ইমরান হোসেন মিলন
প্রকাশিত ২৮ জুলাই ২০২৫ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
সাধারণের কথা বললেও সাধারণের কাছে যেতে পারেনি জালালের গল্প
ইমরান হোসেন মিলন

একটা অবস্থা থেকে আরেকটা অবস্থায় সমাজের ইতিবাচক রূপান্তর হওয়ার পর্যায়টি ইতিহাসের সূচিপত্রে রেনেসাঁ শিরোনামে স্থান পায়। তবে এই জাগরণ দেখতে একটা সমাজকে দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয়। আবার কোনো সমাজ সেই জাগরণের দেখা যে খুব অল্প সময়ে পাবে না, এটাও জোর দিয়ে বলার জো নেই। এ কথা ঠিক যে, একটা দেশের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে সমাজটি আদৌ সেই জাগরণের জন্য প্রস্তুত কি না। একটা সমাজের নবজাগরণ হওয়ার মানে হলো, নবজাগরণের আগে সেই সমাজে একটা অপর বিরাজ করছিলো। অর্থাৎ নবজাগরণ যদি হয় শৃঙ্খলা, তাহলে অপরটা হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। সেটা হতে পারে আইন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সবদিক থেকেই।
বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানেও একটা জাগরণ ছিলো। মাঝপথে সেটা ঝিমিয়ে পড়ে আবার জাগি জাগি করছে। তবে সেই পুনর্জাগরণের পূর্ণতা পেতে যে অনেক সময় লাগবে, সেটা বুঝতে খুব জ্ঞানী হতে হয় না। চোখ-কান খোলা রেখে প্রেক্ষাগৃহে একটু ঢু মেরে আসলেই বোঝা যায়। বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা আবু শাহেদ ইমনের জালালের গল্প (২০১৫) সেই জাগি জাগি করতে থাকা সময়ের চলচ্চিত্র, যা দেশে অনেকটা হইচই ফেলে দেয়—শুধু দেশে নয়, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের চলচ্চিত্র উৎসবেও। অবশ্য এর আগেও বাংলাদেশি বেশকিছু চলচ্চিত্র নিয়ে এমন হই হই-রই রই হয়েছে। তবে দেশের চলচ্চিত্র-পাগল মানুষজন কেবল সেই হই আর রই শুনেই কাটিয়েছে। চোখে দেখার খুব একটা সৌভাগ্য বা সুযোগ কোনোটিই তাদের হয়নি। তবে কর্মসূত্রে রাজধানীতে থাকায় জালালের গল্প দেখার সেই ‘সুযোগ’টি আমার হয়েছে।
৯ অক্টোবর ২০১৫, শুক্রবার। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’-এ দেখতে যাই জালালের গল্প। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর দেশের ২৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। যদিও সঠিক বলতে পারবো না, চলচ্চিত্রটি সেসব প্রেক্ষাগৃহে এক সপ্তাহের বেশি দেখানো হয়েছে কি না। তবে মাঝে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর ৮ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় দফায় তখন ‘বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স’-এ চলছিলো জালালের গল্প। সেদিনের চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী শুরু হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। শুরুর ঠিক ১৫ মিনিট আগে পৌঁছে টিকিটের জন্য কাউন্টারের সামনের সারিতে দাঁড়াই। প্রায় ১০ মিনিটের মতো দাঁড়াতে হয় টিকিটের জন্য। হাতে তখন সপ্তাহের চলচ্চিত্র-সূচির একটি ব্রোশিয়র। ব্রোশিয়রটি দেখে মনে প্রশ্ন জাগে—আমি আসলে কোথায়! দেশে, নাকি দেশের বাইরে? সিনেপ্লেক্সের ছয়টি হলের মধ্যে শুধু একটিতেই চলছিলো বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র; অন্য পাঁচটিতে ইংরেজি। সারিতে দাঁড়িয়ে কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। অসংখ্য মানুষ; সব বয়সি মানুষ। ছুটির দিন থাকায় মানুষের চাপটা হয়তো একটু বেশিই ছিলো। কাউন্টারে তাকালে ছোটো ছোটো পর্দায় কে কোন চলচ্চিত্রের টিকিট কিনছেন তা দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার সামনে জনা দশেকের মতো লোক ছিলো। যাদের দুজনকে সেদিন আমি জালালের গল্প-এর টিকিট কিনতে দেখেছি।
নির্দিষ্ট সময়ের তিন মিনিট আগে প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করি। আসন নম্বর খুঁজে নিয়ে বসার আগে আবছায়া অন্ধকারের পুরো প্রেক্ষাগৃহে একবার চোখ বুলাই। এতে হতাশাটা বাড়ে বৈ কমে না! ছয়টি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে মাত্র একটিতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র চলছে। কিন্তু সেখানে দর্শক কই? বেশিরভাগ আসন খালি! তবে চলচ্চিত্র শুরু হতে হতেই সবগুলো আসন পূর্ণ হয়ে যায়। তখন একটু হলেও মনে সান্ত্বনা আসে।
২.
জালালের গল্প দেখার মাস দেড়েক পরের ঘটনা। তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বাংলার চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছিলেন টালিগঞ্জের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ‘এনটিভি অনলাইন’ নিউজ পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
এই দেশের ছবির বাজার এখনো এই দেশেই তৈরি হয় নাই। আমি যতবারই আসি প্রত্যেকবারই আমার প্রিয় ফিল্মমেকার বন্ধুরা এখানকার, তারা বলেন, যেমন ধরুন কালকে সকালেই আমাকে বিপ্লব বলছিল, এই দেশে ছবি করে রিলিজ করার জায়গা নাই তো। হল পাওয়া যায় না। তাঁরা ভাবছেন, ছোটখাটো কোনো জায়গায়, টাউন হল জাতীয় যেসব সাংস্কৃতিক মঞ্চ আছে সেখানে দেখানো যায় কি না। প্রজেক্টর ভাড়া করে। এমনকি আমি এটাও শুনলাম যে, যারা যৌথ প্রযোজনা করছেন এই মুহূর্তে, সেসব প্রযোজকরাও ভাবছেন। ফলে এখানকার বাজার নিয়ে নেওয়ার কোনো প্রশ্ন ওঠে না এ কারণে, বাজারই তো নাই। যদি বাজার থাকত, হলিউড আসত। হলিউডের একদম ইন্টারেস্ট নাই এ কারণে যে, বাজারই নাই। বাজারটা যদি থাকত তাহলে কিন্তু খুব ভালো হতো। যদি এখানকার ছবির জন্যও বাজারটা থাকত। এখানে অনেক ভালো ছবি তৈরি হয়, প্রচেষ্টাটা তো আছে।১
বুদ্ধদেবের কথাগুলো বার বার কানে বাজতে থাকে। দেশের চলচ্চিত্রের বাস্তব চিত্র তার কয়েকটি কথার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ দেশের একজন নির্মাতা যখন প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটা বিশ্বব্যবস্থার এই সময়ে এসে ভাবেন যে, তার চলচ্চিত্র টাউন হল জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চে প্রজেক্টর ভাড়া করে দেখানো যায় কি না—তখন একটা ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু কেনো তাকে এমন ভাবতে হয়, কেনো তাকে চিন্তা করতে হচ্ছে টাউন হলের কথা? নিশ্চয় বড়ো কোনো কারণ আছে। কী সেই কারণ? যদিও সে কারণ খোঁজা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু জালালের গল্প দেখার অভিজ্ঞতা আর বুদ্ধদেবের সাক্ষাৎকারটি পড়া থেকে কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি। কারণ তার কিছু মন্তব্যের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতাটা সাংঘর্ষিক।
বুদ্ধদেবের ভাষায়, এ দেশে চলচ্চিত্রের বাজার নেই, চলচ্চিত্র দেখানোর ভালো জায়গা নেই। বিপরীতে ভারতের প্রত্যন্ত এলাকাতেও এখন সিনেপ্লেক্স গড়ে উঠছে, যে কারণে তাদের চলচ্চিত্র বাজারও খুব ভালো। আমাদের দেশেই যে শুধু চলচ্চিত্রের বাজার নেই তা নয়, ‘তাদেরও’ নেই। তবে এখানে যে কিছু ‘‘ভালো’ চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে, এটা খুব সুখবরই বটে। তার মতো চলচ্চিত্র বোদ্ধা যখন বলেন, আমাদের দেশে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে, তখন সেটা আমাদের নির্মাতাদের জন্য আশা জাগানিয়াও।
কিন্তু কোন ধরনের ‘‘ভালো’’ চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে, সেটাও আমাদের ভেবে দেখা দরকার। আমাদের এমন ‘‘ভালো’’ চলচ্চিত্র এখন দরকার নেই, যে চলচ্চিত্র দেখতে সাধারণ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যাবে না। আমাদের দরকার সেই সব ‘ভালো’ চলচ্চিত্র, যেগুলো দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসবে। আমি জালালের গল্প দেখতে গিয়ে কিন্তু এমন দর্শকের সারি দেখিনি। যে সারি ভাইয়ের চাকরিসূত্রে ঢাকার সৈনিক ক্লাবের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একমাস আগে দেখেছি। সেখানে দেখানো হচ্ছিলো প্রয়াত নায়ক মান্না’র চলচ্চিত্র। তবে সব চলচ্চিত্রে কাউন্টারের সামনে দর্শকের লম্বা সারি আশা করাও ঠিক না। কিন্তু আমি এই সবকিছুকে দেখতে চাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান সঙ্কটের জায়গা থেকে।
তবে সাক্ষাৎকারে বলা বুদ্ধদেবের কিছু কথা আমার কাছে একটু খটকা লেগেছে। বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বাজার নেই, এ কথা মেনে নিতে কষ্ট হয়। কারণ, এ দেশে বাজার না থাকলে বলিউডের রমেশ সিপ্পি আর মুকেশ ভাটরা আসতে চাইতেন না। যদিও তারা বলছেন এ দেশের চলচ্চিত্রের ‘উন্নয়ন’ ঘটাতে চান। কিন্তু এই উন্নয়ন ঘটাতে তো কোটি কোটি টাকা দরকার, পুঁজি দরকার! আর পুঁজি তো সাধারণত ঝুঁকি নেয় না। এমনকি এমন কোনো স্থানেও সে যেতে চায় না, যেখানে সে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে না। বাজার যে আছে—সে কথার আরো যুক্তি আছে। আমার দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে চায়ের দোকানে বসে চলচ্চিত্র দেখা কিংবা কম্পিউটারে গিগায়-গিগায় চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করাও সেই যুক্তির অন্তর্গত। ভাষা না বুঝে তামিল চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহকেও ‘‘বাজার আছে’ দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। যাই হোক, এ আলোচনা বাদ দিয়ে জালালের গল্প-এ ফেরা যাক।
৩.
আবু শাহেদ ইমনের প্রথম নির্মাণ জালালের গল্প। পুরো গল্প তিনটি অংশে বিভক্ত। অবশ্য তিনটি অংশ না বলে তিনটি ভিন্ন সময়ের গল্পের চলচ্চিত্র বললেও ভুল হবে না। তিনটি ভিন্ন সমাজব্যবস্থা থেকে শিশু জালাল, কিশোর জালাল আর তরুণ জালালের জীবনের গল্প বলেছেন ইমন। চরাঞ্চলে বসবাসরত একদল গ্রামবাসী আর নদীতে ভেসে আসা এক শিশুকে নিয়ে চলচ্চিত্রের প্রথম গল্প। এর শুরু বিশাল ক্যানভাসে নদীতে নূরে আলম নয়নের (জালালের প্রথম বাবা) গোসল করার দৃশ্য দিয়ে। পানিতে প্রথম ডুব দিয়ে উঠে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় নূরে আলম। আশেপাশে কেউ না থাকলেও এমন অপ্রত্যাশিত কান্নার আওয়াজে ভয় পেয়ে আধা গোসল অবস্থায় পাড়ায় গিয়ে খবর দেয় সে। ‘ভিন্ন কিছু’’ দেখার আশায় ছোটে কিছু লোক। কেউবা ‘‘ভূত’’ মারতে নিয়ে আসে লাঠি। যাই হোক, কান্নার আওয়াজের কাছে গিয়ে দেখা যায়, পাতিলে সদ্যজাত শিশু। শিশুটিকে উদ্ধারের পর, অনেকটা জোর করেই দায়িত্ব দেওয়া হয় নূরে আলমকে।
তবে নূরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ায় খুশি হতে পারে না। আবার মাতৃত্বের মায়ায় শিশুটিকে ফেলে দিতেও পারে না সে। জাত-ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় না রেখে শিশুটির নাম দেওয়া হয় জালাল; কিছুটা আপত্তির মুখে নামের আগে মোহাম্মদ যুক্ত করে রাখা হয় মোহাম্মদ জালাল। একটা সময় নদীতে বান ডাকে। থই থই জলে গ্রামের যে যেখানে জাল ফেলে সেখানেই মাছ পায়। গ্রামের সবাই মনে করে সবই হচ্ছে শিশু জালালের ‘‘কল্যাণে’’। জালালকে ভাবি ‘মহাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে, ধর্ম আর কুসংস্কারকে ব্যবহার করে নূরে আলম শুরু করে পানিপড়া ব্যবসা। টাকার ভাগ পেতে বিরোধী পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। সবদিকে সুবিধা করতে না পেরে একটা সময় শিশুটিকে আবার পাতিলে করে নদীর জলে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হয় নূরে আলম। শেষ হয় শিশু জালালের প্রথম অধ্যায়।
চলচ্চিত্রের প্রথম দৃশ্যপট দেখে তা মগজে ঢুকতে একটু সময় প্রয়োজন। জালালের গল্প বলার শুরু থেকে আবার তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্যখানের সময়টুকু ইমন যা দেখান তা পুরোটাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের গল্প। যে সমাজ জালালকে বানিয়েছে অতিমানব, মহামানব। যে মানবশিশুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ধর্মভিত্তিক ক্ষমতার চর্চা। আর সেই ক্ষমতায় নূরে আলম চরাঞ্চলের মানুষগুলোকে খুব সহজেই বশে আনে। ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে প্রথম থেকেই নূরে আলম ব্যবহার করেছে মানুষের সবচেয়ে বিশ্বাসের জায়গা ধর্মকে। আসলে ধর্ম সৃষ্টির পর থেকে মানুষ নিজের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করেছে। যেটা খুব সরল-সোজাভাবে তুলে ধরেন ইমন। ছেলের পা চুবানো পানি বোতলে করে বিক্রি করে নূরে আলম। সে নিশ্চয়ই একটা কথা বুঝতো, ধর্ম কখনো সরাসরি পণ্যের মোড়কে বিক্রি করা যায় না। তাই সেটাকে সে বিক্রি বলতেও নারাজ। তার স্ত্রী যখন এসব টাকা নেওয়াকে পাপ বলে, তখন নূরে আলমের জবাব—‘‘শিশুর কল্যাণের জন্য স্বেচ্ছায় কেউ কিছু দিলে সেটা নেওয়া পাপ হয় না।’’ বরং সেগুলোকে শিশুটির কল্যাণার্থে ‘দান’’ বলেই গ্রহণ করে সে; যার মধ্য দিয়ে শিশুটির ‘‘কল্যাণ’’, অন্য অর্থে নিজের কল্যাণ খোঁজে নূরে আলম।
৪.
সেই ১২৮৭-৮৮ খ্রিস্টাব্দের কথা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় কল্পনা থেকে একটি প্রবন্ধ লিখলেন। নাম দিলেন ‘‘স্ত্রীবিপ্লব’’। সেখানে তিনি পুরুষের ওপর নারীদের নিয়ন্ত্রণের কথা তুলে ধরেন। একটা সময় নারীরা পুরুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু অপ্রস্তুত পুরুষ বাহিনী যুদ্ধে না গিয়ে প্রস্তাব করে সন্ধির। তবে নারীরাও কম যায় না। নারী যোদ্ধারা সন্ধি করতে রাজি, তবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। এক চিঠিতে সেসব শর্তের জবাব পাঠায় পুরুষকুল। তারা লেখে,
আমরা সব সইতে পারি। দাস হইতে পারি, সার্ফ হইতে পারি, সার্ফ হইতে পারি, কখনো অবাধ্য হইব না, কখনো উচ্চ কথা বলিব না, কুর্নিশ ব্যাতিরেকে নিকটে পঁহুছিব না, গা টিপিয়া দিব, পায় হাত বুলাইব; কিন্তু যাহা স্বভাবের নিয়ম তাহা কি প্রকারে ব্যতিক্রম করিব? পরমারাধ্যা পরমপূজনীয়া দেবীদিগের দুই বৎসরে তিন বার যে অসহ্য প্রসববেদনা সহ্য করিতে হয়, আমরা আহ্লাদ সহকারে গ্রহণ করিতাম, যদি গ্রহণ করিবার ক্ষমতা থাকিত। অতএব ওই এক শর্ত ছাড়া আর সকল বিষয়ে আমরা স্বীকার।২
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর এই কথাগুলো বলতে হচ্ছে জালালের গল্প-এর তৌকীর আহমেদ ও শর্মীমালার সংসার দেখে। চলচ্চিত্রে জালালের দ্বিতীয় জীবন-অধ্যায় শুরু হয় নিঃসন্তান জমিদার বংশধর তৌকীরের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে। জালালকে তৌকীর ছেলে হিসেবে পরিচয় দিলেও অস্থির হয়ে ওঠে ‘‘নিজের’’ সন্তানের জন্য। এর আগেও বিয়ে করেছিলো তৌকীর। সেখানেও সে নিঃসন্তানই থেকেছে। এবার তার সন্তান চাই-ই। কারণ রক্ষা করতে হবে ‘জমিদারি’’, টিকিয়ে রাখতে হবে জমিদার বংশ! তাই বাড়িতে আনে এক ভণ্ড ‘‘ওঝা’’। যে প্রতিশ্রুতি দেয় অল্প সময়েই তৌকীরকে বাবা ‘‘বানিয়ে’’ দেবে। শুরু হয় ঝাড়ফুঁকসহ নানা আয়োজন। ভণ্ড ওঝা জানে হাজার বছর ঝাড়ফুঁক দিলেও, হাজার রঙের হাঁস এক কোপে জবাই করলেও কোনো সন্তান জন্ম দেওয়া যায় না। তাইতো শর্মীমালার সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার সময় ওঝা বলে—সন্তান কি এমনি এমনি হইবো?
এখানে বিষয়টি প্রতিফলিত করার ক্ষেত্রে নির্মাতা মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। হরপ্রসাদের মতো করে বললে কথা এ রকম দাঁড়ায় যে, পুরুষ যখন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে যে, সন্তান ধারণ তার পক্ষে সম্ভব নয়; তখন এই ‘‘সত্য’’ দিয়ে আরো একটি বিষয় জায়েজ করে নিয়েছে। সেটা দায় এড়ানোর। অর্থাৎ, পুরুষ যেহেতু গর্ভধারণ করতে পারে না, সেহেতু এ সংক্রান্ত দায় কেবল নারীর। সেটা পারলে নারী-জীবনের স্বাভাবিকতার প্রকাশ ঘটে; কিন্তু না পারলে সে ব্যর্থ এককভাবে। এ কারণেই ওঝা দিয়ে চিকিৎসা চলে কেবল শর্মীমালার, তার স্বামীর নয়।
অথচ বিজ্ঞান বলে, নিঃসন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দায়টা থাকে পুরুষেরই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষের সঠিক পরিমাণে স্পার্ম না আসা, আসলেও সেখানে শতকরা ৩০-৪০ শতাংশ জীবিত স্পার্ম না থাকায় দীর্ঘ বিবাহ জীবনেও অনেক দম্পতিকেই নিঃসন্তান থাকতে হয়। যেখানে নারীদের কোনো দায় থাকে না।
৫.
তরুণ জালাল খুব কাজের ছেলে। কাজ করে একটি ইট ভাটায়। মালিকের সঙ্গে তার সম্পর্কটা যে কী তা স্পষ্ট হয় না। তবে বোঝা যায় টাকাওয়ালা, দখলদার মালিক মোশাররফ করিম জালালকে খুব পছন্দ করে। হয়তো তার হুকুম জালাল বিনা বাক্যে পালন করে বলে। জালাল একসময় মোশাররফ করিমের হুকুমে উঠিয়ে নিয়ে আসে নিজের প্রেমিকা শিলাকে (মৌসুমী হামিদ)। তুলে দেয় ভাটার মালিকের হাতে। মালিক শিলাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরে বিয়ে করে না। উলটো শিলা সন্তানসম্ভবা হলে, গর্ভপাত করার জন্য চাপ দেয়। কেননা সে নিজেও সন্দিহান, সন্তান আসলে কার! তাইতো শিলাকে সে জিজ্ঞেস করে, ‘পেটে যেটা, সেটা কার? আমার, জালালের নাকি অন্য কারো?’ তবে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘‘অবৈধ’’ সন্তান জন্ম দেয় শিলা। ‘‘স্বাভাবিক’’ সমাজের মানুষ পুরুষ মোশাররফ সেটা মেনে নিতে পারে না।
চলচ্চিত্রের একেবারে শেষ দৃশ্য। সদ্যজাত সেই শিশুকে নিয়ে দুজন ব্যক্তি নদীর দিকে হেঁটে যায়। কিছুটা উৎকণ্ঠা নিয়ে তাদের চলার গতি দ্রুত থাকে। চোখে-মুখে ভয় কেউ দেখে ফেলার। তবে যে করেই হোক শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে দুজনকে অনুসরণ করে জালাল। ওই দুই ব্যক্তি শিশুটিকে পাতিলে করে ভাসিয়ে দেয় নদীতে। এবার জালাল শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। সাঁতার না জানলেও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। শেষ হয় জালালের গল্প। কিন্তু আসলেই কি শেষ হয়? না, শেষ না হয়ে বরং প্রশ্ন জাগায়। তাহলে সেই শিশুটির পরিচয় কী? সমাজে তার পরিচয় কী হবে? সেও কি জালালের মতো অতিমানব হবে, নাকি তার পরিচয় হবে অন্য কিছু? সে তো জন্মই নিলো ‘জারজ’’ হয়ে। তাহলে জালাল কে? সেও তো একটা সময় এভাবেই নদীতে ভেসেছে। সমাজে জালালের পরিচয় কী? নানা প্রশ্ন জাগলেও কঠিন হয় না জালালের পরিচয় খুঁজে পাওয়া।
আবু শাহেদ ইমন জালালের গল্পতে যে তিনটি সমাজের কথা তুলে ধরেন, সেখানে সবসময় জালাল থেকেছে সাইড লাইনে। কখনোই তাকে সামনে আসতে দেখা যায় না। বলা যায়, জালালকে একটা নির্দিষ্ট সীমায় আটকে থাকতে হয়েছে; একটা মধ্যবর্তী অবস্থানে। সে দৃষ্টিতে দেখলে জালালকে একটা অক্ষমতার প্রতীকও বলা যায়। যারা শুধু সমাজকাঠামোয় একটা বড়ো অংশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দর্শকের ভূমিকা পালন করে। শিশু অবস্থায় জালালের পা চুবানো পানি বিক্রি, বালক অবস্থায় ভণ্ড ওঝার সঙ্গে মায়ের যৌনতা, আবার তরুণ অবস্থায় প্রেমিকার সঙ্গে অন্যের শারীরিক সম্পর্ক—সবই জালালকে দেখতে হয়েছে। রাগে ফুঁসলেও কিছু করতে পারেনি সে। একটা অক্ষমতা কাজ করেছে জালালের, যে অবস্থা হয়তো সমাজের হাজারো জালালের। নির্মাতার দেখানো জালালের বয়সের তিনটি পর্যায়ের তিনটি সামাজিক অবস্থা, প্রেক্ষাপট কিংবা তার জন্মের আজন্ম অভিশাপ থেকে মুক্তি মেলে না। সেই সীমাটিই হয়তো ইমন বোঝান শেষ দৃশ্যে। জালাল যে একটা বৃত্তাকার পথ ঘুরে আবার সমাজে চলে আসে, সেটা বোঝা যায় আবার পাতিলে শিশুটির ভেসে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
৬.
শিশু জালালের পাতিলে ভেসে আসা, বালক জালালের নিশ্চুপ সবকিছু দেখে যাওয়া, তরুণ জালালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আরেক ‘জালাল’কে বাঁচানোর চেষ্টা বা জালালদের পুনরাবির্ভাব দেখানো হয় জালালের গল্পয়। নির্মাতা তিনটি ধাপে যে গল্পটি বলেন, তা নিঃসন্দেহে ঝরঝরে। গল্প বলার এই শৈলীর জন্য অবশ্যই ইমন বাহবা পাওয়ার যোগ্য। এছাড়াও চলচ্চিত্রের সাজপোশাক, আর বেশকিছু শটের জন্য ইমনের প্রশংসা করাই যায়। চলচ্চিত্রের প্রথম শটেই নূরে আলম নয়নের নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা, তার গোসল করা; জালালকে মহামানব করতে বাঁশে বাঁধা লাল ঝাণ্ডা ওড়ানো; ভণ্ড ওঝা যখন শর্মীমালার ঘর থেকে বের হয়, তখন আচমকা কুকুরের ডাক; কিংবা শিলার পেটে কান পেতে অনাগত শিশুর আগমন অনুভূতি জানার জন্য জালালের চেষ্টার দৃশ্য চোখে লেগে আছে।
চলচ্চিত্রের প্রথমাংশে বেশকিছু জায়গায় অবশ্য নির্মাতা কেমন জানি নাবালকসুলভ আচরণ করেছেন। পানিপড়ার টাকার ভাগ পেতে একসময় নূরে আলমের সঙ্গে প্রতিবেশীর ঝগড়া বাধে। সেটাকে ইমন দেখান, প্রতিবেশী কয়েকজনকে নিয়ে নূরে আলমের বাড়ির পাশ দিয়ে মিছিল করছে। সেই মিছিলে অংশ নেওয়া কারও কারও মুখে আবার হাসি হাসি ভাব, বেশ কয়েকজন ক্যামেরায় ফলস লুকও দিচ্ছে, যা দর্শকের চোখ এড়ায় না। আর টাকার ভাগ পেতে কেউ এভাবে মিছিল করে, সেটা অগ্রসর বা অনগ্রসর যে সমাজেই হোক কল্পনা করা একটু কঠিনই বৈকি! কিংবা তৌকীরের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া মিছিলে তাকে নিঃসন্তান বলে স্লোগান দেওয়া। এই অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সাধারণ দর্শকেরও দৃষ্টিকটু লাগে। একই সঙ্গে ইমন ওঝাকে দিয়ে ঝাড়ফুঁক করিয়ে সন্তান হওয়ার বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে চলচ্চিত্রটিকে কিছুটা হলেও ঝুলিয়ে ফেলেন। অর্থাৎ, শুরুতে চলচ্চিত্রের যে গতি ছিলো, তা ‘অতিমাত্রায়’ ঝাড়ফুঁকের কারণে কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে আসে।
আর অভিনয় কখনো সবার সমান হয় না। তবে গল্পের নাম ভূমিকায় অভিনয় করা আরাফাত রহমান ও মোহাম্মাদ ইমনের অভিনয় ভালো লেগেছে। জালালের বাবা হিসেবে নূরে আলম নয়ন, তৌকীর আহমেদ আর সবশেষে মোশাররফ করিমের কথা পৃথকভাবে বলার কিছু নেই। মোশাররফ করিম, শর্মীমালা, মৌসুমী হামিদ তো বরাবরই ভালো অভিনয়শিল্পী। তবে সামগ্রিকভাবে ভালো অভিনয় পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্মাতাকেই অভিনয়টা বের করে আনতে হয়।
৭.
মোটাদাগে জালালের গল্প কেমন হয়েছে, সেটা পারিপার্শ্বিক চিত্র দিয়ে কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। পারিপার্শ্বিকতা বলতে—চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম; নির্মাণ ব্যয় ৬০ লক্ষ টাকা। ঠিক কতো টাকা আয় হয়েছে সেটা যদিও জানা নেই। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। পর্তুগালের আভাংকা চলচ্চিত্র উৎসবে ‘‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ ও ‘‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’র পুরস্কার পায় জালালের গল্প ও মোশাররফ করিম। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ১৯তম বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান সিনেমা ফান্ড পায় জালালের গল্প। উৎসবটির মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘‘নিউ কারেন্টস’-এ প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় এর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজস্থানে অনুষ্ঠিত সপ্তম জয়পুর চলচ্চিত্র উৎসবে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নিয়ে সেরা নবাগত নির্মাতার পুরস্কারও পান আবু শাহেদ ইমন।
২০১৪’’র নভেম্বরে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৪৫তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার চালু হওয়া ‘‘অ্যা উইন্ডো অন সাউথ এশিয়ান সিনেমা’ বিভাগে একমাত্র বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয় জালালের গল্প। একই বছরের এপ্রিলে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৩তম ফজ্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জালালের গল্প স্থান পায়। এছাড়াও ফিজির রাজধানী সুভায় ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ফিজি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শন হয় এটি। আর ৮৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশ থেকে জালালের গল্প নির্বাচিত হয়েছে। এই পারিপার্শ্বিকতায় বেড়ে ওঠা জালালের গল্প নিঃসন্দেহে আশা জাগায়, সেটা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত না বললেও।
৮.
ঘটনাটা মজার। অনেকটা অপ্রত্যাশিতও ছিলো। বইয়ের দোকানে চলচ্চিত্রের বই দেখছিলাম। একটি বইয়ের কথা জানতে চাইলে দোকানের এক নারীকর্মী আমাকে জিজ্ঞেস করেন—জালালের গল্প দেখেছেন, না দেখলে দেখেন। অনেকদিন পর একটা ভালো গল্পের চলচ্চিত্র দেখলাম। এমন গল্পের চলচ্চিত্র যদি হতো তাহলে মানুষজন দেখতো। আমি পালটা তাকে জিজ্ঞেস করি—আসলেই কি দেখতো? কারা দেখতো? তার উত্তর ছিলো—কেনো আমরা তো দেখছি। মধ্যবিত্ত দর্শকরা তো দেখছে। তাহলে শুধু মধ্যবিত্তের জন্যই কি আজকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্র? এমন কথা বললে তার উত্তর ছিলো—কিন্তু ‘ওসব’’ ছবি তো দেখা যায় না। হাজার বার বলা কথা ‘ওসব’’ চলচ্চিত্র বা মূলধারার চলচ্চিত্র তৈরি না হলে কোনো দেশেই এ শিল্পের সুদিন আসবে না। তাই নবীন নির্মাতা ইমনের কাছে প্রত্যাশা থাকবে অচিরেই তিনি সবার জন্য চলচ্চিত্র নিয়ে হাজির হবেন।
লেখক : ইমরান হোসেন মিলন, টেকনোলজি ও টেলিকমবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল টেকশহর ডটকম-এর স্টাফ কনটেন্ট কাউন্সিলর পদে কর্মরত।
milonmcru@gmail.com
তথ্যসূত্র
১. www.ntvbd.com/arts-and-literature/28213; retrieved on 18.11.2015
২. শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ (১৮৯০ : ৫০২); `‘স্ত্রীবিপ্লব'; হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা-সংগ্রহ; প্রথম খণ্ড; কলকাতা।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন