Magic Lanthon

               

মাজিদ মিঠু

প্রকাশিত ০৪ জানুয়ারী ২০২৩ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

কিম-এর অনন্য চলচ্চিত্র-ভাষা

মাজিদ মিঠু

মানব সভ্যতার ইতিহাসের প্রতিটি যুগ বা কালপর্বেরই কোনো না কোনো প্রাধান্যশীল শিল্পমাধ্যম থাকে। প্রাচীন ভারতবর্ষের ছিলো মহাকাব্য, প্রাচীন গ্রিসের ট্র্যাজেডি, ১৮ শতকের উপন্যাস আর ঊনবিংশ শতাব্দীর আলোকচিত্র। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে শিল্পমাধ্যমটি প্রাধান্যবিস্তার করে আছে তা চলচ্চিত্র। শুরু থেকেই প্রতিটি শিল্পমাধ্যমের নিজস্ব ভাষা আছে। শিল্প বিভিন্ন অনুষঙ্গের ভিতর দিয়ে তার সেই নিজের ভাষায় কথাও বলেছে। নবীনতম শিল্পমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রও তেমনি তার চলমান নির্মিত বাস্তবতা, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, শট্, সঙ্গীত, ধ্বনি, স্বর, রঙ, সেট, আলো ইত্যাদি দিয়ে দর্শকের সঙ্গে স্বকীয় বিশেষ এক ভাষায় যোগাযোগ করে, আইজেনস্টাইন তাকে বলছেন, চলচ্চিত্র-ভাষা। আর এ অনুষঙ্গগুলো ব্যবহার করে যিনি চলচ্চিত্রের ভাষা নির্মাণ করেন তিনি হয়ে ওঠেন নির্মাতা।

চলমান এ চিত্র-শিল্পমাধ্যমটির জন্ম নির্বাক হলেও প্রযুক্তির কল্যাণে সে আজ অতি-বাকসম্পন্ন। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে চলচ্চিত্র মানেই আজ যেনো প্রচণ্ড শব্দ, কথা আর প্রযুক্তিভিত্তিক অলীক চিত্রের সমন্বয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে প্রকৃতি, প্রেম, যৌনতা, মানব মনের লুক্কায়িত স্বপ্ন ও বাস্তবতা নির্মাণের অতিকথনহীন, পরিচ্ছন্ন স্বপ্নময় চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে হাঁটছেন যারা, তাদের একজন কিম কি দুক। দক্ষিণ কোরিয়ার মেধাবী এ নির্মাতা তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এমন একটি আবহ তৈরি করে চলেছেন, যেখানে প্রকৃতি-মানুষ, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-বাস্তবতাকে বুঝতে ভাষার (সংলাপ) প্রয়োজনীয়তা খুবই সামান্য। বলা যায়, এক্ষেত্রে কিম কি দুক তার চলচ্চিত্রে এক নতুন ভাষা সৃষ্টি করেছেন। এই আলোচনা দুক-এর সেই চলচ্চিত্র-ভাষা নিয়ে।

 

২.

একজন মানুষ, যার নিজের কোনো ঘর নেই। রাতে শহরের যে বাড়িতে কেউ থাকে না, সেই বাড়ির তালা বিশেষ প্রক্রিয়ায় খুলে সেখানে রাত্রিযাপন করে। নিজের মতো রান্না করে, বাড়িওয়ালার ময়লা কাপড় ধুয়ে দেয়, নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করে। সকালে উঠে পুরনো নিয়মে আবার সে বের হয় অন্য কোনো বাড়ির সন্ধানে। আরেকজন, ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে ষড়যন্ত্র করে তাকে বেশ্যা বানায়। কোনো অপরাধই তার কাছে অন্যায় নয়, বরং তা একটি শারীরিক ভাষা হিসেবেই প্রকাশ পায়। যার মধ্য দিয়ে সে অর্জন করতে চায় তার ভালোবাসা। আবার, যৌনতা যে ঘৃণা ও ভালোবাসার ভাষা হতে পারে তা দেখি ভিন্ন ধারার দুজন মানুষের মিলনে। যেখানে ভালোবাসার মানুষটি দূরে চলে যাওয়ায় যোনিতে বড়শি গেঁথে আত্মহত্যা করতে যায় প্রেমিকা।

মানুষের জীবন-যাপন, ভালোবাসা, ঘৃণার প্রকাশ যেখানে সরল ও সাধারণ; সেখানে ভিন্ন দৃষ্টিতে, বাস্তবতার বিমূর্ত সত্য নির্মাণে চলচ্চিত্র পেয়েছে কবিতার রূপবলছিলাম কিম কি দুক-এর কিছু চলচ্চিত্র থেকে। সেখানে আমরা দেখিসচরাচর কথিত মানবীয় সামাজিক সম্পর্কের বাইরে মানুষে মানুষে ভিন্ন ধারার এক সম্পর্ক; যেখানে নির্মিত বাস্তবতা অনেক বেশি নির্মম ও নগ্ন।

কিম-এর চলচ্চিত্র দেখি আর ভাবি, কী করে একজন মানুষের পক্ষে এভাবে ভাবা সম্ভব। ছোটোবেলা থেকে তিনি বেড়ে উঠেছেন এক প্রতিকূল পরিবেশে। বড়ো হয়েও এ সমাজ তার সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। কিম নিজেই বলছেন, ছোটবেলায় আমার চেয়ে যারা বয়সে ছোট কিন্তু শারীরিকভাবে শক্তিশালী তারা আমাকে বিনা কারণে মারতো। ...এমনকি আমি যখন নৌ-সেনা হিসেবে চাকরি করি তখনও আমার চেয়ে যারা উঁচু পদের ছিলো তারা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আমাকে আঘাত করতো। এসব অভিজ্ঞতায় আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, কেনো এমনটি হবে? পরিচালক হওয়ার আগ পর্যন্ত এই চিন্তা-ভাবনাগুলো আমার মাথায় ঘুরপাক খেতো। এখন আমি এই চিন্তা-ভাবনাগুলোর প্রতিফলন আমার চলচ্চিত্রে তুলে ধরি। মানলাম, না হয় জীবনের কষ্টকর সব অভিজ্ঞতা আর সমাজের অসঙ্গতিকে কাব্যময় যন্ত্রণা দিয়ে তিনি আঁকেন সেলুলয়েডে। কিন্তু এমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তো হাজারো মানুষের আছে! তবে কিম-এর সেই ভিন্ন সৃজনী শক্তির উৎস কী, যা তাকে এনে দিয়েছে অনন্যতা। তার বিস্ময়কর স্বকীয়তা, সৃষ্টিশীলতা, শিল্পবোধ, জীবন থেকে উৎসারিত সেই সব চেতনা যা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উঠে এসেছে, তার পিছনে শুধু তার সংগ্রামী ও কণ্টকাকীর্ণ জীবনই নয়, রয়েছে হয়তো অন্য কিছু।

ধর্ম, কথিত সামাজিক আচার-আচরণ ক্রমাগত মানুষকে একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। তাই কিম-এর সৃষ্ট চরিত্রের নিজের কোনো ঘর থাকে না, সবার ঘরেই তার বাস। সে গলায় মাছ শিকারের বড়শি গেঁথে নিতে পারে অনায়াসেযেখানে জীবনের মানে ফুরিয়ে যায়; বাস করতে পারে লোকালয় ছেড়ে বনের মধ্যে কোনো আশ্রমে; আর ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে তাকে বেশ্যা বানাতে পারে। তাইতো এই মানুষগুলোর মুখে ভাষা নেই। মুষ্ঠিযোদ্ধার প্রচণ্ড ঘুষি, পুলিশের অকথ্য নির্যাতনেও তাদের মুখে থাকে এক চিলতে হাসি। কেমন যেনো অদ্ভুত!

কিন্তু কিম-এর এই অনন্যতার উৎস কী? মাঝে মাঝে মনে হয়, নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে নিম্নবর্গের মানুষের মতো নিজে কাজ করে সেটাকে যারা দেব-দেবীর অবদান বলে কিংবা যারা ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে, তাদের মতো বলে ফেলি, তার ওপর নিশ্চয় কিছু ভর করে, যা তাকে দিয়ে লেখায়, চিন্তার শক্তি জোগায়। কখনো রবীন্দ্রনাথের মতো বলতে ইচ্ছে করে, আমাদের এই সহযাত্রীর সহিত কোনো-এক রকমের অলৌকিক ব্যাপারের কিছু-একটা যোগ আছে কোনো একটা অপূর্ব ম্যাগনেটিজম অথবা দৈবশক্তি, অথবা সূক্ষ্ম শরীর, অথবা ঐ ভাবের একটা কিছু। নাকি চলচ্চিত্রের এ কবির ওপর সেই জিনিস ভর করে যা ভর করেছিলো রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা জীবনানন্দের ওপর। যার ফলে জীবনানন্দ পাখির নীড়ে মানুষের চোখের সৌন্দর্য খুঁজে ফেরেন। নজরুল বিধাতার আসন ছিদ্র করেন আর রবীন্দ্রনাথ পারেন মানুষের মনের একান্ত গোপন ইচ্ছেগুলো জানতে।

দরিদ্রতা আর অবহেলা কিম-কে স্কুলের গণ্ডিই পেরোতে দেয়নি। কাজ করতেন কারখানায়। একসময় যোগ দেন নৌবাহিনীতে কিন্তু বেশি দিন টিকতে পারেননি। বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়ে ওঠেন গির্জায়; উদ্দেশ্যধর্মযাজক হবেন। এখানেও তার মন বসে না, দুই বছরের মাথায় চলে যান প্যারিস, সেখানে চিত্রকলার ওপর পড়াশোনা করেন বছর দুয়েক। এ সময় রাস্তায় রাস্তায় চিত্র প্রদর্শনী করে পেট চলতো তার। সেখান থেকেই আগ্রহের শুরু চলচ্চিত্রের প্রতি। ফিরে আসলেন মাতৃভূমিতে, শুরু হলো চলচ্চিত্রের ছবি আঁকা অর্থাৎ স্ক্রিপ্ট লেখা। প্রথম স্ক্রিপ্টেই পেয়ে যান এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ক্রিনরাইটিং-এর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। এরপর ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ক্রোকোডাইলক্রোকোডাইল থেকে মোবিয়াস (Moebius, ২০১৩) তার চলচ্চিত্র সংখ্যা ১৯। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন উৎসবে ২৫টির বেশি মনোনয়নসহ ঝুলিতে ভরেছেন নয়টি পুরস্কার।

গালভরা প্রচারমূলক বক্তব্য পেশ না করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যেনো কিম-এর স্বভাব। যদিও তিনি চিত্রকর তবুও তার ক্যামেরা তুলি না হয়ে, হয়ে উঠেছে ক্ষুরধার অস্ত্র। তার চলচ্চিত্র-ভাষা দেখতে গিয়ে দুটি চলচ্চিত্রকে টেক্সট হিসেবে দেখবো; দ্য আইল (The Isle) ও ব্যাড গাই (Bad Guy)। কিম-এর প্রতিষ্ঠায় তার চলচ্চিত্রের যে ভিন্ন আমেজ তা বুঝতে এ দুটি চলচ্চিত্র অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ।

 

৩.

দৃশ্যমানতা ও শ্রবণযোগ্যতা এ দুইয়ের হাত ধরে প্রযুক্তিনির্ভর এ শিল্পমাধ্যমটি আজকের অবস্থানে এসেছে। চলমান চিত্রকলার জন্ম কিন্তু নির্বাক মানব শিশুর মতোই। যাকে ধীরে ধীরে বড়ো করে তুলছিলো অভিনয় আর চিত্রণ শৈল্পিক প্রকাশের অনন্য ধারা। ডব্লিউ ডি গ্রিফিথ, বুনুয়েল, আইজেনস্টাইন, চ্যাপলিনদের মতো অভিভাবকের হাত ধরে মাতৃত্বের মমতায় এ নির্বাক চলচ্চিত্র যখন উৎকর্ষের দিকে ধাবমান, তখন প্রযুক্তির এক জাতক সব ওলট-পালট করে দিলো। শব্দ সংযোজন বা টকির আগমন এর চিত্রকলামুখী যাত্রার গতি রোধ করে তাকে করে তুললো নাট্যধর্মী। ফলে চলচ্চিত্রকে যাঁরা সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে দেখতে চাইছিলেন, তাঁরা দমে গেলেন। আর চলচ্চিত্রশিল্পকে যাঁরা নিছক শৈল্পিক নিরীক্ষার বাইরে এনে বাণিজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় মাধ্যমে রূপান্তরিত করতে চাইছিলেন, তাঁদের জন্য শব্দ হয়ে দাঁড়াল আশীর্বাদ। নির্বাক যুগে যিনি চলচ্চিত্রকে শৈল্পিক মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি চ্যাপলিন। দীর্ঘদিন ধরে তার সৃষ্টিতে যে নির্বাক ভাষা তৈরি করেছিলেন তা সবাক যুগেও পরিত্যাগ করতে সম্মত হলেন না। যদিও পরবর্তীকালে সবাক চলচ্চিত্রের শৈল্পিক উৎকর্ষে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন তিনি; বাক-সংযোজন করেছিলেন তার চলচ্চিত্রে।

কিন্তু আজ এই আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় শব্দ ও সংলাপের বাহারি ব্যবহারে দৃশ্যমানতা কোণঠাসা। ভাবা হচ্ছে সংলাপ ছাড়া চলচ্চিত্র অপূর্ণ। অথচ শব্দ ও সংলাপের বাড়াবাড়ির এ সময়ে সংলাপবিহীন, স্বল্প সংলাপের চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই নিজেকে অনন্য করে তুললেন কিম। চলচ্চিত্রের এ কবির ছোঁয়ায় প্রায় সংলাপবিহীন সব চিত্রকল্প হয়ে উঠছে মাস্টারপিস। বিষয়টি কিম-এর ভাষায়, আমি মনে করি না, সংলাপই একটা ভালো চলচ্চিত্রের মূল উপাদান। মুখের কথার পরিবর্তে কথা বলে কিম-এর ক্যামেরা, আলোকসম্পাত, রঙ, সঙ্গীত আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফ্রেমে জোড়া দেওয়া প্রতিটি শট্।

 

৪.

জলরঙ ছবিতে যেমন রঙের ভাষা থাকে, তেমনি কথক-নৃত্যে অঙ্গের আর কাব্যনাট্যে থাকে কবিতার ভাষা। মানব প্রজাতির নানা জাতি-বর্ণের ন্যায় শিল্পের জাতি-বর্ণের ভাষাও আলাদা। তবে ভাষা যাই হোক না কেনো এর মূল কাজ কিন্তু সেতু তৈরি করা; যাতে এক অচেনা অজানা মনের ভাব অন্য মনে পাড়ি জমাতে পারে অনায়াসে। শিল্পমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলচ্চিত্রের এই ভাব বিনিময়ের জায়গা সহজ, মধুর। তাই তাতে মানবীয় যোগাযোগের কিছু অনুষঙ্গ এড়িয়ে গেলেও ভাবের পানিতে খুব একটা টান পড়ে না, সে গল্প বলে যেতে পারে অনায়াসে। তবে ক্রিস্টিয়াঁ মেৎজ বিষয়টি দেখেন একটু অন্যভাবে, চলচ্চিত্র একটি ভাষা সেজন্য আমাদের সুন্দর গল্প বলতে পারে ব্যাপারটা তা নয় বরং চলচ্চিত্র চমৎকার গল্প বলতে পারে বলেই এটি ভাষার রূপ পেয়েছে। এ ভাষার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নানা রূপক, ইঙ্গিত, গূঢ়লেখ বা বার্তা ইত্যাদির মাধ্যমে।

ব্যাড গাই এক মাস্তানের প্রেম ও একটি মেয়ের পতিতা হওয়ার গল্প। তবে হওয়া না বলে পতিতা করে তোলার গল্পও বলা যেতে পারে। সাদামাটাভাবে এর গল্প দাঁড়ায় এমনমাস্তান হান-জি রাস্তার পাশে বসে থাকা একটি মেয়েকে পছন্দ করে। মেয়েটি তাকে পাত্তা না দিলে তার প্রেমিকের সামনেই জোর করে চুমু খায় সে। এতে মেয়েটি তাকে চড় মারে ও মুখে থুতু ছিটায়। পরবর্তীকালে তাকে নিজের করে পেতে হান-জি নাটক সাজিয়ে মেয়েটিকে পতিতা বানায়। তবে একসময় মেয়েটি তাকে ভালোবেসে ফেলে, সে জানতে পারে হান-জির প্রেমিকা ছিলো দেখতে ঠিক তারই মতো।


পাঠক বলতেই পারেন, এ তো চলতি যেকোনো চলচ্চিত্রের সাদামাটা গল্প। কিন্তু কিম-এর হাতে সাদামাটা এ গল্পই হয়ে ওঠে অসাধারণ শিল্প। প্রায় সংলাপবিহীন এ চলচ্চিত্র দেখে দর্শকের বুঝতে কষ্ট হয় না, দুঃখ ভারাক্রান্ত একজন মানুষের কথা, চাপের মুখে পতিতা হওয়ার কষ্ট, পতিতালয়কেন্দ্রিক মানুষের জীবন। সর্বোপরি এটি ভালোবাসার ভিন্ন এক গল্প, ভিন্ন এক আঙ্গিক।

দ্য আইল-এর কাহিনী গড়ে উঠেছে প্রেমিকাকে খুন করে পালিয়ে আসা এক পুলিশ অফিসার ও একটি ফিশিং ক্যাম্পের নারী পরিচালকের অদ্ভুত প্রেমকে কেন্দ্র করে। যেখানে একই সঙ্গে ঘৃণা ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে যৌনতা। একটি ফিশিং রিসোর্ট চালায় মেয়েটি। যেখানে মাছ শিকারীরা ছাড়াও কিছু অপরাধী মানুষ আসে নিজেকে গোপন করতে। মেয়েটি তাদের খাবার সরবরাহ করে, ঘর পরিষ্কার করে, নৌকায় পার করে, প্রয়োজনে টাকার বিনিময়ে তাদের সঙ্গে বিছানায় শোয়। একসময় হান-শিক নামের এক আসামি থাকতে আসে রিসোর্টে। একপর্যায়ে তার প্রেমে পড়ে মেয়েটি। ভারী জেদ মেয়েটির; ভালোবাসার মানুষের জন্য করতে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। এমনকি মেয়েটি তাকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচায়, রক্ষা করে পুলিশের হাত থেকেও। আর ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে খুন করে এক পতিতাকে। আবার ভালোবাসার মানুষটি চলে যেতে চাইলে যোনিতে বড়শি গেঁথে আত্মহত্যা করতে যায় সে। 

কিছু মানুষ আছে যারা ঘর থাকলেও তাতে থাকতে পারে না। হয় ঘরে থাকতে থাকতে তারা হাঁপিয়ে ওঠে, নয়তো কোনো অপরাধবোধ তাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়; যে মানুষগুলো ঠাঁই নেয় প্রকৃতির কাছাকাছি। এমন মানুষদের জন্যও ঘর বানালেন কিম। দ্য আইল-এর সেই রঙিন ছোটো ছোটো ঘরগুলো পানির ওপর ভেসে থাকে। যেখানে আশ্রয় পায় ঘর ছাড়া প্রমোদকামী, অপরাধী কিছু মানুষ। তাদের জীবন সেই ঘরগুলোর মতোই খুঁটিহীন-অস্থায়ী আর স্রোতের গতির কাছে টালমাটাল। পানির একটু ঢেউয়ে যেমন ঘরগুলো দুলতে থাকে তেমনি কিম-এর এ ঘরছাড়া মানুষগুলোর জীবনও ছোটে ঢেউয়ের আগে আগে। পাহাড় ঘেরা জলাভূমিতে নানা রঙের ছোটো কুটির, কুয়াশাচ্ছন্নতা, রাত ও দিনের আনাগোনায় অসম্ভব সুন্দর রঙ, আবহ। কুয়াশা ঢাকা পাহাড়ের গায়ে শেষ বিকেলের আলোর সেই মোহনীয় রূপ যেনো চিত্রকর কিম নিজের হাতে এঁকেছেন। লঙ শটে পরিবেশের যে চিত্রায়ণ তিনি করেছেন তা জীবন্ত।

প্রকৃতির পালাবদল যেমনটি তিনি ধরেছেন স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার... অ্যান্ড স্প্রিং-এ। সীমানা প্রাচীর নেই কেবল একটা দরজা, একা দাঁড়িয়ে। প্রকৃতির পরিবর্তনে তাল রেখে ক্যাঁচ-ক্যাঁচ শব্দে সেটির খোলা-বন্ধ হওয়া। দরজার অদ্ভুত এই আচরণের সঙ্গে হয়তো প্রকৃতির রঙ বদলাবার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু আছে। এটা বোঝাতে কিম কিন্তু মানুষের মুখের ভাষা ব্যবহার করেননি। আর বিষয় হিসেবে কিম সেই সব মানুষদের গল্প বলতেই যেনো একটু বেশি পছন্দ করেন, যারা কর্তৃত্ব, আধিপত্যের নির্মমতার শিকার।

 

৫.

ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃদু-মন্দ মিউজিক, মিড শট্, ক্যামেরার চোখে কোরিয়ার ব্যস্ত রাস্তার নানান রঙের মানুষ। ভিড়ের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্যামেরার দিকে হেঁটে আসে কালো শার্ট, কালো গেঞ্জি, কালো প্যান্ট, কালো জুতা পরা একজন। নির্লিপ্ত বদনে ইতিউতি তাকাচ্ছেন তিনি। ইনি হান-জি। কালো রঙের পোশাক পরা এই মানুষটিকে ঘিরেই কিম-এর ব্যাড গাই। গোটা চলচ্চিত্রে তার পোশাকের রঙ দুটি; কালো-সাদা। রঙের বিদ্যায়, একটিতে আছে পৃথিবীর সব রঙ, অন্যটিতে শুধুই অন্ধকার। কিন্তু তার হাতের সাদা সিগারেটের মতোই পুড়তে থাকে সেই সব রঙগুলো। বাকি থাকে শুধু অন্ধকার। আর এই অন্ধকারের বাসিন্দাই হান-জি।

ও, সঙ্গে আরেক জন আছেন। যাকে সেই প্রথম শটেই দেখি, নীল রঙের গাউনে সাদা বলের নকশা, আর ধবধবে সাদা রঙের সোয়েটার, পায়ে সাদা জুতা পরা সেই মেয়েটি; কিম সান হুয়া (Kim Sun-hwa)। প্রতিশোধ আর ভালোবাসা আদায়ের জন্য যাকে পতিতা বানায় হান। 

অপরাধ প্রবণতা মানুষের আদি গুণ। কখনো কখনো এসব অপরাধ তাকে ঠেলে দেয় বিভীষিকাময় পরিণতির দিকে। ফলে পাল্টে যায় জীবনের যাপিত সমীকরণ। অনেকেই তা থেকে আর কখনোই বের হতে পারে না। যেমনটি দেখালেন কিমএকটি বইয়ের দোকান, মিড শট্, অপরাধী ভাব নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন সান হুয়া; কেউ না দেখায় ম্যাগাজিনের সচিত্র একটি পাতা ছিড়ে ব্যাগে ঢোকায়। এবার ক্যামেরা সান হুয়ার চোখ; ক্লোজ-আপ, কালো রঙের মোটা একটি মানিব্যাগ পড়ে আছে পাশেই। মিড শট্, অবলীলায় সেটি হাতে নিয়ে চলে যায় সে। অতঃপর এই মানিব্যাগই উল্টে দেয় সান হুয়ার আপাদমস্তক জীবনবদলে যায় পোশাকের রঙ।

এদিকে হান-জি এমন একজন মানুষ, যে কিনা বেড়েই উঠেছে অপরাধের পিঠে ভর করে। যা তাকে ভালোবাসা অর্জনের উপায় হিসেবে অপরাধকেই বেছে নিতে বাধ্য করে। কিম চলচ্চিত্রের শুরুতেই ক্লোজ-আপে পরিচয় করিয়ে দেন তাকে। যে সাধারণের ভিড়ে অতি সাধারণ হয়েও ভিন্ন। তার নির্লিপ্ত চাহনি, মলিন মুখ চলচ্চিত্র জুড়ে। কেমন যেনো দুঃখের একটা ছাপ। হয়তো দুঃখ নয় বরং অন্য কিছু। মুখে কথা নেই। গলার চামড়ায় মালার মতো গভীর কাটা দাগ। কিম-এর সৃষ্টি এক আশ্চর্য চরিত্র হান-জি। প্রাচীন নাটকে মুখোশ পরে যেমন ভিন্ন অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা হতো, এখানে কিম তা করলেন মেকআপ, চরিত্রের অভিব্যক্তি আর অভিঘাতী ক্লোজ-আপের মধ্য দিয়ে।

দেখুন, গোটা চলচ্চিত্রে একবারই হান-জিকে দিয়ে কথা বলিয়েছেন কিম। বারে বসে মদ খেতে খেতে হান-জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাকে বলে, আমাদের জন্য তুই কিছুই করিসনি। বিষয়টি খুব কষ্ট দিয়েছিলো হানকে। তাই সেই শারীরিক ভাষার প্রকাশ, সহযোগীকে প্রচণ্ড বেগে লাথি ঘুষি মারতে মারতে সে বলে, `Say that again you fucker, You fucker, You mother fucker scumbug, Love for a scumbug? You fucker, scumbug Love? প্রচণ্ড কষ্টে বুকের ভিতর থেকে আসা হান-জির এ কথাগুলোই মূলত ব্যাড গাই-এর মূলমন্ত্র। সমাজ তাদের এমন এক স্থান দিয়েছে যে, তাদের কেউ ভালোবাসবে বা তারা অন্যকে, এটা হয়ই না; যেনো প্রকৃতি বিরুদ্ধ।

লঙ শট্, সন্ধ্যার আঁধারকে দূরে সরিয়ে রেখেছে পতিতাপল্লির হরেক রঙের সোডিয়াম বাতির আলো। রাস্তার পাশে রঙিন ছোটো ছোটো ঘরগুলো সাজানো হরেক রঙের কাপড় আর বাতি দিয়ে। ঘরগুলোর বাইরের রঙও ভিন্ন ভিন্ন। আর সামনে লাল, নীল, হলুদ নানান রঙের কাপড়ে সেজেগুঁজে খদ্দের ডেকে যাচ্ছেন কিছু নারী। ঠোঁটে টকটকে লিপস্টিক, মাথার চুলেও নানান রঙের খেলা; প্রাণখুলে হাসছেন, মজা করছেন খদ্দেরদের সঙ্গে। দেখে মনে হচ্ছে, অনেক ভালোবাসা আর ভালোলাগার আবেশে বুঁদ হয়ে রয়েছেন। কিন্তু আদতে কী? আসুন দেখিকিম কীভাবে দেখছেন। অন্ধকার ঘরে বসে হান, ক্যামেরা তার চোখ, ধীরে ধীরে কালো পর্দা সরে যাচ্ছে, ক্লোজ শট্, সান হুয়ার উপরে প্রায় জোর করে উপগত খদ্দের। আছড়ে কাঁদছেন সান হুয়া। খদ্দের বলছে, Its like doing it with a stiff. Dont just cry, and move. খদ্দের চলে যায়। ক্যামেরা হান-এর চোখ, বেদনা ছড়াচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিছানায় পড়ে হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কাঁদছেন সান হুয়া। কতোখানি ব্যথা, কতোখানি বেদনা, কতোখানি লজ্জা আর অসহায় তিনি, তা বলতে এখানে কোনো ধারাভাষ্যের প্রয়োজন নেই। কাট্-টু, খদ্দেরকে বাধা দিতে হান-জি তার সহকারীকে পাঠায়, কিন্তু দরজায় পতিতালয়ের সর্দার নারী তার গালে থাপ্পর মেরে বলে, Go away, son of a bitch. She should know she is only worth 50 bucks. এভাবেই তাদের আকাশে ভালোবাসার রক্তজবা রঙ পাল্টে বেদনায় নীল-হলুদ হয়ে যায়। আর জীবনের রঙ হয় জরাজীর্ণ ফ্যাকাশে।

আরেকটি মিড শট্, সর্দার নারীটি দোকান থেকে লাল রঙের একটি কাপড় সান হুয়াকে পরতে দেয়। কিন্তু তার পছন্দ সাদা। অথচ হান-এর সাদা সিগারেটের মতোই সান হুয়ার সাদা জামাও পুড়তে থাকে তার মনের সঙ্গে সঙ্গেই। সবকিছুর আড়ালে ওই জীবনের যে একটি আলাদা জগৎ আছে, সেখানে ডুব দিলেই কেবল জীবনের সেই ভিন্ন রূপটি চোখে পড়ে। কিন্তু তা দেখতে ভিন্ন এক চোখ লাগে, সেই চোখেই দেখেছেন কিম। সেই ভালোবাসার প্রকাশও ভিন্ন, রঙও আলাদা।

মানুষ সবাই, কিন্তু বিভাজন ব্যাড আর গুড দিয়ে। এ ধন্দের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি কিম-এর চলচ্চিত্র-ভাষায়। কিম-এর এ চলচ্চিত্রে কিছু লঙ ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিড লঙ ও ক্লোজ-আপের ব্যবহারে গল্প এগিয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। কাঁচের দেয়ালের আড়ালে বসে প্রেমিকাকে অন্যের দ্বারা ধর্ষণ হতে দেখে হান-জির কষ্ট, তিনি তুলে এনেছেন ক্লোজ-আপে। আর ধীরে ধীরে পতিতা হয়ে ওঠা মেয়েটির প্রতিটি অভিব্যক্তি ক্যামেরায় উঠে এসেছে জীবন্তভাবে। যা দেখে দর্শক যৌন উত্তেজনার পরিবর্তে কেঁদেছে, যেমনটি হান-জির মনে হয়েছে, ঠিক সেই কষ্টটাই স্পর্শ করেছে, ভুগিয়েছে দর্শককেও।

ধীর লয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ক্যামেরা আবার হান-এর চোখ, অন্ধকার ঘরে বসে কাঁচের আড়াল থেকে দেখছে হান। মিড শট্, নীরবে বসে আছে সান হুয়া। হঠাৎ উঠে তৈরি হতে থাকেন, সাদা টপ খুলে পরেন রঙিন বক্ষবন্ধনী, মাথায় লাগান নকল রঙিন চুল। সাদা টপ আটকে রাখতে চান কাঠে লোহা ঠুকে বানানো হ্যাঙারে। কিন্তু তা আটকে না থেকে বারবার পড়ে যায় মাটিতে। ক্যামেরা চলছে, দেখছি হান-এর চোখে, লাল টকটকে লিপস্টিক নিয়ে বিছানায় ওঠেন, চলে আসেন আয়নার একেবারে কাছে, হান-এর চোখের ঠিক সামনে। ক্লোজ ক্লোজ-আপ, মলিন মুখ, টকটকে লাল লিপস্টিক রক্তজবা রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছে দুটি ঠোঁট। কিন্তু এ কী! চোখ ভিজে আসছে সান হুয়ার, ঠোঁট দুটো ফুলে উঠছে কান্নায়, লাল লিপস্টিক দিয়েই আয়নার বুকে আঁকেন ক্রস চিহ্ন, যেনো শেষ করতে চান কিছু অথবা শেষ হতে চান নিজেই। এবার ক্যামেরা ক্লোজ-আপে দেখছে একপাশ থেকে, ক্রস চিহ্নে মাথা ঠেকিয়ে নির্বাক, অসহায় চেয়ে থাকেন সান হুয়া। আর আয়নার অন্যপাশ থেকে তার গালে ভালোবাসার অধরা চুমু এঁকে দেন হান।

এখানেই কিম-এর বিচিত্রতা, সার্থকতা। আবহ অনুযায়ী রঙ, শব্দ, মিউজিক চলচ্চিত্রটিতে দিয়েছে ভিন্ন আমেজ। আর তাই মূল বার্তা বুঝতে প্রয়োজন হয় না সংলাপের। সাব-টাইটেল ছাড়াই দর্শক বুঝে যান, কী বলতে চান কিম।

অপরাধী মানুষগুলোও বেঁচে থাকে কিছু একটা অবলম্বন করে। হান-জির খুব কাছের বন্ধুটিও যখন তার পেটে ছুরি চালায়, তখন সে শুধু তার মুখের দিকে চেয়ে থাকে বিস্ময় ভরা চোখে; যা উঠে এসেছে একটি ক্লোজ-আপে। এরপর মিড লঙ শট্, মাটিতে পড়ে আছে হান-জি, একহাতে চেপে ধরে আছে রক্তাক্ত পেট, অন্যহাতে মাটিতে পড়ে থাকা একটি সিগারেট ধরতে চায় সে। প্রাণপণ চেষ্টায়ও তা ধরা দেয় না, গুঁড়োমাটির ধাক্কায় শুধু দূরেই সরে যায় সাদা রঙের সিগারেটটি। ধীরে ধীরে চোখের আলো মিইয়ে আসে। এভাবেই হয়তো প্রতিটি মানুষের কিছু স্বপ্ন থাকে যা সে চাইলেও ছুঁতে পারে না। হাতের একদম কাছে থাকলেও স্পর্শ করার ক্ষমতা তার থাকে না। মানুষের এ সক্ষমতার ক্ষমতা তৈরি করে সমাজ। উঁচু-নিচুর খুবই পাতলা এই অভেদ্য দেয়াল তাকে ছুঁতে দেয় না, কিন্তু দেখা যায় খুব কাছ থেকে। একবার এক ছকে বেঁধে ফেলতে পারলে আর তার মুক্তি নেই। তাই কিম দেখালেন, পতিতালয় থেকে একসময় মেয়েটি স্বাধীন হলেও রাস্তায় আবার তাকে শুতে হয় ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে।

কিন্তু ভালোবাসা! এটিই একমাত্র জিনিস যার জন্য টিকে আছে এ পৃথিবী, এ জীব জগৎ। যা মেয়েটিকে ফিরে নিয়ে যায় সমুদ্রের ধারে; যেখানে সে খুঁজে পায় তাকে পতিতা বানানোর পেছনে হান-জির উদ্দেশ্য। যা দুজনকে আবার মিলিয়ে দেয় এক পথে। কিম-এর পানি প্রীতির নিদর্শন এখানেও, হয়তো সমুদ্রের বিশালতায় মানুষের ক্ষুদ্রতা ফুটে ওঠে সবচেয়ে বেশি, তাই এই আয়োজন।

পাঠক, ভালোবাসার জয় তো হলো, কিন্তু আসল প্রশ্ন তো রয়েই গেলো। তাদের জীবন কি বদলে গেলো? সমাজ কি তাদের ফিরিয়ে নিলো তার সম্মানের স্থানে? চলচ্চিত্রটির শেষের দিকে একটি ছোটো শটে হয়তো জবাব দিয়েই দিয়েছেন কিম, একটি নৌকা, ঘাটে বাঁধা আছে একাধিক দড়ি দিয়ে, খোলা পানির ঢেউয়ে সে দোল খাচ্ছে কিন্তু অবস্থানের পরিবর্তন নেই। এই ভাসমান নৌকার মতোই সমাজ শ্রেণিভুক্ত মানুষদের বেঁধে রেখেছে হাজারো দড়িতে। যার একটি বা দুটি ছিঁড়তে পারলেও সেই বন্ধন থেকে পূর্ণমুক্তি মেলে না কখনোই। তাই পতিতালয় থেকে বেরিয়েও ছোট্টো একটি জিপে ভ্রাম্যমান পতিতালয়ে নিয়মিত দেহ বিক্রি করে সান হুয়া। আর তাকে বয়ে নিয়ে বেড়ায় হান-জি।

জীবন ঠিক সেটুকুই মোড় নেয়, যেটুকু এ সমাজ অনুমোদন করে। কারণ নতুন পতিতালয় সেই মিনি ট্রাকটি তো আর মুক্ত নদীতে নামতে পারে না, তাকে আবার চলতে হয় পিচের পলেস্তারা দেওয়া সেই রাস্তাতেই। শেষ দৃশ্য, ছোটো রাস্তা থেকে গাড়িটি তাদের নিয়ে একসময় মিশে যায় আঁকাবাঁকা হাইওয়েতে। লঙ শট্, ধীরে ধীরে লঙ, লঙ আরো লঙ, একসময় ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি, চলতে থাকে তারা। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে মৃদু লয়ের একটি গান। জানি না, হয়তো বলছে, জীবন বয়ে চলে এভাবেই।

 

৬.

কিম-এর বিচিত্রতার অনন্য এক দলিল দ্য আইল। কিছু দৃশ্য এখানে একেবারেই নতুন চিন্তার জন্ম দেয়, আবার কিছু শট্ মস্তিষ্কের সেলগুলোতে পাকায় তালগোল, দুর্বোধ্য। গলায় বড়শি গেঁথে নায়কের আত্মহত্যার চেষ্টা, ভালোবাসার মানুষ চলে যাওয়াতে নায়িকার যোনিতে বড়শি গাঁথা; কিংবা শেষ দৃশ্যে যোনি কেশকে গাছে রূপান্তর ও তার মাঝে নায়কের হারিয়ে যাওয়া। পাঠক আসুন, এর মধ্য দিয়ে কিম কী বলতে চান বোঝার চেষ্টা করি।

ব্যাকগ্রাউন্ডে পিয়ানোর নরম টুংটাং শব্দ, ল্যান্ডস্কেপ মাস্টার শট্, পাহাড়ের কোলে ধোঁয়া ওঠা জলাশয়; সদ্য ফোটা সূর্যের হালকা হলুদাভ কোমল আলোয় পানিতে ভাসমান ছোটো ছোটো বেশ কয়েকটি ঘর। নীলাভ আকাশে একগুচ্ছ সাদা মেঘ; ডিজলভ্, মাটির কাছ ঘেঁষা একটি ঘর। এরই বারান্দায় দুজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন কিমপুরুষটির হাতে দুটো ব্যাগ, খাঁচায় ভরা একটি সাদা ছোটো পাখি। মেয়েটির হাতে একটি ঝুড়ি ও বড়ো ব্যাটারি; সে নৌকার মাঝি। নৌকা ছুটে চলছে ধোঁয়া ওঠা পানির বুক চিরে ছোটো ঘরগুলোর কোনো একটির উদ্দেশে। কিম-এর চিত্রিত এ দুজনের জীবন অনেকটা খাঁচায় বন্দি সেই পাখিটির মতো। আর তাদের ইচ্ছে-স্বপ্নগুলো ভাসমান ঘরগুলোর মতোই নড়বড়ে।

একটি ক্লোজ-আপ, ধীরে ধীরে জুম আউট করে দূরে সরে যায় ক্যামেরা। হাই-অ্যাঙ্গেল শটে, পানির ওপর ভাসমান নৌকা, দুলছে সেটি, মেয়েটি নির্লিপ্ত ঘুমে মগ্ন। মুখে শান্ত ভাবের জায়গা দখল করে আছে পরিশ্রান্ত এক কোমলতা।

রাতের আঁধারে কালো রঙ নিয়েছে জলাশয়ের পানি, নিশ্চুপ সেই পানিতে নৌকা বেয়ে মেয়েটি রাতের খাবার নিয়ে আসে; কিন্তু সে ঘরের বাসিন্দারা দাবি করে আরো কিছু। পালাক্রমে দুজন পুরুষের সেই দাবি মেটানোর পর টাকা দিতে গিয়ে তারা শর্ত জুড়ে দেয়, Say something, then Ill give you the money, ok? কিন্তু প্রকৃতির মতো নিশ্চুপ এই মেয়েটি তাতে কোনো সায় দেয় না, চলে যেতে চাইলে টাকাগুলো পানিতে ছুড়ে মারে তাদের একজন। পানির নিচ থেকে ক্যামেরা, লো অ্যাঙ্গেল শট্, টাকাগুলো তুলতে থাকে মেয়েটি; মুখ দেখে মনে হয় রাস্তার ভুখা কুকুরের সামনে কেউ দুদিনের শুকনো হাড় ছুড়ে দিয়েছে। মিড শট্, ঘরের মেঝেতে ভিজে যাওয়া টাকাগুলো শুকোয় সে। এ অবহেলা, অপমান সহ্য হয় না তার। লো অ্যাঙ্গেল মিড শটে আবারো পানির নিচে ক্যামেরা, ঘরের বারান্দায় বসে জলাশয়ে মলত্যাগ করছে টাকা ছুড়ে মারা সেই পুরুষটি। হঠাৎ-ই পানির নিচে তাকে টেনে নেয় মেয়েটি, তারপর সূচালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

এদিকে হান-এর কাছ থেকে কষ্ট পেলে এই মেয়েটিই আবার রাগে প্রতিশোধ নেয় প্রকৃতির ওপর। মিড শটে, অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে একটি মাছ তুলে মেঝেতে ফেলে সে; ক্লোজ শট্, দাপাদাপি করছে মাছটি, আর মেয়েটি সেটিকে বৈদ্যুতিক শক্ দিচ্ছে। কিম হয়তো বোঝালেন, অবহেলা, অপমান আর নিঃসঙ্গতা একজন মানুষকে কীভাবে এতোটা একরোখা, হিংস্র আর প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। 

একসময় পতিতা আসে হান-শির দরজায়; সহ্য হয় না মেয়েটির। হান-এর কাছ থেকে দূরে রাখতে পতিতাকে সে বেঁধে রাখে অন্য একটি ঘরে। বৃষ্টি ভেজা রাতে পানিতে ডুবে মারা যায় পতিতা। পানিতে ভাসছে মৃতদেহ, কুয়াশা ঘেরা সকালে সে দৃশ্য নৌকায় দাঁড়িয়ে দেখে মেয়েটি। মৃতদেহটিকে স্কুটির (মেয়েদের জন্য বানানো বিশেষ ধরনের মোটর বাইক) সঙ্গে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেয় সে। পানির নিচে ক্যামেরা, ক্লোজ শট্, ডুবে যাচ্ছে পতিতার দেহ, কাপড় উপরে উঠে গেছে, ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকে উন্মুক্ত যোনি, তলপেট। যে দৃশ্য ভুলতে পারে না মেয়েটি। তার মনে হয় সেও তলিয়ে যাচ্ছে সেই উন্মুক্ত যোনি, তলপেটের মতোই।

পুলিশের ভয়ে গলায় বড়শি গেঁথে আত্মহত্যা করতে যায় হান। বিগ ক্লোজ-আপ, খোলা মুখ, একগুচ্ছ ঝকঝকে পিতলের বাঁকানো বড়শি গিলে খাচ্ছে হান, এরপর সুতা ধরে টানে খুব জোরে। গলা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে সে; মেয়েটি তাকে বাঁচায়। আর যন্ত্রণা ভোলাতে কিম দেখালেনযৌনতা। মিড শট্, শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে হান, মেয়েটি ধীরে ধীরে উঠে যায় তার শরীরের উপর। যৌন সুখে ভুলিয়ে দিতে থাকে হান-এর যন্ত্রণা। কিন্তু হান এসব চায় না। সে চলে যেতে চায় সব বন্ধন ছিঁড়ে। তাকে আগলে রাখতে চায় মেয়েটি। রাগে সে পানিতে ছুড়ে ফেলে পাখিসহ খাঁচাটি। মিড শটে ক্যামেরা আবার পানির নিচে, মুক্ত হওয়ার জন্য ডানা ঝাপটাচ্ছে বন্দি পাখিটি, কিন্তু পানি তাকে খাঁচাসহ গিলে ফেলছে, তলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে আরো গভীরে। এখানেও কিম হয়তো দেখাতে চাইলেন, ভালোবাসা আর অপরাধের খাঁচায় একবার বন্দি হলে মানুষেরও আর মুক্তি মেলে না। সে যতোই ডানা ঝাপটাক এ দুই খাঁচার ভারে তলিয়ে যায় গভীরে আরো গভীরে।

মিড লঙ শট্, পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে হান। নৌকার উপর থেকে হাতে বড়শি বিধিয়ে মেয়েটি তাকে উপরে উঠায়। ক্লোজ শট্, হাতের বড়শি প্লায়ার্স দিয়ে টেনে তোলে মেয়েটি, প্রচণ্ড আক্রোশে হান মারতে থাকে তাকে, লাথির পর লাথি চালায় যোনিতে। লঙ শট্, অবশেষে প্রচণ্ড বেগে যৌনমিলন করতে করতে সে একসময় কান্নায় লুটিয়ে পড়ে মেয়েটির উপর। কিম-এর এ চলচ্চিত্রটিতে ঘৃণা ও ভালোবাসা উভয়ের প্রকাশই যেনো যৌনতায়।

অবশেষে সকালে ব্যাগ গুছিয়ে দেয় মেয়েটি, চলে যেতে থাকে হান। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের এ প্রস্থান কাঁদায় তাকে। মিড শট্, কাঁদতে কাঁদতে যোনিতে বড়শি গাঁথে সে। কাট্-টু, হান চলে যাচ্ছে দুহাতে নৌকা বেয়ে একটার পর একটা ঘরকে পিছনে ফেলে; হঠাৎ ভেসে আসে তীক্ষ্ণ চিৎকার। গোটা চলচ্চিত্রে এই একটি মাত্র শব্দ, যা মেয়েটি করে। সব দুঃখ-কষ্ট নিংড়ে ভালোবাসা হারানোর এ চিৎকার ফিরিয়ে দেয় তার ভালোবাসা।

মিড লঙ শট্, গাঢ় হলুদ রঙে ভালোবাসার রঙ মিশিয়ে হালকা হলুদ রঙের ঘরটিকে দুজন মিলে নতুন রঙে সাজায়। ক্লোজ ক্লোজ-আপ, দুটি ব্রাশ মিশিয়ে দিতে থাকে মাঝের ভালোবাসাহীন রঙ চটা জীবনটাকে। ডিটেইলে ফুটে ওঠেরঙময় ব্রাশগুলো ফ্যাকাশে রঙকে প্রগাঢ় করছে, ধীরে ধীরে মিলে যাচ্ছে একের সঙ্গে অন্য। ছোটো একটি শট্, শরতের আকাশের মতো পরিষ্কার ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে হালকা সাদা মেঘের ভেলা। কিম দেখালেন, তাদের মনের আকাশও এখন মেঘহীন ঝকঝকে নীল।

ছোটো নৌকাটির ইঞ্জিন খুলে ঘরটিকে ভাসিয়ে দূরে নিয়ে যায় মেয়েটি। পড়ে থাকে ডুবন্ত নৌকা, ফেলে আসা জীবনের মতো। লঙ শট্, হাই-অ্যাঙ্গেল, ধীরে ধীরে হলুদ ঘরটি সরে যেতে থাকে পাহাড়ের আড়ালে। একসময় বিস্তীর্ণ জলাভূমির মধ্যে সেটি থামে। যেনো জীবনের এখনো অনেক চলার বাকি। দুজনে মিলে চলবে সে পথ, একসঙ্গে। এ পর্যন্ত বোঝাতে কিম ব্যবহার করেছেন তার নিজস্ব বিচিত্র ক্ষমতা। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ক্যামেরায় বিভিন্ন শটের মাধ্যমে করেছেন জীবন্ত। মিউজিক, শব্দ ব্যবহার আর রঙের কারুকার্য চলচ্চিত্রটিকে করেছে অন্যের থেকে আলাদা। প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যময় রঙ মাতিয়ে রেখেছে গোটা চলচ্চিত্রটিকেই। আর নীরব চলচ্চিত্রে টুংটাং মৃদু-মন্দ শব্দের ঝঙ্কার হয়ে উঠেছে নিজেই এক ভাষা।

তবে, এ চলচ্চিত্রের শেষের দৃশ্যটি প্রায় অবোধ্য। পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে ওঠে হান, এদিক-ওদিক তাকায় কোথায় যাবে সে, একসময় ঢুকে পড়ে নলখাগড়ার এক বনে। এরপর ক্লোজ-আপ থেকে জুম আউট হতে হতে টপ শটে, নলখাগড়ার বন পরিণত হয় ডুবে যাওয়া নৌকায় ঢেউ খেলা স্বচ্ছ পানিতে নিথর পড়ে থাকা নগ্ন নারীর যৌন কেশে; এরপর থেমে যায় ক্যামেরার গতি, শেষ হয় চলচ্চিত্র। কী বোঝালেন কিম, সিম্বলিক এ শটে! এ বিশ্ব, এ প্রকৃতি, এ মানুষের শেষ আশ্রয় কি তবে সেই যোনি। নাকি সেই ভালোবাসা যা পূর্ণতা পায় এটি মন্থনের মাধ্যমে, নাকি এটি সেই স্থান, যেখান থেকে জন্ম নেয় সবকিছু। জানি না, হয়তো এর সবগুলোই, আবার কোনোটাই নয়। হয়তো এটাই কিম-এর নিজস্বতা; তার চিন্তাধারা, তার আমিত্বের পরিচায়ক।

ও হ্যাঁ আরেকটি বিষয়, দর্শক-পাঠক লক্ষ করবেন, পুরো চলচ্চিত্রে মেয়েটির কোনো নাম দেননি কিম। এমনকি পরিচয় দেবার মতো কোনো পরিচয়ও তার নেই। আদতে এমন কিছু মানুষ থাকে, সমাজ যাদের কোনো একক পরিচয় রাখে না, পরিচয় গড়তেও দেয় না।

 

৭.

Its hard to tell that the world we live in is either a reality or a dream. এটি থ্রি আয়রন-এর মূল থিম। যেখানে খুঁজে পাই অন্য এক কিমকে। চলচ্চিত্রকে প্রথম ভাষা হিসেবে দেখেছিলেন জ্যঁ মিত্রি। তিনি একে কাব্যিক ভাষা বলেও অভিহিত করেন। এবং তিনিই প্রথম পুরো চলচ্চিত্রকে নয় বরং চলচ্চিত্রের প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশ বা প্রতিটি শটেরই আলাদা অর্থ আছে বলে ধারণা দেন। আর কিম ঠিক সেই খেলাই খেলেন তার প্রতিটি শট্, ক্যামেরার প্রতিটি মুভমেন্ট আর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর সমন্বয়ে। যাকে আমরা বাস্তবজগৎ বলছি, তাকে তিনি তুলনা করছেন স্বপ্নের সঙ্গে। শ্রেণি-বৈষম্য, মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভিন্নতর আবেগে, ভিন্নতর এক দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে এসেছে তার হাতের প্রতিটি রেখা বেয়ে। সাধন করেছেন ভিন্নতর এক যোগাযোগ। হয়তো তার যোগাযোগই সাধারণ-সরল, আমাদের চোখেই কেবল তা ভিন্নতর। কিন্তু তার চলচ্চিত্র আমাদের সঙ্গে কীভাবে জানি একটা মিথস্ক্রিয়া করেই ফেলে; তাইতো ভাষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবধানের যোজন দূরত্ব সত্ত্বেও তার চরিত্রগুলো কেমন করে যেনো আমাদের নাড়িয়ে যায়!

 

লেখক : মাজিদ মিঠু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

mazid.mithu@gmail.com

 

তথ্যসূত্র

১. দুক, কিম কি (২০১২ : ১৪৫); সহিংসতার প্রকাশকে আমি নেতিবাচক না ভেবে শারীরিক-ভাষা বলতেই বেশি পছন্দ করি; অনুবাদকৃষ্ণ কুমার; ম্যাজিক লণ্ঠন; সম্পাদনাকাজী মামুন হায়দার; বর্ষ২, সংখ্যা১, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

২. নিম্নবর্গের মানুষের যে বৈশিষ্ট্যগুলির কথা রণজিৎ গুহ তার নিম্নবর্গের ইতিহাস শিরোনাম প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো, নিজেদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে সফলতা লাভ করলেও শেষমেষ তারা সেটিকে ঈশ্বরের কৃপা ও দয়া বলেই বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে পড়ুনগৌতম ভদ্র ও পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত নিম্নবর্গের ইতিহাস (২০০৪) বইটি।

৩. ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ (২০০৭ : ২৩৯); ক্ষুধিত পাষাণ; গল্পগুচ্ছ; বসুন্ধরা প্রকাশন, ঢাকা।

৪. মাসুদ, তারেক (২০১২ : ৯১); বিশ্ব চলচ্চিত্র : ভাষা ও মাধ্যমগত বিকাশের রেখাচিত্র; চলচ্চিত্রযাত্রা; প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা।

৫. প্রাগুক্ত; দুক, কিম কি (২০১২ : ১৪৭)।

৬. রিবেরু, বিধান (২০১১ : ৭৫); চলচ্চিত্রে চিহ্নবিদ্যা নমুনা : বেরিম্যানের সপ্তম সীলমোহর; চলচ্চিত্র পাঠ সহায়িকা; রোদেলা প্রকাশনী, ঢাকা।

 

বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৪ সালের জানুয়ারির ম্যাজিক লণ্ঠনের ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন