Magic Lanthon

               

এবিএম সাইফুল ইসলাম

প্রকাশিত ২২ আগস্ট ২০২৩ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

ড. নো থেকে স্কাইফল —৩

জনসংস্কৃতি এবং বন্ড-এর বিবর্তনবাদ

এবিএম সাইফুল ইসলাম


ইংল্যান্ডের ল্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর জেমস চ্যাপম্যান-এর মতে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ জেমস বন্ড-এর যেকোনো একটি চলচ্চিত্র কমপক্ষে একবার হলেও দেখেছে। একই সঙ্গে বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজকে দীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে চলমান এবং সম্ভবত যোগাযোগ মাধ্যমের সবচেয়ে স্বীকৃত একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। যার আছে রেকর্ড ভঙ্গকারী অডিয়েন্স ও মুনাফা।১৯৬২ থেকে ২০১২ সাল-এই ৫০ বছরে মোট ২৩টি চলচ্চিত্র প্রতিদিন গড়ে মোট লাভের হিসাবে প্রতি সেকেন্ডে আট ডলার ৪৩ সেন্ট, যা প্রতি মিনিটে পাঁচশো পাঁচ ডলার ৭১ সেন্ট এবং দৈনিক প্রায় সাত লক্ষ ২৮ হাজার দুইশো ২০ ডলার আয় করছে। উল্লিখিত নির্দেশনা থেকে জেমস বন্ড চলচ্চিত্রের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে একটা সাধারণ অনুমান করা যায়। একই সঙ্গে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, বন্ড চলচ্চিত্র গত ৫০ বছর ধরে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে এতো জনপ্রিয় কেনো? জনপ্রিয়তার এ কারণ অনুসন্ধান তথা পপুলার কালচার বা ‘জনসংস্কৃতির’ শক্তিশালী পণ্য হয়ে ওঠার বিবর্তন প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করাই আলোচ্য লেখার উদ্দেশ্য।

২.

জেমস বন্ড চলচ্চিত্রের বিবর্তন নিয়ে আলোচনার শুরুতেই জনসংস্কৃতির সংজ্ঞা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। রিচার্ড ডায়ার ও জিনেট ভিনসেনডুর সহজ করে বলেছেন ‘‘জনপ্রিয়’ হলো তাই, যা জনগণ পছন্দ করে। তবে, কোনো সংস্কৃতিকে ‘জনপ্রিয়’ বলা বাহুল্য মাত্র। কেননা, মানুষের ‘প্রিয়’ না হলে কোনো সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না।’ এ আলোচনায় জনসংস্কৃতি বলতে সাধারণত ‘পাবলিকের’ পছন্দকে বোঝানো হয়েছে। সেই অর্থে জেমস বন্ড চলচ্চিত্রকে জনসংস্কৃতি বলা যায়। কারণ দীর্ঘদিন থেকে একটি বিশাল দর্শকশ্রোতার কাছে বন্ড চলচ্চিত্র আস্বাদিত হয়ে আসছে। রেমন্ড উইলিয়াম মনে করেন, জনসংস্কৃতি জনগণ নয়, অন্যদের দ্বারা চিহ্নিত। তবে মার্কসবাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও যোগাযোগের রাজনৈতিক অর্থনীতির পণ্ডিতেরা মনে করেন, সংস্কৃতি কারখানা তথা মিডিয়া থেকে পুনরুৎপাদিত পণ্যগুলো আধুনিক নগরের, একাকী-বিছিন্ন ও দমে থাকা (ডোসাইল)নাগরিকদের ওপর আধিপত্য তৈরি করে এবং ক্ষমতাবানের পক্ষ হয়ে তাদের সম্মতি আদায় করে।

থিওডোর অ্যাডর্নো ও ম্যাক্স হোর্খেইমার বলেছেন ‘ম্যাস কালচার’-এর কথা। বাংলাদেশের যোগাযোগবিদরা এর বাংলা করেছেন ‘গণসংস্কৃতি’। সংস্কৃতি কারখানার মাধ্যমে উৎপাদিত ও আস্বাদিত সাংস্কৃতিক পণ্যকে (পপ মিউজিক, সোপ অপেরা, বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন) ঘিরেই গণসংস্কৃতি। যা আসলে মানুষকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও মতাদর্শে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করা হয় বলে অ্যাডর্নো ও হোর্খেইমার-এর ধারণা। তারা আরো বলেন, সংস্কৃতি কারখানা পুনর্গঠন হয় আধুনিক পুঁজিবাদের কেন্দ্রীয় অংশ দ্বারা। যা তথ্য পরিবেশন ও জনপ্রিয় বিনোদনের নামে উৎপাদিত ভোগবাদী মতাদর্শের মাধ্যমে ব্যক্তির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর লক্ষ্য পুঁজিবাদী অবস্থানকে দৃঢ়তর করা। আর ‘বিবর্তনবাদ’ অনুসারে, এ বিশ্বচরাচর আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়নি। জগতের অগণ্য জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ তথা সব জৈব ও অজৈব সত্তা এক সহজসরল আদিম অবস্থার ক্রমবিকাশ হয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। এবং এই একই বিবর্তন ধারা অগ্রসর হয়ে চলেছে নিরবধি। এ জগৎ এক অবিরাম পরিবর্তন প্রবাহ, এক স্রোতধারা স্বরূপ, আর এ গতিময় ধারায় নিয়ত বদল হচ্ছে জগৎ, জীবন, সমাজ তথা সবকিছু। বিবর্তনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে হার্বার্ট স্পেনসার-এর মত বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, ‘ঐক্যবিধান, পৃথকীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ-এ তিনটি নীতি বিবর্তন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।’ গণসংস্কৃতি সম্পর্কে অ্যাডর্নো ও হোর্খেইমারের ভোগবাদী মতাদর্শের আধিপত্য ও বিবর্তন প্রক্রিয়ায় স্পেনসারের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ-এর আলোকে বন্ডের জনসংস্কৃতির মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে এ লেখায়।

সাধারণত সামাজিক পরিবর্তন সাধন হয় সমাজের সদস্যদের চিন্তাধারা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আচার, ব্যবহার, কলা, আদর্শ, সদস্যদের কৃতকর্মের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন উৎস বা কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক, জৈবিক, প্রযুক্তিবিদ্যাগত এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে জনসংস্কৃতি প্রক্রিয়ায় বন্ডের সাংস্কৃতিক বিবর্তনই মূখ্য আলোচ্য হলেও সাংস্কৃতিক বিবর্তনে প্রযুক্তির ব্যবহারও গ্রহণযোগ্য হবে এখানে।

সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি, দুর্ঘটনা/বিপর্যয়, তাত্ত্বিক উৎসঙ্গ, প্রোপাগান্ডা, এজেন্ডা সেটিং, স্টেরিওটাইপিং, মানবীয় ভুল, সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভাসহ অনেক উৎপাদক দ্বারা চলচ্চিত্র প্রভাবিত হয়ে থাকে। চলচ্চিত্রের মতো অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের প্রক্রিয়া ও ব্যাখ্যায়-খাদ্য, পুষ্টি, আবহাওয়া, অবস্থান, প্রাপ্য প্রতিভা, পরিবহন, প্রযুক্তিগত কৌশল, চমকবাজি, কপিরাইট, ভাষার ব্যবহার, বিষয়বস্তু, লেখার দক্ষতা, টার্গেট অডিয়েন্স, বাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ও বিবেচ্য। এসব বিষয় আলোচনায় রেখে চলমান আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

৩.

অফিসিয়াল হিসাবে চলচ্চিত্র বাজারে ইয়ন প্রোডাকশনের এ পর্যন্ত ২৩টি জেমস বন্ড চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি চলচ্চিত্রেই মূল অভিনেতার ভূমিকা অনুযায়ী আলাদা প্যাটার্ন লক্ষণীয়। বিষয়বস্তু, সংলাপ, পাণ্ডুলিপি, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, নায়কের বিশেষ চতুরতা, বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনসহ সমসাময়িক অনেক ইস্যুনির্ভর বিষয়বস্তু এ চলচ্চিত্রকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে। একইভাবে নায়কেরাও ক্রমেই পণ্যে রূপান্তর হয়েছে। এ পণ্যকরণের ধরনও ক্রমাগত পরিবর্তন হয়েছে। বন্ড সিরিজে যখন নতুন একজন নায়ককে পর্দায় আনা হয়, তখন সে আগের নায়কের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে; কীভাবে আরো জনপ্রিয় হওয়া যায়, বক্স অফিস হিট করা যায় ইত্যাদি নানান বিষয় নিয়ে নানা কারণে বন্ড চলচ্চিত্র শুরু থেকেই আলোচনায় থেকেছে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করলে এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।

শন কনারি অভিনীত ড. নো (১৯৬২) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বন্ড সিরিজের প্রথম কিস্তির আবির্ভাব। আবির্ভাবেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়, চলচ্চিত্র মাধ্যমে মানসিক ও নৈতিক গুণ (!) ব্যবহার করে কীভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ে অন্যকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। আর কনারি তা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম বলেই হয়তো প্রথম নায়ক হিসেবে সাতটি বন্ড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘ড. নো’ উপন্যাসে ফ্লেমিং দেখানোর চেষ্টা করেন, ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্ত হলে জ্যামাইকা ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৯৫২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে বসার পর ১৯৬২ সালের ৬ আগস্ট জ্যামাইকা স্বাধীনতা লাভ করে, একই সালের ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডে ড. নো মুক্তি পায়।১০ তখন প্রযোজকদ্বয় SPECTRE (Special Executive for Counter-intelligence, Terrorism, Revenge and Extortion) নামে একটি কাল্পনিক বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের পরিচয় করিয়ে দেন। যুদ্ধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার দৃশ্যগুলো এমন বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেনো SPECTRE-কে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা যায়। বাস্তব দুনিয়ার খলনায়কদের রূপক উপস্থাপন এবং বন্ড হিসেবে শন কনারির গ্রহণযোগ্যতা অতুলনীয় সাফল্য এনে দেয়। ১৪ থেকে ২৮ অক্টোবর, ১৯৬২ কিউবায় মিসাইল সঙ্কটাবস্থার কিছুদিন আগে ড. নো মুক্তি পায়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এ চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটে ফুটে ওঠে-পারমাণবিক যুদ্ধের হাত থেকে বন্ড সারাবিশ্বকে রক্ষা করে। এ ধরনের বিস্ময়কর পরিকল্পনা কেবল সমস্থানিকতা নয়।১১

চলচ্চিত্রশিল্পের মূল্যবান পণ্য হিসেবে ড. নোকে প্রতিষ্ঠা করতে ওয়েল-ডিফাইন শট্, হাই কালার সিনেমাটোগ্রাফি, পরিপক্ব পাণ্ডুলিপি, ভালো অভিনয় শিল্পী-সবকিছুরই সমন্বয় ঘটানো হয়। বন্ড চরিত্রটি অতিমাত্রায় ব্রিটিশ, অশালীন ও নির্লজ্জভাবে যৌনময়। যে কারণে তা সংশোধন করে বৈশ্বিক প্রোডাক্ট হিসেবে তৈরি করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় চলচ্চিত্রনির্মাতা টেরেন্স ইয়ং’কে।১২ আর ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করে সিডনি কেইন’কে এমনভাবে আর্ট ডিজাইন করতে বলা হয়, যেনো জ্যামাইকান যথার্থতাকে বন্ডের বৈশ্বিক প্রবাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন কেন অ্যাডাম; যাকে পাইনউড স্টুডিও’র ইন্টেরিয়র সেট ডিজাইনেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি খুঁটিনাটির নিখুঁত পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নের ফলেই প্রথম কিস্তিতে বন্ড বিশ্বব্যাপী বাজিমাত করে। প্রযোজক, পরিচালক, উপন্যাস তথা ফ্লেমিং যেভাবে বন্ডকে প্রত্যাশা করেছিলেন, কনারি ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান ধারণার সঙ্গে উপযুক্ত ছিলেন।

প্রথম চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর প্রযোজকরা কনারির দর্শকপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এজন্য তাকে নিয়েই পরবর্তী চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা ভাবতে শুরু করেন তারা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ-এর (১৯৬৩) জন্য বিনিয়োগ দ্বিগুণ এবং প্রথমবারের মতো ‘কিউ’১৩ চরিত্রটির পরিচয় করানো হয়। সমসাময়িক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার অনুরণন এবং ‘প্রফুমো স্ক্যান্ডাল’-এর প্রতিফলন দেখা যায়। এমনকি গুজব আছে, গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগের রাতে জন এফ কেনেডি এবং লি হার্ভি অসওয়াল্ড দু’জনই জেমস বন্ডের উপন্যাস পড়েছিলেন।১৪ ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ ব্রকলি, ফ্লেমিং ও কনারিকে চরম সাফল্য এনে দেয়। সানফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার প্যাট্রিক হ্যাচার এই চলচ্চিত্রের থিম সঙকে এক প্রকার রেনেসাঁ আখ্যায়িত করে বলেন, এই কিস্তির সাফল্যের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী বন্ড উপন্যাস বিক্রির ধুম পড়ে। এবং এর দ্বারা সারাবিশ্বে যে বুলেট ছোড়া হয়, জনসংস্কৃতি পুকুরে তার বিস্তৃতির তরঙ্গ ছিলো সীমাহীন।১৫ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ-এর মুনাফা আগের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। ফলে বিশ্বব্যাপী জনসংস্কৃতির মেজর প্লেয়ারে পরিণত হয় বন্ড।১৬ বন্ডের এই কিস্তি প্রথম কিস্তি থেকে অনেক বেশি অ্যাকশন নির্ভর, চমকপ্রদ ও দুঃসাহসিক। হয়তো এসব কারণেই প্রযোজক আলবার্ট আর. ব্রকলি ও নায়ক কনারির সবচেয়ে প্রিয় চলচ্চিত্র ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ১৭

‘থান্ডারবল’ উপন্যাসের কপিরাইট ছিলো আইরিশ চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক ও পরিচালক কেভিন ম্যাকক্লোরি’র। পরবর্তী সময়ে ফ্লেমিং এ স্বত্ব ব্রকলি ও সল্ট্‌জম্যানকে (saltzman) দিলে মামলা করে বসেন কেভিন এবং আইনগতভাবে স্বত্ব ফিরে পান। অন্যদিকে ব্রকলি সিদ্ধান্ত নেন, বন্ডের তৃতীয় কিস্তি হবে গোল্ডফিঙ্গার। এজন্য আমেরিকান পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার রিচার্ড মেইবম’কে একটি ‘হাই অকটেন ককটেল অব অ্যাকশন’ (sic) চিত্রনাট্য তৈরি করতে বলা হয়।১৮ ম্যাকক্লোরি থান্ডারবল চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করলে ব্রকলি আরো শক্তিশালী ইমেজে বন্ডকে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং চমকপ্রদ লোকেশনে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন-যার উদ্দেশ্য বন্ডকে আরো বিত্তবান, দুঃসাহসিক ও উত্তেজক হিসেবে পর্দায় প্রদর্শন করা। এরই অংশ হিসেবে বন্ডের জীবনযাত্রায় যোগ হয় ব্যক্তিগত জেট বিমান। এই সেটিংস দর্শককে প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হয়।

গোল্ডফিঙ্গার-এর (১৯৬৪) সাফল্যে প্রযোজকরা শুটিং লোকেশনের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। ফলে পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক লোকেশন অগ্রাধিকার পায়। ব্রিটিশ অভিনেত্রী, মডেল ও সমাজসেবিকা এলিজাবেথ হার্লি গোল্ডফিঙ্গার-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তিনটি বিষয় ক্রমেই বন্ডের অপরিহার্য পরিচয় হয়ে ওঠে। প্রথমত, বন্ডের অবিস্মরণীয় রকমারি খলনায়ক; দ্বিতীয়ত, এর লিজেন্ডারি সেট এবং সর্বশেষে এর অপূর্ব মুগ্ধকর নারী। আর এসবের গুরুত্ব, উৎকর্ষ ও সিদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনারি জনসংস্কৃতির আইকনে পরিণত হন।১৯ দ্রুততম সময়ে টিকিট বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফা হিসেবে গোল্ডফিঙ্গার গিনেস বুকে নাম লেখায়। প্রমাণ হয় বিশ্বব্যাপী বন্ডের জনপ্রিয়তা।২০ এটিই বন্ডের প্রথম ব্লকবাস্টার।

ভিনসেন্ট ক্যানবাই, জন গার্ডনার ও পেনিলোপ জনসংস্কৃতির বিশ্বে বন্ডের প্রভাবকে অতুলনীয়ভাবে আপ-টু-ডেট হিসেবে উল্লেখ করেন।২১ এভাবে বন্ড এমন এক মানদণ্ডে পরিণত হয় যে, যেকোনো নায়ককে বন্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এভাবে বিনোদন জগতে বন্ড একধরনের হুমকি হয়ে ওঠে, অথচ তাকে থামানোর কোনো উপায় নেই।২২ পরবর্তী ইন্সটলমেন্টের জন্য যদিও অন হার ম্যাজিস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস (১৯৬৯) চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়। কিন্তু এর প্রযোজকরা অর্থনৈতিক সমঝোতায় ম্যাকক্লোরি’র সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থান্ডারবল-এর (১৯৬৫) কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে ফ্লেমিং-এর মূল উপন্যাসকে কিছুটা পরিবর্তন করে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপাদানকে যোগ করতে শুরু করেন। থান্ডারবল-এর পারমাণবিক থিম বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়। পরে অবশ্য অসংখ্যবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায় বন্ডের চলচ্চিত্রে। এই থিমে শুধু প্রাসঙ্গিকই নয়, সন্ত্রাসবাদের ভবিষ্যদ্বাণীও ছিলো। নিউইয়র্কে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা এবং লন্ডন, মাদ্রিদ ও ইন্দোনেশিয়ার বালি আক্রমণও একইসূত্রে গাঁথা। বন্ডের যেসব চলচ্চিত্রে এমন ভবিষ্যদ্বাণী ছিলো তার মধ্যে থান্ডারবল, মুনরেকার (১৯৭৯), অক্টোপুসি (১৯৮৩), অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল (১৯৮৫), গোল্ডেন আই (১৯৯৫), দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ (১৯৯৯) অন্যতম। একইভাবে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি ছিলো যথাক্রমে দ্য লিভিং ডেলাইটস (১৯৮৭) ও ডাই অ্যানাদার ডেতে (২০০২)। থান্ডারবল-এ আটলান্টিক সাগরে হাইড্রোজেন বোমাসহ একটি প্লেনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কিংবা ইউ অনলি লিভ টুয়াইস-এ (১৯৬৭) ‘অ্যাপোলো ওয়ান’ দুর্ঘটনার মতো তাক লাগানো ঘটনা জনসংস্কৃতির রাজ্যে এভাবে একটার পর একটা বিবর্তিত বুলেট ছুড়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেনোমেননে পরিণত করে বন্ডকে।

বিশ্বের যাবতীয় হুমকিতে জেমস বন্ড হলো একধরনের হিরো। শন কনারির দৃঢ় বিশ্বাস বা প্রত্যয় এবং ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বন্ড চরিত্রকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছিলো। এর পর তার চালিকাশক্তি হিসেবে জর্জ ল্যাজেনবি, রজার মুর, টিমোথি ডাল্টন, পিয়ার্স ব্রুসনান ও ডেনিয়েল ক্রেইগ দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছেন। অন্যদিকে এর বৈশিষ্ট্য, অ্যাকশন ও জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখে বন্ড চলচ্চিত্রের সাফল্য ধরে রাখা ছিলো একটি অদম্য কাজ। বিশ্বের অনেক দৈনিক ও সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত রচনা, বই, প্রামাণ্যচিত্র, গান, রেকর্ড, গেম ও টেলিভিশন শো-এ বন্ড আবর্তিত হলেও অ্যাকাডেমিক স্কলারদের জন্য একটি বিস্ময় ছিলো, যখন উমবার্তো ইকো ‘দ্য বন্ড অ্যাফেয়ার’ নামে একটি সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশ করেন।

অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবি অন হার ম্যাজিস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস চলচ্চিত্রে দ্বিতীয় নায়ক হিসেবে বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেন। সেভিল-এর স্যুট, রোলেক্স-এর হাতঘড়িসহ অন্যান্য বন্ড রেসিপির সঙ্গে তাকেও অভ্যস্ত হতে হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি মুনাফার মুখ দেখলেও ভোগবাদী মতাদর্শে আগের মতো আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়নি। অর্থাৎ পুঁজিবাদী মতাদর্শকে দৃঢ়তর করতে পারেনি বলেই হয়তো ল্যাজেনবি’কে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকরা বলেন, ল্যাজেনবি বন্ড হিসেবে ব্যর্থ।২৩ তিনি স্বল্পভাষী, রসবোধহীন,২৪ তুলনামূলকভাবে অসৌহার্দ্যমূলক,২৫ ‘বিরক্তিকর ও গণ্ডিবদ্ধ চরিত্রের’২৬। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর চলচ্চিত্র সমালোচক ডেরিক ম্যালকম, ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর ওয়েইলারসহ অনেকেই ল্যাজেনবির বিরুদ্ধাচরণ করেন। এ কারণেই হয়তো ল্যাজেনবিকে আর কোনো বন্ড চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। তবে অন হার ম্যাজিস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস-এর অর্থনৈতিক সাফল্য যদি আগের বন্ড চলচ্চিত্রগুলোকে ছাড়িয়ে যেতো, তাহলে এ রকম সমালোচনা নাও হতে পারতো। যদিও ল্যাজেনবির বন্ড চরিত্রায়ণ ফ্লেমিং-এর উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রের মতো,২৭ কিন্তু প্রযোজকের ইচ্ছেমতো পরিবর্তিত নয়। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, ইয়ন প্রোডাকশনের বন্ড চরিত্র ফ্লেমিং-এর বন্ড হিসেবে কপিরাইটকৃত ও প্রচার হলেও আসলে এর মৌলিক যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ।

ডায়মন্ডস আর ফরএভার (১৯৭১) নির্মাণের পর ব্রকলি ও সল্ট্‌জম্যান শন কনারিকে আবার বন্ড হিসেবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু কনারি তা প্রত্যাখান করেন। শেষ পর্যন্ত রজার মুর’কে নির্বাচন করা হয় পরবর্তী বন্ড হিসেবে। লাইভ অ্যান্ড লেট ডাই-এর (১৯৭৩) মাধ্যমে বন্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেন রজার। এ চলচ্চিত্রে তিনি আগের বন্ডের মতো চলচ্চিত্রের কোনো দৃশ্যেই সিগারেট খাননি, খেয়েছেন চুরুট; ভদকা মার্টিনি পান না করে করেছেন হুইস্কি বার্বন এবং কোনো দৃশ্যেই ডিনার জ্যাকেট পরেননি। এ রকম কিছু আলাদা স্বকীয়তার মাধ্যমে কনারিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রজার। যদিও পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি। মূল বন্ড রেসিপিতেই ফিরে আসতে হয়েছে তাকে। একই সঙ্গে দর্শক চাহিদার কথা বিবেচনা করে ‘কিউ’ চরিত্রটিকেও ফিরিয়ে আনা হয়। বিশেষত জনসংস্কৃতির পণ্যকরণে এগুলো সমালোচিত পদক্ষেপ।২৮ বন্ড চলচ্চিত্রের প্রাসঙ্গিকতা আরো প্রসারিত করতে পল ও লিন্ডা একটি বিশেষ ‘থিম সঙ’ লেখেন। যার সুর করেন বিটলস্‌-এর জর্জ মার্টিন। লাইভ অ্যান্ড লেট ডাই-এর সফলতার পর রজার মুর অডিয়েন্সের কাছে বন্ড হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।

রজারের পরবর্তী চলচ্চিত্র দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গানও (১৯৭৪) হ্যান্ডসাম প্রফিট করে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্য স্পাই হু লাভড মির (১৯৭৭) চিত্রনাট্য রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রিয় লেখক অ্যান্থনি বার্জেস’কে। ‘কার্লোস দ্য জ্যাকেল’-এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ওপেক-এর তেল সঙ্কট, সোভিয়েতের কাছে রয়্যাল নৌবাহিনীর অফিসার ডেভিড জেমস বিংহামের সাবমেরিন সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি; একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েতের যৌথভাবে অ্যাপোলো-সয়ুজ মহাকাশ অভিযান-ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এই ঘটনাগুলোর কোনোটাই অবাস্তব ছিলো না বরং যথেষ্ট পরিমাণে সমসাময়িক বাস্তবকেন্দ্রিক ইস্যু ছিলো।২৯ এভাবে বন্ড সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত হয় এবং সারাবিশ্বে বন্ড ইমেজ বিভিন্ন আঙ্গিকে, যেমন-চলচ্চিত্র, ভিডিও গেমস, তথ্যচিত্র, পোশাক, খেলনা ও অস্ত্রসহ অনেক পণ্যই মানুষের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়। দ্য স্পাই হু লাভড মি মুক্তির পর স্টিভেন স্পিলবার্গ বন্ড চলচ্চিত্র পরিচালনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন; একই সঙ্গে জর্জ লুকাস’কে বন্ডের মতো জনসংস্কৃতি পণ্য তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করেন। যার ফলস্বরূপ নির্মাণ হয় ইন্ডিয়ানা জোন্স৩০

জনসংস্কৃতিতে বন্ড চরিত্রের অনুপ্রবেশই তাকে বৈশ্বিক বিনোদন ফেনোমেনন-এ পরিণত করে। জনসংস্কৃতিতে বন্ডের অনুপ্রবেশ ‘মুনরেকার’ উপন্যাসে আরো স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। জার্মান এক অভিজাত ব্যক্তি ও নাৎসি হুগো ড্রাক্স উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পারমাণবিক মিসাইল দিয়ে লন্ডনকে ধ্বংস করতে চান। ড্রাক্স এখানে যথার্থভাবে খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলে অডিয়েন্সের ঘৃণার শিকার হয়। মুনরেকার (১৯৭৯) চলচ্চিত্রে ড্রাক্স চালায় মার্সিডিজ বেঞ্জ আর বন্ড চালায় বেন্টলি; অ্যাস্টন মার্টিন-এর পরিবর্তে বেন্টলি ব্যবহার করা হয়। কারণ, বেন্টলি তখন নতুন হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। তাই পরিচালক গাই হ্যামিলটন আপ -টু-ডেট জনপ্রিয় থাকতে বেন্টল’কে ব্যবহার করেছিলেন। প্রিন্স ফিলিপ-এর উপস্থিতিতে মুনরেকার-এর প্রিমিয়ার হয়েছিলো লন্ডনের ল্যাস্টার স্কোয়ারে। ১৯৭৯ সালে স্পিলবার্গ-এর ক্লোজ এনকাউন্টার অব দ্য থার্ড ওয়ার্ল্ড মুক্তির প্রথম সপ্তাহে যে রেকর্ড করেছিলো, মুনরেকার সে রেকর্ড ভেঙে দেয়।

জন গ্লিন ১৯৮১ সালে ফর ইওর আইস অনলি দিয়ে বন্ড চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে আরো চারটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। প্রথম চিত্রনাট্য পরিকল্পনায় মূলত দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। প্রথমটি ‘শীতল যুদ্ধ’ এবং দ্বিতীয়টি প্রধান খলনায়ক হিসেবে সোভিয়েত গুপ্তচর।৩১ স্পাই, গুপ্তচর বা গোয়েন্দা যাই বলি না কেনো, এরা প্রকৃতিগতভাবেই রাজনৈতিক কিন্তু বন্ডকে সুচতুরভাবে আলাদা স্পাই হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা থাকে সবসময়। এটিই বন্ডের প্রথম চলচ্চিত্র, যেটির মিউজিক ভিডিও চলচ্চিত্র মুক্তির এক সপ্তাহ আগে এম টিভি’তে সম্প্রচার শুরু হয়। সিনা ইস্টন’কে কেবল গায়িকাই নয়; টাইটেল সিকোয়েন্সের ফিগার হিসেবে দেখানো হয়।৩২ এভাবে মিউজিক ভিডিও’র জনসংস্কৃতি ফেনোমেনন পুঁজিতে রূপান্তর হয়, যখন সারাবিশ্ব ঝড়ের মতো এই ধারণা সানন্দে গ্রহণ করে।

অক্টোপুসি নামটা শুনে অডিয়েন্স নেতিবাচক ধারণা পোষণ করলেও বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ভালোই প্রতিক্রিয়া আসে। রিচার্ড মেইবম ও মাইকেল উইলসন ন্যাটো/সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে অক্টোপুসির পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।৩৩ অক্টোপুসি চলচ্চিত্রের কিছু অংশের শুটিং হয় ভারতের রাজস্থানে উদয়পুরের ‘শিব নিবাস প্যালেস’ হোটেলে। ১৯৮৩ সালের আগে হোটেলটি তেমন জনপ্রিয় না হলেও অক্টোপুসি প্যালেস হিসেবে ব্যবহার হওয়ার পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।৩৪

প্রযোজক ব্রকলি, মাইকেল উইলসনকে সহ-প্রযোজক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল-এর কাহিনি রাজনৈতিক এজেন্ডা বহির্ভূত করার সিদ্ধান্ত নেন। কম্পিউটার শিল্পের পাওয়ার স্ট্রাগল ইস্যু, বিশেষত মাইক্রোচিপ শিল্প এই চলচ্চিত্রের মূল প্রতিপাদ্য। মূলত অ্যাপল ও আই বি এম-এই দুই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার বাজারের প্রতিযোগিতাকে দেখানোর চেষ্টা করা হয় অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল-এ। মাইক্রোচিপের আগমন বন্ডের এই পর্বকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে। সুনির্মিত সেট, অতিলৌকিক চমকবাজি এবং ট্রাডিশনাল বন্ড চরিত্র সম্বলিত এই রেসিপি ছিলো অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল-এ। আর আগের প্রমাণিত রেসিপি হিসেবে বিচিত্র সব লোকেশন, যেমন-আইফেল টাওয়ার, গোল্ডেন গেট ব্রিজসহ চমকপ্রদ কিছু লোকেশনে শুটিং করা হয়। চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ অংশ সানফ্রান্সিসকো’তে শুটিংয়ের কারণে এ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারও হয় সেখানে। যা ইংল্যান্ডের বাইরে প্রিমিয়ার হওয়া বন্ড ইতিহাসের প্রথম চলচ্চিত্র। এতো কিছুর পর, ফ্লপ না করলেও অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল বক্স অফিসে হ্যান্ডসাম মুনাফা দিতে পারেনি।৩৫ চ্যাপম্যান-এর মতে, ‘বন্ডের ট্রাডিশনাল ফর্মুলা পুরোনো ও ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলো।’৩৬ যদিও এটা প্রমাণিত যে, পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে; ট্রাডিশনাল বন্ড রেসিপি এখানে পর্যাপ্ত নয়। জনসংস্কৃতির রাজত্বে টিকে থাকতে হলে নতুন কিছু অত্যাবশ্যকীয়। তাই জনসংস্কৃতির বাজারে টিকে থাকতে রজার মুর’কে বাদ দিয়ে নতুন বন্ডের অন্বেষণ শুরু হয়।

দ্য লিভিং ডেলাইটস-এর মাধ্যমে টিমোথি ডাল্টন নতুন বন্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এ চলচ্চিত্র মুক্তির প্রথম তিন দিনের আয় আগের বন্ড চলচ্চিত্রের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে। অস্ত্র বিক্রি, সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রমাগত নেতৃত্ব সঙ্কট-এসব জটিল ও সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে নির্মিত দ্য লিভিং ডেলাইটস। আফগানিস্তানে সোভিয়েত সম্পৃক্ততা ও ইসলামি বিদ্রোহী গ্রুপ ‘মুজাহিদিন’ সম্পর্কও এর বিষয়বস্তু ছিলো। বন্ড হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্রেই ডাল্টনকে খুবই ভয়ানক, গূঢ়, রহস্যময়, নিষ্ঠুর, অনমনীয় ও নির্মম হিসেবে দেখা যায়। সামান্য হাস্যরস থাকলেও মূলত একজন হত্যাকারী হিসেবেই চিত্রিত হন তিনি।৩৭

ইয়ন প্রোডাকশনের ব্যানারে বন্ড সিরিজের ১৬তম চলচ্চিত্র হচ্ছে লাইসেন্স টু কিল (১৯৮৯)। যেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ডাল্টন। পাইনউড স্টুডিওতে শুটিং খুবই ব্যয়সাধ্য ছিলো। তাই ব্রকলি মেক্সিকোতে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং সে অনুযায়ী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনেন। লোকেশন হিসেবে অ্যাকাপুলকো, ওটামি ও মেক্সিকো সিটিকে নির্বাচন করা হয়। অবাস্তব কাহিনির প্রত্যাবর্তনে লাইসেন্স টু কিল সম্ভবত বাস্তবনির্ভর পরিচালনা থেকে দূরে চলে যায়।৩৮ এ চলচ্চিত্রের কাহিনি সীমান্ত এলাকার হেরোইন চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে। যেখানে বন্ড সরকারি অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে কাজ করে, যা এই চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানানসই নয়। এই পর্যায়ে, বন্ড শীতল যুদ্ধ যুগের নায়ক হিসেবে সেকেলে হয়ে পড়ে। তাই নতুন বিবর্তিত বৈশ্বিক বিন্যাসে নতুন বন্ড তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে ডাল্টন অধ্যায় লাইসেন্স টু কিল-এর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়।

লাইসেন্স টু কিল-এর সাফল্যে প্রযোজকরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলেই হয়তো গোল্ডেন আই -এ নতুন বন্ড হিসেবে পিয়ার্স ব্রসনান-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আলবার্ট আর. ব্রকলির মেয়ে বারবারা ব্রকলি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ব্রকলির জরুরি করনারি বাইপাস সার্জারির কারণে তার মেয়ে বারবারা ও তার সৎ ভাই মাইকেল উইলসন দায়িত্ব নেন। এরপর তারা মার্টিন ক্যাম্পবেলকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। পিয়ার্স ব্রসনান গোল্ডেন আই -এর সাফল্যে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠেন; বন্ড জনসংস্কৃতি সম্পর্কে তার বিবৃতি হচ্ছে,

I think what we have here is a franchise which has been very successful. We have a film that people really want to see. They want to see it work for all the reasons it worked back then. It addresses all of the symbols and imagery that turned people on originally.৩৯

এই মন্তব্যের প্রমাণ স্পষ্টভাবেই মেলে, যখন ‘টিজার-পোস্টারে’৪০ লেখা হয়, ‘ইউ নো দ্য নেম, ইউ নো দ্য নাম্বার’৪১ (sic)। বন্ডের স্বীকৃত কিছু চারিত্রিক উপাদানের সঙ্গে নতুন প্রবর্তিত প্রকৃত কিছু ঘটনা অভিযোজন হয়। এ সময়ে বার্লিন প্রাচীর পশ্চিম জার্মানির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হাঙ্গেরি তার কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে নেয় অস্ট্রিয়া থেকে এবং গর্বাচেভ ইউরোপিয় দেশসমূহ থেকে এক হাজার ট্যাঙ্ক সরিয়ে নেন।

১৯৯১ সালের বড়োদিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ বিচ্ছিন্ন করে শীতল যুদ্ধ যুগের সমাপ্তি হয়। বন্ডকে তখন নতুন এ বিবর্তিত বিশ্ব ও হুমকির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিলো। বন্ড সিরিজের এই চলচ্চিত্রটি পোস্ট-সোভিয়েত ইউনিয়ন সেন্টিমেন্ট ও সন্ত্রাসবাদ-এ দুটি সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে নির্মিত। গোল্ডেন আই -এ নতুন বন্ডের পুনর্জন্ম, বন্ডের বন্ধু এবং সহকর্মী ‘০০৬’-কে এম আই সিক্স-এর বশ্যতা অস্বীকার করে চলচ্চিত্রের মূল খলনায়কে পরিণত হতে দেখা যায়। স্যাটেলাইট স্পাই এবং হতাশাগ্রস্ত সাবেক এক সোভিয়েত জেনারেলের স্যাটেলাইট অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে এ চলচ্চিত্রের কাহিনি।

গোল্ডেন আই ব্লকবাস্টার তকমা অর্জন করলে একই টার্গেটে টুমরো নেভার ডাইস-এর কার্যক্রম শুরু হয়। চলচ্চিত্র মাধ্যমে আধিপত্য ধরে রাখতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ চলচ্চিত্রে হাই-টেক লুক (sic) দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ টেকনিকাল উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।৪২ এখানে দেখানো হয়, মিডিয়া কিছু ব্যক্তির হাতে জিম্মি, যারা বিশ্বের মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করছে; এই মিডিয়া-সন্ত্রাসীদের আক্রমণ প্রাসঙ্গিক, সমসাময়িক এবং গ্লোবাল ভিলেজের অংশ। কারণ সি এন এন, স্কাই নিউজ, আলজাজিরা বা বি বি সি-ও একই কাজ করে। মিডিয়া ক্রমেই ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং কেউ এর হাত থেকে রক্ষা পায় না; ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্সেস ডায়না এবং চার্লস থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র তারকা এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পর্যন্ত। বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউন্‌স্কি সংক্রান্ত মিডিয়া কাভারেজ খুব স্পষ্টভাবে টুমরো নেভার ডাইস আখ্যানে দেখানো হয়।

বিত্তবান ব্যবসায়ীদের বড়ো বড়ো করপোরেশনগুলো ক্রমেই মিডিয়া মোগলে পরিণত হয়; যেমন-উইলিয়াম রুডল্‌ফ, রুপার্ট মারডক, টেড টার্নার, সিলভিও বার্লুসকোনি ও রবার্ট ম্যাক্সওয়েল অন্যতম। ম্যাক্সওয়েল কোম্পানির পতন এবং দুর্নীতির অভিযোগ টুমরো নেভার ডাইস-এর প্রযোজককে উজ্জীবিত করে যেখানে দেখানো হয়, একজন মিডিয়া মোগল তার ক্ষমতাকে অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করেন। বিল ক্লিনটন-এর অভিশংসন এবং তার পরবর্তী ঘটনা দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ-এর ইলেকট্রা কিং চরিত্র তৈরিতে সাহায্য করে। যিনি এ চলচ্চিত্রের মূল খলনায়ক। ইলেকট্রা নামটা ক্ল্যাসিকাল মিথলজি থেকে নেওয়া। যেখানে ইলেকট্রাকে তার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে দেখা যায়। দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ-এও তাকে প্রায় একইরূপে হাজির করা হয়। যা ফ্রয়েডের ‘ইলেকট্রা কমপ্লেক্স’-এর সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কিত, যেখানে ‘ইদিপাস কমপ্লেক্স’-এর মতো বাবার প্রতিস্থাপন দাবি করা হয়।৪৩ ১৯৯৭ সালে ভেনিজুয়েলার সন্ত্রাসী ‘কার্লোস দ্য জ্যাকেল’ বন্দি হলে এ চলচ্চিত্রের কাহিনিতে তখন রেনার্ড-এর চরিত্র সংযোজন হয়।

মহাশূন্যের বাইরে স্যাটেলাইটের অপব্যবহার ডাই অ্যানাদার ডে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু। প্রযুক্তির সমকেন্দ্রিকতা এবং ভয়ানক ও শক্তিশালী এ প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার এ চলচ্চিত্রের কাহিনিতে বর্ণনা করা হয়। ইংরেজ কবি আলফ্রেড এডওয়ার্ড হাউসম্যান-এর কবিতা থেকে ‘ডাই এনাদার ডে’ নামটি নেওয়া; যেখানে তিনি বলেন, ‘If cowards run away from battle they only live to die another day, a death that will not be mourned.’৪৪ জনসংস্কৃতির উপাদান হিসেবে এ চলচ্চিত্রে মানুষের বিকল্প ডি এন এ এবং অস্ত্র হিসেবে স্যাটেলাইটের উদ্দেশ্যমূলক অপব্যবহার দেখানো হয়। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ম্যাডোনা এ চলচ্চিত্রের টাইটেল সঙে কণ্ঠ দেন এবং একটি চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০০৫ সালের ১৪ অক্টোবর ইয়ন প্রোডাকশনস, সনি পিকচার এন্টারটেইনমেন্ট এবং এম জি এম এক প্রেস কনফারেন্সে জানায় ড্যানিয়েল ক্রেইগ বন্ড সিরিজের আগামী পর্বে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন।৪৫ ইয়ান ফ্লেমিং-এর উপন্যাসে বন্ড ‘০০৭’ কোড অর্জন করে তার বর্ণনা ক্যাসিনো রয়্যাল­-এ (২০০৬) দেখানো হয়। ক্যাসিনো রয়্যাল আখ্যানে গুপ্তচরবৃত্তির দুনিয়ায় বন্ডের প্রবেশের গল্প বলা হয়েছে। আর জনসংস্কৃতির প্রধান উপাদান হিসেবে নতুন এয়ারবাস এ৩৮০, এরিকসন মুঠোফোনের জি পি এস ট্র্যাকিং অন্যতম। কোয়ান্টাম অব সোলেস-এ (২০০৮) পরিচালক মার্ক ফর্স্টার অ্যাকশন সিকোয়েন্সে মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন-এ চারটি ক্ল্যাসিকাল উপাদানের সমন্বয় করেন।৪৬ ইতালি, চিলি, অস্ট্রিয়া, মেক্সিকো, পানামা ও ইংল্যান্ডে চলচ্চিত্রের শুটিং করা হয়।৪৭ দ্য স্পাই হু লাভড মির মতো ভয়ানক স্কাই ডাইভিংয়ের পুনরাবৃত্তি কোয়ান্টাম অব সোলেস-এ থাকলেও ‘কিউ’ ও ‘মানিপ্যানি’র মতো চরিত্র এ চলচ্চিত্রে ছিলো না।

সর্বশেষ, জেমস বন্ডের ৫০ বছর পূর্তিতে মুক্তি পায় স্কাইফল (২০১২)। স্কাইফল­-এর কাহিনি উইকিলিকসের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবং ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি স্যাভিল’কে কেন্দ্র করে।৪৮ সাইবার টেররিজম-ই ছিলো এ চলচ্চিত্রের মূল প্রতিপাদ্য। আগের বন্ড থেকে স্কাইফল-এর বন্ড অনেক বেশি ভয়ঙ্কর, শক্তিশালী, বুদ্ধিদীপ্ত ও আনন্দপ্রিয়। যা তাকে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে।৪৯ পানীয় হিসেবে এ চলচ্চিত্রে ভদকা মার্টিনির পরিবর্তে হেইনিকেন ব্যবহার করা হয়। এজন্য হেইনিকেন, ইউ এস এ এবং সনি পিকচার্স ৪৫ মিলিয়ন ডলারের পার্টনারশিপ চুক্তি করে।৫০ এছাড়া ওমেগা হাতঘড়ি, এরিকসন মুঠোফোন সেট, অ্যাস্টন মার্টিন, বি এম ডব্লিউ, প্যান-অ্যাম ফ্লাইট, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিলবোর্ডে এর প্রচার করা হয়। বন্ড চরিত্রটিকে বিভিন্নভাবে জনপ্রিয় করে তোলার অর্থ হচ্ছে, বন্ডের প্রতিটি ব্যভিচার সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা। খুব তীক্ষ্ণভাবে এ চরিত্রটি সৃষ্টি করা হয়েছে; যা আইডল হিসেবে প্রতিষ্ঠাও পায়। কনারি প্রথম চলচ্চিত্রে যেভাবে শুরু করেছিলেন তার উত্তরাধিকারীরা সেটাকে আরো অগ্রগামী করেছেন। এবং প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন তরুণ অডিয়েন্সের-যা চূড়ান্তভাবে সফল পণ্য হিসেবে বন্ডকে জনসংস্কৃতির বাজারে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। একইভাবে বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজ বিশ্ব-চলচ্চিত্রশিল্পে বন্ডকে আধিপত্য বিস্তারকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

৪.

ইয়ান ফ্লেমিং রচিত জেমস বন্ড উপন্যাস নিয়ে সমসাময়িক জনসংস্কৃতির একটি কাঠামোগত বিশ্লেষণ করেছেন উমবার্তো ইকো। নেতৃস্থানীয় সমসাময়িক ইতালিয়ান বুদ্ধিজীবী ও সেমিওলজিস্ট ইকো জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হিসেবে যেমন সমধিক পরিচিত, তেমনই জনসংস্কৃতি গবেষণায় তার অবদানের জন্যও সমানভাবে পরিচিত। জনসংস্কৃতি গবেষণায় কাঠামোবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ সম্ভবত বন্ড উপন্যাস নিয়ে ইকো’র এই গবেষণা।

ইকো’র উদ্যোগ ছিলো, এসব উপন্যাসের কাহিনি নির্মাণে পরিবর্তিত শাসকশ্রেণি যে নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে তা উন্মোচন করা। এ নিয়ন্ত্রণই সাংস্কৃতিক এলিটদের আবেদন এবং তাদের উপন্যাসের জনপ্রিয় সফলতা দান করে। জনসংস্কৃতি হিসেবে এসব উপন্যাসের একটি অন্তর্নিহিত কাঠামো আছে যা তাদেরকে জনপ্রিয় করে তোলে। ইকো এসব কাঠামোগত নিয়মকে ‘‘মেশিনের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা মূলত সুনির্দিষ্ট কিছু কঠোর শাসক দ্বারা পরিচালিত।৫১ বিদ্যমান এসব নিয়মের প্রয়োগই ‘০০৭’-এর সফলতা নিরূপণ করেছে। এই ‘‘ন্যারেটিভ মেশিন’ জনপ্রিয় অডিয়েন্সের অবচেতন প্রত্যাশা ও মূল্যবোধকে সংযুক্ত করে। প্রতিটি কাঠামোগত উপাদান যখন এ মেশিন দ্বারা উৎপাদন হয়, তখন পাঠকের সংবেদশীলতার দিকেও খেয়াল রাখা হয়। একই সঙ্গে তারা এমন একটি পরিবর্তিত কাঠামো গঠন করে, যার দ্বারা নির্ধারিত কাহিনিও বর্ণনা করা যায় এবং জনপ্রিয়তাও নিশ্চিত হয়। এই বৈপরীত্য উপন্যাসের চরিত্র (যেমন : বন্ড ও খলনায়ক বা নারী), মতাদর্শ (যেমন : উদারনীতি, সর্বগ্রাসী বা উন্মুক্ত বিশ্ব ও সোভিয়েত ইউনিয়ন) ও বিভিন্ন স্বতন্ত্র মূল্যবোধ (যেমন : লোভ, আদর্শ, প্রেম, মৃত্যু, সুযোগ, পরিকল্পনা,স্বেচ্ছাচারিতা, আনুগত্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা) এর সঙ্গে সম্পর্কিত।৫২ এ সম্পর্কগুলো বিশেষ চরিত্রের মাধ্যমে কাজ করে। যেমন : বন্ডের সঙ্গে খলনায়কের সম্পর্ক, সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর উন্মুক্ত বিশ্বের কর্তৃত্বকে রিপ্রেজেন্ট করে; একই সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করে।

নির্দিষ্ট উপন্যাসে সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট রূপান্তর যাই হোক না কেনো, বৈপরীত্যের অন্তর্নিহিত গঠন কিন্তু একই রয়ে গেছে। ইকো এই কাঠামোর প্রকৃতি এবং বন্ডের কাহিনিতে তার রূপান্তর চিহ্নিত করেছেন। ইকো’র মতে, বৈপরীত্যগুলো পরস্পর নির্মিত; এর বিন্যাস ও মিথস্ক্রিয়া অপরিবর্তনীয়ভাবে নির্মিত, কিন্তু ছোটো ছোটো জোড়াগুলো ভিন্নভাবে আবর্তিত হয়। বন্ড আখ্যানে ইকো ১৪টি জোড়া আবিষ্কার করেছেন; যার মধ্যে চারটি বিপরীত চরিত্র, বাকিগুলো বিপরীত মূল্যবোধ-যা বিভিন্নভাবে মূল চারটি চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত।৫৩ এগুলো হচ্ছে-১. বন্ড-এম, ২. বন্ড-ভিলেন, ৩. ভিলেন-ওমেন, ৪. ওমেন-বন্ড, ৫. ফ্রি ওয়ার্ল্ড-সোভিয়েত ইউনিয়ন, ৬. গ্রেট ব্রিটেন-নন অ্যাঙলো-স্যাক্সন কান্ট্রি, ৭. ডিউটি-স্যাক্রিফাইস, ৮. কিউপিডিটি-আইডিয়ালস্‌, ৯. লাভ-ডেথ, ১০. চান্স-প্ল্যানিং, ১১. লাক্সারি-ডিসকমফোর্ট, ১২. একসেস-মডারেশন, ১৩. পার্ভাশন-ইনোসেন্স ও ১৪. লয়্যালটি-ডিসলয়্যালটি (sic)।৫৪ এখানে উল্লিখিত জোড়াগুলো অস্পষ্ট উপাদান রিপ্রেজেন্ট করে না। এরা খুবই অবিভক্ত, যা আসন্ন ও সর্বজনীন। প্রত্যেকটা জোড়ার ক্রমবিন্যাস বিবেচনা করলে দেখা যায়, ফ্লেমিং-এর পরিকল্পনায় সব ন্যারেটিভে বিভিন্ন উপাদান সন্নিবেশিত। ইকো যুক্তি দেন, ‘ফ্লেমিং-এর উপন্যাসের ন্যারেটিভ কাঠামো সর্বজনীন বিষয়বস্তুর সাম্প্রতিক ভিন্নতা। যা ভালো-মন্দের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে।’৫৫ জেমস বন্ড চলচ্চিত্র নিয়েও একই কথা প্রযোজ্য। বন্ড চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা বিবেচিত হয় এর অভিপ্রায় দ্বারা। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত এসব চলচ্চিত্র অজান্তেই দর্শকশ্রোতার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সাধারণ অডিয়েন্স খুব সহজভাবেই বুঝতে পারে, বন্ড চলচ্চিত্র এতো বিশাল সফলতা অর্জন করছে কীভাবে।

ইকো দাবি করেন, ফ্লেমিং বন্ডকে সম্পূর্ণভাবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।৫৬ কিন্তু খলনায়ক ও বন্ড নারীকে সেক্সুয়ালি অ্যাবনরমাল হিসেবেও দেখাতে চেয়েছেন। পরিবর্তিত সময়ে নারীকে ইতিবাচকভাবে দেখানোর দাবি করলেও নারীর উপস্থাপন ইঙ্গ-মার্কিন সংস্কৃতির সম্যক প্রতিফলন ছাড়া কিছুই নয়। সর্বশেষ বন্ড চরিত্র এবং বিষয়বস্তুকে রাজনৈতিক মেটাফর হিসেবেও দাবি করেছেন ইকো।৫৭

৫.

জেমস বন্ড চলচ্চিত্র সবসময়ই প্রকৃতি নির্ভর বিষয়বস্তু, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা এবং সংবাদ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। কিন্তু তা স্থানান্তর করে উপস্থাপন করা হয়। ফ্লেমিং ও ইয়ন প্রোডাকশনস এমন একজন বিশ্বখ্যাত গোয়েন্দা নির্মাণ করেছেন, যাকে বাস্তব বিশ্বের সঙ্কটকালে সাধারণ অডিয়েন্স কল্পনা করে। ২০০১ সালের ১১  সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় সন্ত্রাসী (!) হামলার পর সারাবিশ্বে লক্ষণীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। সব জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নতুন গোয়েন্দা এবং বন্দি আইন পাস হয়, যেকোনো ধরনের হুমকি এমনকি চলচ্চিত্র মাধ্যমের হুমকির বিরুদ্ধেও যুদ্ধের মনোভাব ব্যক্ত করা হয়। আমেরিকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বন্ডের পরিভাষায় ‘শর্ট-হ্যান্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদেরকে ‘‘কিউ’ চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে। আর বন্ডের খলনায়ক হিসেবে সন্ত্রাসীদের স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত সি আই এ’র আর্থিক সহায়তায় ‘কিউ’কে অনুকরণ করে ইনফরমেশন-টেকনোলজি-করপোরেশন ‘আই-কিউ-টেল’ নামে একটি নন-প্রফিট ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে।৫৮

সাম্প্রতিক ঘটনা, জনসংস্কৃতি ও সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বন্ড ন্যারেটিভে ফ্র্যাঞ্চাইজের পণ্যকরণের বিজ্ঞাপন অন্যতম একটি এজেন্ডা। বিশাল বিপণন, বেচাকেনা ও স্পন্সরশিপের প্রচেষ্টাই এ চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক উপস্থিতির আরেকটি কারণ। অর্থাৎ বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজ অডিয়েন্সের আস্বাদনের জন্য পণ্য উৎপাদন করে। এখানে মূল মনোযোগ থাকে কাহিনির বিষয়বস্তুর ওপর, যা খুব তীক্ষ্ণভাবে প্রতিফলিত হয়। বাস্তব অস্তিত্বে যথার্থভাবে মানুষ যেভাবে ইচ্ছা পোষণ করে, বন্ড সেরকম আদর্শিকভাবে দুঃসাধ্য বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের বিহিত করে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ, জনপ্রিয় ফ্যাশন, জনপ্রিয় ও আধুনিক হাতিয়ার এবং খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে মৌলিক ফর্মুলা বজায় রেখে এর কাহিনি জনপ্রিয় পণ্যের আদলে তৈরি করে।

বন্ড চলচ্চিত্রের ন্যারেটিভে জনসংস্কৃতি উপাদান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে এর জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এটা শুধু প্রোডাকশনের ভ্যালু নয় বরং এর কাঠামোতে জনসংস্কৃতির সংযোজন একে জনপ্রিয় পণ্যে পরিণত করেছে। মানুষের মধ্যেও বন্ডের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে। ‘মডেলিং তত্ত্ব’৫৯ অনুসারে সুপারস্টারদেরকে মানুষ পছন্দ করতে অভিকাঙ্ক্ষী হয়। একই সঙ্গে তাদের আচরণ ও চিন্তাভাবনা অনুসরণ করে। এমনকি সময়ের চাহিদা অনুসারে জনসংস্কৃতি ও প্রকৃত ঘটনার ক্রমাগত হালনাগাদকরণে দর্শকশ্রোতার প্রত্যাশা পূরণেও সক্ষম বন্ড পণ্য! আর এ পণ্যের অন্যতম অংশ হচ্ছে এর ফর্মুলা। একইভাবে উমবার্তো ইকো বর্ণিত বন্ড রেসিপির ব্যবহার বন্ড সিরিজের প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে লক্ষ করা যায়। একইভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ড চলচ্চিত্র প্রকাশের ভঙ্গিও নানাভাবে বিবর্তন হয়েছে। বলা যায়, বন্ড চলচ্চিত্র তার অডিয়েন্সকে প্রভাবিত করেছে, একইভাবে অডিয়েন্সও চলচ্চিত্রকে প্রভাবিত করেছে। কারণ, সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং সামাজিক পরিবর্তন নতুন ধরনের সংস্কৃতি সৃষ্টি করে।৬০ অপরদিকে, বন্ড জনসংস্কৃতিতে প্রযুক্তিগত ব্যবহার দর্শকশ্রোতার চিন্তাধারা, জীবনধারা, মূল্যবোধ ও আদর্শকে পুনঃপরীক্ষা ও সংশোধন করে পরিবর্তনের জন্য প্রণোদিত করেছে; যার মাধ্যমে সমাজে ব্যক্তির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক মতামতের মধ্যে সংঘর্ষ-বিরোধ তৈরি করে সামাজিক জীবনধারা ও চিন্তাধারার মধ্যে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে নতুন চিন্তা ও জীবনধারার আবির্ভাব ঘটিয়েছে বন্ড। শুধু তা-ই নয়, অডিয়েন্স নিজের জ্ঞান, বিদ্যা ও বুদ্ধি উপেক্ষা করে অজান্তে তা গ্রহণও করেছে। এসব ভোগ্যবস্তুর উৎপাদন মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্য দিলেও, মানুষের অভাবকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং জীবনকে করে তুলেছে আরো বেশি জটিল।

লেখক : এবিএম সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ান।

mon_mcru@yahoo.com

 

তথ্যসূত্র

১. Chapman, J (1999 : 14); Licence To Thrill: A Cultural History of the James Bond Films; I. B. Tauris, London.

২. মুনাফা হিসাবনিকাশের গবেষণা পদ্ধতিসহ বিস্তারিত দেখুন : http://www.007james.com/articles/box_office.php. Retrieved on 09 October, 2014.

৩. গীতি আরা নাসরীন ও ফাহমিদুল হক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রকে জনসংস্কৃতি নামেই ডেকে ছিলেন, তাদের গ্রন্থ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি : সংকটে জনসংস্কৃতিতে; এ লেখায়ও পপুলার কালচারের বাংলা জনসংস্কৃতি করা হয়েছে।

৪. নাসরীন, গীতি আরা ও ফাহমিদুল হক (২০০৮ : ২০); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি : সংকটে জনসংস্কৃতি;শ্রাবণ প্রকাশনী, শাহবাগ, ঢাকা।

৫. হক, ফাহমিদুল ও  আ-আল মামুন; ‘সম্পাদকীয়’; যোগাযোগ; সম্পাদনা : ফাহমিদুল হক ও  আ -আল মামুন, সংখ্যা ১১,ডিসেম্বর ২০১৩, পৃ. ৩, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৬.বিবর্তনের (বিশেষত জৈব বিবর্তনের) প্রথম ব্যাপক স্বীকৃতি লক্ষ করা যায় ১৮৫৯ সালে ডারউইনের প্রজাতির উৎপত্তি (Origin of Species) নামক যুগান্তকারী গ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকে। কিন্তু এর আগে প্রায় একশো বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়, এবং তাতে করে প্রস্তুত হয় আধুনিক বিবর্তনবাদের ভিত্তি। ইংল্যান্ডের ডারউইন (১৮০৯-৮২) এবং ফ্রান্সের ল্যামার্ক (১৭৪৪-১৮২৯) বিবর্তনের যে ব্যাখ্যা দেন তা ছিলো রীতিমতো বৈপ্লবিক। তবে ডারউইন বা ল্যামার্ক-কেউই আনুষ্ঠানিক অর্থে দার্শনিক ছিলেন না। বিবর্তনের দার্শনিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় হার্বার্ট স্পেনসারের চিন্তায়। সামাজিক বিবর্তনের ব্যাপারে ১৮৭৬ সাল থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত স্পেনসার সমাজতত্ত্বের নীতিমালা (Principles of Sociology) ও নীতিবিদ্যার নীতিমালা (Principles of Ethics) নামক দুটি গ্রন্থ রচনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ গ্রন্থদ্বয়ে তিনি সব সামাজিক ও নৈতিক ক্রিয়াকে বিবর্তনের সাধারণ নিয়মের অধীন ব্যাখ্যা করেন।

৭. ইসলাম, আমিনুল (২০০৯ : ১০৫); ‘বিবর্তনবাদ’; দর্শন ভাবনা : সমস্যা সম্ভাবনা; অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, ঢাকা।

৮. প্রাগুক্ত; ইসলাম, আমিনুল (২০০৯ : ১০৫)।

৯. সেনগুপ্ত, শ্রী প্রমোদবন্ধু (১৯৯০ : ২৬৮); সমাজ-মনোবিজ্ঞান; ব্যানার্জী পাবলিশার্স, কলকাতা।

১০. Smith, J. & S Lavington, (2002: 20) Virgin film: Bond films. Virgin Books, London.

১১. Cork, J. & B Scivally (2002:296). James Bond: the legacy 007. Boxtree, Limited (Impart of MacMillan UK). London.

১২. Pfeiffer, L. & D Worrall (1999:13). The Essential Bond: The Authorized Guide to the World of 007. Boxtree, Limited (Impart of MacMillan UK). London.

১৩. কোয়ার্টার মাস্টার এর সংক্ষিপ্ত রূপ কিউ। কোয়ার্টার মাস্টারের কাজ যেমন ব্যাটালিয়নে রসদের ভারপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে, তেমনই বন্ড চলচ্চিত্রে ‘কিউ’ বন্ডকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি/রসদ সরবরাহ করে।

১৪. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:59).

১৫. Hatcher, Lloyd Patrick (1990 : 119). The Suicide of an Elite: American Internationalists and Vietnam, Stanford University Press, California.

১৬. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:52).       

১৭. http://jamesbond.wikia.com/wiki/Sean_Connery. Retrieved on 20 November, 2014.

১৮. Ceralli, M. & L Pfeiffer (1995), The making of Goldfinger. Producers, Produced by TWINE Entertainment and released by MGM/UA Home Entertainment, Inc. Retrieved from https://www.youtube.com/watch?v=xFzifCLPfMw, on  15 January, 2013.

১৯. Naylor, D. & T McGough (1995). The Incredible world of James Bond, Producers, Produced by and released by The Berkeley Group. Retrieved from https://www.youtube.com/watch?v=tNcV9ZVdBHo on 15 January, 2013.

২০. http://www.guinnessworldrecords.com/news/2012/10/james-bond-50-of-the-best-007-related-records-to-mark-50-years-on-the-big-screen-45200/ Retrieved on 20 November, 2014.

২১. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:78-79).

২২. Ceralli, M. & L. Pfeiffer (1995); The Goldfinger phenomenon. Producers,Produced by TWINE Entertainment and released by MGM/UA Home Entertainment, Inc. https://www.youtube.com/watch?v=ogqmJkaPTlY, Retrieved on 20 November, 2014.

২৩. Bishop, Des (2011 : 38); My Dad Was Nearly James Bond. Penguin Books. London.

২৪. Macintyre, Ben (2008 : 204); For Your Eyes Only. Bloomsbury Publishing. London.

২৫. Pratt, Doug (2005); Doug Pratt's DVD: Movies, Television, Music, Art, Adult, and More! Harbor Electronic Publishing. New York.

২৬. Murphy, K (23 February 2002 : 25); "Eye spy with my little eye, something not beginning with Sean". The Australian (Surrey Hills, NSW).

২৭. প্রাগুক্ত; Macintyre, Ben (2008 : 204).

২৮. প্রাগুক্ত; Pfeiffer & D Worrall, (1999:88).

২৯. Fourie, Pieter Jacobus. (Eds.) (2001:304). The effects and power of mass communication, Media studies: institutions, theories and issues, volume one, Juta and Company Ltd, Lansdowne. South Africa.

৩০. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally ( 2002:177).

৩১. প্রাগুক্ত; Cork, J. & (2002:185).

৩২. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:194).

৩৩. প্রাগুক্ত; Smith, J. & S Lavington (2002: 189).

৩৪. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:199).

৩৫. প্রাগুক্ত; Pfeiffer, L. & D Worrall (1999:143).

৩৬. প্রাগুক্ত; Chapman, J. (1999 : 6).

৩৭. Simpson, Paul .(2002:141). The Rough Guide to James Bond. Rough Guides Ltd, London.

৩৮. প্রাগুক্ত; Pfeiffer, L. & D Worrall (1999:159).

৩৯. Frandsen, Jeremy R, (Edt.). (1999); The making of GoldenEye: a video journal. Produced and released by United Artist Corporation and Danjaq, LLC. Retrieved from https://www.youtube.com/watch?v=oUHlnI_e_uA, on 20 November, 2014.

৪০. টিজার পোস্টার  হচ্ছে চলচ্চিত্র মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য চলচ্চিত্রের বেসিক ইমেজ ও ডিজাইন দিয়ে যে পোস্টার করা হয়; যার উদ্দেশ্য হচ্ছে চলচ্চিত্র সম্পর্কে দর্শককে প্ররোচিত, উদ্দীপিত ও আগ্রহী করে তোলা।

৪১. প্রাগুক্ত; Pfeiffer, L. & D Worrall (1999:177).

৪২. প্রাগুক্ত; Pfeiffer, L. & D Worrall (1999:180).

৪৩. প্রাগুক্ত; Smith, J. & S Lavington (2002: 278).

৪৪. প্রাগুক্ত; Smith, J. & S Lavington (2002: 284).

৪৫. http://www.theguardian.com/uk/2005/oct/14/film.filmnews.

৪৬. Thompson, Anne; Solace offers thinking person’s 007; Variety; 23 October 2008, United Stated, http://variety.com/2008/film/news/solace-offers-thinking-person-s-007-1117994573/

৪৭. Richardson, Nigel;  Quantum of Solace: James Bond returns to Latin America, The Daily Telegraph, (17 October, 2008); London, Retrieved from http://www.telegraph.co.uk/travel/artsandculture/3209360/Quantum-of-Solace-James-Bond-returns-to-Latin-America.html

৪৮. http://www.theguardian.com/film/2012/oct/25/skyfall-review Retrieved on 11 November, 2014.

৪৯. http://www.rogerebert.com/reviews/skyfall-2012 Retrieved on 07 November, 2014.

৫০. http://mic.com/articles/7339/skyfall-007-will-drink-heineken-instead-of-martinis Retrieved on 05 November, 2014.

৫১. Strinati, Dominic. (2004:93);  An introduction to theories of popular culture; Routledge, 11 New Fetter Lane, London.

৫২. প্রাগুক্ত; Strinati, Dominic. (2004:93).

৫৩. Eco, Umberto. (2003:36-37); `The Narrative Structure in Fleming'; The James Bond Phenomenon: A Critical Reader. Edited by Christoph Lindner, Manchester University Press, Oxford Road, Manchester M13 9NR, UK

৫৪. প্রাগুক্ত; Eco, Umberto. (2003:36-37).

৫৫. প্রাগুক্ত; Strinati, Dominic. (2004:96).

৫৬. Wigston, D. (2001:167); `Narrative analysis'; Media studies: content, audiences and production, Volume two; Edited-P. J. Fourie, Juta and Company Ltd, Lansdowne, South Africa

৫৭. প্রাগুক্ত; Eco, Umberto. (2003:36-105).

৫৮. প্রাগুক্ত; Cork, J. & B Scivally (2002:285).

৫৯. বিস্তারিত দেখুন-প্রাগুক্ত; Fourie, Pieter Jacobus (Eds.) (2001:292).

৬০. প্রাগুক্ত; সেনগুপ্ত, শ্রী প্রমোদবন্ধু (১৯৯০ : ২৭০)।




বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ের ম্যাজিক লণ্ঠনের তৃতীয় সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।




এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন