মোহসিবা মোস্তারি
প্রকাশিত ১২ মার্চ ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
মিরাকল কিন্তু মিরাকল নয়, সত্য
মোহসিবা মোস্তারি

মানুষ ধরো, মানুষ ভজো
মানুষ এমনই এক সৃষ্টি, যার ক্ষমতা এবং চিন্তার প্রতিফলনে পৃথিবীর বড়ো বড়ো সভ্যতার সৃষ্টি; সময়ের স্রোতে আবার ওই সভ্যতার ধ্বংসের কারণও মানুষ। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মানুষ অপার সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়, জয় করে নেয় সবকিছু। এই জয়ের পিছনে সব থেকে বড়ো কারণ হিসেবে কাজ করে তার ইচ্ছাশক্তি। প্রবল ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে মানুষ। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কথা বলা যেতে পারে, শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণেই নয়, প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে অনেকে নানা ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এই ইচ্ছাশক্তি যে সবসময় আপনাআপনি জাগ্রত হয়েছে, এমন নয়। চারপাশের পরিবেশ, মানুষ নিজে এই ইচ্ছাশক্তির জোগান দিয়েছে। মানুষের জয়ের এই গল্প নিয়ে তুরস্কের নির্মাতা মাহসুন কারমিজিগুল (Mahsun Kirmizigul) নির্মাণ করেছেন মিরাকল (২০১৫)। তুর্কি ভাষায় যাকে বলা হয় Mucize। মিরাকল বা Mucize-এর অর্থ অলৌকিক হলেও চলচ্চিত্রের গল্পটা কিন্তু অলৌকিক নয়; মানুষের অপার সম্ভাবনার গল্প; সঙ্গে রয়েছে রাষ্ট্র, সমাজ আর বাস্তবতার ঘাত-প্রতিঘাত। আলোচনায় ঢোকার আগে মিরাকল-এর গল্পটা সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
তুরস্কের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জাঝাকি। সরকারি নির্দেশে সেখানে হাজির হন শহুরে শিক্ষক মাহির। কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করেই জাঝাকিতে শিক্ষক মাহিরকে পাঠায় সরকার। এদিকে তখন কেবলই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আদনান মেনদ্রেস (Adnan Menderes)-এর পতন হয়েছে। নিরুপায় মাহির নিজ প্রচেষ্টা, পাহাড়ের ‘ডাকাত’ দলের সর্দার চেমিল ও গ্রামবাসীর সহায়তায় জাঝাকিতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পাঠদান শুরু হয় গ্রামের শিশুদের। সেই বিদ্যালয়ে শিশুদের সঙ্গে পড়তে শুরু করেন প্রতিবন্ধী আজিজ। ঘটনাক্রমে এর কিছুদিন পর আজিজের বিয়ে হয় মিজগিন-এর সঙ্গে। মিজগিন প্রতিবন্ধী আজিজকে মেনে নিলেও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতিকে মেনে নিতে পারেন না। স্ত্রীর এই অসহায়ত্বকে স্বাভাবিকভাবে মানতে পারেন না আজিজও। তাই এক রাতে স্ত্রীকে নিয়ে গোপনে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি। সাত বছর পর মাহির, আজিজ দম্পতি ও তাদের সন্তান ফিরে আসে গ্রামে।
মিরাকল-এর রাষ্ট্র, মানুষ ও রাষ্ট্রদ্রোহীতা
চলচ্চিত্রের ৩০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, শিক্ষক মাহির গ্রামের মাতব্বরসহ আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে যান বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করতে। সেখানকার এক কর্মকর্তা তাদের জানান, দেশে সামরিক শাসন শুরু হয়েছে, এখন আর তার কিছুই করার নেই। শিক্ষক মাহির তখন জানান, তাকে যেখানে বদলি করা হয়েছে সেখানে তো কোনো বিদ্যালয়ই নেই, তাহলে বাচ্চাদের তিনি কেমন করে পড়াবেন। এ বিষয়ে তিনি একটা সমাধান চান।
এর উত্তরে ওই কর্মকর্তা ফিসফিস করে বলেন, দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদ্রেস ও তার সহযোগীদের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে, বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে, যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। এমন সময় পায়ের আওয়াজ শুনে সেনাবাহিনী এসেছে মনে করে, তিনি বলতে শুরু করেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী এই দেশে নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করবে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেখানে সেনাবাহিনী আসে না। অবশেষে মাহিরসহ গ্রামের লোকজনদের নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়।
অবশ্য এর আগে ১২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে মাতব্বর আর শিক্ষকের মধ্যে এক কথোপকথনে মাতব্বরকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকারের এখানে আপনাকে (শিক্ষক) পাঠাতেই লেগেছে ৩০ বছর, এখন তার (সরকার) ওপর যদি বিদ্যালয়ের ভরসা করি, তাহলে আরো ৩০ বছর লেগে যাবে।’ অন্যদিকে মাতব্বরের ছেলে চেমিল তার বাবাকে অপমানের প্রতিশোধ নিতে কেসো নামে একজনের চোখে গুলি করেন। এই ঘটনার পর থেকে চেমিল পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকেন গহীন পাহাড়ে। যে দলের সঙ্গে চেমিল পালিয়ে থাকেন, তারা রাষ্ট্রের চোখে দস্যু বলে স্বীকৃত, কিন্তু চলচ্চিত্রে তাদেরকে জনগণের বন্ধু বলে উপস্থাপন করা হয়। এই ‘অপরাধী’ চেমিলের লোকজনই মাহিরকে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সবধরনের সহায়তা করে।
একপর্যায়ে চেমিল বাড়িতে আসেন তার বাবা-মা, ছেলে ও স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য। রাতে চেমিলের স্ত্রী তাকে এ জীবন ছেড়ে দিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। চেমিল তাতে রাজি হন। পরদিন সকালে, মিরাকল-এর এক ঘণ্টা ১৯ মিনিটে পুলিশ চেমিলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের ৩০ বছর লেগে গেলেও ‘অপরাধী’ ধরতে কিন্তু কোনো সমস্যা হয় না।
আগেই বলেছি, পাহাড়ের কিছু মানুষকে বাইরের লোকেরা ডাকাত বলে। মাহির যখন এই গ্রামের আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায়ও এসব প্রসঙ্গ উঠে আসে। অথচ পাহাড়িদের কাছে এই ডাকাতরা ‘পাহাড়ের মালিক’ বা ‘পাহাড়ের রাজা’ নামে পরিচিত। তাদেরকে পাহাড়ের লোকজন ভালোবাসে, পছন্দ করে। এই লোকগুলোর সর্দার চেমিল। তিনি তার লোকজন দিয়ে স্কুল তৈরিতে সহায়তা করেন; বোঝা যায়, তারা পাহাড়ের লোকের মঙ্গল চায়। চেমিলের বক্তব্যে জানা যায়, ওরা শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু চলচ্চিত্রজুড়ে কোথায়ও বোঝা যায় না, কার বিরুদ্ধে, কী জন্য এই লড়াই?
যুগ যুগ ধরেই ডাকাত, চরমপন্থি, মাওবাদী তকমা দেওয়া হয়েছে নানা দেশে নানা স্থানের মানুষদের। এই তকমা দেয় রাষ্ট্র এবং তাদের পোষা গণমাধ্যম। কিন্তু কেনো মানুষ ডাকাত, চরমপন্থি, মাওবাদী হয়, তার সন্ধান রাষ্ট্র করে না। তাই হয়তো অপরাধী ধরতে রাষ্ট্রের যতো আগ্রহ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ততোটা নয়!
স্বপ্নগুলো উড়ে বেড়ায়
মিরাকল-এর এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দেখা যায়, শিক্ষক মাহির তার শিক্ষার্থীদের বাড়িতে কাজ দেন কাগজের উড়োজাহাজ বানানোর। শিক্ষার্থীরা পরদিন সেই উড়োজাহাজ বানিয়ে নিয়ে আসে। ক্লাসের একপর্যায়ে মাহির শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে তাদের উড়োজাহাজটা হাতে নিতে বলেন। তারপর মাহিরের কথা মতো সবাই একসঙ্গে সেগুলো শ্রেণিকক্ষে উড়িয়ে দিলে অদ্ভুত এক মায়াবী দৃশ্যের অবতারণা হয়। যেনো শিশুদের সব স্বপ্ন আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রতীকী এই দৃশ্য শিক্ষক হিসেবে মাহিরকে মহান করে তোলে। শিক্ষকরা তো তাই করেন, পথ দেখান, স্বপ্ন তৈরি করেন। মাহিরও সেটাই করেন পিছিয়ে পড়া ওই শিশুগুলো এবং আজিজের মধ্যে।
এদিকে চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ৫২ মিনিটে দেখা যায়, আজিজ স্কুলের দরজায় ঘণ্টা বাজাচ্ছেন আর একটু দূরে তার স্ত্রীর সঙ্গে কিছু নারী কী যেনো একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছে। একপর্যায়ে তারা মিজগিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যায়। এই ঘটনা দেখে ঘণ্টা ফেলে স্ত্রীর কাছে ছুটে যান আজিজ। তিনি তার ভঙ্গি দিয়ে স্ত্রীকে বোঝাতে চান কী হয়েছে? মিজগিন শুধু বলেন, ‘আজিজ, আমি আর পারছি না!’ এটুকু বলেই তিনি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে বাড়িতে চলে যান। এই ঘটনায় খুবই আঘাত পান আজিজ। এর আগেও অবশ্য গ্রামের মানুষজন নানাভাবে তার স্ত্রীকে উত্যক্ত করে। সেটা আজিজ বুঝেছেন, কিন্তু সেই অর্থে কিছুই করতে পারেননি।
কিন্তু এবার আর নিজেকে সামাল দিতে পারেন না। যে ঘোড়াকে আজিজ সবসময় হেঁটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, ঘাস খাওয়াতেন, সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে যান পাহাড়ের ধারে। সেখানে গিয়ে প্রথমে তিনি দাঁড়ান, তারপর যে উড়োজাহাজ তিনি ক্লাসে উড়িয়েছিলেন, সেই একই রকম আরেকটি উড়োজাহাজ পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দেন। উড়োজাহাজটি উপত্যকা বেয়ে নীচে নামতে থাকে। ঠিক এরপরই আজিজ পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেন। যে স্বপ্ন নিয়ে আজিজ শ্রেণিকক্ষে কাগজের উড়োজাহাজ উড়িয়েছিলেন, সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় সেই উড়োজাহাজকেই ছুঁড়ে দেন অজানার উদ্দেশ্যে। একই উড়োজাহাজ একবার স্বপ্ন হয়ে, আরেকবার স্বপ্নভঙ্গের প্রতীক হয়ে ধরা দেয় মিরাকল-এ। তবে শেষ পর্যন্ত পাহাড় থেকে লাফিয়ে না পড়ে স্বপ্ন ধরে রেখেছিলেন আজিজ। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা মাহির সেই স্বপ্নকে সফলতায় রূপ দিতে সাহায্য করেন আজিজকে।
আজিজ নয়, অন্যরা প্রতিবন্ধী
সমাজ কোনোরকম ব্যতিক্রম মেনে নিতে অভ্যস্ত নয়। সবাই একই রকম হবে, একইভাবে চলবে-এটাই যেনো সমাজের ‘নিয়ম’। এর ব্যত্যয় কোথাও ঘটলেই ‘স্বাভাবিকতা’য় ব্যাঘাত ঘটে। এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হচ্ছে প্রতিবন্ধীরা। তাদেরকে কেউ সহজে মেনে নিতে পারে না। এমনকি বাবা-মায়েরও মাঝেমধ্যে নিজের সন্তানকে মেনে নিতে কষ্ট হয়। অথচ বৈচিত্র্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য। বৈচিত্র্য আছে বলেই এগিয়ে যায় পৃথিবী। আর এ প্রতিবন্ধীরা বৈচিত্র্যেরই একটি অংশ। এমনই এক চরিত্র মিরাকল-এর আজিজ। তিনি জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সমাজের বাসিন্দারা যেমন প্রতিবন্ধীদের দিকে আঁড় চোখে তাকায়; এর ব্যতিক্রম নয় তুরস্কের দুর্গম এলাকা জাঝাকির বাসিন্দারাও। তারাও মেনে নিতে পারে না প্রতিবন্ধী আজিজকে।
ছোটোরা আজিজকে সুযোগ পেলেই মারধর করে আর বড়োরা করে উপহাস; কথা নিয়ে ফোড়ন কাটে সবসময়। চলচ্চিত্রের ১১ মিনিট ১১ সেকেন্ডে দেখা যায়, শিশুরা আজিজকে মারধর করছে। চলচ্চিত্রজুড়ে এ রকম আরো কয়েকটি দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে এই পরিস্থিতি বড়োদের চোখে পড়েও যেনো ঠিক পড়ে না। এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। তারা সব দেখেও যেনো দেখে না। তারাও যেনো শিশুদের মতোই অবুঝ!
আবার মিরাকল-এর ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে দেখা যায়, আজিজের বাবা বাড়ির বড়ো ছেলেকে বিয়ের জন্য ডাকলে আজিজ সামনে এসে দাঁড়ায়। পিছন থেকে তখন কিছু লোক বলতে থাকে, ‘দেখলি বিয়ের কথা শুনলে আজিজও লাফায়।’
চলচ্চিত্রের ২৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে ও এক ঘণ্টা ২৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে দেখা যায়, আজিজের ভাই জালাল ও ফায়জো বাসরঘরে ঢুকেই নিজেদের পুরুষত্ব ও প্রভুত্ব দেখানোর জন্য নৃশংসভাবে একটা পায়রার ঘাড় মটকে দেয়। অন্যদিকে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে আজিজকেও বাসরঘরে ঢুকতে দেখা যায়। সেখানেও একটা পায়রা থাকে ঘাড় মটকানোর জন্য। কিন্তু আজিজ অন্যদের মতো সেই নৃশংসতা করেন না, বরং তিনি পায়রাটাকে চুমু দিয়ে উড়িয়ে দেন।
বিয়ে করে আনার পর সবাই আজিজের স্ত্রী মিজগিনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। আজিজের পরিবারের লোকজন এই খারাপ আচরণের গভীরতা ঠিক কতোখানি তা বুঝতে চায় না। কিন্তু আজিজ ঠিকই তার স্ত্রীর প্রতি সমাজের মানুষের যে আচরণ সেটা উপলব্ধি করেন। সেটা তার মতো করে তিনি সমাধানও করতে চান। কিন্তু তার চারপাশের বৈরী পরিবেশের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীকে নিয়ে এই সমাজ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি। যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য একটি চিঠি লিখে যান-
আমি জানি তোমরা অনেক কষ্ট পাবে। কিন্তু আমার যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। কেউ আমার কথা কখনো শোনেনি, বোঝার চেষ্টাও করেনি। আব্বা-আম্মা, তোমাদের কাছে বলতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। ছোটোবেলা থেকে গ্রামের সবাই আমার কথা বলতে না পারা নিয়ে, আমার পঙ্গুত্ব নিয়ে ঠাট্টা করেছে। আমার তাতে সমস্যা ছিলো না। আমার বয়স ৩১, আমার স্ত্রী আছে। গ্রামের লোকেরা আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঠাট্টা করে। যা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার জন্য না, আমার স্ত্রীর জন্য ঘর ছেড়েছি। যেখানে যাচ্ছি সেখানে হয়তো আমার মতো লোকদের নিয়ে কেউ ঠাট্টা করে না। আমার ঘোড়াটার খেয়াল রেখো। আল্লাহ যেনো তোমাদের খেয়াল করেন।
চিঠি পড়ে বুঝতে কষ্ট হয় না, জাঝাকির সবকিছু আজিজ অন্যদের চেয়ে মোটেও কম বোঝেন না। উল্টো করে বললে, যারা ‘সুস্থ’, তারাই আজিজ বা আজিজের মতো লোকদের বোঝে না, বোঝার চেষ্টা করে না। তার মানে এই সমাজে ‘সুস্থ’ আর ‘প্রতিবন্ধী’ মানুষের মধ্যে সব দিক থেকে পার্থক্যের জায়গাটা সামান্যই। দৃশ্যত যা আছে, তা খানিকটা শারীরিক, কিন্তু মূল পার্থক্যটা সংখ্যাগরিষ্ঠের, অন্যভাবে বললে ক্ষমতার। তাই ‘সুস্থ’ মানুষের সংখ্যালঘুর প্রতি এই আচরণ। সেই অর্থে কিন্তু আজিজ নয়, বরং অন্যরাই ‘প্রতিবন্ধী’।
নারীর কোনো দেশ নেই
মিরাকল-এর ১১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, মাতব্বর ও অন্যরা মিলে শিক্ষকের সঙ্গে গল্প করছে। এই সময় মাতব্বর বলেন, আমার ছয় ছেলে এবং মেয়েও আছে। কিন্তু কয়টা মেয়ে আমি ঠিক জানি না। শিক্ষক মাহির তাকে তখন জিজ্ঞাসা করেন, জানেন না মানে! তখন মাতব্বরের সঙ্গে থাকা সবাই বলে ওঠে, জেনে লাভ কী? খাওয়া-দাওয়া করে বড়ো হওয়ার পর ওদের পরের ঘরে পাঠিয়ে দিতে হয়। সেজন্য তারা মেয়েদের হিসাব রাখতেও নারাজ।
১৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে মাতব্বরের স্ত্রীসহ আরো কয়েকজন মিলে ছেলে জালালের জন্য পাত্রী দেখতে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে আরো দুই ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে যায় তারা। ওই নারীদের কাছে ‘ভালো’ মেয়ে মানেই ভালো রান্না আর কোরআন পড়তে জানা। এর বাইরে অবশ্য ওই সমাজে নারীরা আরেকটি কাজ করে-সন্তান উৎপাদন। পরে অবশ্য সন্তান উৎপাদনের যোগ্যতার পরিচয়ও দিতে হয় নারীকে।
১৬ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দেখা যায়, মাতব্বরের স্ত্রী কয়েকজন মিলে যখন জালালের জন্য মেয়ে দেখতে যাচ্ছে, তখন জালাল তার স্ত্রী কেমন হবে সে সম্পর্কে বর্ণনা দেন এভাবে-সুন্দর, সোনালি চুল, বড়ো স্তন, চিকন কোমর, সুন্দর নিতম্ব। আবার এক ঘণ্টা ২০ মিনিটে দেখা যায়, অন্য ছেলে ফায়জোরের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়ার সময় তিনিও বলে দেন, মেয়ের চোখ সুন্দর হতে হবে, নীল হতে হবে।
বাড়ির নারীরা মেয়ে দেখতে গিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোই অনুসন্ধান করে। তারা পাত্রীর কোরআন পড়া দেখে, বিশেষ রান্নার রেসিপি জানতে চায়, এমনকি পাত্রীর পেটে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে সেটা বড়ো নাকি ছোটো। কারণ পেট বড়ো হলে নাকি বাচ্চা ধারণে সুবিধা হবে। এরপর বিচারকের মতো সব নারী মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, আরেক নারীর ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে। এর বিপরীতে অবশ্য পাত্রী দেখতে যাওয়া ওই নারীরা পাত্র সম্পর্কে কেবল মৌখিক বিবরণ দিয়েই দায় শেষ করে। পাত্রী পক্ষের নারীরাও সেটা সহজে মেনে নেয়। প্রতিবন্ধী আজিজের বিয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় হয় না। আজিজের স্ত্রী হিসেবে মিজগিনকে বাড়িতে আনার পর শ্বাশুড়িকে বলতে শোনা যায়, ‘এটাই তোমার ভাগ্য।’
যদিও মিরাকল-এ পাত্রী পছন্দের দায়িত্বটা বাড়ির নারীদের ওপর থাকে। কিন্তু সেই নারীরা কেনো জানি পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমাজে তাদের অবস্থান একেবারেই ভুলে যায়। চলচ্চিত্রজুড়ে তাদের যে ভয়াবহ অধঃস্তনতা তা নির্মাতার কারিশমায় বেমালুম ভুলে যায় দর্শকও। চলচ্চিত্রে নারীর অবস্থানকে প্রথা হিসেবে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং শেষে যেভাবে একজন নারীর বদৌলতে একজন প্রতিবন্ধীর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা দেখানো হয়, তাতে দিনশেষে নারীর ওই অধঃস্তনতা একেবারেই চোখ এড়িয়ে যায়। এমনকি কীভাবে আজিজ, তার এই অবস্থার পরিবর্তন করলেন, তা একটি মাত্র বাক্যের-আমি আমার বউয়ের প্রেমে পড়েছি-মধ্য দিয়ে সমাধান করা হয়। ফলে দিনশেষে নারী সেই প্রেম-ভালোবাসা-আবেগ-কামের বস্তু হিসেবেই থাকে, কোনো স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয় না। ফলে আজিজের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য মিজগিন প্রেরণা হয়, কর্তা হয় না। আর পাত্রী দেখতে গিয়ে নারী যখন কর্তা হয়, তখন আবার সেই কর্তা নিজের ইচ্ছায় কর্ম সম্পন্ন করতে পারে না!
প্রাকৃতিক আলোয় অদ্ভুত পরিবেশ
কোনো দৃশ্য চিত্রায়িত করতে যে উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয় আলো তার অন্যতম। চলচ্চিত্রে কম্পোজিশনের ক্ষেত্রেও আলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটা উপাদান। কোনো দৃশ্য বা দৃশ্যবস্তুকে শুধু দৃশ্যমান করাই আলোর কাজ নয়। বরং সেই দৃশ্যের মাত্রা, টোন, গভীরতা ও মেজাজকে কাজে লাগিয়ে সঠিক দৃশ্যরস, প্রয়োজনীয় আবেগ ও নাটকীয়তা দেওয়া আলোর কাজ। মিরাকলজুড়েই আলোর এ ধরনের খেলা ছিলো। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই আলো প্রাকৃতিক। নির্মাতা খানিকটা ঝুঁকি নিয়েই এ কাজ করেছেন বলে মনে হয়েছে। পৃথিবীজুড়ে আরো অনেক নির্মাতাই অবশ্য এটা করেছে।
মিরাকল-এর বেশিরভাগ জায়গায় নির্মাতা আলো নিয়ন্ত্রণের কোনো ধরনের চেষ্টাই করেননি। এমনকি আলোর কারণে দৃশ্যে উপস্থিত অভিনয়শিল্পীদের কারো মুখ কখনো কখনো খানিক ঝাপসা হলেও তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেননি, উল্টো তা দিয়ে ব্যঞ্জনা তৈরি করেছেন। ৫৭ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, আজিজের মা এবং তার ভাবিরা রান্নাঘরে কাজ করছে। তখন বাইরে থেকে ছোটো ছোটো জানালা এবং দরজা দিয়ে ঢোকা কড়া রোদ আর ভিতরের রান্নার ধোয়া মিলে অদ্ভুত এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নারীর জীবন, রান্না ঘরে তাদের অবস্থান বোঝানোর জন্য এমন দৃশ্যের অবতারণা হতে পারে। কারণ সেখানে নারীকে বিয়ের জন্য পছন্দ করার প্রধান দুই বৈশিষ্ট্যের একটি ভালো রান্না জানা। ফলে ধোয়ায় ভরা রান্নাঘরই যে নারীর পরবর্তী জীবনের একমাত্র আবাস, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। একই সঙ্গে সেখানেও তার অবস্থান পরিষ্কার নয়; অনেকটা রান্নাঘরের ওই পরিবেশের মতোই ঘোলাটে।
৫২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে শিশুরা যখন আজিজকে মারধর করছিলো তখন শিক্ষক জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন। তখন আলোর কারণে পুরো একটা পাশ ঝাঁপসা হয়ে যায়। এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ফায়জোরের জন্য পাত্রী দেখতে যায় সবাই। পাত্রী যখন ঠিক ঘরে ঢোকে, তখন বাইরের আলোর প্রভাবে তার মুখই ভালোভাবে দেখা যায় না। অবশ্য পরের দৃশ্যেই দেখা যায়, ট্রে হাতে একজন আসছে। অনেকটা ধোয়া থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা। এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে শ্রেণিকক্ষে কাগজের উড়োজাহাজ উড়ানোর আগে যখন শিক্ষক কথা বলেন, তখন কাঁচের জানালা দিয়ে আলো ঢোকার কারণে একটা ঘোলাটে পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো ঘরে। পরে অবশ্য সেই ঘোলাটে পরিবেশে শিক্ষার্থীদের উড়োজাহাজ উড়ানোর সময় এক স্বপ্লীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আবহসঙ্গীত মিরাকল-এ এক অসাধারণ মাত্রা যোগ করেছে। চলচ্চিত্রে এক ঘণ্টা ৩৬ মিনিট নয় সেকেন্ডে আজিজের স্ত্রী যখন জাঝাকিতে আসে, তখন চমৎকার আবহসঙ্গীতের সঙ্গে চারদিকে একটা উৎসব চলতে থাকে। যা দর্শকের মনের মধ্যে একধরনের আনন্দের অনুভূতি জাগায়। প্রথা অনুযায়ী মিজগিন সামনে এগিয়ে যান, কিন্তু মাটির হাড়ি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের উৎসব ও আবহসঙ্গীত থেমে যায়। একই সঙ্গে থেমে যায়, দর্শকের আনন্দের অনুভূতি, মনের মধ্যে চলে ভাঙাগড়ার খেলা। এটাই যেনো মিজগিনের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে আজিজ যখন ঘোড়া নিয়ে আত্মহত্যা করতে যান, তখনকার আবহসঙ্গীতের ব্যবহারও লক্ষণীয়। শিক্ষকের চলে যাওয়ার সময় সবার কান্নার সঙ্গে মিল রেখে যে আবহসঙ্গীত ব্যবহার হয়, তা দর্শকের মনে একধরনের বিষণ্নতা সৃষ্টি করে। আবার আজিজ যখন সাত বছর পর হঠাৎ করে গ্রামে স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসেন, তখন আবহে যে সঙ্গীত বাজতে থাকে, তা দর্শকের মনেও একধরনের আনন্দের অনুভূতি বয়ে আনে। আসলে নির্মাতা নিজেই এর সঙ্গীত পরিচালক হওয়ায় হয়তো মনের মাধুরী মিশিয়ে এটা করেছেন। যা দর্শকের খুব কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।
কিছু প্রশ্ন এবং
চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ৫৯ মিনিটে মিজগিনকে নিয়ে আজিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। চলে যাওয়ার আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তখন দেখা যায়, আজিজের বাবা-মা, ভাই-ভাবী; এমনকি তাদের সন্তানরা একসঙ্গে ঘুমাচ্ছে। আবার এক ঘণ্টা ৫০ মিনিটেও বাড়ির সব পুরুষদের এক থালায়, আবার নারীরদের আরেক থালায় খাবার খেতে দেখা যায়। এ দুটি দৃশ্য দেখে মনে হয়, আজিজদের পরিবার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাস করে, একই সঙ্গে সেটার চর্চাও করে। তুরুস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান যে ইসলামি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, সেটাও তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। যেমন, অশিক্ষিত দস্যুদের শিক্ষিত করা, আইনের প্রতি সবার শ্রদ্ধাবোধ জন্মানো, সর্বোপরি ইসলাম অনুযায়ী নিজেদের পরিচালনা করা। তবে এভাবে নারী-পুরুষের একসঙ্গে খাওয়া, পরিবারের মধ্যে পরস্পর মন খুলে কথা বলা তুরস্কের ‘ইসলামি জাতীয়তাবাদ’ ও ইসলাম ধর্ম সমর্থন করলেও পরিবারের সবার একসঙ্গে ঘুমানোকে সমর্থন করে না। ফলে এসব দৃশ্য দিয়ে হয়তো দূর থেকে তুরস্ককে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো সম্ভব, কিন্তু তা দিয়ে এরদোগানের কাক্সিক্ষত ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ কিংবা তুরস্কের হারিয়ে যাওয়া অটোমান সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। এছাড়া চলচ্চিত্রজুড়ে কোথাও নারী-পুরুষের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক যেমন, প্রেম-ভালোবাসা-পরকীয়া দেখা যায় না। সমাজে সাধারণত ব্যক্তিমানুষের সম্পর্কের এ ধরনের একমাত্রিক উপস্থাপন নেই বললেই চলে।
এদিকে চলচ্চিত্রের শেষ শটে দেখা যায়, সাত বছর পরে আজিজ ‘স্বাভাবিক’ হয়ে স্ত্রী, সন্তান ও শিক্ষক মাহিরসহ বাড়ি ফিরে আসেন; সরাসরি গাড়ি করে। সাত বছর আগে যে গ্রামে পাহাড় ডিঙিয়ে, পায়ে হেঁটে, পোশাক খুলে হাতে নিয়ে নদী পার হয়ে আসতে হতো; মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে সেই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধুর থেকে মসৃণ হয়ে যায়, এমনকি বিদ্যুৎও পৌঁছে যায়! সাত বছরের মধ্যেই জাঝাকির এই আমূল পরিবর্তন! অথচ সেসময় গ্রামের মোড়লকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকারের এখানে আপনাকে (শিক্ষক) পাঠাতেই লেগেছে ৩০ বছর, এখন তার (সরকার) ওপর যদি বিদ্যালয়ের ভরসা করি, তাহলে আরো ৩০ বছর লেগে যাবে।’ ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৬০ থেকে ১৯৮০’র দশক ছিলো তুরস্কের অস্থির সময়। এই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী একের পর এক অভ্যুথান ঘটায় এবং তাদের পছন্দ মতো লোক দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। চলচ্চিত্র মিরাকল-এ মূলত তুরস্কের সেই সময়টাই উঠে এসেছে। নির্মাতা মাহসুন কারমিজিগুল মিরাকল-এ কৌশলে সেই সামরিক সরকারের প্রশংসাই করেন। যা মিরাকল ও তার নির্মাতাকে নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করে।
শেষকথা
নির্মাতা মাহসুন কারমিজিগুলের মিরাকল-এ নারীর অধঃস্তনতা এবং শেষ পর্যন্ত পুরুষের জয়গান নিয়ে হাজির হলেও এক দুর্দান্ত সম্ভাবনার কথা বলেছেন। প্রান্তিক প্রতিবন্ধীরাও যে ইচ্ছার জোরে স্বপ্নকে ছুঁতে পারে, সেই কথা বলে মিরাকল; সঙ্গে আছে মানুষের অসম্ভব শক্তির কথাও। এই শক্তিই কিন্তু যুগে যুগে শুধু প্রতিবন্ধিতা নয়, সমাজকাঠামোর খোল নলচে পাল্টে দিয়েছে।
লেখক : মোহসিবা মোস্তারি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
syedamohsibamostarymim@gmail. com
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন