প্রকাশিত ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
ম্যাজিক আড্ডা
যৌনতার হাত ধরেই কি বাংলা ছবি সাবালক হবে?

নারী অভিনয়শিল্পীরা শরীরের কতোটুকু দেখাতে পারবে, কতোটুকু দেখালে ‘অশ্লীল’ হবে; আবার পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে নিয়মের বালাই নেই কেনো¾এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এই বিতর্ককে আরো জোরালো করে ছত্রাক (২০১১) নামের একটি চলচ্চিত্র। যার নির্মাতা শ্রীলঙ্কান বিমুক্তি জয়সুন্দরা। কোনোভাবে চলচ্চিত্রটির একটি ‘নুড’ ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে প্রকাশ পায়, যেটি কিনা মূল চলচ্চিত্রে দেখানো হয়নি। যদিও সেই ক্লিপে টালিগঞ্জের পাওলি দাম ও অনুব্রত’কে দেখা যায়; কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে কেবল পাওলিকে নিয়ে; প্রশ্ন ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের মান নিয়েও। এ রকম পরিস্থিতিতে ‘যৌনতার হাত ধরেই কি বাংলা ছবি সাবালক হবে?’ শিরোনামে ভারতের স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘স্টার আনন্দ’ আলোচনার আয়োজন করে। সেখানে সুমন দে’র সঞ্চালনায় উপস্থিত হন সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা পাওলি দাম ছাড়াও গৌতম ঘোষ, অঞ্জন দত্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষ, হরনাথ চক্রবর্তী, প্রীতম, চন্ডিল ভট্টাচার্য, সুমন মুখোপাধ্যায় ও পরমব্রত। আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্র, নারী স্বাধীনতা, যৌনতার নানা দিক ও সেন্সরশিপ। সেই আলোচনার ভিডিওটি ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে ম্যাজিক লন্ঠন-এর পাঠকের জন্য অনুলিখন করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে অবশ্য এই লিঙ্কটিতে https://www.youtube.com/watch?v=OOpDLGkCtjg ; retrieved on : 10.10.2016 ঢু মেরে আসতে পারেন মূল ভিডিওটি দেখার জন্য। আড্ডার প্রথম পর্ব এবার প্রকাশ করা হলো।
সুমন দে : নমস্কার, আপনারা দেখছেন ‘স্টার আনন্দ’, আর আপনাদের সঙ্গে আছি আমি সুমন। অনুষ্ঠানের শুরুতে গত রবিবার ভূমিকম্পে আমাদের রাজ্য এবং প্রতিবেশী কয়েকটি রাজ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রতিটি পরিবার ও প্রত্যেক মানুষের জন্য আমাদের তরফ থেকে সমবেদনা। প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি জগতেও একটা ভূমিকম্প হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ, কয়েক দিন আগে আমরা জানতে পেরেছি, এই প্রথম একজন বাঙালি নায়িকা সম্পূর্ণ নিরাবরণ হয়ে দ্বিভাষিক একটি চলচ্চিত্র¾বাংলা এডিশনে যার নাম ছত্রাক¾তার জন্য ক্যামেরার সামনে এসেছেন। আজকে আমাদের টাউনহলের গোটা অনুষ্ঠানটি, যদি ইমেডিয়েট প্রভোকেশন বলে কিছু থাকে, তাহলে সেই ঘটনা এবং তা থেকে উদ্ভূত বিতর্ক। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা চাই না যে, আজকের এই অনুষ্ঠান, এই আলোচনা কোনোভাবেই কেবল সেই বিতর্কের মধ্যে সীমিত থাকুক। আমরা চাই এই বিতর্ক, পাওলি ঠিক করেছে, না ভুল করেছে, তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু আলোচনা, নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবে। বিশ্বাস করুন, এই আলোচনার অজুহাতে কিছু ক্লিপিংস দেখিয়ে, কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে, কিছু কৌতুহলী মানুষের কৌতুহল নিবৃত করা এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য নয়।
আমরা যে সিরিয়াস বিষয়টাকে ছুতে চাইছি, সেটা হচ্ছে সাবালকত্ব ঠিক কী? বাংলা সিনেমা এই বিতর্ক থেকে ঠিক কী পেলো বা কী পেতে পারে? এবং যৌনতার হাত ধরে কি তথাকথিত সাবালকত্বে পৌঁছাতে পারে বাংলা সিনেমা? আজকে আমাদের এই বিষয় কিন্তু এই বিতর্ককে ছাড়িয়ে উঠতে পারবে¾এমন আশা নিয়ে টাউনহলের ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে, গৌরবান্বিত মঞ্চ থেকে আমরা এই অনুষ্ঠান শুরু করছি।
এই মুর্হূতে আমার সঙ্গে মঞ্চে যে অতিথিরা আছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবো; আরো কয়েকজন অতিথি কিছুক্ষণের মধ্যে অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। আমার ডান দিকে আছেন পাওলি দাম, গৌতম ঘোষ, হরনাথ চক্রবর্তী, প্রীতম; বা দিকে অঞ্জন দত্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষ, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য। পাওলি তোমাকে দিয়ে শুরু করবো। যেহেতু বিতর্ক কথাটা এলো, এই রকম একটা পার্সেপশন আছে, অনেকে বলছে ভাগ্যিস বিক্রম ভাটের সিনেমাটা তোমার হাতে ছিলো; কারণ টালিগঞ্জে তুমি কোণঠাসা হয়ে গেছো; কার্যত নায়িকাদের একটা সামাজিক অবস্থান থাকে; সেখানে এমন একটা ছি ছি ধ্বনি উঠেছে; যেটা সামাজিকভাবে এবং প্রফেশনালি একজন নায়িকার¾নায়িকার ক্ষেত্রে পাবলিসিটি অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে সেটা ভীষণ ভালো, কিন্তু সামাজিক অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে কোথাও একটা নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ, সমালোচনা প্রতি মুহূর্তে তোমাকে আঘাত করছে, তাতে কি তুমি আহত?
পাওলি দাম : না, আমি একেবারেই আহত নই। কারণ প্রথমত বলি, সিনেমা ডিরেক্টরস মিডিয়াম। আমি যাদের সঙ্গে¾মানে এখানে যারা যারা আছেন, গৌতম দা, ঋতু দা, অঞ্জন দা, এরা সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছেন; ইনফ্যাক্ট ঋতু দা আমাকে ফোন করেছিলেন। গৌতম দার সঙ্গে কথা হয়েছিলো, অঞ্জন দার সঙ্গেও কথা হয়েছে। সেন্সিবল যারা ফিল্ম জগতে আছেন, তারা প্রত্যেকে আমাকে সাপোর্ট করেছেন। এবার হ্যাঁ, কুৎসা তো কিছু শুনতেই হয় নতুন কিছু করতে গেলে। তবে কোনো কিছু প্রুফ করার জন্য এ সিনেমাটা নয়। প্রথমত বলি, প্রত্যেক শুক্রবার করে যে বাংলা সিনেমাগুলো রিলিজ হয়, তা থেকে ছত্রাক কিন্তু আলাদা। পরিচালক বাঙালি নন, ভারতীয় নন, শ্রীলঙ্কান¾বিমুক্তি জয়সুন্দরা। আমি যেরকম বাংলায় আমার পরিচালকদের বিশ্বাস করে সিনেমা করি, তাদের পার্সেপশনের ওপর আস্থা রেখে সিনেমা করি¾আজকে যদি ঋতু দা, গৌতম দা কিংবা অঞ্জন দা আমাকে এ রকম কিছু করতে বলে; তাহলে দুটি জিনিস হতে পারে; আইদার সিনেমাটা ছেড়ে দিতে হবে, কিংবা তাদের ওপর আস্থা রেখে করতে হবে।
সুমন : নিজের কনভিন্সড হওয়ার তো একটা ব্যাপার থাকে?
পাওলি : আই অ্যাম অ্যাবসুলুটলি কনভিন্সড উইথ দ্য ডিরেক্টর। আমি কনভেন্স ছিলাম বলেই তো কাজ করেছি। কারণ, যখন আমার কাছে স্পিনালের সিনেমাটার অফার এসেছিলো¾তখন আমি গৌতম দার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমার কি এটা করা উচিত? কারণ সেখানে অনেক নুড সিন ছিলো। সত্যি কথা বলতে কী, আমি তো প্রথম নই, যে এ রকম শট্ দিয়েছি। এর আগেও ইতিহাসে অনেকে অনেক কিছু করেছে, হয়েছে। গৌতম দা বলেছিলো, নুডিটি ইজ নাথিং ইন নিউ সিনেমা, হোয়াই নট ফর সিনেমা। সিনেমার জন্য করতেই পারো তুমি। মনের মানুষ-এর সঙ্গে ডেট ক্ল্যাস হয়েছিলো, আরো কয়েকটা বিষয় ছিলো, যার জন্য কাজটা আমি করতে পারিনি। বাট ছত্রাক করার জন্য যে আমি দুঃখিত, লজ্জিত¾আমি একেবারে সেটা নই। আর বিক্রম ভাটের সিনেমা না থাকলেও আমি সেটায় থাকতাম না। বিক্রমের সিনেমাটা এসেছিলো হঠাৎ করে। তখন তো আমি জানতাম না যে, এই শট্ নিয়ে কথা হচ্ছে; সেটা পাইরেসি করা হয়েছে। এটা সাইবার ক্রাইম বলতে পারো! সেটার জন্য অ্যাকশনও নিয়েছে আমাদের প্রোডিউসাররা। কিন্তু তখন তো আমি জানতাম না, এই জিনিসটা লিক হতে পারে; এ রকমভাবে আসতে পারে! অভিয়াসলি আমার মাথায় কিন্তু এতো কিছু ছিলো না। আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট ট্রাস্ট করে, অ্যাজ অ্যান আর্টিস্ট হিসেবে, অভিনেত্রী হিসেবে যা যা করণীয় সেটা করেছি।
সুমন : এ মুহূর্তে টালিগঞ্জে তুমি কী একঘরে?
পাওলি : না! আমাকে তো ঋতু দা সাপোর্ট করেছে; অঞ্জন দা, গৌতম দা, শেখর দা, আমার প্রোডিউসাররা সাপোর্ট করেছে। কোনো কোনো অ্যাক্টরসও সাপোর্ট করেছে, সবাই করেছে বলবো না। কিন্তু কোনোদিনও নিজেকে একঘরে মনে করিনি।
সুমন : অঞ্জন দা তোমার কাছে আসবো। অঞ্জনা আমি আর আসবো নাতে তুমি ৬০ শতাংশ দৃশ্যে অর্ধনগ্ন হয়েছিলে; কেবল অন্তর্বাসে তোমায় দেখা গেছে। তোমার সিস্ক প্যাক আছে, এ রকম দাবি তুমি যৌবনেও করোনি। মধ্যবয়সি পুরুষের ক্ষেত্রে অন্তর্বাসে তাকে দেখা গেলে বির্তক হয় না, নুডিটির কোনো অসুবিধা হয় না; নারী হলে কী আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়? গোটা বিষয়টাকে তুমি কীভাবে দেখছো, তোমার সিনেমার ক্ষেত্রে কি এ রকম দৃশ্যের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে?
অঞ্জন দত্ত : আমি দুটো কথা বলতে চাই; প্রথমত, যেকোনো শিল্পকর্ম বা ফর্ম অব আর্ট¾সেটা থিয়েটার হতে পারে, সিনেমা, পেইন্টিং হতে পারে¾দুটো জিনিস কিন্তু খুব ইম্পোর্টেন্ট, সেক্স আর ভায়োলেন্স। এই দুটোকে বাদ দিয়ে কোনো ধরনের শিল্পকর্ম হয় না। এখন এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, থিয়েটার, সিনেমায় এখনো প্রকাশ্যে চুমু হয় না। এটা খুব খুব রেয়ার! আমি থিয়েটার করতে গিয়ে, দু-একবার এটা করতে গিয়েছিলাম¾বন্ধই করে দেওয়া হলো থিয়েটার। বাংলা সিনেমায় ওই ধরনের যৌন দৃশ্য দেখানো হয় না, কোথাও গিয়ে আমরা সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে বিতর্কে যাই না। কোনোমতে সিনেমাটা একটু একটু দেখিয়ে বেরিয়ে যাই: এটাতে আমার মনে হয়েছে, অনেক সিনেমার ক্ষতি হচ্ছে।
এখানে আমি অনেক সিনেমার নাম বলতে পারি, যেটাতে এ ধরনের দৃশ্য ডিমান্ড করছে। একটা নারী-পুরুষের সম্পর্ক দেখানো ডিমান্ড করছে¾একটু চুমু ডিমান্ড করছে অনেক থিয়েটারে, আমি এটা বলতে পারি। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে করা হয়নি¾রুচি, ভয়, এটা সেটা দিয়ে। এটা আমার কাছে দুঃখজনক বলে মনে হয়। আমাদের যথেষ্ট এগিয়ে যাওয়া উচিত, বাংলা সিনেমায় এগুলো থাকা দরকার। আর রুচির প্রশ্ন যদি আসে, রুচিটা কম্পিলিটলি ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিহ্যাভ অ্যা উইথ গভর্মেন্ট, হ্যাজ ফিক্সড অব সার্টিফিকেশন বোর্ড। সার্টিফিকেশন বোর্ড যদি সিনেমাটা পাস করে দেয়, তারপর রুচি-টুচি, কার কি মনে হচ্ছে এটা ফ্যাক্ট নয়। এটা পার্সোনাল ম্যাটার। আমার যেমন অধিকাংশ মেইনস্ট্রিম সিনেমাতে কোমর দুলিয়ে হিরো-হিরোইনের নাচ কুরুচিপূর্ণ লাগে। আই থিঙ ভেরি ভালগার। বরং আমি যখন দেখি সিনেমায় দুটো ভয়ঙ্কর ভালো শরীর, তারা প্রেম করছে। আই থিঙ ভেরি বিউটিফুল; আমার সেটা ভালো লাগে।
তো সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোথাও গিয়ে আমার একটা আক্ষেপ আছে, আমাকে মাঝে মাঝে তার শিকার হতে হয়েছে। বো ব্যারাকস করতে গিয়ে আমি প্রবলেম ফেইস করেছি, সেন্সরড সিনেমা অথচ আপত্তি উঠেছে; কেনো এ রকম, এখানে এতো সেক্স দেখানো হচ্ছে? মাইনরিটি কমিশন থেকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হলো, এগুলোকে আমাকে নিজের মতো করে একটু একটু করে ফেইস করতে হয়েছে। ঋতুর সিনেমা একবার একটা ক্রাইসিসে পড়েছিলো; আমার মনে হয়, একটা সময় একটা জায়গায় গিয়ে এগুলো না আস্তে আস্তে আসা উচিত! এখনো যদি কার শরীরে কী দেখা গেলো, কে চুমু খেলো, কে জামা-কাপড় খুলে ফেললো¾এইসব নিয়ে চিন্তা হয়। তাহলে তো আর কিছু বলার নেই। দিস ইজ স্যাড! এখনো আমরা এভাবে ভাবছি। আই থিঙ দ্যাট পাওলি ইজ ব্রেইভ অ্যাক্ট্রেস। কেউ যদি এ ধরনের সিন করে, সি ইজ ব্রেইভ অ্যাক্ট্রেস। এটা সাহস। এখানে সাহসিকতার একটা ব্যাপার আছে, এটা আমি মনে করি।
আমার একটা সিনেমা আসছে, ব্যোমকেশ। একজন অ্যাক্টরকে আমি বললাম, তোমাকে চুমু খেতে হবে। নাম বলতে চাই না সে অ্যাক্টরের। অ্যাক্টর বললেন, চুমুটা খাওয়া যাবে না, ওটা না হয় না রাখো! আমি বললাম, তোমার অসুবিধা কোথায়, তুমি তো অ্যাক্টর! না, কোথায় গিয়ে তার অসুবিধা হচ্ছে! সে বিবাহিত, তার অ্যাক্টর পরিচিতি আর স্বামী পরিচিতি কোথাও গুলিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অসুবিধা হয় কিন্তু মানুষের। অথচ অপর্ণা সেনের সিনেমাতে আমি আর দীপা প্রচুর চুমু খেয়েছি।
সুমন : দেখা গেলো ডাক্তার তাকে চুমু খেতে বারণ করেছে!
অঞ্জন : না! আমি বলছি, আমরা কোথাও গিয়ে আটকে আছি। তুমি প্রথম যে কথাটা তুললে, সেটা ফ্যাক্ট। আমি প্রশ্নটা তুলতে চাই। আমার সিনেমার অ্যাক্টর অনুব্রত বসু, সে গান্ডু বলে একটা সিনেমা করেছে, সেটা কমপ্লিটলি নুড। সেখানে প্রকাশ্যে পুরো একটা সেক্স দেখানো হচ্ছে।
ঋতুপর্ণ ঘোষ : যে সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটাতে অনুব্রতও আছে। তাহলে যতো দোষ নন্দ ঘোষ; সব দোষ পাওলির কেনো!
অঞ্জন : পাওলি মেয়ে বলে কী এই প্রশ্নটা আসছে! ছেলেদের কিন্তু অনেক দেখেছি আমরা।
ঋতু : এ দৃশ্যটাতে তো আরেকজন বাঙালি অভিনেতা আছেন!
অঞ্জন : অ্যাকজ্যাক্টলি, সেখানে কেনো এই প্রশ্নটা উঠছে না? পাওলিকে বলা হচ্ছে বা কেনো? এটা আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগছে! যদি বলতে হয়, প্রশ্ন তুলতে হয়¾সেটা ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। একজন অ্যাক্ট্রেসকে এভাবে কেনো অ্যাটাক করা হচ্ছে, এটা আমার কাছে পিছিয়ে পড়া কাওয়ার্ডলি অ্যাক্ট মনে হয়। ইন অ্যা সিচুয়েশন যেখানে এখনো সাবলীলতার প্রশ্ন¾আই থিঙ ইজ অ্যা ভেরি কাওয়ার্ডলি অ্যাক্ট ক্রিটিসাইজ হার, রাদার দেন সেলিব্রেট; একজন সেটা করতে পেরেছে। সিনেমাটা ভালো কি খারাপ, সেটা দরকার ছিলো কি ছিলো না, সেটা অডিয়েন্স বিচার করে নেবে।
সুমন : এই জায়গাটা থেকে গৌতম দার কাছে আসবো, কোথাও কি দর্শক হিসেবে আমাদের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হয়ে যায় না? যখন কেউ একটা, তিনি মিডিয়া পণ্ডিত হতে পারেন, কোনো মহল হতে পারে¾তারাই বলে দিচ্ছে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ! দর্শকের কাছে ছেড়ে দেওয়া হোক, দর্শকই জবাব দিবে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। তারা ভালো মনে করলে গ্রহণ করবে, ভালো না মনে হলে রিজেক্ট করবে।
গৌতম ঘোষ : এটা হচ্ছে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, আমাদের দেশ এবং সমাজ ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে ভর্তি। এখন টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরিতে মেয়েদের যেভাবে পণ্য করা হচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনো করা হয়নি। একটা নস্যির বিজ্ঞাপনে অর্ধ উলঙ্গ নারীর ছবি। কোনো নারীকে নস্যি নিতে দেখেছো কখনো! সবকিছুতেই নারীর ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। এরাই আবার ঘোমটা টানছে; তারাই সিনেমার উলঙ্গ নরনারী দেখে বলছে¾এ আবার কী! আরে এই নারীকেই তুমি ব্যবহার করছো, তাকে বিক্রি করছো। এখানে বোধ হয় নারীবাদী আন্দোলনের লোকেরাও বাজারের ঢেউয়ে ভেসে গেছে। বাজার তাদের খেয়ে ফেলেছে, এটা একটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। আসল কথা হলো, দর্শকের ওপর ছেড়ে দাও। আর সিনেমাতে যেটা প্রয়োজন চিত্রনাট্যকার, পরিচালক তারা সেটা ভেবেই করেছেন। কারণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা হচ্ছে সাদা পাতা। তার ওপর আমরা লিখি, চরিত্র অঙ্কন করি এবং ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেটা অ্যাকসেপ্ট করে, সেই মতো কাজ করে। এতে সমাজ কী বললো, কিছু যায়-আসে না। এগুলো শর্টলি মেমোরি, বেশি দিনের নয়। অঞ্জন আর দেবশ্রী আমার সিনেমায় লিপ লক করেছে, তার পরও তো দেবশ্রী ভোটে জিতে গেলো।
অঞ্জন : আমার বউয়ের সঙ্গে তো কোনো প্রবলেম হয়নি।
গৌতম : হয়নি তো! সমস্যাটা কোথায় আমাদের সমাজ এতো ভাগে বিভক্ত, এতো রকমে সংস্কৃতি সমান্তরালে চলে, মূল্যবোধ সমান্তরালে চলে। তার জন্য আমাদের¾মনে আছে আমার দখল সিনেমাতে, বহু বছর আগে মমতা শঙ্করের একটা সঙ্গম দৃশ্য ছিলো, পাশে বাচ্চাটা কেঁদে ওঠে। সেটা আমাকে এমনভাবে করতে হয়েছে¾আমি জানতাম এর বাইরে সেন্সর আমাকে করতে দেবে না। আমার সিনেমাটা আমি দেখতে পাবো না। বিদিপতা ও শাশ্বতর একটা ওরাল সেক্স ছিলো আবার অরণ্যে, সেটা অন্যভাবে দেখাতে হয়েছে। কিন্তু সেটা উপায় ছিলো না। এখনো কতোগুলো জায়গা হয়ে আছে, যেটা নিয়ে পরবর্তী প্রসঙ্গে আসবো। সেন্সর কেনো? পরবর্তী জায়গায় আসবো। তাই এই ব্যাপারগুলো দর্শকের কাছে ছেড়ে দাও। আর মনে হয়, প্রত্যেক পরিচালকের ভিতরে একটা সেল্ফ সেন্সরশিপ আছে; সে জানে রুচি অনুযায়ী। অঞ্জন যেটা বললো সেক্স অ্যান্ড ভায়োলেন্স, পার্ট অব অ্যানি আর্ট, পার্ট অব অ্যানি থিয়েটার। সমস্ত মহাভারত ভর্তি সেক্স অ্যান্ড ভায়োলেন্স। তবে ভায়োলেন্সের থেকে সেক্স বেটার। ভায়োলেন্স তো মানুষকে আক্রমণ করে, ধ্বংস করে। সেক্স তো একজন আরেকজনকে আনন্দ দেয়, আদর করে। ফলে আমার মনে হয়, এটা একদিক দিয়ে চিন্তা করা উচিত; ডাবল স্ট্যান্ডার্ড থেকে বের হয়ে আসা উচিত! এটা আমার ধারণা।
সুমন : এবার ঋতু দার কাছে আসছি; একটা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আমার মনে হয়, অন্দরমহল যখন রিলিজ হলো তখনো একই শব্দ তোমাকে শুনতে হয়েছিলো। যেটা আজকে পাওলিকে বিচ্ছিন্নভাবে শুনতে হচ্ছে। আর তোমার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ঋতু প্লাস পর্ণ¾ঋতুপর্ণ। যেটা আমরা ছাপার অক্ষরে দেখেছি। এইটাকে তুমি কী বলবে, এই বির্তক এবং এ নিয়ে তোমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা?
ঋতুপর্ণ ঘোষ : আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলতে গেলে, প্রথমে আমি আজকের এই মোশনটাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। বাংলা সিনেমা যৌনতার হাত ধরে সাবালক হবে কি না? বাংলা সিনেমা ইজ দ্য মোস্ট প্রবলেম্যাটিক ওয়ার্ড হেয়ার। আমরা সারা পৃথিবীর দর্শকের জন্য সিনেমা তৈরি করি, বাংলা ভাষায়; কথাটা বাংলাভাষীর সিনেমা হলে আমার পছন্দ হতো! কারণ বাংলা সিনেমা কথাটা বললেই, দর্শকের মনে একধরনের মরাল এবং কালচারাল কন্সটিটুয়েন্সি তৈরি হয়। যেটা ভঙ্গুর এবং যেখানে আঘাত করাটা খুব সোজা, যেখানে প্রোভক করলে অনেকগুলো অ্যাডভান্স রিয়্যাকশন খুব চট করে উঠে আসে। অতএব বাংলা সিনেমার কথা বাদ দিয়ে, আজকে টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরিতে দাঁড়িয়ে আমরা ওয়ার্ল্ড সিনেমার কথা ভাবি, যে সিনেমাগুলো বাংলা ভাষায় তৈরি হয়েছে। আমরা নিশ্চয় ছত্রাককে সেরকম একটা সিনেমাই ভাবছি। তাহলে হঠাৎ আজকে মোশনটা বাংলা সিনেমার দিকে কেনো? আমরা কি এখনো অন্নপূর্ণার মন্দির-এর যুগে পড়ে আছি! নেই, আশা করি। সেই সময়ে সেই ছবিটার প্রয়োজন ছিলো, দর্শক ছিলো, বাবা তারকনাথ একসময় অনেক ব্যবসা করেছিলো। সেই সিনেমাগুলো যেমন¾তাদেরও একটা ভ্যালিডিটি আছে, উইথ দ্য সারটেইন সেকশন অব অডিয়েন্স; প্রত্যেক সিনেমার তো একটা জায়গা আছে।
আমার একটা প্রশ্ন, যে ক্লিপিংটা নিয়ে কথা হচ্ছে, আমরা কিন্তু সেই সিনেমাটা দেখিনি। এটা অন্যায়ভাবে প্রকাশিত, সেটা আইন সঙ্গতভাবে প্রকাশিত নয়। একটা ক্লিপিং দেখে আমরা পুরো জাজমেন্টটা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রশ্ন, এই দৃশ্যটা যদি অ্যানিমেটেট হতো, তাহলে কি এতোটা রিয়্যাকশন হতো?
সুমন : বা পাওলি যদি শুরুতে বলে দিতো, আমি এটা করিনি!
ঋতুপর্ণ : না, যদি ছবি আঁকা ক্যারেক্টার দিয়ে হতো! তাহলে রিয়্যাকশনটা এতো প্রবল হতো? বা পাওলি না করে যদি এটা একজন অচেনা মুখ করতো! তার মানে আমাদের আইডেন্টিফাইয়েবল মুখ আমাদের মরাল গ্রাউন্ডটা ট্রেস পাস করেছে, এইটা আমাদের প্রবলেম তো। এটা জুলিয়েট বিনোস করলে কোনো প্রবলেম নেই কারো। বিকজ দ্য মোমেন্টস কামস টু পাওলি; আমি কিন্তু পাওলি নামকে ডিফাইন করতে আসিনি। দ্য অ্যাক্ট, আর্টিস্টিক অ্যাক্ট; যেটা ও (পাওলি) ডিসপ্লে করেছে, আমি সেটার পক্ষে কথা বলতে চাই। যেটা জুলিয়েট বিনোস করলে হতো না, কেটমিলস স্টেট করলে হতো না। কিন্তু সি ইজ ক্লোজ হোম; এই বির্তকে খুব সহজেই ওকে ভিক্টিমাইজ করা যায়। এবং আর একটা কথা, এই দৃশ্যটাই যদি রেইফ সিক্যুয়েন্স হতো, যেখানে উইমেন ইজ অ্যা ভিক্টিম; তাহলে কিন্তু ভিক্টিমলজিটা আমরা এনজয় করতাম।
শেখর কাপুরের ব্যান্ডিট কুইন-এর নুডিটি নিয়ে অনেক কথা হয়েছিলো; কিন্তু য়েন্ড অব দ্য ডে ইন ফুলনদেবী নিজে বলেছিলেন, না এ রকম হয়নি কিছু। কিন্তু ওটা পাস করে যায়, অনেকটা জাস্ট অন দ্য গ্রাউন্ড অব ভিক্টিমলজি। যে মুহূর্তে একজন নারী তার নিজস্ব ডিজায়ারটাকে এক্সপ্রেস করে, সেই মুহূর্তে আমাদের প্রবলেম হয়। মার্ক টুয়েনের একটা সুন্দর কথা আছে¾দে সি লাইস ফর অ্যানিবডি ওয়ান্টস টু গ্লো টু হার, অ্যান্ড দে সি লাইস ইন হার ওন রাইট। এটা খুব ইম্পোর্টেন্ট কথা¾দে সি লাইস ইন হার ওন রাইট। আমরা ওন রাইটটাকে সম্পূর্ণ ...। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবার আগে আমাদের যৌনতার অধিকার নিয়ে বিতর্কটা তোলা উচিত।
গৌতম : তুমি যে কথাটা বললে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নারীদের যেহেতু সহজে ভিক্টিম করা যায়। যে রকম বাত্তোলুচির নাইন্টিন হান্ড্রেড ডে দুইজন সুপার স্টার¾রবার্ট ডি নিরো এবং জেরার দু পার্দু (Gerard Depardieu); তারা একটা বেশ্যালয়ে যায়। সেখানে দুজনে উলঙ্গ, বেশ্যাটি বলে, ওকে আমার বেশি পছন্দ। সেখানে আমাদের অসুবিধা হয় না। আমরা ধরে নেই, এতো বড়ো স্টার কী করে করলো এটা! সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে যেহেতু বহু স্তর রয়েছে, সেখান থেকে একটা মূল্যবোধ তৈরি করা হয় যে, এই দেশে এটা সম্ভব নয়। এটা তো ভুল ধারণা। পাওলিকে আমি একটা এস এম এস পাঠিয়েছিলাম, কামশাস্ত্র কিন্তু সাহেবরা তৈরি করেনি। বাৎসায়ন সেলিব্রেট মঙ ছিলেন¾কামশাস্ত্রের বহু চ্যাপ্টার লেখা অ্যাগ্রিকালচার নিয়ে, জ্যোর্তিরবিজ্ঞান নিয়ে; তার সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন মানুষের কাম, তার কতো কলা; এগুলো তো অতি প্রাচীন জিনিস আমাদের দেশে।
এখানে একটা অদ্ভুত মধ্যবিত্ত ভেল্যুস তৈরি করা হয়, একটা গণ্ডি তৈরি করা হয়; তার মধ্যে বলা হয় এগুলো করলে সমাজ নিবে না! পাওলি এই ক্লিপটা একটা সাইবার ক্রাইম¾সেই সাইবার ক্রাইম চলছে। এবং সেটা নাকি ওই সিনেমাতে নেইও, হয়তো কোনো জায়গায় আছে, আমি ঠিক জানি না। বা থাকলেও আমরা সিনেমাটা দেখিনি। এই একটা ক্লিপ নিয়ে এই ধরনের স্ক্যান্ডেল, একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।
ঋতুপর্ণ : সিনেমাতে এটা প্রাসঙ্গিক না অপ্রাসঙ্গিক, এটা নিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলো এর মধ্যে।
পাওলি : সিনেমাটার বাইরে একটা ক্লিপ দেখে, সিনেমাটা না দেখে; তার আগে পরে কিছু না জেনে¾এই ক্লিপটার তাৎপর্যইবা কী, কোথায় আছে, কীভাবে আছে, না দেখে, না জেনে ...।
ঋতুপর্ণ : আমার ভীষণভাবে মনে পড়ছে একটা সিনেমার কথা। এ বছর অবশ্য সিনেমাটার সেলিব্রেশন ইয়ারও¾কোমলগান্ধার। কোমলগান্ধার-এর গোড়াতেই একট্য দৃশ্য হয়, যেটা ‘শকুন্তলা’ থেকে অভিনীত হয়, যেখানে সুপ্রিয়া দেবী অনুসূয়া চরিত্রে অভিনয় করেন। তার একটা সংলাপ আছে¾আমার কাছুলিটা বড়ো আটো হয়ে আছে, এটাকে শিথিল করে দাও। তখন যতোদূর সম্ভব চিত্রাদেবী বলেন, কাছুলি নয়, তোমার যৌবনকে দোষ দাও সখি। অ্যাপিয়ারেন্টলি দৃশ্যটার কোনো মানে নেই, কারণ শকুন্তলার সেগনিফিকেন্সটা ছবিটাতে আছে, কেবল হরিণ শিশু আঁচল ধরে টানে এবং পরে বাচ্চাটা অনুসূয়াকে ...। এই যোগাযোগটার জন্যই ‘শকুন্তলা’র অবতারণা। কিন্তু প্রথমে আমরা যদি কেবল ওইটুকু দৃশ্য দেখতাম এবং বাকি ছবিটার সঙ্গে যদি মিলাতে না পারতাম; তাতে করে অনুসূয়া ইমেডিয়েটলি আমাদের এবং সবার কাছে ডিজায়ারেবল হয়ে ওঠে! এবং ভিগুর কাছেও ডিজায়ারেবল হয়ে ওঠে। তখন তাদের নিজেদের পাওয়া না পাওয়ারটা আমাদের কাছে অনেক ইন্টারেস্টিং হয়ে যায়, কমপ্লেক্স হয়ে যায়। সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কাজ কিন্তু প্রত্যেকেই করেছেন, এটা আজকে এমন নতুন কিছু হলো না যে, বাংলা ছবিকে সাবালক করা হচ্ছে! অরণ্যের দিনরাত্রি থেকে প্রত্যেকটা ছবিতে সেক্সয়ালিটির জায়গা ছিলো। একটা সুন্দর দৃশ্য ছিলো মিঠুন ও মমতা শংকর-এর মৃগয়াতে, ওদের ফুলসজ্জার রাত্রিটা। অ্যাক্সপ্রেশন অব সেক্সুয়ালিটি বদলে গেছে, সবকিছুর অ্যাক্সপ্রেশন বদলে গেছে।
সুমন : ঋতু দা তোমার প্রথম আপত্তিটা থেকে আমি ধরি। ধরো ছত্রাক দ্বিভাষিক সিনেমা নয়, শুধু ইংরেজি ভাষায় তৈরি হয়েছে। তাহলে কি এই বিতর্ক তা সত্ত্বেও পাওলিকে তাড়া করে বেরাতো? যদি বাংলা সিনেমা বা বাংলাভাষী এডিশনে তৈরি না হতো!
ঋতুপর্ণ : এটার কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। কারণ এটার জন্য কেনো পাওলিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটাই প্রথমত আমার কাছে সম্পূর্ণ অবাস্তব ঠেকছে!
সুমন : বাংলা মরালিটি কোথাও একটা ধাক্কা খেলো, বাংলা ছবি?
ঋতু : না, এটা তোরা করছিস তো! আজকে ‘বাংলা ছবি কি যৌনতার হাত ধরে সাবালক হবে?’ এটা ‘স্টার আনন্দ’ করছে, আমি কিন্তু কাউকে দোষ দিবো না, এটা মিডিয়া করছে। বাংলা ছবি কথাটাকে খুব বড়ো করে, বাঙালি আবেগকে প্রভক করা হচ্ছে! বাঙালি মরালিটিকে প্রভক করা হচ্ছে।
সুমন : নট এট অল! আমি গর্বের সঙ্গে বলছি বাংলা ছবি। ঠিক যেমন একজন ফরাসি বলে ফরাসি ছবি, একজন ইতালিয়ান বলে ইতালি ছবি।
ঋতুপর্ণ : গর্বের সঙ্গে অভিয়াসলি বলতে হয় না সুমন! বাংলা ছবি অনেক দিন আগে সাবালক হয়ে গেছে।
সুমন : তার জন্য আমাকে কেনো বাংলাভাষী কোট করতে হবে?
ঋতুপর্ণ : বাংলা সিনেমা অনেক আগে সাবালক হয়ে গেছে। তাহলে কেনো আজ নতুন করে বাংলা সিনেমা যৌনতার হাত ধরে বা না ধরে¾যৌনতা তো জীবনের একটা অঙ্গ, (সুমন, অবশ্যই) বাংলা সিনেমা তার জীবনের নানা অঙ্গ অ্যাক্সপ্লোর করে অনেকদিন আগেই সাবালক হয়ে গেছে।
সুমন : আমি সাবালক অর্থে যাচ্ছি না ঋতু দা।
ঋতুপর্ণ : এটা সম্পূর্ণ রিডানডেন্ট, এটার কোনো ভ্যেলু নেই।
সুমন : বাংলা ছবিকে বাংলা ছবি, আমি গর্বের সঙ্গে দ্বিতীয়বারেও বলবো। বাংলাভাষী তো ঠিকই, বাংলা ছবিকে ...।
ঋতুপর্ণ : বাংলা সিনেমা মানে কী?
সুমন : বাংলা ভাষায় যে সিনেমা তৈরি হয়।
ঋতুপর্ণ : সে সিনেমা বাংলা সিনেমা তো।
সুমন : হ্যাঁ, ঠিক যেমন শ্রীলঙ্কার পরিচালক ...।
ঋতুপর্ণ : তাহলে নেমসেক-এ তো অনেক বাংলা ডায়লগ আছে, ওটা কি বাংলা সিনেমা?
সুমন : কোনটা কোনটা?
ঋতুপর্ণ : নেমসেক?
সুমন : নেমসেক-এর ক্ষেত্রে, সেটাতো একটা পার্সেন্টেজের ব্যাপার।
ঋতুপর্ণ : তাহলে কে এই পার্সেন্টেজের হিসাবটা ঠিক করবে? আরেকটি প্রেমের গল্প বাংলা না ইংরেজি সিনেমা?
সুমন : না, কিন্তু আমার বক্তব্য বাংলাভাষী সিনেমা যদি তুমি বলো ...।
ঋতুপর্ণ : না, তোর যদি বাংলা সিনেমাকে বাংলা ভাষার সিনেমা বলতে অসুবিধা না থাকে, (সুমন, বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই) তাহলে বাংলা সিনেমা কথাটার মধ্যে এক ধরণের মরাল ক্যাননকে অ্যাটাক করা আছে।
সুমন : না, ঋতু দা।
ঋতুপর্ণ : সেটা তোর মনে হচ্ছে; কিন্তু আমার এটা মনে হচ্ছে।
গৌতম : আর একটা ব্যাপার আছে বাংলা, তামিল, তেলেগু সিনেমা, সেটা ভারতবর্ষেই সম্ভব। পৃথিবীর খুব কম দেশে হয় সেটা, যেটাতে এতো কটা ভাষা আছে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইউরোপ তো একটা দেশ নয়। কিন্তু ভারতবর্ষ একটা দেশ এবং সেখানে এতো ভাষায় সিনেমা হয়। আর হিন্দি ভাষার সিনেমাকে বলিউড বলা হয় আজকাল।
সুমন : এবং ভারতীয় সিনেমাকে জোর করে বলা হয়, ভারতীয় ইকুয়েল টু বলিউড।
গৌতম : তা নয়, এটা ভুল। সেটা গত ১০-১৫ বছর ধরে হচ্ছে এবং হিন্দি ভাষার সিনেমায় হিন্দি বলয়ের জীবন ও সংস্কৃতির ছাপ খুব কম আছে। তবে ইদানীং কিছু সিনেমাতে হয়েছে। সেদিক থেকে আমার মনে হয় যে, একটা আইডেন্টিফিকেশন রয়েছে প্রত্যেকটা ভাষার।
সুমন : এবং আমি ঋতু দার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত যে, বাংলা ভাষার সিনেমা ডেফিনেটলি গ্লোবাল জায়গায় পৌঁছেছে। আমার তো মনে হয়, হিন্দি সিনেমা যতোটা না ওয়ার্ল্ড সিনেমার কাছে পৌঁছাতে পেরেছে, বাংলা সিনেমা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক পৌঁছাতে পেরেছে।
গৌতম : বহু দিন আগেই পৌঁছাতে পেরেছে।
সুমন : আমি সম্পূর্ণ একমত, ওই জন্য বলছি বাংলা শব্দটা ...।
ঋতুপর্ণ : না, আমি একটু বুঝিয়ে বলি, তাহলে তুই বুঝতে পারবি! আমি একটা সিনেমার অ্যাক্সজাম্পল দিচ্ছি তোকে। ধর, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান আর থার্টি সিক্স চৌরঙ্গী লেন। থার্টি সিক্স চৌরঙ্গী লেন বাংলা ভাষার সিনেমা নয়, ইংরেজি। ওটার সেন্সর সার্টিফিকেট ইংরেজি সিনেমার, নাম ইংরেজি। কিন্তু সিনেমাটার মধ্যে বাংলা সিনেমার রেজোনেন্স অনেক বেশি। আর মন্দ মেয়ের উপাখ্যান-এ নন-মেইনস্ট্রিম সিনেমা, প্যারালাল সিনেমা, ওয়ার্ল্ড সিনেমার রেজোনেন্স অনেক বেশি। এবার আমরা কোনটাকে বাংলা সিনেমা বলবো?
সুমন : না, ঋতু দা। আমি তোমার আর্গুমেন্টটা অবশ্য ধরতে পেরেছি। কিন্তু তুমি যে অর্থে বলছো, বাংলা সিনেমা বলতে একটা সিনেমাকে নির্দিষ্ট গণ্ডিবদ্ধ করে দেওয়া, একটা মরালিটিকে উসকে দেওয়া, সেটার সঙ্গে আমি একমত নই।
ঋতুপর্ণ : আমার সেটা মনে হয় না। কারণ পাওলি বাঙালি না হয়ে, যদি দক্ষিণের একটা মেয়ে এই চরিত্রটা করতো, তাহলে এই গণ্ডগোলটা হতো না। ফলে ...
সুমন : সেটা আমাদের দুর্ভাগ্য হতে পারে!
ঋতুপর্ণ : আমি সেই দুর্ভাগ্যটাকে উসকে না দেবার চেষ্টা করছি। এই দুর্ভাগ্যটাকে যাতে প্রশমিত করা যায়, তারই কথা বলছি।
সুমন : এবার আমি হর দার কাছে আসবো। প্রথম কথা যে, এই বিতর্কটা মূলধারার বাংলা সিনেমা, মূলধারার বাংলাভাষী সিনেমা নিয়ে¾ঋতু দার জন্য আমি আর একবার বললাম¾এটাকে কীভাবে দেখছে? এই যে টালিগঞ্জে অনেকে ছি ছি করছে, এর ভিতরে ইন্ডাস্ট্রি কতোটা ইনভল্ব, মিডিয়া কতোটা ইনভল্ব, আর তার সঙ্গে তোমার ব্যক্তিগত অভিমত। তুমি দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা পরিচালনা করছো; এটা নিয়ে তোমারি কীবা মনে হয়?
হরনাথ চক্রবর্তী : প্রথমে আমি যেটা বলি।
সুমন : আর একটা শেষ প্রশ্নের কাঁটা থাকবে, তুমি সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত আছো, এ নিয়ে আমার নিজেরও বহু প্রশ্ন আছে। সেন্সর বোর্ড কতোটা প্রাসঙ্গিক। এই কাঁটাটাও জুড়ে দিলাম।
হরনাথ : আমি কিন্তু সেন্সর বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে আসিনি।
সুমন : নট অ্যাট অল।
হরণাথ : আমি টালিগঞ্জের একজন ডিরেক্টর হিসেবে এখানে এসেছি।
ঋতুপর্ণ : তুমি ফিল্মমেকার হিসেবে এসেছো। কারণ এই সিনেমাটা সেন্সর বোর্ডে যায়নি।
হরনাথ : আমি অঞ্জন দার কথা ধরে বলতে চাই। অঞ্জন দা বললেন, যেসব নায়ক-নায়িকা কোমর নাচিয়ে গান গায়, সেটা উনার ভালো লাগে না। সেরকম আমার ব্যক্তিগতভাবে, কোনো বেড সিন, ওপেন বেড সিন ভালো নাও লাগতে পারে! কারণ আমি খুবই মধ্যবিত্ত মানসিকতার, আমি নিজে একজন পরিচালক হয়েও দুবেলা পূজা-অর্চনা করি। আমি ছেলে-বউ নিয়ে সিনেমা দেখতে গেলে, আমার বাচ্চাটা অ্যাফেক্ট হতে পারে, সে ধরনের দৃশ্য কিন্তু দেখবো না। এটা কিন্তু বাঙালিদের মানে যদি একশোটা বাঙালি থাকে, আমার মনে হয় ৮০ জন আমার কথাই বলবে। কারণ আমরা এভাবে অভ্যস্ত হয়েছি। উত্তম বাবু অমানুষ-এ মদের বোতল নিয়ে গান গেয়েছে, সিনেমাটা এক বছর চলেছে, মানুষ হই হই করে দেখেছে; সবার ভালো লেগেছে। আবার থার্টি সিক্স চৌরঙ্গী লেন-এ আমরা দেখেছি দিধিমান্দাকে দেবশ্রীর সঙ্গে কিস করতে; খারাপ লাগেনি। কখনই সেটা আমার কাছে অশ্লীল মনে হয়নি, আমি সিনেমাটা দেখেছি। তখন আমরা অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করছি।
সুমন : ঘরে বাইরে, জন অরণ্য ধরো।
হরনাথ : কখনো লাগেনি। পিকু দেখো। সত্যজিৎ বাবুর পিকু এর বড়ো উদাহরণ। মা আমি কী রঙ দেবো? সাদা রঙ। এর থেকে বড়ো উদাহরণ হতে পারে না। সত্যজিৎ বাবু তো দেখাতে পারতেন; তিনি কি দেখিয়েছিলেন? দেখাননি। দেখানো না দেখানোটা, সেটা পরিচালকের ব্যাপার। কে, কীভাবে সেটা ইউজ করবে। এখন আমিও শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ¾বাজারে খুব চলেছিলো¾সেখানে আমি ঋতুকে দিয়ে প্রসেনজিৎকে কিস করিয়েছিলাম। সিনেমাটা কিন্তু হই হই করে চলেছে। কেউ কিছু বলেনি, কারণ সেখানে অশ্লীলতা ছিলো না। আমার প্রসঙ্গটা হচ্ছে, অশ্লীলতার জায়গাটা বাঙালিরা আজো টাস করে যায়নি বা নিতে পারেনি। বাঙালিরা এভাবে অভ্যস্ত হয়ে এসেছে। এখন কবে¾আস্তে আস্তে এভাবে দেখিয়ে, বাঙালি আবার ওয়েস্টার্নিজমে অভ্যস্ত হয়ে সবাই সিনেমা দেখতে যাবে।
সুমন : প্রত্যেক যুগে কি শ্লীল-অশ্লীলের মাপকাঠি এক থাকবে?
অঞ্জন : আমি সেটাই হরনাথ বাবুর কাছে জানতে চাচ্ছি। হরনাথ বাবু এই যে আপনি বলছেন, অশ্লীলতাটা; অশ্লীলতাটা আসলে কী? অশ্লীলতা মানে কি নগ্ন শরীর? অশ্লীলতা কোথায় হচ্ছে, কোথায় সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, আর কোথায় মনে হচ্ছে না?
হরনাথ : আমরা বাড়িতে সবাই ব্লু ফিল্ম দেখি না কেনো অঞ্জন দা?
অঞ্জন : সব সিনেমা তো সবার জন্য নয়। আজকের সব সিনেমা কি সবার জন্য? এটা কি হতে পারে, সব সিনেমা সবার জন্য!
হরনাথ : অনেস্টলি, পাওলিকে আমরা খুব ছোটো থেকে দেখছি, ওকে আমরা খুব ভালোবাসি। অঞ্জন দা আমি ছত্রাক সিনেমাটি দেখেছি, নন্দনে সিনেমাটি এসেছিলো। সিনেমাটি দেখে আমি এখনো বুঝতে পারছি না, কোন জায়গাতে এই শটটা আছে, নন্দনের সিনেমায় কিন্তু ওই শটটি নেই। আমার ভালো লেগেছে সিনেমাটি। একটা ইমোশনাল সিনেমা, সেই সিনেমার কোথায় এটা আছে, আমি জানি না।
গৌতম : সেটাই তো কথা, সিনেমাটা না দেখে; একটা পাইরেটেড ক্লিপ দেখেই, সেটা নিয়ে এ ধরনের হৈ চৈ করার তো মানে হয় না!
হরনাথ : ওই জায়গাটাতে আমার বক্তব্য, কমার্শিয়াল সিনেমাতে হিরো-হিরোইন কোমর দুলিয়ে নাচে; আমরা কিন্তু মানুষকে বিনোদন দিই। মানুষ এটা এনজয় করে। সিনেমার মধ্যে একটা গল্প থাকে; এতদিন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কমার্শিয়াল সিনেমাগুলো তাহলে চলছে কী করে! নিশ্চয় মানুষ গ্রাহ্য করছে বলেই চলছে। মানুষ সেই সিনেমা নিচ্ছে বলেই চলছে।
ঋতুপর্ণ : হরর শোন। কিছু মানুষ নিচ্ছে না বলেও, ওই সিনেমাগুলো কিছু জায়গায় চলছে না। তুই যে লজিকে বলছিস ...।
হরনাথ : সে তো অবশ্যই সব সিনেমা চলে না; তোমার সব সিনেমা কি চলে?
ঋতুপর্ণ : চলে না তো।
হরনাথ : তোমার কোনো সিনেমা চলছে, কোনো সিনেমা চলছে না।
ঋতুপর্ণ : আমার যে সিনেমাটা সবচেয়ে বেশি চলে, সেটাও সব জায়গায় চলে না।
হরনাথ : তোমার সিনেমা যে মিডিয়া হাইট পাবে, আমাদের সিনেমা সেটা পায় না। আমাদের অনেক বেশি যুদ্ধ করতে হয়!
ঋতুপর্ণ : এখন বোধ হয় অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছি।
হরনাথ : আমাদের বেশি যুদ্ধ করতে হয়। আমাদের সিনেমা করার পরেও।
পাওলি : আমি একটু বলি, ছত্রাক-এর তিনটি ভার্সন আছে। তার মধ্যে একটা ডিরেক্টর কাট। এবার কোথায় কোনটা দেখানো হবে; কোথায় কোনটা থাকবে, কোন শটটা কোথায় লাগানো হবে, কীভাবে শট্ নেওয়া হবে; সেটা তো পুরোটাই ডিরেক্টর পার্সেপশন। সেটার জন্য ডিরেক্টর আছেন, সেটার জন্য তো আমি নই। আলোচনা শুরু হয়েছিলো যেখান থেকে¾হোয়াই পাওলি হ্যাচ টু বি ব্লেমড? আমি কেনো ব্লেমড হচ্ছি, আমি কেনো অ্যাবইউসড হবো? আমি তো অভিনয়শিল্পী। আমি যখন হর দার সিনেমা করেছি, হর দার মতো করেছি; যখন ঋতু দার সিনেমা করেছি তার মতো করেছি, গৌতম দার ক্ষেত্রেও একই, তার মতো করে করেছি। আমি যখন বিমুক্তির সঙ্গে কাজ করেছি, ওর মতো করে করেছি; ও যে রকম করে চেয়েছে। আমার কাজটা কী, আমার জবটা কী, অ্যাজ অ্যা অ্যাক্টর? টু ডেলিভার হোয়াট মাই ডিরেক্টর ওয়ান্টস। সো, কোথায় কী থাকবে, না থাকবে, কীভাবে থাকবে¾সেটা আমার কাজ নয়।
গৌতম : তুমি কিন্তু মোটেও অ্যাবইউসড হওনি। এটা একটা কনসেন্ট ম্যানুফেকচার করা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে আসল কথা; এটাই হয়, কনসেন্ট ম্যানুফেকচার; তুমি অ্যাবইউসড হওনি।
পাওলি : হয়েছি, একেবারে হয়নি বললে ভুল হবে।
গৌতম : আমি বলছি, সেরকমভাবে কিছু হওনি। (সবার হাসি)
অঞ্জন : আমি এখান থেকে একটু সরে যাচ্ছি। এখানে একটা পয়েন্ট পাওলিকে নিয়ে হচ্ছে; তার থেকে আমার কাছে একটা ইম্পর্টেন্ট পয়েন্ট উঠে আসা জরুরি মনে হয়েছে¾আমাদের দেশের সিনেমায় প্রকাশ্য যৌনতা থাকা উচিত, কি উচিত নয়? সেটা যে ভালগার এটা ডিসাইড করবে কে? একজন অ্যার্টিস্টের ফ্রিডম নিয়ে আমার প্রশ্ন।
ঋতুপর্ণ : এই বিষয় নিয়ে চিরকালই একটা সুতমার্গ আছে।
অঞ্জন : সেই সুতমার্গটা আমরা কতদিন ধরে রাখবো?
গৌতম : অঞ্জন, এটা খুব আপেক্ষিক, ভীষণ রিলেটিভ। এটা কারো কাছে এটা ভালো লাগতে পারে, নাও লাগতে পারে।
ঋতুপর্ণ : ড্রেডফুল ভায়োলেন্স দেখতে আমাদের অসুবিধা হয় না। একেবারে সেটা সেলিব্রেট করা হয়।
গৌতম : আমার যেমন ভায়োলেন্স দেখতে খুব খারাপ লাগে।
ঋতুপর্ণ : মেইনস্ট্রিম সিনেমাও করে?
গৌতম : হ্যাঁ।
ঋতুপর্ণ : সেটা তারা ভীষণভাবে করে, একেবারে ড্রেডফুল লেভেলে। আমার আধা সার্থিয়ার কথা মনে আছে, সেখানে একটা অ্যান্টিভায়োলেন্স মেসেজ দেওয়ার জন্য এতোটা ভায়োলেন্স ব্যবহার করা হলো, সেটা বিকামস অ্যা ডিফিটিং। যেভাবে ভিলেন আর হিরো ফাইনাল মারামারিতে যে ভায়োলেন্স ব্যবহার করে এবং তখন দর্শকরা যেভাবে পার্টিসিপেট করে, তাতে মনে হয় দর্শকের সুপ্ত ভায়োলেন্স বোধটাকে জাগ্রত করা হচ্ছে।
গৌতম : ঋতু, এটা কী জানো তো, একেকজন চিত্রনাট্যকার, পরিচালক একেকভাবে জিনিসকে দেখে। দেখার একটা ব্যাপার আছে, পার্সেপশনটা এবং সেটা কখনোই সমরূপ হতে পারে না।
অঞ্জন : সেই পার্সেপশনটা যদি এক হয়ে যায়, তাহলে তো মুশকিল; তখন সবাই একরকম সিনেমা বানাবে, সারাক্ষণ ভায়োলেন্সকে সেলিব্রেট করবে।
গৌতম : আমি একটা টাইম অ্যান্ড স্পেসের মধ্যে কতোগুলো চরিত্রকে ব্যবহার করছি। সেটাও কিন্তু মোটেও নিলিয়ার বা সাধারণ টাইম স্পেস নয়। সেটা সিনেমার টাইম অ্যান্ড স্পেস; এর মধ্যে দেখাটা নানারকম হতে বাধ্য।
ঋতুপর্ণ : সাইকোলজিকাল স্পেস ইজ ওয়েল।
গৌতম : সাইকোলজিকাল স্পেস রয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সুমন সেটা নিশ্চয় তুলবে! এই জায়গাটায় আমি আসতে চাই, হরনাথকে তুমি (সুমন) যেটা বললে, আমাদের এখানে একটা সেন্সরশিপের ব্যাপার আছে। যে সেল্ফ সেন্সরশিপটা বহু পরিচালক চিত্রনাট্যকারের মাথায় থাকে¾আমি যদি এটা করি, তাহলে দর্শককে সিনেমাটা দেখাতে পারবো না। কিংবা ছত্রাক-এ হয়তো ভারতীয় ভার্সনে ওটা ব্যবহার করা হয়নি; কারণ ভারতীয় ভার্সনে সেন্সর ওটা অ্যালাও করবে না! তার পরও একটা বিষয়, আমি কিন্তু সিনেমাটা দেখিনি। হরনাথ দেখেছে, সে বললো কোথায় ওই সিনটা দেওয়া হয়েছে, তা ঠিক সে বুঝতে পারেনি। সিনেমায় ওই ক্লিপটা থাকলে হয়তো আমরা বুঝতে পারতাম, এটা প্রাসঙ্গিক কি, প্রাসঙ্গিক নয়।
ঋতুপর্ণ : একটা কথা আমি বলতে চাই, সম্প্রতি আমার ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা থেকে সেটা বলছি। মুম্বাইতে লিলা সামশন সেন্সরের নতুন চেয়ারপার্সন হবার পর, একটা মিটিং ডেকেছিলেন। কলকাতা থেকে আমি আর সুব্রত গিয়েছিলাম¾যিনি আর নেই, আমাদের সেন্সর অফিসার। সুব্রত আমাকে বার বার বলেছিলেন, আপনি আমাদের প্রবলেমগুলো, প্লিজ বলুন। সেখানে কিন্তু পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হলো, সি বি এফ সি হলো সেন্ট্রাল বোর্ড ফিল্ম অব সার্টিফিকেশন। এটার মধ্যে কোনো ডিইলিশনের ব্যাপার নেই। ইট উইল বি অনলি সার্টিফাইং দ্য ফিল্মস এবং ক্লিয়ারলি রিনোট করে দেওয়া থাকবে নুডিটি, অ্যাবইউস ল্যাঙগুয়েজ, ভায়োলেন্স, গ্রাফিক ভায়োলেন্স এই ভাবে।
অঞ্জন : কোনটা অ্যাডাল্ট হবে, কোনটা হবে না?
(চলবে)
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন