Magic Lanthon

               

তানভীর শাওন

প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

নায়ক রহমান : জীবন সংগ্রামে হার না মানা মানুষের প্রতীক

তানভীর শাওন


জীবনের গল্প, আছে বাকি অল্প


চলচ্চিত্র; যার লক্ষ্যই থাকে বাস্তবতার কাছাকাছি যাওয়ার, যে বাস্তবতা জীবন ছুঁয়ে যায়। জীবন ছুঁয়ে যাওয়া সেই চলচ্চিত্রে যোগ হয় কতো শত কীর্তিমান। কথায় আছে, কীর্তিমানের মরণ নেই। আসলেই কি তাই? সব কীর্তিমানকেই কি মানুষ যুগ যুগ ধরে মনে রাখে? নাকি কেউ কেউ কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়। চলচ্চিত্র নামের শিল্পমাধ্যমটিতে থাকা নানা কীর্তিমানের কেউ অভিনয়, কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ, কেউ গল্প, কেউবা চিত্রনাট্যকার আবার কেউ করে সিনেমাটোগ্রাফি। যৌথ এই শিল্পমাধ্যমে এদের প্রত্যেকের রয়েছে শিল্প-সৌন্দর্যের আলাদা ভুবন। এই খণ্ড খণ্ড শিল্প-সৌন্দর্য এক হয়ে পূর্ণতা পায় চলচ্চিত্র নামের বৃহৎ শিল্পমাধ্যমটিতে। যেখানে দর্শক খুঁজে পায় অলিখিত জীবনের নানা গল্প, আনন্দ আর আকুতি। ঠিক এখানেই যেনো এই শিল্পের সার্থকতা। আর এই সার্থকতার জোয়ারেই অনেকে হয়ে ওঠেন নতুন করে কীর্তিমান, কেউ কেউ বনে যান তারকা। তবে এই কীর্তিমান-তারকাদের মধ্যে দর্শকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ স্থাপন হয় একজন অভিনয়শিল্পীর। এই শিল্পীরা তাদের সবটুকু দিয়ে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চায় জীবনকে।


তবে অভিনয়শিল্পী তকমাটি সহজে বলা গেলেও, তা হয়ে ওঠার গল্পটা মোটেও অতোটা সহজ নয়। বরং সেটা অনেকখানি বর্ণহীন, ফ্যাকাশে। যেখানে থাকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই; সঙ্গে অনেক ত্যাগ, ধৈর্য আর অধ্যবসায়ের গল্প; থাকে ব্যর্থতারও। তারপরই কেউ হয়ে ওঠে অভিনয়শিল্পী, কখনো কখনো গণমাধ্যমের বদৌলতে তারকা। অভিনয়শিল্পী নয়, তারকাদের অনেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হারিয়েও যায়। তবে একই সঙ্গে তারকা ও অভিনয়শিল্পী হয়ে টিকে থাকা অনেক কঠিন। সমসাময়িক কোনো তারকার টিকে থাকার বয়স, আরেক তারকার পতন কিংবা জন্মের ওপর নির্ভর করে। তার পরও অনেকে একই সঙ্গে তারকা ও শিল্পী হিসেবে বেঁচে আছে অনেক দিন।


এই ধরুন স্বাধীনতা-পূর্ব চলচ্চিত্রে অবদান রাখা চলচ্চিত্রশিল্পীদের কথা-নাজীর আহম্যদ, আব্দুল জব্বার খান, পেয়ারী বেগম, জহির রায়হান, সুমিতা দেবী, আব্দুর রহমান, সালাহউদ্দিন, মহিউদ্দিন প্রমুখ। যারা স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগে এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের রূপ ও রস সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রেখেছে। সত্যিকার অর্থেই তারা এদেশের চলচ্চিত্র জগতের অগ্রদূত, একই সঙ্গে ‘তারকাও। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার বীজ গ্রোথিত হয়েছে স্বাধীনতা-পূর্ব এসব চলচ্চিত্র ‘তারকাদের হাত ধরেই। কিন্তু সেই ‘তারকাদের কজনইবা চেনে। কালজয়ী সেই মানুষদের অন্যতম অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা আব্দুর রহমান। তিনি শুধু একজন অভিনয়শিল্পীই নন, তার ব্যক্তি জীবনে হার না মানা গল্পটাও অনেকের জন্য অনুকরণীয়। উত্তম কুমারের মতো দেখতে, খ্যাতনামা এই অভিনয়শিল্পী সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনে সমধিক পরিচিত ও প্রশংসিত হলেও বর্তমানের দর্শকের কাছে প্রায় অচেনা মানুষে পরিণত হয়েছেন। চলচ্চিত্রের প্রাণের মানুষ রহমানকে বর্তমানের দর্শকের কাছে পরিচিত করার প্রয়াসে এই প্রবন্ধ।


ব্যক্তি রহমান, অভিনয়শিল্পী রহমান


রহমানের জন্ম ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে, ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের পঞ্চগড় জেলার আতওয়ারি উপজেলার রশিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম হাফজুদ্দিন আহমদ। রহমানরা ছিলেন নয় ভাইবোন। ভাইদের মধ্যে তিনিই কনিষ্ঠ। ছোটোবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুবই দুরন্ত। বাল্যকালের বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে দুপুরের কড়া রোদে ডাংগুলি খেলে। তবে শুরু থেকেই লেখাপড়ায় বিশেষ মনোযোগী ছিলেন না রহমান। মাধ্যমিক-এ ভালো ফল করলেও উচ্চ মাধ্যমিক-এ হয়েছিলেন অকৃতকার্য। এমনিতে লেখাপড়ায় উদাসীনতা নিয়ে তার বাবা আগে থেকেই ছিলেন অসন্তুষ্ট, তার ওপর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাই এবার রহমানের ব্যাপারে খুব কড়া সিদ্ধান্ত নেন তিনি-নিজের চলার পথ নিজেকেই দেখতে বলেন। বাধ্য হয়ে রহমানকে এবার বাড়ি ছাড়তে হয়। নিরুপায় রহমান নতুন জীবনের সন্ধানে চলে যান ঢাকা শহরে। সেটা ছিলো ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের কথা।


ঢাকা শহরে এসে প্রথম অবস্থায় রহমান চরম বিপাকে পড়েন। একে অভিভাবকহীন জীবন, তার ওপর কোথায় থাকবেন, কী করবেন কিছুই জানেন না। ঠিক এই মুহূর্তে ছাতা হয়ে দাঁড়ান তার বড়ো ভাই দেলোয়ার রহমান। অতঃপর রহমানের শহুরে জীবন শুরু হয় মেজোভাই দেলোয়ারের সহচর্যে। এরপর রহমান তার ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। নতুন কলেজ জীবন শুরুর কিছুদিন পর রহমান চলে আসেন কলেজের হোস্টেলে। প্রথম দিকে হোস্টেলের গৎবাঁধা পরিবেশে খারাপ লাগতে থাকে তার। তবে অল্পদিনের মধ্যেই রহমানের বেশ কয়েকজন বন্ধু জুটে যায়। এই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি তিনি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নিয়মিত চলচ্চিত্র দেখতে শুরু করেন। অনেক চলচ্চিত্রের মধ্যে উত্তম-সুচিত্রা জুটি অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো রহমানের মনে বিশেষ দাগ ফেলতে থাকে। একই সঙ্গে অভিনয়ের ব্যাপারে, অন্যভাবে বললে নায়ক হওয়ার একটা স্বপ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তার মাথায়। মূলত উত্তম-সুচিত্রার অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪) ও শাপমোচন (১৯৫৫) দেখে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন রহমান।


বন্ধুদের মধ্যে একজন ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম নামে। শুরু থেকেই মোয়াজ্জেম ভক্ত ছিলেন রহমানের। নায়ক বলে সুশ্রী রহমানকে নিয়ে প্রায়ই মজা করতেন মোয়াজ্জেম। একদিকে উত্তম-সুচিত্রা অন্যদিকে বন্ধু মোয়াজ্জেম, সবমিলে অভিনয় নিয়ে রহমানের আগ্রহ যেনো বাড়তেই থাকে। এরপর হঠাৎই একদিন তৎকালীন বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ইকবাল ফিল্মস-এর ব্যানারে একটি চলচ্চিত্রের জন্য ‘নতুন মুখ চাই বিজ্ঞাপন নজর কাড়ে তার। বিজ্ঞাপনটি দেখে অডিশন দেওয়ার কথা ভাবেন তিনি। যেই ভাবা সেই কাজ, চলে যান অডিশন দিতে।


অডিশন বোর্ডে মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬) এর নির্মাতা আব্দুল জব্বার খান, সিনেমাটোগ্রাফার কিউ এম জামান, চিত্রনাট্যকার আলি মনসুর ও ইনাম আহমেদ ছিলেন। অডিশনের অংশ হিসেবে একটি বই পড়তে দেওয়া হয় রহমানকে। পড়তে গিয়ে ভাষায় আঞ্চলিকতার টান থাকার কারণে অডিশন থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রহমান খুব ভেঙে পড়লে বন্ধু মোয়াজ্জেম তাকে উৎসাহ দেন। শুধু ভাষার দুর্বলতার কারণে অডিশন থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।


ব্যর্থ মনোরথে রহমান এবার চাকরির জন্য সেই মেজোভাইয়ের শরণাপন্ন হন। ভাইয়ের সহায়তায় একটি আবাসিক হোটেলের অভ্যর্থনাকারীর চাকরি নেন রহমান। হোটেলে চাকরি করতে গিয়ে এবার তিনি সমস্যায় পড়েন ইংরেজি ভাষা নিয়ে। অনেক বিদেশি সেই হোটেলে থাকতো, ভালো ইংরেজি না জানার কারণে তাদের সঙ্গে রহমানের যোগাযোগে সমস্যা হতে থাকে। বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষা নিয়েই সমস্যায় পড়েন তিনি। এবার জেদ চেপে যায় তার। টানা তিন মাস ইংরেজি শেখায় মনোনিবেশ করেন রহমান। এতে করে দুই ভাষাতেই তার বেশ উন্নতি ঘটে। এভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন।


এই সময় রহমান একটি মঞ্চনাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সুবাদে উদ্বোধনের দিন ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ একটি মঞ্চনাটকের আয়োজন করে। পরিচিত লোক থাকায় ওই নাটকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা। নাটক যথাসময়ে শুরু হয়। এটা ছিলো তার জীবনের প্রথম কোনো মঞ্চে ওঠা। তাই আগে থেকেই পরিস্থিতি খারাপ ছিলো। মঞ্চে উঠে সংলাপ বলতে গিয়ে পড়েন মহাসমস্যায়। দর্শকসারিতে থাকা পরিচিত সব মুখ দেখে রহমান সংলাপ যান ভুলে। ফলে আড়াই ঘণ্টার নাটক ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।


চাকরি, নাটক; এর মধ্যেই কুমকুম নামে এক মেয়ে রহমানের প্রেমে পড়ে। একপর্যায়ে রহমানের কাছে প্রস্তাব আসে বিয়ের ব্যাপারে। এরপর দুপক্ষের সম্মতিতে রহমানের সঙ্গে কুমকুমের বিয়ে হয়। তখন রহমানের বয়স মাত্র ২২ আর কুমকুমের ১৬। বিয়ের পর সহধর্মিনীর এক বান্ধবীর বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে কাকতালীয়ভাবেই রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় নির্র্মাতা এহতেশাম-এর। স্ত্রীর বান্ধবীর সূত্রে এহতেশাম নানা বনে যান রহমানের। আলাপচারিতার একপর্যায়ে রহমানকে এহতেশাম বলেন, ‘আপনি তো ইংরেজি ভালো বলেন। স্মার্টও। ছবির লাইনে আসুন না। আসবেন?’। রহমান সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। পরদিন রাজার দেউড়িতে এহতেশাম তার অফিসে যেতে বলেন। এহতেশাম তখন এদেশ তোমার আমার (১৯৫৯) এর কাজ করছিলেন। এই চলচ্চিত্রেই রহমানকে খলনায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেন এহতেশাম। চরিত্রটি ছিলো বিদেশ ফেরত একজন বাঙালি সাহেবের। নায়ক হতে আসা রহমান ইংরেজি জানার বদৌলতে হয়ে যান খলনায়ক। রহমানের ভাষায়, ‘এত কষ্ট করে লেখা [শেখা] ইংরেজি-ই আমাকে ভিলেন বানিয়ে ছাড়ল।


এর কিছুদিন পর এদেশ তোমার আমার-এর শুটিং শুরু হয়। পাঁচশো এক টাকা সম্মানীতে চুক্তি স্বাক্ষর করলেন রহমান। সময়টা ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস। প্রথম দিন শুটিং এফডিসির এক নং ফ্লোরে। আনন্দ, ভয় ও শঙ্কার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে রহমান প্রথম দিন ফ্লোরে ঢুকেন। তারপর সব কর্মযজ্ঞ দেখে যতোখানি ভয় পাওয়ার কথা ছিলো তার চেয়ে খানিকটা বেশি ঘাবড়ে যান তিনি। মেকআপ কক্ষে বসেই সিদ্ধান্ত নেন, অভিনয় তার কর্ম নয়। তারপর কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রহমান। সেটের পাশেই অন্য একটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন এহতেশামের ছোটোভাই মোস্তাফিজ; তিনি রহমানকে এই অবস্থায় ধরে ফেলেন এবং ভাইকে জানান। পরে এহতেশামের উপস্থিতিতে রহমানের পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত তাকে শুটিং করতে হয়।


১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পায় এদেশ তোমার আমার। চলচ্চিত্র সুপারহিট হয়। এটি দেখার পর রহমান বলেছিলেন, ‘সেদিন যদি মোস্তাফিজ আমাকে না দেখে ফেলতেন তবে হয়তো কোনো দিনই আমার ছবি করা হতোনা।এরপর নির্মাতা মহিউদ্দিন তার তোমার আমার চলচ্চিত্রে রহমানকে খলনায়ক হিসেবে অভিনয়ের প্রস্তাব করেন। মূলত রহমানকে নিয়ে এহতেশাম ও মুস্তাফিজের অন্য চিন্তা ছিলো। তাই তারা পুনরায় খলনায়ক চরিত্র করার ব্যাপারে রহমানকে রাজি হতে নিষেধ করেন। এর ফল অবশ্য কয়েক দিন পরই পান রহমান। এহতেশামের পরবর্তী চলচ্চিত্র রাজধানীর বুকেতে রহমানকে নায়ক করা হয়। এতে রহমানের বিপরীতে নায়িকা ছিলেন চিত্রা সিনহা। এটিও সুপারহিট হয়।


পরপর সাফল্যে মোস্তাফিজের হারানো দিন (১৯৬১) এ নায়ক হন রহমান। এই চলচ্চিত্রেই প্রথমবার নায়িকা হিসেবে হাজির হন শবনম। রহমান-শবনম জুটির প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ২ সেপ্টেম্বর। এটিও হিট হয়। এরপর ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে মুক্তি পায় এহতেশাম নির্মিত রহমানের প্রথম উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা। এহতেশাম মনে করতেন, সেসময় টিকে থাকার জন্য উর্দু চলচ্চিত্র করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ তখন ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে বাংলার পাশাপাশি উর্দু চলচ্চিত্রও সমান তালে ব্যবসা করতো। এ সময় রহমান উর্দু শেখেন এহতেশাম এর শব্দগ্রাহক মহসীনের কাছে। তাই মহসীনকে গুরুদেব বলে ডাকতেন রহমান। এভাবে একে একে অনেকগুলো চলচ্চিত্রের সফলতায় রহমানের পরিচিতি বাড়তে থাকে। এর মধ্যে সিলেটের নির্মাতা মাসুদ চৌধুরীর প্রীত না জানে রীত-এ অভিনয় করেন রহমান।


এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাকে হয়নি রহমানকে। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যেই তিনি অভিনয় করেছেন-রাজধানীর বুকে (১৯৬০), হারানো দিন (১৯৬১), চান্দা (১৯৬২), তালাশ (১৯৬৩), নুতন সুর (১৯৬২), এই তো জীবন (১৯৬৪), মিলন (১৯৬৪), দুই দিগন্ত (১৯৬৪), বাহানা (১৯৬৫), উলকান (১৯৬৭), পিয়াসা (১৯৬৯), জোয়ার ভাটা (১৯৬৯), অন্তরঙ্গ (১৯৭০), মেঘের পর মেঘ (১৯৭৮), অংশীদার (১৯৮১), দেনা পাওনা (১৯৮১), দেবদাস (১৯৮২) ইত্যাদি চলচ্চিত্রে।


জীবন স্রোতে রহমানের বহমানতা


ভিনি, ভিডি, ডিসি। সম্ভবত এই তিনটি শব্দেই আমার জীবনের সবকিছুর শুরু।কথাটি নায়ক রহমানের। এই তিনটি ক্ষুদ্রকায় ল্যাটিন শব্দেই মধ্য দিয়েই রহমানের সাফল্য গাঁথা প্রকাশ পায়। ল্যাটিন থেকে তা বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায়-আমি এসেছিলাম (ভিনি), দেখেছিলাম (ভিডি) এবং অবশেষে জয় করলাম (ভিসি)। জীবনের এই বিজয় খুব বেশি দিন ধরে রাখতে পারেননি রহমান। খলনায়ক থেকে নায়ক; একের পর এক চলচ্চিত্র হিট হলেও কে জানতো তার জন্য অপেক্ষা করছে অন্ধকার এক অনামিষা। যদিও সেই অন্ধকারকে বেশি দিন স্থায়ী হতে দেননি তিনি। অন্ধকারের মধ্যেই নিজেকে পথ দেখিয়েছেন।


ঢাকায় চলচ্চিত্রের শুটিং, অন্যান্য কাজ ভালোই চলছিলো। এর মধ্যে মাসুদ চৌধুরী তার প্রীত না জানে রীত নামে একটি চলচ্চিত্রের জন্য রহমানকে প্রস্তাব দেন। সেই সময় শিডিউল ফাঁকা থাকায় রহমানও রাজি হয়ে যান তার প্রস্তাবে। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে রহমান ও শবনম রওনা দেন সিলেটে শুটিংয়ের উদ্দেশে। টানা শুটিং চলছে, ৩০ জানুয়ারি খাদিমনগরে শুটিং শেষে ইউনিট নিয়ে তারা গাড়িতে করে ফিরছিলেন। রহমানকে বহন করা সেই গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় একটি ট্রাকের। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই রহমানের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।



প্রথমে ঢাকায় ও পরে লন্ডনে টানা ছয় মাস চিকিৎসা চলে রহমানের। গ্যাংগ্রিন হওয়ায় দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে রহমানের ডান পাটি উরুর কাছ থেকে কেটে ফেলা হয়। নভেম্বরে ঢাকায় ফিরে এসে ওঠেন, যে হোটেলে একসময় অভ্যর্থনাকারীর চাকরি করতেন সেখানে। শুরু হয় গৃহবন্দি নতুন জীবন। যে রহমান তার অভিনয় দিয়ে অগণিত দর্শকের মনে আলো জ্বেলেছিলেন, আলো হয়ে জ্বলেছেন; সেই রহমানের সব আলো যেনো নিভে গেলো। কর্মহীনতা আর একঘেয়েমি অবসরকে সঙ্গী করে তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে জীবনের পথে নতুন করে হাঁটার কথা ভাবেন। কখনো সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার। এরই মধ্যে একদিন তাকে গুরুদেব (মহসীন সাহেব) দেখতে আসেন। গুরুদেবকে কাছে পেয়ে রহমান তার উদ্বিগ্নতার কথা বলে কিছুটা ফাঁকা হন। এই সুযোগে গুরুদেব তাকে স্বপ্ন দেখান চলচ্চিত্র নির্মাণের। প্রথমে শঙ্কিত হলেও গুরুদেবের কথায় কিছুটা সাহস পেয়ে রহমানও স্বপ্নের সঙ্গে গা ভাসিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। তারপর একসময় গুরুদেবের দেওয়া উৎসাহেই রহমান জীবনের প্রথম চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। কাহিনি হিসেবে বেছে নেন নিজের জীবনকেই। এক সময়ের হোটেলের চাকরি, পরবর্তী সময়ের পঙ্গুত্ব হয়ে ওঠে রহমানের প্রথম চলচ্চিত্র মিলন (১৯৬৪)-এর উপজীব্য।


নায়ক রহমান যখন জীবনযুদ্ধে নায়ক


এদেশ তোমার আমার (১৯৬১)-এ রহমান ছিলেন খলনায়ক; আর নায়ক-নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন খান আতা ও সুমিতা দেবী। চলচ্চিত্রটির কাহিনি সূচিত হয় মূলত ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগোত্তর মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে। পূর্ব বাংলার অসংখ্য গ্রামের মধ্যে একটি গ্রাম কাপাসতলি। সে গ্রামের বিপত্নীক জমিদার খান বাহাদুর আব্দুল আজিজ মৃত্যুশয্যায় তার ছোটোভাই ও ভাতিজা হামিদকে (রহমান) সমস্ত জমিদারি হস্তান্তর করেন। সঙ্গে নিজের মেয়ে শাহানার দায়িত্বও (সুমিতা দেবী) তাদের কাছে দিয়ে যান। আজিজের মৃত্যুর পর বিলেত ফেরত হামিদ জোর করে বিয়ে করতে চান শাহানাকে। কিন্তু শাহানা ভালোবাসেন দেশের জন্য সংগ্রাম করা জেল ফেরত হারুনকে। এ নিয়ে শাহানাকে জোর করতে থাকেন হামিদ, তার ওপর নেমে আসে নানা অত্যাচার।


এছাড়া চলচ্চিত্রজুড়ে দেখানো হয়, হামিদ ও তার বাবার, প্রজাদের ওপর অবৈধ কর আদায়ের নানা অত্যাচারের চিত্র। একপর্যায়ে প্রজারা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তারা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করে হামিদ ও তার বাবার বিরুদ্ধে; তাদের তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। মূলত এদেশ তোমার আমার-এর মাধ্যমে নির্মাতা অসহায় দরিদ্রের ওপর ধনীর অন্যায়-অত্যাচারের চিত্র যেমন তুলে ধরেছেন, একই সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন ১৯৪৭-এর দেশভাগের চেতনা। অত্যাচারী হামিদের চরিত্রে প্রথম থেকে শেষাবধি রহমান ছিলেন অনবদ্য। নায়ককে ছাপিয়ে তিনি যেনো চলচ্চিত্রের কেন্দ্রেই দাঁড়িয়েছিলেন।



মুস্তাফিজের হারানো দিনে (১৯৬১) রহমান নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। হারানো দিনে অত্যাচারী এক জমিদারের আশ্রিত মেয়ে মালা (শবনম)। আশ্রিত হওয়ায় কষ্টে আর একাকিত্বে দিন কাটে মালার। এর মধ্যেই গ্রামে আসে শহর ফেরত শিক্ষিত যুবক কামাল (রহমান)। কামাল তার বাঁশির সুরে একাকিনী মালার মন জয় করে। মালা প্রেমে পড়ে কামালের। কিন্তু জমিদার নানাভাবে তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত মালাকে পালাতে হয় কামালের সঙ্গে। অন্যদিকে অত্যাচারী জমিদারেরও পতন হয়। নিখাদ প্রেমের কাহিনির হারানো সুরে রহমান নিজেকে রোমান্টিক হিরো হিসেবে তুলে ধরতে ভুল করেননি। নায়ক হিসেবে তার ব্যক্তিত্বেও পরিপক্কতা ছিলো।


রহমান অভিনীত জনপ্রিয় আরেক চলচ্চিত্র জোয়ার ভাটা (১৯৬৯)। রহমান-শবনম জুটির অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র এটি। কেননা রহমান-শবনম অভিনীত প্রায় সব চলচ্চিত্র প্রেমনির্ভর হলেও এটি ছিলো ব্যতিক্রম। তৎকালীন কলকাতার জনপ্রিয় জুটি উত্তম-সুচিত্রার আদলেই যেনো বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিলো রহমান-শবনম জুটির। খান আতাউর রহমানের জোয়ার ভাটায় রহমান শহুরে এক চিকিৎসক হিসেবে গ্রামের অসহায় লোকদের সেবা দিতে আসেন। রহমানের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয় সহজ-সরল গ্রাম্য মেয়ে শবনমদের বাড়িতে। একপর্যায়ে তাদের পরিচয় ও পরে ভালোলাগা। এভাবেই গল্প এগোতে থাকে। শবনমের বিয়ে ঠিক হয় গ্রামের মাতব্বরের ছেলের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে রহমান-শবনমের মিলন হয়। মিষ্টি প্রেমের এ গল্পে প্রেম ছাড়াও আরো অনেক কিছু স্থান পেয়েছে-বহুবিবাহ, তাবিজ-কবজ ও বাল্যবিবাহ। তবে সমসাময়িক রাষ্ট্র ও রাজনীতি ভাবনা একদম উঠে আসেনি এখানে; যদিও এটি নির্মিত হয়েছিলো গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন। নায়কের ভূমিকায় রহমান ছিলেন যেমন নান্দনিক, তেমনি চলচ্চিত্রের চিকিৎসক চরিত্রেও তার সমাজ সচেতনতা ছিলো প্রশংসনীয়।


অতঃপর সংগ্রামী নির্মাতা রহমানের জীবন


মানুষের জীবন বয়ে চলার গল্পটা বাস্তবিকই যতোটা বিচিত্র, ততোটাই অদ্ভুত। জীবনের বহমানতার প্রতিটি পরতে পরতে থাকে উত্থান-পতনের আনাগোনা। অনেকে ভাবতেই পারে না, ছোট্ট এই জীবনের গল্পটা নির্দয়ভাবে কতো বড়ো হতে পারে। রহমান যখন নিজের ক্যারিয়ারের তুঙ্গস্পর্শী, তখনই একটি ঝড় আঘাত হানে তার ওপর। ঝড়ের পরের গল্পটা নির্দয় হলেও সেটাতে একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাননি রহমান। বরং ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, হয়েছেন জীবনযুদ্ধের রূপ-রসের এক অনন্য রূপকার। পরিচালনায় এসে জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের জীবনের-ই গল্প। সেই গল্পে ব্যক্তি জীবনের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, ভালোবাসা, ভালোলাগা সবই তিনি বেধেছেন ক্যামেরার ফ্রেমে ফ্রেমে। যদিও এ সময় অনেক আপনজনও তার পাশে ছিলো না। 


তার পরও একে একে রহমান নির্মাণ করেন সাতটি চলচ্চিত্র-মিলন (১৯৬৪), ইন্ধন (১৯৬৬), দর্শন (১৯৬৭), জাহা বাজে শাহনাই (১৯৬৮), কংগন (১৯৬৯), চলোমান গায়ে (১৯৭০), নিকাহ (১৯৮৯)। এগুলোর বেশিরভাগই ছিলো ব্যবসাসফল। প্রায় সবগুলো চলচ্চিত্রেই সমসাময়িক সমাজ-বাস্তবতা, চেতনা ও সমাজ-ভাবনার সঙ্গে উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত সমাজের প্রেম ও দ্বন্দ্ব। তার নির্মিত চলচিত্রগুলোর আর একটি উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যনীয় ব্যাপার হলো, তিনি বাস্তবতাকে যেমন দেখেছেন, ঠিক তেমনটাই চলচ্চিত্রের পর্দাতেও ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।


একসময় নায়ক রহমান চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রে যেমন ব্যক্তিত্ব নিয়ে হাজির ছিলেন; একইভাবে পরবর্তী সময়ে সচেতন ও নিখুঁত ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন নির্মাতা হিসেবে ক্যামেরার পিছনেও। তিনি দেখিয়েছেন, কল্পনাকে বাস্তবে রূপদানের সরাসরি ও পরোক্ষ উভয় দিকেই তিনি সমান পটু। তবে রহমানের এ দ্বিজপটুতাকে যে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এমন নয়। কেননা তার নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রায় সবগুলোর নির্মাণকাল ছিলো মুক্তিযুদ্ধ পূর্বোত্তর। তখন একদিকে ছিলো রাজনৈতিক অস্থিরতা, আরেকদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও অন্যায় শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক দুরবস্থা। ফলে সেসময় চলচ্চিত্র বা অন্যান্য শিল্প-সংস্কৃতি বিবেচনার অবকাশ এদেশের মানুষ খুব একটা পায়নি। তবুও বলা যায়, রহমান চলেছেন বীরের মতোই।


রহমান-গাঁথার পরিশেষ

                                    মানুষের চোখ পড়েনি, তাকে জানে সময়েরা

                                    কুয়াশাচ্ছন্ন মহাকাল ঘিরে যেনো থরোথরো কাঁপে,

                                    নিবন্ত আহুতি শোনা যায়-সব উন্মুক্ত হোক।

 

রহমান ছিলেন ক্ষণজন্মা এক নায়ক। তার জন্ম এবং কর্মকাল ছিলো এক তাৎপর্যপূর্ণ সময়ের মহাঅঙ্গনে। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো তার। যদিও তার কর্মের মধ্যে এগুলোর যে খুব একটা প্রতিফলন ছিলো, এমনটা বলা যায় না। তবে এটাও ঠিক, ৬৩র পরে নিজের জীবন নিয়েই এক সংগ্রামী সময় পার করেছেন তিনি। রহমান ঠিক যে সময় উঠতি তারকা, সেসময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তার অভিনয় জীবনের ছেদ ঘটে। এরপর নির্মাতা হিসেবে জীবন শুরু করলেও তা যে পূর্ণতা পেয়েছে সেটাও জোর দিয়ে বলা যায় না।


জীবনের শেষ দিনগুলো খুব ভালো কাটেনি রহমানের। শেষ সাত-আট বছর উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে চলৎহীন হয়ে হুইলচেয়ারেই কাটাতে হয়েছে তাকে। বাড়িতে বসেই মাঝে মাঝে নতুন কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণের আকাঙ্খা ব্যক্ত করতেন। আবার মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন হারিয়ে যেতো। সেসময় কেউ তার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি, কোনো খোঁজখবর পর্যন্ত রাখেনি। এর মধ্যেই রহমানের স্ত্রী কুমকুম লোকান্তরিত হন। তার এক বছর পর ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে অনাদর আর অযত্নে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি। এরপর গ্রামের বাড়িতেই তাকে সমাহিত করা হয়।


বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নায়ক হিসেবে রহমান দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন, সেটা বলা যায় না। রহমান-শবনম জুটির শবনম এখনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দেও কাজী হায়াতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র আম্মাজান-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি হিট হলেও, চিত্রজগৎ থেকে শবনম এর আর কোনো ডাক পড়েনি। শুধু শবনম নয়, ববিতা, সুচন্দা, সুজাতা, প্রয়াত রাজ্জাক, ফারুক, ওয়াসিম, জাভেদ, সোহেল রানার মতো এক সময়ের দুর্দান্ত তারকা অভিনয়শিল্পীরা আজ কর্মহীন সময় পার করছেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের একটা বড়ো সমস্যা হলো ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে তারা যতোই জনপ্রিয় থাকুক না কেনো, একটা সময় পর তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। অনেকেই অজ্ঞাতে নায়ক রহমানের মতো অবহেলায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।

 

লেখক : তানভীর শাওন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।


shawonmcj26@gmail.com

 

তথ্যসূত্র

১. রহমান, (২০১৬ : ৮৫); ‘আমার কথা; চিত্রপরিচালক ও তারকাদের আত্মকথা; সম্পাদনা : অনুপম হায়াৎ, তৃণলতা প্রকাশ, ঢাকা।

২. প্রাগুক্ত; রহমান (২০১৬ : ৮৫)।

৩. প্রাগুক্ত; রহমান (২০১৬ : ৮৭)।

৪. প্রাগুক্ত; রহমান (২০১৬ : ৭৮)।

৫. লেখক তানভীর শাওনের স্বরচিত কবিতা ‘নিবন্ত আহুতি (২০ অক্টোবর ২০১৭) থেকে নেওয়া।

 

গ্রন্থ সহায়িকা

রহমান (২০১৬ ); ‘আমার কথা; চিত্রপরিচালক ও তারকাদের আত্মকথা; সম্পাদনা : অনুপম হায়াৎ, তৃণলতা প্রকাশ, ঢাকা।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন