সাইফুন নাহার রত্না ও তামান্না মৌসী
প্রকাশিত ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
হালের চিত্রাঙ্গদা : লৈঙ্গিক রাজনীতির ঘেরাটোপে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট
সাইফুন নাহার রত্না ও তামান্না মৌসী

ইংরেজিতে লিঙ্গ শব্দের দুটো প্রতিশব্দ ‘সেক্স’ ও ‘জেন্ডার’। শব্দ দুটোর মধ্যে পার্থক্য বিস্তর।‘সেক্স’ জৈব,মানে ‘উপর’ থেকে নিয়ে আসা; আর ‘জেন্ডার’ হলো মনস্তাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক নির্মাণ। ফলে ‘পুরুষ’ ও ‘নারী’ বললে বোঝায় জৈব অবস্থান।অন্যদিকে,পুরুষালি/মেয়েলি বা পুরুষসুলভ/নারীসুলভ বলতে বোঝায় সাংস্কৃতিক লিঙ্গ অর্থাৎ জেন্ডার।আর এ জেন্ডার বা সাংস্কৃতিক লিঙ্গ গড়ে ওঠে জন্মের পর মানুষের বেড়ে ওঠার বিভিন্ন পর্যায়ে।তবে দুটো কিন্তু মোটেও এক জিনিস নয়,যে কারণে পুরুষ হতে পারে মেয়েলি আর নারী হতে পারে পুরুষালি।মনি,বকুল,কাজল,শাওন,সেতু-এ নামগুলো যে কারো সামনে উচ্চারণ করামাত্র প্রথম যে প্রতিক্রিয়া আপনি পাবেন,তা হলো যার কথা বলছি সে কি ছেলে নাকি মেয়ে-তার মানে সেই সাংস্কৃতিক লিঙ্গ। তবে কি সাংস্কৃতিক এই পরিচয়ই মানুষের সবচেয়ে বড়ো পরিচয়!মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমাদের নাম,পরিচয় আছে।কারো সঙ্গে কথা বলার সময় সেটা জানিয়েই কথা শুরু করতে হয়।আর তখনই আসে নারীত্ব বা পুরুষত্বের প্রশ্ন।লিঙ্গভেদ ছাড়া,শুধুই মানুষ হিসেবে কাউকে মূল্যায়ন করা যায় না? তাহলে শারীরিকভাবে পুরুষ,কিন্তু মানসিকভাবে নারী অথবা এর বিপরীত বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের সমাজ কিভাবে গ্রহণ করবে? এমন প্রশ্নগুলোর উত্তরের খোঁজ মেলে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত চিত্রাঙ্গদা : দ্য ক্রাউনিং উইশ-এ।এতে সমাজের নারীত্ব বা পুরুষত্ববাচক সঙ্কটগুলো অকপটে তুলে ধরেছেন তিনি। নারী বা পুরুষের ঊর্ধ্বে আলাদা এক পরিচয়ের,ইচ্ছাপূরণের গল্প এটি।
পুরাণ-নৃত্যনাট্য-চলচ্চিত্র :চিত্রাঙ্গদার ঋতুবদল
মহাভারতে পর্ব আছে মোট ১৮টি। আদিপর্বের অর্জুনবনবাসপর্বাধ্যায়ে মাত্র আধ পাতা বরাদ্দ চিত্রাঙ্গদার জন্য;যার বেশিরভাগই অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদার পিতা চিত্রবাহনের মধ্যকার কথোপকথন। চিত্রাঙ্গদার ভূমিকা এখানে নামমাত্র।১ রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ মহাভারতের কাহিনী থেকে উৎসাহিত। তবে এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের মানসিক অবস্থা।এখানে চিত্রাঙ্গদা একজন নারী,যাকে তার পিতার ইচ্ছায় পুরুষরূপে বেড়ে উঠতে হয়। তার আকৃতি ও আচরণ উভয়ই একজন পুরুষের প্রতিভূ।কিন্তু একজন নারীর যে সুপ্ত বাসনা,তা ঠিকই আত্মপ্রকাশ ঘটায় তৃতীয় পাণ্ডব-অর্জুনকে দেখার পর।
নারী হিসেবে চিত্রাঙ্গদা খুব স্বাভাবিকভাবেই অর্জুনের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তার সাহচর্য কামনা করেন।কিন্তু পুরুষালি গুণসম্পন্ন চিত্রাঙ্গদাকে অর্জুনের মনে ধরে না!নারীত্বের পূর্ণ স্বাদ পেতে চিত্রাঙ্গদা তাই পরিপূর্ণ নারী হতে চান;দেবতাদের কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে হয়ে ওঠেন অসামান্য সুন্দরী।এরপর স্বভাবতই অর্জুন তার প্রতি অনুরক্ত হন।নারীত্বের পরিপূর্ণ স্বাদ পেলেও চিত্রাঙ্গদা অনুভব করেন,তার প্রতি অর্জুনের যে প্রেমাসক্তি,তা কেবল বাহ্যিক রূপের কারণেই!ফলে চিত্রাঙ্গদার অন্তরে দেখা দেয় দ্বৈতসত্তার দ্বন্দ্ব। একদিকে তার নারীত্বের প্রাপ্তি,অন্যদিকে তার প্রকৃত রূপ।এরই মধ্যে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার প্রকৃত রূপের কথা জানতে পারেন।এবং একজন পুরুষের মনে একজন সবল নারীকে দেখার উগ্র বাসনায় অর্জুন প্রকাশ করেন তার আগ্রহ-
আগ্রহ মোর অধীর অতি
কোথা সে রমণী বীর্যবতী।
কোষবিমুক্ত কৃপাণলতা
দারুণ সে,সুন্দর সে
উদ্যত বজ্রের রুদ্ররসে,
নহে সে ভোগীর লোচনলোভা,
ক্ষত্রিয় বাহুর ভীষণ শোভা।২
এমতাবস্থায় চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেন এভাবে-
নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।
পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে
সে নহি নহি,
হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে
সে নহি নহি।
যদি পার্শ্বে রাখো মোরে
সংকটে সম্পদে,
সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে
সহায় হতে,
পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।৩
পরিশেষে এ উপলব্ধি হয় যে,বাহ্যিক রূপের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান মানুষের চরিত্রশক্তি এবং এতেই প্রকৃতপক্ষে আত্মার স্থায়ী পরিচয়।
এবার আসা যাক ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত চলচ্চিত্র চিত্রাঙ্গদায়। সেখানে আমরা দেখি রুদ্র নামে নারীসুলভ মনের অধিকারী এক যুবকের গল্প,যে নাচ শিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পিতার ইচ্ছার কারণে তাকে পড়তে হয় ইঞ্জিনিয়ারিং।কিন্তু যুবক রুদ্রের মনের যে নারীসুলভ বাসনা তা কখনোই চাপা পড়ে না।তাই আমরা দেখি তিনি ঠিকই কোরিওগ্রাফার হিসেবে নিজের নাটকের দল গড়ে তোলেন।মঞ্চস্থ করতে চান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’,যেটিকে হয়তো তিনি অজান্তেই নিজের জীবনের আখ্যান বলেই মনে করেন।একজন মানুষের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ!তার পরিচয় হয়পারকারশনিস্ট পার্থ-এর সঙ্গে।যে কিনা তারই মতো ভিন্ন ধরনের সেক্সয়াল ওরিয়েন্টেশনে বেড়ে ওঠা। তাদের মধ্যকার পরিচয় রূপান্তরিত হয় প্রেমে,আমাদের চেনা গণ্ডির বাইরে এ এক অভূতপূর্ব মিলনগাঁথা!আজন্ম যে বাসনা চাপা পড়েছিলো রুদ্রের মনে,তা এবার ডালপালা মেলে সদর্পে তার অস্তিত্ব ঘোষণা করে।ব্যাকুল রুদ্র পেয়ে যান তার কাঙ্ক্ষিত সাহচর্য।কিন্তু শারীরিকভাবে একজন পুরুষ যতোই চেষ্টা করুক,পূর্ণ নারীত্বের আস্বাদ পাওয়া তার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।পার্থ সন্তান পেতে চান, কিন্তু সমলিঙ্গের দম্পতিদের সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো বিধান নেই।অথচ স্বাভাবিক উপায়ে মা হওয়া রুদ্রের পক্ষে সম্ভবও নয়। সহসাই এ সত্য উপলব্ধি করেন রুদ্র এবং সিদ্ধান্ত নেন,অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে তিনি নারীতে রূপান্তর হবেন!আর সেটার অনেকখানিই প্রেমিক পার্থকে খুশি করতে।তাইতো প্রথম দিন চিকিৎসকের কাছে গিয়েই তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,‘আপনার কাছে যেটা চাচ্ছি সেটা হলো,আমাকে নারী হিসেবে সার্টিফাই করা।আমি শাড়িও পরবো না,সালোয়ার কামিজও পরবো না।’
কিন্তু এ সমাজ কেনো এই অদ্ভুত পরিবর্তন মেনে নেবে? নেয়ও না। কারো কাছ থেকেই কোনো সমর্থন পান না রুদ্র,এমনকি তার স্নেহময়ী মা-ও মুখ ফিরিয়ে নেন। যে বাবা এতোদিন তাকে ডাক্তার দেখানো,কাউন্সিলিং করার কথা বলতেন,তিনিও লিঙ্গ বদলানোর সিদ্ধান্ত হতবাক!কারণ,তার ইচ্ছা ছিলো-ছেলে ছেলের মতো বড়ো হবে;প্রতিষ্ঠা করবে তার পৌরুষ।এতে আমরা হয়তো খুব বেশি আশ্চর্য হই না।তবে লক্ষণীয় যেটা,রুদ্রের এই পরিবর্তন কিন্তু সেই পার্থও মেনে নিতে পারেন না!পার্থর কাছে রুদ্রের নারীসুলভ পুরুষালি রূপটাই বেশি আকাঙ্ক্ষিত!পার্থ কোনো ‘আর্টিফিশিয়াল’ নারীকে চান না।তার মতে,যদি কোনো নারীকেই পেতে হয়,তাহলে একজন স্বাভাবিক নারীকেই তো পেতে পারি,রুদ্রের মতো আর্টিফিশিয়াল নারী কেনো?
ফলে ফাটল দেখা দেয় রুদ্র ও পার্থের সম্পর্কে।যদিও রুদ্র তার নারীতে রূপান্তরিত হওয়ার ইচ্ছায় অটল থাকেন।হেরোইন আসক্ত পার্থের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটাতে চান তিনি!কিন্তু একজন পুরুষ থেকে সম্পূর্ণ নারীতে রূপান্তর অতি জটিল ও সময়সাধ্য ব্যাপার।দরকার হয় বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের।একটি অস্ত্রোপচারের পরই রুদ্রকে সহ্য করতে কষ্ট হয়পার্থের।তার সৃজনশীলতা,শক্তি,উৎসাহ সবই কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু রুদ্রের কাছে নাচ কোনো লৈঙ্গিক বিষয় নয়,এতে শরীরের চেয়ে মনটাই জড়িত থাকে বেশি।একপর্যায়ে রুদ্রের কোমরে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।তখন রুদ্র নিজেও সংশয়ে পড়েন তার লিঙ্গ পরিবর্তন নিয়ে।ধীরে ধীরে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।তারপরও রুদ্র অস্ত্রোপচারের ধাপগুলো শেষ করতে বদ্ধপরিকর।এমনকি পুরো প্রক্রিয়া শেষে তিনি নিজে সেটা মেনে নিতে পারবেন কি না,সেটা নিয়ে সন্দিহান থাকার পরও।অবশ্য শেষপর্যন্ত রুদ্র,রুদ্রই থেকে যান।
মূল যে ব্যাপারটি নৃত্যনাট্য ও চলচ্চিত্রকে আলাদা করেছে তা হলো আকাঙ্ক্ষার অস্বাভাবিকত্বে।রবীন্দ্রনাথ শুধু বলেছেন,সেটার ব্যাখ্যা করেননি;কিন্তু ঋতুপর্ণ তা করে দেখালেন।পুরুষ রূপে বেড়ে উঠতে বাধ্য হওয়া ‘নারী’ চিত্রাঙ্গদা স্বাভাবিকভাবেই নারীত্বের স্বাদ চান।সুপুরুষ অর্জুন পুরুষালি চিত্রাঙ্গদার চেয়ে অসামান্য সুন্দরী হয়ে উঠা পরিপূর্ণ নারী চিত্রাঙ্গদার প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন এবং পরবর্তী সময়ে সত্যিকারের রূপধারী চিত্রাঙ্গদার প্রতিও তার মোহ অটুট থাকে।
চলচ্চিত্র চিত্রাঙ্গদায় আমরা দেখি,একজন পুরুষের নারী রূপে প্রকাশের বাসনা,যার সঙ্গে আমাদের চিরচেনা সমাজ অভ্যস্ত নয়।স্বভাবতই পুরো ব্যাপারটি বেজায় অস্বাভাবিক ঠেকে সবার কাছে।এমনকি অস্বাভাবিক বোধের অধিকারী পার্থর কাছেও!তাই হয়তো রুদ্রের প্রতি তার মোহভঙ্গ ঘটে। রুদ্রের দৈহিক পরিবর্তন যে তাকে সুখী করার জন্য,সেটাও তিনি ভুলে যান। রুদ্র বলছেন,এটা একটা ইচ্ছা পূরণের গল্প।তাহলে প্রশ্ন,এই ইচ্ছা কার? রুদ্রের নাকি তার ছেলেবন্ধু পার্থর? আবারও জয়ী হয় পুরুষতন্ত্র। ‘পুরুষ’ পার্থ তার ক্ষমতা দিয়ে বুঝিয়ে দেন,রুদ্রের নারীসুলভ মানসিকতাও থাকবে তারই নিয়ন্ত্রণে।চাইলেই তিনি নিজের মতো সেটা গড়ে নিতে পারেন,অথবা ছুড়ে দিতে পারেন বাতিলের খাতায়।তাইতো মহাভারতের অর্জুনের মতো তিনিও ‘অভিশাপ’ কাটিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরে যান কস্তুরিকে নিয়ে।আর সঙ্গে ঋতুপর্ণও আটকা পড়ে যান সেই পুরুষতন্ত্রের ধন্দে।
ঋতুসংহার
দুই মহান বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ও সত্যজিতের প্রভাবে গড়ে উঠেছে ঋতুপর্ণ ঘোষের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক সত্তা।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বিজ্ঞাপন নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রযাত্রা। লক্ষণীয় হলো,ঋতুর সবগুলো গল্প-মানে আমরা যেটাকে স্টোরি টেলিং বলি,সেগুলোর কলেবর ছোটো,কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।দর্শকের কাছে একটি স্বচ্ছ বার্তা পৌঁছে দেয়।আর উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় অনুভূতির সংবেদনশীলতা ও বোঝাপড়া।
২০০০ সালে ঋতু বাড়িওয়ালিতে প্রথমবারের মতো উভলৈঙ্গিক বৈশিষ্ট্য দর্শকের সামনে আনেন। এরপর যেখানে এ নিয়ে হাজির হলেন ঋতু সেটা পরিচালক হিসেবে নয়,কৌশিক গাঙ্গুলির আরেকটি প্রেমের গল্প-এ অভিনয়শিল্পী হয়ে। ২০১০-এ নির্মিত এ চলচ্চিত্র আবারো মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকদের সংস্কৃতিকে ধাক্কা দেয়।সমকামিতা মানেই যে যৌন বিষয় বা শারীরিক সম্পর্ক-এমনটা না ভেবে,এটাকে দুজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যকার ভালোবাসার সম্পর্ক,যা লিঙ্গগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে-এমনটাই মনে করতেন ঋতু। তাই হয়তো ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,‘আমি নারী হতে চাই না।আমার এ জেন্ডার ফ্লুয়িডিটির মধ্যে একধরনের অনন্যতা খুঁজে পাই।’
তবে চলচ্চিত্রকে ছাপিয়ে ঋতুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনার শুরম্ন ২০০৮-এ।এ সময়ই পোশাক-সচেতন হিসেবে সুপরিচিত ঋতু নাটকীয়ভাবে নতুন ‘লুক’ নেন। ন্যাড়ামাথা,কাজলআঁকা চোখ,সঙ্গে নারীসুলভ পোশাক-পরিচ্ছদ-যা অন্য কোনো বাঙালির মধ্যে কখনো দেখা যায়নি!আসলে বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরাটা ভারতিয় সমাজে প্যারোডি হিসেবেই মানা হতো।কিন্তু ঋতু তার এ সাজসজ্জা বা নিজের ‘উদ্ভট টাইপ’ লৈঙ্গিক পরিচয়-কোনোটাকেই ‘জোক’ হিসেবে নেননি কখনো।এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিলো সবখানে।গর্বিতভাবে তার নিজের উভলৈঙ্গিক পরিচয় উপস্থাপনকে মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। শেষপর্যন্ত অবশ্য অনিচ্ছুক অনেকেরই প্রশংসা কুড়ায় তা।
মূলত মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ঋতু জনসম্মুখে নারীবেশে আসতে শুরু করেন। ‘অনেকেই মনে করেন এ ধরনের মানুষেরা পরিবারে অবাঞ্ছিত,বাবা-মা তাদের ভালোবাসে না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমার বাবা-মা ই আমার পৃথিবী’৪-এমনটাই এক সাক্ষাৎকারে জানান ঋতুপর্ণ। তবে তিনি এটাও খুব করে চাইতেন যে,তার লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে তার বাবা-মা যেনো সমাজে ছোটো না হন।এক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় দ্বারা তিনি প্রভাবিত হন-তা হলো সিঙ্গুরে টাটাদের ‘ন্যানো কার ফ্যাক্টরি’ নির্মাণ বিরোধী আন্দোলন।সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ঋতু এ নিয়ে একটি প্রকাশনার কাজ করেছিলেন। তখনই তার মনে হয়,যদি তিনি এতো বড়ো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারেন,তাহলে মনের সুপ্ত-বাসনা প্রকাশে সাহস দেখাতে পিছপা হবেন কেনো!মানব মনের ব্যাকুল অথচ সুপ্ত-চাহিদা কোনো অবস্থাতেই দমিয়ে না রেখে তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশও একধরনের বিদ্রোহ।আর এরপরে সেই বিদ্রোহই করলেন ঋতু।
আত্মপরিচয়ের খোঁজে লৈঙ্গিক রাজনীতি
শুনতে যতোই আশ্চর্য লাগুক না কেনো এ কথা সত্য যে,১৯৯২ সালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতার একটি ধরন হিসেবে মনে করতো।৫ বর্তমান বিশ্বের প্রধান রাজনীতি হলো ‘পরিচয়’-এর রাজনীতি।শাসকগোষ্ঠী সবসময় চেষ্টায় থাকে আত্মপরিচয়ের এক মানচিত্র তৈরি করে ব্যক্তির যৌন আকর্ষণের বিষয়গুলো ছকে সাজিয়ে ফেলতে। যার ফলে সে পরিচিত হয় ছকের এক ক্রমপর্যায়ী বিন্যাসের মাধ্যমে। ‘অ্যানাটমোপলিটিক্স’ আর ‘বায়োপলিটিক্স’-এর মাধ্যমে শরীরকে দখল করে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ব্যবহারের জন্য,ফলে আবার ক্ষমতা ও জ্ঞানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়। যৌনতাকে বিভিন্ন সামাজিক অবদমন থেকে মুক্ত করার কথা বলে আমরা ভাবি যেনো ক্ষমতাকেই চ্যালেঞ্জ করছি। যেনো যৌনতা ও ক্ষমতার সম্পর্ক বিরোধমূলক!
কিন্তু ফুকো দেখিয়েছেন,এটি আসলে সহযোগিতারই সম্পর্ক।যাতে যৌনতাকে ক্ষমতার নাগালের বাইরের ভেবে ক্ষমতার ক্ষমতাকে সীমায়িত মনে করি।আর এ কাজটি করা হয়,চারটি কৌশলে-নারীর শরীরের বিশ্লেষণ,শিশুর যৌনতা বিষয়ক শিক্ষারোধ,সন্তান জন্মসংক্রান্ত অভ্যাসের সামাজিকীকরণ এবং যৌনবিকারের মনস্তাত্ত্বিকরণ।এভাবেই শরীর প্রহরা ও নিয়ন্ত্রণকে একবিন্দুতে মিলিয়ে ক্ষমতাতন্ত্র টিকিয়ে রাখার প্রয়াস পায়।৬
নারী-পুরুষের স্বাভাবিক (!)সম্পর্কের বাইরে সমলৈঙ্গিক বা উভলৈঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে প্রাচীনকাল থেকেই। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ ও চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিসে ধারণাটির ব্যাপক প্রচলন ছিলো।এমন সম্পর্কের নাম ছিলো ‘বালকপ্রেম’ (pederasty)। সুনির্দিষ্ট বিধিমালা মেনেই এমন প্রেম চলতো।আর এক্ষেত্রে বয়স্ক প্রেমিককে বলা হতো ‘এরোস্টেস’।আর বালকটিকে বলা হতো ‘এরোমেনোস’; যার অর্থ ‘প্রিয়তম’।প্রাচীন গ্রিসের অনেক দার্শনিক পর্যন্ত কমবয়সী পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।অন্তপুরে বন্দি শিক্ষাবঞ্চিত স্ত্রীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে কথা বলা বা আলোচনায় অংশগ্রহণ-কোনোটাই তেমন উৎসাহজনক ছিলো না।ফলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিশীলিত বালকদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতো।বালকদের পুরুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও এ মাধ্যম ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।তাই হয়তো তাদের সচেতন প্রয়াস থাকতো যাতে সেই বালকদের কোনো অবস্থাতেই নারীর মতো অধস্তন হিসেবে দেখানো না হয়।আর বালকপ্রেমের বিষয়টিকে তারা বিকৃত যৌন আকর্ষণ (pedophilia)থেকে আলাদাই রাখতে চাইতো।৭ ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই ফ্রান্সে ‘কোড নেপোলিয়ন’ অনুযায়ী পূর্ণবয়স্ক,ইচ্ছুক পুরুষদের মধ্যে সমকামি সম্পর্ক দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।৮ আইন ব্যাপারটাকে সমর্থন না করলেও চোখ বুজে না দেখার ভান করে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যৌন বিকৃতি বা অবদমিত যৌন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়। যার ফলে অবদমিত কামনাগুলো পরিবর্তিত রূপ নিয়ে স্বপ্নে দেখা দেয়।৯ মানুষের থাকে বহু মাত্রা।যে মানুষ শ্রমিক,সে মানুষই পুরুষ। শ্রমিক হিসেবে যে পুঁজিবাদের অবসান চায়,পুরুষ হিসেবে সে চায় লিঙ্গভিত্তিক আধিপত্য!প্রধান ও অপ্রধান-যেহেতু ভাগ নেই,এ যুদ্ধ সবার।১০ এ বোধের কারণেই রুদ্রের বাবা ছেলের স্বভাবের স্বাভাবিকতাকে মেনে নিতে পারেন না।শেষপর্যন্ত সন্তানের প্রতি স্নেহের কাছে পরাজিত হলেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামো টিকিয়ে রাখতে থাকেন বদ্ধপরিকর।উইলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়,তাই ছেলের নাম পরিবর্তন করতে বলেন তিনি। কারণ,মার্কসের ভাষায়,‘পণ্য উদ্ভুত হয়েই মালিকের খোঁজ করে।আদিম সাম্যবাদি মাতৃতান্ত্রিক যৌথ সমাজে ভগ বা মালিকানা ‘ভগিনী’ বা নারীদের হাতে থাকলেও এখন তো ‘ভগবান’ পুরুষই সব।’১১
কিন্তু উত্তরাধুনিকতা বা অধুনান্তিকতা বিষয়টিকে এভাবে মেনে নেয় না।এখানে গুরুত্ব পায় বিনির্মাণ।‘আমার মালিক আমিই’-এ বোধ যেমন এখানে বিবেচ্য,তেমনি ‘সম্বন্ধের ভিতরেই প্রকৃত স্বাধীনতা বিদ্যমান’-সেটিও স্বীকার করে। বস্তুত নিখিল পুরুষ ও নিখিল নারীর মধ্যে সমমর্যাদাপূর্ণ স্বাধীনতার আহ্বান জানাচ্ছে অধুনান্তিকতা। সম্বন্ধ যথার্থ হলে পাওয়া যাবে স্বাধীনতা,মিলবে মুক্তি।১২ সে কারণেই লিঙ্গভেদের বাইরে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে।স্বভাবের নিজস্ব ইচ্ছাকেই সম্পর্ক তৈরির ভিত্তি মনে করা হয়।
বিপরীত লিঙ্গধারীর প্রতি আকর্ষণ ও সমলিঙ্গধারীর প্রতি আক্রোশবোধের এক মিশ্র আবেগীয় অবস্থার নাম দেন ফ্রয়েড ‘ইডিপাস কমপ্লেক্স’।১৩ কিন্তু ফ্রয়েডের এ তত্ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে ঋতুপর্ণের মতো লোকেরা সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হন।একই সঙ্গে পুরুষ-প্রেমিক পার্থর সঙ্গে নারী কস্তুরির অন্তরঙ্গতা ব্যথিত করে রুদ্রকে।চিত্রাঙ্গদা চলচ্চিত্রে রুদ্র তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে কখনোই লিঙ্গকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি।এমনকি নাটকের রিহার্সেলে কস্তুরি যখন বলেন,শাড়ি পরার কারণে চিত্রাঙ্গদার মতো বলিষ্ঠ অভিনয়ে তার সমস্যা হচ্ছে;তখন রুদ্র বলেন,পোশাক কখনো নারী বা পুরুষের ভেদাভেদের কারণ হতে পারে না।আর নাচেরও কোনো লিঙ্গভেদ নেই। তাই নাচের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিলো কোরিওগ্রাফার রুদ্রের পুরো কাজেই। অন্যদিকে পার্থর আচরণ ছিলো সবসময়ই আধিপত্যশীল।রুদ্রকে ছেড়ে একসময় কস্তুরির প্রতি আকৃষ্ট হনতিনি।এমনকি কস্তুরির অ্যাবরশন-এর (গর্ভপাত) টাকাটাও চাইতে যান রুদ্রের কাছে।অথচ এই সন্তানের কারণেই রুদ্র লিঙ্গ পরিবর্তন করতে গিয়েছিলেন।
প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকা রুদ্রের একপর্যায়ে কল্পনায় সঙ্গী হয়ে আসেন শুভ।শুভকে শুধু রুদ্রই দেখতে পান,তার সঙ্গে কথা বলেন,ঘুরে বেড়ান। শুভর সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে রুদ্রের অবচেতন মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব।তাইতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চাইলে শুভর মন্তব্য ছিলো,‘নো ট্রান্জিশন ইজ এভারগ্রিন,ইটস্ এ অনগোয়িং প্রোসেস। সো ডু হোয়াট ইউ উইশ টু ডু।’ তার মানে একটা তারল্যে একজন ব্যক্তির এই নানা পরিচয়-কখনো ব্লগার,কখনো বাবা,কখনো অ্যাক্টিভিস্ট কিংবা শিক্ষক-এমনকি আজকের যে পুরুষালি চিন্তা তাও নিশ্চয় ১০ বছর আগের নয়।ব্যক্তি ঋতুও তাই বিশ্বাস করতেন।সমাজে জেন্ডারের রূপটিও চলমান প্রক্রিয়া।যদিও এটাকে মানা খুবই কঠিন।
চিত্রাঙ্গদায় আলো-আঁধারের মিশ্রণে মঞ্চনাটকের সেটে এমন এক পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয় যা খানিকটা দুর্বোধ্য;তবে সম্মোহক।পুরো চলচ্চিত্রেই কমতি আলোর এই ব্যবহার লক্ষণীয়।চলতি সমাজে কাহিনী হিসেবে চিত্রাঙ্গদার যে একটা ‘অনুজ্জ্বল’ দিক আছে,আলো ব্যবহারে ঋতু হয়তো তার ছাপ রাখতে চেয়েছিলেন।দিন আর রাতের মধ্যে যেমন থাকে গোধূলি বা ঊষা, তেমনি নারী বা পুরম্নষ-এ দুই ধরনের লিঙ্গভেদের বাইরেও কিছু একটা আছে। আর পোশাকসচেতন ঋতু এ চলচ্চিত্রে এমনসব পোশাক ব্যবহার করেছেন যেগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের পোশাকের ফিউশন।বাঙালির বেসিক মূল্যবোধগুলোকে উসকে দিতে উন্মুখ ঋতুপর্ণ এখানে আবারও সে কাজটাই করেছেন।
রুদ্রের মা তাকে লিঙ্গ বদলানো থেকে বিরত রাখতে যুক্তি খাড়া করে এভাবে,এই শরীরের ওপর তারও দাবি আছে।গর্ভধারণ থেকে শুরু করে তেল মালিশ করে ছোট্ট শরীরটাকে তো তিনি গড়ে তুলেছেন।তার স্নেহের দাবি অবশ্যই যুক্তিযুক্ত।কিন্তু শরীরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শরীরের অতিরিক্ত কিছু অর্জনের চেষ্টাই যে ‘বডি পলিটিক্স’,তা তিনি মানবেন কিভাবে। নিজেকে লৈঙ্গিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে পৌঁছাতে হলে তো নিজের শরীরটাকেই কাজে লাগানো চাই।সমকামিতা ও বিষমকামিতাকে দেশে দেশে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নিজেদের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যবহার করছেন নেতারা। আবার এটিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যও কাজ করছে এলজিটিবি রাইটস,সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জ ইফোর্টস নামক সংগঠনগুলো।১৪
অস্ত্রোপচার কক্ষে ছেলেকে দেখে এসে খাওয়ার সময় বাবা যখন সেই গল্প করে,তখন মা বলেন,‘ওর যেটা স্বাভাবিক সেটা যদি আমরা মেনে নিতাম।’ তখন বাবাও যেনো নীরবে সম্মতি জানান তাতে।তার মানে বিষয়টি যতোটা না সমাজ বা রাষ্ট্রের অনুশাসনের,তার চেয়ে বেশি মেনে নেওয়ার বা না-নেওয়ার।একসময় যে ছেলের লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে বিব্রত ছিলেন,সে বাবাই আবার অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের হওয়া রুদ্রের সঙ্গে মায়ের মুখের তুলনা করেন।তার মানে বাবা কিন্তু রুদ্রকে ঠিকই মেয়ে হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন ততোদিনে।
ঋতুপর্ণ তার প্রথম দিকের চলচ্চিত্রগুলোতে তুলে ধরেছেন বিপরীতলিঙ্গের মধ্যকার সম্পর্কের অনুভূতিগত টানাপড়েন।আর ২০১১-এর পর থেকে সমকামিতাই হয়ে ওঠে তার কাজের মুখ্য বিষয়।সেটার র্যাম্পে হাঁটাই হোক,অভিনয় হোক বা পরিচালনাই হোক।যদিও ভারতিয় সমাজে বিষয়টি এখনো ‘ট্যাবু’।ঋতুপর্ণ সে কাজটিই করে গেছেন।পরিবর্তন যেহেতু একটি চলমান প্রক্রিয়া,তাই একজন মানুষ বা চিত্রাঙ্গদার মতো একটি চলচ্চিত্র যে এটি সম্পূর্ণ করে ফেলবে এমনটা ভাবার কোনোই কারণ নেই।কিন্তু শুরু তো কাউকে না কাউকে করতেই হতো...
লেখক : সাইফুন নাহার রত্না ও তামান্না মৌসী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী।
s.n.rotna@gmail.com
tammcj@gmail.com
তথ্যসূত্র
১. ব্যাস, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন (২০০৬:৯৩-৯৪);মহাভারত;রাজশেখর বসু সারানুবাদকৃত;এম.সি.সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লি.,১৪,বঙ্কিম চাটুজ্যে স্ট্রীট,কলকাতা-৭৩।
২. ঠাকুর,রবীন্দ্রনাথ (২০১২:৩৮৫);‘চিত্রাঙ্গদা’;গীতবিতান;কাকলী প্রকাশনী,৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০।
৩. প্রাগুক্ত;ঠাকুর,রবীন্দ্রনাথ (২০১২:৩৮৮)।
৪. http://www.santabanta.com/bollywood/46164/rituparno-ghoshs-sexual-transformation/
৫. http://wikipidia/history of homosexuality
৬. বসু, প্রদীপ (২০০৫:৬৮-৭৪);‘যৌনতা ও সংস্কৃতি’; সমীক্ষা ও সন্ধান : ভাষা দর্শন সংগীত; অনুষ্টুপ,২ই নবীন কুণ্ডু লেন,কলকাতা-০৯।
৭. এ অংশটি নেওয়া হয়েছে নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিসের লেখা এবং আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু অনূদিত প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌনজীবন (২০০৪) নামক গ্রন্থের ‘বালকদের প্রতি আসক্তি’ শীর্ষক অধ্যায় থেকে।
৮. বোভোয়ার,সিমোন দ্য (২০০৮:২১৪); দ্বিতীয় লিঙ্গ; হুমায়ুন আজাদ অনূদিত; আগামী প্রকাশনী, ৩৬ বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০।
৯. ফ্রয়েড,সিগমুন্ড (২০০৬:৩৭); ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিম; সাজিদ হাসান অনূদিত; শব্দগুচ্ছ : ঢাকা,৩৮/২ক, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০।
১০. চক্রবর্তী,সুদেষ্ণা (২০০৭:২১৫); ‘উত্তর আধুনিকতা : মিশেল ফুকো’; মিশেল ফুকো পাঠ ও বিবেচনা; সম্পাদনা-পারভেজ হোসেন;সংবেদ,ঢাকা।
১১. খান,কলিম (বাংলা ১৪০৬:৯ ও ১১); ‘জগৎস্রষ্টার জন্ম-মৃত্যু : শতাব্দীশেষের ঈশ্বরভাবনা’; দিশা থেকে বিদিশায় নতুন সহস্রাব্দের প্রবেশবার্তা; হাওয়া ঊণপঞ্চাশ প্রকাশনী,কলকাতা ৭০।
১২. খান,কলিম (বাংলা ১৪০৬:৬৮); ‘প্রাগাধুনিকতা আধুনিকতা ও অধুনান্তিকতা’; দিশা থেকে বিদিশায় নতুন সহস্রাব্দের প্রবেশবার্তা; হাওয়া ঊণপঞ্চাশ প্রকাশনী,কলকাতা ৭০।
১৩. এ আলোচনাটি নেওয়া হয়েছে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের অ্যান আউটলাইন অব সাইকোঅ্যানালাইসিস বই থেকে।
১৪. http://wikipidia/sexual orentetion change efforts
বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৩ সালের জানুয়ারির ম্যাজিক লণ্ঠনের চতুর্থ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন