মুহাম্মদ হাসান ইমাম
প্রকাশিত ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
চলচ্চিত্রের কথা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর চলচ্চিত্র
মুহাম্মদ হাসান ইমাম

পর্ব ৫
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে হলিউড বিভিন্ন দিক থেকে রূপান্তরের সূচনা করতে বাধ্য হয়। কেউ এই সময়কে সবচেয়ে ভালো আবার কেউ সবচেয়ে খারাপ বলে অভিহিত করে। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে হলিউড অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে আসছিলো। ভালো কোম্পানিগুলো ভালো চলচ্চিত্র তৈরির জন্য বেশি মাত্রায় বিনিয়োগ করার সুযোগ পেতো। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য চলচ্চিত্রের গুণাগুণ বিচারে প্রয়োজনীয় ছিলো বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু হঠাৎ করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে, হলিউড একটি মনোপলিস্টিক সংস্থায় পরিণত হয়েছে। এমন ঘোষণা অপেক্ষাকৃত অগ্রসর চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হতাশ করে। অন্যদিকে পার্ল হারবারে জাপানের আক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অহমবোধে দারুণভাবে আঘাত করে। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ঘোষণা করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, সেক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের ভূমিকাও কম নয়।
কাহিনিচিত্রে যেমন চলচ্চিত্রকাররা আবেগকে উদ্বেলিত করতে পারে, যুদ্ধের এই সময়টিতেও আমাদেরকে এমন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে অগ্রসর হতে হবে যাতে করে সমস্ত জাতি যুদ্ধের জন্য দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু এতোদিনের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা নির্মাতাদের তেমন ছিলো না। তাছাড়া শিল্পের ক্ষেত্রে এ ধরনের আমলতান্ত্রিক প্রণোদনা ঠিক গ্রহণযোগ্য ছিলো না। সবমিলিয়ে ৪০-এর দশকের শুরুটা মার্কিন চলচ্চিত্রের জন্য উৎকণ্ঠা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিলো। স্কাজ-এর ভাষায়, But producing movies during the war was scarcely business as usual; on the contrary it required a massive transformation of virtually every phase of industry operation.৫৩
যুদ্ধোত্তরকালেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার নানাভাবে হলিউডের ওপর নজরদারি শুরু করে। সরকার এমন সন্দেহ পোষণ শুরু করে যে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কমিউনিস্ট পার্টির অনুপ্রবেশ ঘটছে। যদিও অনেকেই মনে করেন, বিশ্বব্যাপী মার্কিন নজরদারির এটি একটি প্রতারণামূলক বয়ান। কিন্তু বাস্তবে শিল্পী, কলাকুশলী ও চিত্রনির্মাতারা অনেকটাই সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত-মার্কিন ঠাণ্ডাযুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখে। এ সময় স্পাই মুভি, থ্রিলার এবং কমেডি অধিক হারে নির্মাণ হয়। এই প্রবণতা ৫০, ৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত প্রচলিত ছিলো। এ প্রসঙ্গে The Thirdman চলচ্চিত্রটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাণ থেমে থাকেনি। ১৯৩৯-এর শেষে Mr. Smith Goes to Washington, The Hunchback of Notre Dame, Drums Alone the Mohawk, Destry Rides Again ও Gone With the End প্রভৃতি চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে থাকে।
এ সময়ে প্রথম সারির স্বাধীন চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে সেলজ্নিক, ওয়াল্ট ডিজনি, শ্যাম গোল্ডউইন স্বীকৃতি পান। এরপর Heart of Darkness মুক্তি পায়। ১৯৪০-এ মুক্তি পায় ‘Chaplin Number VI’, যা আসলে হিটলারের কার্মিক জীবনী নিয়ে তৈরি। তবে বিশ্বযুদ্ধ মার্কিন চলচ্চিত্রের বৈদেশিক ব্যবসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলো। হলিউডের শুরু থেকেই তারকা জেনরা বা জেনরা ফিল্ম একধরনের শ্রেণিবদ্ধকরণ হিসেবে চলে আসছিলো। তবে জেনরার বিষয় সবসময় একরকম থাকেনি। ১৯৪০-১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের পরিবর্তিত সামাজিক ও শিল্প পরিস্থিতি নতুন ধরনের জেনরা বিকাশে প্রভাব রাখে।
মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্রের (ব্যয়বহুল, বহু-তারকা বিশিষ্ট ও বিখ্যাত গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্র) ক্ষেত্রে জেনরার প্রভাব পরিষ্কারভাবে লক্ষ করা যায়। প্রধানত তিন ধরনের জেনরা ৩০-এর দশকে দেখা যায়। যেমন, বায়োপিকস, এপিকস এবং অ্যাডাপটেশন। এসব চলচ্চিত্র তৈরি করলো কারা, অভিনয় করলো কারা, গল্পটা কতোটা উচ্চমানের অথবা ঐতিহাসিক ঘটনাভিত্তিক ইত্যাদি বিষয়গুলো জেনরা নির্ণয়ে যথেষ্ট বিবেচিত হতো। হলিউড অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় ক্ল্যাসিক এবং জনপ্রিয় কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে। যেমন, Pride and Prejudice ও Rebecca ধরনের চলচ্চিত্র যা ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। A Dispatch from Reuters, Dr. Ehrlich’s Magic Bullet দুটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র, যা ইউরোপীয় সাহিত্য থেকে নেওয়া।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের Mice and Men, The Grapes of Wrath Ges Our Town এবং The Long Voyage Home, The Philadelphia Story উল্লেখযোগ্য। মার্কিন ঐতিহাসিক কাহিনি অবলম্বনে এ সময় নির্মাণ হয় Northwest Passage, Abe Lincoln in Illinois, North West Mounted Police প্রভৃতি চলচ্চিত্র। এ সময় অ্যানিমেটেড কাহিনিচিত্রের অভ্যুদয় ঘটে। ডিজনি কাহিনিচিত্রের সমান দীর্ঘ অ্যানিমেটেড ফিল্ম নির্মাণ শুরু করেন। আগে নির্মিত স্নো হোয়াইট-এর সাফল্যের পর তিনি ১৯৪০-১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে Pinocchio এবং Fantasia, Dumbo, The Reluctant Dragon নির্মাণ করেন। এসব কার্টুন ফিল্ম ডিজনিকে একটি আলাদা জেনরাভুক্ত করে। ডিজনি বড়ো ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যখন প্যারামাউন্ট অ্যানিমেশন ইউনিট Gulliver’s Travels, Mr. Bug Goes To Town নির্মাণ করে।
২.
প্রথম শ্রেণির ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র যুদ্ধের আগেই শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা একটি জেনরা হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমন, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পায় Stagecoach । এছাড়াও Union Pacific এবং Jesse James মুক্তি পায়। তবে অনেকের মতে, Jesse James, The Return of Frank James Ges When the Daltons Rode, Bad Men of Missouri, Belle Starr ও Billy the Kid -কে ওয়েস্টার্ন ধারায় ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এই প্রথম শ্রেণির ওয়েস্টার্ন ফিল্ম নির্মাণ অনেকটা ধীরগতিতে অগ্রসর হয়। দ্বিতীয় শ্রেণির ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্রের মধ্যে সিঙগিঙ কাউবয় সিরিজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে।
কমিক ও ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র ৪০-এর দশকের শুরুতে কিছুটা প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়। যেমন, Caught in the Draft কমিক হিসেবে দারুণ সাড়া জাগায়। ঠিক তেমনই Buck Privates, In the Navy ও Keep Em Flying বিশেষ নাম করে। অনেকেই মনে করে, যুদ্ধকালীন কমিক চলচ্চিত্রের এই উত্থান অনেকটা যুদ্ধ থেকে পলায়নবাদী মনোভাবের উদাহরণ। কিছু দুর্বল কমেডি চিত্রের নির্মাণও ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে দেখা যায়-The Great McGinty, Christmas in July, The Lady Eve ও Sullivan’s Travels। এ সময় কিছু অপরাধমূলক চলচ্চিত্রও মুক্তি পায়। যেমন, They Drive by Night, High Sierra, Manpower, They Died with Their Boots On, The Maltese Falcon প্রভৃতি।
১৯৪০-১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের দিকে যখন যুদ্ধভিত্তিক কাহিনিচিত্র নির্মাণ শুরু হয়, সেগুলোকে বিভিন্ন জেনরাতে বিভক্ত করা যায়। রোমান্টিক পারিবারিক মেলোড্রামা এবং গুপ্তচর নিয়ে চলচ্চিত্রগুলো এর মধ্যে পড়ে। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সরাসরি ছিলো না, সে কারণেই হয়তোবা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলো অনেকটা কাহিনিচিত্রের রূপ ধারণ করেছে। মজার ব্যাপার হলো, এ সময় কিছু নাৎসিপন্থি চলচ্চিত্রও হয় এবং খুব কম সময়ের মধ্যে সেগুলো বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়। বিশেষ করে মৈত্রী শক্তির আবির্ভাব এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপপন্থি উন্মাদনায়। ইউরোপীয় যুদ্ধের ওপর প্রাথমিক তথ্য ও ফুটেজ সমৃদ্ধ কিছু কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়, যেগুলোকে এক কথায় যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র বলা যায় না। সেদিক থেকে হ্যারি ওয়ার্নার সরাসরি নাৎসিবাদ-বিরোধী চলচ্চিত্র তৈরিতে এগিয়ে আসেন। ওয়ার্নার নির্মিত কনফেকশন অব অ্যা নাজি স্পাই ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দেই মুক্তি পায়। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন Spiness Agent। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ওয়ার্নার দ্য ফাইটিং সিক্সটি নাইন্থ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এই চলচ্চিত্র দারুণভাবে প্রশংসিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধমুখী চলচ্চিত্র হিসেবে The Man ও Married, Arise, My Love নির্মাণ হয়। এছাড়া The Great Dictator, Sergeant York, A Yank In The R.A.F, Dive Bomber এবং Caught in the Draft প্রভৃতি চলচ্চিত্র এ সময় নির্মাণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই দর্শক কাহিনিচিত্রের দিকে আকর্ষিত হতে শুরু করে। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ৩২টি স্টুডিও থেকে চারশো ৯২টি চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া হয়। এসব চলচ্চিত্র থেকে যুদ্ধভিত্তিক রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্র নামে একটি আলাদা জেনরা আবির্ভূত হয়।
অবশ্য পরবর্তী সময়ে সরাসরি যুদ্ধভিত্তিক আরো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। The Navy ও Eagle Squadron চলচ্চিত্রে ডকুমেন্টরি ও ড্রামার সম্মিলন ঘটে। আসলে যুদ্ধের সময়টা চলচ্চিত্রের জন্য ভালো, খারাপ দু-ভাবেই বিবেচনা করা যায়। যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্য তেমন না থাকলেও চলচ্চিত্রশিল্পের নানা স্তরে নানা রূপান্তরের সূচনা হয়। যুদ্ধের সময়টা চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য লাভজনক হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে হলিউড এ সময় যথেষ্ট আয় করে। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বড়ো আটটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিদেনপক্ষে ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী তিন বছর ক্রমান্বয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। মৈত্রী শক্তি যখন ১৯৪৪-১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করে, তখন চলচ্চিত্রনির্মাতারা যুদ্ধপরবর্তী পর্যায়ে তাদের লাভের হিসাব করতে থাকে। এই সময়ে সরকারের অ্যান্টি ট্রাস্ট ক্যাম্পেইন ও হলিউডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছুটা সঙ্কটের সৃষ্টি করে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বক্তব্য হলিউডকে এই সময়েও বিভ্রম করে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের সময়কে ইতিবাচক হিসেবে পরিগণিত করা যায়।
এ সময় কাহিনিচিত্রের ক্ষেত্রেও তারা অনেকটা অগ্রসর হয়। হলিউড যুদ্ধভিত্তিক ও সামাজিক উভয় ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সক্ষম হয়। এছাড়া যুদ্ধভিত্তিক ডকুমেন্টরি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বড়ো বড়ো চিত্রনির্মাতা তখন তথ্যচিত্র নির্মাণে মনোযোগী হয়। এক কথায়, ১৯৪৪-৪৫ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধের কাহিনিচিত্র ও ডকুমেন্টরি যেনো সমজীবীতা লাভ করে। ঠিক এ সময়ই ঋরষস ঘড়রৎ নামে একটি ভিন্ন ধরনের জেনরা আবির্ভূত হয়, যা আমেরিকার যুদ্ধকালীন মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়।
Coined by French film critic Nino Frank in 1946 and popsularized by French critics Raymond Borde and Etienne Chaumenton in their 1955 study Panorama du film noir American, the term described, in its most narrow application a series of American films made during world War II and in the years following, punctuated by violence and pervaded with a profound sense of dread and moral uncertainties. The heroes tend to be cynical, tough and overwhelmed by sinister forces beyond their control. Stylistically film noir is distinguished by its stark Chiaroscuro Cinematography, influenced in large part by German expressionism (many of film noir’s greatest directors, including Fritz Lang, Otto Preminger, Billy Wilder, Robert Siodmak, and Edgar Ulmer had emigrated from Germany and Austria in the 1930s). Films are shot in black and white, its for night, favor oblique camera angles and obsessive use of shadows and most importantly, take place in a city. Film noir tries to make sense of the complexities and anxieties of the postwar urban experience by exploring the rotten underside of the American city, the place where the American dream goes to die.৫৪
অধিকাংশ ব্যক্তি একমত যে, Double Indemnity, Out of the Past ফিল্ম নোয়ার-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা দেখা দিলেও ৪০ ও ৫০-এর দশকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্থান ঘটে। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে Touch of Evil -এর মাধ্যমে ফিল্ম নোয়ারের ক্ল্যাসিক পর্যায় সমাপ্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিস্তৃত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ কর্মজীবী নারীদের উত্থান, শহরতলীর আবির্ভাব, শহরের ধ্বংস, কমিউনিস্ট ভীতি এবং সরকারের চলচ্চিত্র-নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নোয়ার চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। তবে এখনো নোয়ারের প্রশ্নে ঐকমত্য লক্ষ করা যায় না। আর এ ধরনের চলচ্চিত্র নিজস্ব গুণেই বহু অর্থ প্রকাশ করে। এর একদিকে যেমন ৪০-এর দশকের অপরাধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলো পড়ে, অন্যদিকে একে একটি আলাদা জেনরা অথবা স্টাইল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেউ আবার একে স্টাইল ও স্পেসের মধ্যকার অনির্ধারিত স্থানের অধিকারী মনে করে। এছাড়া মুভমেন্ট, সাইক্লোন, হাইব্রিড বা ট্রান্স জেনারিক ফেনামেনান বলেও উল্লেখ করেছে। টমাস এলসার একে কনসেপচুয়াল ব্ল্যাকহোল বলে উল্লেখ করেছেন; আবার স্টিভ নীল মনে করেন, এটি আদৌ অস্তিত্বমান নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা এবং বিদেশে তার সামরিক শক্তির সমাবেশ না জেনে হলিউডের যুদ্ধকালীন ভূমিকা বোঝা মুশকিল। যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং যুদ্ধে শামিল হওয়ার সহযোগী শক্তি হিসেবে চলচ্চিত্রশিল্প ও এর শ্রমিকদের আমূল পরিবর্তন আনতে হয়েছিলো। পার্ল হারবার আক্রমণের সময় থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে হলিউড পদক্ষেপ নেয়। সরকার যুদ্ধ উৎপাদন বোর্ডের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সিভিল এজেন্সিগুলো যুদ্ধকালীন অর্থনীতি ও যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের জন্য গঠিত ওয়ার ম্যানপাওয়ার কমিশনে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ সন্নিবেশ করে। এছাড়া সব ধরনের শ্রমিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ওয়ার্ল্ড লেবার বোর্ড। বিশেষ করে যুদ্ধ সংক্রান্ত শিল্প, অফিস এবং প্রশাসনে। ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব ওয়ার ইনফরমেশন’ যুদ্ধ সংক্রান্ত সরকারি বার্তা প্রেসগুলোতে সরবরাহ করে এবং সংবাদ মাধ্যম ও সরকারের মধ্যে লিয়াজো রক্ষা করে চলে। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও তার সহকর্মীরা এটি বুঝতে সক্ষম হয় যে, মৈত্রী শক্তির বিজয়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় সামরিক ও শিল্প পণ্যকে ব্যবহার করতে হবে। আর এসি পার্কার তার যুদ্ধ সংক্রান্ত গ্রন্থে লেখেন,‘Superior Resources Won the War; the victors had greater numbers of men and women and made more weapons.’৫৫
রুজভেল্টের সহযোগী মিলেট’কে নিযুক্তি দেওয়ার সময় বলেন,
The American motion picture is one of the most effective mediums in informing and entertaining our citizens. The motion picture must remain free in so far as national security will permit. I want to censorship of the motion picture.৫৬
মিলেট-এর দায়িত্ব ছিলো সরকার ও মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করা, যাতে হলিউড যুদ্ধের পক্ষে চলচ্চিত্র তৈরি করে।
|
U.S Box-Office Receipts, 1940-1945 ($ Billions) |
|
|
1940 |
0.71 |
|
1941 |
0.81 |
|
1942 |
1.02 |
|
1943 |
1.28 |
|
1944 |
1.34 |
|
1945 |
1.45 |
Source: Finler, Joel (1988: 32); The Hollywood Story, Crown, New York. & Sterling, Christopher H. and Haight, Timothy R. (1978: 188), The Mass Media; Proege, New York.
সুতরাং যুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র পূর্ণোদ্যমে চলতে থাকে। বিশ্ববাজারের দিকে তাকালেও দেখা যায়, যুক্তরাজ্য ও লাতিন আমেরিকা বিশেষ প্রাধান্য পায়। ব্রিটেনে চলচ্চিত্র দর্শকের ভিড় এতোটাই বেশি ছিলো যে, হলিউড প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি আয় করে। সেজন্য পরবর্তী সময়ে বাজার হিসেবে হলিউড সেন্ট্রাল আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়। এছাড়া যুদ্ধে আমেরিকার ভাবমূর্তি ভালো থাকায় তারা অন্যান্য ইউরোপীয় নিরপেক্ষ দেশগুলোতে ব্যবসা করে। এছাড়া কতোগুলো বিশেষ টেকনিক ব্যবহারের জন্য ইংরেজি ভাষাভাষী নয়, এ রকম দেশে তারা ব্যবসা করতে সক্ষম হয়। যেমন, স্পেনে তারা সাবটাইটেলের বদলে তাদের ভাষায় ডাবিং করে চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়।
চলচ্চিত্র, স্টেজ শো এবং অন্যান্য উপায়ে সামরিক বাহিনীতে নিয়োজিত নারী ও পুরুষদের বিনোদিত করার চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার, সামরিক বাহিনী ও চলচ্চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিশ্ববাজারে এ সময় মার্কিন চলচ্চিত্রের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যায়। শত শত চলচ্চিত্র জাহাজে করে যুদ্ধরত দেশগুলোতে পাঠানো হয়। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে মোশন পিকচার হেরাল্ড পাঁচটি চলচ্চিত্রের কথা উল্লেখ করে, যেগুলো সামরিক বাহিনীর লোকেরা পছন্দ করেছিলো-Guadalcanal Diary, Crash Dive, Destination Tokyo, Air Force ও Sahara। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে দুইশো ১৮টি কাহিনিচিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিভাগ সারাবিশ্বে বিতরণ করে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি শুধু উত্তর আমেরিকায় এক হাজার একশোটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন হয়, যা মাসে ১৭ বিলিয়ন দর্শক দেখার সুযোগ পায়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার চলচ্চিত্র দেখানো হয়, যেখানে দর্শকের সংখ্যা ছিলো এক দশমিক পাঁচ মিলিয়ন। স্টুডিওভিত্তিক উৎপাদন লক্ষ করলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে। নিচের সারণিটি এক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
|
Major Studio Output, 1940-1942 and 1943-1945 |
||||||
|
Company |
Number of Release |
% Decline |
||||
|
1940-1942 |
1943-45 |
|||||
|
20th Century Fox |
150 |
86 |
42.6 |
|||
|
MGM |
144 |
94 |
34.7 |
|||
|
Paramount |
137 |
85 |
37.9 |
|||
|
RKO |
136 |
108 |
20.5 |
|||
|
Warner Bros. |
127 |
59 |
53.5 |
|||
|
Total |
694 |
432 |
37.7 |
|||
|
Source: Motion Picture Year Book. |
||||||
আগেই বলেছি, লাভের দিক থেকেও যুদ্ধের সময়টি ভালোই ছিলো। (১৯৪২-১৯৪৫)-এর স্টুডিও ফাইন্যান্স বিষয়টি পরিষ্কারভাবে যা তুলে ধরে তা হলো, চারটি প্রধান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া মুনাফা করেছে। নিচের সারণিটি লক্ষণীয়।
|
Studio Finances, 1942-1945 |
|||
|
|
Total Revenues ($ millions) |
Net Profits ($ millions) |
% Profit Share |
|
Paramount |
575.6 |
57.8 |
24.8 |
|
MGM |
557.6 |
52.6 |
22.6 |
|
FOX |
572.4 |
46.5 |
20.0 |
|
Warners |
519.8 |
33.7 |
14.5 |
|
RKO |
321.2 |
18.8 |
8.1 |
|
Universal |
188.2 |
14.1 |
6.0 |
|
Columbia |
132.7 |
7.3 |
3.1 |
|
UA |
109.5 |
1.4 |
0.6 |
Source: Finler, Joel (1988: 31 & 286-87); The Hollywood Story; Crown, New York. & Sterling, Christopher H. and Haight, Timothy R. (1978: 184); The Mass Media : The Aspen Institute Guide to Communication Industry Trends; Ra Prager, New York. See also Gomery, Douglas (1986); The Hollywood Studio System; St. Martin’s, New York.
এই সময়ের প্রথম সারির তারকাদের একটি তালিকা নিচের সারণিতে দেওয়া হলো :
|
Top Ranked Stars, 1942-1945 |
|||
|
1. |
Gary Cooper |
11. |
Mickey Rooney |
|
2. |
Betty Grable |
12. |
James Cagney |
|
3. |
Bob Hope |
13. |
Clark Gable |
|
4. |
Bing Crosby |
14. |
Walter Pidgcon |
|
5. |
Abboh and Costello |
15. |
Dorothy Lamour |
|
6. |
Greer Garson |
16. |
Wallace Beery |
|
7. |
Spencer Tracy |
17. |
Cary Grant |
|
8. |
Humphrey Bogart |
18. |
Tyrone Power |
|
9. |
Judy Garland |
19. |
Alice Faye |
|
10. |
Bette Davis |
20. |
Van Johnson |
Source: Motion Picture Herald, 26 December 1942, p. 13; 25 December 1943, p. 13; 30 December 1944, p. 12; 29 December 1945, p. 13.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলিউডের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র জেনরাকে বিপর্যস্ত করে; যার ফলে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি প্রধান ধারা লক্ষ করা যায়-কমব্যাট ফিল্ম এবং হোম-ফ্রন্ট ড্রামা। কিন্তু যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে সব প্রধান জেনরাকে একটি সাধারণ যুদ্ধচিত্রের আলোকে একত্রিত করে। এটি শুধু কাহিনিচিত্রের বেলায় ঘটেছে এমন নয়, সিরিয়াল, নিউজ রিল শর্টফিল্ম ও কার্টুনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্নারস এবং ডিজনি যুদ্ধিভিত্তিক অ্যানিমেশন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের শুরুতেই ‘Any Bonds Today?’ নামে দুই মিনিটের একটি কার্টুন নির্মাণ করে। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তারা Saludos Amigos এবং Three Caballeros নির্মাণ করে।
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধকালীন ডিজনির সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ছিলো Der Fuehrer’s Face; এটি একটি কার্টুন ফিল্ম, যা অস্কার পায়। এ সময় অন্যান্য স্টুডিওগুলোও অ্যানিমেশনের দিকে বিস্তৃতভাবে মনোযোগ দেয়, কিন্তু ডিজনির বিষয়বস্তু ছিলো অনেক বেশি বিষয়নিষ্ঠ। প্যারামাউন্ট এ সময় নির্মাণ করে You’re a Sap Mr. Jap এবং Spinach Fer Britain। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে Tweententh Century Fox, Mighty Mouse নির্মাণ করে Mighty Mouse; এটি ছিলো অ্যানিমেটেড সুপারহিরো। তবে যুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিলো যুদ্ধ বিভাগ নির্মিত This The Army চলচ্চিত্রটি। এছাড়া প্যারামাউন্টের Star Spangled Rhythm, ওয়ার্নারের Thank Your Lucky Stars, Hollywood Canteen, এমজিএম-এর Thousands Cheer এই চলচ্চিত্রগুলোকে সঙ্গীতনির্ভর একটি আলাদা জেনরার মধ্যে ফেলা যায়। Four Jills in a Jeep এবং Here Come the Waves ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই গীতিনাট্য দুটি যথেষ্ট সাড়া জাগায়।
Throughout the 1940s, an increasing number of Hollywood films displayed and incipient darkness in tone, technique, theme, and narrative form, style that came to be termed film noir by postwar French critics. The term had clear associations with roman noir, which French Literary critics applied to the recent hard-boiled crime fiction and pulp melodramas by American writers like Dashiell Hammett, Raymond Chandler, James M. Cain, and Cornell Woolrich. And in fact this type of fiction was crucial to Hollywood’s development of film noir through a remarkable cycle of crime thrillers and detective films in the mid-1940s-notably Double Indemnity, Laura, Murder, My Sweet Phantom Lady, The Woman in the Window. The Mask of Dimitrios, and Christmas Holiday in 1944; Mildred Pierce, Cornered, Detour, Scarlet Street, and Hangover Square in 1945; and the Big Sleep, The killers, The Postman, Always Rings Twice, and the Blue Dahlia in 1946.৫৭
ফিল্ম নোয়ার ঘরানার চলচ্চিত্র ক্রাইম থ্রিলার এবং ডিটেক্টিভ চরিত্র নিয়ে ৪০-এর দশকেই একটি আলাদা জেনরা হিসেবে আবির্ভূত হয়। রবার্ট স্কলার (Sklar) যথার্থই বলেছেন, ফিল্ম নোয়ার ঘরানার চলচ্চিত্র Describes the psychology and the look not simply of a genre, but of a super singly pervasive tone in Hollywood films of the 1940s.৫৮ সাধারণত পুরুষোচিত অ্যাকশন ও ক্রাইম ফিল্ম এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত বিভিন্ন গোয়েন্দা উপন্যাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নোয়ারের উপজীব্য হয়েছে। দেবোরা টমাস বলেন, Most critics and viewers share a sense ... of the essential male-certeredness of film noir.৫৯ নোয়ারের অভ্যুদয় অবশ্য যুদ্ধপূর্বকালীন গোয়েন্দা চলচ্চিত্রে দেখা যায়। যেমন, The Maltese Falcon বা Citizen Kane। নারীদের নিয়ে চলচ্চিত্র Rebecca ও Suspiction এর মধ্যেও এটা দেখা যায়।
সেদিক দিয়ে বলা যায়, Shadow of a Doubt, Jane Eyre, Gaslight, Experiment Perilous ও Spellbound চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেও নোয়ারের প্রভাব রয়েছে। ক্রাইম থ্রিলারের মতো ফিমেল গথিক চলচ্চিত্র যুদ্ধপরবর্তী সময়েও বৃদ্ধি পায়। যেমন, , Undercurrent, The Spiral Staircase, The Locket, Dragonwyck। ১৯৩০-এর দশকে হরর ও গ্যাঙস্টার চলচ্চিত্রগুলো এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্র যেমন, জার্মান এক্সপ্রেশনিজম (১৯২০-এর দশক) এবং ফরাসি কাব্যিক বাস্তববাদকে (১৯৩০-এর দশক) নোয়ারের পূর্বসুরি হিসেবে গণ্য করা যায়। নোয়ার চলচ্চিত্র অবশ্য ৪০-এর দশকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ গ্রহণ করে। সেসময়ের বিশিষ্ট সিনেমাটোগ্রাফাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে নোয়ার চলচ্চিত্রগুলো সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক এবং আকরিক নন্দনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পল স্ক্যারাডার বলেন,
Film noir attacked and interpreted is sociological condition, and ... created a new artistic world which went beyond a simple sociological reflection, a night marish world of American mannarism which was by far more a creation than a reflection.৬০
স্ক্যারাডার মনে করেন, ৪০-এর দশক থেকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হলিউড চলচ্চিত্র কোনো না কোনোভাবে নাটকীয় নোয়ারের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ডেভিড ব্রোডওয়েল মনে করেন, নোয়ার চলচ্চিত্র প্রচলিত ধারার বা বর্ণনামূলক প্রবণতায় এগিয়ে যায় এবং ভালো, খারাপ, বীরত্বপূর্ণ ও দুশ্চরিত্র প্রকৃতির বিষয়গুলোকে ধারণ করে; অসন্তোষজনক সমাপ্তি টানার প্রবণতাও নিয়ে আসে। নোয়ার চলচ্চিত্রের থিমেটিক ও অ্যাটমোসফেরিক গুণাগুণ বর্ণনা করেন স্কলার।
The hallmark of film noir is its sense of people trapped-trapped in a web of paranoia and fear, unable to tell guilt from innocence, true identity from fabe. Its villains are attractive and sympathetic, masking greed, misanthropy, malevolence, Its heroes and heroines are weak, confused, susceptible to false impression. The environment is murky and close, the settings vaguely oppressive. In the end, evil is exposed, though often just barely, and the survival of good remains troubled and ambiguous.৬১
নোয়ার চলচ্চিত্রের ফরমাল ও স্টাইলিস্টিক গুণাগুণ বিচার করলে এটি বিস্ময়কর মনে হয় যে, গোয়েন্দা কাহিনি এর ভিত্তিভূমি রচনা করেছিলো। আসলে ‘Double Indemnity’ এবং ‘Mildred Pierce’ যুদ্ধকালীন দুটি ক্ল্যাসিক গোয়েন্দা রূপরেখা আরোপ করে। ফলে রোমান্টিক মেলোড্রামার সঙ্গে গোয়েন্দা কাহিনির একটি মিশ্রণ ঘটে। গোয়েন্দা কাঠামো নোয়ার স্টাইলকে শক্তিশালী করে। এবং আরো বিভিন্নভাবে ব্যবহারিক গুণাগুণ আরোপ করে। এছাড়া উজ্জীবিত করে এ ধরনের চলচ্চিত্রের আবেদনকে। অন্যদিকে উপন্যাসের আবেদনও রক্ষা করে। পরিশেষে বলা যায়, নোয়ার ডিকেটিভ চলচ্চিত্রগুলোতে স্টাইলের ব্যাপারটি মুখ্য এবং এই স্টাইল মূলত নায়কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নায়ক এখানে একজন স্বনির্মিত অস্তিত্ববাদী, যে তার নিজের মতো সুবিচারের নিয়ম আবিষ্কার করে। কারণ প্রতিষ্ঠিত প্রশাসন ও কোর্ট অপরাধীদের স্বপক্ষে কাজ করে। তার এই আদর্শভিত্তিক কাজকর্ম শেষত ব্যর্থ হয়। তবে নোয়ার গথিক্স প্রচলিত নিয়মকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। যেমন, Shadow of a Doubt, সেখানে গথিক ফরমুলা প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি যুদ্ধকালীন প্রথম ফিমেল গথিক চলচ্চিত্র। ফিমেল গথিক এবং সরাসরি গোয়েন্দা চলচ্চিত্র সামাজিক অবস্থা এবং উৎকণ্ঠা ধারণ করে। যুদ্ধত্তোরকালে এই পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে।
সরাসরি যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংখ্যা অনেক কম। নিচের সারণি থেকে সেটি অনেকটা স্পষ্ট হয়।
|
World War II-Related Hollywood Features 1940-1947 |
|||
|
Year |
Total War Films |
Total Films |
% War Films |
|
1940 |
12 |
477 |
2.5 |
|
1941 |
32 |
492 |
6.5 |
|
1942 |
121 |
488 |
24.8 |
|
1943 |
151 |
392 |
38.5 |
|
1944 |
76 |
401 |
19.0 |
|
1945 |
28 |
350 |
8.0 |
|
1946 |
13 |
378 |
3.4 |
|
1947 |
2 |
369 |
0.5 |
Source: Shain, Russell Earl (1976: 31); An Analysis of Motion Pictures About War Relaased by the American Film Industry, 1939-1970; Arno, New York.
যুদ্ধপরবর্তী সময়ে জেনরাভিত্তিক বিকাশ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুদ্ধচিত্র বা কমব্যাট ড্রামা দ্রুত হারিয়ে গেছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি চলচ্চিত্র যুদ্ধভিত্তিক বলে মেনে নেওয়া যায়-They Were Expendable, A walk in the Sun । ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের পর চলচ্চিত্র নির্মাণ কয়েক বছরের জন্য থেমে যায়। অনেকগুলো ড্রামা এ সময় তৈরি হলেও তারা এককভাবে যুদ্ধভিত্তিক চিত্রের আওতায় পড়ে না। এরপর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়-Battleground, Twelve O’Clock High ও Sands of Iwo Jima। নিউ ইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেন, Battleground দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সর্বাধিক উৎকৃষ্ট হলিউড চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটিকে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মহাযুদ্ধের ওপর নির্মিত বিগ প্যারেড-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
হলিউড ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে অ্যাকশন, ওয়েস্টার্ন ও নোয়ার থ্রিলার নির্মাণে মনোনিবেশ করে। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে অ্যাকাডেমি মনোনীত সর্বোত্তম চলচ্চিত্রগুলো হলো-The Best Years of Our Lives, It’s a Wonderful Life, The Razor’s Edge, Henry V এবং The Yearling। এই চলচ্চিত্রগুলো অধিকাংশই বড়ো বড়ো লেখকের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। ঞযব ণবধৎষরহম মূলত বাবা-ছেলের সম্পর্কের ওপরে নির্মিত, যেখানে বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেন গ্রেগরি পেক। তিনি পরবর্তী সময়ে অস্কারের জন্য মনোনীত হন। The Razor’s Edge সমারসেট মমের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। অন্যান্য সব চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে The Best Years of Our Lives, যেখানে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তিন জন চাকরিজীবীর ফিরে আসা ও পুনঃঅভিযোজন বিষয়ক ড্রামা দেখানো হয়েছে। এটি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে মার্কিন জীবন অভিজ্ঞতার সার্থক চলচ্চিত্রায়ণ, যা হলিউডকে পুনরায় সামাজিক চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে নিয়ে আসে। দুজন নারীর চমৎকার অভিনয় সত্ত্বেও চলচ্চিত্রটি পরিষ্কারভাবে পুরুষকেন্দ্রিক। অনেকগুলো বাণিজ্যিক ও ক্রিটিকাল সাকসেস থাকা সত্ত্বেও এটি একটি যুদ্ধোত্তর পুরুষভিত্তিক মেলোড্রামা।
তবে ৪০-এর দশকের শেষে ওয়েস্টার্ন পূর্ণোদ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করে। জেনরার দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে হলিউডে নির্মিত কাহিনিচিত্রের ৩০ শতাংশই ছিলো ওয়েস্টার্ন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ৬১টি ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়। অ শ্রেণিভুক্ত অধিকাংশ ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র ফক্স, এমজিএম, ওয়ার্নারস এবং প্যারামাউন্টের নির্মিত। এ সময় আর কে ও (RKO) ২৫টি B গ্রেডের ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। এছাড়া ইউনিভার্সাল ১৪টি ও কলাম্বিয়া ৭২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, যা বিগ এইট নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রায় অর্ধেক।
ইনডিপেন্ডেন্ট কোম্পানিগুলো নির্মাণ করে দুইশো ৪৬টি ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র (এসবই ১৯৪৬-১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে নির্মিত)। B গ্রেডের ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্রগুলো প্রধানত বয়ঃসন্ধিকালীন দর্শকের জন্য জনপ্রিয় হলেও A গ্রেডের ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র বয়স্কদের জন্য মনোজ্ঞ হয়েছিলো। তবে এই ধরনের চলচ্চিত্রগুলো ছিলো যৌন মনস্তাত্ত্বিক। Red River চলচ্চিত্রটি সেদিক থেকে বীরত্বগাঁথা। Pursued ও Yellow Sky ছিলো অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের। স্বাধীনধারার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত Pursued পারিবারিক বিশৃঙ্খলা ও প্রতিশোধমূলক হত্যার কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত। Yellow Sky শেক্সপিয়রের ‘দ্য টেমপেস্ট’ ও জোহা হাস্টনের ‘The Treasure of the Sierra Madre’-এর মিশ্রিত রূপ। এই চলচ্চিত্রটিতে লালসা, লোভ ও সহিংসতার ব্যাপক অনুপ্রবেশ লক্ষ করা যায়।
লেখক : প্রফেসর মুহাম্মদ হাসান ইমাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
himam_ru@yahoo.com
তথ্যসূত্র ও টীকা
৫৩. Schatz, Thomas (1997: 131); Boom and Bust: The History of American Cinema in 1940s; Charcles Scriber’s Sons, New York.
৫৪. Rich, Nathaniel (2005: 8); San Francisco Noir; Little Bookroom, New York.
৫৫. Parker, R A C (1989: 132); Struggle for Survivals: The History of the Second World War; Oxford University Press, New York.
৫৬. Motion Picture Herald, 27 December 1941, p. 17. See also Jowett, Garth (1976: 311); Film, the Democratic Art: A Social History of American Film; Little Brown, Boston.
৫৭. Cook, David A. (1997: 232); `A Gistory of Narrative Film’; Boom and Bust: The History of American Cinema in 1940s; Charcles Scriber’s Sons, New York.
৫৮. Sklar, Robert (1975: 253);. Movie-Made America: A Cultural History of American Movies; Random House, New York.
৫৯. Deborah, Thomas in Schatz, Thomas, op. cit. p. 233
৬০. Schrader, Paul (1997: 235); `Note on Film Noir’; Boom and Bust: The History of American Cinema in 1940s; Charcles Scriber’s Sons, New York.
৬১. প্রাগুক্ত; sklar (১৯৭৫: ২৫৩).
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন