এর পিছনে কি জড়িয়ে ছিলো প্রচারণার এক মায়াজালিক টোপ ফেলার অভিসন্ধি, নাকি এটা স্রেফ দুর্ঘটনা? অথবা শিল্পের বিচারে কিংবা বাংলা চলচ্চিত্রের সাবালক হওয়ার গরজে এর কি খুব প্রয়োজন ছিলো, নাকি অন্য কিছু? এমন নানা প্রশ্নের মাথাচাড়ায় দর্শক, বোদ্ধাসমাজের কৌতুহল উসকে উঠতে শুরু করলো। অথচ বহুদর্শী মাত্রই এমন ক্লিপ তো দেখেছে অনেক বিদেশি সু-সমালোচিত চলচ্চিত্রেই। কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রে এবং ঠিক এভাবে, এই হয়তো প্রথম!

   মুক্তির ঠিক পর পরই চলচ্চিত্রটি লেখকের দেখা হয়নি। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পাওয়া ছত্রাক নানা কারণেই লেখকের দেখার কথা নয়। অবশ্য পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে জানার পর এটি নিয়ে দেখার চাপা একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো। সে সূত্রেই একসময় চলচ্চিত্রটি দেখে মনে হলো, এটি নিয়ে আর সবার মতো কিছু বলার আছে। তবে বলার ধরনটা একটু আলাদা। কারণ চলচ্চিত্রটির তথাকথিত সেই ক্লিপিংটা নিয়ে যখন আর সবার মাথাব্যথা, তখন লেখক ভাবছেন অন্য কিছু; সেই ক্লিপিংয়ের গাঁটছড়ায় ‘অনাদর’-এ পড়ে থাকা কাহিনির প্রবাহটুকু নিয়ে। লেখক তখন ভেসে যাচ্ছেন এই অনন্য আলেখ্যের সঙ্গে। সেই সঙ্গে লেখক ভাবছেন, মানুষের অফুরন্ত জীবন-জটিলতার এমনতরো রূপায়নও কী সম্ভব? কেননা, ‘সাধারণ’ দর্শকের চোখে এরকম শৈল্পিক নির্যাসটুকুর ভিন্নধারার উপরিপাতন খুব একটা দেখা যায়নি কখনো। সাম্প্রতিককালেও যে তা অহরহ হচ্ছে তেমনটাও কিন্তু নয়। এরই সঙ্গে লেখকের মনে ক্রমাগত একটি দুঃখবোধ কাজ করে এটা ভেবে যে, শিল্পের বিকাশ কি তথাকথিত ‘অশ্লীলতা’র বপুতে ধামাচাপা পড়ে? তবে কি সেই ‘অশ্লীলতা’ শিল্পের ব্যক্তায়নের চেয়েও বড়ো কোনো ধ্বজাধারী? তার এতো শক্তি!

ছত্রাক-এর রেসিপিবৃত্তান্ত

২০১১ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে ছত্রাক-এর শুটিং হয়। শ্রীলঙ্কান নির্মাতা বিমুক্তি জয়সুন্দরার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। দ্বিভাষিক এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয় বাংলা ও সিংহলি ভাষায়। বিমুক্তি জয়সুন্দরার ইউনিটের ক্রুদের মধ্যে কলকাতা, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, ভিয়েতনামের লোক ছিলো। সাউন্ড রেকর্ডিস্ট আনা হয়েছিলো ফ্রান্স থেকে, সম্পাদনা হয় ভিয়েতনামে। কিছু পোস্ট প্রোডাকশন অবশ্য প্যারিসেও হয়েছে। শুটিংসহ এভাবে নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ শেষ করেন বিমুক্তি। নির্মাতা চলচ্চিত্রের পিছনে অনেকটা খেটেছেন তা বোঝা যায়।

   শুটিং শেষ হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে সাউন্ড, এডিটিং, প্রোডাকশনকে ঘিরে নানা কাজ করা হয়। চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পাওলি দামের ভাষ্যানুযায়ী ক্লিপটি রেকর্ড হয়েছিলো চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের সঙ্গে ধারাবাহিক মিল রেখেই। অর্থাৎ এটি একাংশিক কোনো সময় বা উদ্দেশ্যে বানানো হয়নি। এখানে দর্শক আর বোদ্ধাদের মধ্যে চলচ্চিত্র মুক্তির আগেই ক্লিপটি ছেড়ে দিয়ে চলচ্চিত্রের অসৎ উপায়ে প্রচারণার যে সন্দেহ জেগেছে, সেটিকে খারিজ করে দিয়ে পাওলি বলেন,

আমাদের কাজগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে হয়েছিলো অনেক জায়গায়। কোনো জায়গা থেকে লিক হয়েছে এটা কোনোভাবে। ক্রুদের মধ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেনি। যদি সেরকমই পাবলিসিটি করার ইচ্ছে থাকতো আমাদের, তাহলে যখন শুটিংটা হয়েছিলো তখনই তো বলতে পারতাম। ইনফ্যাক্ট পার্সোনালি কিন্তু এই শটটার ব্যাপারে অনেকে জানতো। মৈনাক জানতো (পুরো নাম মৈনাক ভৌমিক, টালিউডের একজন নির্মাতা)। ঋক অর্থাৎ অনুব্রত (ক্লিপে পাওলির পার্শ¦-অভিনয়শিল্পী) আর আমি ওকে পার্সোনালি বলেছিলাম, আমরা এরকম একটা শট্ দিয়েছি। প্রফেশনালি কখনোই আমি চাইনি এটা লোকদেরকে আলাদা করে বলতে। যখন লোকে চলচ্চিত্রটি দেখবে তখন সিনটা যদি থাকে, শটটা যদি থাকে, তবে দর্শক দেখবে এমনিতেই। আমার তো আলাদা করে বলার কিছু নেই।

পাওলির একথায় অনেকটা যুক্তি আছে। কেননা এর সঙ্গে মিলিয়ে বলা যায়, যদি দর্শক আলাদা করে এটা না দেখে চলচ্চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে, আর তারপর সমালোচনার মাঠে নেমে পড়ে, সেটাই চলচ্চিত্রের প্রতি সবার সম্মান দেখানো আর সুবিচার করা হয়। তারপর না হয়, এটা চিত্রনাট্যের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যায় কি না এমন প্রশ্ন উঠবে। সেই সঙ্গে শিল্পের বিচারে চলচ্চিত্রটির ন্যায্য আর যৌক্তিক স্বীকৃতিও মিলবে। না হলে চলচ্চিত্রটি দেখার আগেই ক্লিপটি দেখে চলচ্চিত্রের আগাগোড়া মাপতে বসে গেলে তার চেয়ে অহেতুক আর কিছু ভাবা যায় না। লেখক বহু আগে থেকেই খেয়াল করছেন, কোরিয়ান, হলিউডসহ আরো বেশকিছু ইন্ডাস্ট্রির বহু চলচ্চিত্রের যৌনতার অংশগুলো কাটিং-এডিটিং সহযোগে বিভিন্ন পর্ন সাইটে বিকোতে। কখনো সেসবের রেটিং তো মূলধারার পর্ন ভিডিওগুলোকেও ছাড়িয়ে যায়! তাই বলা যায়, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে একটা যৌনদৃশ্য ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তা ধর্তব্য বাঞ্চনীয়, নচেৎ এ শিল্পের প্রতি ভয়াবহ অবিচার হয়। লেখক আরো বলতে পারেন, অশ্লীলতাই শুধু এ হিসাবের মধ্যে পড়ে না বরং সবধরনের শিল্পই এমনভাবে বিচার্য।

ছত্রাক-এর শাপমোচন

অনেকদিন আগে একটা জঙ্গলে ঈশ্বর বাস করতো। এক বন্য ব্যবসায়ী ওই জঙ্গলটাকে বেছে নিলো নিজের সব লুট করা টাকা-পয়সা লুকিয়ে রাখতে। সেই টাকার লোভ দেখিয়ে ব্যবসায়ী একটা গরীব রাজমিস্ত্রীকে কিনে নিলো। তার জন্য একটা গোপন আস্তানা তৈরি করতে। শর্ত ছিলো যতোদিন না সেই আস্তানা তৈরি হচ্ছে, ততোদিন সেই রাজমিস্ত্রী জঙ্গল ছেড়ে যেতে পারবে না। রাজমিস্ত্রী তার সেই সুন্দরী বউকে নিয়ে জঙ্গল দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। (একপর্যায়ে দৃশ্যচিত্রে রাজমিস্ত্রী ঘর বানাতে শুরু করলে, কোনো এক অজানা কারণে ঘরের খুঁটিগুলো একে একে পড়ে যেতে থাকে। এতে রাজমিস্ত্রী অস্থির ও উদ্ভ্রান্তের মতো আচরণ শুরু করেন। এ দেখে তার বউ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পালিয়ে যান) রাজমিস্ত্রী তার পাগল দশা কাটিয়ে বউকে খুঁজতে গেলো। খুঁজতে খুঁজতে শেষে সে বালির উপর শুধু কিছু পায়ের ছাপ দেখতে পেলো। তার বউ প্রকৃতির গভীরে চলে গেছে। হাজার বছর ধরে খুঁজেও সে আর তাকে পেলো না।

ছত্রাক-এর ৫০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ৫৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে শেষ হওয়া কয়েকটি দৃশ্যে উপরের বাক্যগুলোর ভয়েসওভারে শোনা যায়। মূলত পুরো চলচ্চিত্রের মূল সুর বেজে ওঠে এ বক্তব্যেই। জঙ্গলে ঈশ্বরবাসের কথা বলে এ পৃথিবীতে অনাদিকাল সবুজের রাজত্বের এক সোনালি সময়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। কিন্তু সবুজের সে রাজত্ব টিকে থাকে না এক বন্য ব্যবসায়ীর লুটপাটের ধ্বংসলীলায়। সেই বণিক অর্থাৎ আধুনিক রাষ্ট্রকর্তারা পুরো সবুজের বুক চিরে সোনাটুকু বের করে নেয়, নিচ্ছে। এরপর সে সেই সবুজেই ঢেলে দিচ্ছে গলিত তপ্ত লৌহ-সীসা আর কংক্রিটের গাঁথুনি। উদ্দেশ্য আকাশচুম্বী রক্ষণাগার তৈরি। যাতে সে রাখবে তার অঢেল ধন-সম্পদ। সেজন্য যে রাজমিস্ত্রীকে সে নিয়োগ করছে, তারই প্রতিনিধিত্ব করছে চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে থাকা প্রকৌশলী। যে তার স্ত্রী-ভাইকে নিয়ে দালান নির্মাণের নকশা করতে চলে আসে এক পরিকল্পিত শহরে। সে অনেক খেটেও সুখের নাগাল আর পায় না। তার যৌন অসুখী বউয়ের আচরণে বোঝা যায় সে বিবাহবহির্ভূত কোনো সম্পর্কে জড়িত। তবে প্রকৌশলীর ট্রাজেডির মূলে থাকে অপ্রকৃতিস্থ তার ছোটোভাই। যে কিনা প্রকৌশলীর আধুনিক বাসগৃহে থাকতে চায় না। সে সব ছেড়ে চলে যায় গহীন বনে। এটা প্রকৌশলী মানতে পারে না। তাকে অনেক খুঁজে ফিরিয়ে আনলেও গৃহী বানাতে ব্যর্থ হয়। সুযোগ পেয়ে তার সেই ভাই আবারও বনে আশ্রয় নেয়। তাই চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, জীবনের কাছে হেরে যাওয়া প্রকৌশলী দালানকোঠাগুলোকে চৌকোবাক্স বলে গালি দিয়ে তারই উপর থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। ঠিক সেসময় একটি কচ্ছপকেও মন্থরগতিতে হেঁটে যেতে দেখা যায় পরিকল্পিত নগরের বাইরে।

সবুজের আবরণ নুয়ে, বিষাক্ত কীট এক যায় ধেয়ে ধেয়ে

      জঙ্গলগড়ের চাবি, নিবি কি ভাই নিবি?

      জঙলায় করে ঈশ্বরবাস, করিস নে তার সর্বনাশ

      জানবি ঈশ্বর বড়োই ত্রাতা, দয়া তাহার অঙ্গে গাঁথা

      যদি করিস ছলচাতুরি, কর্মে-কাজে বাড়াবাড়ি

      বুঝবি তখন ঈশ্বর খ্যাপা, টানতে হবে তাহার হ্যাপা

      অমনি মরে যাবি রে ভাই, অমনি মরে যাবি।

সভ্যতার ইতিহাসে অসংখ্য পদার্থে গড়ে ওঠা সভ্যতা যুগে যুগে যে রূপান্তর হয়ে আসছে, তাতে কোনো চিরন্তনী ধ্বংস না হলেও ধ্বংসাত্মক কার্যের প্রতিদান স্বরূপ কুফল কিন্তু আমাদেরকে ভোগ করতেই হয়। প্রশ্ন হলো, সেটা কীভাবে? প্রাচীনকালে নগর পত্তনের সূচনালগ্নে হয়তো কোনো সবুজ পৃথিবীর আংশিক সবুজ কেড়ে নিয়েই নগর গড়তে শুরু করা হয়েছিলো; কিংবা আপন সজ্জায়নী ধরণীর বিরুদ্ধাচরণে ব্যাপৃত হয়েই তা হয়তো করা হয়েছিলো। সেই শুরু। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে জনগোষ্ঠী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের ধারণাটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। মধ্যযুগ পেরিয়ে যখন আধুনিকালের উদয় ঘটলো, তখন নগর জিনিসটা পেলো এক মৌলিক আবশ্যকতা। সমাদৃত হতে হতে তার গা-জুড়ে গাঁথা শুরু হলো ইট, কংক্রিটের এক লৌহ শৃঙ্খল। ‘আধুনিক’ মানুষ যেনো তার বিচরণ ক্ষেত্রের আয়তন লঘু করতে করতে নিজেকে করে ফেললো স্বেচ্ছাবন্দি।

   মানব মন যতোটা না বৈচিত্র্যে ভরা, তারও বেশি জটিলতায় পূর্ণ। মানুষ সুখের আশায় ঘর বাঁধে, কখনো বেঁধেও দেয়। তারা ঘর বাঁধে বৈরী অবস্থা থেকে বাঁচতে। তারপরও বৈরিতা সবসময় পিছু হটে না। যারা হাজার জনের সুখের আবাস গড়ার স্বার্থে নিজেকে সপে দেয়, কখনো-সখনো বৈরিতার করাঘাত তাদেরকেও ছাড়ে না। তাদের জীবনের প্রতিটা পরতে জন্ম নেয় বিষণ্নতা। সেই বিষণ্নতাগুলো নিকৃষ্টভাবে বাড়তে থাকে, নিতে থাকে ‘জারজ’-জন্ম বুনো বিষাক্ত ছত্রাকের মতোই। যা জীবনকে বিষিয়ে তোলে; মুক্তির কোনো উপায় থাকে না।

   ছত্রাক-এ মূলত নগরবর্ধন ও উন্নয়নের নাগপাশে নিয়োজিত জীবনগুলোর অবনয়ন চিত্রায়ণের একটা প্রকট চেষ্টা দেখা যায়। এই অত্যাধুনিক যুগে যাদের হাত দিয়ে বড়ো বড়ো অট্টালিকাগুলো আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে, ঠিক একই সময়ে সেই লোকগুলোই মনোজাগতিক এক অদ্ভুত বিষণ্নতার আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা দালানকোঠাকে ঊর্ধ্বে ঠেলে ধরে নিজেরাই যেনো মাটি ফুঁড়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। না, সে হারানোতে অর্থনৈতিক জীর্ণতার কোনো ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি না; পাচ্ছি এই লোকগুলোর আধুনিকায়নের অন্য পাড় ঘেঁষে মনোজাগতিক বন্যতার স্রোতে হারানোর এক ভয়াবহ ইঙ্গিত। এ ইঙ্গিত আরো বলে দিচ্ছে, তাদেরই বানানো সুরম্য অট্টালিকা যেনো তাদের ভাষ্যেই কখনো হয়ে যাচ্ছে চৌকোবাক্স। যে বাক্সের তলানিতেও কোনো অক্সিজেন নেই প্রশ্বাসটুকু টানার। তাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। তারা যেনো শ্বাসরুদ্ধতায় মৃতপ্রায়।

বদ্ধ কুঠুরির বাতায়ন বেয়ে নামে না যে দীর্ঘশ্বাস

ছত্রাক-এ যে ক’টা চরিত্রের মিশেল ঘটেছে তার সবকটাই বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। বৈচিত্র্যটা হতাশার; পোড় খাওয়া বাস্তবতার। সবাই যেনো একটা অপেক্ষমান স্বর্গপুরীতে পুড়ছে। তাদের কারো টাকা নেই, কারো ঘুম নেই, কারো যৌনসুখ নেই। কারোবা স্বর্গসুখের একটুও অবকাশ নেই। এসব ছাড়িয়েও কারো আবার এ পুরীকে স্বর্গ বলে উপলব্ধির বোধটুকুও নেই। যেনো বিষাক্ত ছত্রাকের কটু গন্ধে তাদের স্মৃতিই লোপ পেয়েছে। সব আশা উবে গিয়ে তাদের অস্তিত্বজুড়ে আগ্রাসী হয়েছে উন্মাদনা। নির্মাতা সবার মধ্যে একটা গভীর বেদনাতাড়িত মনের অস্তিত্ব বেঁধে দিয়েছেন যেনো সুচারুভাবে। তারা অত্যুচ্চ দালানগুলোর নিচে হাঁটে ঠিক ততোটাই নিচু হয়ে। নির্মাতা শহুরে ধনী আর গরিবের আকাশ-পাতালসম পার্থক্যটা যেনো তলানি ঘেঁটে খুঁজেছেন অনেকটা খোলা চোখে। ধনীর উপভোগ আর দরিদ্রের অপ্রাপ্য এ দুটোর তুল্য-মূল্য করেছেন। চলচ্চিত্রে সবার বিষাদে এতোসব বহর খুঁজে এটা বোঝা যায়, ওই অপেক্ষমান স্বর্গপুরীতে প্রকৌশলী, তার সহযোগীরা, রাস্তার সেই ঘুমন্ত যুবক, এরা আসলে সবাই স্বর্গীয় দাস। এরা সবাই নগরবর্ধনের নানান কাজে যুক্ত জীবিকার তাগিদেই। তবুও এরা নিজেদের রোজগারের বহুগুণ শোষিত হচ্ছে। তবে এই দাসরা সবাই অন্তত স্মৃতিলোপী নয়। তারা কেউ কেউ নিজের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার। তারা জানে এ শহরের হালচাল আর বিদঘুটে সব পরিবর্তন। চলচ্চিত্রের ৩৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে যখন আমরা দেখতে পাই, বয়স্ক পথচারী হেঁটে যেতে যেতে রাস্তার পাশে ঘুমন্ত এক যুবককে দেখে বলে, ‘এই, ঘুমোচ্ছিস? আরে রাত আর নেই, ওঠ্! এই ওঠ্! আরে জানিস, জব চার্নক এই শহরটাকে কতো টাকায় কিনে নিয়েছিলো? মাত্র ১৩শো টাকায়, বুঝেছিস? আরেকটা সাহেব এসে এই শহরটাকে আবার কিনতে চলেছে। দেখবি?’ তখন কিন্তু বোঝা যায়, এ শহর কখনোই এসব পথচারীর ছিলো না। যুগের পর যুগ চলে যায়। এ শহর বার বার ফেরি হয়। পথচারীদের ক্লান্তিকর হন্টন যেনো শেষ হয় না।

অসোয়াস্তি নিয়ে অনেকেই ধরছে দূরপাল্লার যান

যেনো ছেড়ে যেতে তার চৌকো-চ্যাপ্টা বিরান

ছত্রাক-এ বিধ্বস্ত এসব চরিত্রগুলোর দেউলিয়ানা দেখানো হয়েছে অনন্য এক নিরিখে। এ শহরের নিদারুণ দীর্ঘ বসবাসে কেউ কেউ যেনো পঙ্গুত্ববরণ করেছে। তারা তবুও হার মানছে না। শহর ছেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যাচ্ছে কোনো সুস্থ আবাসে। চলচ্চিত্রজুড়ে মোটিফের মাধ্যমে বার বার কচ্ছপের ধীর পায়ে শহর ছেড়ে চলে যাওয়া দেখানো হয়। কচ্ছপের এ হেঁটে যাওয়া কিন্তু দর্শককে সেই একই ইঙ্গিত দেয় যে শহরে হাজারটা সূর্য তাপ ছড়ায়, সেখানে আমরা থাকবো কী করে! যে প্রকৌশলী দিনরাত লড়ে যায় ‘আধুনিক’ আবাসন গড়তে, তার নিজের ভাইকেই দেখা যায় বনভূমিকে পরম আবাস হিসেবে বরণ করে নিতে। তার ভাইকে বাস করতে দেখা যায় গহীন অরণ্যে। প্রকৌশলী অনেক খুঁজে তাকে ফিরিয়ে আনলেও সে আবার অরণ্যে প্রত্যাবর্তন করে। সে যেনো ‘পাগলামি’কেই আরাধ্য করে নীরব চিৎকারে ইঙ্গিত করছে তার ভাইকে, যা তুমি বানাচ্ছো তা-ও কি শ্রেষ্ঠতর হলো?

ছত্রাক-এ বেসুর, ছত্রাক-য়েই অসুর

আলোচ্য চলচ্চিত্রটিকে লেখক তার নিত্য জীবনযাপনের নানা মেজাজে পরিলক্ষণ করে প্রাপ্ত উপলব্ধির সুতো টেনে একটা বিশেষ মাত্রা দিতে অগ্রণী হয়েছেন। তা সচেতন পাঠকমাত্রই উপলব্ধি করবে। লেখক অনুমান করতে পারেন, পাঠকের এ উপলব্ধির পরেই তার মনে একটা প্রশ্ন উস্খুস করতে থাকবে। তা হলো, ছত্রাক তার বিশালতার দাবি অক্ষুণ্ন রেখে ঠিক কতোটা কামিয়াব হলো। উত্তরএকটুও হয়নি। তাবৎ শিল্পের মধ্যে চলচ্চিত্র জিনিসটা তো আর একক কোনো শিল্প নিয়ে গড়ে ওঠে না। এটা সৃষ্টি হয় বহু শিল্প আর শিল্পীর ক্রস কানেকশনে। এখানে থাকে অনেক দাবি আর দৃষ্টিভঙ্গির মিশেল। তাই এর উত্তরোত্তর সাফল্য আসতে পোহাতে হয় বহু ঝক্কি-ঝামেলা। বহুল প্রচলিত Ôdon't judge a book by it’s coverÕ¾এই শব্দবন্ধটি হয়তো চলচ্চিত্রে অনেকাংশে খাটে না। কারণ, চলচ্চিত্রের সাফল্য সম্ভাবনা বাড়ানো বা কমানোয় বিশাল ভূমিকা থাকে চলচ্চিত্র মুক্তির পূর্ব-প্রচারণায়। আজকাল তো চলচ্চিত্রের অনেক কাজ বাকি থাকতেই ঝকমকে এক ফার্স্ট টিজার কিংবা ট্রেইলার ছেড়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্রের তারকাদের দেখা যায় দেশব্যাপী প্রমোশনে যেতে। আসলে এসব জনমত আদায় চলচ্চিত্রটির সঠিক প্রচারণালব্ধ ভাবমূর্তি আনয়নে কাজে দেয়। এই বিবেচনায় ছত্রাক ছিলো তুবড়ে। প্রচারণা যথেষ্ট হলেও সেই বিশেষ ক্লিপের (যে ক্লিপটির কথা লেখার শুরুতে বলা হয়েছে) কল্যাণে তা প্রচারণাতেই আটকে ছিলো। ছত্রাক ইঁদুর কপালে খেতাব পেয়েছিলো সেসময়েই। তারপর যা হওয়ার তাই হলো। নির্মাতা বিমুক্তি কতোটা সাবধানী ছিলেন সে বিষয়ে লেখকের যথেষ্টই সন্দেহ হয়। ক্লিপটির অসময়ে ছাড় পাওয়া নিয়ে তার গোটা টিমের দাবি (এটা তার অসাধু প্রচারণার অভিসন্ধি কি না সে বিষয়েও লেখক সন্দিহান) মেনে নিয়েও যদি বলি, তবুও বলতে হয় এটা অসাবধানতার ফল¾তাতেও তার দুর্বলতারই পরিচয় পাওয়া যায়।

   এবার আসি চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটে। শিল্প হিসেবে চলচ্চিত্রে বাস্তবতার ছোঁয়া থাকা বা কোনো সময়ের কথা বলা বেশ জরুরি। তাতে যেমন থাকবে বাস্তবঘেঁষা যন্ত্রণা, তেমনই তা থেকে উত্তরণের আকুতির বহিঃপ্রকাশ কিংবা একটুখানি আলো। আর সূর্য তো শুধু ডুবে যায় না, পরদিন সকালে তার উদয়ও হয়। কিন্তু ছত্রাক-এ সভ্যতার সঙ্কট দেখানো হলেও তাতে যেনো কোনো আশাই নেই। নেই কোনো আলোও। চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি চরিত্র যে হতাশার আকণ্ঠ জলে নিমজ্জিত তার যেনো কোনো শেষ নেই। তারা যে হাতড়িয়ে কোনো ডুবন্ত খড়কুটোটি ধরে হলেও বাঁচার এক আকুতি জানাবে সেরকম কোনো ইঙ্গিতও নেই। যেনো ওরা সবাই ওদের ওই অবস্থাকেই ‘ভালোবেসে’ বরণ করে নিয়েছে! চলচ্চিত্রের প্রধান যে চরিত্র, সেই প্রকৌশলী, তাকে আত্মহত্যা করতে দেখা যায়। অথচ তারই তো বাকিদেরকে উদ্ধার করার কথা। আত্মহত্যা তো কোনো সমাধান হতে পারে না। এরপর কচ্ছপের বার বার চলে যাওয়া এমনভাবে দেখানো হয়, যেনো সেটিও অন্যান্যদের মতো ব্যথাহত কোনো মানবচরিত্রই হয়ে ওঠে। সে দৃশ্যও কিন্তু দর্শক হিসেবে লেখককে আরো হতাশ করে। সমস্যার মুখোমুখি না হয়ে তস্করের মতো পালিয়ে যাওয়াও তো কোনো সুরাহা নয়।

   উপরের কারণগুলোর আক্ষেপযোগ দর্শক-সমাজে যে অবিচল চলেছে তা নিশ্চিত। অথচ ওই ভিডিও ক্লিপটুকু ছাড়া চলচ্চিত্র ছত্রাক নিয়ে পরবর্তী সময়ে কেউ আর কথা বলছে না। এটি নিয়ে খুব বেশি তথ্য পর্যন্ত ওয়েব দুনিয়ায় নেই। এমনকি ছত্রাক কথাটি দিয়ে ওয়েবে সার্চ অভিযান চালালে ‘অশ্লীলতা’ কথাটি ঘুরেফিরে আসে; যেনো শব্দ দুটি সমর্থক। এ দায় অবশ্যই চলচ্চিত্রটির কলাকুশলীরা এড়াতে পারে না। চলচ্চিত্রের এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক। চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়েছিলো এমন তথ্যও নেই।

আশার মাঝেই মোদের বসবাস

নিরাশাতেও নেই কি কোনো শ্বাস?

‘বাংলা চলচ্চিত্র সাবালক হয়েছে, না হয়নি’¾এ তর্ক অনেক দিনের। কিন্তু এই তর্ক এই সময়ে জরুরি কি না তা নিয়েও তর্ক আছে। ছত্রাক কিছু বলেছে, বা বলতে চেয়েছে। সে বলায় সাফল্যের পুষ্প ফুটলো কি না তা দর্শক-সমাজই না হয় ভেবে দেখবে। তবে এরকম বলাবলি আরো চলুক বিমুক্তিদের মুখ দিয়ে; সেরকম প্রত্যাশাই লেখক করেন। শিল্পের স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরণের বিকাশ অশ্লীলতা নামক জীর্ণ কোনো ট্যাবু কোনোকালেই রোধ করতে পারেনি। আমাদের সম্ভাবনাময় এই ইন্ডাস্ট্রিতেও তা কার্যকর না হোক, এটা আমাদের কামনীয়। ছত্রাক প্রসঙ্গে এক টক শোতে নির্মাতা গৌতম ঘোষ পাওলির নির্দি¦ধায় নগ্ন হওয়া নিয়ে তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘পাওলি একটা সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’৪ তবে পরক্ষণেই অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা পরমব্রত বলেন, ‘সে সাহসিকতার পরিচয় দেয়নি। সে তো স্রেফ অভিনয় করেছে।’৫ আসলেই তো তাই! শুধু অভিনয় নয়, শিল্পসৃষ্টির সবটা দায় মেটাতে নির্মোহ, নিরাগ আর স্বাধীনচেতা তো হতেই হয়। তবে সময় আর ভৌগলিক খেয়ালগুলো তা খুব সহজে হতে দেয় না!

লেখক : তানভীর শাওন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

shawonmcj26@gmail.com

 

 

তথ্যসূত্র

১.       লেখক তানভীর শাওনের কবিতা ‘বধূর দায়’ (আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০১৮) থেকে নেওয়া।

২.      https://bit.ly/2xJWbGh; retrieved on: 26.09.2018

৩.      লেখক তানভীর শাওনের কবিতা ‘ঈশ্বরপাঠ’ (জুলাই ২০১৮) থেকে নেওয়া।

৪.      https://bit.ly/2xJWbGh; retrieved on: 26.09.2018

৫.      https://bit.ly/2xJWbGh; retrieved on: 26.09.2018

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন