আসাদ লাবলু
প্রকাশিত ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
বাংলা চলচ্চিত্রের হালচাল : ‘আকালের সুযোগ’ নিয়েছেন অনন্ত
আসাদ লাবলু
১.
বাংলা চলচ্চিত্রে শাকিব খান একজন তারকা, তাতে সন্দেহ নেই; অনন্ত জলিলও তাই। কিন্তু আলোচিতের জমিনে প্রসারতার প্রশ্নে অনন্ত কোনো ক্ষেত্রে শাকিবের চেয়ে বিস্তৃত। বাড়তি সেই আয়তনটুকুর কারণেই বাংলা চলচ্চিত্র-জগতে অনন্ত এখন অপেক্ষাকৃত বেশি আলোচিত। আমার মতে, সেই বেশ-কম এই দুই অভিনয়শিল্পীর ভালো-মন্দের তুলনামূলক বিচারে প্রয়োগযোগ্য নয়। কারণ শিল্পীর গুণগত মানের পার্থক্যেÑহয় শাকিব খান নিম্ন সারির অভিনেতা, না হয় অনন্ত উঁচু সারির অভিনেতা। আমার বিশ্বাস, অনন্তের এই বিশেষণ বেশিরভাগেই মানবে না। তবে যাই বলি, অনন্তকে নিয়ে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো ঘটে গেছে :
ক. অনন্ত এখন অত্যন্ত আলোচিত তারকা
খ. তার সবকটি চলচ্চিত্র অনেক দর্শকই ‘খেয়েছে’
আমার আজকের আলোচনায় যা বলবার, তা এই দুই বাস্তবতাকে ধরেই বলতে চাই। আমার বিশ্বাস, এই দুটি বাস্তবতা খতিয়ে দেখা গেলে তার ‘যোগ্যতাহীন’‘সফলতা’ আমাদের চলচ্চিত্র—শিল্পকে কী দিতে পেরেছে কিংবা পারবেÑতা কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে উপরের ক ও খ ব্যাপার দুটি কেনো ঘটলো তারও একটা আঁচ পাওয়া যাবে।
২.
আপেক্ষিকতার সুযোগে কিংবা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ অস্তিত্বের কারণে জগতে কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত মীমাংসিত না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার মাঠে অনন্তকে নিয়ে ইতি ও নেতি—এ দু-আলোচনাই পাওয়া যায়। তাই অনন্তকে নিয়ে আলোচনায় সর্বজনের স্বীকৃতি পাওয়া অসম্ভব হবে। আজকের এ আলোচনায় অনন্তের পক্ষে-বিপক্ষের হিসেবে আমার চূড়ান্ত কোনো অবস্থান নেই। কিন্তু কোনো একটি পাল্লা ভারী হবে—এটুকু বলে নিচ্ছি।
প্রথমে হালকা পাল্লা নিয়েই কথা বলি। অনন্তের ইতিবাচকতা নিয়ে দু’ভাগে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রথমত, পুরো ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে; দ্বিতীয়ত, তার চলচ্চিত্রের জায়গা থেকে। ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে হয়, বাংলা সিনেমাপাড়ার যে ‘নির্জীব’ অবস্থা চলে আসছিলো, তাতে অনন্তের চলচ্চিত্র ক্ষণে-ক্ষণে খানিকটা সজীবতা এনে দিতে সক্ষম হয়েছে। হয়তো সেই সজীব ভাবটা একই সজীবতা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্র যে আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে, তার একটা লক্ষণ কিন্তু অনন্তের চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি। সঙ্গে আরো একটা ভীতি দূর করতে পেরেছেন তিনি; অনেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে অর্থ বিনিয়োগ করতে এতদিন ভয় পেতেন। কিন্তু অনন্ত ঠিক সেই কাজটি করে দেখালেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ বিবিসি বাংলায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনিয়োগ ফেরত এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত জানালেন, ‘দ্য সার্চ ছবির আমার বিনিয়োগ রিটার্ন আসছে, ...স্পিড মুভির রিটার্ন আসছে, আর মোস্ট ওয়েলকাম এটা তো না বললেই চলে। মানে বাংলাদেশে মোস্ট ওয়েলকাম দেখে নাই, মানে খুবই কমই লোক দেখা যাবে—যারা মোস্ট ওয়েলকাম দেখে নাই।’ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা তো সবারই জানা। তাই বলছিলাম—অনন্ত দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের সিনেমাপাড়ার অনেক অঞ্চল এখনো ‘বসতি’ নির্মাণের উপযোগী।
দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবল তার চলচ্চিত্রের জায়গা থেকে কিছু বলতে চেয়েছিলাম। অর্থের ব্যবহারে তিনি তার চলচ্চিত্রকে সর্বোচ্চ মান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন প্রযুক্তির ব্যবহারে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ‘বাঘা-বাঘা’ অনেকেই অবশ্য এ নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের ছেলে নাফিস বিন যাফর। অস্কার বিজয়ী এই কম্পিউটার প্রকৌশলী (চলচ্চিত্রে অ্যানিমেশন ও বিশেষ আবহ সৃষ্টির জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখেন) অনন্ত জলিলের চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বলেছেন, ‘বাংলা ছবিতে স্পেশাল ইফেক্টের ব্যবহারে তিনি (অনন্ত) ভালোই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। দেশের অন্যান্যদের চেয়ে অনন্ত অনেক এগিয়ে রয়েছেন। ...১০ বছর সবাই অনন্তের মতো কাজ করতে বাধ্য হবেন।’১ এর বাইরেও কিছু জায়গায় অনন্ত তার চলচ্চিত্রে ‘রুচিশীলতার’ ছাপ দিতে চেয়েছেন। কৈলাশ খের কিংবা শুভমিতার মতো শিল্পীদের দিয়ে গান গাইয়ে চলচ্চিত্রের একটা অংশকে ‘জাতে’ আনার চেষ্টা করেছেন। অন্যান্য কারিগরি দিকের উন্নতিতেও দেখা গেছে তার প্রাণপণ চেষ্টা।
৩.
এবার ভারী পাল্লা নিয়ে আলোচনা শুরু করবো। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র নিয়ে অনন্ত জলিলের চিন্তা-ভাবনাগুলো ধরার চেষ্টা করি। একই সঙ্গে চেষ্টা করবো এসব চিন্তা-ভাবনার গভীরতা ধরার, মানে ধরবার। আমার বিশ্বাস এর মধ্য দিয়ে এই আলোচনার মৌলিক প্রশ্নের একটা আংশিক উত্তর পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, ক ও খ-এর রহস্যের কথা বলছি। আলোচনার জন্য এক্ষেত্রে তার দু-একটি সাক্ষাৎকারে চোখ রাখতে চাই। খোজাখুঁজি করে তার যে কয়েকটি সাক্ষাৎকার পেয়েছি, তাকে বোঝার জন্য বিবিসি বাংলায় আকবর হোসেনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। তবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নিয়ে ‘প্রথম আলো’তে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারেও অনন্ত নিজেকে ভালোই চিনিয়েছেন। এখন এগুলো নিয়ে কথা বলা যাক।
বিবিসি বাংলার ওই সাক্ষাৎকারে আকবর হোসেনের প্রথম প্রশ্নটি আমার মন মতোই ছিলো। অনন্ত জলিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘মূলত আপনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে এখন চলচ্চিত্রে এসেছেন। কেনো এই সিদ্ধান্ত আপনার?’
অনন্তের জবাব, ‘কখনোই এটার ব্যাপারে আমি প্লান করিনি। আমি যখন ম্যানচেস্টারে ছিলাম, বিবিএ করতাম... তখন আমরা একসাথে যারা থাকতাম আর কি, ইন্ডিয়ান ছবি আমরা প্রচুর দেখতে যেতাম। আর ইন্ডিয়ান ছবি যখনই দেখতে যেতাম, বলিউড মুভি, তখন আমার মনে হতো, এখন যদি আমাদের ছবি এখানে দেখতে পেতাম। যখন ২০০০ সালের শেষ দিকে ঢাকা চলে আসলাম... । তো তখন এসে; আমার ভাইয়ার ছিলো গার্মেন্ট ব্যবসা। তখন আমরা মিরপুরে ছিলাম। ওইখানে ভাইয়ার সাথে কাজ শুরু করি। তো আমার একটা কোম্পানির সাথে কথা হয়... । ইন্ডিয়ান কোম্পানি রাজন ইম্পোর্ট। উনারা হচ্ছেন, উনার ছোটো ভাই হচ্ছে বলিউড মুভি ডিস্ট্রিবিউটর। বলিউড মুভি আনে। তখন ও বললো যে, বাংলাদেশে প্রচুর চাহিদা বাংলাদেশি মুভির। এই তার থেকে এই ২০০৮ থেকে আমার এই প্রচেষ্টা আজ পর্যন্ত।’
এখানে অনন্ত জলিলের তিনটি কথা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। প্রথমত, চলচ্চিত্র করার ব্যাপারে তার কোনো প্ল্যান ছিলো না (যদিও এক সময় হয়েছে)। দ্বিতীয়ত, বাংলা চলচ্চিত্র ম্যানচেস্টারে দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ। আর তৃতীয়ত, রাজন ইম্পোর্টের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা যে, বাংলাদেশে বাংলা চলচ্চিত্রের চাহিদা আছে।
এই তিনটি কথার সংমিশ্রণে একটি নতুন উপাদান তৈরি হতে পারে। আর এটির নাম হতে পারে ‘বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের সন্ধান’। এর কয়েকটি কারণ একে-একে বলার চেষ্টা করছি। প্রথম কথা হলো, এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী কিংবা সিনেমা ডিস্ট্রিবিউটর হলো অনন্তের চলচ্চিত্রে প্রবেশের যে সিদ্ধান্ত তার মেন্টর্স। আবার ওই গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের দিকে খেয়াল করুন, বাংলাদেশে বাংলা চলচ্চিত্রের চাহিদা আছে। চাহিদা থাকলে বিনিয়োগ তো করা যেতেই পারে, তাই না? আর ম্যানচেস্টারে বাংলা চলচ্চিত্র দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ আমার কাছে বিচ্ছিন্ন দেশপ্রেমই মনে হয়েছে। তা দিয়ে কেবল দেশের চলচ্চিত্রের দর্শক হওয়ার জন্য অনন্তের ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তা চলচ্চিত্র নির্মাণে মুন্সিয়ানার সনাক্তকরণ চিহ্ন নয়। আর তাছাড়া তিনি নিজেই বলেছেন, চলচ্চিত্র করার ব্যাপারে তার কোনো পরিকল্পনাই ছিলো না। এজন্য পরিকল্পনা না থাকার পরও একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কেবল চাহিদার কথা শুনে চলচ্চিত্রে আসার মানে কী দাঁড়ায়!
৪.
এই আলোচনার ভিত্তিতে চলচ্চিত্রের প্রতি অনন্তের আত্মিক টানের যৎসামান্য হলেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। এবং বাকি আলোচনায় সেই যৎসামান্য ধারণা বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
উপরে একটা কথা উল্লেখ করেছি, চাহিদা থাকলে বিনিয়োগ তো করা যেতেই পারে! এর বিরুদ্ধে একটা প্রশ্ন হতে পারে; পণ্যগুণ না থাকলে কেবল বিনিয়োগ করে কি লাভ হয়? মনে রাখা দরকার, এই প্রশ্নের উত্তর উল্লিখিত মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের একাংশ। যাতে কিনা সেই ‘যোগ্যতাহীন’‘সফলতার’ অনেকটা কারণ লুকিয়ে আছে।
এ লেখার সময় (নভেম্বর ২০১৩) পর্যন্ত অনন্ত জলিলের পাঁচটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। খোঁজ : দ্য সার্চ, দ্য স্পিড, হৃদয় ভাঙা ঢেউ, মোস্ট ওয়েলকাম ও সর্বশেষ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই পাঁচটি চলচ্চিত্র দেখেছেন এমন অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, ভালোলাগার তেমন কিছুই তারা পাননি। সর্বশেষ নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথাই ধরি; এটি অনন্ত জলিলের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। প্রচুর দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখেছেন। কিন্তু কারো মুখে চলচ্চিত্রটির শৈল্পিক মান নিয়ে আনন্দিত কিংবা আশ্বস্ত হওয়ার মতো প্রশংসা শুনিনি। তাহলে এতো দর্শক কেনো দেখলো? এর কারণ, প্রয়োজন থাক বা না-ই থাক, অনন্তের কিংবা তার চলচ্চিত্রের একটা চাহিদা তৈরি করা গেছে। যেটা বর্তমান ভোগবাদী সমাজ করে থাকে। এ চাহিদা তৈরির ‘কৃতিত্ব’ কার-কার ঝুলিতে যায় সেটা দেখা দরকার।
প্রথমত, অনন্তের নিজের একটা উদ্যোগ ছিলো। চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগে ও প্রেক্ষাগৃহে চলার সময় তিনি ভালোই প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার ‘ভুল’ সমালোচনা। বলা যায়, এ দুটি মাধ্যমেই অনন্ত জলিল একপ্রকার নেতিবাচকভাবেই উপস্থাপিত হয়েছেন। এই নেতিবাচক উপস্থাপনের ভুল-ঠিক নিয়ে আমি বলছি না। কিন্তু এই নেতিবাচকতার কারণ দর্শাতে গিয়ে তার ভুল উচ্চারণের মতো কিছু ভুল-ত্রুটি বেশি প্রাধান্য পায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখা যায়, গানা আর ঘানা’র বিতর্কসহ আরো কতো কী? আর গণমাধ্যমে চোখে পড়ে গানা আর ঘানা নিয়ে অনন্তের প্রতিক্রিয়া। এতে করে যেটা হয়, অনন্তের মূল যে বিষয় চলচ্চিত্র ও তার নির্মাণের বাস্তবিক দুর্বলতাগুলো আড়ালে থেকে যায়।
কিন্তু সঙ্কট কি শুধু দুর্বল সমালোচনা, দুর্বল চলচ্চিত্র কিংবা অনন্ত জলিল? আর যদি তাও হয়, তাহলে এ সঙ্কটগুলো কি মৌলিক নাকি রূপান্তরিত—সে প্রশ্নও এসে যায়। উত্তরে বলতে হয়, অনেকটা রূপান্তরিত।
ধরে নিলাম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার দর্শক সংখ্যা ছিলো ৪৯৫ জন। আর তারেক মাসুদের রানওয়ের দর্শক সংখ্যা ৫ জন। বলা যায়, এই দুই শ্রেণির দর্শকের ‘চলচ্চিত্র-রুচি’ আলাদা। এখন যদি ওই ৪৯৫ জনকে রানওয়ের দর্শক বানাতে চাই, তাহলে তাদের মধ্যে রানওয়ে দেখানোর মতো রুচিবোধ জাগাতে হবে। আবার রানওয়ের পাঁচ দর্শকের রুচিবোধে পরিবর্তন এনে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ধরে নিলাম, বর্তমানে অনন্ত ও তারেকের দর্শকের অনুপাত ৪৯৫ : ৫। কিন্তু এও তো সত্যি যে, অনুপাতের এই তারতম্য একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যের অভাব ও ‘কু-খাদ্যের’ আবর্তনে এ রুচিবোধের জয়জয়কার হয়েছে।
‘ধরে নিলাম’ বলে আলোচনা করলাম এ কারণে যে, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো জরিপ আমার জানা নেই। তবে আমি নিজে দেখেছি, রানওয়ে নিয়ে তারেক মাসুদকে ফেরিওয়ালার মতো ঘুরে বেড়াতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের বাইরে শো শুরুর আগে টিকেট বিক্রির বুথের পাশে দাঁড়িয়ে দর্শক ডাকতে। আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নিয়ে অনন্ত জলিলের বেলায় সংবাদপত্রে পড়েছি, ‘বাংলা সিনেমার দর্শকদের হলমুখী করার প্রয়াস নিয়ে বুধবার পাবনার রূপকথা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা দেখেছেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নায়ক অনন্ত জলিল ও নায়িকা বর্ষা। ... দুপুর সাড়ে ১২টায় একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে নায়ক অনন্ত জলিল ও নায়িকা বর্ষা পাবনা স্টেডিয়ামে পৌঁছান।’২
বলছিলাম, সঙ্কটগুলো রূপান্তরিত। সদ্য সমাপ্ত আলোচনা দিয়ে আমি মূলত সেই রূপান্তরের একটা বিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছি। ১৯৮০ সালের আগে, অর্থাৎ রাষ্ট্র চলচ্চিত্র সংসদের লাগাম ধরার আগে রুচিবোধের ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও রানওয়ের মতো চলচ্চিত্রের দর্শকের অনুপাত উল্টোই ছিলো কিংবা থাকলেও ব্যবধান এতো ছিলো না।
৫.
আলোচনার এই অংশে দেখার চেষ্টা করবো, বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা কী? এখানে আমার মতে প্রধান দুটি চাওয়া হলো—প্রথমত, ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং দ্বিতীয়ত, দর্শককে হলমুখী করা। এখন এই প্রত্যাশার সঙ্গে অনন্তের কর্মের কার্যকারিতা বিচার করলে বোঝা যাবে, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য কী করেছেন এবং তার কী করার সম্ভাবনা আছে।
চলচ্চিত্র নিয়ে এ দুটো প্রত্যাশা কিন্তু বিচ্ছিন্ন নয়। চাওয়া পূরণের জন্য কার্যপদ্ধতির সুবিধার্থেই কেবল দুটিকে আলাদা করে বিবেচনা করা যেতে পারে। কাজের বেলায় কেবল একটিকে ধরে নিয়ে বসে থাকলে চলে না। আবার একজনের পক্ষে দুটোকে ধরে এগিয়ে যাওয়াও দুরূহ। তাই এখানে ভাগ-ভাগ করে দায়িত্ব পালন করাটাই মঙ্গলজনক। দুটি পক্ষের শাখা-প্রশাখাসহ সব দায়িত্ব বাধ্যতামূলক হলেও ভালো চলচ্চিত্রনির্মাণের কাজটিই গুরুত্বের দিক থেকে আগে হওয়া উচিত। কারণ, দ্বিতীয় প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা (রাষ্ট্র, অর্থদাতা) এটির জোরেই নিজেদের দায়িত্বশীলতা ধরে রাখার শক্তি পান। আর দুটোর সমান্তরাল গতিতে আসে রুচির পরিবর্তন।
কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে একটা সময়ে গিয়ে ওই দুটি প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মান অবনতির কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, এর প্রতি সংশ্লিষ্টদের অনীহার পাশাপাশি রাষ্ট্রব্যবস্থার চোখরাঙানি অন্যতম। পক্ষের হিসেবে এই বিচ্ছেদকারীদের অধিকাংশের অবস্থান স্বভাবতই দ্বিতীয় প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দলে। তিন দশকেরও আগে চলচ্চিত্র সংসদ আইন করে শুরু হওয়া এই বিচ্ছেদ আজও এক হয়নি। প্রথম পক্ষের (নির্মাতা ও কলাকুশলী) মধ্যে আজও ‘অবস্থানগত বিভাজন’। এদের কেউ-কেউ আছেন মূলধারার নামে; আর কেউ-কেউ আছেন বিকল্পধারার নামে। কিন্তু দর্শকের কাছে পৌঁছাতে এদের সবারই আছে সীমাবদ্ধতা। আর এই সীমাবদ্ধতার জন্ম হয়েছে দুই পক্ষের বিচ্ছিন্নতা থেকেই।
আজ বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আবার একত্রিত হওয়ার দায় প্রথম পক্ষের মধ্যে যতোটা প্রকট, দ্বিতীয় পক্ষের মধ্যে ততোটাই প্রচ্ছন্ন। কারণ, চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রথম পক্ষের সম্পর্ক আত্মিক। আর দ্বিতীয় পক্ষের সম্পর্ক দায়িত্বের, চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করার ইচ্ছের।
এখন প্রশ্ন হলো, অনন্তের সঙ্গে এতক্ষণের আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? আছে। দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে ওঠার একটা বড়ো ‘যোগ্যতা’ অনন্তের আছে। এই যোগ্যতা নিয়ে তিনি আজ প্রথম পক্ষের দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার সবকটি চলচ্চিত্রের একই সঙ্গে প্রযোজক ও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর স্বাভাবিকভাবেই এ দুটো জায়গায় নিজের অবস্থান থাকলে যে-কেউ একটি চলচ্চিত্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক ছাড় পেয়ে থাকেন। নিজেই এ ‘পদগুলো’ দখল করার জন্য যে তিনি প্রশ্নের সম্মুখীন হননি, তা নয়। এসব প্রশ্নের উত্তরও তিনি দিয়েছেন। এবার দেখা যাক কী সেই উত্তর :
বিবিসি বাংলার সেই সাক্ষাৎকারে অনন্তের কথাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একটি প্রশ্ন ছিলো এ রকম, ‘আপনার ছবিতে যেটি দেখা যায়, আপনি নিজেই প্রযোজক, অর্থাৎ আপনি নিজেই টাকা বিনিয়োগ করছেন এবং আপনি নিজেই নায়ক হচ্ছেন। এটা কেনো? আপনি তো অন্য কাউকে নায়ক হিসেবে বাছাই করতে পারতেন।’ অনন্তের উত্তর, ‘এটা আসলে খুব সুন্দর প্রশ্ন আপনার। টেকনিকাল প্রশ্ন। আপনারা এখন দেখে আসবেন, সারা ওয়ার্ল্ডে, আপনি টম ক্রুজের কথা ধরেন। উনি নিজেই ইনভেস্ট করবেন, নিজেই হিরো থাকবেন। কারণ, এটায় একটা ফ্রিডম থাকে কাজের। আপনি সালমান খানের কথা ধরেন। সালমান খানের অনেক ছবিতে তিনি নিজেই ইনভেস্ট করবেন, নিজেই হিরো থাকবেন। আপনি শাহরুখ খান ধরেন, রজনীকান্ত সাহেবকে ধরেন। বড়ো বড়ো যারা আছেন, তাদেরকে কিন্তু আপনারা এভাবেই দেখবেন। কারণ, এটাতে কাজের একটা ফ্রিডম থাকে। এ হচ্ছে এক নাম্বার ব্যাপার। দুই নাম্বার ব্যাপার হচ্ছে, আমি বাংলাদেশে কারো ছবিতে ইনভেস্ট করবো, এই ধরনের হিরো আমাদের দেশে এখনো হয়নি।’
এই হলো নিজে নায়ক থাকার পিছনে অনন্তের যুক্তি। তার মানে দাঁড়ালো, অনন্তকে যদি অন্য সব প্রযোজক মানেন, তাহলে এদেশে অন্য কারো নায়ক হওয়ার স্বপ্ন পুরোপুরি বৃথা। তার মানে যার অর্থ বিনিয়োগ করার ক্ষমতা আছে, তিনিই কেবল নায়ক হওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আর নিজে বিনিয়োগ করলে স্বাধীনতার বিষয়টি হয়তো থাকে। কিন্তু এর বিপরীতে কি সব জায়গায় তাহলে পরাধীনতা? অনন্তকে একটি প্রশ্ন করার ইচ্ছে হয়, আপনার টাকা না থাকলে আপনার স্বাধীনতার কী হতো? তিনি আরেকটি কথা বলেছেন, অনেককে আঘাত করার মতো। তার মতে, বাংলাদেশে নাকি বিনিয়োগ করার মতো নায়কই নেই। নিজের সঙ্গে তুলনা করার মতোও নাকি কোনো নায়ক নেই বাংলাদেশে। আর এর মাধ্যমে কিন্তু তিনি নিজেকে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের সেরা কিংবা একমাত্র নায়ক হিসেবেই ঘোষণা করলেন।
এর পরের প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিজে কাহিনী ও চিত্রনাট্য লেখার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাংলাদেশের চিত্রনাট্য নিয়ে অনন্ত বলেন, ‘নরমালি আমাদের দেশে যারা ছবি লেখেন, তাদের ছবিগুলো, একটা ধাঁচে পরিণত হয়েছে। সেটা হচ্ছে, ড্রামা মুভি লেখেন তারা। বড়লোকের মেয়ে, গরিবের ছেলে; অথবা গরিবের মেয়ে, বড়লোকের ছেলে। এতে প্রথমে কিছুটা ফ্যামিলি ড্রামা হবে, কান্নাকাটি হবে, ঝগড়াঝাঁটি হবে, পরে যেয়ে মিলমিশ হবে। এই ছবিগুলো যখন আপনি স্ক্রিনে দেখবেন, ১০-১৫ মিনিট ছবি দেখার পরে ইন্ডিং কী হবে, সেটা আপনি বলে দিতে পারবেন। এ কারণে, আমি যেটা করি, আমি থিম দিবো, আপনি লিখবেন।’
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কাহিনী সম্পর্কে এ মন্তব্য যে খাটে না, তা আমি বলতে চাই না। কিন্তু তা খণ্ডিতভাবেই বলা সমীচীন, সামগ্রিক রায় হিসেবে নয়। যাই হোক, নিজের যুক্তি দিয়ে অনন্ত নিজেই কাজ করতে পারেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, যে যোগ্যতাহীনতার প্রশ্ন তিনি তুলেছেন, সেই যোগ্যতায় তিনি কতোখানি পরিপূর্ণ?
৬.
চলচ্চিত্রের প্রতি অনন্তের টান নিয়ে লেখার শুরুর দিকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলাম। এবার এর সঙ্গে একটা সন্দেহ যোগ করতে চাই। সরাসরি অভিযোগ তোলাটা ঠিক হবে না, কারণ অনন্ত পাঠ এখনো বাংলা চলচ্চিত্রে শেষ হয়নি। সন্দেহটা হলো, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অনন্ত এ জগতের ভিতরে ও বাইরে তারকা হওয়ার চেষ্টা করছেন না তো? সন্দেহের সূত্রপাততো আর এমনি এমনি হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রে নিজেকে কোন্ জায়গায় দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বিবিসির ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আমি যে জায়গায় দেখতে চাই, আমি তো অলরেডি সেই জায়গাই এখন; এটা একটা ব্যাপার। ...আজকে ধরেন বোম্বে থেকে শাহরুখ খান, সালমান খান মালায়েশিয়াতে যাবে, ইংল্যান্ডে যাবে; যেইভাবে তাদেরকে দেখার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তাদেরকে রিসিভ করার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে, আমি ঠিক আমাকে এই জায়গায় দেখতে চাই।’
এই হলো তার ইচ্ছে। যাই হোক, বলছিলাম যে, তিনি হয়তো চলচ্চিত্র জগতের বাইরেও নায়ক হতে চান। এই সন্দেহ জন্ম নিয়েছে তার সর্বশেষ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে। কারণ, সেখানে অনন্ত নিজেকে যে ‘সাধু’ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তা চোখে পড়ার মতো। তার নিজের ভাষায়, ‘‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ছবিটিতে আমি আমাকে তুলে ধরেছি। আমি যেমন সৎ ও সফল একজন ব্যবসায়ী, পাশাপাশি সুপার হিরো ছবিতেও সেটাই দেখাতে চেয়েছি। সব কিছুর পরে, মানুষ যে মানুষের জন্যই ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ছবিটি দিয়ে আমি তা দেখানোর চেষ্টা করেছি।’৩
আমার সন্দেহ যদি ঠিক হয়, তাহলে চলচ্চিত্রের প্রতি অনন্তের আত্মিক টানের অভাবটাই প্রতিফলিত হয়। আরেকটি বিষয়ও এ উপলক্ষে বলা দরকার, সেটিও সেই টান বিষয়ক—এটি দিয়েই এ অংশের আলোচনা শেষ করবো। কিছুদিন আগে কথা ওঠে, অনন্ত চলচ্চিত্র ছেড়ে দিচ্ছেন। এ নিয়ে তার মন্তব্য, ‘আমার মূল জায়গা ব্যবসা। চলচ্চিত্র আমাকে টানে। এখানে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা নিয়ে শুরু করেছি। তবে চলচ্চিত্রে সংশ্লিষ্টতার কারণে ব্যবসার কাজে সময় দিতে অসুবিধা হচ্ছে। একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলে যা হয় আর কি! তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু রাজনীতি আছে, যেটা প্রত্যাশা করি না। আমি তাই এ ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে চাই। এমনও হতে পারে, ব্যবসার খাতিরে সিনেমার সঙ্গে দূরত্বও বাড়তে পারে। সিনেমা ছেড়েও দিতে পারি!’৪
৭.
তাহলে অনন্ত চলচ্চিত্র ছেড়ে দেবেন—এটাই কি যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত? তিনি অবশ্যই চলচ্চিত্রে থাকতে পারেন। কিন্তু সেটা যে নায়ক হয়েই থাকতে হবে, এমন নয়। ইতোমধ্যে তার সম্পর্কে অনেকেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন; বেশিরভাগের চাওয়া, তিনি চলচ্চিত্রের প্রযোজক হন। আমার বিচারেও তাই। এতে করে যেটি হবে, প্রথমে যে দুটি পক্ষের কথা বলছিলাম, সেখানকার প্রথম পক্ষের অনেক উপকার হবে। আর অনন্তের মতো যদি আরো অনেকে এগিয়ে আসেন, তাহলে দুই পক্ষের সম্পর্ক পাকাপোক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে। কারণ, এই সমন্বয়ের অভাবে অনেক নির্মাতাই এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছেন। কেউ একটা ভালো কাহিনী নিয়ে বসে আছেন, কেউ বসে আছেন ক্যামেরা নিয়ে, কেউবা দুটো গান লিখে। কিন্তু এগুলোর সমন্বয়ই শেষ কথা নয়। কারণ, আমাদের এখানে ভালো চলচ্চিত্রই কেবল একমাত্র সমস্যা নয়, প্রেক্ষাগৃহের ‘দুর্গন্ধ’ও একটা ফ্যাক্ট; সঙ্গে আরো সীমাবদ্ধতা তো আছেই।
আর যদি অনন্ত চলচ্চিত্র না ছেড়ে অপরিবর্তিতভাবে হাঁটতে থাকেন, তা হলে কী ঘটবে? অনন্ত ছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের অন্য কারো লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু থাকবে? একটা কাজ হতে পারে, যারা প্রযোজক হতে ইচ্ছুক, তাদের মনে একটা সাহস সঞ্চার হতে পারে। আমার কাছে এ পর্যন্তই, অনন্তের অর্জন এতোটুকুই বলার মতো।
লেখক : আসাদ লাবলু, কালের কণ্ঠ-তে শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।
asadmcru@gmail.com
তথ্যসূত্র
১. ‘স্পেশাল ইফেক্টে অনন্ত জলিল ভালোই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন : যাফর’; কালের কণ্ঠ’র বুধবারের বিশেষ ক্রোড়পত্র ‘টেকবিশ্ব’, ২৭ নভেম্বর ২০১৩।
২. ‘দর্শকদের হলমুখী করতে পাবনার ‘রূপকথায়’ অনন্ত বর্ষা’; দৈনিক মানবজমিন, ২৩ আগস্ট ২০১৩।
৩. ‘বর্ষাকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অনন্ত’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি পড়ুন—http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2013-07-11/news/367048
৪. ‘অনন্ত জলিলের নতুন সিদ্ধান্ত এবং...’; সমকাল-এর বৃহস্পতিবারের বিশেষ ক্রোড়পত্র ‘নন্দন’, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩।
বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৪ সালের জানুয়ারির ম্যাজিক লণ্ঠনের ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন