Magic Lanthon

               

মাসুদ পারভেজ

প্রকাশিত ২৮ জুলাই ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

কথায় কথায় সৌমিত্র

মাসুদ পারভেজ


বিশে বিদ্যা, তিরিশে ধন, চল্লিশে ঠনঠনগাঁও-গেরামে প্রচলিত এমন কথা বয়সের সঙ্গে জীবনের একটা পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মেলাতে বলা হয়। অর্থাৎ বয়স ২০ বছর হলে বিদ্যাশিক্ষা অর্জন, ৩০-এ ধনসম্পদ করো, কারণ ৪০ বছরে ঠনঠন মানে শূন্যতা বোধ হবে। আর এই কথার সূত্র ধরেই মনে হয় চলে আসে চল্লিশে চালশে। কিন্তু এমন একজন মানুষের কথা বলা হচ্ছে, যার বয়স দুই ৪০ হয়েছে কিন্তু তিনি ঠনঠন হননি। এখনো দিব্যি আছেন। যদিও বয়সের ছাপ তার শরীরে ভর করেছে, কিন্তু খিদে আছে তার আগের মতন, যেমন ছিলো ৩০ কিংবা ৪০-এ। এক বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি ৮০ বছর বেঁচে ছিলেন; আর এখানে আরেক বাঙালির কথা বলা হচ্ছে, যিনি ৮০ বছর পার করলেন জগৎ সংসারে। তিনি জগৎ সংসারে ৮০ বছর পার করার কালে ২৩ বছর বয়সে আরেক সংসার করেন, যার নাম অপুর সংসার (১৯৫৮)। অপুর সংসার দিয়ে চলচ্চিত্রে সংসার পাতা এই বাঙালির নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেই যে সংসার পাতলেন, তারপর থেকে প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি বছর ধরে তিনি এখনো সেই সংসারেই আছেন। তার পরও তার ক্ষুধা মেটেনি। তিনি আশায় বসত করেন। আমি আশা করে আছি। কারণ আমাকেও আশা করেই থাকতে হয় মানে যখন সত্যজিৎ রায় বেঁচে ছিলেন তখনও আমি ভাবতাম কবে আবার মানিক দা ওঁর একটা ছবিতে আমায় নেবেন। এখনও কোনও একটা ভাল গল্প শুনলে মনে হয়, ইস যদি আমায় নেয়। আসলে অভিনয়ের খিদেটা তো এখনও মরেনি ...। ৮০ বছর বয়সে তিনি এইসব কথা বলেন। ততোদিনে তিনি প্রায় তিনশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি নিজ মুখে স্বীকার করছেন মানিক দার কথা, তখন এই মানিক দাকে খোঁজ করতে হয় তার সম্পর্কে জানার জন্য।

অপরাজিত ছবি হচ্ছে জেনে সৌমিত্র আমার কাছে এসে অপুর ভূমিকায় অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আমি তখন বলিঅপুর পক্ষে তোমার বয়স বেশি। তার দুবছর পরে যখন অপুর সংসার করা স্থির করি তখন আমি নিজেই সৌমিত্রকে ডেকে নিই। সেই যে ডাক পেলো, তারপর সত্যজিৎ রায় ওরফে মানিক বাবুর প্রায় ২৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৪টিতেই প্রধান ভূমিকায় দেখা যায় সৌমিত্রকে। এভাবে বললে বিষয়টা ঠিক আন্দাজ করা যাবে না। বলা দরকার যে, তখন ছিলো উত্তম কুমারের যুগ। আর ভাবুন সেই যুগে সত্যজিৎ রায় ১৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে। এসব অনেক পরের কথা। তার আগে এই বাঙালি অভিনেতার পরিচয় জানা যাক।

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি ছিলো কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে। বাবা কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করলেও অভিনয়, আবৃত্তির প্রতি নেশা ছিলো। আর সেই পারিবারিক বলয় থেকেই সৌমিত্র শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি টান পান। পড়ালেখা করেছেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর অভিনয়ে আসা নিয়ে সৌমিত্রের নিজের ভাষ্য,

অল্প বয়সে আমার একবার টাইফয়েড হয়েছিল। খুব রুগ্ন ছিলাম। বাড়িতে লোকেরা বলতছেলেটা কালো। নাক চোখ মুখও তেমন একটা নেই। এরকম একটা ছেলে কোত্থেকে এলো আমাদের বাড়িতে? এসব শুনে শুনে নিজের চেহারা নিয়ে সবসময় সংকুচিত থাকতাম। খেলাধুলা খুব করতাম। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতন ছিলাম না। তবে ভাল খেলতাম। খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলাম না। তবে ভালো অভিনয় করতাম। আমার অভিনয় দেখে অনেকে ভালো বলত। দেখতাম অভিনয় করে খুব সহজেই নিজেকে আড়াল করা যায়। মূলত: [ঃ] নিজেকে আড়াল করার জন্যই অভিনয়ে এসেছি।

অনেক কিছু থেকে নিজেকে আড়াল করতে অভিনয়ে এলেও তাকে আড়ালে থাকতে হয়নি। প্রথম চলচ্চিত্র অপুর সংসার দিয়েই খোলসা করেন নিজেকে। তারও আগের কথা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করা নিয়ে

আমি ছিলাম ঘোষক। অপেক্ষা করে বসে থাকতে হতো, কখন একটি গান শেষ হবে। তারপর নতুন ঘোষণা দেব আমি। বেশ বিরক্তির ছিল এ কাজ। তবে কাজটা করতে গিয়ে আমার ধৈর্য্য শক্তিটা বাড়ে। তার চেয়ে বড় কথা, ভাল করে মাইক্রোফোন ব্যবহার করাটা শিখি রেডিও থেকে। এভাবে প্রস্তুতিটা চলছিল।

যদিও শিশির ভাদুড়ীর অভিনয় দেখে তিনি অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তো ওই সব দিনে চলছিলো জলসাঘর আর পরশপাথর নির্মাণ। তাকে ধৈর্য ধরে এসবের শুটিং দেখতে বলেন সত্যজিৎ রায়। তারপর একদিন চলচ্চিত্রের সেটে হঠাৎ করে ছবি বিশ্বাসের সামনে সত্যজিৎ রায় বলেই ফেলেন অপুর সংসার-এর অপু হিসেবে সৌমিত্রের নাম। শুরু হলো তার চলচ্চিত্রের সংসার। তার প্রথম চলচ্চিত্রের প্রথম দৃশ্যের প্রথম দিনের শুটিং ছিল একটা ক্লোজআপ-এ ধরা একটা ঢোক গেলার মুহূর্ত। এতো দৃশ্য থাকতে কেনো এই ঢোক গেলার দৃশ্য, তা পরিচালক সত্যজিৎ রায়-ই ভালো জানেন। তবে সৌমিত্র উতরে যান সেই দৃশ্যে ঢোক গিলে। তারপর দর্শক ঢোক গেলেন বাঙালি এই অভিনেতার অভিনয় দেখে। নায়ক নয়, নিজেকে অভিনেতা হিসেবেই তিনি পরিচয় দিতেন। কারণ তার অভিনয়ে তারকা ইমেজ ভেঙে ফেলার ঘটনা দেখা যায়। ওরকম সুদর্শন চেহারা! অপুর সংসার-এর পর তিনি বাংলা ছবির প্রিয় রোমান্টিক নায়কের ইমেজে আবদ্ধ হয়ে পড়তে পারতেন। কিন্তু তারকা থাকার হাজারো প্রলোভনের হাতছানিকে উপেক্ষা করে এই যে হরেকরকম চরিত্রে সৌমিত্র অভিনয় করে এসেছেন তা অভিনয় শিল্পের প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতার প্রমাণ। এই গভীর দায়বদ্ধতা এখনো বহন করেন তিনি।

একদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন করবেন। তিনি উপলব্ধি করলেন এবং জানালেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে গড়া এই উৎসব এর ভাবগাম্ভীর্য এবং চিরাচরিত ঐতিহ্য থেকে সরে এসে নিম্নমানের একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। তাই এই অভিমানী শিল্পী সঙ্গত কারণেই অংশ নেননি।

৭০-এর দশকে সৌমিত্র বর্জন করেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। কতোইবা বয়স ছিলো তখন! আর এই বয়সেও তিনি যোগ দেন আন্দোলনে। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার দায়িত্ব যখন অযোগ্য কাউকে দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। তিনি বললেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য এমন কাউকে বেছে নেওয়া দরকার, যার কাজের ক্ষেত্রটা বেশ বিস্তৃত। সেই যোগ্যতা কি গাজেন্দ্র চৌহানের আছে? 

তো এই ব্যক্তি-বৈশিষ্ট্যের জায়গা থেকেও সৌমিত্র অনন্য। সৌমিত্র বরাবরই সিরিয়াস প্রকৃতির, একটু লাজুক ধরনের। তার এই সিরিয়াসনেসের প্রসঙ্গ উঠলেই সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করতে হয়। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কটা দেখা জরুরি। সত্যজিতের প্রয়াণ সৌমিত্রর কাছে দ্বিতীয়বার পিতৃবিয়োগ।১০ এই বেদনাবোধ তো একদিনে তৈরি হয়নি। বিশেষ করে যখন সত্যজিৎ আর সৌমিত্র একটা জুটি হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তো সেক্ষেত্রে পরিচালক আর অভিনেতার বোঝাপড়াটা জরুরি।

মানিকের সঙ্গে সৌমিত্রর এক অদ্ভুত সখ্য ছিল। মানিকের কথা সৌমিত্র ছাড়া এত ভালভাবে আর কেউ উপলব্ধি করতে পারত না। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সেরাটা মানিক তাই খুব সহজেই সৌমিত্রের কাছ থেকে পেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুজনে আলোচনা করত সিনেমা নিয়ে। সৌমিত্র মাঝে মাঝে এটা ওটা অনেক কিছু মানিককে বলত। মানিক মনোযোগ দিয়ে ওর কথাগুলো শুনত। দুজনের মধ্যে ঝগড়া মনোমালিন্য তো দূরের কথা, সামান্য কথা কাটাকাটিও কোনওদিন আমার নজরে পড়েনি।১১

সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায় বলেছিলেন এইসব কথা। এই সম্পর্কের পরও কিন্তু সত্যজিৎ তার চিন্তার জায়গায় অটল ছিলেন। এ প্রসঙ্গে আগন্তুক-এর (১৯৯১) কথা না বললেই নয়। সেখানে কিন্তু সত্যজিৎ তার প্রিয় শিল্পী সৌমিত্রকে না নিয়ে নিয়েছিলেন উৎপল দত্তকে।

তো এমনি এক আগন্তুক, যিনি আসল না নকল, ভালো না মন্দ, সৎ না প্রতারক সেই জিজ্ঞাসায় আলোড়িত করেন সবাইকে, চরিত্র রূপায়ণে দক্ষ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সেই ভূমিকা পালনে যোগ্য বিবেচনা করেননি সত্যজিৎ রায়, কেননা তার মনে হয়েছিল সৌমিত্র সর্বদা এমন এক ভালোত্ব-বোধ সঞ্চার করেন যে এ নিয়ে চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে শঙ্কাসঞ্চার দুরূহ, এমনকি অভিনয়-দক্ষ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও সেই দুরূহতা মোচন করতে পারবেন না।১২ 

ব্যাপারটা খেয়াল করা দরকার, বিশেষ করে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে। সত্যজিৎ আর সৌমিত্রের ব্যক্তি সম্পর্ক এখানে মুখ্য হয়ে ওঠেনি। চলচ্চিত্রের অভিনেতার ইমেজ আর অভিনয়ের প্রাসঙ্গিকতাই এখানে মূল ভূমিকা নিয়েছে। সত্যজিতের এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই সৌমিত্রকে দর্শক স্টার বা নায়ক হিসেবে নয়, পেয়েছে অভিনেতা হিসেবে। নায়ক বলতে প্রচলিত অর্থে যাঁরা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন সেই তৈরি-করা পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে নায়ককে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে চেষ্টা করেন সৌমিত্র।১৩ তার এই ভাবনার জায়গাটা এসেছে সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে।

সত্যজিৎ সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ ও বিভূতিভূষণের কথাসাহিত্যকে পর্দায় তুলে ধরলেন আর এক্ষেত্রে তিনি বাছাই করলেন বাংলার গ্রাম আর মধ্যবিত্ত শহুরে সমাজকে। সেক্ষেত্রে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় হয়ে ওঠে, তা হলো উপনিবেশবিরোধী প্রভাব। সত্যজিৎ ঔপনিবেশিক শাসনে মানব মনে সৃষ্ট প্রভাব আর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার জন্যই পথের পাঁচালী (১৯৫৫), অপুর সংসার, চারুলতা (১৯৬৪), অশনি সংকেত (১৯৭৩) ও ঘরে-বাইরে (১৯৮৪) নির্মাণ করেন। আর এইখানে সত্যজিৎ উত্তর ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপটে হাজির হলেন। পথের পাঁচালী বাদে বাকিগুলোতে সৌমিত্র অভিনয় করেন। সত্যজিৎ যে রাজনৈতিক ভাবনা থেকে এই আখ্যানগুলো বাছাই করেছিলেন, তার পুরো বক্তব্যকে হাজির করার গুরুদায়িত্ব পড়ে সৌমিত্রের ওপর। তো তার এই অভিনয় কিন্তু পৃথিবী জুড়ে সমাদৃত হয়।

রে-রও ঔপনিবেশিকতাবাদ-বিরোধী জেহাদ অসম্পূর্ণ থেকে যেত যদিনা তিনি সৌমিত্র বাবুর মতো এক ধারালো অস্ত্রকে পেতেন যে-অস্ত্র দিয়ে তিনি ফালাফালা করেন ঔপনিবেশিকতার অমানিশাকে। ... সৌমিত্র বাবু এমনই একজন শিক্ষিত অভিনেতা যিনি উপনিবেশের কালান্তক চেহারাটাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন। রে-র মতো তিনিও রেনেসাঁসের ভোরটার সার্থক দিশারি ছিলেন। দুজনার পারস্পরিক বোঝাপড়াটা এমনই এক উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখান থেকেই একমাত্র সম্ভব অপুর সংসার আর অশনি সংকেত-এর নিপুণ চিত্রায়ণ।১৪

দ্য ব্যাটল অব আলজিয়ার্স-এর (১৯৬৬) নির্মাতা জিলো পন্টিকর্ভো (Gillo Pontecorvo) বলেছিলেন এইসব কথা। তার কথার সূত্র ধরেই ব্যক্তি সৌমিত্রের রাজনীতি ও সংস্কৃতির খোঁজ করা দরকার। তরুণ বয়সে কলকাতায় এসে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও উচ্চ একটা সাংস্কৃতিক আবহে থাকাটাও সৌমিত্রর গড়ে ওঠার পেছনে এক বড় ভূমিকা রেখেছে।১৫ বামপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাসী সৌমিত্র চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি সমান তালে পেশাদার নাট্যমঞ্চেও অভিনয় করেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে দেবনারায়ণ গুপের পরিচালনায় তাপসী নাটকের মধ্য দিয়ে মঞ্চে যে পেশাদার অভিনয় শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় এই ৮০ বছর বয়সেও তিনি ঢাকার মঞ্চে এসে অভিনয় করে যান। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কর্ম আর জীবন নিয়ে একটি গল্প মঞ্চস্থ করতে তিনি ঢাকায় আসেন।

সৌমিত্র তো চলচ্চিত্রেই প্রতিষ্ঠিত, তাহলে এই বয়সেও মঞ্চে অভিনয়ের দরকার কী? কিংবা তিনি যখন চলচ্চিত্রে ব্যস্ত অভিনেতা তখনো কীভাবে মঞ্চে অভিনয় করেন? তার কি চলচ্চিত্রে দর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিলো না? এইসব প্রশ্নই হয়তো সৌমিত্রকে নায়ক নয়, অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অভিনয়ের খিদেটা যেমন তার এখনো আছে, তেমনই আছে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাও। তার মুখেই উচ্চারিত হয় সর্বোপরি একজন অভিনেতাকে চার অক্ষরের একটি শব্দকে আঁকড়ে থাকতে হয়, তা হলো ভালোবাসা। কারণ ভালোবাসা ছাড়া কিছু হয় না।১৬ আর এই ভালোবাসার টানে তিনি এই বয়সেও নাটকের দল নিয়ে মঞ্চে আসেন। যদিও তিনি বলেন, প্রয়োজনের তাগিদে নাটক লিখেছেন। তো এই প্রয়োজনটা কি অর্থের? আসলে ব্যাপারটা তা নয়। সেরকম হলে ওই সময়ে তিনি আরো বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারতেন। এই প্রয়োজনটাই আসলে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা, যা জন্ম দিয়েছে দায়িত্ববোধের। যে দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শুটিংয়ের সময় তরুণ শিল্পীদের ভুলত্রুটি নিয়ে নিজ আগ্রহে কথা বলেন। আর এই ভালোবাসা তাকে একসময় পেশাদারিত্বের দিকে নিয়ে গেছে। যদিও তার কাজের প্রথম দিকেই তিনি অপুর সংসার-এর চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর

একটি অভিনব কাজ করেন নিজের মতন করেনিজের সঙ্গে অপুর বোঝাপড়ার প্রাণের তাগাদায়। এই ছবিতে যে-সব দৃশ্যে অপু নেই, সেই মাঝখানের দৃশ্যগুলোতে অপু কি করছিল, কি তার সে-সময়কার মনোভঙ্গি অথবা মুভমেন্টস এই নিয়ে সৌমিত্র একটি চিঠি-সাবটেক্সট তৈরি করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা যেতে পারে অপু চরিত্রের একটি সাইকোবায়োগ্রাফি, সামগ্রিক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।১৭

সৌমিত্র কিন্তু ব্যাপারটা না করলেও পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেছেন। এটা কি কেবল অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা নাকি পেশাদারিত্ব নাকি অন্য কিছু? তা সৌমিত্রের জবানিতেই জানা যাক—‘একটা যেটা চেষ্টা করেছি ক্রমাগত অভিনয়কে আরও কত জীবনসদৃশ করে তুলব। এটাই প্রাথমিকভাবে ভাবতাম এবং খুব সত্য কথা বলতে কি সেটা দেখে অভিনয় মনে হবে নামনে হবে Slice of life এটাসেইটুকু অনেক আগেই আমি আমার অভিনয়ের মধ্যে আনতে পেরেছি।১৮ একজন অভিনেতার অভিনয় নিয়ে এই ভাবনা কিংবা নিজেকে মেলে ধরার যে চেষ্টা; তা সৌমিত্র করেছেন বৈকি, বেশ ভালোভাবেই করেছেন। যা তাকে জীবনের শেষবেলায় বেলাশেষের (২০১৫) প্রধান চরিত্রে হাজির করায়। কিংবা অহল্যাতে (২০১৫) তিনি অভিনয় করেন তার চেয়ে বয়সে অর্ধেকেরও কম বয়সি রাধিকা আপ্তের বিপরীতে আর অংশুমানের ছবিতে (২০০৯) একজন অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বুঝিয়ে দেন অভিনয়টা আসলে কী।

আমি অভিনয় যখন করি এখন, তখন প্রত্যেক শটের সময় ভাবি যে একটা fraction of second-ও যেন আমি dead না থাকি। আমি জীবন্ত থাকবজীবন্ত থাকা মানে এই নয় যে, যেটা চুপ করে তাকিয়ে থাকার দৃশ্যসেখানে চোখটাকে খুব বেশি নাড়াচাড়া করছি, ভুরুটা বেশি কোঁচকালামতা নয়, কিন্তু আমার চোখটা সর্বদা যেন বাক্সময় থাকে, চোখটায় যেন ভাষাটা থাকে, চোখটা যেন ফবধফ  না হয়।১৯

এই যে বাঙ্ময়তার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আরো জানা যায় চলচ্চিত্রের কাহিনির সময়কে ধরার জন্য হাতের লেখা পরিবর্তনের খবর। সত্যজিতের নির্দেশে তাঁকে রবীন্দ্রপূর্ব যুগের বাংলা হাতের লেখা শেখার জন্য খাতার পর খাতা মকসো করতে হয়েছিল। সত্যজিৎ বহু পুঁথি আর হাতের লেখার নমুনা যোগান দিয়েছিলেন তাঁকে।২০ সময় পেলেই তিনি বাড়িতে হাঁটাচলা করেন মাথায় ওজন নিয়ে, আর হুইল চেয়ার (১৯৯৪) চলচ্চিত্রটার জন্য ছয় মাসের বেশি সময় ধরে হুইল চেয়ারে বসে অভ্যাস করেন। আর এইসব করেন তিনি একটা স্তরে পৌঁছার জন্য, আর তা হলো—‘যেভাবে মানুষ জীবনে ব্যবহার করে, আচরণ করে, সেইখানে অভিনয়টাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঐ শান্ততায় আমি খুব বিশ্বাস করিঠান্ডা চুপচাপ অভিনয়।২১ এই ব্যাপারটা একদিনে হয়নি, এমনি এমনিও হয়নি। চলচ্চিত্র তো নাচ, গান, অভিনয় আরো কতো কলার সংমিশ্রণের একটা ব্যাপার। আর সৌমিত্রের বেলায় কবিতা আবৃত্তির একটা ব্যাপার তো ছিলোই। আবৃত্তির বিষয়টাকেও তিনি চলচ্চিত্রের কাজে ব্যবহার করেছেন। তাই তিনি বলতে পারেন ত্যাগ আর পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না। সত্যিই যে যায় না, তার প্রমাণ তো তিনি নিজেই।

ছাত্রজীবন থেকেই রবীন্দ্র প্রভাবে বেড়ে ওঠা সৌমিত্র নিজেও কবিতা চর্চা করেছেন। কবিতার বইও করেছেন। আর এটা যে নিছক নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় কবিতাবিষয়ক কাগজ এক্ষণ-এর সম্পাদনায় তার নাম যুক্ত থাকায়। এই যে একটা মানুষ অভিনয় করছেন, নাটক লিখছেন, কাব্যচর্চা করছেন, আবৃত্তি করছেন, ছবি আঁকছেন; তার পরও তিনি সময় ধরে শুটিংয়ের সেটে আসেন, আর এই বয়সেও তিনি তা পালন করেন। আর এই ব্যাপারটা হয়তো তার ভিতরে একধরনের অতৃপ্তি বোধ থেকেই আসে। নিজেকে আরো মেলে ধরা কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা আকাঙ্ক্ষা। সাধারণত আমার নিজের কোনও কাজেই সন্তুষ্টি আসেনা আজও। প্রায় সারাক্ষণ অসন্তুষ্টি থাকে আমার ভিতরে।২২ তিনশো চলচ্চিত্র করার পরও তার এই অসন্তুষ্টি, একজন প্রকৃত অভিনেতারই স্বীকারোক্তি। আর এজন্যই তিনি টিভি সিরিয়াল নিয়ে বলতে পারেন তার মনের কথা—‘ডেইলি সোপ বা সিরিয়াল, তার না আছে মাথা না আছে মুণ্ডু। আমার মনে হয়, আ ব্যাড ফিল্ম ইজ বেটার দ্যান এ সিরিয়াল। একজন অভিনেতা হিসেবে একটি ছবি সম্পর্কে বলা যায়ছবির আগা আছে, মধ্য আছে, অন্ত আছে। সেটা কি আমি জানি। কিন্তু সিরিয়ালের আমি কিছুই বুঝতে পারি না।২৩ এই যে এতো সহজে সোপ অপেরা আর চলচ্চিত্রের পার্থক্যটা উনি ধরিয়ে দেন, এটাই সৌমিত্র। তিনি অভিজ্ঞতা ধারণ করেন, বয়ে নিয়ে বেড়ান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

অভিনয়ের মতো একটা পরনির্ভর কর্মকে কেন্দ্র করে যখন একজন জীবন্ত মানুষকে গড়তে হয় তার ব্যক্তিত্ব, তখন কিন্তু মানুষটা অসহায়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে অভিনেতার জীবনদৃষ্টিকে যখন দর্শক খুঁজতে চায়, তখন সেই ব্যক্তি-মানুষটা আসলে নিজের স্বকীয়তার সঙ্কটে পড়েন। আর তা থেকে বাঁচতে তাকে হয়তোবা তোতা পাখির মতো বুলি আওড়াতে হয়, আর তা না হলে যাপিত জীবন হয়ে পড়ে রোবোটিক। সৌমিত্র এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। উত্তম কুমারও যেটা পারেননি। উত্তমের না পারাটা তাকে হিরোইজমের বাইরে বের হতে দেয়নি। ফলে উত্তম কুমার বলতেই একটা রোমান্টিক ভাবনায় তাড়িত হয় দর্শক। কিন্তু সৌমিত্রর বেলায় তা ঘটে না। অপুর সংসার-এ বাঙালি যুবকের যে চরিত্রটা উনি পানযেখানে উপন্যাস লেখার সাধ অপূর্ণ থেকে যায়সেটাতে মধ্যবিত্ত বাঙালির এক গোপন স্বপ্নকে তিনি স্পর্শ করেন। তিনি নিজেও এই শ্রেণিরই প্রতিনিধি আর এটা নিয়েও তার মধ্যে আক্ষেপ আছে। যা তিনি সরাসরি বলতে পারেন কিংবা সমস্যাটা চিহ্নিত করেন এভাবে

আমাদের মধ্যবিত্ত অভিনেতার অভিনয়কর্মটাও শেষ পর্যন্ত তাই বেশিরভাগ দেশবাসীর শিল্পরূপ হতে পারে না। কলকতার মঞ্চে পর্দায় গরিবকে নিয়ে কৃষক মজদুরকে নিয়ে যেসব নাটক বা চলচ্চিত্র মাঝে মাঝেই দেখা যায় সেখানে কৃষক মজুর গরিবের যাথার্থ্য তাই এত অনুপস্থিতি দেখি। চাষি সম্পর্কে বা চাষির পীড়ক মহাজন জোরদার সম্পর্কে মধ্যবিত্ত নাট্যকার বা পরিচালকের মতোই অভিনেতার অজ্ঞতাও সেখানে স্পষ্ট। সেখানেও ব্যবসায়িক প্রমোদমূলক ছবি বা নাটকের বস্তাপচা ভালমন্দ টাইপের মতো কতকগুলো প্রথাসিদ্ধ টাইপ পাকা হয়ে যেন গেড়ে বসেছে। গ্রামের চরিত্র হলেই যেন সেখানে একটা আধা যশুরে আধা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার লব্জে অভিনেতারা কথা বলতে থাকে। বলা বাহুল্য কোনো জেলার আঞ্চলিক ভাষার স্বাদই তাতে পাওয়া যায় না। কারণ আদতে সেটা কোথাও কারুরই ভাষা নয়সিনথেটিক্ ঝুটো একটা ভাষা মাত্র।২৪

সৌমিত্রের এইসব কথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র-কুশলীদেরও ভাবা দরকার। একজন অভিনেতা অভিনয় করতে করতে তার বাস্তব কিংবা যাপিত জীবনের ভিতরেও মেকি অভিনয় করার ভেক ধরেন আর সেক্ষেত্রে দেশ-কাল-রাজনীতির বিষয়গুলো সাধারণত তার চোখে উপেক্ষিতই থেকে যায়। কিংবা বলা যায়, মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রতিভূ হওয়ার ফলে শহরবাসীর সংস্কৃতিই তার কাছে প্রামাণ্য হয়ে ওঠে। ফলে যে সঙ্কটটা সে পর্দায় হাজির করতে চায়, তা স্পর্শ করার কিংবা জীবন ঘনিষ্ঠ রূপে তুলে ধরা সম্ভব হয় না। কারণ অভিনয়টা তো একটা পণ্য হিসেবেই উঠে আসছে। ফলে অভিনেতার স্বকীয়তা থাকা সত্ত্বেও তাকে পণ্যের বাণিজ্য বিস্তার করতে হয় অন্যের মতানুসারে। তবে

অভিনেতা যদি সত্যিকারের শিল্পী হয় তাহলে সে কেমন করে মানুষকে, মানুষের জীবনকে দেখেছে, জেনেছে, সুখ-দুঃখ শোষণ পীড়ন ভাঙাগড়ার মধ্যে মানুষের যে স্বরূপ তার অভিজ্ঞতায় ধরা পড়েছে, তাকেই সে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এইখানেই হয়তো সে সৃষ্টিশীল লেখক পরিচালকের অংশীদার হওয়ার যোগ্য।২৫

এইসব কথা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। যার অভিনয়ে রূপান্তর ঘটেছে, আছে সেনসিটিভিটি। ফলে কোনো তকমায় আবদ্ধ না থেকে সৌমিত্র নামটাই একটা তকমা হয়েছে দর্শকমনে।

 

লেখক : মাসুদ পারভেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ান। গল্পকাররানার নামে ছোটো কাগজের সম্পাদক। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম ঘটন অঘটনের গল্পবিচ্ছেদের মৌসুম

parvajm@gmail.com

তথ্যসূত্র  

১. http://goo.gl/QgpRPG; retrieved on 14.11.2015

২. রায়, সত্যজিৎ (২০০২ : ১৩); সৌমিত্র সম্পর্কে; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

৩. http://goo.gl/oByOgJ; retrieved on 28.09.2015

৪. http:/ww/w.nirapadnews.com/2015/09/06/news-id:86768/; retrieved on 06.09.2015

৫. পিন্টু, আনোয়ার হোসেন (২০০২ : ৩৭); খোলা চিঠি; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

৬. মোকাম্মেল, তানভীর (২০০২ : ২৭); সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় : একজন অভিনেতার আলেখ্য; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

৭. http://suprovatsydney.com.au/-p658-1.htm; retrieved on 23.09.2015

৮. http://goo.gl/EVkbXE; retrieved on 03.08.2015

৯. রায়, বিজয়া (২০০২ : ৭০); পৃথিবীর অন্যতম সেরা অভিনেতা; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

১০. প্রাগুক্ত; পিন্টু (২০০২ : ৩৯)।

১১. মুখোপাধ্যায়, সুব্রত (২০০২ : ৭১); অভিনয়ের জন্য হাতের লেখা পাল্টানোর ঘটনা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অভিনব; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

১২. হক, মফিদুল (২০০২ : ২৬); সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় : বাংলাদেশের চোখে; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

১৩. প্রাগুক্ত; হক (২০০২ : ২৬)।

১৪. পন্টিকর্ভো, জিলো (২০০২ : ৬৪); বিরাট অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

১৫. প্রাগুক্ত; মোকাম্মেল (২০০২ : ২৯)।

১৬.http://anandabhuban.com.bd/detailsnews.php?nssl=8efb100a295c0c690931222ff4467bb8&nttl=19092015387#.VngEWVJ2LMw; retrieved on 19.09.2015

১৭. প্রাগুক্ত; মুখোপাধ্যায় (২০০২ : ৭৩)।

১৮. চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র (২০০২ : ৮৫); সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শিল্প-ভাবনা; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

১৯. প্রাগুক্ত; চট্টোপাধ্যায় (২০০২ : ৮৫)।

২০. প্রাগুক্ত; মুখোপাধ্যায় (২০০২ : ৭৪)।

২১. প্রাগুক্ত; চট্টোপাধ্যায় (২০০২ : ৯৫)।

২২. http://goo.gl/l7v1GK; retrieved on 12.11.2015

২৩. http://goo.gl/JWg7DM; retrieved on 05.11.2015

২৪. চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র (২০০২ : ১১২); অভিনয় ও রাজনীতি; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; সম্পাদনা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার হোসেন পিন্টু; মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

২৫. প্রাগুক্ত; চট্টোপাধ্যায় (২০০২ : ১১১)।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন