Magic Lanthon

               

মইনুল ইসলাম

প্রকাশিত ১০ মে ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

ময়মনসিংহের প্রেক্ষাগৃহ

‘অলকা’ থেকে ‘অলকা নদী বাংলা শপিং কমপ্লেক্স’

মইনুল ইসলাম


আমার মা খুব সিনেমার পোকা ছিলেন। মা প্রায়ই আমাকে নিয়ে অলকা হলে চলে যেত সিনেমা দেখতে। মেয়েদের টিকেট কাউন্টারে ভীষণ ভিড়ের মধ্যে মা চুলোচুলি করে টিকেট কাটত। ভিড় থেকে যখন বেরোত, শাড়ির অর্ধেক খুলে গেছে, চুল এলোমলো, ঘেমে নেয়ে বিচ্ছিরি অবস্থা। কোনো নতুন সিনেমা এলে মাকে ঘরে আটকে রাখা মুশকিল হতো। ... পুরো সত্তর দশক জুড়ে বড়দার কাছে সিনেমায় নিয়ে যাওয়ার বায়না ধরেছি। বলার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যেত না বড়দা। বেশ কাঠখড় পুড়িয়েই নিত। এরপর খানিকটা বড় হওয়ার পর আর বড়দের ওপর ভরসা করিনি। আমি নিজেই বান্ধবীদের সঙ্গে অথবা বোনকে নিয়ে চলে যেতাম সিনেমায়। লুকিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়ে ধরা পড়েছি, বাবার হাতে মার খেয়েছি প্রচুর। আশির দশক থেকে আমরা আর সিনেমায় যাইনি। ঘরেই সিনেমা দেখতাম। তখন ঘরে ঘরে ভিডিও প্লেয়ার ছিল না। ভাড়া করে আনতে হতো।

নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন ময়মনসিংহের প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখার এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন। একটা সময় বাংলাদেশে নারী-পুরুষ উভয়েরই কমবেশি এ অভিজ্ঞতা ছিলো। অথচ শূন্য দশকে এসে এ অভিজ্ঞতার মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক হিসেবে তাদের উপস্থিতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। পুরুষরাও যে খুব সরব এমনটিও নয়। সেই প্রেক্ষাগৃহও এখন আর নেই। তসলিমার মায়ের স্মৃতি বিজড়িত অলকা সিনেমার স্থানে এখন অলকা নদী বাংলা শপিং কমপ্লেক্স; আর অজন্তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে নাকি তৈরি হবে নওজেশ শপিং কমপ্লেক্স। মালিকানার দ্বন্দ্বে যদিও তা বহুদিন আটকে আছে। বাকি যে তিনটি প্রেক্ষাগৃহ এখনো চলছে, তাকে কেবলই টিকে থাকা বলে। চলচ্চিত্রের বর্তমান এই নাজুক অবস্থা পাঠক মাত্রই ওয়াকিবহাল।

বাংলাদেশের একমাত্র স্টুডিও বি এফ ডি সি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তা নানা পথ মাড়িয়ে এখন একেবারে হামাগুড়ি দিয়ে চলছে। এই দীর্ঘ সময়ে চলচ্চিত্র-নির্মাণে টাকা ছড়িয়েছেন অনেকেই। সেই টাকা থেকে সরকারও তার রাজস্ব তুলে নিয়েছে দুই হাতে, কিন্তু দিন শেষে চলচ্চিত্রের জন্য তারা কিছুই করেনি। বিনিয়োগকারীরাও কোনো রকম দূরদর্শিতা ছাড়াই ঝোঁকের মাথায় কেবল বিনিয়োগ করেছেন, টিকে থাকতে পারেননি; অন্যভাবে বললে চলচ্চিত্র-কারখানাকেও টিকিয়ে রাখতে পারেননি। প্রযোজনায় পেশাদার চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী, নব্য ধনী, কালো টাকার মালিকের উত্তরসূরি হিসেবে শূন্য দশকে হাজির হয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মালিকরা। সব হয়েছে, কেবল চলচ্চিত্র এগোয়নি; ফল হিসেবে দিনের পর দিন একে একে বন্ধ হয়েছে প্রেক্ষাগৃহ। যে প্রেক্ষাগৃহ নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রধান স্থান ছিলো, গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ছিলো, তা হারিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রেক্ষাগৃহের যে সাংস্কৃতিক বলয় ছিলো তাও হয়ে গেছে ধ্বংস। এই আলোচনায় ময়মনসিংহ শহরের পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

অমরাবতী নাট্যমন্দির থেকে ছায়াবানী

১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে শাসন কাজের সুবিধার জন্য ময়মনসিংহ শহরে পত্তন হয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা হয় ময়মনসিংহ পৌরসভা। এরপর খুব দ্রুতই এখানে অফিস-আদালত, ব্যবসা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে একটি ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’। এটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন গৌরীপুর ও মুক্তাগাছার জমিদাররা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সে সময়কার স্থানীয় শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা কিছু মানুষ।

প্রথম দিকে ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’-এর সদস্যরা শহরে মহারাজা রোডের নিয়োগীবাড়ির মাঠে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করে নাটক মঞ্চায়ন করতো। এতে বেশ কষ্ট হতো নাট্যকর্মীদের। তাই নাট্যকর্মীদের মধ্যে নিজেদের একটা মঞ্চের জন্য সেসময় বেশ আকুতি ছিলো; সেই মঞ্চে তারা তো অভিনয় করবেই, পাশাপাশি অন্য কোনো নাট্যদলও সেটা ব্যবহার করতে পারবে।

নাট্যকর্মীদের এই স্বপ্ন পূরণে অবশ্য অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। অমরাবতী নাট্যসমাজের সদস্য রমেশ বাবু একবার গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোরের আমন্ত্রণে অতিথি হয়ে তার এলাকায় যান। আলোচনার মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে রমেশ নাট্যমঞ্চ নিয়ে তার মনের কথা পাড়েন ব্রজেন্দ্র কিশোরের কাছে। ব্রজেন্দ্র কিশোরও তার এই প্রস্তাবে আশ্বাস দেন। রমেশ ঘুরে এসে বিষয়টি সবাইকে জানালে অমরাবতীর সদস্যরা মিলে মাঠে নামেন মঞ্চের জন্য জায়গার সন্ধানে। অল্প সময়েই তারা জায়গা খুঁজে পান ময়মনসিংহের আরেক জমিদার শশীকান্তের কাছে। এরপর মি. জে আর ব্লেবার নামে এক ইংরেজ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি ও রায় বাহাদুর শশধর ঘোষকে সম্পাদক করে নাট্যমন্দির নির্মাণ কমিটি গঠন হয়। ‘অমরাবতী নাট্য মন্দির’-এর কাজ ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে। নাট্যমন্দির নির্মাণের পর শহরে মঞ্চনাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নতুন করে গতি পায়।

দেশভাগের আগে আগে ময়মনসিংহ শহরে চার ঘোষ নামে জনৈক ব্যক্তি নির্বাক চলচ্চিত্র চালানোর জন্য নাট্যমন্দিরটি চুক্তিতে ভাড়া নেন। তিনি এর নাম রাখেন ‘লক্ষ্মীনারায়ণ পিকচার প্যালেস’। চার ঘোষের সঙ্গে অমরাবতী কর্তৃপক্ষের চুক্তি ছিলো, নির্দিষ্ট ভাড়ার পাশাপাশি বছরে ২৪ দিন এবং আরো কিছু বিশেষ দিনে নাট্যসমাজকে মিলনায়তনটি ছেড়ে দিতে হবে।

এর কিছুদিন পর ময়মনসিংহ শহরের কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ইন্সপেক্টর ক্ষিতিশ ঘোষের কাছে ভাড়াটিয়া স্বত্ব হস্তান্তর করেন চার ঘোষ। ক্ষিতিশ ঘোষ সেখানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অব্যাহত রাখেন, তবে ‘লক্ষ্মীনারায়ণ পিকচার প্যালেস’ পালটে নাম দেন ‘ছায়াবানী’। তখন কেবল সবাক চলচ্চিত্রের যুগ শুরু হয়েছে। দেশভাগের কয়েক বছর পর ক্ষিতিশবাবু ভারতে চলে গেলে ‘ছায়াবানী’র ভাড়াটিয়া স্বত্ব ও চলচ্চিত্র চালানোর যাবতীয় সরঞ্জাম তিনি তার অংশীদার সৈয়দ মাহবুর হোসেন লেদুর কাছে বিক্রি করে দেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ‘ছায়াবানী’র সংস্কার ও আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ রূপান্তরে কিছু উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে ‘ছায়াবানী’ পথচলা শুরু করে। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ‘ছায়াবানী’ পরিচালনা করেন সৈয়দ মাহবুর হোসেন লেদুর পরিবার।

‘অলকা’র কথা ও অন্যান্য

ফুলপুরের কয়ারি’র জমিদার গোকুল চন্দ্র কুমার চৌধুরী ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে শুধু চলচ্চিত্র দেখানোর উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহে প্রথম প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ শুরু করেন। যা শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড়-এ স্থাপন করা হয় ‘অলকা’ নামে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে নির্বাক চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু হয় ‘অলকা’র পথচলা। গোকুল চন্দ্রের পর তার ছেলে আশুতোষ কুমার চৌধুরী প্রেক্ষাগৃহটির দায়িত্ব নেন। অসুস্থতার কারণে একপর্যায়ে তার ছেলে সুশান্ত কুমার চৌধুরী চালাতে শুরু করেন ‘অলকা’ প্রেক্ষাগৃহটি। সুশান্ত কুমার চৌধুরী জানান, ‘অলকা’য় সেসময় বাংলার পাশাপাশি উর্দু ও ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র দেখানো হতো। সেসময় চলচ্চিত্র দেখতে প্রেক্ষাগৃহে প্রচুর দর্শক আসতো। বিশেষ করে নতুন কোনো সিনেমা আসলে দর্শকের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যেতো না। তিনি আরো বলেন, ‘সেসময় দর্শকের কী আবেগ! অনেক দর্শক, বিশেষ করে নারীরা কাঁদতে কাঁদতে সিনেমা দেখে বের হতো। আবার এমনও হয়েছেকোনো দর্শকের সিনেমা দেখে পছন্দ হওয়ায়, সে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চারটি শো-ই দেখেছে।’

১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জমির উদ্দিন আহমদ শহরের চামড়াগুদাম এলাকায় ‘পূরবী সিনেমা’ নামে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন; তিনি নিজেই এর পরিচালনা করতেন। পরে অসুস্থতার কারণে প্রেক্ষাগৃহটি দেখাশোনার ভার ন্যস্ত হয় ছেলেদের ওপর। কিন্তু তার ছেলেরা এই প্রেক্ষাগৃহটি ধরে রাখতে পারেনি। ২০০২ খ্রিস্টাব্দে বোমা হামলার পর এই প্রেক্ষাগৃহটি কিনে নেন ময়মনসিংহ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাস উদ্দিন তালুকদার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আব্বাস উদ্দিন তালুকদার একসময় ‘পূরবী’তে টিকিট কালোবাজারি করতেন। বর্তমানে তিনিই এই প্রেক্ষাগৃহটি চালু রেখেছেন। ‘পূরবী’ প্রেক্ষাগৃহের বর্তমান ব্যবস্থাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন জানান, সিনেমাহলের ব্যবসায় এখন আর তেমন লাভ হয় না। দর্শকরাও আগের মতো সিনেমাহলমুখী নয়। এর চেয়ে যদি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে বেশি লাভ হবে।

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের দিকে শহরের ব্যবসায়ী নওজেশ আলী চিত্রনায়ক সোহেল রানার (মাসুদ পারভেজ) বড়ো ভাই কামাল পারভেজের পরামর্শে সি কে ঘোষ রোডে ‘ছায়াবানী’র পাশেই নির্মাণ করেন ‘অজন্তা’ প্রেক্ষাগৃহটি। নওজেশ আলীর মৃত্যুর পর তার ছেলেমেয়েরা এই প্রেক্ষাগৃহটি চালাতো। বোমা হামলার দুইÑতিন বছর পর ‘অজন্তা’ ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু জায়গাটি এখনো ফাঁকাই পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির ‘ভাগবাটোয়ারা’ নিয়ে সমস্যা হওয়ায় এখানে নতুন করে কোনো কিছু নির্মাণ করা যায়নি। তবে ঢাকার একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছেন জমির অন্যতম মালিক সলিমুল্লাহ বাবু। এছাড়া ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্টে ‘সেনানিবাস অডিটোরিয়াম’-এ নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেনা সদস্যদের বাইরে সাধারণ মানুষ এখনো সেখানে চলচ্চিত্র দেখতে পারে।

৩১ বছরের টিকিট মাস্টার, অতঃপর

ময়মনসিংহ শহরের প্রেক্ষাগৃহের ইতিহাস যখন থেকে খুঁজতে শুরু করি, তখন থেকেই আমি নিয়মিতভাবে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে থাকি। আমার সেই বন্ধু ছোটো থেকে ময়মনসিংহ শহরে বেড়ে উঠেছে, তাই সে আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেএটাই আমার প্রত্যাশা ছিলো। (ময়মনসিংহে জন্ম হলেও পড়াশোনার কারণে সেই ছোটো থেকে আমায় ওই শহরের বাইরে থাকতে হয়) আমার ধারণা ছিলো, পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে যেকোনোটির সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ না কেউ তার পরিচিত হবে। আমি আসলে প্রেক্ষাগৃহগুলো প্রতিষ্ঠার সময়টাকে ধরতে চাচ্ছিলাম। এছাড়াও অতীতে এসব প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ, দর্শক, অবকাঠামো কেমন ছিলো সেটাও জানতে চাচ্ছিলাম। 

অথচ কেনো জানি আমার সেই বন্ধু এ ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছিলো না। বিশেষ করে সে প্রথম থেকেই বলছিলো, প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে সে চেনে না। এদিকে আমি ওই বন্ধুকে ফোন করে করে অস্থির একটা অবস্থায় ফেলে দিয়েছি। একদিন রাত ১২টার দিকে ফোন করি ওই বন্ধুকে, কথা হচ্ছিলো প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে। পাশের ঘর থেকে বিষয়টি শুনতে পান বন্ধুর মা। এরপর খালাম্মা আমার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমিও আগ্রহ নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই। একপর্যায়ে খালাম্মা বলেন, তার বড়ো ননদের স্বামী-ই (আমার বন্ধুর ফুপা) ‘ছায়াবানী’তে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আমার কাছে জানতে চান, এটা আমার বন্ধু আমাকে বলেছে কি না? আমার তো চাঁদ হাতে পাওয়ার অবস্থা! আবার একই সঙ্গে বন্ধুর প্রতি অভিমানও।

যাক, আমি খালাম্মাকে জানাই, আমার বন্ধু এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। তিনি বিষয়টি শুনে একটু আশ্চর্য হন এবং আমাকে ওই ফুপার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। পরে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, সে আসলে ইচ্ছে করেই এটা জানাতে চায়নি। কারণ, তাদের পরিবারের কেউ প্রেক্ষাগৃহে চাকরি করতো, এটা সে মেনে নিতে পারে না। তাই এতো ‘ছোটো’ চাকরি সম্পর্কে সে জানাতে চায়নি।

এরপর কথা হয় বন্ধুর ওই ফুপার [সচেতনভাবে এই পরিবারের কারও নাম ব্যবহার করা হয়নি] সঙ্গে। তিনি ‘ছায়াবানী’তে টিকিট মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। অনেকটা আক্ষেপের সুরে তিনি কথা বলা শুরু করেন। তার ভাষায়, সেই সময় প্রেক্ষাগৃহে চাকরি করাটা বেশ সম্মানের ছিলো। পাড়া-মহল্লার লোকজন তাকে বেশ সমীহও করতো। কারণ সেই সময় বেশিরভাগ মানুষের কাছে সিনেমাহল ছিলো স্বপ্নের জায়গা। মানুষজনের কাছে তখন চলচ্চিত্র দেখা অনেকটা উৎসবের মতোই ছিলো। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি আরো জানান, এলাকা থেকে যেকোনো মানুষ সিনেমা দেখতে আসলে তিনি তাদের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি বলেন, ‘আবার এমনও হয়েছে অনেকে আমাকে আগেই হলে গিয়ে বলে এসেছেভাই, কাল আমরা পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা দেখতে আসবো, একটু টিকিটের ব্যবস্থা করবেন।’ সেসময় দর্শকের সঙ্গে এই সম্পর্কগুলো ছিলো দাবির, ভালোবাসার। ‘পাড়ার ছেলেমেয়েরাই সেসময় সিনেমা বেশি দেখতো, আমি তাদেরও খুব কাছের মানুষ ছিলাম। তাদের অনেককে আমি বিনা টিকিটে সিনেমা দেখার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।’ সেই দিন এখন স্বপ্নের মতো মনে হয় তার কাছে।

ঠিক একই ধরনের কথা বলেন ‘অলকা’র ব্যবস্থাপকের ছেলে ইনসান‘আমার বাবা ম্যানেজার পোস্টে চাকরি করায় সেসময় বন্ধু মহলে আমার খুব দাম ছিলো। আমি যা বলতাম সবাই তা শুনতো। আমার বাবা সিনেমাহলে চাকরি করে বলে এলাকার অনেক মেয়ে আমায় পছন্দ করতো।’ অথচ এখন কোনো ছেলে তার বাবা সিনেমাহলে চাকরি করে বললে, তার মানসম্মান কিছু থাকবে না বলে আফসোস করেন তিনি। কারণ সিনেমাহল এখন অনেকটা ‘নিষিদ্ধ পল্লি’র মতো, ভাবটা এমন যে ওখানে গেলেই অচ্ছুৎ হয়ে যাবে।

ওই বন্ধুর ফুপা আরো বলেছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৩১ বছর তিনি কাজ করেছেন ‘ছায়াবানী’তে টিকিট মাস্টার হিসেবে। ‘সেসময় বেতনও যে খুব বেশি ছিলো, এমন নয়। তখন আমরা হলে কাজ করতাম অনেকটা নেশা থেকে। আমি প্রচুর সিনেমা দেখতাম।’ তিনি ‘ছায়াবানী’তে যখন চাকরি শুরু করেন, তখন তার বেতন ছিলো মাত্র ৬০ টাকা। এ দিয়ে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হতো, তার পরও তিনি চাকরি ছাড়েননি।

বোমা হামলা ও তারপর

ময়মনসিংহ শহরে মাত্র এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের মধ্যে চারটি সিনেমাহলে (সেনানিবাস অডিটোরিয়াম বাদে) বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। চার দফা শহরটি কেঁপে ওঠে। শহরবাসী প্রথমে ভেবেছিলো ভূমিকম্প হচ্ছে। দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ করে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর বোমা বিস্ফোরণের সংবাদ শহরে ছড়িয়ে পড়লে লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে ছুটে যায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে।

ময়মনসিংহ শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে বোমা হামলা নিয়ে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর একটি প্রতিবেদনের (‘বর্বরোচিত বোমা হামলায় দেশবাসী স্তম্ভিত’) বয়ান ছিলো এ রকম। সেই দিনের ভয়াবহতার কথা আমার বন্ধুর ফুপাও একইভাবে তুলে ধরেন তার সঙ্গে আলোচনার সময়। তিনি অবশ্য তখন অসুস্থ অবস্থায় বাসায় শয্যাশায়ী ছিলেন। প্রথমে তিনিও বুঝতে পারেননি শহরে ঠিক কী হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, শহরের চারটি প্রেক্ষাগৃহে বোমা হামলা হয়েছে। প্রথম দিকে এ ধরনের ঘটনা বিশ্বাস কিংবা মেনে নিতে পারেননি তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি কখনো ভাবতেই পারিনি সিনেমাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’

ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সরকারি নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছিলো প্রেক্ষাগৃহগুলো। তারপর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মেরামত করে ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহগুলো চালু করতে থাকে মালিকরা। কিন্তু শুরুতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসতে সাহস পেতো না। ফলে প্রেক্ষাগৃহগুলো তেমন চলছিলো না। অন্যদিকে বিভিন্ন মহল থেকে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের ওপর নানাধরনের চাপ আসতে থাকে। দু-একজন মালিককে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়। এমনকি প্রভাবশালী মহল থেকে পরামর্শ আসে প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে শপিংমল করার জন্যও।

তাদের বলা হয়, শপিংমল করলে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে তাদের আর কোনো সমস্যা হবে না এবং তারাও (প্রভাবশালীরা) তাদের সঙ্গে থাকবেন। এরই ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বী মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে সমঝোতায় ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শপিং কমপ্লেক্স করার নামে প্রথম ভেঙে ফেলা হয় ‘অলকা’। আগেই বলেছি, প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে ‘ছায়াবানী’র কার্যক্রম ময়মনসিংহ শহরে প্রথম শুরু হলেও, কেবল প্রেক্ষাগৃহের অবকাঠামো নিয়ে ব্যবসায়িকভাবে প্রথম গড়ে উঠেছিলো ‘অলকা’। শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড়ে অবস্থিত এই প্রেক্ষাগৃহটির জমির মূল্যমান সেসময় কয়েক কোটি টাকা ছিলো। এরপর ‘অলকা’র জায়গায় গড়ে উঠতে থাকে ‘অলকা নদী বাংলা শপিং কমপ্লেক্স’। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে এই কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করা হয়।

২০০৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ‘অজন্তা’ প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রভাবশালীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে ‘অজন্তা’র মালিক প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে ফেলতে বাধ্য হন। সেখানে ‘অলকা’র মতো কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা থাকলেও তা স্থগিত রয়েছে। এছাড়া নামমাত্র মূল্যে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে প্রথমবারের মতো মালিকানা হস্তান্তর হয় শহরের চামড়াগুদাম রাস্তায় অবস্থিত ‘পূরবী’র।

সৈয়দ মাহবুর হোসেন লেদুর পরিবার মূলত ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’-এর কাছ থেকে ‘ছায়াবানী’ ভাড়া নিয়ে নিজেরা না চালিয়ে অন্যদের ভাড়া দিয়েছিলো। কিন্তু ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তারা লেদুর পরিবারের কাছ থেকে প্রেক্ষাগৃহটি ফেরত চায়। পরে অবশ্য বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলায় ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’ কর্তৃপক্ষ জয়ী হয়। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে নাট্যসমাজ কর্তৃপক্ষ সিরাজ নামে এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ৫০ হাজার টাকায় ছয় মাসের জন্য আবারও প্রেক্ষাগৃহটি ভাড়া দেয়। লেদুর মতো সিরাজও নিজে না চালিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর কাছে প্রেক্ষাগৃহটি ভাড়া দেন। সম্প্রতি ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’-এর লোকজন অভিযোগ করেন, সিরাজ ও প্রভাবশালীরা মিলে মূলত প্রেক্ষাগৃহটি দখলের পাঁয়তারা করছে। তাই ছয় মাসের জন্য ভাড়ার চুক্তি হলেও গত ১০ বছরেও তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এটি বুঝিয়ে দেয়নি। উলটো ছয় মাস পর থেকে ব্যবসায় মন্দার অজুহাত তুলে তারা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে দখলদার ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে এখনো দ্বন্দ্ব চলছে। তবে দুই পক্ষের কেউই এখন আর প্রেক্ষাগৃহটি চালু রাখার পক্ষে নয়। ‘অমরাবতী নাট্যসমাজ’ কর্তৃপক্ষ এটি ভেঙে শপিংমল বানানোর কথা ভাবছে; অন্যদিকে দখলদার চাইছে এটিকে নিজেদের দখলে রাখতে। তাই নিরুপায় হয়ে এখনো তাদের ইচ্ছের বাইরে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে যেতে হচ্ছে।

অজুহাত কেবল ‘বোমা হামলা’

শুধু বোমা হামলা হয়েছে বলে ময়মনসিংহের প্রেক্ষাগৃহগুলো এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছে, বিষয়টা মোটেও এ রকম নয়। রাজশাহী মহানগরীর প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধ হওয়া ও পরবর্তী সময়ে ভেঙে ফেলার পিছনেও একই ধরনের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতা কাজ করেছে। ‘অলকার’র মতো রাজশাহীর ‘কল্পনা’ প্রেক্ষাগৃহের মালিকানাও ছিলো ‘রাজশাহী সিন্ডিকেট’ নামক একটি সংগঠনের হাতে। আর এই সংগঠনের ১৬ জন বিনোদনপ্রেমী মানুষের হাতেই ‘কল্পনা’র সূচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা সবাই ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী সিন্ডিকেটের ব্যবস্থাপক দীনবন্ধু দেশে ফিরে এসে এর মালিকানা হস্তান্তর করেন ঢাকার মোশাররফ চৌধুরীর কাছে। তবে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে এসে প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পিছনেও রয়েছে ‘অলকা’র মতো স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের কারসাজি। ‘কল্পনা’র জায়গায়ও এখন গড়ে উঠছে ‘স্বচ্ছ টাওয়ার’ নামক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। যদিও সরকারি নথিপত্রে এ জায়গার মালিকানা রয়েছে রাজশাহী সিন্ডিকেটের নামে।

আবার রাজশাহীর সবচেয়ে পুরনো ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ‘স্মৃতি সিনেমা’ও বন্ধ হয়ে গেছে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে। স্মৃতি সিনেমা’র জায়গায় গড়ে উঠেছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। ব্রিটিশ আমলে রাজশাহীর ভিক্টোরিয়া ড্রামাটিক ক্লাবের উদ্যোগে নাট্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নির্মাণ হয়েছিলো ‘রাজা প্রমথনাথ টাউন হল’।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ভিক্টোরিয়া ক্লাবের কাছ থেকে এটা কিনে নেয় রাজশাহী এসোসিয়েশন। এর পর ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর এসোসিয়েশনের কাছ থেকে এটি ভাড়া নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক আফরাউজ্জামান খান (বাবুল) ও তার ছোটো ভাই আব্দেল নাসের খান (রুবেল)। বর্তমানে এখানে বিপণী বিতান নির্মাণ করছে রাজশাহী এসোসিয়েশন।

আর এই বাবুল ভ্রাতৃদ্বয় নগরীর কাদিরগঞ্জ ও আমবাগান এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণ করেছিলেন প্রেক্ষাগৃহ ‘বর্ণালী সিনেমা’। পরবর্তী সময়ে বর্ণালীর নামেই ওই এলাকা পরিচিতি পায়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে বর্ণালীর জায়গা কিনে নেয় ‘ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড’-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘ডেসটিনি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার’। পরে প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে ফেলা হয়। একই পরিবার নগরীর বাইপাস এলাকায় ‘লিলি’ প্রেক্ষাগৃহটি নির্মাণ করেছিলো। সেটাও ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ভেঙে ফেলে প্লট আকারে বিক্রি করা হয়। তার মানে ময়মনসিংহের মতো রাজশাহীর প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ ছিলোরাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও শপিংমল বাণিজ্য।

শেষকথা

‘ভয় আর লোকসান দিয়ে কোনোভাবেই সিনেমা হলের ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই সিনেমা হলের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি।’ ‘অলকা’র মালিক সুশান্ত কুমার চৌধুরীর ভাষ্য এটি। অথচ ৬২ বছর আগে তার দাদা জমিদার গোকুল চন্দ্র কুমার চৌধুরী সাহস নিয়ে শুরু করেছিলেন ময়মনসিংহের প্রথম প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের কাজ। গোকুল চন্দ্রের এ কাজে উৎসাহিত হয়েছিলেন অনেকে। তাই হয়তো ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহ গড়ে উঠেছিলো (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের তথ্য মতে) ময়মনসিংহে, ৫৮টি। মফস্বলের একটি জেলা শহরে এতো প্রেক্ষাগৃহ ময়মনসিংহের জন্য নিশ্চয় গৌরবের বিষয় ছিলো। কিন্তু সেই গৌরব আমরা ধরে রাখতে পারিনি। অলকা ভেঙে যেখানে অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্স হওয়ার কথা ছিলো, সেখানে হয়েছে শপিং কমপ্লেক্স! এভাবে চলতে থাকলে নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না বাংলাদেশে কখনো কোনো প্রেক্ষাগৃহ ছিলো, সেখানে পরিবারের সবাই মিলে চলচ্চিত্র দেখতে যেতো।

লেখক : মইনুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

neo.moynul@gmail.com

তথ্যসূত্র

১. নাসরিন, তসলিমা; ‘সিনেমা’; বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৮ জানুয়ারি ২০১৫।

২. দাশ, সুধীর (২০০০ : ২০৯); ‘ময়মনসিংহের নাট্য পরিক্রমা’; ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি; সম্পাদনা : শাকির উদ্দিন আহমদ; জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ।

৩. প্রাগুক্ত; দাশ, সুধীর (২০০০ : ২০৮)।

৪. http:/www.priyodesh.com/archives/13304; retrieved on 08.10.2015

৫. http:/www.priyodesh.com/archives/13304; retrieved on 08.10.2015

৬. ‘রাজশাহীর সিনেমা হল এখন মার্কেট’; দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০১০।

৭. http:/www.priyodesh.com/archives/13304; retrieved on 08.10.2015

৮. কাদের, মির্জা তারেকুল (১৯৯৩ : ৩৯৭); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প; বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন